ডারউইন তত্ত্ব সম্পর্কে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন



    অনেকেই  প্রশ্ন  করে  বলেন, নাস্তিকরা   বলে  বেড়ায় যে-"আল্লাহ  বলে  কেউ   নেই। কারণ  মানুষকে  আল্লাহ সৃষ্টিই  করে  নি। মানুষ  সৃষ্টি হয়েছে  বিবর্তনের মাধ্যমে। তাই ধর্ম  ও  ধর্মীয়  গ্ৰন্থ  মেনে  চলার  কোনও প্রয়োজন নেই। অন‍্যান‍্য  সব  ধর্মগুলোর  মত ইসলামও গোঁড়ামির সমষ্টিগত রুপ মাত্র!! তাদের  অযৌক্তিক  কথা  গুলোর যুক্তিপূর্ণ উত্তর দিন"।

   

   এই প্রশ্নটি কোনও  একজনের পক্ষ থেকে করা হয় নি বরং  একাধিক  মানুষ  এ প্রশ্নটি  করেছেন। তাই  নিদিষ্ট কারো  নাম  উল্লেখ  করা  হল না!! যাইহোক, অনেকেই আমাকে   জিজ্ঞাসা   করেন-"হোসেন   Sir, আপনি  এত কঠিন কঠিন "কোরান  ও  বিজ্ঞান  সম্মত" প্রশ্নের  উত্তর দেন, এগুলো লেখার আগে কতক্ষণ চিন্তা করতে হয়?? তাদের এই  প্রশ্নের উত্তরে  এটাই বলি যে- আমি কখনও লেখার  আগে  চিন্তা  করে  লিখতে  শুরু  করি  না  বরং লিখতে লিখতেই  ভেবে  নিতে  হয় অথবা যখন মৌখিক উত্তরও  দিই, তখনও  আগে  থেকে  ভেবে উত্তর দিই না বরং বলতে বলতেই ভাবতে হয়!!

   আজকের প্রশ্নের উত্তরটা সবসময় রেডি  থাকে  কিন্তু আজ আমি প্রচলিত উত্তরটি  দিতে  চাই  না  বরং আজ আমি এত সহজ ও বোধগম্য যুক্ত পদ্ধতিতে উত্তর দিতে চাই  যে, সহজেই  যেন  যে   কেউ   বুঝতে   পারে!! তাই আজকের  প্রশ্নের  উত্তরের  আগে  সামান্য  একটু চিন্তা করতে হয়েছিল বটে!!


   যাইহোক, মূল   উত্তরে   যাওয়ার   আগে   নাস্তিকদের একটা  ছোট  প্রশ্নের  উত্তর  দিতে  চাই। আর   তা   হল-অন‍্যান‍্য  সব  ধর্মের  মত  ইসলামও একটি গোঁড়ামি পূর্ণ ধর্ম!! এই  প্রশ্নের উত্তর হল- আল্লাহ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও  দ্বীন  অথবা  জীবন  ব‍্যবস্থা সৃষ্টিই করেন নি। এ বিষয়ে  বিস্তারিত  জানতে  নিচের Link এ Click করতে পারেন এবং করলে একটা প্রশ্নের উত্তর দেখতে পাবেন। প্রশ্নটি  হল- আল্লাহ  এক   হলে, ধর্ম   কেন   এত?? তাই লিঙ্কে অবশ্যই ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=722338491484484&id=544853392566329


   যাইহোক, সব নাস্তিক  এরকম  বলেন  না। আমি এক জন  'ভবানী  প্রসাদ  সাহু' নামের  এক  নাস্তিক  ভাইকে চিনি, যিনি   একজন   লেখক। তিনি   তার "ধর্মের উৎস সন্ধানে" নামক বইয়ে লিখেছেন-"অন‍্যান‍্য ধর্মের তুলনায় ইসলামের  নিয়ম-নীতিকে  যৌক্তিক  ভাবে  ব‍্যাখ‍্যা করা যায়"(Page   no- 94)। যাইহোক, এবার    মূল    উত্তরে আসা  যাক। কথা  হল- বিবর্তনের   মাধ্যমে  মানুষ এবং অন‍্যান‍্য সমস্ত প্রাণীদের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই প্রস্তাবের জন্মদাতা হল- Darwin, 1859   সালে   প্রকাশিত "The origin of species" পুস্তকের মাধ্যমে।

   

   যখন  তাদেরকে  বলা   হয়-বিবর্তন   তত্ত্বের  শুরু  কি ভাবে   হল?? তখন  তারা  এর  উত্তরে  একটা  থিওরির কথা বলে। আর  তা  হল- এমনি এমনি থিওরি!! অর্থাৎ সব  কিছু  এমনি  এমনি  হয়ে   গেছে  কিন্তু  তাদের  এই "এমনি    এমনি    থিওরি"    নিউটনের  1'st   "Law   of motion" এর  বিরুদ্ধে   যাচ্ছে    কিন্তু   কিভাবে?? নিচে লক্ষ্য করুন-

"An object  at  rest stays at rest and an object in motion  stays  in  motion  with  the same speed and in the same direction unless acted upon by an unbalanced force"। অর্থাৎ "বাহ্যিক  বল প্রয়োগে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন করতে বাধ্য না করলে স্থির বস্তু চিরকাল  স্থিরই  এবং  গতিশীল  বস্তু   সমবেগে   অর্থাৎ সমদ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে"।


   সুধী   পাঠক, নিউটনের  এই  প্রথম  সুত্রের  আলোকে  বলা যেতে  পারে- বিবর্তনবাদী এবং নাস্তিকদের "এমনি এমনি থিওরি" ভূয়ো বলে প্রমাণিত হচ্ছে*। কারণ এমনি এমনি কোনও কিছু হওয়া সম্ভব  নয়। অন্তত  নিউটনের 1'st "Law of motion"  দ্বারা  তো  তাই  বোঝা   গেল!! তাই নয় কি??

   আমি  কোরান  অনুযায়ী  এটা  বিশ্বাস   করি- বিবর্তন সত্য কিন্তু নিউটনের 'st "Law of motion" অনুযায়ী তা এমনি এমনি হয় নি, তাতে অবশ্যই বাহ্যিক বল  প্রয়োগ ছিল   অর্থাৎ   স্রষ্টার  অস্তিত্ব  অস্বীকার  করার  কোনও উপায় নেই!!


   এছাড়াও একটা প্রশ্ন করা যেতে পারে- যতক্ষণ পর্যন্ত না কোষে DNA সৃষ্টি  হয়েছিল, ততক্ষণ  পর্যন্ত প্রাথমিক অণু গুলোকে কে  নির্দেশ দিচ্ছিল?? DNA ছাড়া নির্দেশ দেবে কে?? আর  কোষ  সৃষ্টির  পূর্বে   প্রাথমিক  অনুতে DNA ছিল  না!! তাই   স্রষ্টার   অস্তিত্ব  অস্বীকার  করার  কোনও উপায় নেই!!


   আমি এটা বিশ্বাস করি এবং  বৈজ্ঞানিকভাবে‌ও প্রমাণ করা সম্ভব- ফেরেস্তা নূর বা আলো থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। জ্বীন  আগুন  থেকে এবং "আল্লাহ মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন"(15:26, 3:59, 23:12,  22:5)। নিচে 2 টি Link দিচ্ছি, প্রথম Link এ Click করলে দেখতে  পাবেন যে, মানুষ মাটি  দ্বারা সৃষ্টি  হয়েছে। আর দ্বিতীয় Link এ Click করলে ফেরেস্তা  ও  জ্বীন সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাবেন। তাই Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=712362879148712&id=544853392566329


https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=714897842228549&id=544853392566329

                                       প্রথম সংস্করণ : 12.02.2020

   আশা  করছি, বোঝাতে  পারলাম  এবং আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন   থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                    © : লেখক, হোসেন কুরানী।

ফেরেস্তারা কি আল্লাহর হুকুম অমান্য করে??

 


    Whatsapp- এর এক ভাই গ্ৰুপে প্রশ্ন না করে ফোন করে প্রশ্ন করে বলেছেন-"হোসেন স‍্যার, প্রশ্নটি একটু নাস্তিকদের মত। তাই, আপনাকে সরাসরি বলছি। কিন্তু উত্তর দেওয়ার সময় আমার নাম না উল্লেখ করে উত্তর দেবেন। প্রশ্নটি হল-*আমি জানি যে, ফেরেস্তারা আল্লা হর হুকুম মানতে বাধ্য। কিন্তু কোরানে এমন একটা আয়াত পড়েছি, যেখানে বলা হচ্ছে- ফেরেস্তারা আল্লা হর হুকুম অমান্য করে*।

   স‍্যার, আমি আয়াতটি কোথায় আছে জানি না। কিন্তু কোরানেই আছে। তাই স‍্যার, যদি একটু আয়াতটার ব‍্যাখ‍্যা করে দেন, তাহলে আজীবন আপনার উপকার ভুলব না"।

   #আরে না ভাই!! এভাবে বলার প্রয়োজন নেই যে- "আজীবন এই উপকার ভুলব না"!!! আর দ্বিতীয় কথা হল- আয়াতটি কোথায় আছে, আপনি জানেন না তো কি হয়েছে??- আমি তো আয়াতটি জানি, আর আমি কোনও কিছু এত সহজে ভুলেওওওও যাই না!!!!

   যাইহোক, কথা না বাড়িয়ে নিচে একটা লিঙ্ক দিচ্ছি। লিঙ্কে গেলে *ফেরেস্তাদের যাতায়াত ও ফেরেস্তা সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা* পেতে পারেন। তাই, লিঙ্কে অবশ্যই প্রবেশ করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=714897842228549&id=544853392566329

   এছাড়াও নিচে আরও একটি লিঙ্ক দিচ্ছি। এই লিঙ্কে ক্লিক করলে দেখতে পাবেন-*মানুষ শ্রেষ্ঠ, না ফেরেস্তা শ্রেষ্ঠ*?? এবং ওখানে এও পাবেন যে- ফেরেস্তাদের নিজ ইচ্ছা বলে কিছু নেই---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=692747624443571&id=544853392566329

   #উত্তর:::- যতদূর নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানি, তা হল- বেশিরভাগই মানুষইইইই ধীরে ধীরে নাস্তিক হয়ে ওঠে। কেননা, গবেষণা বলছে- বেশিরভাগ মানুষ নাস্তি কতার দিকে এগিয়ে যায় ধার্মিকদের গোঁড়া ধার্মিকতা দেখে। গোঁড়ার গোঁড়ামি দেখে কেউ কেউ ভাবে-*এটাই মনে হয় ধর্ম*!!

   নাস্তিকদের নাস্তিক হওয়ার আরও একটি কারণ হল- ধার্মিক থাকাকালীন তার মনে উত্থিত হওয়া প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া। কিন্তু ইসলামের একটা সৌন্দর্য হল-*এর প্রতিটি নিয়ম, নীতি, আইন-কানুন'কে যুক্তি ও বিজ্ঞান দিয়ে পরীক্ষা করা যায়*। তাই নয় কি??

   #যাইহোক, এবার প্রশ্নকারি যে আয়াতের ভিত্তিতে প্রশ্ন করেছেন, সেই আয়াতটি দেখা যাক। আয়াতটি হল-"হে মুমিনরা! জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের কে ও স্বজনদেরকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। যেখানে নিয়োজিত আছে কঠোর, নির্মম, ও শক্তিশালী ফেরেস্তারা। যারা আল্লাহর আদেশকে তৎ খনাৎ মান‍্য করে, কখনও অমান‍্য করে"(66:6)।

   এই তো ভাই, এই সেই আয়াত তো?? এই আয়াতটি কে আপনি দেখেছেন এভাবে-*আল্লাহ ফেরেস্তাদের যখন কোনও হুকুম করে, তখন মাঝে মাঝে ফেরেস্তারা আল্লাহর হুকুম সঙ্গে সঙ্গে পালন করতে শুরু করে, আর মাঝে মধ্যে আল্লাহর হুকুম পালন করে না বা সঙ্গে সঙ্গে পালন করে না*।

   #তাই তো ভাই?? আপনি আয়াতটিকে উপরিউক্ত এ ভাবেইইই দেখেছেন তো?? আর এ সম্পর্কে কোরানের একটি বিখ্যাত আয়াতটি দেখুন-"আর এমন কিছু মূর্খ আছে, যাদের কাছে মিথ্যা আশা ছাড়া ঐশী গ্ৰন্থের কোনও জ্ঞান নেই, তারা শুধু ধারণা করে মাত্র"(2:78)। আরও বলা হচ্ছে-"তারা শুধু ধারণা বা অনুমান করে মাত্র, আর নিশ্চয় সত‍্যের সামনে ধারণার কোনও মূল‍্য নেই"(53:28 ও 10:36)।

   #আচ্ছা, 2:78 তে ধর্মগ্ৰন্থের জ্ঞান নেই বলতে কি বলা হচ্ছে?? বলা হচ্ছে যে- তারা *সমগ্ৰ গ্ৰন্থ* সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না। তারমানে?? তারমানে- এই আয়াতটি দেখার প্রয়োজন রয়েছে। কোন আয়াত?? আয়াতটি হল-"তারা বা ফেরেস্তারা কোনও ত্রুটি বা ভুল করে না"(6:61)।

   তাই, ভাই 6:61 আয়াতের ভিত্তিতে একটি প্রশ্ন উঠবে। আর তা হল- যদি ফেরেস্তারা ভুল বা ত্রুটি নাই করেন, তাহলে আল্লাহ নির্দেশ অমান্য করবে কি ভাবে??

   এবার প্রশ্ন করি-*এতক্ষণ বোঝাবার পর, কি বোঝা গেল*?? এটাই বোঝা গেল যে- আপনি সমগ্ৰ কোরান সম্পর্কে না বুঝেই, কিছু নাস্তিকদের প্রশ্ন শুনে কোরান বিরোধী ভুল ধারণা তৈরী করে রেখেছেন। যেমনটা আল্লাহ 53:28 এবং 10:36 আয়াতে বলেছেন-"তারা শুধু ধারণা করে মাত্র, আর নিশ্চিতরূপে সত‍্যের সামনে ধারণার কোনও মূল্য নেই"।

   এবার হয়ত আপনি বলতে পারেন যে-*তাহলে 66:6 আয়াতের ব‍্যাখ‍্যা কি হবে*??

   আয়াতটির বাকি অংশটা ছেড়ে শুধু শেষটা দেখুন- "যারা আল্লাহর আদেশকে তৎখনাৎ মান‍্য করে, কখনও অমান্য করে"। এবার এর সঙ্গে 6:61 আয়াতটি মিলিয়ে দেখুন। তখন এই আয়াতের ব‍্যাখ‍্যা হবে এমন-*আল্লাহ তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে পালনের নির্দেশ দিলে সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ পালন করে, আর কখনও নির্দেশ দেওয়া বটে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পালনের জন্য নয়, তখন তারা সঙ্গে সঙ্গে বা তৎক্ষণাৎ আদেশ পালন করে না বা অমান‍্য করে।

   অর্থাৎ যদি দেরিতে নির্দেশ পালন করার হুকুম পায়, তাহলে তারা তৎক্ষণাৎ কেন নি়র্দেশ পালন করবে??

   এভাবেও বলা যেতে পারে- তৎক্ষণাৎ আদেশ পালন করার হুকুম পেলে তৎক্ষণাৎ করে, আর দেরিতে আদেশ পালনের হুকুম পেলে, তৎক্ষণাৎ করতে অমান‍্য করে। যা, আল্লাহ শুধুমাত্র 66:6 আয়াতে ঘুরিয়ে বলে ছেন।

   এবার শেষ প্রশ্ন-*বলার উদেশ্য কি*?? বলার উদেশ্য হল- ফেরেস্তারা আল্লাহর হুকুম পালনে বাধ্য। অর্থাৎ যেমন হুকুম, তেমন কাজ।

   (একটা কথা বলতে চাই- আমার *পরিচিত* ব‍্যাক্তিরা ছাড়া আমাকে কেউ ফোন করে প্রশ্ন করবেন না)।

   আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                     লেখক, হোসেন কুরানী।

ইসলামী তালাক, প্রচলিত তালাক ও অপব্যবহার

 


    বহুদিন   ধরেই   বহুজন   আমাকে    তালাক   বিষয়ে লিখতে করতে অনুরোধ করছিলেন। বিশেষ  করে তখন থেকে, যখন  থেকে  ভারতীয়  সুপ্রিমকোর্ট তৎখানীক 3 তালাককে  অবৈধ  ঘোষণা  করেছে!! কিন্তু আমি সর্বদা বিতর্কিত  বিষয়  থেকে  দূরে  থাকতে   চাই- এ   জন‍্যেই তালাক সম্পর্কে লিখতে আগ্ৰহ দেখাই নি!!

   কিন্তু  এখন  ঠিক  করেছি যে, তালাক সম্পর্কে সঠিক তথ্যটি তুলে ধরব- ইনশাআল্লাহ। আর, তালাক সম্পর্কে আমাদের   সমাজে   যত   ধরণের   কুসংস্কার   প্রচলিত রয়েছে- সেগুলোতেও  যথা  সম্ভব আলোক পাত করব- ইনশাআল্লাহ।

   যাইহোক, কিছুদিন আগে *ইসলাম ও নারী অধিকার* বিষয়ে  প্রায়  25-30  টি লেখা  লিখেছিলাম!! তারমধ্যে একটি লেখার  বিষয় ছিল-"নারীর  তালাক অধিকার বা নারী   কি   তার  স্বামীর  সঙ্গে   বিবাহ   বিচ্ছেদ  ঘটাতে পারে"?? নিচে  সেই  লেখার  লিঙ্ক  দিলাম, চাইলে লিঙ্কে ক্লিক করে অজানা বিষয়টি জেনে নিতে পারেন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=813918315659834&id=544853392566329

   এছাড়াও  যদি  আপনি *ইসলাম  ও  নারী  অধিকার* সম্পর্কে  জানতে  চান  এবং  হিন্দু  ধর্মে নারীর অবস্থান সম্পর্কে  জানতে  চান, তাহলে  নিচের  লিঙ্কে ক্লিক করে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=824423284609337&id=544853392566329

   সুধীপাঠক, আগে   কয়েকটি  বিষয়  পরিষ্কার  করতে চাই। প্রথমতঃ ইসলামকে হেয়-প্রতিপন্ন কারিদের কাছে "তৎখানীক  3  তালাক  প্রসঙ্গ" হল- সবচেয়ে   মজাদার বিষয়!! তাই   না?? 2-4   আগে   পর্যন্ত ভারতীয় News channel গুলোতে   দেখেছেন  নিশ্চয়??

   দ্বিতীয়তঃ এই  প্রবন্ধের লেখক  অর্থাৎ "আমি কোনও আলেম নই, আমি  শুধুমাত্র  হোসেন কুরানী এবং......"। সুতরাং   আমার   কোনও  কথা  মেনে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন   নেই, আপনি   শুধুমাত্র   "কোরান   ও   সহীহ হাদীস" থেকে   যা  পাবেন, সেটা   মেনে   নেবেন!! চলুন সুধী, এবার আমরা উত্তরের দিকে এগিয়ে যেতে চাই-

   #উত্তর:::- সর্বপ্রথম   চমকে   ওঠার    মত    চমৎকার একটি  আয়াত   আপনার/ আপনাদের   উদেশ‍্যে   তুলে ধরতে   চাই- যা, আল্লাহ    তায়ালা   "তালাক"   প্রসঙ্গেই কোরানে বলেছেন এবং সেই আয়াতটি হল-                                 

وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا     

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  আল্লাহর  আয়াতকে  নিয়ে ছেলে-খেলা কর না"(2:231)।

   এখন  সমস্ত  মুসলিমদের   কাছে   প্রশ্ন-"কেন  আল্লাহ পবিত্র কোরানে "তালাক প্রসঙ্গে" এমন কথা বললেন"?? তাহলে   কি  তালাকের  অপব্যবহার  হবে- এটা  আল্লাহ জানতেন?? বলা ভুল হল!! আল্লাহ তো সবই  জানেন!! হ‍্যাঁ, মুসলিমরা  তালাকের  অপব্যবহার করবে- এটা সর্ব জ্ঞানী  আল্লাহ   জানতেন   এবং  এই   জন‍্যেই    আল্লাহ    মুসলিমদের সতর্ক করেছেন, এই বলে যে-

وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا  

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  আল্লাহর  আয়াতকে  নিয়ে ছেলে-খেলা কর না"(2:231)।

   আমার  মনে  হয়, আমরা/  মুসলিম  সমাজ  আল্লাহর আয়াতকে  নিয়ে  ছেলে-খেলাই  করেছি। ফলতঃ  গোটা পৃথিবীতে "তালাক প্রসঙ্গে" ইসলাম এবং মুসলিম জাতি হাসি-ঠাট্টার পাত্রে পরিণত হয়েছে!!

   যাইহোক, এ  বিষয়ে  আমি  যদি  আরও  কিছু বলতে যাই, তাহলে  তা   শুনতে   খারাপ   হবে   এবং   আলেম সমাজের  গায়ে  লাগবে!! তাই  এ  বিষয়ে আর কিছু না বলাই ভাল হবে!! তাই নয় কি??

   চলুন ভাই, এমনিতেই এই  লেখাটি  খুব বড় হবে। তাই অন্য কিছু আলোচনা না করে এই আয়াতটি দেখুন-

اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ ۗ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ

অনুবাদ-"তোমাদের  প্রভুর  পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা   কিছু   নাযিল   করা   হয়েছে, তার   অনুসরণ  কর। নিজেদের   প্রভুকে   বাদ   দিয়ে   অন্য   অভিভাবকদের অনুসরণ  কর  না। কিন্তু তোমরা তো খুব কমই উপদেশ গ্ৰহণ কর"(7:3)।

   তাই আমরা  কোরানের  অনুসরণ করব এবং কোরান বলে-           يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ  অনুবাদ হবে এমন-"হে  ইমানদারগণ!! তোমরা   আল্লাহ এবং তার রাসুলের অনুসরণ কর"(3:31,  3:32,  3:132, 4:13,  4:59,  5:92,  8:1,  8:20,  8:46,  19:54, 19:56, 33:33,  33:71,  58:13,   64:12)। সুতরাং   সুধীপাঠক, আমরা আমাদের আলোচনাকে কোরান ও সহীহ হাদীস কেন্দ্রিক রাখব- ইনশাআল্লাহ। যদি কেউ এই 2 টি উৎস ছাড়া অন্য উৎস  থেকে  আলোচনা চায়, তাহলে আমার এই  লেখা  তার/ তাদের  জন্য   নয়!! তাই  চলুন, এবার আমরা আমাদের লেখায় মনোযোগ দিই-

   তৎখানীক  3  তালাকের  সবচেয়ে  নোংরা  দিক  হল- "হালালা   বা   হিল্লা   বিবাহ"। যদিও "হালালা   বা  হিল্লা বিবাহ" ইসলাম  সম্মত  নয়। এ বিষয়ে  বিশ্বনবী মহাম্মদ (স) বলেছেন-"হালাল কারি এবং যার জন্য হালাল করা হয়, উভয়কে   অভিসম্পাত   করেছেন"(ইবনে   মাজাহ, কিতাবুল   নিকাহ, হাদীস  1934,  1935)। এখানেই  কি শেষ?? না, না, এ বিষয়ে আরও হাদীস রয়েছে, যেখানে বিশ্বনবী (স) বলেছেন-"আমি  কি  তোমাদের ভাড়াটিয়া পাঠার    ব‍্যাপারে    খবর   দেব?? তারা    বলল- হ‍্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল (স)। তিনি বলেন- সে হল হালাল কারি। আল্লাহ  হালাল  কারি  এবং  যার জন্য হালাল করা হয়, উভয়কে      অভিসম্পাত     করেছেন"(ইবনে     মাজাহ, কিতাবুল নিকাহ, হাদীস 1936)।

   এবার   মুসলিম   সমাজকে   কঠিন   মত  একটা প্রশ্ন করতে   চাই, উত্তর   দেবেন   তো?? উপরিউক্ত   হাদীস গুলো পড়েছেন?? তবে, এটা কোনও প্রশ্ন  নয়, প্রশ্ন তো এখন  বাকি  আছে!! প্রশ্নটি  হল-"আমাদের আলেমগণ কি উপরিউক্ত হাদীস গুলো পড়েন নি?? না কি  জানেন না"??

   সুধীপাঠক, কি উত্তর দেবেন এই প্রশ্নের?? যদি পড়েই থাকেন, তাহলে   আজও   এই  নোংরা "হালালা বা হিল্লা বিবাহ" আমাদের সমাজে  প্রচলিত  আছে কেন?? কেন আজও  নারীকে  এই  নোংরা প্রথার শিকার হতে হয়?? কেন  আজও  নারী'কে  স্বামীর   গুনাহ'র   শাস্তি   পেতে হয়?? স্বামী  ভুল  করে, মদ  খেয়ে, রাগে  তালাক দেবে-আর, তার  শাস্তি  স্ত্রীকে  ভোগ  করতে  হবে?? নারীদের উপর   এই   অত‍্যাচারের   দায়ী  কে/ কারা?? তারা  কি আমাদের সমাজের গাঁজাখোর আলেমগণ নন??

   স্বামীর  ভুলের জন্য স্ত্রীকে "হালালা বা হিল্লা বিবাহের" মাধ্যমে  শাস্তি  দেওয়া  প্রসঙ্গে  মহান  আল্লাহ   কোরানে বলেছেন-       كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ     অনুবাদ    হবে এমন-"প্রত্যেক  ব্যক্তি  তার নিজ কর্মের জন্য দায়ী"(74: 38)। এখানেই কিন্তু শেষ নয়, এই বিষয়ে আল্লাহ আরও কোরানে বলেছেন-

كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ 

অনুবাদ হবে এমন-"যে   যা   করবে,  তাই    পাবে। কেউ কারোর বোঝা বহন করবে না"(6:164)। যদি  তাই  হয়ে থাকে, তাহলে  স্বামীর  দোষে   স্ত্রীকে "হালালা  বা  হিল্লা বিবাহের" মাধ্যমে শাস্তি পেতে হয় কেন??

   আরও   কিছু   প্রশ্ন-"আমাদের   আলেমগণ   কি   এই আয়াত  গুলো  পড়েন  নি?? না  কি আলেমগণ কোরান পড়ার সময় এই আয়াত গুলো বাদ দিয়ে পড়েন"??

   এই সমস্ত আলেমদের উদেশ‍্যেই হয়ত পবিত্র কোরানে আল্লাহ এই আয়াত দুটি বলেছেন-

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا

অনুবাদ হবে এমন-"তারা   কি  কুরআন    নিয়ে    চিন্তা-ভাবনা  ও  গবেষণা করে নি, না কি  তাদের  ব্রেনে তালা লাগানো আছে"(47:24, 4:82)??

   যাইহোক, আলেমগণকে   অনেক   কথা    শোনালাম, ★যদিও  আমি  নিজে  কোনও  আলেম  নই  বরং  সেই সমস্ত   আলেমগণের   পায়ের   জুতোর    যোগ্য★ যারা কোরান এবং সহীহ হাদীসের আলোকে কথা বলেন!!

   যারা ইসলাম  সম্পর্কে  এবং  মুসলিম সমাজ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ, তারা প্রশ্ন করতে পারেন যে- হালালা বা হিল্লা বিবাহ কি??

   আমাদের দেশে তথা প্রচলিত তৎখানীক 3 তালাক বা একই  বৈঠকে  স্বামী  স্ত্রীকে 3 তালাক দিলে মৌলানা ও গাঁজাখোর  আলেমদের  মতে- বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এবং পরে  যদি  স্বামী  স্ত্রীকে  আবার  স্ত্রী  হিসাবে পেতে চায়, তখন 1 দিনের জন্য অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে ঐ স্ত্রীর বিবাহ দিতে হবে  এবং  সেই  1 দিনের স্বামীর সঙ্গে যৌনমিলন  করতে  হবে   এবং  এই 1 দিনের  স্বামী  এই স্ত্রীকে  তৎখানীক  3  তালাক  দিলে, তবেই   না  কি   ঐ স্ত্রীকে তার আগের স্বামী ফিরিয়ে নিতে  পারবে। এখানে এই "1 দিনের  বিবাহ"কে "হালালা  বা হিল্লা বিবাহ" বলা হয়। অথচ    ইসলামে    "হালালা   বা   হিল্লা   বিবাহ''কে অভিসম্পাত করা হয়েছে তথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে!!

   এখন মনে মনে এই প্রশ্নটি ঘুরপাক  খাচ্ছে যে-"তাহলে সঠিক তালাক  পদ্ধতি  কি  বা  কেমন"?? সুধীপাঠক, এ বিষয় নিয়েই আজকের লেখা, তাই চলুন-

   আমরা   তালাক   প্রসঙ্গে   কথা  বলার  আগে  প্রথমে একটা আয়াত দেখাতে চাই এবং আয়াতটি হল-

الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

অনুবাদ হবে এমন-"যারা    সচ্ছল    ও    অসচ্ছল   সব অবস্থাতেই (আল্লাহর পথে) অর্থ-সম্পদ  ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ দমন করে  ও  অন্যের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়। এই    ধরনের    সৎ   লোকদের    আল্লাহ‌   অত্যন্ত ভালোবাসেন"(3:134)।

   উপরিউক্ত  আয়াতটি  মনে  রাখবেন, আয়াতটি  নিয়ে পরে  গুরুত্বপূর্ণ  আলোচনা  করব- ইনশাআল্লাহ!! তবে, নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন যে- ইসলাম তালাকের  অনুমোদন  দিল  কেন?? তাই  নিচে   দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=813918315659834&id=544853392566329

   আচ্ছা, এখন   একটা   প্রশ্ন    হতে    পারে-"তালাকের বিষয়ে  ইসলাম  কি মনে করে"??  ইসলাম চায়- সমাজে তালাকের  মত  নিকৃষ্ট  ঘটনা  না  ঘটে  এবং  তার  জন্য ইসলাম  প্রয়োজনীয়  ব‍্যাবস্থাও  গ্ৰহণ  করেছে। ইসলাম কি  কি  ব‍্যাবস্থা গ্ৰহণ করেছে?? এ বিষয়ে পরে আসছি কিন্তু  তার  আগে  দেখে  নিতে  চাই-"সমাজে তালাকের মত নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটে কেন"??

1) নারী-পুরুষ   একে-অপরকে  না  দেখে  বিবাহ  করা। আর, এর  জন্য  দায়ী আমাদের গাঁজাখোর আলেমগণ। কারণ, এই  গাঁজাখোর  গুলোই  এই  প্রচার করেছে যে- পিতা-মাতার  পছন্দের পাত্র/ পাত্রীকে বিবাহ করাই হল ধর্মীয় কর্তব্য!!

   অথচ   ইসলাম   নারী/ পুরুষ   একে-অপরকে   দেখে তবেই   বিবাহের   সিদ্ধান্ত   নিতে   বলেছে। এখানেই কি শেষ?? না,  না, শেষ   নয়, ইসলাম   নারী/ পুরুষ  একে-অপরকে    Propose    করতেও    অনুমোদন  দিয়েছে। চাইলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে চাইলে জানতে পারেন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=808625906189075&id=544853392566329

2) বিবাহ জীবনে  স্বামী ও স্ত্রী  একে-অপরের  প্রতি রাগ করা  এবং   একে-অপরকে   ক্ষমা  না  করা- এটাই  হল তালাকের মত নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটার অন‍্যতম কারণ। আর, এই  ব‍্যাপারেই  আল্লাহ  3:134   একটি   বিশেষ  নির্দেশ দিয়েছেন, এভাবে-

الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

অনুবাদ হবে এমন-"যারা    সচ্ছল    ও    অসচ্ছল   সব অবস্থাতেই (আল্লাহর পথে) অর্থ-সম্পদ  ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ দমন করে  ও  অন্যের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়। এই    ধরনের    সৎ   লোকদের    আল্লাহ‌   অত্যন্ত ভালোবাসেন"(3:134)।

3) স্বামী ও স্ত্রীর একে-অপরের প্রতি  অনীহা এবং  অন্য নারী  ও  পুরুষের  প্রতি আকর্ষণ- তালাকের  মত নিকৃষ্ট ঘটনা  ঘটার  অন‍্যতম  কারণ। এক কথায়  বললে  বলা ভাল  যে- "পরকীয়া" তালাকের  অন‍্যতম  প্রধান  কারণ গুলোর   একটা। আর, এ    বিষয়ে    আল্লাহ    কোরানে বলেছেন-

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  ব‍্যাভিচারের  কাছেও  যেও না, ওটা  অত্যন্ত  খারাপ  কাজ ও খুবই জঘন্য পথ"(17: 32)। উপরিউক্ত  আয়াত শুধুমাত্র ব‍্যাভিচারকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা   করে  নি, বরং   পাশা-পাশি   যে   কাজ করলে অবৈধ  সম্পর্ক  তৈরী  সেই   সমস্ত   কাজকেও   নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে!!

4) স্বামী-স্ত্রী   একে-অপরকে   একে-অপরের  সমান  না ভেবে    একে-অপরকে    ছোট     ভাবা। অবশ্য    গেঁয়ো অশিক্ষিত   মুসলিম   সমাজে   গাঁজাখোর   আলেমদের "স্বামী ভক্তি" প্রচারের কারণে স্বামীরা নিজেকে 'আল্লাহ' বলে ভাবতে শুরু করে এবং স্ত্রীকে ভাবে-'দাসী'।

   যদিও  ইসলাম  এমনটা   মোটেও   ভাবে  না!! "স্ত্রীকে দাসী  ভাবা   প্রসঙ্গে" কোরান   ও   ইসলামের   দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=811579515893714&id=544853392566329

   পুরুষের চেয়ে নারী কম মর্যাদার- যারা  এমন ভাবেন, তারা এ বিষয়ে কোরান  ও  ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=793194084398924&id=544853392566329

   এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এবং আলেমদের অপব‍্যাখ‍্যা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে নিচে আরও একটি লিঙ্ক দিলাম। চাইলে লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=802718713446461&id=544853392566329

   যাইহোক, যদি আমরা  পুরো-পুরি ইসলাম  মেনে চলি, তাহলে হয়ত তালাকের প্রয়োজনইইইই  পড়বে না!! এই জন‍্যেই আল্লাহ কোরানে বলেছেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً 

অনুবাদ হবে এমন-"হে   ঈমানদারগণ!! তোমরা   পুরো-পুরি ভাবে ইসলামে প্রবেশ কর"(2:208)।

   সুধীপাঠক, এবার আমরা সঠিক তালাক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা  করব- ইনশাআল্লাহ। দোয়া  করবেন আমরা আমাদের  আলোচনা  যেন  কোরান  ও হাদীস কেন্দ্রিক রাখতে পারি!! চলুন-

   ধরুন- আপনার স্ত্রীর দোষ-ত্রুটি রয়েছে এবং এ জন্যে মাঝে-মাঝেই   আপনাদের   সংসারে  অশান্তি  হয় এবং আপনি  রোজ-রোজ এই অশান্তিতে বিরক্ত হয়ে গেছেন এবং  আপনি   এই  অশান্তির   হাত  থেকে  মুক্তি  পেতে চাইছেন!! এখন  আপনি  আপনার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইছেন। কিন্তু   তালাক   দেওয়া   বললেই    তো   আর তালাক  দেওয়া  নয়!! তার  আগে  কিছু প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো পালন করতে হবে। যেমন-

1) স্ত্রীকে সদুপদেশ দিতে হবে তথা বোঝাতে হবে।

2) যদি   তাতেও   না   হয়, তখন   স্ত্রীকে  থেকে বিছানা আলাদা করে দিতে হবে।

3) যদি  তাতেও  না  হয়, তখন পুরো-পুরি স্ত্রী-সঙ্গ ত‍্যাগ করতে হবে।

4) যদি  তাতেও  না  হয়, তখন  স্বামীর  পরিবার   থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন করে সালিশ নিযুক্ত করে  স্বামী-স্ত্রীকে সংশোধনের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

5) যদি তাতেও না হয়, সেক্ষেত্রে আর কোনও পথইইইই খোলা   থাকল   না!! তখন    অশান্তি    এড়াতে   বিবাহ বিচ্ছেদের  পথইইইই  খোলা   থাকে   অর্থাৎ   তালাক!! কারণ, এ বিষয়ে কোরান বলে-       وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ 

অনুবাদ হবে এমন-"ফিতনা  বা  অশান্তি  হত‍্যার চেয়েও বেশি মারাত্মক"(2:191)।

   বলে রাখা ভাল হবে যে- এই প্রক্রিয়ায় কোনও ভাবেই স্ত্রীকে  কোনও  রুপ  মারধোর   করা   যাবে  না। এখানে কেউ  কেউ  4:34  আয়াত  তুলে ধরে বলতে পারেন যে- এই  আয়াতে স্ত্রীকে প্রহার বা মারের কথা বলা হয়েছে!! কিন্তু  এই  এই  আয়াতের  সঠিক  অনুবাদ নিচের লিঙ্কে করা হয়েছে। তাই, লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=800940350290964&id=544853392566329

   যাইহোক, উপরিউক্ত সমস্ত প্রক্রিয়া যদি অসফল হয়, তখন  আর  অন্য  কোনও  উপায়  থাকল   না- একমাত্র উপায়  তালাক  ছাড়া!! কিন্তু  তালাক  হবে  কিভাবে বা কোন পদ্ধতিতে?? চলুন বর্ণনা করি-

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا

অনুবাদ হবে এমন-"হে নবী, তোমরা  যখন স্ত্রীলোকদের তালাক দেবে, তাদেরকে  তাদের  ইদ্দতের  জন্য তালাক দাও  এবং  ইদ্দতের  সময়টা  ঠিকমত  গণনা  কর ,আর তোমাদের   রব   আল্লাহকে   ভয়   কর (ইদ্দত  পালনের সময়ে) তোমরা  তাদেরকে  তোমাদের  বাড়ী  থেকে বের করে  দিও  না। তারা  নিজেরাও যেন  বের না হয়। তবে, তারা  যদি  স্পষ্ট  অশ্লীল  কাজ  করে, তবে  ভিন্ন  কথা। এগুলো     আল্লাহর    নির্ধারিত    সীমা। যে     আল্লাহর সীমাসমূহ লংঘন করবে সে নিজেই নিজের ওপর জুলুম করবে। তোমরা  জান  না   আল্লাহ‌    হয়তো   এর   পরে সমঝোতার কোন উপায় সৃষ্টি করে দেবেন"(65:1)।

   উপরিউক্ত  আয়াত  থেকে  বোঝা  গেল তালাক দিতে চাইলে  ইদ্দতের  জন্য  তালাক  দিতে  হবে। অর্থাৎ প্রতি মাসে  একটি  করে 3 মাসে 3 তালাক দিতে হবে। অর্থাৎ এ ভাবে ঘটবে-

   ধরুন- আপনি  আপনার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইছেন এবং আপনি  জানুয়ারি   মাসের  15  তারিখে   স্ত্রীকে 1 তালাক  দিয়েছেন। এই  1  তালাক  দেওয়ার   পর  যদি আপনার  স্ত্রী  তার  দোষ-ত্রুটি  সংশোধন করে নেয় তো ভাল, নয়ত তারপর আপনার স্ত্রীর এক বার ঋতুস্রাব বা মাসিক হতে হবে। আপনার  স্ত্রীর  ঋতু  বা  মাসিক শেষ হওয়ার  পর  ফেব্রুয়ারির  15  তারিখে  স্ত্রীকে আরও 1 তালাক  দিতে  পারবেন। যদি  এখনও আপনার স্ত্রী তার দোষ-ত্রুটি সংশোধন করে নেয় তো ভাল, নয়ত তারপর আপনার স্ত্রীর আরও  একবার  ঋতুস্রাব বা মাসিক হবে এবং ঋতুস্রাব বা মাসিক শেষ হওয়ার পর মার্চ মাসের 15 তারিখে স্ত্রীকে আরও 1 তালাক দিতে পারবেন।

   এই  তালাক  আপনি  বন্ধ  ঘরে  দিতে  পারবেন না, 2 জন  সাক্ষীর সামনে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে। কোরানে আল্লাহ বিষয়টি বলেছেন এভাবে-

فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا

অনুবাদ হবে এমন-"এর    পর     তারা    যখন    তাদের (ইদ্দতের) সময়ের  সমাপ্তির  পর্যায়ে  পৌঁছবে তখন হয় তাদেরকে  ভালভাবে  (বিবাহ বন্ধনে)  আবদ্ধ রাখো নয় ভালভাবেই  তাদের  থেকে আলাদা হয়ে যাও। এমন দুই ব্যক্তিকে  সাক্ষী বানাও, তোমাদের মধ্যে যারা ন্যায়বান। হে সাক্ষীরা, আল্লাহর   জন্য   সঠিকভাবে   সাক্ষ্য  দাও। যারা আল্লাহ‌ ও আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান  পোষণ করে, তাদের  জন্য  উপদেশ  হিসেবে  এসব  কথা  বলা হচ্ছে। যে  ব্যক্তিই  আল্লাহকে  ভয়  করে  চলবে  আল্লাহ‌ তার  জন্য  কঠিন  অবস্থা  থেকে  রক্ষা  পাওয়ার উপায় সৃষ্টি করে দেবেন"(65:2)।

   উপরিউক্ত   65:2   আয়াত  হতে  বোঝা  গেল- 2 জন সাক্ষীর  সামনে প্রতি মাসে 1 টি করে 3 মাসে 3 তালাক দিতে  হবে। মনে  রাখা  দরকার  যে, 65:1 আয়াতে বলা হচ্ছ-

لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা      তাদেরকে    (স্ত্রীদেরকে) বাড়ি  থেকে  বের  করে  দেবে না, আর  নিজেরাও বাড়ি ছেড়ে  চলে  যাবে  না- অবশ্য  স্ত্রী  যদি  প্রকাশ‍্য  অশ্লীল কাজ করে, তবে ভিন্ন কথা"।

   উপরিউক্ত আয়াত হতে এটা পরিষ্কার বোঝা গেল যে, স্ত্রীকে   তালাক   দিতে   চাইলে, স্ত্রীর   সামনে   উপস্থিত থাকতে   হবে। দূর   থেকে   চিঠির   মাধ্যমে, ম‍্যাসেজের মাধ্যমে, মোবাইলে  কথা  বলতে  বলতে তালাক দেওয়া যাবে না!!

   যাইহোক, এবার ধরুন- 3 মাসে 3 তালাক হওয়ার পর স্ত্রী  তার  বাপের  বাড়িতে  চলে  গেল!! কিন্তু  তারপরও যদি স্ত্রী নিজেকে সংশোধন  করতে চায়, সেক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীকে আবার  ফিরিয়ে  নিতে পারবে, আবার তারা একত্রে  স্বামী-স্ত্রী  হয়ে জীবন-যাপন করতে পারবে। এই বিষয়টি আল্লাহ কোরানে বলেছেন এভাবে-

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

অনুবাদ হবে এমন-"তালাক   প্রাপ্তা  নারীগণ  3  মাসিক ঋতুস্রাব পর্যন্ত  অপেক্ষা করবে (অর্থাৎ   অন্য   কোনও পুরুষকে    বিবাহ    করবে    না)। আর, আল্লাহ‌   তাদের  গর্ভাশয়ে  যা  কিছু  সৃষ্টি  করেছেন, তাকে  গোপন  করা  তাদের  জন্য  বৈধ  নয়। তাদের   কখনও  এমনটি  করা উচিত নয়, যদি তারা  আল্লাহ‌  ও  পরকালে বিশ্বাসী হয়, তাদের স্বামীরা  পুনরায়   সম্পর্ক   স্থাপনে   প্রস্তুত   হয়, তাহলে   তারা  এই অবকাশ    কালের  মধ্যে  তাদেরকে  নিজের   স্ত্রী   হিসেবে  ফিরিয়ে  নেবার  অধিকারী  হবে। নারীদের  জন্যও   ঠিক   তেমনি   ন্যায়সঙ্গত   অধিকার  আছে, যেমন পুরুষদের অধিকার  আছে  তাদের উপর। তবে, পুরুষরা    নারীদের    তুলনায়    শারীরিক    শক্তি   সম্পন্ন। আর, সবার   ওপরে  আছেন  আল্লাহ‌  সর্বাধিক ক্ষমতা    এবং     কর্তৃত্বের     অধিকারী, বিচক্ষণ    এবং জ্ঞানী"(2:228)।

   ধরুন- এই  বাড়তি  3  মাসের  মধ্যে  আপনি আপনার স্ত্রীকে  ফিরিয়ে  নিলেন এবং সংসার করতে থাকলেন!! পরে  যদি  আবার  আপনার  স্ত্রীর  দোষ-ত্রুটির  কারণে আপনার  সংসারে  অশান্তি  সৃষ্টি  হয় এবং আপনার স্ত্রী তার  দোষ-ত্রুটি  সংশোধন  করতে চাইছে না, সেক্ষেত্রে আবার  পূর্বে  বর্ণিত  পদ্ধতি অনুযায়ী তালাক হবে এবং আপনারা অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী আলাদা হয়ে যাবেন!!

   ধরুন- তারপর  আবার  আপনি  3  মাস বাড়তি সময় পাবেন  স্ত্রীকে  ফিরিয়ে  আনার  জন্য  এবং আপনি এই বাড়তি  3  মাসের মধ্যে স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে আনলেন এবং   পুনরায়    স্বামী-স্ত্রী   হিসাবে   জীবন-যাপন  শুরু করলেন!!

   ধরুন- আবার আপনাদের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে আপনার  স্ত্রীর  কারণে, সেক্ষেত্রে  পূর্বে   বর্ণিত   পদ্ধতি অনুযায়ী  আবার তালাক দিলেন এবং আপনারা অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী  আবার  আলাদা  হয়ে  গেলেন!! ★★এর পর আপনারা পুনরায় মিলিত হতে চাইলে আর মিলিত হতে পারবেন  না!! কারণ, বিবাহ   কোনও   ছেলে   খেলা বা পুতুল খেলা নয়!! এ বিষয়ে কোরানে  আল্লাহ  বলেছেন এভাবে-

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

অনুবাদ হবে এমন-"অতপর যদি স্বামী তৃতীয়বার স্ত্রীকে তালাক দেয়, অন্য  স্বামীর  সঙ্গে  বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত গত  স্বামী  তার  জন্য  হালাল   নয়। পরে   যদি  বর্তমান তাকে   তালাক   দেয়  এবং  উভয়ে  (গত  স্বামী  ও  স্ত্রী) আল্লাহর  নির্ধারিত  সীমা রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করে, তবে    প্রত‍্যবর্তনে     কোনও    পাপ    নেই। এটাই আল্লাহর  সীমা, যা  জ্ঞানীদের  জন্য   আল্লাহ  বিস্তারিত বর্ণনা করেন"(2:230)।

   ইসলামে  বিবাহ  খুব  এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন‍্যেই স্বামী-স্ত্রীকে  সংসার  জীবন-যাপন  করার  জন্য অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে!! তাই নয় কি?? যাইহোক, এবার আমরা সংক্ষিপ্ত ভাবে সেই সমস্ত দিক গুলো আলোচনা করব, যে সমস্ত দিক লেখার সৌন্দর্যের  স্বার্থে বাদ দিতে হয়েছিল-

1) স্বামী  যদি  তালাক   দেওয়ার   সিদ্ধান্ত   নেয়, স্ত্রীকে "মোহর" হিসাবে  যা  দেওয়া  হয়েছিল- তা  স্বামী ফেরত চাইতে  পারবে  না!! যদিও আমাদের দেশে "মোহর" খুব এবং  খুবই  অল্প   পরিমাণ   ধার্য্য   করা   হয়!! "মোহর" সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=680065249045142&id=544853392566329

   যাইহোক, স্বামী   তালাকের   পদক্ষেপ  নিলে "মোহর" হিসাবে ধার্যকৃত  অর্থ ফেরত  নেওয়া যায় না, এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا ۚ أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا

অনুবাদ হবে এমন-"আর, তোমরা  যদি  এক  স্ত্রীর স্থলে অন্য  স্ত্রী  গ্ৰহণ  করার   সংকল্প  করেই   থাকো, তাহলে তোমরা    তাকে (আগের    বা   তালাক   প্রাপ্তা   স্ত্রীকে) সম্পদের  পাহাড়   দিয়ে   থাকলেও, তা   থেকে   কিছুই ফিরিয়ে নিও না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে  এবং সুস্পষ্ট জুলুম করে তা ফিরিয়ে নেবে"(4:20)??

2) 3  মাসে  3  তালাক  হওয়ার  স্বামী-স্ত্রী  আলাদা হয়ে যাবে  এবং  স্বামী  স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাড়তি 3 মাস সময় পায়  এবং  এই অবকাশ  কালের  মধ্যে  যদি স্বামী  স্ত্রীকে  ফিরিয়ে   আনতে   চায়, ফিরিয়ে   আনতে পারবে  কিন্তু যদি  স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে আর থাকতে না চায়, সেক্ষেত্রে  স্বামী  স্ত্রীকে  জোর   করে   ফিরিয়ে   আনতে পারবে  না। এ   বিষয়ে   কোরানে  আল্লাহ  বলেছেন এই ভাবে-     لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ    অনুবাদ  হবে  এমন-"দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই"(2:256)।

3) আবু  হুরাইরা  (রা)  থেকে  বর্ণিত। তিনি  বলেন, নবী (স)  বলেছেন- তালাক  মাত্রই  তা কার্যকর হয়, বুদ্ধিভ্রষ্ট ও মতিভ্রম লোকের  তালাক কার্যকর হয় না"(তিরমিযী, কিতাবুত তালাক, হাদীস 1131)। অর্থাৎ যদি  কেউ মদ খেয়ে অথবা নেসাগ্ৰস্থ অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়, সেই তালাক গ্ৰহণ যোগ্য হবে না।

   শুধুমাত্র এখানেই শেষ নয়, স্ত্রীর যদি  Period বা  ঋতু স্রাব বা মাসিক হয়- এই অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক  দেওয়া যাবে না। নিচের বর্ণিত হাদীসটি দেখুন-

"আব্দুল্লাহ  ইবনে  উমার  (রা)  বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী  (স)  জীবদ্দশায়  তার  স্ত্রীকে  ঋতুবতী  অবস্থায় 1 তালাক  দিলে তার পিতা উমার ইবনে খাত্তাব  (রা)  নবী (স)- কে  জিজ্ঞাসা  করলেন। তখন  নবী ( স)  বললেন- তাকে  (তোমার ছেলেকে)  গিয়ে  বল  যে, সে  যেন তার স্ত্রীকে    স্ত্রী    হিসাবে   ফিরিয়ে   নেয়"(বুখারী, কিতাবুত তালাক, হাদীস 4871)। এখানেই কিন্তু শেষ নয়, আরও একটু বাকি আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন-

"আয়েশা  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন, বিশ্বনবী  (স) বলেছেন- গিলাক বা রাগ অবস্থায় তালাক বা দাস মুক্তি হয় না"(আবুদাউদ, কিতাবুত তালাক, হাদীস 2191)।

4) 3 বার  বিচ্ছেদ  হওয়ার   পর   আপনি   স্ত্রীকে   আর ফিরিয়ে আনতে পারবেন না এবং আপনার স্ত্রী চাইলেও আপনার  কাছে  আর  ফিরে  আসতে  পারবে  না  এবং আপনার  গত  স্ত্রী যদি অন্য জায়গায় বিয়ে করতে চায়, তখন আপনি সেই বিয়েতে বাধা দিতেও পারবেন না। এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  নিজেদের  স্ত্রীদের  তালাক দেয়ার  পর  যখন   তারা   ইদ্দত  পূর্ণ   করে  নেয়, তখন তাদের   নিজেদের   প্রস্তাবিত   স্বামীদের   সাথে  বিয়ের ব্যাপারে  তোমরা   বাধা   দিও না, যখন   তারা  প্রচলিত পদ্ধতিতে  পরস্পর  বিবাহ  বন্ধনে  আবদ্ধ   হতে  সম্মত হয়"(2:232)।

5) প্রথমবার  3  মাসে  3 তালাক হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ হওয়ার পর, যদি  স্বামী-স্ত্রী  পরস্পর  সম্মত  না হয়ে সংসার  জীবন-যাপন করতে চাইবে, ততক্ষণ স্বামী স্ত্রীকে  ফিরিয়ে  আনতে   পারবে   না!! আর, যদি  স্বামী স্ত্রীকে 3 মাসের  মধ্যে  ফিরিয়ে  না  আনে, সেক্ষেত্রে  স্ত্রী অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ করতে পারে।

6) তবে, যদি  স্ত্রী  3  মাস  পরও  অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ  না  করে, সেক্ষেত্রে স্বামী  চাইলে  স্ত্রীকে  ফিরিয়ে এনে পুনরায় সংসার জীবন-যাপন করতে পারবে।

7) 3  বার  বিচ্ছেদের  পর  স্বামীর  কাছে  আর  কোনও সুযোগ  থাকল  না স্ত্রীকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য!! তখন  স্ত্রী  হয়ত  অন্য  কোনও  পুরুষকে  বিবাহ করে নিল এবং স্ত্রীর  বর্তমান  স্বামীও  যদি  পূর্বে  বর্ণিত পদ্ধতি  অনুযায়ী  স্ত্রীকে তালাক দেয়, সেক্ষেত্রে স্ত্রী তার পূর্ব  স্বামীর  কাছে  ফিরতে  পারবে। এটা  অবশ্য   এবং অবশ্যই কাকতলীয় ঘটনা হতে হবে, কোনও পরিকল্পনা হলে হবে না!! এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

অনুবাদ হবে এমন-"অতপর যদি স্বামী তৃতীয়বার স্ত্রীকে তালাক দেয়, অন্য  স্বামীর  সঙ্গে  বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত গত  স্বামী  তার  জন্য  হালাল   নয়। পরে   যদি  বর্তমান তাকে   তালাক   দেয়  এবং  উভয়ে  (গত  স্বামী  ও  স্ত্রী) আল্লাহর  নির্ধারিত  সীমা রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করে, তবে    প্রত‍্যবর্তনে     কোনও    পাপ    নেই। এটাই আল্লাহর  সীমা, যা  জ্ঞানীদের  জন্য   আল্লাহ  বিস্তারিত বর্ণনা করেন"(2:230)।

   বলে  রাখতে  চাই  যে, উপরিউক্ত  2:230  আয়াতকে মানুষ পরিকল্পিত ভাবে  অসৎ  উদেশ‍্যে  ব‍্যবহার  করে। বিশেষ   করে "হালালা  বা  হিল্লা   বিবাহের" ক্ষেত্রে। এই 2:230 আয়াতের অপব্যবহার হবে বলেই  হয়ত  আল্লাহ 2:231 আয়াতে  আল্লাহ   মানুষকে   সাবধান   করেছেন এভাবে-        وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا         অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  আল্লাহর  আয়াতকে  নিয়ে ছেলে-খেলা কর না"(2:231)।

   ★★★ সুধীপাঠক, এতক্ষণ  আমরা  স্ত্রীর  দোষ-ত্রুটি মেনে নিয়ে সঠিক তালাক  পদ্ধতি  বর্ণনা  করেছি  কিন্তু স্ত্রী  যদি  কোনও  পুরুষকে  তালাক  দিতে  চায়   অথবা স্বামীর    থেকে   "খুলা তালাক"   নিতে    চায়, সেক্ষেত্রে পুরুষের  মধ্যে  দোষ-ত্রুটি  থাকা জরুরী নয়। অর্থাৎ স্ত্রী তার স্বামীকে "কারণ" ছাড়াই তালাক দিতে পারে অথবা "খুলা   তালাক" নিতে   পারে। নিচে  "নারীদের   তালাক অধিকার  ও  ইসলাম" সম্পর্কে  বিস্তারিত  জানতে লিঙ্ক দিলাম। লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=813918315659834&id=544853392566329

   সুধীপাঠক, এবার  আমরা "খুলা" সম্পর্কে  আলোচনা করব- ইনশাআল্লাহ। সুতরাং  দোয়া  করুন আল্লাহ যেন আমার *মাকে  জান্নাতুল  ফেরদৌস* দান  করেন  এবং আমার ও হানীজি'র জন্য দোয়া করবেন। এছাড়াও বড় বোনের  বিবাহের  জন্য  পাত্র  খুঁজছি- এ জন‍্যেও দোয়া করবেন, আল্লাহ  যেন  একটা  ভাল পাত্রের সন্ধান করে দেন!! অথবা  যদি  আপনার  দৃষ্টিতেও  কোনও সু-পাত্র তথা 5 ওয়াক্ত নামাজী, তাহাজ্জুদ নামাজী এবং  সুন্নাত মোতাবেক   দাড়ি   ওয়ালা   পাত্র   থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন!!

   যাইহোক,  "খুলা তালাক" বলতে  কি  বোঝায়?? এক কথায়, স্বামী  বিবাহের  সময়  স্ত্রীকে  যে মোহর দেয়, স্ত্রী তা   স্বামীকে  ফিরিয়ে   দেওয়ার   বদলে   স্বামীর থেকে তালাক নেওয়া!! এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-                                                                         

فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

অনুবাদ হবে এমন-"তাহলে  স্ত্রীর   কিছু   বিনিময়  দিয়ে তার  স্বামীর থেকে  বিচ্ছেদ  লাভ  করায়  কোনও ক্ষতি নেই। এগুলো   আল্লাহ‌    নির্ধারিত    সীমারেখা, এগুলো অতিক্রম   কর   না। মূলত   যারাই    আল্লাহ‌   নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করবে, তারাই জালেম"(2:229)।

   অর্থাৎ  বিষয়টি  আমরা  পূর্বেই  উল্লেখ   করেছিলাম। আপনি হয়ত খেয়াল করেন নি, আর তা হল- স্বামী  যদি তালাকের    উদ্যোগ   নেয়, তাহলে   মোহরের   পরিমাণ সোনার পাহাড় হলেও স্বামী তা হতে কিছুই ফেরত নিতে পারবে   না। কিন্তু   তালাকের   উদ্যোগ   যদি   স্ত্রী  নেয়, তাহলে  মোহর  হিসাবে  ধার্যকৃত সম্পদ স্বামীকে ফেরত দিয়ে তালাক নিতে হবে!!

   সুধীপাঠক, এবার  আপনাদের  সামনে  একটি হাদীস উদ্ধৃতি  করি, তাহলে  বিষয়টি  আরও  স্পষ্ট হয়ে উঠবে আপনার কাছে। হাদীসটি দেখুন-

"ইবনে আব্বাস  হতে  বর্ণিত। তিনি বলেন, সাবিত ইবনে কায়িস ইবনে  সাম্মাসের  স্ত্রী  (জামিলা)  নবী  (স)-  এর নিকট    এসে   বলল- হে   আল্লাহর   রাসুল   (স), আমি  (আমার স্বামী) সাবিতের   ধর্মপরায়ণতা   বা   চরিত্রগত কারণে  তার  সঙ্গে   সংসার  করতে  অস্বীকার করি না,  কিন্তু  আমি  কুফরীর  ভয়  করি। তখন  নবী  (স) তাকে বললেন- তুমি  (মোহর  হিসাবে  পাওয়া)  তার  বাগানটি তাকে ফিরিয়ে দিতে রাজি  আছ?? তখন সে (জামিলা) বলল- হ‍্যাঁ। ফলতঃ নবী  (স)  সাবিতকে  নির্দেশ  দিলেন যে, তাকে  (অর্থাৎ   জামিলাকে   বা   তোমার  স্ত্রীকে) 1 (এক)  তালাক  দাও"(বুখারী, কিতাবুত  তালাক, হাদীস  4889, 4890, 4891, 4892)।

   সুধীপাঠক, তাহলে    কি   বুঝলেন?? এতক্ষণ   পর্যন্ত পড়ার যা মাথায় ঢুকল, তা হল-

1) স্বামী  যদি  স্ত্রীকে  তালাক  দিতে   চায়, তাহলে  স্ত্রীর মধ্যে  কোনও  দোষ-ত্রুটি  থাকতে হবে এবং সেই দোষ- ত্রুটি  স্ত্রী  সংশোধন   করতে   না   চাইলে, তবেই   স্বামী তালাকের পদক্ষেপ নিতে পারবে, নয়ত নয়!!

2) কিন্তু  স্ত্রী  যদি  স্বামীর  সঙ্গে  সংসার  না করতে চায়, সেক্ষেত্রে  স্ত্রীকে  কোনও  কারণ  দেখাতে হবে না!! শুধু মাত্র স্বামীর  সঙ্গে  না থাকতে চাইলেই হল!! এককথায়, সব  কিছুর  মতই  তালাকের   ক্ষেত্রেও   পুরুষের  চেয়ে নারীর অধিকারইইইই বেশি!!

   যাইহোক, প্রশ্ন  হবে-"যদি  কেউ  বর্তমানে  স্ত্রীকে  এক বৈঠকে  3  তালাক  দেয়, সেক্ষেত্রে  কি হবে"?? এক্ষেত্রে অনেকেই বলেন যে, তালাক   হয়ে   যাবে, কিন্তু তালাক দাতার   গুনাহ   হবে!! এ  বিষয়ে  আমি  নিজে  কোনও মন্তব্য  করছি  না  কিন্তু  2 টি হাদীস তুলে ধরতে চাইছি, হাদীস 2 টি হল-

"সুলাইমান   ইবনে   দাউদ  (র) .... ইবনে  মাখরামা  (র) আমাদেরকে  সংবাদ  দিয়েছেন  তার  পিতা  হতে, তিনি বলেন- আমি   মাহমুদ   ইবনে   লবীদ  (রা)-  কে  বলতে শুনেছি  যে, নবী  (স)-  কে  এক  ব‍্যাক্তি   সম্পর্কে  খবর দেওয়া  হল, সে  তার  স্ত্রীকে একত্রে 3 তালাক দিয়েছে। এ কথা  শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে দাড়িয়ে গেলেন  এবং বললেন- সে  কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করছে?? অথচ আমি তোমাদের মাঝেই রয়েছি!! তখন [নবী (স)- এর প্রতিক্রিয়া দেখে] এক  সাহাবা  দাঁড়িয়ে বললেন- হে আল্লাহর   রাসুল   (স), আমি   কি   তাকে   হত‍্যা   করব না"(নাষাই, কিতাবুত  তালাক, হাদীস 3404)। এছাড়াও আরও একটা হাদীস দেখুন-

"ইসহাক  ইবনে  ইব্রাহিম  এবং  মহাম্মদ ইবনে রাফে (র) বর্ণনা করেছেন.... ইবনে আব্বাস  (রা) বলেন- নবী (স)- এর যুগে, আবুবকর  (রা)-  এর  যুগে  এবং  উমার (রা)- এর  যুগের  প্রথম  2  বছরে  এক  বৈঠকে  3  তালাক 1 তালাক  রুপে  গণ‍্য  হত। তারপর  খলিফা   উমার  (রা) বললেন- লোকগণ    একটি    ব‍্যাপরে   খুব   তাড়াহুড়ো করছে। যাতে  তাদের  ধৈর্য্য  অবলম্বনের  সুযোগ  ছিল। এখন  বিষয়টি  তাদের  জন্য  কার্যকর  করে দিলে, তাই কল্যাণকর    হবে। সুতরাং    তিনি    তা    তাদের   জন্য বাস্তাবায়িত   করে   দিলেন   অর্থাৎ    এক    বৈঠকে   3 তালাককে  3  তালাক  বলেই   গণ‍্য   করলেন"(মুসলিম, কিতাবুত তালাক, হাদীস 3539)।

   সুধীপাঠক, এবার আপনি নিজে  ঠিক  করুন যে, এক বৈঠকে   3   তালাক    বা    "তালাক,  তালাক,  তালাক"   বললেই  তালাক হবে  কি  না?? আচ্ছা  চলুন, এ বিষয়ে আরও 1 টি হাদীস পরিবেশন করি-

"ইবনে  আব্বাস  হতে  বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবা আবু রুকানাহ  তার  স্ত্রী উম্মু রুকানাকে তালাক দিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে  বিচ্ছেদের  জন্য  আবু   রুকানাহ   পেরেসান  হয়ে পড়লেন। নবী (স) তাকে বললেন- স্ত্রীকে  ফিরিয়ে নাও। তখন  উক্ত সাহাবা বললেন- আমি তো তাকে 3 তালাক দিয়ে ফেলেছি। তখন  নবী  (স)  তাকে বললেন- তা তো আমি জানি!! এটা তো   মাত্র   1   তালাক   বলেই   গণ‍্য হয়েছে"(বুলুগুল    মারাম,  কিতাবুত    তালাক,   হাদীস 1107, 1108)।

   সুধীপাঠক, এবার  আমরা  লেখার শেষে এসে হাজির হয়েছি। একটা   শেষ   প্রশ্ন-"ভারতীয়   সুপ্রিমকোর্ট এক বৈঠকে  3  তালাক নিষিদ্ধ তথা অবৈধ ঘোষণা করেছে- এ  বিষয়ে  আপনার (লেখক  হোসেন কুরানীর) মতামত কি"?? এ প্রশ্নের উত্তর হল-★★★এই লেখাটি★★★।

   সুধীপাঠক, এই   লেখাটি   লিখতে   প্রায়  11-12 দিন সময়  লেগে  গেল!! গত  5.8.19  তারিখের  রাত থেকে লেখা  শুরু করেছিলাম  এবং  লেখা শেষ  হল 17.8.19 তারিখে  সকাল  11:30 এ। এই  11-12  দিনে  কত-শত প্রিয়-অপ্রিয় ঘটনা ঘটে গেছে, কত-শত দুঃখ ও বেদনার ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এ জীবনে  আপনজনের  দ্বারা!! জানি না এসব   ক্ষত  কিভাবে  পূরণ  হবে!! এরই  মধ্য   দিয়ে জীবন  থেকে  কেটে  গেল  11-12 দিন!! যাইহোক, যদি কেউ এই লেখা থেকে সামান্যটুকু  উপকৃত   হন, তাহলে  "আমার  মায়ের  জন্য   জান্নাতুল   ফেরদৌস  প্রার্থনার" আবেদন রইল।

   বলে রাখা প্রয়োজন, এজন্যই বলছি। সুতরাং প্রথমে হাদীসটি দেখুন-

"ইবনে  উমার  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন, নবী (স) বলেছেন- তালাক  হল  হালাল  বা  বৈধ  বস্তুর মধ্যে সব চেয়ে   নিকৃষ্টতম    বস্তু"(আবুদাউদ, কিতাবুত   তালাক, হাদীস 2174, 2175)। এবং ইসলাম চায়- কোনও  স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক  না  দেয়, কোনও  স্ত্রী  তার  স্বামীকে তালাক না দেয় বা খুলা না নেয়!! কিন্তু  বড়  সাংসারিক বিপর্যয়  এড়াতে  তালাককে   অনুমোদন  করা  হয়েছে। এবং ইসলাম এমন তালাক পদ্ধতি  উপহার দিয়েছে যে, এই পদ্ধতি অনুসরণ  করলে  তালাক কার্যকর হবে বলে মনে হয় না!! কেননা, "ইসলামী  তালাক  খুবই বড় এবং দীর্ঘদিনের প্রসেস"। তাই নয় কি??

   এবার আমি তাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই, যারা তালাক  প্রসঙ্গে  ইসলামের  দুর্নাম-বদনাম  করে!! এবং তাদের  একটা  প্রশ্ন  করতে  চাই  যে-"ইসলামী  তালাক পদ্ধতির  চেয়ে  ভাল  কোনও  তালাক পদ্ধতি পৃথিবীতে আছে"??

   আশা করছি, বোঝাতে  পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন  থাকলে,  পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                   © : লেখক, হোসেন কুরানী।

মানুষ কি একদিন মহাবিশ্ব জয় করতে পারবে??

 



    Facebook এর একজন মহিলা Massenger এ প্রশ্ন করে   বলেছেন-"হোসেন  স‍্যার, আমার  গত  প্রশ্নের  যে উত্তর আপনি দিয়েছেন, তার জন্য কোন শব্দে আপনার প্রশংসা  করব, সেই  শব্দ  পাচ্ছি  না!! শুধুমাত্র এত টুকু বলতে  পারি- ঐ  নোংরা  মহিলা (হানী'জি) ঠিকই বলত যে, আপনি  সত‍্যিই  অসাধারণ!! যদিও  আমি  নিজেও জানি!! এখন  বুঝতে  পারছি, কেন আয়েশা আপনাকে এত সম্মান করে এবং ভালবাসে!!

   স‍্যার, আপনাকে  একটা  অনুরোধ চাইছি, রাখবেন?? আয়েশাকে বিয়ে  করে নিন, আপনি  সুখী হবেন, সত‍্যিই সুখী  হবেন। আপনার  জন্য  দুঃখ  হয়, সারাজীবন  শুধু দুঃখ-কষ্টই   পেয়েছেন, আপনার   প্রয়োজন   আয়েশার মতো   জীবন  সঙ্গী, যে  আপনার  জন্য  Perfect  হবে। আর   আপনি   যেমন  ইসলাম  অনুযায়ী  জীবন-যাপন করেন, আয়েশাও   আপনারই  মতো  ইসলাম  অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। আর দেরি করবেন না!!

   স‍্যার, এবার  আমার প্রশ্নটা করি। প্রশ্নটা হল- কোরান অনুযায়ী, মানুষ   কি   কখনও   মহাবিশ্ব  বিজয়  করতে পারবে?? স‍্যার, আপনাকে   বলেই   এই  প্রশ্নটি  করতে পারছি, বছর দু'য়েক আগে এক  আলেমকে  এই প্রশ্নটি করেছিলাম, তখন  আপনার ব‍্যাপারে জানতাম না, সেই আলেম আমাকে বলেছিল- এ ধরণের প্রশ্ন করলে আমি নাকি কাফির হয়ে যাব!!

   স‍্যার, আমি  এ  বিষয়ে  বিস্তারিত  লিখিত  উত্তর চাই, যেন  ঐ  আলেমকে  পাঠাতে পারি, ঐ আলেম আমাকে অনেক   ছোট-বড়   বলেছিল!! যাইহোক, ঐ  মহিলাকে ভুলে  যাওয়াই  ভাল, নয়ত শুধু শুধু কষ্ট পাচ্ছেন!! তবে স‍্যার, ঐ মহিলা আপনার সম্পর্কে সব কিছু জেনে-শুনে আপনার   সঙ্গে   প্রতারণা  করল!! ঐ  মহিলা  একদিন বুঝবে- কি   পেয়েছিল   এবং  কি  হারাল!! কিন্তু  তখন আর  কোনও উপায় থাকবে না!! খুব সহজে  যদি কেউ মূল‍্যবান  বস্তু পায়, সে তার মূল‍্য  কখনও বুঝতে পারবে না!! তাই সে আপনার মূল্য বোঝে নি। তাই বলছি স‍্যার, যে আপনার মূল্য বোঝে  তাকে ছেড়ে দেবেন না!!

   আর   আপনার   এক  লেখায়  পড়লাম  যে, আপনার Mobile এ Ring হলেই আপনি সেই মহিলার Call ভেবে দৌড়ে Call  received করতে  যান!! যে  মহিলা গায়ের রঙের   জন্য  আপনাকে  ছেড়ে  দেয়, ঐ  রকম  নোংরা চরিত্রের  মহিলা  আপনাকে  Call  করবে বলে ভাবলেন কিভাবে?? আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হন, আপনার সুস্থতা কামনা করছি"।

    হ‍্যাঁ  এটা  সত্য  যে, সারাজীবন  আমি  শুধু  দুঃখ-কষ্ট পেয়েছি, এখনও পাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও হয়ত এভাবেই কষ্ট পেতে থাকব!! আমি  কখনও সুখের মুখ দেখি নি!! জানি  না কেন, কোন  কারণে!! মনে  হয়  আমার ভাগ্যে আল্লাহ  সুখ  লিখতে ভুলে গিয়েছেন, আর নয়ত আমার জীবনটাই অভিশপ্ত!! মাঝে-মধ্যে  মনে হয়- হানী ভালই করেছে, আমাকে   ছেড়ে    চলে   গেছে!! আমার   সঙ্গে থাকলে  হয়ত  তার  জীবনটাও খারাপ হয়ে যেত!! হানী মনে হয় ঠিকই করেছে!!

   না, আসলে   জানি  যে- হানী  আর  কখনও  আমাকে Call করবে  না, কখনও  না!! কিন্তু কি জানেন তো, 'মন মানে না'। 'মন  মানে  না' নামে  আবার 2 টি বাংলা Film  আছে!! একটা  মনে  হয় 'প্রসেনজিৎ' অভিনীত, অন‍্যটা মনে হয় 'দেব' অভিনীত!! তাই না??

   বিয়ে?? আর  এ সব  ভাল  লাগে  না!! আগেও এ সব ভাল লাগত না কিন্তু হানীকে বিয়ে করার ইচ্ছা হয়ে ছিল এবং এই জন‍্যেই  হয়ত আজও  আমার গোটা মন জুড়ে  অবস্থান   করছেন   হানী'জি!! জানেন   হানী'জি, আজ প্রায় 55 দিন  হল  আপনি আমাকে  ধোকা  দিয়েছেন ও প্রতারণা   করেছেন। এই  55   দিনে   আমি   আপনাকে একটুও ভুলতে  পারি নি, আপনার প্রতি খারাপ কোনও শব্দ ব‍্যবহার করি নি, আপনার উপর রাগ/ ঘৃনাও আসে না, যদিও আমার বোনেরা আপনাকে গালাগালি করে!! হানী'জি, আপনি  আজও  আমার  কাছে  ঠিক  তেমনই প্রিয়, যেমন  ছিলেন  আগে!! আমি  আজও  আপনাকে ততটাই  ভালবাসি, যতটা  ভালবাসতাম  আগে!! যদিও আপনি  হয়ত ভুল  করেও  আমার  কথা মনে  করেন না এবং  আমাকে   যথেষ্ট  পরিমাণ  ঘৃণা  করেন!! আসলে কাল  রঙের  মানুষ  তো, ঘৃণা  পাবার কথাই তো!! কিন্তু আমি  আপনাকে  এত  ভালবাসি  যে, প্রতারণার  দরুন আপনার প্রতি ঘৃণাও তৈরী হয় না!! আজ যেন পরিষ্কার দেখতে   পাচ্ছি- কিভাবে, কি  সুন্দর  ভাবে   ভালবাসার কাছে   ঘৃণা   হেরে   যাচ্ছে!! আজ   যেন   লেখার  মধ্যে সাহিত্যিক  ভাব ফুটে উঠছে!! জানেন  হানীজি, আমার পরিস্থিতির  উপর  একটা  হিন্দি  গানের  কয়েক  লাইন মনে পড়ছে, শুনবেন?? শুনুন না, শুনুন-


तू मेरी ज़िन्दगी है

तू मेरी हर ख़ुशी है

तू ही प्यार, तू ही चाहत

तू ही आशिकी है


हर ज़ख्म दिल का तुझे

दिल से दुआ दे

खुशियाँ तुझे, गम

सारे मुझको आललाह दे 

तुझको भुला ना पाया

मेरी बेबसी है


সুধী পাঠক, আর  আমরা  সময় নষ্ট করতে চাই না, যদি আমার  গত  লেখাটি  পড়তে  চান, তাহলে নিচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=974593779592286&id=544853392566329

   আপনি  আরও  বলছেন  যে, কোনও  এক আলেমকে প্রশ্ন  করেছিলেন  কিন্তু  সেই  আলেম  আপনার   প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আপনাকে ছোট-বড় বলেছিল!! তাই নয় কি?? আসলে  এই  আলেমদের  'গায়ে  জ্ঞান  কম এবং চুলকানিতে ভর্তি'। এরা উত্তর না দিতে  পারায়  মানুষের সঙ্গে   এই  রকম  আচরণ  করে!! অনেক  আলেম  এও বলে  থাকে যে- কিছু কিছু  প্রশ্ন করতে  নেই, এমন কিছু প্রশ্ন আছে, যেগুলো  করলে ইমান  চলে যাবে!! আসলে সেই  সব  প্রশ্নের  উত্তর  ঐ  আলেমদের  জানা  নেই, ঐ জন্য  এই  রকম কথা  বলে  মানুষকে  ভয়  দেখিয়ে  চুপ করানোর  চেষ্টা  করে!! এখন  একটা  প্রশ্ন  উঠতে পারে যে, ইসলাম অনুযায়ী- প্রশ্ন  করা কি নিষিদ্ধ?? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=774039472981052&id=544853392566329

   জানেন, আমি   যখনই 'গায়ে   জ্ঞান  নেই, চুলকানিতে ভর্তি' কথাটি  বলতাম, তখন  হানী এই কথাটি শুনে খুব হাসত!! কি   আজব   জাতীয়  ঘটনা  দেখুন, উপরে  যে লিঙ্ক দিয়েছি, ঐ লিঙ্কের  লেখাটি হানী চেক করেছিলেন কিন্তু আজ  দেখুন, হানী  আমার জীবনে অতীত!! সময় বড় আজব!! এই জন‍্যেই  আল্লাহ হয়ত  পবিত্র কোরানে সময়ের  শপথ  করেছেন  এভাবে- وَالْعَصْرِ অনুবাদ  হবে এমন-"সময়ের শপথ"(103:1)।

   চলুন  পাঠকগণ, এবার  আমরা  মূল  প্রশ্নের  উত্তরের দিকে   এগিয়ে   যাব। প্রশ্নটি   ছিল- মানুষ   কি  কখনও পারবে  মহাবিশ্ব  জয়  করতে?? এই  প্রশ্নের  এককথায় উত্তর হল- হ‍্যাঁ, পারবে। পবিত্র  কোরানে এ প্রশ্নের উত্তর 1500 বছর আগে থেকেই বিদ‍্যমান এবং উত্তরটি প্রদান  করে রাখা হয়েছে এভাবে-

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا ۚ لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ

অনুবাদ হবে এমন-"হে জ্বীন ও মানব সম্প্রদায়, তোমরা যদি  মহাবিশ্ব  হতে  বেরিয়ে  যেতে চাও, তবে যাও কিন্তু প্রচণ্ড শক্তি অর্জন ছাড়া মহাবিশ্ব  হতে বের হতে পারবে না"(55:33)। এই আয়াতটি কোনও ধর্মগ্ৰন্থের হতে পারে বলে মনে  হচ্ছে না, তাই না?? কেননা, 1500 বছর পূর্বে অন্ধকার  যুগে  অবতীর্ণ  হওয়া  কোনও  ধর্মগ্ৰন্থে মানব জাতি  উন্নতি  সম্পর্কে  এত  বিরাট  ভবিষ্যৎ  বাণী করা সম্ভব  ছিল না!! কিন্তু  ভবিষ্যৎ বাণীটি কি?? সেটা হল- 'প্রচণ্ড  শক্তি  অর্জন  করলে' মহাবিশ্ব  থেকে বের হওয়া সম্ভব!! এটা  কত বড়  ভবিষ্যৎ বাণী জানেন?? বর্তমান কালেরও  তাবড়-তাবড় বিজ্ঞানীগণ  এটা বলতে পারেন না যে, মহাবিশ্ব থেকে বের  হতে পারবে!! কেননা, মানুষ এ বিষয়ে  এখনও  শিশু  অবস্থায় আছে!! এই  শুধুমাত্র আমরা  চাঁদে  মানুষ পাঠাতে পেরেছি, যার দুরত্ব পৃথিবী হতে   মাত্র  3  লক্ষ   কিমি!! তাই  এ  বিষয়ে  যে  মানুষ এখনও শিশু অবস্থায়  রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!! তাই না??

   আমি السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ  শব্দগুচ্ছের  অনুবাদ করেছি- মহাবিশ্ব, কিন্তু প্রচলিত অনুবাদ হবে-"পৃথিবী ও আকাশ মন্ডল"। জানেন, একবার   আলেমের  সঙ্গে  তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল  আমার। সেই  আলেম  বলছিল- চাঁদে  যাওয়া বিশ্বাস করলে কাফির হয়ে যেতে হবে, কারণ মানুষ এত শক্তিশালী  নয়  যে, এই  পৃথিবীর  সীমা থেকে বের হতে পারবে, জ্বীনেরা  বের  হতে   চায়লে, অগ্নিশিখা  তাদের পিছনে  ধাওয়া  করে!! আর, তিনি  কথা  বলতে-বলতে আমাকে বেশ কয়েকবার কাফির বলে দিল!!

   আমি প্রথমেই 55:33 আয়াতটি  উদ্ধৃতি করলাম এবং বললাম- যখন  আল্লাহ  বলছে  যে, প্রচণ্ড  শক্তি  অর্জন করলে  মানুষ  শুধু  পৃথিবী  থেকে নয়, মহাবিশ্ব জয় নয় বরং মহাবিশ্ব  হতে বেরিয়ে যেতে  পারবে। তখন আপনি বলার কে যে, চাঁদে  যাওয়া বিশ্বাস  করলে কাফির হতে হবে?? এই  55:33  আয়াত  বিশ্বাস  না  করলে, আপনি কি হবেন??

   তখন  সেই  আলেম  কি  করল  জানেন?? তিনি  তার কাছে থাকা কোরানের একটা অনুবাদ বের করে 55:33 আয়াতটা খুলে দেখে বললেন- এখানে  তো  বলা হয় নি যে, মহাবিশ্ব   হতে   বের  হয়ে  যেতে  পারবে  বরং  বলা হচ্ছে-"হে জ্বীন  ও  মানব সম্প্রদায়, তোমরা যদি পৃথিবী ও আকাশমন্ডলের সীমা হতে  বেরিয়ে  যেতে চাও, তবে যাও কিন্তু  প্রচণ্ড শক্তি  অর্জন  ছাড়া  তোমারা  তা হতে বের হতে পারবে না"।

   তখন   আমি  তাকে  বললাম- আমি السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ  শব্দগুচ্ছের   অনুবাদ   করেছি- মহাবিশ্ব, কিন্তু  প্রচলিত অনুবাদ-"পৃথিবী  ও  আকাশ  মন্ডল"। সুতরাং  যদি তাই হয়, তবুও তো বলা হচ্ছে- শক্তি অর্জন করলে পৃথিবী ও আকাশমন্ডলের সীমা হতে বেরিয়ে  যাওয়া সম্ভব!! তাই নয় কি?? তাহলে আপনার দাবী ধোপে টিকল কই??

   যাইহোক, এবার  গোঁড়া  আলেমদের  প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা যাক!! কোরান দাবী করে ছিল  বটে  যে, মানুষ   পৃথিবীর  সীমা  অতিক্রম  করতে পারবে  প্রচণ্ড শক্তি  অর্জন করলে!! এটা সত‍্য প্রমাণিত হল- 1969  সালে  চাঁদে  পা   রাখার   মধ্য   দিয়ে!! তার আগে  পর্যন্ত মানুষের  বদ্ধমূল ধারণা  ছিল যে, পৃথিবীর মধ‍্যকর্ষণ  বল  অতিক্রম  করা  সম্ভব  নয় কিন্তু কোরান বলে  রেখে  ছিল  যে- لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ  অনুবাদ  হবে এমন-''বেরিয়ে   যেতে   পারবে  না   প্রচণ্ড  শক্তি  অর্জন ছাড়া"(55:33)। এখানে بِسُلْطَانٍ (বি  সুলতান) অর্থ  হল- "প্রচণ্ড  শক্তি  অর্জন"। কিন্তু 'প্রচণ্ড  শক্তি অর্জন' বলতে কোরান    কি    বোঝাতে    চেয়েছে?? এখানে  Escape velocity'র  কথা  বলা  হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে 11 কিমি গতি  অর্জনের  কথা  বলা  হচ্ছে। এই গতি অর্জন করলে    তবেই    পৃথিবীর    মধ‍্যকর্ষণ   বলকে   হারিয়ে পৃথিবীর সীমা অতিক্রম সম্ভব!! বুঝেছেন??

   এ  তো  গেল  পৃথিবীর   সীমা  অতিক্রমের  ব‍্যাপারটি কিন্তু   মহাবিশ্ব, মহাবিশ্ব   অতিক্রম!! কিভাবে  সম্ভব?? আদেও  কি  সম্ভব   এটা?? আজও   পর্যন্ত   মহাবিশ্বের কোনও  সীমা  আবিষ্কার  হয়েছে  কি?? উত্তর হল- না!! তাহলে সীমা অতিক্রমের তো প্রশ্নই ওঠে না!! তাই না?? এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল- সীমা আবিষ্কার হয় নি কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কখনও আবিষ্কার হবে না!!

   কারণ, সৃষ্টি  জগতে  অসীম  বলতে  কোনও কিছু হয় না, সবই সসীম, অসীম তো শুধুমাত্র আল্লাহ!! তাই এটা নিশ্চিত যে, কখনও তো মহাবিশ্বের সীমা আবিষ্কার হবে এবং হবেই!! আমাদের মহাবিশ্বটি আকারে আনুমানিক 30,000 Billion  lights  year এর। যদি  এই মহাবিশ্বটি আলোর গতিতেও অতিক্রম করার চেষ্টা করা হয়, তবুও আপাত   দৃষ্টিতে   সময়   লেগে   যাবে  30,000  Billion বছর!! কিন্তু  এখানে  সুবিধা হল এটা যে, আলোর গতি অর্জন  করলে  সময়  (0)  শূন্যে   অবস্থান   করবে, তাই আলোর গতিতে মহাবিশ্ব অতিক্রম করতে কোনও সময় লাগবেই  না, কিন্তু  অসুবিধা   হল- সময়ের   সঙ্গে  সঙ্গে বস্তুও শূন্যে (0) অবস্থান নেবে!!

   যদি ভবিষ্যতে এমন  কোনও Technology আবিষ্কার হয়  যে, আলোর   গতি  অর্জন  করলেও  বস্তু  শূন্যে (0) অবস্থান   নেবে   না, তাহলে   মহাবিশ্ব   অতিক্রম   করা মুহূর্তের  ব‍্যাপার  মাত্র!! মুহূর্ত  বলতে 1 সেকেন্ডের লক্ষ ভাগের এক ভাগ হয়ত!!

   সুধী পাঠক, এবার মহাবিশ্ব অতিক্রমের  একটা বাস্তব উদাহরণ  পেশ  করতে  চাই। কিন্তু জানেন, আবার শীত চলে এল, এবার  সব জায়গায় মেলা বসবে!! গত শীতে হাওড়া  জেলার বিখ্যাত  মুন্সিরহাট মেলায় গিয়েছিলাম হানীর   জন্য   খেলার   পুতুল   কিনতে!! আমি  জীবনে কোনও  মেলায় যায় নি, কারণ মেলা ইসলামে নিষিদ্ধ!! প্রথমবার হানীর জন্য গিয়েছিলাম!! গিয়ে একটা সুন্দর পুতুল  কিনেছিলাম  হানীর  জন্য এবং  হানী  বলত- এই পুতুলটা আমাদের মেয়ে এবং পুতুলটার নাম দিয়েছিল- মাহি!! জানেন, আমরা   পুতুলটাকে   আমাদের  মেয়েই ভাবতাম   এবং   মাহি  বলেই  ডাকতাম!! হানী  মাহিকে পেয়ে  কত খুশি হয়েছিল!! একবার ডান কাঁধে নিচ্ছিল, একবার বাম কাঁধে নিচ্ছিল, একবার কোলে শোয়াচ্ছিল এবং  কত চুমু  খাচ্ছিল  মাহিকে!! পরে  হানীর  বাড়িতে বিয়ের  প্রস্তাব  দিই, তার  বাড়ির লোক বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিয়েতে অসম্মতি জানায়, তারপর হানী তাদের বাড়িতে বলে- আমি  হোসেনকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু তার  বাড়ির  লোক  তাতেও  রাজি না হয়ে হানীর থেকে তার  মোবাইলটা  কেড়ে  নেয়  এবং হানীকে যে উপহার গুলো  দিয়েছিলাম, সেগুলো  আমাকে   ফিরিয়ে   দিয়ে যায়, সঙ্গে মাহিকেও!! তখন থেকে মাহি আমার কাছেই ছিল!!

   জানেন, আমি  কত  পাগল  ছিলাম!! আমিও মাহিকে নিয়ে খেলা  করতাম, তাকে কোলে  নিয়ে বসে থাকতাম এবং  সঙ্গে   নিয়ে   শুতাম!! এই  গত  55  দিন   যখনই মাহিকে দেখতাম, তখনই পুরান স্মৃতি গুলো যেন জেগে উঠত  এবং  কেঁদে  ফেলতাম!! ঐ  জন্য  আজ বোনেরা খুব জোর  করে  বলল- দাদা, এই পুতুলটা ফেলে দাও!! কিন্তু কি  করে ফেলে দিই, এ যে আমার  মাহি!! হানী এ সব  ভুলে  গেলেও  আমি  কি   করে   ভুলে   যাই!! তাই বোনেদের   বললাম- ফেলতে   পারব  না, তবে  মাহিকে আমার  থেকে  দূরে  রেখে   আসতে  পারি!! তাই  আজ ফ্ল্যাটে   গিয়েছিলাম   মাহিকে   রেখে   আসতে। আপনি বিশ্বাস  করতে  পারবেন  না হয়ত- আমার মা'কে কবরে আমিই  নামিয়ে  ছিলাম!! মা'কে  কবরে  নামাবার সময় আমার   যেমন  কষ্ট  ও  যন্ত্রণা   হচ্ছিল, আজ   মাহিকে ফ্ল্যাটে  রেখে  আসার  সময়  ঠিক  তেমনই কষ্ট ও যন্ত্রণা অনুভব  করছিলাম!! এ  যেন  কলিজা  ছিঁড়ে  যাওয়ার কষ্ট!! দেখুন না, এখন  লিখছি আর চোখ দিয়ে টপ-টপ করে পানি পড়ছে এবং সারাজীবন হয়ত এভাবেই চোখ থেকে  পানি পড়তে থাকবে!! সত‍্যি বলতে, এখন হানীর স্মৃতিই আমার  একমাত্র  সঙ্গী  এবং  চোখের পানি যেন আমার  জন্য  সান্ত্বনা!! এই   পরিস্থিতির   উপর   সুন্দর একটা বাংলা গান মনে পড়ছে, শুনবেন?? শুনুন-


প্রেম বড় মধুর, কভু কাছে, কভু সুদূর

কখনও জীবনে ফুল ফোঁটায়ে

কখনও কাঁদিয়ে যায় সে দূর

প্রেম বড় মধুর, কভু কাছে, কভু সুদূর


হ‍্যাঁ চলুন, এবার আমরা মহাবিশ্ব  অতিক্রম করার বাস্তব একটা উদাহরণ পেশ করতে চাই এবং তা হল- মিরাজ। মিরাজের  মাধ্যমে আল্লাহ  মানুষকে দেখিয়ে দিলেন যে, মানুষ  শুধুমাত্র  মহাবিশ্ব জয় করতেই নয় বরং মহাবিশ্ব অতিক্রম  করতে  পারবে, তাও এক  মহাবিশ্ব  নয়  বরং একাধিক  মহাবিশ্ব!! যদি  মিরাজ সম্পর্কে আরও বেশি জানতে চান, তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=717480885303578&id=544853392566329

   সুধী পাঠক, গত  কয়েকটি  পোষ্টে  হিন্দি  এবং বাংলা গানের কিছু কিছু  লাইন  উদ্ধৃতি  করি। এ বিষয়ে  কেউ কেউ  হয়ত প্রশ্ন  তুলতে  পারেন যে, ইসলামিক  লেখায় গানের  লাইন উদ্ধৃতি  থাকবে কেন?? এ বিষয়ে জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=647789315606069&id=544853392566329

   জানেন, আজ  মাগরিবের  নামাজ  আদায়  শেষে খুব জোরে-জোরে  কেঁদে   ফেলেছিলাম, ঐ   জন্য   এখনও মাথার  যন্ত্রণা  হচ্ছে। জানি  না, এসব  আমার  সঙ্গে কি হচ্ছে!! আমি  মনে  হয়   মারা   যাব- আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আল্লাহ একটু তাড়াতাড়ি মৃত্যু দিন, আমি এত কষ্ট আর সহ‍্য করতে পারছি না!!

   আমার অন‍্যান‍্য  বিজ্ঞান  বিষয়ক  লেখা  পড়ার  জন্য নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=971133386604992&id=544853392566329

   আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং  আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন   থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                   © : লেখক, হোসেন কুরানী

চার'টি বিবাহ ও ইসলাম এবং নারী অধিকার।



 Whats app গ্ৰুপের প্রশ্নের উত্তরে "নারী অধিকার সম্পর্কে" লেখা শুরু করেছিলাম এবং 20-22 টি বিষয়ে লেখা হয়েছে। এবং ভেবেছিলাম হয়ত এই "নারী অধিকার সম্পর্কিত" লেখা এবার শেষ!! কিন্তু তা নয়!! 

   বেশ কিছুদিন আগে হানী'জি এক নাস্তিকের ভিডিও পাঠিয়েছিলেন ও "ভিডিওতে উত্থাপিত" প্রশ্নের উত্তরও দিতে বলেছিলেন। তাই, "আল্লাহ কি ভুলে যাওয়া রোগে আক্রান্ত" শিরোনামে একটি লিখিত উত্তর দিয়েছিলাম। নিচে সেই উত্তরের লিঙ্ক দিলাম। উক্ত লিঙ্কে ক্লিক 4 টি বিবাহ আলোচনা করা হয়েছে। তাই, অনুরোধ করব যে, লিঙ্কে ক্লিক করুন। আজকের উত্তর, সেই উত্তরের পর থেকে শুরু করব- ইনশাআল্লাহ। তাই, আজকের লেখা ভালভাবে বুঝতে হলে লিঙ্কে অবশ্যই ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=782840528767613&id=544853392566329

   এছাড়াও অনেকেই বলেন যে-"ইসলাম 'পুরুষকে 4 টি বিয়ের অধিকার দিয়ে'  নারীকে পুরুষের যৌনদাসীতে পরিণত করেছে"। যাইহোক, নিচে আরও একটি লিঙ্ক দিচ্ছি। লিঙ্কে ক্লিক করে দেখুন-"নারীরা পুরুষের যৌন দাসী"?? লেখাটি পড়ে আপনার বুক গর্বে ভরে যাবে ও আপনিও আমার মত "ইসলামে অহংকারী" হয়ে উঠ বেন- ইনশাআল্লাহ। তাই, লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=811579515893714&id=544853392566329

   #উত্তর:::- উত্তর দেওয়ার আগে, যে আয়াতটিতে 4 টি বিবাহের প্রস্তাব এসেছে- সেই আয়াতটি দেখা যাক। চলুন, হ‍্যাঁ?? আচ্ছা, চলুন-

وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَىٰ فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَلَّا تَعُولُوا

অনুবাদ হবে এমন-"আর যদি তোমরা এতিমদের (মেয়ে দের) সাথে ন‍্যায়বিচার করার ব্যাপারে ভয় কর, তাহলে যেসব (স্বাধীন) মেয়েদের তোমরা পছন্দ কর, তাদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে কর। কিন্তু যদি তোমরা তাদের সাথে ন‍্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজনকেই বিয়ে কর★। অথবা তোমাদের অধিকারে সেসব মেয়ে আছে তাদেরকে (দা সীকে) বিয়ে কর। অন‍্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটিই অধিকতর সঠিক পদ্ধতি"(4:3)।

   উক্ত আয়াতটিকে সহজ-সরল ভাবে পেশ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জানি যে, তবুও তা বুঝে নেওয়া একটু মুসকিলইইইই হবে!! তবুও চেষ্টা করুন বুঝতে, হয়ত আল্লাহ আপনাকে সহায়তা করবে। কারণ, আল্লাহ বলে ছেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ  অনুবাদ হবে এমন-"হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন"(4 7:7, 22:40)।

   এখানে আল্লাহকে সাহায্য করার অর্থ হল- আল্লাহর প্রেরিত জীবন তথা ইসলামকে বোঝা এবং তার বিধি বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রচেষ্টা করে, তাকে আল্লাহ সাহায্য করেন। বুঝলেন??

   এবার আমরা উক্ত আয়াতকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করব- তাহলে হয়ত আয়াতটিকে বুঝতে অনেক সুবিধা হবে। উক্ত আয়াত সম্পর্কে বিভিন্ন মুফাসসির ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। যদিও আমরা সেই আলোচনায় প্রবেশ করব না। সত্যি বলতে, মুফাসসিরদের আলোচনা নিয়ে কথা বলার মত *অউকাত* আমার নেই। তাই চলুন, আমরা ছোট্ট বুদ্ধি নিয়ে এগিয়ে যাই। কিন্তু তার আগে আয়াতটির বঙ্গানুবাদ আরও একবার দেখুন-

"আর যদি তোমরা এতিমদের (মেয়েদের) সাথে ন‍্যায় বিচার করার ব্যাপারে ভয় কর, তাহলে যেসব (স্বাধীন) মেয়েদের তোমরা পছন্দ কর, তাদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে কর। কিন্তু যদি তোমরা তাদের সাথে ন‍্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজনকেই বিয়ে কর★। অথবা তোমাদের অধিকারে সেসব মেয়ে আছে তাদেরকে (দাসীকে) বিয়ে কর। অন‍্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটিই অধিকতর সঠিক পদ্ধতি"(4:3)।

   এখান থেকে যে সব তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা লক্ষ্য করা উচিত। তবেই উক্ত 4:3 আয়াতের মর্মার্থ উপলদ্ধি করতে পারব- ইনশাআল্লাহ। নয়ত, আয়াতটিকে প্রতিটি নাস্তিক/ অমুসলিম/ ইসলাম বিদ্বেষীরা ভুল ভাবে উত্থা পিত করে। তাই, চলুন-

1) উক্ত সূরার অর্থাৎ 4:2-3 আয়াত অনুযায়ী এবং মা আয়েশা (রা)- এর ব‍্যাখ‍্যা অনুযায়ী- সম্পদের লোভে সে যুগে অনেকেই এতিম মেয়েদেরকে বিবাহ করত। অথচ সেই এতিম নারীদের প্রতি তাদের কোনও ধরণের আক র্ষণ ছিল না এবং তাদের মোহরানাও ঠিক ভাবে আদায় করত না। এই পরিস্থিতি বিচার করে বলা হয়েছে-

"তাদের জন্য এতিম মেয়েকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে"। 

2) তার পরিবর্তে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দুই, তিন, ও চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

   আচ্ছা বলুন- 4:3 আয়াতকি এতিম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করল না??

3) কিন্তু যদি তোমরা তাদের (একাধিক স্ত্রী'দের) সাথে ন‍্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজনকেই বিয়ে কর★। এই *একটি বিয়ের* নির্দেশ পবিত্র কোরান বাদ দিয়ে অন্য কোনও ধর্মগ্ৰন্থে নেই। 

4) যদি স্বাধীন একজন নারীকে বিয়ে করেও তার সঙ্গে ন‍্যায় বিচার না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে পবিত্র কোরানের নির্দেশ হল-"তোমাদের অধিকারে সেসব মেয়ে আছে, তাদেরকে (দাসীকে) বিয়ে কর। অন‍্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটিই অধিকতর সঠিক পদ্ধতি"(4:3)।

5) এককথায়, উক্ত 4:3 আয়াতে অনেকগুলো Option দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে নির্দেশ হল-"একটি বিয়ের ও বাকি গুলো অনুমোদন"। যাকে, ইসলামী পরিভাষায় বলা হয়-"মুবাহ বা ঐচ্ছিক"। 

   উপরিউক্ত 5 টি প্রস্তাব উক্ত 4:3 আয়াতে প্রস্তাবিত হয়েছে। এবার আমরা এটা দেখাতে চাই যে, 4:3 আয়া তের তথ্য। তাই চলুন, এগিয়ে যাই-

1) সেই যুগে মানুষ একাধিক বিবাহ করত, যার নিদিষ্ট কোনও সীমা ছিল না। উক্ত 4:3 আয়াতে তার একটি লিমিট করে দেওয়া হয়েছে, আর তা হল- 4 টি। তার বেশি বিবাহ হারাম!! এ বিষয়ে এই হাদীসটি দেখুন-

"ইবনে উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- গাইলান ইবনে সালামা আস-মাকাফী যখন ইসলাম গ্ৰহণ করেন, তখন তার 10 জন স্ত্রী ছিল, যাদের জাহেলী যুগে বিয়ে করেছিলেন এবং তার সমস্ত স্ত্রী'রাও তার সঙ্গে ইসলাম গ্ৰহণ করে। নবী (স) তার স্ত্রী'দের মধ্যে সর্বোচ্চ 4 জন কে বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেন"(তিরমিযী, কিতাবুন নি কাহ, হাদীস 1066)।

2) "মাত্র একটি বিবাহ ফরজ" বা একটি বিয়ের নির্দেশ রয়েছে।

3) একাধিক বিয়ে বা একটির বেশি বিয়ের অনুমোদন রয়েছে, কিন্তু নির্দেশ এক'টির।

4) একাধিক বিয়ের শর্ত হল- স্ত্রীদের সঙ্গে ন‍্যায়বিচার করা ও স্ত্রীদের সমান দৃষ্টিতে দেখা!! আর, স্ত্রীদের সম দৃষ্টিতে দেখা প্রসঙ্গে কোরান কি বলে দেখুন-

وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ 

অনুবাদ হবে এমন-''স্ত্রীদের মধ্যে কখনও পুরোপুরি ন‍্যায়বিচার করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তোমরা চাইলেও এ ক্ষমতা তোমাদের নেই"(4:129)‌।

   তাহলে কি বোঝা গেল?? স্ত্রীদের মাঝে ন‍্যায় বিচার/ সম বিচার একাধিক বিয়ের শর্ত। কিন্তু 4:129 বলছে- "একাধিক স্ত্রীদের মাঝে ন‍্যায়বিচার ও সম বিচার সম্ভব নয়"। 

   তাহলে এখন দাঁড়ালো কি?? দাঁড়ালো এটাই যে- ন‍্যায় বিচার করতে পারলে একের অধিক বিয়ে করতে পার, কিন্তু স্ত্রীদের মাঝে ন‍্যায়/ সম বিচার অসম্ভব। সুতরাং ঐ জন‍্যেই 4:3 আয়াত বলছে- فَوَاحِدَةً যার অনুবাদ হবে এমন-"তাহলে মাত্র একটিই বিয়ে কর''।

5) কেন 4 টি বিয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তার অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে প্রথমে যেই লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে, তাতে। তবুও সুবিধার্থে নিচে লিঙ্ক দেওয়া হল---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=782840528767613&id=544853392566329

   ★পরিশেষে একটু ব‍্যাক্তিগত কথা বলি। আমার এখ নও বিয়ে হয় নি। তবে, আমার বোনের বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছি। দোয়া করবেন যেন- খুব ভাল পাত্রের সন্ধান আল্লাহ করে দেন। একেবারে খুব দ্বীনদার, পর হেজগার, খাওয়া মিস হবে তো নামাজ না মিস হয়!! আর, সবচেয়ে বড় কথা হল- তার যেন সুন্নাত অনুযায়ী দাড়ি থাকে।

   পাত্রের মধ্যে এই গুণ থাকা অবশ্যক- এটা আমার বোনের নিজের সিদ্ধান্ত। এবং তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই!!

   যাইহোক, আমি আমার জীবনের কোনও একটা সম য়ে বিবাহ করব না বলে ভেবেছিলাম। অবশ্য তখনও আমি জানতাম না যে- বিবাহ ফরজ!! কারণ, আমাদের আলেম-উলেমারা বলেন- বিবাহ নাকি সুন্নাত!! কিন্তু এ ধারণা ভুল। *বিবাহ সুন্নাত নয়, বিবাহ করা ফরজ*। এ বিষয়ে একটা হাদীস দেখুন, যেখানে নবী (স) বলেছেন-

"যে ব‍্যাক্তি আমার নিয়মের প্রতি বিরাগ পোষণ করবে, সে আমার উম্মতের শামিল নয়"(বুখারী, কিতাবুন নিকা হ, হাদীস 4693)। এছাড়াও রয়েছে পবিত্র কোরানের পরিষ্কার নির্দেশ, এভাবে-

فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَلَّا تَعُولُوا

অনুবাদ হবে এমন-"কিন্তু যদি তোমরা তাদের সাথে ন‍্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজনকেই বিয়ে কর★। অথবা তোমাদের অধিকারে সেসব মেয়ে আছে তাদেরকে (দাসীকে) বিয়ে কর। অবি চারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটিই অধিকতর সঠিক পদ্ধতি"(4:3)।

   তাই, মজবুর হয়ে যাই নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে। এবং ভাবতে থাকি বয়স হোক না, কখনও করবক্ষণ বিয়ে!! এতে এত তাড়াতাড়ির কি আছে!!?? কিন্তু গত প্রায় 1 বছর 2 আগে আমার জীবনে হানী'জির আর্বিভাব হয় এবং ইচ্ছা হয় বিয়ে করার!! জানি না আর কিছুই এবং আর লিখতেও ভাল লাগছে না!! তবে, অনেক জনের দোয়ায় এবং আল্লাহর দয়ায় আমি এখন ও আজ শারী রিক ও মানসিক ভাবে বেশ সুস্থ। মানে 3.5.19 তারিখে।

   ★যাইহোক, ভগবত পুরাণের দশম স্কন্ধ থেকে একটা তথ্য তুলে ধরতে চাই, যেখানে বলা হয়েছে- শ্রী কৃষ্ণের স্ত্রী ছিল মোট 16,108 টি মাত্র!! আর, বাইবেলের এই তথ্যটিও তুলে ধরতে চাইছি, যেখানে বলা হচ্ছে- সোলো মোন (সুলাইমান আ.) এর 700 স্ত্রী 300 উপপত্নি ছিল মাত্র!! এটা উল্লেখ রয়েছে 1st kings 11:3 এ। এবার একটা প্রশ্ন জাগছে মনে, তা হল- এই রকম রেকর্ড পরি মাণ বিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউ করেছে কি??

   #সবাইকে হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করছি যে, কেউ আমাকে পার্সোনালি প্রশ্ন করবেন না। এ রকম করলে আমাকে খুব বিরক্ত লাগে। অনেকেই আছেন, যারা ছোট্ট ছোট্ট প্রশ্ন আগে আমাকে পার্সোনালি করে, তার পর গ্ৰুপে করেন!! কেন আমাকে পার্সোনালে এসে প্রশ্ন করেন?? আমি মানুষ নই?? আমার বিরক্ত নেই??

   কোনও কাজের জন্যও Net on করলেই শত-শত ম‍্যাসেজ!! এগুলো বিরক্তিকর ব‍্যাপার!! এবার থেকে কেউ পার্সোনালি প্রশ্ন করলে তাকে ব্লক করতে বাধ্য হব!!

   আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                        লেখক, হোসেন কুরানী।

কতটা ঘুমানো উচিত?? কোরান-হাদীস কি বলে??

 


    Facebook এর   একজন   নাম   প্রকাশে   অনিচ্ছুক মহিলা Inbox এ  প্রশ্ন  করে  বলেছেন-"আমি  দিনে 8-9   ঘন্টা ঘুমাই। এত ঘুমান উচিত?? কতটা ঘুমান  উচিৎ?? ইসলাম   কি   বলে?? বিস্তারিত   ব‍্যাখ‍্যা  সহ জানাবেন, তাহলে উপকৃত হব"।


   দারুণ  প্রশ্ন। খুব  কম   মহিলা   আছে, যারা   ইসলাম সম্পর্কে   এত   সচেতন!! আমি গর্বিত   আপনার  মতো ইসলাম   সম্পর্কে সচেতন   মহিলাদের  নিয়ে। এ বিষয়ে কোরানে   আল্লাহ  বলেছেন- الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ  অনু বাদ   হবে   এমন-"আজ    তোমাদের   জন্য   তোমাদের দ্বীনকে  পূর্ণ  করলাম"(5:3)। অর্থাৎ  ইসলাম একটি পূর্ণ জীবন  বিধান। সুতরাং  এখানে  সব  কিছু  পাবেন এবং ঘুমের  নির্দেশনাও  পাবেন  কিন্তু  সমস্যা হল- আমাদের আলেম সমাজের চোখে এগুলো পড়ে না!!


   কতক্ষণ ঘুমান উচিৎ, তা আল্লাহ  কোরানে  খুব সুন্দর পদ্ধতিতে‌ই  বলেছেন  এভাবে- قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا  অনুবাদ হবে এমন-"সামান্য  সময়  ছাড়া  রাত   জাগরণ  করতে থাকুন"(73:2)। আরও-  نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا অনুবাদ হবে    এমন-"অর্ধেক    রাত    বা    তা    থেকে   সামান্য কম"(73:3)। আরও   দেখুন- أَوْ زِدْ عَلَيْهِ  সঠিক  অনুবাদ হবে এমন-"বা তার চেয়ে কিছু বেশি"(73:4)।


   আরবি  সহ  পড়তে   সমস্যা   হচ্ছে?? চলুন, আপনার জন্য সরা-সরি বাংলা অনুবাদ করে উপস্থাপন করি, কি বলেন?? দেখুন-"সামান্য   সময়    ছাড়া   রাত   জাগরণ  করতে থাকুন"(73:2)। আরও-"অর্ধেক    রাত    বা    তা থেকে সামান্য কম"(73:3)। আরও-"বা  তার  চেয়ে কিছু বেশি"(73:4)। এবার   বুঝেছেন   কি?? আয়াতটি  হয়ত বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে?? চলুন ব‍্যাখ‍্যা করি-


   আমরা  জানি- রাত  হয়  মোটামুটি  12  ঘন্টার। কিন্তু কোরান বলছে-"অর্ধেক রাত বা তার থেকে কম জাগরন করুন"(73:3)। অর্ধেক রাত মানে 6 ঘন্টা, তারচেয়ে কম মানে  ধরে  নিন- 5 ঘন্টা বা 4 ঘন্টা। এককথায়, কোরান বলছে- 4/5/6 ঘন্টা রাত জাগুন। এই হিসাবে আয়াতের অন‍্য দিক কত হবে?? বুঝতে  পারেন নি?? 4/5/6 ঘন্টা জাগতে  বলা  হচ্ছে  মানে হল- 8/7/6 ঘন্টা ঘুমাতে বলা হচ্ছে। তাই না??


   আবার  73:4  নং   আয়াত   বলছে-"অর্ধরাতের  কিছু বেশি   জাগুন"। অর্ধরাতের   কিছু  বেশি  মানে- 7 বা  8 ঘন্টা। এখন  7/8 ঘন্টা  জাগা   মানে  4 /5  ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকা। তাই না?

   তাহলে প্রথম ব‍্যাখ‍্যায় দেখা গেল- 6/7/8 ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকার  নির্দেশ, আর  দ্বিতীয়  ব‍্যাখ‍্যায়  দেখা গেল- 4/5 ঘন্টা  ঘুমানোর  নির্দেশ। এবার  যদি  পুরোটা  এক সঙ্গে করি  তাহলে, এমন হবে- 4/5/6/7/8 ঘুমানো যায়। এক কথায়, 4 থেকে 8 ঘন্টা ঘুমানো উচিত!!


   সুধী পাঠক, বিজ্ঞান  কি  বলে?? জানতে ইচ্ছা করছে না?? আচ্ছা, বিজ্ঞান  কখনও   আজ  পর্যন্ত  কোরানের বিপক্ষে কিছু বলেছে, যে আজ বলবে?? কতটা ঘুমানো উচিৎ, এ  বিষয়ে  বিজ্ঞানের   নিদিষ্ট   কোনও  নির্দেশনা নেই!!  তবে   কোনও   কোন‌ও  ব‍্যাক্তি  4  ঘুমিয়েও  সুস্থ জীবন-যাপন  করেন, আবার  কেউ  কেউ আছেন, যারা 6-8 ঘন্টা  ঘুমালেও  ঘুম পূর্ণ হয় না!! এ জন্য বিজ্ঞানীরা বলেন- কমপক্ষে  4  ঘন্টা  এবং  সর্বোচ্চ 8 ঘন্টা ঘুমানো উচিৎ!!


   এর চেয়ে কম অর্থাৎ 4 ঘন্টার কম খারাপ বা 8 ঘন্টার বেশি  ঘুমও  খারাপ!! যদি   এমনটা   হয়, তাহলে   এটা মানসিক     রোগ     হতে    পারে। তাই, মানসিক    রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

                                       প্রথম সংস্করণ : 15.03.2020

   জানেন পাঠক, আমি এখন রাতে এবং দুপুরে মিলিয়ে প্রায়  8-10  ঘুমাই। কেননা, হানী ধোকা দেয় 13.10.19 তারিখে,   সন্দেহ    হয়   20.10.19   এ, Confirm   হয়- 22.10.19  তারিখে!! তারপর  থেকে 25.10.19 তারিখ পর্যন্ত  একটুও   ঘুমাতে   পারতাম  না!! পরে 26.10.19 থেকে  মানসিক   ডাক্তার  দেখছে  এবং  Mankind এর Placida  সকালে  এবং  Tryptomer-25  রাতে  ঘুমাতে যাওয়ার আগে খেতে হচ্ছে!!

   হাঁসির  কথা  হল- আমিই  সবাইকে 4 ঘন্টার  কম ঘুম হলে, মানসিক    রোগ    বিশেষজ্ঞ   ডাক্তার   দেখানোর পরামর্শ  দিই   কিন্তু   দুর্ভাগ্য   দেখুন- আজ   নিজেকেই মানসিক  ডাক্তার  দেখাতে   হচ্ছে!! হাঁসব  না  কাঁদব?? ভেবে পাচ্ছি না!! হা হা হা হা হা হা হা!! যাইহোক, তা না হলে আগে  আমি 6 ঘন্টাই  ঘুমাতাম!! কারণ কোরানের প্রথম নির্দেশ‌ই হল- نِصْفَهُ বা অর্ধরাত  বা 6 ঘন্টা!! জানি না, কবে  আবার  আগের  জীবন  ফিরে পাব!! আদৌও কখনও ফিরে পাব আগের মতো জীবন??


   সুধী   পাঠক, যদি    বিজ্ঞানের    সাহায্যে   ইসলাম‌কে জানতে  ও  বুঝতে চান, তাহলে আমার বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা গুলো পড়তে নিচের Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1046074349110895&id=544853392566329


   আশা করছি, বোঝাতে পারলাম  এবং  আরও  কঠিন কঠিন   প্রশ্ন  থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                   © : লেখক, হোসেন কুরানী।

পুলসিরাত ও বিজ্ঞান এবং নাস্তিকদের প্রশ্ন

 


   ম‍্যাসেনজারে একজন নাস্তিক প্রশ্ন করেছেন-"আপনি সব কিছুর বিজ্ঞান সম্মত ব‍্যাখ‍্যা করেন, এবং আপনার লেখা পড়ে বুঝতে পেরেছি- আপনার কঠিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ইচ্ছা প্রচুর। তাই আমার প্রশ্ন হল- পুলসিরাতের বিজ্ঞান সম্মত ব‍্যাখ‍্যা করতে পারবেন"???

    হ‍্যাঁ ভাই, ঠিকই বলেছেন- আমার কঠিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার "শখ" প্রচুর কিন্তু এই ইচ্ছা পূরণই হয়। আজ আপনিও কঠিন কঠিন করে, শেষে একটা সহজ "শিশু সুলভ" প্রশ্ন করে দিলেন।

    কিন্তু আজ সময় একেবারে কম, তাই উত্তর দেব কিন্তু সংক্ষিপ্ত। রাত 10 টা লেখা শুরু করছি।

   আর একটা কথা, আমি পারবনা তো, এ সব প্রশ্নের উত্তর দেবে কে??? ইনশাআল্লাহ উত্তর দেব। আর হয়ত, তাতে আপনি খুশিও হবেন।

   উত্তর:::- নিচের ছবিটা জার্মানির একটি ব্রিজের। "পুলসিরাতও একটি ব্রিজ জাতীয় কিছু"। কিন্তু তার তুলনা পৃথিবীর কোনও ব্রিজের সঙ্গে হয় না। এই ব্রিজ "বিচার ময়দান" থেকে জাহান্নামের উপর দিয়ে জান্নাত পযর্ন্ত থাকবে।

   পুলসিরাত বা ব্রিজটি পার করে তবেই জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে। পুলসিরাত একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন, পিচ্ছিল, তরবারীর মতো ধারালো, কাঁটা যুক্ত পথ। বলা হয়েছে-"কেউ এই পথ বিদ‍্যুতের গতিতে পার করবে, কেউ ঝড়ের গতিতে, কেউ ঘোড়ার গতিতে, কেউ আরোহীর গতিতে, আর কেউ সাধারণ হাঁটার গতিতে।

    আর যে, কাঁটায় আঘাত প্রাপ্ত হবে তার মাংস খসে পড়ে যাবে। আবার কেউ কেউ পড়ে যাবে পুলসিরাত থেকে"(সুনান আদ দারেমি)।

    অর্থাৎ পুলসিরাতে মানুষের গতি হবে, তার "নেক আমল অনুযায়ী"। যদিও পুলসিরাত অন্ধকার, কিন্তু তার আমল গুলো তার জন্য আলো স্বরূপ হবে। আর যে ব‍্যাক্তি পুলসিরাত পার করবে তার জন্য জান্নাত হবে পুরষ্কার স্বরূপ।

   কোরানে এভাবে বলা হয়েছে-"তোমরা প্রত‍্যেকেই তা (পুলসিরাত) অতিক্রম করবে। এটা তোমাদের প্রভুর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। পরে আমি মুত্তাকীদের মুক্তি দেব এবং জালিমদের নতজানু অবস্থায় (জাহান্নামে) ছেড়ে দেব"(19:71-72)। তারপর-"যারা সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম বস্তু, উপরন্তু রয়েছে আল্লাহর দিদার"(10:26)।

    বিজ্ঞান সম্মত ব‍্যাখ‍্যা:::- প্রশ্ন- নেক আমল আলো কি ভাবে হবে?? সহজ উপর- কাজ শক্তি, আর বিজ্ঞান বলে- শক্তি আলোতে রুপান্তরিত হতে পারে। যেমন হয়েছিল Big bang এর সময়।

   দ্বিতীয় প্রশ্ন- নেক কাজ অনুয়ায়ী গতি কিভাবে বাড়া-কমা হবে। এরও উত্তর সহজ- কাজ হল শক্তি। সুতরাং যে, যতটা শক্তি অর্জন করবে, তার গতি ততটাই হবে। যেমন রকেটের গতি 11কিমি/ 1সেকেন্ড হলে তবেই সেই রকেট পৃথিবীর গন্ডি ছাড়তে পারবে। ঠিক সেরকমই।

   তৃতীয় প্রশ্ন- খারাপ কাজ করলে পড়ে যাবে কেন?? এর উত্তরও সহজ- পুলসিরাত হল "এয়ারপোর্ট-এর  লগেজ চেকিং" এর মতো। পুলসিরাত শুধুমাত্র এনার্জি বা শক্তিকে ধরে রাখতে পারে, "ডার্ক এনার্জি" জাতীয় কোনও কিছুকে ধরে রাখতে পারবে না। আর গুনাহ হল- "ডার্ক এনার্জি বা কালো শক্তি"।

   চলুন, আশা করছি, ছোট করে হলেও বোঝাতে পারলাম। আর পরের বারে, কঠিন কঠিন করে "শিশু সুলভ" প্রশ্ন করবেন না। প্রশ্ন থাকলে পাঠান, কিন্তু কঠিন কঠিন করবেন না।

                    লেখক, হোসেন কুরানী।

ফিতরা সম্পর্কে কোরান এবং হাদীস কি বলে??



    ফিতরা  আরবি  শব্দ, যা  এসেছে আরবি  শব্দ ফুতুর হতে। আরবি ফুতুর  শব্দের অর্থ হল- নাসতা, খাদ্য দ্রব্য বা জল-খাবার। এই ফিতরাকে 'যাকাতুল ফিতর' অথবা 'সাদকাতুল  ফিতর'ও  বলা   বলা   হয়ে   থাকে। আমরা সাধারণত "ফেতেরা" বলে  থাকি!! এটা হল- মূল শব্দের অপভ্রংশ।


   সুধী পাঠক, জানেন কি ফিতরা দিতে হয় কেন?? মনে হয়  জানেন  না, তাই  না?? জানবেন   কিভাবে, হোসেন কুরানী‌  এই তো  প্রথম  লিখছে!! আর ইতিপূর্বে কোনও আলেম  তো  কখনও  বলে নি এবং  তাদের অউকাত‌ও নেই!! যাইহোক, আর Dialogue মেরে লাভ নেই, এবার আলোচনায় এগিয়ে যাই। দেখুন-

আপনি   গোটা  একমাস  রোজা  রাখলেন। এই 29/ 30 দিনে  সব   মিলিয়ে   এক   বেলা   করে 29/ 30 বেলা'র খাবার   বাঁচিয়েছেন।  মোটা-মুটি    ভাবে    এই  29/ 30 বেলার  বাঁচান  খাবার  একজন গরীব'কে দেবেন। যাতে করে ঈদের দিন তাকে কাজে বের হতে না হয় এবং সেই গরীব'ও ঈদের  খুশিতে  সকল  মুসলিমের  সাথে শরীক হতে  পারে!! একজন  গরীব  এটা  না ভাবে- সবাই ঈদে খুশি হয়ে ভাল-মন্দ খাচ্ছে অথচ  আমার  এবং  আমার পরিবারের  "খাবার"  নেই। এক   কথায়, রমজান  মাসে রোজদারের বেঁচে যাওয়া খাবার'ই হল- ফিতরা!! 


   সুধী পাঠক, উপরিউক্ত তথ্য‌টা প্রথম জানলেন তো?? বদলে  কি  পারবেন না, আমার  মায়ের  জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের  দোয়া  করতে?? যাইহোক, এবার  আমরা দেখে নেব  ফিতরা  কারা-কারা  দেবে  এবং কারা-কারা নেবে?? দেখুন-

"ইবনে উমর  (রা)  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী (স) বলেছেন-"প্রত‍্যেক ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন মুসলিমর উপর ফিতরা ধার্য্য  করেছেন"(বুখারী, কিতাবুয যাকাত, হাদীস 1414)। তারমানে, গরীব  বাদে প্রায় সবার উপর ফিতরা  হল- "ওয়াজিব"। যারা   দেবে, তারা  বাদ  দিয়ে সবাই নিতে পারবে!!


   সুধী পাঠক, আমরা জেনে নিয়েছি ফিতরা কারা দেবে এবং কারা দেবে!! এখন  জেনে  নেব ফিতরা'র পরিমাণ কত ও কি কি?? চলুন দেখি-

"সাহাবা আবু সাঈদ (রা) হতে  বর্ণিত। আমরা [নবী (স)- এর যুগে] সাদকাতুল ফিতর বাবদ [মাথা পিছু] এক "সা" খাবার   আটা  আথবা  এক  "সা" যব  অথবা  এক "সা" খেঁজুর   অথবা   এক   "সা"   পনির   অথবা   এক  "সা" কিসমিস প্রদান করতাম"(বুখারী, হাদীস নং 1418)।


   সুধী  পাঠক, "সা" বলতে  কি  বুঝতে পারছেন?? মনে হয়  বুঝতে   পারছেন   না, তাই  না?? এটা   তৎকালীন একটি  মাপন  পদ্ধতি। আরবির  4 "মুদ" এ  1 "সা" হয়। এক মুদের  পাত্রে  প্রায় 750 ml পানি ধরত। এবার চার মুদে  এক  "সা"। তার  মানে  750ml  ×  4  =  3000ml. এবার  আপনি  বলুন, 3000ml  বা  3  লিটারের পানির পাত্রে   কতটা    আটা, যব, খেঁজুর, কিসমিস  বা  পনির ধরতে পারে?? ব‍্যাস, ততটাই হবে এক জনের- ফিতরা। ধরে  নেওয়া  যেতে  পারে- 3  লিটারের  পাত্রে  3 কেজি খাদ্য দ্রব্য ধরত!!


   সুধী পাঠক, নবী (স) ওজু  ও গোসলে কত পানি খরচ করতেন  এবং  মুদ  সম্পর্কে  বিস্তারিত  জানতে  নিচের Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=599280567123611&id=544853392566329


   সুধী  পাঠক, এবার  আমরা  "গম"  প্রসঙ্গে  আলোচনা করতে চাইছি। কারণ আমাদের সমাজে ফিতরা হিসাবে 2 মুদ বা 1.50 কেজি/ 1.75 কেজি "গম" অথবা "আটা"  এর হিসাব করে টাকা  দেওয়ার রীতি আছে। এখন প্রশ্ন হল- 2 মুদ  বা  1.50  কেজি/ 1.75  কেজি "গম" অথবা "আটা" এর হিসাব করে টাকা দেওয়া যাবে??

   কি হতে পারে, এ  প্রশ্নের  উত্তর?? পাঠক, আপনি কি কিছু আন্দাজ করতে  পারছেন?? যাক, গমের ইতিহাস একটু   বলি!! ঐতিহাসিক   গোলাম   আহমদ  মর্তজার ছাত্র তো, তাই ইতিহাসে  একটু-আধটু  দখল আছে, এই আর কি!!

   গমের   প্রচলন   নবী (স)- এর  যুগে  হয়নি, ইসলামের ইতিহাসে   রাজতন্ত্রের   জন্মদাতা   মোয়াবিয়া (রা)- এর সময়ে অর্ধ "সা" বা 2 মুদ গমের  প্রচলন  হয়েছিল। বলে রাখা   দরকার   যে, মোয়াবিয়া  (রা)- এর  দ্বারা   গমের প্রচলনের যথেষ্ট  কারণও  বিদ‍্যমান ছিল। প্রশ্ন হবে-  কি হয়ে ছিল, যার জন্য  গমের প্রচলন  করতে হল?? উত্তর সহজ- বড় দুর্ভিক্ষ দেখা  দিয়েছিল। ফলে  প্রচলিত নবী (স)- এর  পদ্ধতিতে  অনেকেই  ফিতরা  দিতে  অসামর্থ‍্য হত। এদিকে লক্ষ্য  রেখে  মোয়াবিয়া (রা) সিরিয়া থেকে গম   আনালেন  এবং  ফতোয়া  জারি  করলেন  যে, এই বছরে  4  মুদ  বা 1  সা  এর  বদলে  2  মুদ  বা  অর্ধ  সা ফিতরা  দিলেই  হবে   এবং   গমের  দাম  অন‍্যান‍্য  খাদ্য দ্রব্যের  তুলনায়  কম   হ‌ওয়া‌তে   ফিতরা   হিসাবে   গম দিলেই হবে!!


   সুধী  পাঠক, এখন  আপনি  কি  করবেন?? নবী  (স)- এর  অনুসরণ   করবে‌ন, না   কি   মোয়াবিয়া  (রা)-  এর অনুসরণ করবেন?? বিষয়টি কোরানে আল্লাহ বলেছেন   এভাবে- أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ সঠিক অনুবাদ  হবে এমন-"আল্লাহ  ও  তার  রাসুলের  অনুসরণ  কর"(3:31,  3:32,  3:132,  4:59,  5:92,  8:1, 8:20,  8:46,  19:54,  19:56, 33:33, 33:71, 36:20, 47:33, 58:13, 64:12)।  এক কথায়, এই  আয়াতটি  কোরানে  কমপক্ষে 16 বার এসেছে। এখন   আপনি   নিজেই   ঠিক    করুন, কাকে অনুসরণ করবেন??

   এছাড়াও  ইসলাম  পরিপূর্ণ  হয়েছে নবী মহাম্মদ (স)- এর যুগেই। এ  বিষয়ে  কোরানে  আল্লাহ  বিষয়টি  তুলে ধরেছেন   এভাবে-  الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ  অনুবাদ  হবে এমন-"আজ  তোমাদের  জন্য  তোমাদের  দ্বীন  পরিপূর্ণ করলাম"(5:3)। এখন  প্রশ্ন  হল- ইসলাম  যদি নবী (স)- এর যুগে  পূর্ণ  হয়ে  থাকে, তাহলে  মোয়াবিয়া (রা)- এর নির্দেশ  আমি  কেন   মানব?? আপনি   কেন   মানেন?? আপনি কি মনে করেন- ইসলাম অসম্পূর্ণ?? 


   সুধী  পাঠক, ফিতরা  কখন  দিতে  হয়  জানেন  কি?? আমাদের  সমাজে  ঈদের  নামাজ  আদায়  করে  ফিরে আসার  পর  ফিতরা  দেওয়ার  প্রচলন  আছে কিন্তু এই পদ্ধতি সঠিক কি?? এ বিষয়ে  হাদীস কি  বলে?? চলুন তাহলে দেখি-

"ইবনে   উমার   (রা)   হতে   বর্ণিত। তিনি  বলেন- ঈদের নামাজ  আদায়ের  জন্য  বের  হ‌ওয়ার  পূর্বে সাদকাতুল ফিতর   প্রদানের   নির্দেশ   দিয়েছেন। নাফি (র) বলেন- ইবনে  উমার (রা) ঈদের  এক  বা  দু দিন  পূর্বে‌ই ফিতরা আদায়  করতেন"(আবু  দাউদ, কিতাবুয যাকাত, হাদীস 1610)। আরও একটি হাদীস দেখুন-

"সাহাবা ইবনে আব্বাস  (রা)  হতে বর্ণিত। ঈদের নামাজ আদায় করার আগে ফিতরা আদায় করতে হবে, নাহলে তা "ফিতরা" না হয়ে  সাধারণ  দান  বলে গণ‍্য হবে"(আবু দাউদ, কিতাবুয যাকাত, হাদীস 1609)।


   সুধী পাঠক, খাদ্য  দ্রব্য  হিসাবে  ফিতরা  না  দিয়ে কি আমরা তার  বদলে টাকা দিতে পারি?? এ প্রশ্নের উত্তর হল- নবী  (স)  খাদ্য  দ্রব্যের   মাধ্যমে   ফিতরা   আদায় করতে  বলেছেন, তাই   তা   দিয়েই   করতে   হবে। তার বদলে   টাকা   দিয়ে  আদায়  করা  বিদ‌আত। প্রশ্ন হবে- তাহলে  যাকাতের  বেলায়  তো  ক‌ই  দীনার বা দীরহামে যাকাত দিচ্ছি না??

   এ প্রশ্নের  সহজ। দীনার  ও  দীরহাম ব‍্যবস্থা নেই, যদি থাকত, তাহলে  দীনার  ও  দীরহামের মাধ্যমে‌ই  যাকাত আদায়  করতে  হত  কিন্তু  যা যা  দিয়ে  ফিতরা আদায় করতে   হয়, তা   পাওয়া   সহজলভ্য!! তাই  আপনাকে খাদ্য দ্রব্য দিয়েই ফিতরা আদায় করতে হবে।


   সুধী  পাঠক, আপনি   কি  যাকাত  সম্পর্কে  বিস্তারিত জানতে   ইচ্ছুক?? তাহলে   পশুদের   যাকাত, ফসলের যাকাত  ও  অর্থের যাকাত সম্পর্কে জানতে নিচের Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=607197069665294&id=544853392566329


   সুধী   পাঠক, ফিতরা    কেন   দিতে   হবে, তা   জেনে নিয়েছি  কিন্তু  রোজা  কেন  রাখব এবং তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানা নেই, তাই না?? জানতে চাইবেন না, রোজা রাখতে  হয়  কেন?? নিচে  Link  দিচ্ছি, Link  এ  Click করুন--- https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=594983710886630&id=544853392566329


   সুধী পাঠক, আপনি কি ইসলাম‌কে বিজ্ঞানের সাহায্যে জানতে ও বুঝতে চান?? তাহলে  আপনার জন্য অবাক করা অনেক কিছু আছে নিচের Link এ---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1046074349110895&id=544853392566329


                                       প্রথম সংস্করণ : 21.04.2020


   আশা করছি, বোঝাতে  পারলাম  এবং  আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন   থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।             

                    © : লেখক, হোসেন কুরানী।

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...