@সূরাহ আল-ফাতিহাহ, 2 নং আয়াহ। বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কুরআন এবং কুরানী বিশ্লেষণ। অনুবাদে : হোসেন কুরানী।
1 নং সূরাহ আল-ফাতিহাহ।
(মাক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা 7)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
অর্থাৎ আল্লাহর নামে (শুরু), (যিনি) সীমাহীন/ অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়।
2 নং আয়াহ : (যিনি¹/ কেননা²) সীমাহীন/ অসীম দয়ালু³ এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়⁴।
1:2 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 1)
প্রশ্ন হবে- "যিনি" বলতে কি?? উত্তর সহজ- যদি শুধুমাত্র 1:2 আয়াহটা পড়েন, তাহলে "যিনি" বলতে কি, বোঝা বেশ কঠিন হয়ে যাবে। এই "যিনি" কে বুঝতে চাইলে 1:1 আয়াহর সঙ্গে 1:2 ও 1:3 আয়াত পড়তে হবে। দাঁড়ান, এবার পড়ুন তো। নিন-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, [যিনি] মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক"(1:1)। "[যিনি] সীমাহীন/ অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়"(1:2)। এবার বুঝতে পারলেন কি??
1:2 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 2)
প্রশ্ন হবে- "যিনি" তো গেল, "কেননা" আবার কেন?? উত্তর সহজ- ভাই, আসলে "কেননা"র উত্তরটা ঠিক, "যিনি"র মতো। এবার পড়ুন-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, [কেননা] মহা বিশ্ব সমূহের প্রতিপালক"(1:1)। "[কেননা] সীমাহীন/ অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়"(1:2)। বুঝলেন ভাই??
1:2 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 3)
এখানে ব্যবহৃত আরবি কালিমাহ হল- الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহ মান)। এটা "যের" এর (আর-রাহমান), "পেশ" (الرَّحْمَٰنُ) দ্বারা নয়, যা 55:1 আয়াহতে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন হবে- এর মধ্যে পার্থক্য কি?? অনেক, অনেক, অনেক রে ভাই। কিন্তু আমরা আপনাকে খানিকটা দেখাবার চেষ্টা করব- ইনশাআল্লাহ। তা হলে দেখুন- আসলে "যের" দিয়ে الرَّحْمَٰنِ বিষয়কে যুক্ত করে ও সংকীর্ণতা নিয়ে আসে। এখানে 1:2 আয়াহর "যের" এবং 1:3 আয়াহর "যের" এই 2 টি আয়াতকে 1:1 আয়াহর সঙ্গে যুক্ত করেছে।
1:2 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 4)
পূর্বোক্ত الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহমান) এর মতোই পরিস্থিতি الرَّحِيمِ (আর-রাহীম) এর। তাই এ বিষয়ে আর Special কিছু লিখতে চাইছি না। তবে, প্রশ্ন হবে- الرَّحْمَٰنِ বললেই তো অসীম দয়ালু বলা হয়ে যেত, তারপরে الرَّحِيمِ বলা হল কেন?? উত্তর সহজ এবং এখানে আমরা মাওদুদী (র)- এর ব্যাখ্যাটা উপস্থিত করতে চাইছি। তিনি বলেছেন- আল্লাহ এখানে "প্রচুর সাদা" না বলে "সাদা ধব-ধবে" বলেছেন। যেন মানুষ জন সাদার গুরুত্বটা বুঝতে পারে।
একই এবং পরবর্তী প্রশ্ন- শুধুমাত্র رحْمَٰنِ (রাহমান) না বলে আল্লাহ এখানে الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহমান) বলেছেন কেন?? বা শুধুমাত্র رحِيمِ (রাহীম) না বলে الرَّحِيمِ (আর-রাহীম) বলে ছেন কেন?? উত্তর সহজ- এ প্রশ্নের বেশ কয়েকটি উত্তর হতে পারে। এবং তা হল- ১) আরবিতে ال (আল) অনেকটা English এর The (দি/ দা) এর মতো। যা, কালিমাহর গুরুত্ব কে সর্বোচ্চ করে দেয়। এছাড়াও ২) আরবির ال (আল) কালিমাহকে "মারিফা" বা নিদিষ্ট করে দেয়, যা প্রসঙ্গত আল্লাহর জন্য। এখানে الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহমান) ও الرَّحِيمِ (আর-রাহীম) আল্লাহর জন্য নিদিষ্ট, তা পূর্বোক্ত আয়াহ অর্থাৎ 1:1 আয়াহতের الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদুলিল্লাহ) এর সঙ্গে যুক্ত, যা আমরা পূর্বেও দেখিয়েছি। এবং الْعَالَمِينَ'ও الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদুলিল্লাহ) এর সঙ্গে যুক্ত।
এখন প্রসঙ্গ পরিবর্তন করতে চাইছি ও একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইছি। অনেক ইসলাম বিদ্বেষী তথা নাস্তিক ভাই আল্লাহ সম্পর্কে Comment করতে গিয়ে বলে থাকেন- আমরা তো আল্লাহকে অস্বীকার করি, তার সঙ্গে এই "আল্লাহ" শব্দটাকেই ঘৃণা করি। এ ছাড়াও ইসলাম মেনে চলি না, তবুও আল্লাহ আমাদের লালন পালন বা প্রতিপালন করছেন কেন??
এ প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত ভাবে কঠিন। কঠিন বলতে, শুনতে কঠিন, উত্তর খুব সহজ!! কেননা, উত্তর দিচ্ছেন হোসেন কুরানী। যার সঙ্গে কঠিনের সঙ্গে ঝগড়া ও মারা-মারি হয়েছিল, এ জন্য কঠিন কখনও হোসেন কুরানীর সামনে আসে না। যদিও Team Quranic Universe হোসেন কুরানীর সঙ্গে কঠিনের মনো-মালিন্যতা দূর করার অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ফল পাওয়া গেল না!!
এবার উত্তর দেখুন- الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, [যিনি] মহাবিশ্ব সমূহের প্রতি পালক"(1:1)। যেহেতু আপনি মহাবিশ্ব সমূহের মধ্যে কোনও এক মহাবিশ্বের অংশ, তাই তিনি আপনারও প্রতিপালক। আর যেহেতু তিনি "প্রস্তাব" করেছেন, সেহেতু তিনি তার প্রস্তাব থেকে ফিরে যেতে পারবেন না। কেননা, এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ অনু বাদে হবে এমন-"নিশ্চয়ই আল্লাহ তার ওয়াদা খিলাফ/ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না"(3:9 ও 13:31, 39:20)। কেননা, এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে- إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা চিরসত্য"(10:55, 18:21, 28:13, 30:60, 31:33, 35:5, 40:55, 40:77, 45:32, 50:17)।
এছাড়াও তিনি الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ অনুবাদ হবে এমন-"অসীম/ সীমাহীন দয়ালু, অসীম/ সীমাহীন করুণাময়(1:3)। এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে আল্লাহর "ক্রোধ বা রাগ" নেই?? উত্তর সহজ- আছে, তীব্র রাগ আছে। কিন্তু যা ঘোষণা করেছেন, তা হয়ত আপনাকে একটু ভাবতে বাধ্য করবে বলেই মনে করি। দেখুন- نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ অনুবাদ হবে এমন-"জানিয়ে দিন আমার ইবাদ/ দাসদের, নিশ্চয়ই আমি অসীম/ সীমাহীন ক্ষমাকারী ও অসীম/ সীমাহীন দয়ালু"(15: 49)। এছাড়াও আল্লাহ বলেছেন- إِنَّ رَحْمَتِيْ غَلَبَتْ غَضَبِي অনু বাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই আমার দয়া রাগের চেয়ে বেশি"(বুখারী, কিতাবু বাদউল খালাকা, হাদীস 3194)।
প্রশ্ন হবে- আল্লাহকে অস্বীকার করলেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেন না কেন?? উত্তর সহজ- مَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِعَذَابِكُمْ অনু বাদ হবে এমন-"আল্লাহর কাজ কি শুধুই তোমাদের শাস্তি দেওয়া"(4:147)?? এখন প্রশ্ন হবে- কেন শাস্তি দেবেন না?? সামান্য কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বা রাষ্ট্রপতিকে যদি অস্বীকার করা হয়, তার জন্যেও রাষ্ট্রদ্রোহীতার শাস্তি প্রযোজ্য হয়!! উত্তর সহজ- গণতন্ত্র বোঝেন তো?? আল্লাহ সর্বোচ্চ হলেন গণতান্ত্রিক। দেখুন, এ বিষয়ে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে কি বলেছেন- وَأُمْلِي لَهُمْ ۚ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমি তাদের অবকাশ দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আমার পদ্ধতি দারুণ বলিষ্ঠ"(7:183)। দেখুন, আরও কি বলা হয়েছে- وَلَٰكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَىٰ أَجَلٍ مُسَمًّى অনুবাদ হবে এমন-"কিন্তু তিনি নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন"(35:45)।
প্রশ্ন হবে- "বলিষ্ঠ পদ্ধতি" বলতে কি?? আর কেন আল্লাহ অবকাশ দেন?? উত্তর সহজ- কারণ, যদি আল্লাহ অস্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেন, তাহলে অস্বীকারকারী বলতেন যে, আমাকে তো সুযোগ/ অবকাশ দেওয়া হল না। যদি দেওয়া হতো, তাহলে আমি জ্ঞান দ্বারা বিচার করতাম এবং অস্বীকারকারী হতাম না এবং ইসলাম মেনেই জীবন-যাপন করতাম। তাই আল্লাহ তাদেরকে সেই সুযোগটা দিচ্ছেন, যেন তাদের অভিযোগ না থাকে।
কেননা, মানুষ যখন তার মৃত্যুর পর পরকালের সত্যতা সামনে পাবেন, তখন যা বলবেন, তা পবিত্র কুরআন বলে রেখেছে, দেখুন- حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ অনুবাদ হবে এমন-"শেষ পর্যন্ত যখন তাদের কারোর মৃত্যু উপস্থিত হল/ হবে। তখন সে বলল/ বলবে- প্রভু, আমাকে পুনরায় পূর্বের জীবনে পাঠান"(23:99)। এছাড়াও দেখতে পারেন- 6:27-28, 7:53, 14:44-45, 23:105-115, 26:102, 32:12-14, 39:58-59, 40:10-12, 42:44, 63:10-12 আয়াত। যাইহোক, তারা আরও বলবেন এবং বক্তব্যের পর আল্লাহ যা বলবেন, তাও পবিত্র পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে-
لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"যাতে আমি স্বলিহা আমাল করতে পারি, যা পূর্বের ছেড়ে আসা জীবনে করি নি। [তখন আল্লাহ বলবেন] কখনও নয়, এটা শুধু তাদের কথার কথা মাত্র। এখন তাদের পিছনে [ফিরে আসার জন্য] রয়েছে বারযাখ/ অন্তরায়, পুনুরুত্থান দিবস পর্যন্ত"(23:100)। যাতে আপনার কাছে এই অজুহাত না থাকে যে, আমি পৃথিবীতে সুযোগ/ অবকাশ পাই নি। তাই আল্লাহ আপনাকে ইহজীবনে মৃত্যু পর্যন্ত পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছেন। समझो कि नही??
প্রশ্ন হবে- আল্লাহকে অস্বীকার করলেও তিনি কোনও শাস্তি দেবেন না?? এ প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ, এবং তা হল এই- إِنْ تَكْفُرُوا أَنْتُمْ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا فَإِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ حَمِيدٌ অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা এবং মহাবিশ্বের সবাই যদি [তাকে] অস্বীকার করো, তাহলেও আল্লাহ অভাব মুক্ত এবং প্রশংসিত"(14:8)। এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনে আরও বলা হয়েছে, দেখুন- فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ يَكُونُ لِزَامًا অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই তোমরা [আল্লাহর প্রতি] মিথ্যারোপ করেছো, এ জন্য অতি শীঘ্রই হবে অনিবার্য ও স্থায়ী শাস্তি"(25:77)। আমার মনে হয় না যে, আর কিছু বলতে হবে!! আর কি কিছু বলতে হবে?? হবে না, তাই না??
তবে, যেটা আপনাকে না দেখিয়ে প্রসঙ্গ শেষ করতে চাই না, তা হল এই যে- وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا অনুবাদ হবে এমন-"আপনার প্রভুর দান কারোর জন্য বন্ধ হয় না"(17: 20)। কেননা- الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ অনুবাদ হবে এমন-"শুধুমাত্র তিনিই সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়"(1:2)। প্রশ্ন হবে- তিনি যদি এতই দয়ালু, তাহলে তিনি পরকালে হলেও শাস্তি দেবেন কেন?? উত্তর খুব সহজ- আপনার Biometric device যদি আপনাকে গ্ৰহণ করতে অস্বীকার করে, তখন আপনি কি করবেন?? তাকে "ঠিক বা সংশোধন করার" চেষ্টা করবেন, তাই না?? কিন্তু তাও যদি "না হয়", তখন কি করবেন?? তখন ঐ Device কে নষ্ট করে ফেলবেন, তাই না?? ঠিক একই ভাবে- আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করার জন্য নাবী-রাসুল (আ) পাঠান, সঙ্গে কিতাব বা ঐশী গ্ৰন্থ পাঠান। যেন আপনি নাবী-রাসুল (আ)- দের মৃত্যুর পরও "আল্লাহর মনোনীত দীন/ জীবন ব্যবস্থা" অনুসরণ করতে পারেন।
কিন্তু তারপরও যদি আপনি সংশোধন না হন, তখন আল্লাহর কি করা উচিৎ, তা আপনিই বলুন!! একটাই উত্তর হতে পারে- আপনাকে "জাহীম" তথা জাহান্নামে দেওয়া হবে, তাই না?? কেউ কেউ বলতে পারেন- কিন্তু কুরআনের মধ্যে যে অনেক অবৈজ্ঞানিক তথ্য পাই, তা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে তা মেনে নিই?? উত্তর সহজ- পবিত্র কুরআনে কোনও ভুল নেই, কোনও ধরণের ভুল নেই। তবে, অনুবাদকদের অনুবাদ পাঠ করলে এমন মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি তাদের ভ্রান্ত অনুবাদ পাঠ করবেন কেন। আপনি হোসেন কুরানীর "বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল কুরআন" কুরানী বিশ্লেষণ সহ পাঠ করুন। বৈজ্ঞানিক ভুল তো দূরের কথা, এমন বৈজ্ঞানিক তথ্য পাবেন, তা কিয়ামাত পর্যন্ত আপনাকে অবাক করতেই থাকবে- ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন হবে- যে কোনও মানুষই তো رحْمَٰن (রাহমান) হতে পারেন। সুতরাং এর সঙ্গে الرَّحْمَٰن (আর-রাহমান) এর পার্থক্য কোথায়?? একই ভাবে رحِيم (রাহীম) এর সঙ্গে الرَّحِيم (আর-রাহীম) এর পার্থক্য কোথায়?? উত্তর সহজ, খুব সহজ রে ভাই- মানুষ رحْمَٰن (রাহমান) বা দয়ালু হতে তো পারেন, মানুষ সর্বোচ্চ দয়ালু অর্থে الرَّحْمَٰن (আর-রাহমান'ও) হতে পারেন। কিন্তু অসীম বা সীমাহীন অর্থে الرَّحْمَٰن (আর- রাহমান) হতে পারেন না। এই সিফাহ বা গুণাবলী শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নিদিষ্ট। আর رحِيم (রাহীম) এর সঙ্গে الرَّحِيم (আর-রাহীম) এর পার্থক্যটাও ঠিক একই।
1:2 মূল আয়াহ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কুরানী বিশ্লেষণ:-
الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ●
এই الرَّحْمَٰن ও الرَّحِيم পাশা-পাশি পবিত্র কুরআনে 5 বার মতো ব্যবহৃত হয়েছে, দেখুন- 1:2, 2:163, 27:30, 41:2 ও 59:22 আয়াত। এ জন্যই আমাদেরকে 5 ওয়াক্ত স্বালাত আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেন আমরা আল্লাহর অসীম/ সীমাহীন দয়া ও অসীম/ সীমাহীন করুণা পেতে পারি। এখানেই শেষ নয়, এই জন্য স্বালাতে রয়েছে 5 টি গুরুত্বপূর্ণ Steps বা ধাপ। যথা- ১) কিয়াম/ দাঁড়ানো, ২) রুকু, ৩) সিজদা, ৪) বৈঠক, ৫) সালাম ফিরানো। তাই নয় কি?? সুধীপাঠক, আপনি কি পবিত্র কুরআনের এই সংখ্যা তাত্ত্বিক ও গাণিতিক বিষয় গুলোর সৌন্দর্য্য উপভোগ করছেন?? তবে এখানেই শেষ নয়। শুধু الرَّحْمَٰنِ Format এ কালিমাহটি পবিত্র কুরআনে 24 বার মতো ব্যবহৃত হয়েছে। এবং الرَّحِيمِ Format এ কালিমাহটি পবিত্র কুরআনে 6 বার মতো ব্যবহৃত হয়েছে।
পাঠক, এখানেও একটা দারুণ গাণিতিক বিষয় লুকানো আছে, যা হয়ত আপনি দেখতে পান নি। তবে অবশ্যই তা আপনাকে অবাক করবে। বলুন তো- তা কি?? ছাড়ুন রে ভাই, আপনাকে বলতে হবে না। আমরা বলছি, আপনি শুধু দেখতে থাকুন- الرَّحْمَٰنِ পবিত্র কুরআনে কত বার ব্যবহৃত হয়েছে?? 24 বার, তাই না?? তারমানে- 24= 2+ 4= 6, তাই না?? এবার দেখুন- الرَّحِيمِ ব্যবহৃত হয়েছে 6 বার। অবাক করা বিষয়, তাই না?? পাঠক, এগুলো আপনাকে অবাক করছে না?? আমাদেরকে তো অবাক নয়, বরং হতবাক ও বাকরুদ্ধ করে দিচ্ছে বার বার এবং বহুবার। আপনাকেও অবাক, হতবাক ও বাকরুদ্ধ করার কথা তো!! যদি না হন, তাহলে 1:3 আয়াহর কুরানী বিশ্লেষণের জন্য অপেক্ষা করুন।
চলতেই থাকবে.................
প্রকাশ কাল : 14.11.2021
© হোসেন কুরানী।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: