কোরানের দৃষ্টিতে কি বিবর্তন তত্ত্ব মিথ্যা?? পর্ব- 2

 

কোরানের দৃষ্টিতে কি বিবর্তন তত্ত্ব  মিথ্যা?? পর্ব- 2

    সুধী পাঠক, 2'য়  পর্ব  শুরু  করতে  চাই  বেশ   সুন্দর একটা প্রশ্ন দিয়ে। প্রশ্ন‌টা হল- Theory of evolution বা বিবর্তন  তত্ত্ব'কে  Darwinism  বা  ডারউইন‌বাদ অথবা ডারউইন  তত্ত্ব'ও  বলা  হয়, তাহলে  আমি 1'ম পর্বে শুধু 'বিবর্তন তত্ত্ব' শব্দ‌টা ব‍্যবহার করেছি কেন?? কেন আমি 'Darwinism বা ডারউইন‌বাদ বা  ডারউইন তত্ত্ব' শব্দের ব‍্যবহার করি নি??


   সুধী পাঠক, উপরিউক্ত  উত্থাপিত  প্রশ্নের  উত্তর দেব- ইনশাআল্লাহ। তার  আগে  একবার  বলে  দেওয়া   ভাল হবে যে, এই পর্বে আমরা বিবর্তন  এবং মানব সৃষ্টি নিয়ে বিজ্ঞানপূর্ণ  আলোচনা   করব- ইনশাআল্লাহ। এ  বিষয়ে একটা কথা বলতে পারি যে, মানুষের উৎপত্তি নিয়ে এর পূর্বে  না  কেউ  এমন   বিজ্ঞান‌পূর্ণ   আলোচনা   কখনও করেছেন, আর  না  আপনি   এমন   আলোচনা  কখনও পড়েছেন!! তাই  অনুরোধ থাকল- এই লেখাটি মনযোগ সহ পড়ুন। তবে  এই 2'য় পর্বটা  পড়ার আগে 1'ম পর্বটা অবশ্যই পড়ুন এবং এই Link এ আমার বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা গুলোও পাবেন। তাই Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1039335096451487&id=544853392566329


   এমন প্রশ্ন হয়ত  আপনাদের  মনে  উঠেছে হয়ত। তাই না?? অনেকেই   এর  'কারণ'  জানতে  চেয়েছেন?? এই প্রশ্নের   উত্তরে   বলতে   পারি- বিবর্তন   তত্ত্বের   জনক Charles Robbert  Darwin  নয়  বরং  বিবর্তন  তত্ত্বের জনক  হলেন Darwin এর 1,000 বছর আগের মুসলিম বিজ্ঞানী আজ-জাহিজ। একটু অবাক হলেন মনে হয়?? হ‌ওয়ার  কথা  তো!! নতুন   শুনছেন  যে!! চলুন  তাহলে ইতিহাস নিয়ে একটু আলোচনা করি, রোজ তো বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনা‌ই হয়, আজ  না হলে একটু ব‍্যতিক্রম হবে!! দেখুন-

   তার জন্ম- 776 খিঃ, মৃত্যু- 868 খিঃ। তার  পুরো  নাম হল- আবু   উসমান  আমর  ইবন  বাকর  আল  কিনানী আল ফুকয়ামি আল বাসরী। কিন্তু তিনি বিজ্ঞানী আজ-জাহিজ  নামেই   পরিচিত। তিনি  সর্বমোট  200  টি  ব‌ই লিখে  ছিলেন। তার  মধ্যে 66 টি সম্পূর্ণ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি 50 টির অংশত অবস্থায় উদ্ধার করা  হয়েছে। তার  লেখা  বিশ্বখ্যাত  ব‌ইটি  হল-'কিতাব  আল   হায়‌ওয়ান'। যার    অর্থ    হল- পশুদের   ব‌ই। এই ব‌ইটির  English অনুবাদ  গোটা পৃথিবীতে সাড়া  ফেলে দিয়ে ছিল। ব‌ইটির English অনুবাদে‌র নাম  হল- Book of animals. 


   কিন্তু  কি  আছে  Book  of   animals   ব‌ইয়ে?? সুধী পাঠক, উক্ত  ব‌ইয়ে   কি   আছে, তা   জানলে  আপনার কাছে কোনও Option থাকবে না, অবাক ‌হ‌ওয়া ছাড়া!! চলুন, কি আছে একটু বলি, শুনুন-

   সুধী পাঠক, কয়েকটি  বিজ্ঞানীর  নাম  উল্লেখ  করতে চাইছি, দেখুন  তো  এই  বিজ্ঞানীদের  চেনেন কি?? যদি চিনতে  পারেন, তাহলে- আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি না চিনতে পারেন, তাহলে.............!! দেখুন তো- Carolus Linnaeus (1707- 1778), Jean-Baptiste  Lamarck (1744- 1829), Charles   Robbert   Darwin (1809- 1882), Hugo Marie de Vries (1848-1935)। চিনতে পারলেন   এদের   একজন‌কেও?? 4   জনের   মধ্যে   4 জনকে  না  চিনলেও  কমপক্ষে  2  জনকে  তো  চিনতে পেরেছেন, না কি?? অন্য  কাউকে না চিনলেও Darwin ও Lamarck কে?? এদের  বিষয়ে  আমি প্রথম মনে হয় সপ্তম শ্রেণীতে পড়েছিলাম, আপনি পড়েন নি?? তাহলে ভুলে গেলেন কিভাবে??

   উপরিউক্ত 4 জন  বিজ্ঞানীই Biology  ও  Botany তে প্রাণ  দিয়েছিলেন। এখন  আজ-জাহিজ সম্পর্কে বলতে হলে  বলতে  হবে- বিজ্ঞানী  আজ-জাহিজ উপরিউক্ত 4 জন বিজ্ঞানীর  পিতা। উপরিউক্ত 4 জন বিজ্ঞানী আজ-জাহিজকে   সরাসরি   Copy  paste  করেছে  বললেও বাড়িয়ে  বলা  হবে   না!! উপরিউক্ত  4  জন   বিজ্ঞানীর প্রচার  করা  মতবাদের  সমাহার হল- মহাবিজ্ঞানী আজ জাহিজ!! তাই  বিবর্তন  তত্ত্ব  Darwin  এর  নয় বরং তা মহাবিজ্ঞানী    আজ-জাহিজের। তাই    বিব‍র্তন   তত্ত্বকে 'Darwinism বা ডারউইন‌বাদ বা ডারউইন তত্ত্ব' বলে নি বরং  শুধু  বিবর্তন  তত্ত্ব  বলেছি!! তবে  বিবর্তন  তত্ত্বকে ''জাহিজবাদ'' বা "জাহিজ তত্ত্ব" বলাটাই বাঞ্চনীয়!! তাই না পাঠক??


   যাইহোক, এতক্ষণ ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করলাম। পাঠকগণ, খুশি হয়েছেন?? ইতিহাসেও খানিকটা  দখল    আছে, বলুন?? আসলে   আমার   উস্তাদ   তো   বিখ্যাত ইতিহাসবিদ, ঐতিহাসিক গোলাম আহমদ মর্তজা। তার ছাত্র, আর  ইতিহাসে‌র  জ্ঞান  থাকবে  না, তা  কি  হয়!! তাই   না  বলুন?? যাইহোক, এবার  আমরা  মূল  বিষয়ে এগিয়ে  যেতে চাই কিন্তু একটা প্রশ্ন করতে চাই- আপনি কি 1'ম  পর্ব  পড়েছেন?? যদি  না  পড়েন, তাহলে  পড়ে নিন  উপরি উক্ত Link এ Click করে। নয়ত  এই  পর্বের কিছুই বুঝতে পারবেন না!! তাই চলুন-

   গত পর্বে আমরা দেখিয়েছি- প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল পানিতে, তারপর  চলতে  থাকে   বিবর্তন। কোটি-কোটি বছর  বিবর্তনের  পর  জলজ  প্রাণী  বুকে  হেঁটে আড়ায় উঠে আসে, তারপর  আরও কোটি-কোটি বছর বিবর্তন চলার পর 2 পায়ে হাঁটা  প্রাণীদের জন্ম হয়, যেমন- হাঁস, মুরগি এবং বিভিন্ন ধরণের  পাখি ইত্যাদি। তারপর পর‌ই বুকে হাঁটা  প্রাণী  থেকে  উদ্ভব  হতে  থেকে 4 পায়ে হাঁটা বিভিন্ন প্রাণীদের।

   তারপর চলতে থাকে বিবর্তন, আরও  লক্ষ-লক্ষ বছর ধরে। তারপর  4 পায়ে  হাঁটা  প্রাণী  সমূহের  কেউ-কেউ গাছে-পালায়   চড়তে   শুরু   করে   এবং   গাছে  চড়ার পরিবেশ অনুযায়ী তাদের বিবর্তন‌ও হতে থাকে, সৃষ্টি হয়  হনুমান  এবং   বানর   জাতীয়   প্রাণীদের   কিন্তু   তবুও বিবর্তন না থেমে চলতে থাকে এবং চলতেই থাকে!!


   তারপর?? তারপর    উদ্ভব    হয় Australopithecus এর। এরা  পুরো-পুরি  হনুমান  বা  বানর  জাতীয়  ছিল।এদের উদ্ভব হয়  30 লক্ষ বছর South Africa তে। এরা Lucy  (লুসি)  নামেও  পরিচিত। এদের  আরও   একটা প্রজাতি   ছিল, তাদের   নাম   হল- Australopithecus afarensis. Australopithecus দেখতে  বানরের মতো হলেও কষ্টের সঙ্গে  এরা সোজা  হয়ে 2 পায়ে  হাঁটা-হাঁটি করতে  পারত এবং  এদের  মাথার  খুলির ধারণ ক্ষমতা ছিল- 400-500 cc এবং এদের উচ্চতা  ছিল- 1 Meter  বা 39.5 Inches. Australopithecus  afarensis  এর থেকে  বিবর্তনের  মাধ্যমে  প্রায়  24  লক্ষ  বছর   আগে উদ্ভব হয়-Australopithecus africanus এর।


   তারপর?? Homo habilis. এদের  উদ্ভব হয় প্রায় 20 লক্ষ   বছর  আগে   Australopithecus  এর   সর্বশেষ প্রজাতি  Australopithecus  africanus থেকে South Africa তে। এদের মাথায়  খুলির ধারণ ক্ষমতা 640 cc. এদের  উচ্চতা‌ও  ছিল Australopithecus এর থেকেও বেশি। অর্থাৎ প্রায় 1.5 Meter এবং এরা বেশ আরামের সঙ্গে  2  পায়ে  হাঁটা-হাঁটি  করতে  পারত। এক   কথায়,  Australopithecus এর   থেকে   Homo  habilis প্রায়  সব  ক্ষেত্রেই ছিল  আলাদা, যদিও মুখের খানিকটা মিল ছিল!!


   তারপর?? Homo  erectus. এদের   উদ্ভব  হয়  প্রায় 10 লক্ষ  বছর  পূর্বে Homo  habilis থেকে এবং এদের বিচরণ  ছিল- Asia,   Africa,   Europe. এদের   মাথার হাড়ের  সঙ্গে  Chimpanzee, Gorilla, Orangutan দের বেশ   মিল   ছিল। তবে Homo   erectus  রা   2  পায়ে হাঁটত। এদের  মাথার  খুলির  ধারণ ক্ষমতা ছিল- 1000 cc.


   তারপর?? Homo     neanderthal. এই     প্রজাতির উদ্ভব  হয়  Homo  erectus  থেকে  প্রায়  2  লক্ষ বছর আগে। এরা মূলত Europe এ বসবাস করত, তবে ভিন্ন- ভিন্ন  প্রজাতি  ছিল, তারা  প্রায়  সর্বত্র   ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এদেরকে     দেখতে     ছিল    খানিকটা    Homo sapiens অর্থাৎ আমাদের‌ই মতো। তবে আমাদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য‌ও ছিল বিস্তর। এরা ছোট-ছোট দল এবং উপদলে বিভক্ত থাকত। এরা নিজেদের মধ্যে মারা-মারি  ও হানা-হানি করত, তাদের Fossil record তাই  বলছে অন্তত। এরা   আগুনের  ব‍্যবহার  জানত  এবং  কাঠ  ও পাথরের  হাতিয়ার  তৈরী   করতে   পারত। তবে  এদের হাতের  তালু  খুব  শক্ত  ছিল, তাই  এরা  তুলি  বা কলম ধরতে   পারত   না। এরা   শুধুই   মাংসাশী   ছিল   এবং  বয়সন্ধিকালে  পুষ্টিহীনতায়  ভুগত। কারণ  তাদের মধ্যে মানববন্ধন ছিল না!!

   এদের মধ্যে সবচেয়ে  লক্ষ‍্যণীয়  বিষয়  ছিল- এরা 40  হাজার বছর আগে হঠাৎ করেই এরা বিলুপ্ত হয়ে  যায়!! এদের    বিলুপ্তির   প্রধান   কারণ  ছিল- নিজেদের মধ্যে মারা-মারি, হানা-হানি এবং কাটা-কাটি, রক্তা-রক্তি।


   তারপর?? এরপর   Homo   sapiens   বা  আধুনিক মানুষ অর্থাৎ আমরা  কিন্তু  আধুনিক  মানুষ কি বিবর্তন থেকে এসেছে?? এক শ্রেণীর বিবর্তনবাদিরা বলেন- হ‍্যাঁ, আমরাও    বিবর্তনের   মাধ্যমে   এসেছি। কিন্তু   এখানে আমার  যুক্তি  হল- Homo  neanderthal  প্রজাতি  40 হাজার  বছর  আগে  বিলুপ্ত  হয়  এবং 40 হাজার বছর আগে Homo  sapiens এর   আবির্ভাব  হয়। এত অল্প সময়ে এত বেশি বিবর্তন সম্ভব নয়!!


   সুধী  পাঠক, তাহলে  Homo   sapiens   বা   আমরা অর্থাৎ আধুনিক  মানব এল  কিভাবে?? এখানে  রয়েছে বিজ্ঞানের ব‍্যার্থ‌তা!! যেখানে বিজ্ঞান থেমে যায়, সেখানে পথ   দেখায়    কোরান- আলহামদুলিল্লাহ!! এ    বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ 

অনুবাদ হবে এমন-"রমযান মাস, এ মাসেই নাযিল করা হয়েছে  কোরান, যা  মানবজাতির  জন্য পথ-প্রদর্শক ও সত‍্য-মিথ‍্যার পার্থক্য সৃষ্টিকারি"(2:185)।


   এখন  গোঁড়া  ধর্মান্ধদের  পক্ষ  প্রশ্ন   হবে- কি   প্রমাণ আছে  যে, neanderthal রা  সৃষ্টি  হয়েছিল?? এ প্রশ্নের উত্তর হল- বিবর্তন তত্ত্ব সত‍্য, তা  গত পর্বে কোরান এবং বিজ্ঞান  দ্বারা  প্রমাণ  করেছি। আর neanderthal রাও বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল এবং তারা যে সৃষ্টি হয়ে ছিল, তার  প্রমাণ  কোরানেই  রয়েছে!! এখন  প্রশ্ন হবে- কোরানে  কোথায়  আছে?? এ  প্রশ্নের  উত্তর হল- 2:30 আয়াতে। কিন্তু  ক‌ই, কোথায়, কিভাবে?? তাহলে প্রথমে আয়াতটি দেখে নিন, আল্লাহ বলেছেন-

وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ

অনুবাদ হবে এমন-"এবং   যখন   প্রভু   ফেরেস্তাদেরকে বললেন- আমি  পৃথিবীতে  প্রতিনিধি  পেশ করব। তখন তারা    বলল- আপনি   কি   পৃথিবীতে   এমন   কাউকে প্রতিনিধি   করতে    চান, যে   অশান্তি  সৃষ্টি (মারা-মারি হানা-হানি, কাটা-কাটি)  করবে এবং রক্তপাত করবে??  আমরা তো আপনার প্রশংসা  ও  পবিত্রতা বর্ণনা করেই যাচ্ছি। তখন আল্লাহ  বললেন- আমি  যা জানি, তোমরা জানো না"(2:30)।

   সুধী  পাঠক, উক্ত  আয়াতে  ফেরেস্তা‌রা  কি   বললেন লক্ষ্য  করেছেন  কি?? ফেরেস্তা‌রা  আল্লাহ‌কে  বললেন-        قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ অনুবাদ হবে এমন-"আপনি কি  পৃথিবীতে   এমন   কাউকে প্রতিনিধি   করতে  চান, যে  অশান্তি  সৃষ্টি   করবে   এবং   রক্তপাত করবে"(2:30)?? 

   এখান থেকে একটা প্রশ্ন উঠবে- ফেরেস্তা‌রা কি গায়িব জানত?? কারণ    তারা   জানল   কি   করে   যে, মানুষ পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করবে  এবং  রক্তপাত করবে?? নিশ্চয়  তারা  গায়িব  জানতেন  না!! তাই  না?? তাহলে তারা   কিভাবে  বুঝলেন  যে, মানুষ  পৃথিবীতে  অশান্তি সৃষ্টি করবে  এবং  রক্তপাত  করবে?? তাহলে  কি  তারা মানুষের পূর্বে  কাউকে  দেখেছিল  অশান্তি  সৃষ্টি  করতে এবং রক্তপাত করতে??

   নিশ্চয়  দেখেছিল, নয়ত  তারা   বললেন  কেন?? তাই নয়   কি?? কিন্তু  কাদেরকে   দেখেছিল   অশান্তি   সৃষ্টি করতে এবং রক্তপাত করতে?? পাঠক, পূর্বে কি আপনি Homo  neanderthal দের  বিষয়ে  শুনেছেন?? অথবা আমার  লেখায়  পড়েছেন?? যদি  পড়ে থাকেন, তাহলে বুঝেছেন যে, Neanderthal রা পৃথিবীর  সর্বত্র‌ই ছড়িয়ে ছিটিয়ে  ছিল   এবং   তারা   ছোট-ছোট   দলে-উপদলে বিভক্ত  হয়ে  থাকত। এরা  নিজেদের  মধ্যে  মারা-মারি, হানা-হানি  ও  কাটা-কাটি  করত  ফলতঃ  তাদের  ঘটত রক্তপাত!!

   সুধী পাঠক, তাহলে  কি  ঐ  জন‍্যেই  ফেরেস্তা‌রা  বলে ছিল-   قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ   অনু বাদ হবে এমন-"আপনি  কি  পৃথিবীতে   এমন   কাউকে প্রতিনিধি   করতে   চান, যে  অশান্তি  সৃষ্টি  করবে  এবং রক্তপাত করবে"(2:30)?? হ‍্যাঁ, আপনি  ঠিকই বুঝেছেন। ঐ জন‍্যেই ফেরেস্তারা বলেছিলেন!!


   আপনাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখতে চাইব যে- 2:30  আয়াতে  ফেরেস্তাদের  কথার পেক্ষিতে আমাদের সমাজের  বেশিরভাগ   সম্মানিত   আলেমগণ  জ্বীনদের একটা  মিথ্যা  কাহিনী  তৈরী  করেছেন, যার  উল্লেখ  না কোরানে আছে, আর না  কোনও  সহীহ  হাদীসে!! কিন্তু তারপরও চলছে এই কাহিনী‌টি-

   জ্বীনেরা নাকি  পৃথিবীতে  নিজেদের  মধ্যে  অশান্তি ও রক্তপাত  করত। তারপর  আল্লাহ   ফেরেস্তা‌দের   হুকুম করে   সমস্ত    জ্বীনকে    হত্যা    করার    জন্য। তারপর ফেরাস্তারা  এসে  সমস্ত জ্বীনকে হত‍্যা করে ফেলে, কিন্তু জিবরাঈল (আ) দয়াপরবশ  হয়ে  একটা  শিশু জ্বীনকে নিজের  সঙ্গে  আল্লাহর  কাছে  নিয়ে যান। পরে ঐ শিশু জ্বীন  আল্লাহর  ইবাদত  করে-করে  ফেরেস্তা‌দের  সর্দার হয়ে যান।

   সুধী  পাঠক, উপরিউক্ত   এই  কাহিনী‌টি  না  কোরানে আছে, আর না হাদীসে!! তাহলে এবার  আপনি কোনটি বিশ্বাস    করবেন?? প্রচলিত   কাহিনী, না   কি   প্রমাণ‍্য বিজ্ঞান?? যার  প্রমাণ   আপনি  Homo  neanderthal দের বিষয়ে পেয়েছেন!!

   

   যাইহোক, ফেরেস্তা‌রা আল্লাহ‌কে কেন প্রশ্ন করেছিলে- তা  হয়ত  এবার  বুঝতে  পেরেছেন নিশ্চয়?? এই প্রসঙ্গ নাহলে  শেষ হল, এবার একটা প্রশ্ন উঠবে এবং তা হল- কত  বছর  আগে  আল্লাহ  আদম  (আ)-  কে  সৃষ্টি করে ছেন?? এ  প্রশ্নের  উত্তর  একেবারেই  সহজ, খুব সহজ। কিভাবে?? Homo  neanderthal রা  কত  বছর আগে পৃথিবী  থেকে  বিলুপ্ত হয়েছিল?? এর উত্তর- 40 হাজার বছর  আগে। কেননা, তবেই  তো  আল্লাহ  যখন  আদম (আ)- কে  সৃষ্টি   করতে   চাইছিলেন, তখন   ফেরেস্তারা বলল-  قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ  অনু বাদ হবে এমন-"আপনি কি আপনি  কি পৃথিবীতে এমন   কাউকে প্রতিনিধি  করতে   চান, যে অশান্তি সৃষ্টি করবে  এবং  রক্তপাত   করবে"(2:30)?? তারমানে?? তারমানে আদম (আ)- এর  সৃষ্টি  হয়েছিল  মাত্র  40 হাজার বছর আগে!!


   আরও একটা প্রশ্ন হতে পারে- সমস্ত  কিছু  সৃষ্টির  পর   আল্লাহ আদম (আ)- কে  সৃষ্টি করেছেন, এ তথ্য আপনি কোথায়  পেলেন?? এ  বিষয়ে   আল্লাহ   কোরানে  বলে ছেন-الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ

অনুবাদ হবে এমন-"তিনি  সব  কিছুকে  সুন্দর বা উত্তম রূপে  সৃষ্টি  করেছেন। অতপর তিনি  মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন  কাদামাটি   থেকে"(32:7)। তারমানে?? সমস্ত কিছুকে  বিবর্তনের  মাধ্যমে সুন্দর ভাবে সৃষ্টি করার পর মানুষ সৃষ্টি করেছেন!!


   যাইহোক, আল্লাহ  আদম (আ)- কে  মাটি  থেকে  সৃষ্টি করলেন। তারপর আদম (আ)- এর মধ্যে আত্মা দিলেন। এই বিষয়টা আল্লাহ বেশ কয়েক স্থানে উল্লেখ করে বলে ছেন-   فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ

অনুবাদ হবে এমন-"যখন  আমি  তার  গঠন  পূর্ণ  করব এবং  তার  মধ্যে  আমার রুহ  ফুঁকে দেব, তখন তোমরা সবাই    তাকে    সিজদা    করবে"(15:29, 38:72)। সুধী পাঠক, রুহ   বা   আত্মার   বৈজ্ঞানিক   ব্যাখ্যা   জানতে চান?? তাহলে নিচের Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=755412518177081&id=544853392566329

   একটা  ছোট  মতো  প্রশ্ন  উঠতে  পারে- কোরানে বলা হয়েছে  যে, আল্লাহ  আদম (আ)- কে  মাটি  থেকে  সৃষ্টি করে‌ছেন। এটার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কি?? এ প্রশ্নের উত্তর হল- হ‍্যাঁ। বিস্তারিত  জানতে নিচের Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=712362879148712&id=544853392566329

   তারপর  আদম (আ) জীবন্ত  মানুষ হয়ে উঠলেন, এর পরের ঘটনা তো সবার জানা আছেই। ফেরেস্তারা সবাই সিজদা করল কিন্তু ইবলিশ সিজদা করল না। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন- أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ অনুবাদ হবে এমন-"সে [আল্লাহর  নির্দেশ ] অমান্য এবং  নিজের শ্রেষ্ঠত্বের  অহংকার  করল। ফলত সে [ইবলিশ] কাফির হয়ে গেল"(2:34)।


   সুধী   পাঠক, আল্লাহ   বিবর্তনের   মাধ্যমে   শেষ   সৃষ্ট Homo  neanderthal  এর  বিলুপ্তির  পর আদম (আ)- কে  সৃষ্টি  করলেন। শুধুই আদম (আ)- কে সৃষ্টি করলেন না  বরং  Homo  neanderthal  এর সঙ্গে আদম (আ)- এর পার্থক্য কোরানে তুলে ধরলেন এভাবে- خَلَقَ الْإِنْسَانَ অনুবাদ   হবে  এমন-"মানুষকে  সৃষ্টি  করেছেন"(55:3)। এবং- عَلَّمَهُ الْبَيَانَ অনুবাদ হবে এমন-"তাকে কথা বলতে শিখিয়েছেন"(55:4)। সুধী    পাঠক, আদম   (আ)  এবং 

Homo  neanderthal  এর  মধ্যে  সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল- কথা  বলতে  পারা!! যা  আল্লাহ  এত  সুন্দর ভাবে বলে দিয়েছেন। তাই না??


   আচ্ছা, এখানেই  কি  শেষ?? না, না, তা  হয়!! আল্লাহ আরও বলেছেন-

وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَٰؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ

অনুবাদ হবে এমন-"অতঃপর    আল্লাহ‌   আদমকে   সব কিছুর নাম শেখালেন। তারপর সেই সব বস্তু গুলো পেশ করলেন  ফেরেস্তাদের   সামনে  এবং  বললেন- এই  বস্তু গুলোর নাম বল, যদি সত‍্যবাদী হ‌ও"(2:31)। ফেরেস্তা‌রা উত্তর দিল এভাবে-

قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ

অনুবাদ হবে এমন-"পবিত্র  আপনার   সত্ত্বা। আপনি  যা আমাদের শিখিয়েছেন, তার বাইরে আমরা কিছুই জানি না"(2:32)। তারপর আদম (আ) কি করলেন দেখুন-

قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ 

অনুবাদ হবে এমন-"তখন  আল্লাহ‌  আদমকে   বললেন- আপনি  ওদেরকে  [ফেরেস্তাদেরকে]  এই   বস্তু   গুলোর নাম  বলে  দিন। যখন  সে [আদম] তাদেরকে  সে  সবের নাম জানিয়ে দিল"(2:33)।

   সুধী পাঠক, উক্ত আয়াতে  আদম (আ) কেন শ্রেষ্ঠ, তা দেখান   হয়েছে  এবং  আদম  (আ)- এর   সঙ্গে  Homo  neanderthal দের পার্থক্য‌ও  সুস্পষ্ট। সেটা হল- আদম (আ)- এর   শেখার  ক্ষমতা, যা  Homo   neanderthal দের ছিল না!!


   আরও  বলা  হয়েছে। আল্লাহ এখানেই শেষ করে দেন নি। তিনি Homo neanderthal এবং  Homo sapiens দের আরও 2 টি পার্থক্য তুলে  ধরেছেন  মহা বিস্ময়কর গ্ৰন্থ   কোরানে   এভাবে-   الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ   অনুবাদ  হবে এমন-"যিনি  কলমের  সাহায্যে   লেখার   মাধ্যমে   জ্ঞান অর্জন    করা    শিখিয়েছেন"(96:4)। আর   দ্বিতীয়‌টিও বর্ণিত   হয়েছে   এভাবে- عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ  অনুবাদ হবে  এমন-"মানুষকে  তা শেখার ব‍্যবস্থা করলেন, যা সে জানত না"(96:5)।

   সুধী  পাঠক, Homo   neanderthal  দের   হাত  অস্ত্র ধরার  মতো  ছিল  বটে  কিন্তু  কলম/ তুলি  ধরার মতো ছিল না। কিন্তু  যখন  আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করলেন, তখন মানুষের  হাত কলম/ তুলি ধরার যোগ্যতা সহ সৃষ্টি করে ছেন। আর সেটাই আল্লাহ 96:4 আয়াতে বলেছেন।

   এছাড়াও 96:5 আয়াতে আল্লাহ এটা বলেছেন- মানুষ শেখার  গুণ  সম্পন্ন   কিন্তু   Homo   neanderthal  রা শেখার গুণ সম্পন্ন ছিল না। এ জন‍্যেই তারা তাদের ভুল থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ না করার পৃথিবী হতে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তারপর আল্লাহ সৃষ্টি  করেন আদম (আ)- কে অর্থাৎ Homo sapiens দের!!


   সুধী  পাঠক, এখান  পর্যন্ত  আমরা   আদম (আ)- এর সৃষ্টি  প্রসঙ্গটি  পুরোটা  জেনে   নিয়েছি। তাই  নয় কি?? এবার আমরা একটা প্রশ্নের উত্তর দেব। প্রশ্ন/ অভিযোগ টি হল- কোরানে নাকি মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে সাংঘর্ষিক আয়াত  আছে। যেমন- কোনও  জায়গায়  বলা   হয়েছে যে, মানুষ  সৃষ্টি  হয়েছে- মাটি থেকে!! কোনও জায়গায় বলা   হয়েছে   যে, মানুষ   সৃষ্টি   হয়েছে- পানি   থেকে!! আবার  কোনও  জায়গায়  বলা  হয়েছে  যে, মানুষ সৃষ্টি হয়েছে- বীর্য  থেকে!! আবার    কোনও   জায়গায়  বলা হয়েছে  যে, মানুষ  সৃষ্টি হয়েছে- শুক্রাণু  থেকে!! আবার   কোনও  জায়গায়  বলা  হয়েছে  যে, মানুষ সৃষ্টি হয়েছে- মিলিত  শুক্র  থেকে!! আবার   কোনও   জায়গায়  বলা হয়েছে যে, মানুষ  সৃষ্টি হয়েছে- আলাক থেকে!! এখানে কোনটা ঠিক??

   সুধী  পাঠক, প্রায়  5  মাস  আগে  একটা  লেখা লিখে ছিলাম। বিষয়  ছিল- কোরানে   কি   পরস্পর   বিরোধী কথা  আছে?? এই   লেখাটা   বেশ   গুরুত্বপূর্ণ!! কেননা সেই  মহিলা  আমার  জীবনে  থাকা  অবস্থায় এটা শেষ লেখা  ছিল, তারপর‌ই  তো  সে  আমার  সঙ্গে   প্রতারণা করে!! যাইহোক, নিচে  সেই  লেখার Link দিলাম, Link এ 8 টি মিথ্যা অভিযোগে‌র উত্তর দেওয়া হয়েছে, চাইলে Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=916190815432583&id=544853392566329


   পাঠক, এবার   মনে   হয়   আমাদের   উত্তরের   দিকে এগিয়ে    যাওয়া   উচিৎ, তাই   না?? সুধী   পাঠক, তার আগে  মনে  হয়  আমাদের  উচিৎ  হবে   আয়াত   গুলো একবার  দেখে  নেওয়া, তাই  না?? কি করবেন, আয়াত গুলো  দেখবেন?? দেখুন- خَلْقَ الْإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ  অনুবাদ হবে এমন-"অতপর   তিনি   মানুষ  সৃষ্টি  করেছেন  মাটি থেকে"(32:7,  15:26,  3:59,  38:71,   55:14,   23:12, 22:5, 6:2, 35:11, 30:20)। এ  তো  গেল   মাটি   থেকে সৃষ্টি  সংক্রান্ত  আয়াত। বীর্য থেকে সৃষ্টির বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন-  خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ  সঠিক    অনুবাদ   হবে এমন-"তিনি   মানুষ‌কে   সৃষ্টি   করেছেন [نُطْفَةٍ- নুতফাহ] একটি  মাত্র  শুক্রাণু/ বীর্য   থেকে"(16:4, 75:37)। আর পানি থেকে সৃষ্টির বিষয়ে  কোরানে আল্লাহ বলতে গিয়ে বলেছেন-   وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا   সঠিক  অনুবাদ হবে   এমন-"তিনিই    মানুষ‌কে    সৃষ্টি   করেছেন   পানি থেকে"(25:54,   32:8,   86:6)। আর    আল্লাহ   মিলিত শুক্রের বিষয়ে বলেছেন- إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ  

অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়   আমি   মানুষ‌  সৃষ্টি  করেছি মিলিত শুক্র থেকে"(76:2)। এখানেই  শেষ  নয়, আল্লাহ আরও  বলেছেন-خَلَقَ  الْإِنْسَانَ  مِنْ  عَلَقٍ সঠিক  অনুবাদ হবে এমন-"তিনি   মানুষ   সৃষ্টি   করেছেন [عَلَقٍ] রক্ত   ও মাংস পিন্ড  থেকে/ জোঁকের  মতো  পদার্থ থেকে/ ঝুলে থাকা পদার্থ থেকে"(96:1)।


   সুধী  পাঠক, এই  হল  সমস্ত  আয়াত গুলো। কিছুদিন পূর্বেই    পশ্চিমবঙ্গের   হুগলী   জেলার   শেওড়াবেড়িয়া নিবাসী  রাফিউদ্দিন  মিদ‍্যা তার 'Al-quran & science' নামক গ্ৰুপে ঠিক এই প্রশ্নটিই করেছিলেন।

   আহা  রে, শেওড়াবেড়িয়া!! ছোট  বেলার   বহু   স্মৃতি বিজড়িত  গ্ৰাম!! নানার  বোনের  বাড়ি   অর্থাৎ   নানীর বাড়ি!! আবার  একটা  নয়, 2  টো   নানীর   বাড়ি!! বড় মামার  শ্বশুর  বাড়ি  অর্থাৎ  নানীর বাড়ি!! কত দুপুরের ভাত  শেওড়াবেড়িয়ায়   খেয়েছি, তা   কে  জানে!! আর রাফিউদ্দিন মিদ‍্যা'ও আমার দূর সম্পর্কের মামা!! 

   শেওড়াবেড়িয়া    গ্ৰামটি    ছিল   আমার   কাছে   খুব Special, তবে  এ  জন্য নয় যে, তা আমার 2 টো নানীর বাড়ির দেশ বরং এজন্য যে, তা ছিল- আমার জন্য প্রেম নগরী!! আচ্ছা, প্রেম‌ও  বড় আজব, তাই  না?? কেননা, মানুষ কাউকে ভালবাসলে   তার   গ্ৰাম‌কেও ভালবাসে। এটা এখন বুঝলাম!! তবে छोड़ आये हम वो गलिया!!


   যাইহোক, এবার  কি  উত্তর   দেব?? হ‍্যাঁ   চলুন, উত্তর দেওয়া   যাক, হ‍্যাঁ?? প্রথমে   পরস্পর   বিরোধী  কথার বিষয়ে কোরানে আল্লাহ কি বলেছে দেখুন-

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا

অনুবাদ হবে এমন-"তারা  কি  কুরআন  সম্পর্কে  চিন্তা-ভাবনা করে না?? যদি  এটা  আল্লাহ‌  ছাড়া  অন্য কারো পক্ষ  থেকে  রচিত  হত, তাহলে  তারা   এর   মধ্যে   বহু বর্ণনাগত   পরস্পর   বিরোধী   তথ্য   পেত"(4:82  এবং 47:24)। সুতরাং  এই   আয়াত   থেকে   স্পষ্ট- কোরানে পরস্পর  বিরোধী  কোনও  তথ্য নেই, আর যদি থেকেও থাকে,    তাহলে      আমি (লেখক,    হোসেন     কুরানী) কোরানকে  আল্লাহর  বাণী  বলে  মেনে  নিতে অস্বীকার করব- ইনশাআল্লাহ!! কিন্তু   আলহামদুলিল্লাহ, কোরান এই   অভিযোগ   হতে    মুক্ত। কিন্তু   প্রশ্ন   হবে- তাহলে কোরানে  মানুষ  সৃষ্টির  বিষয়ে  এত  পরস্পর   বিরোধী কথা কেন??


   পাঠকগণ চলুন, সমাধান করি কিন্তু তার আগে একটা উদাহরণ  দিই। ধরুন, কেউ  বলল- মানুষের  2  টো হাত হয়। কিছুক্ষণ  পর বলল- মানুষের 2 টো পা হয়। আবার কিছুক্ষণ  পর  বলল- মানুষের  2  টো চোখ হয়। আবার কিছুক্ষণ  পর  বলল- মানুষের  2  টো কান হয়!! আচ্ছা বলুন  তো, মানুষ   সম্পর্কে   উপরিউক্ত  4  টি  তথ্য  কি পরস্পর  বিরোধী?? না কি 4 টি তথ্য‌ই  ঠিক, শুধুমাত্র 4 টি তথ্য একবারে না বলে 4 বারে বলা হয়েছে??


   মনে  হয় 90% বুঝে  গেছেন!! তাই না?? তবুও আরও একবার  বলার  কষ্ট‌টা  করি, কি  বলেন?? তাহলে চলুন এবং দেখুন-

   যখন   বলা  হচ্ছে- خَلْقَ الْإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ অর্থাৎ "মানুষ সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে"। তারমানে এখানে প্রথম মানব সৃষ্টির  কথা  বলা  হয়েছে  অর্থাৎ আদম (আ)- এর কথা বলা হচ্ছে। তারপর  যখন বলা হচ্ছে-  خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا অর্থাৎ "মানুষ    সৃষ্টি   করেছি   পানি   থেকে"। তারমানে এখানে  যৌনমিলনের  পর   বীর্যের   কথা   বলা   হচ্ছে। আপনি  হয়ত  জানেন না যে, বীর্যের 98% পানিই। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হল-

الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ

অনুবাদ    হবে    এমন-"তিনি   সব   কিছুকে [বিবর্তনের মাধ্যমে] উত্তম রূপে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি মানুষ সৃষ্টির  সূচনা করেছেন কাদামাটি থেকে"(32:7)। আরও বলা   হল-  ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ مَاءٍ مَهِينٍ  অনুবাদ হবে এমন-"তারপর  তার  বংশ  বিস্তার   করার   ব‍্যবস্থা করেছেন  পানি  দ্বারা"(32:8)। তাহলে  এ  পর্যন্ত  বোঝা গেল কি??

   32:8, 25:54 ও 86:6 আয়াতে  বীর্য‌কে  ব‍্যাপক  অর্থে পানি  বলা  হয়েছে, অন‍্যত্রে  আল্লাহ  সরা-সরি বলেছেন এভাবে- خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ অনুবাদ  হবে এমন-"তিনি বীর্য/ শুক্রাণু  থেকে  মানুষ  সৃষ্টি  করেছেন"(16:4  এবং 75:37)।

   আর‌ও   বলা   হয়েছে- إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ অর্থাৎ "নিশ্চয়  মানুষ সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্র/ শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু‌র   নিষিক্ত‌তা  থেকে"(76:2)। এটাও   ঠিক। কেননা, 32:8, 25:54 ও 86:6 থেকে  পানি  থেকে সৃষ্টির কথা   বলা   হয়েছে, 16:4 ও 75:37 এ   সরাসরি  বীর্য/ শুক্রাণু‌র  তথ্য  এল  এবং  76:2 তে  বলা  হল- শুধুমাত্র শুক্রাণু নয় বরং ডিম্বাণু‌কে শুক্রাণু নিষিক্ত করলে তবেই সন্তান জন্ম হয়।


   সুধী  পাঠক, এ  পর্যন্ত  পরিষ্কার  হল কি?? এবার শুধু বাকি  থাকল عَلَقٍ (আলাক) থেকে   সৃষ্টির  ব‍্যাখ‍্যা। তবে চিন্তা  করবেন  না, এর  ব‍্যাখ‍্যা‌ও  কঠিন  নয়  এবং তাও করা  হবে- ইনশাআল্লাহ। এ  বিষয়ে   কোরানে   আল্লাহ বলেছেন- خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ অনুবাদ হবে এমন-"তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন [عَلَقٍ] রক্ত-মাংস পিন্ড থেকে/ ঝুলে থাকা পদার্থ/ জোঁকের মতো পদার্থ থেকে"(96:1)।

   এখানে মাতৃগর্ভে‌ মানুষ সৃষ্টির বিভিন্ন স্তরের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একটা হল- عَلَقٍ (আলাক)। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা  হয়েছে- 23:12-14 নং আয়াতে। দেখতে চাইবেন, কি  বলা   হয়েছে?? 23:12-14 আয়াতে   বলা হচ্ছে-  وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ অনুবাদ  হবে এমন-"আমি  মানুষকে [প্রথম বার] তৈরী  করেছি মাটির উপাদান  থেকে"(23:12) পরবর্তী  আয়াতে আল্লাহ বলে ছেন- ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ সঠিক  অনুবাদ  হবে এমন-"তারপর তাকে একটি সংরক্ষিত স্থানে [জরায়ু‌তে] টপকে পড়া ফোটায় পরিবর্তিত করেছি"(23:13)। আর তিনি পরের আয়াতে পুরোটা পরিষ্কার করে‌ছেন-

ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ

অনুবাদ হবে এমন-"পরে  সেই ফোটাকে عَلَقَةً [আলাকা- তান] জমাট    বাঁধা   রক্তপিন্ডে/ ঝুলে   থাকা/ জোঁকের মতো    পদার্থে    পরিণত    করেছি, তারপর    সেই عَلَقَةَ [আলাকাতা'কে]   মাংসপিন্ডে   مُضْغَةً   [মুদগা-তান]   এ পরিণত   করেছি, এরপর  মাংসপিন্ড  مُضْغَةَ  [মুদগা'তা] থেকে   সৃষ্টি   হয়  عِظَامًا  [ইজোয়া-মান] হাড়  সমূহ  সৃষ্টি করেছি, তারপর   হাড়   সমূহ‌কে   عِظَامَ  [ইজোয়ামা'কে] ঢেকে  দিয়েছি  গোশত  لَحْمًا  [লাহ-মান]  দিয়ে,  তারপর তাকে দাঁড় করেছি স্বতন্ত্র একটি সৃষ্টি রূপে"(23:14)।


   সুধী পাঠক, লেখার শেষে এসে পৌঁছে‌ছি। কয়েক দিন হল মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে   ও  শুধু কান্না পাচ্ছে!! জানেন, 21.02.2020 তে বড় বোন‌কে বিয়ের জন্য পাত্র পক্ষ  দেখতে  এসেছিল  কিন্তু  কি  করুণ  অবস্থা দেখুন আমাদের!! বড়  বোনকে  দেখতে  আসছে কিন্তু তাকেই সমস্ত  কাজ  অর্থাৎ ঘরের রান্না-বান্না করে, পাত্র পক্ষের জন্য 12-15   রকম  সুন্দর-সুন্দর  খাবার  তৈরী  করতে হচ্ছে!! আমি  শুধু  সহযোগিতা হিসাবে জোগাড় দিতেই পারছি এবং মনে মনে  কাঁদতেই পারি!! পরিস্থিতি এমন যে, চেঁচিয়ে কাঁদতেও পারি না!!

   অনেকেই  আমার  লেখা  পড়ে  বা আমার উত্তর শুনে বলেন- Sir আমি  আপনার  মতো  হতে  চাই  বা আমার ছেলেকে  আপনার   মতো   তৈরী   করতে   চাই। তাদের বলব- ভুল করেও  এই দোয়া করবেন না, যদি আজীবন কাঁদতে  বা  সন্তান‌কে  কাঁদাতে   না  চান!! আর  প্রার্থনা করি- আমার শত্রু‌র জীবন‌ও যেন আমার মতো না হয়!! এত  বেকার জীবন  সহ‍্য করা তার জন‍্যেও কষ্টকর হবে এবং তা দেখে আমার‌ও কষ্ট হবে!!


   আশা  করছি, বোঝাতে  পারলাম  এবং আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন   থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                   © : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...