ফেরেস্তারা কি আল্লাহর হুকুম অমান্য করে??

 


    Whatsapp- এর এক ভাই গ্ৰুপে প্রশ্ন না করে ফোন করে প্রশ্ন করে বলেছেন-"হোসেন স‍্যার, প্রশ্নটি একটু নাস্তিকদের মত। তাই, আপনাকে সরাসরি বলছি। কিন্তু উত্তর দেওয়ার সময় আমার নাম না উল্লেখ করে উত্তর দেবেন। প্রশ্নটি হল-*আমি জানি যে, ফেরেস্তারা আল্লা হর হুকুম মানতে বাধ্য। কিন্তু কোরানে এমন একটা আয়াত পড়েছি, যেখানে বলা হচ্ছে- ফেরেস্তারা আল্লা হর হুকুম অমান্য করে*।

   স‍্যার, আমি আয়াতটি কোথায় আছে জানি না। কিন্তু কোরানেই আছে। তাই স‍্যার, যদি একটু আয়াতটার ব‍্যাখ‍্যা করে দেন, তাহলে আজীবন আপনার উপকার ভুলব না"।

   #আরে না ভাই!! এভাবে বলার প্রয়োজন নেই যে- "আজীবন এই উপকার ভুলব না"!!! আর দ্বিতীয় কথা হল- আয়াতটি কোথায় আছে, আপনি জানেন না তো কি হয়েছে??- আমি তো আয়াতটি জানি, আর আমি কোনও কিছু এত সহজে ভুলেওওওও যাই না!!!!

   যাইহোক, কথা না বাড়িয়ে নিচে একটা লিঙ্ক দিচ্ছি। লিঙ্কে গেলে *ফেরেস্তাদের যাতায়াত ও ফেরেস্তা সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা* পেতে পারেন। তাই, লিঙ্কে অবশ্যই প্রবেশ করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=714897842228549&id=544853392566329

   এছাড়াও নিচে আরও একটি লিঙ্ক দিচ্ছি। এই লিঙ্কে ক্লিক করলে দেখতে পাবেন-*মানুষ শ্রেষ্ঠ, না ফেরেস্তা শ্রেষ্ঠ*?? এবং ওখানে এও পাবেন যে- ফেরেস্তাদের নিজ ইচ্ছা বলে কিছু নেই---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=692747624443571&id=544853392566329

   #উত্তর:::- যতদূর নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানি, তা হল- বেশিরভাগই মানুষইইইই ধীরে ধীরে নাস্তিক হয়ে ওঠে। কেননা, গবেষণা বলছে- বেশিরভাগ মানুষ নাস্তি কতার দিকে এগিয়ে যায় ধার্মিকদের গোঁড়া ধার্মিকতা দেখে। গোঁড়ার গোঁড়ামি দেখে কেউ কেউ ভাবে-*এটাই মনে হয় ধর্ম*!!

   নাস্তিকদের নাস্তিক হওয়ার আরও একটি কারণ হল- ধার্মিক থাকাকালীন তার মনে উত্থিত হওয়া প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া। কিন্তু ইসলামের একটা সৌন্দর্য হল-*এর প্রতিটি নিয়ম, নীতি, আইন-কানুন'কে যুক্তি ও বিজ্ঞান দিয়ে পরীক্ষা করা যায়*। তাই নয় কি??

   #যাইহোক, এবার প্রশ্নকারি যে আয়াতের ভিত্তিতে প্রশ্ন করেছেন, সেই আয়াতটি দেখা যাক। আয়াতটি হল-"হে মুমিনরা! জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের কে ও স্বজনদেরকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। যেখানে নিয়োজিত আছে কঠোর, নির্মম, ও শক্তিশালী ফেরেস্তারা। যারা আল্লাহর আদেশকে তৎ খনাৎ মান‍্য করে, কখনও অমান‍্য করে"(66:6)।

   এই তো ভাই, এই সেই আয়াত তো?? এই আয়াতটি কে আপনি দেখেছেন এভাবে-*আল্লাহ ফেরেস্তাদের যখন কোনও হুকুম করে, তখন মাঝে মাঝে ফেরেস্তারা আল্লাহর হুকুম সঙ্গে সঙ্গে পালন করতে শুরু করে, আর মাঝে মধ্যে আল্লাহর হুকুম পালন করে না বা সঙ্গে সঙ্গে পালন করে না*।

   #তাই তো ভাই?? আপনি আয়াতটিকে উপরিউক্ত এ ভাবেইইই দেখেছেন তো?? আর এ সম্পর্কে কোরানের একটি বিখ্যাত আয়াতটি দেখুন-"আর এমন কিছু মূর্খ আছে, যাদের কাছে মিথ্যা আশা ছাড়া ঐশী গ্ৰন্থের কোনও জ্ঞান নেই, তারা শুধু ধারণা করে মাত্র"(2:78)। আরও বলা হচ্ছে-"তারা শুধু ধারণা বা অনুমান করে মাত্র, আর নিশ্চয় সত‍্যের সামনে ধারণার কোনও মূল‍্য নেই"(53:28 ও 10:36)।

   #আচ্ছা, 2:78 তে ধর্মগ্ৰন্থের জ্ঞান নেই বলতে কি বলা হচ্ছে?? বলা হচ্ছে যে- তারা *সমগ্ৰ গ্ৰন্থ* সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না। তারমানে?? তারমানে- এই আয়াতটি দেখার প্রয়োজন রয়েছে। কোন আয়াত?? আয়াতটি হল-"তারা বা ফেরেস্তারা কোনও ত্রুটি বা ভুল করে না"(6:61)।

   তাই, ভাই 6:61 আয়াতের ভিত্তিতে একটি প্রশ্ন উঠবে। আর তা হল- যদি ফেরেস্তারা ভুল বা ত্রুটি নাই করেন, তাহলে আল্লাহ নির্দেশ অমান্য করবে কি ভাবে??

   এবার প্রশ্ন করি-*এতক্ষণ বোঝাবার পর, কি বোঝা গেল*?? এটাই বোঝা গেল যে- আপনি সমগ্ৰ কোরান সম্পর্কে না বুঝেই, কিছু নাস্তিকদের প্রশ্ন শুনে কোরান বিরোধী ভুল ধারণা তৈরী করে রেখেছেন। যেমনটা আল্লাহ 53:28 এবং 10:36 আয়াতে বলেছেন-"তারা শুধু ধারণা করে মাত্র, আর নিশ্চিতরূপে সত‍্যের সামনে ধারণার কোনও মূল্য নেই"।

   এবার হয়ত আপনি বলতে পারেন যে-*তাহলে 66:6 আয়াতের ব‍্যাখ‍্যা কি হবে*??

   আয়াতটির বাকি অংশটা ছেড়ে শুধু শেষটা দেখুন- "যারা আল্লাহর আদেশকে তৎখনাৎ মান‍্য করে, কখনও অমান্য করে"। এবার এর সঙ্গে 6:61 আয়াতটি মিলিয়ে দেখুন। তখন এই আয়াতের ব‍্যাখ‍্যা হবে এমন-*আল্লাহ তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে পালনের নির্দেশ দিলে সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ পালন করে, আর কখনও নির্দেশ দেওয়া বটে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পালনের জন্য নয়, তখন তারা সঙ্গে সঙ্গে বা তৎক্ষণাৎ আদেশ পালন করে না বা অমান‍্য করে।

   অর্থাৎ যদি দেরিতে নির্দেশ পালন করার হুকুম পায়, তাহলে তারা তৎক্ষণাৎ কেন নি়র্দেশ পালন করবে??

   এভাবেও বলা যেতে পারে- তৎক্ষণাৎ আদেশ পালন করার হুকুম পেলে তৎক্ষণাৎ করে, আর দেরিতে আদেশ পালনের হুকুম পেলে, তৎক্ষণাৎ করতে অমান‍্য করে। যা, আল্লাহ শুধুমাত্র 66:6 আয়াতে ঘুরিয়ে বলে ছেন।

   এবার শেষ প্রশ্ন-*বলার উদেশ্য কি*?? বলার উদেশ্য হল- ফেরেস্তারা আল্লাহর হুকুম পালনে বাধ্য। অর্থাৎ যেমন হুকুম, তেমন কাজ।

   (একটা কথা বলতে চাই- আমার *পরিচিত* ব‍্যাক্তিরা ছাড়া আমাকে কেউ ফোন করে প্রশ্ন করবেন না)।

   আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                     লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...