আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ
বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির ও বিপজ্জনক সময় অতিক্রম করছে। দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ আজ গভীর সংকটে নিপতিত। শায়েখ ইমরান হোসেনের সাম্প্রতিক আলোচনায় এই সংকটের পেছনের ভূ-রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বাস্তবতা বিশদভাবে উঠে এসেছে।
১. আসন্ন মহাযুদ্ধ বা আল-মালহামা
শায়েখ ইমরান হোসেনের মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল একটি চূড়ান্ত মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি। নবী মুহাম্মদ (সা.) যাকে ‘আল-মালহামা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে একটি বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করা।
এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে পাকিস্তান, ইরান, সিরিয়া ও মিশরকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হচ্ছে।
২. পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা এই বৈশ্বিক শক্তির জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। ইসরায়েল এবং তার কৌশলগত মিত্র ভারতের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হচ্ছে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করা এবং তার সামরিক ও পারমাণবিক শক্তি ধ্বংস করা।
শায়েখ ইমরান সতর্ক করে বলেন, ৯/১১-এর পর থেকেই এই পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
৩. আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও জাতীয়তাবাদের সংকট
তিনি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ইসলামের মূলনীতির পরিপন্থী হিসেবে দেখেন। এই ব্যবস্থায় আল্লাহকে সার্বভৌম না মেনে রাষ্ট্রকে সার্বভৌম করা হয়, যা তিনি ‘শিরক’-এর একটি রূপ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
জাতীয়তাবাদ—পাকিস্তানি, বাঙালি কিংবা ভারতীয়—মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ধ্বংস করছে বলে তিনি মনে করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি ডক্টর ইকবালের আধুনিক সংসদীয় ব্যবস্থা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিরও সমালোচনা করেন।
৪. সুদী অর্থনীতি ও ইলেকট্রনিক মুদ্রার ফাঁদ
বর্তমান কাগজের মুদ্রা এবং আসন্ন ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মুদ্রা ব্যবস্থাকে তিনি দাজ্জালের একটি সূক্ষ্ম প্রতারণা হিসেবে বর্ণনা করেন। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার হাতে মানুষের পূর্ণ আর্থিক নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে।
তিনি মুসলমানদের কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক দিনার ও দিরহাম অর্থনীতির দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
৫. আলেম সমাজের ব্যর্থতা ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান
শায়েখ ইমরান হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও আলেম সমাজ এই যুগের বাস্তবতা ও দাজ্জালের ফিতনা বুঝতে ব্যর্থ। তিনি কেবল কিতাবি জ্ঞানের বাইরে গিয়ে ‘রাসিকুনা ফিল ইলম’ অর্থাৎ আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
৬. মুসলিমদের জন্য করণীয় ও বাঁচার কৌশল
আসন্ন সংকটকালে বড় শহরগুলোতে ভয়াবহ অরাজকতা, খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তিনি কিছু বাস্তব পরামর্শ দিয়েছেন:
- বড় শহর ত্যাগ করে গ্রামাঞ্চলে বসবাস করা
- ছোট পরিসরে মুসলিম ভিলেজ গড়ে তোলা
- মাযহাব ও মতপার্থক্য ভুলে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক ঐক্য গড়ে তোলা
- প্রচলিত যুদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের কৌশল গ্রহণ
উপসংহার
শায়েখ ইমরান হোসেনের মতে, সামনে সময় কঠিন হলেও চূড়ান্ত বিজয় সত্যেরই হবে। ইমাম মাহদীর আগমন এবং ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে আবার ন্যায়বিচার ও প্রকৃত খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সংগ্রামের জন্য মুসলমানদের রাজনৈতিক নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিকভাবেও প্রস্তুত হতে হবে।