Facebook এর একজন মহিলা আয়েশা জাহান Massenger এ প্রশ্ন করে বলেছেন--নবী মহাম্মদ (স) বাইবেল থেকে কোরান নকল করেছে!!
জানেন বাবু, আগে যখন আপনি Whatsapp এ উত্তর দিতেন, আমার বান্ধবীদের শোনাতাম, তারা কি বলত জানেন?? বলত- ইনি কে, এত কিছু মনে রাখে কি করে?? আমি বলতাম- ইনি হলেন হোসেন কুরানী, ইনি ইসলামিক Google এবং আমার উস্তাদ!! আপনাকে আল্লাহ এত বড় নিয়ামত দিয়েছেন অথচ আপনি ঐ Fraud মহিলার জন্য আল্লাহর থেকে মৃত্যু চাইছেন??
স্যার, এবার একটা প্রশ্ন করব। আমি চাই- আপনি এ প্রশ্নের লিখিত উত্তর দেবেন!! আমি দিল্লিতে থাকি , তা তো জানেন, এখানে আমার অনেক নাস্তিক বান্ধবী আছে, খৃষ্টান বান্ধবী আছে। আমার একটা খৃষ্টান বান্ধবী বলে- নবী মহাম্মদ (স) বাইবেল থেকে কোরান নকল করেছে!! এছাড়াও Social media তেও অনেকে একথা বলে!! দেখতে ও শুনতে খারাপ লাগে কিন্তু উত্তর দিতে পারি না কিন্তু আমি না পারলেও আপনি তো রয়েছেন আমার উস্তাদ!!
স্যার, গত 1 বছর হল আপনাকে কোনও প্রশ্ন করতে পারি নি, কোনও রকম যোগাযোগ করতে পারি নি কিন্তু আপনার প্রতিটা লেখাই পড়তাম। তখন কি মনে হত জানেন?? মনে হত- যদি কখনও যোগাযোগ হয়, খুব করে উল্টো-পাল্টা বলব আপনাকে কিন্তু এখন রাগের তুলনায় আপনার প্রতি মায়া লাগছে অনেক বেশি!!
এখন আমি আপনাকে এটাই বলতে পারি- অতীত ভুলে বর্তমানে মনোযোগী হওয়াই উচিৎ!! মানুষ যখন মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে, তখন শুধু ঔষধ খেলেই হয় না বরং মনের জোরে সুস্থ হয়ে উঠতে হয়!! তাই সুস্থ হন এবং দ্বীনের জন্য অনেক বড় কিছু করুন, আমাকে সর্বদাই পাশে পাবেন"।
সুধী পাঠক, আজকের লেখাটা আকারে অনেক বড় হবে, তাই আমরা আর অন্যান্য প্রসঙ্গে না গিয়ে মূল আলোচনায় প্রবেশ করতে চাই। এখানে মূল প্রশ্ন হল- নবী মহাম্মদ (স) কোরান কি বাইবেল থেকে নকল করে ছেন?? এ প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরানে আল্লাহ দিয়ে রেখেছেন এভাবে-
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ
অনুবাদ হবে এমন-"যারা এই প্রেরিত উম্মী (নিরক্ষর) নবীর আনুগত্য করে, যার উল্লেখ তাওরাত ও ইনজীলে লিখিত অবস্থায় পাওয়া যায়"(7:157)। এই আয়াত থেকে 2 টি তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রথমত, নবী মহাম্মদ (স) ছিলেন নিরক্ষর। তাই নবী মহাম্মদ (স) বাইবেল পড়ে কোরান নকল করেন নি। এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ আরও বলেছেন-
وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ ۖ إِذًا لَارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ
অনুবাদ হবে এমন-''ইতিপূর্বে আপনি কোনও গ্ৰন্থ পড়েন নি এবং কোনও গ্ৰন্থ রচনাও করেন নি, যদি এমনটি হত, তাহলে মিথ্যাচারীর সন্দেহ পোষণ করতে পারত"(29:48)। এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ আরও বলেছেন-
وَمَا كُنْتَ تَرْجُو أَنْ يُلْقَىٰ إِلَيْكَ الْكِتَابُ إِلَّا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ
অনুবাদ হবে এমন-''আপনি মোটেই আশা করোনি যে, আপনার প্রতি গ্ৰন্থ অবতীর্ণ করা হবে। এত আপনার প্রভুর রহমত মাত্র"(28:86)। এ বিষয়ে আল্লাহ কোরানে আরও বলেছেন-
قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلَا أَدْرَاكُمْ بِهِ ۖ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
অনুবাদ হবে এমন-''বলুন, যদি এটিই হত আল্লাহর ইচ্ছা, তাহলে আমি এ কোরান তোমাদের কখনও শোনাতাম না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে এর খবরও দিতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মধ্যে দীর্ঘ কাল অতিবাহিত করেছি, তবুও কি তোমরা বুদ্ধি-বিচার করে কাজ করতে পার না"(10:16)??
সুধী পাঠক, আজ যেমন কিছু বিচার-বুদ্ধি ও বিবেক হীন মানুষ নবী (স)- এর উপরে এই অভিযোগ করে যে, মহাম্মদ (স) কোরান বাইবেল থেকে নকল করেছেন!! তেমনই, সেই যুগের কিছু মানুষও অভিযোগ করত যে, নবী (স) নিজে কোরান রচনা করছে, তার পরিপেক্ষিতে আল্লাহ কোরানে উপরিউক্ত উত্তর গুলো দিয়েছেন। যাইহোক, 7:157 আয়াত হতে প্রথম তথ্য বেরিয়ে ছিল- নবী (স) নিরক্ষর ছিলেন এবং এতক্ষণ ধরে কোরান থেকে তা প্রমাণ করলাম!!
আর 7:157 আয়াত হতে দ্বিতীয় যে তথ্য বেরিয়ে এল, তা হল- নবী (স) নিরক্ষর ছিলেন, এ বিষয়ে বাইবেলে বলা আছে!! সুধী পাঠক, এবার আমরা কোরানের এই দাবীকে বাইবেল দ্বারা প্রমাণ করব- ইনশাআল্লাহ!! এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচের লেখা দিয়ে ফেসবুকে সার্চ করেন,👇
@বাইবেলে হেরা গুহার উল্লেখ@
সুধী পাঠক, উপরিউক্ত 7:157 আয়াত হতে যে 2 টি বেরিয়ে এসেছিল, তা এখন প্রমাণিত। তথ্য গুলো হল- কোরান ও বাইবেল অনুয়ায়ী নবী মহাম্মদ (স) নিরক্ষর ছিলেন!! তাই তিনি বাইবেল হতে কোরান নকল করতে পারতেন না!!
সুধীপাঠক এবার আমরা বাইবেল সম্পর্কে আলোচনা শুরু করতে চাই একটা প্রশ্ন উত্থাপন করে, প্রশ্নটি হল- বাইবেল কি নবী (স)- এর যুগে আরবি ভাষায় অনুবাদ হয়েছিল?? এ প্রশ্নের উত্তর হল- না!!চলুন, বিষয়টি নিয়ে একটা পর্যালোচনা করি-
প্রথমত, বাইবেলের ভাষা কিন্তু হিব্রু, আরবি নয় এবং নবী (স)- এর সময়ে আরবি ভাষায় বাইবেলের অনুবাদ শুরুই হয়নি!! এ বিষয়ে একজন খৃস্টান পন্ডিতের গবেষণা উল্লেখ করা যেতে পারে। খৃস্টান পন্ডিত Ernst Wurthwein তার "The Text of the Old Testament" গ্রন্থে আমাদেরকে এ তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি লিখে ছেন-"With the victory of Islam the use of Arabic spread widely and for Jews and Christians in the conquered lands it became the language of daily life. This gave rise to the need of Arabic versions of the Bible, which need was met by a number versions mainly independent and concerned primarily for interpretation"(P- 104). অর্থাৎ "ইসলামের বিজয়ের সাথে সাথে আরবির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি অধিকৃত ভূখন্ডের ইহুদি ও খৃস্টানদেরও প্রাত্যহ্যিক ভাষা হয়ে ওঠে। এর ফলে আরবি ভাষায় বাইবেলের অনুবাদের প্রয়োজন জোরালো হয়ে ওঠে এবং এই প্রয়োজনের কারণেই তখন বাইবেলের বেশ কিছু আরবি সংস্করণ দেখা যায় যেগুলো প্রধানত ছিল স্বাতন্ত্র্যমন্ডিত এবং দ্বিভাষিকতার পক্ষে প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ"।
সুতরাং হিব্রু বাইবেলের আরবি অনুবাদ সর্ব প্রথম দৃষ্টিগোচর হয় ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির পর।
প্রথম Old testament আরবিতে যেটা আমাদের নিকট আছে, তা Saadia Gaon (সাদিয়া গাওন) কর্তৃক 900 খ্রিস্টাব্দে অনুবাদ হয়!!
এত গেল Old testament এর কথা। আর New testament?? এবিষয়ে Professor Sidney H Griffith (সিডনী এইচ গ্রিফিথ) তার The Bible in arabic গ্ৰন্থে জনসম্মুক্ষে প্রথম প্রকাশিত আরবি বাইবেল এবং New testament নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন এবং তিনি লিখেছেন-"আরবি ভাষায় যিশুর জীবন কাহিনী এবং শিক্ষা (Gospels) সম্বলিত প্রাচীন পান্ডুলিপি সমূহ রামলেহ- এর Stephen (স্টিফেন) কর্তৃক 897 খৃস্টাব্দে লিখিত হয়''(P- 131, 132)। অথচ নবী (স)- এর মৃত্যু হয় 632 খৃস্টাব্দে। অর্থাৎ নবী (স)- এর যুগে আরবি ভাষায় বাইবেলের অনুবাদই ছিল না!! সুতরাং বাইবেল দেখে কোরান নকল করার প্রশ্নই ওঠে না!! তাই নয় কি??
যাইহোক, নবী (স) কত বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন বা কত বছর বেঁচে ছিলেন, তা তার নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে!! এ বিষয়ে আবাক করা তথ্যটি জানতে নিচের লেখাটি পরেন👇
@কত বছর বয়সে নবী (স)- এর ওফাত হয়??@

এই চিঠিটা নবী (স)- এর দ্বারা মিশরের মুকাউ- কিস'কে লেখা চিঠি এবং গোল সিলমোহর'টি বিশ্বনবীর আংটির।
যাইহোক, বিষটি এটা নয়। আজ কোনও উপযুক্ত ছবি না পাওয়ায়, নবী (স)- এর চিঠিটাই দিলাম।
মেদনীপুরের গোলাম মর্তজা* নামের ভাই whatsapp এ প্রশ্ন করে বলেছেন-"নবী (স) পৃথিবীতে কত বছর জীবিত ছিলেন"?? আর এটা কি কোরানে কোথাও বলা আছে??
প্রশ্নটা খুব সহজ। আর আমার একটা খুব স্বভাব আছে, আর তা হল- সহজ প্রশ্নের উত্তর লিখতে আমাকে মোটেও ভালো লাগে না। তাই, আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে মুখেই বলে দিয়েছিলাম। তবে, আমাকে আজ "ভিগুর দাদু, নৃপেন বাবু" হতে ইচ্ছা করছে। যিনি "সোজা কথা কঠিন করে বলেন"।
সুধীপাঠক, আজ উত্তরটা একটু অন্য কায়দায় দেব- ইনশাআল্লাহ। তাই, চলুন-
উত্তর:::- ভাই, শুধুমাত্র বুখারী শরীফেই একাধিক হাদীস রয়েছে, যা বলছে-"ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (স) 63 বছর বয়সে ওফাতপ্রাপ্ত হন"(কিতাবুল মানাকিব, হাদীস 3567, 3618, 3619)। আর ইংরেজির হিসাবে তার জন্ম 29 আগষ্ট 570, এবং ওফাতপ্রাপ্ত 8 জুন 632 সাল। অর্থাৎ ইংরেজির হিসাবে তিনি 62 বছরে ওফাতপ্রাপ্ত হন।
প্রশ্ন হতে পারে-"62 বা 63 হচ্ছে কেন"?? এর উত্তর হল হিজরী বছর "চন্দ্র মাস" অনুসারে হয়, আর ইংরেজি বছর "সৌর দিন" অনুসারে হয়। এছাড়াও ইংরেজি বছর 365 দিনে হয়, আর হিজরী বছর গড়ে 354 দিনে হয়। একারণে, 62 বা 63 হচ্ছে।
কিন্তু এখানেই কি উত্তর শেষ?? না, শেষ নয়। তবে, অন্য জন উত্তর দিলে এখানেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু যেহেতু উত্তর দিচ্ছে হোসেন কুরানী, সেহেতু *উত্তর* এর পর থেকে শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।
আমরা সবাই জানি যে, নবী (স)- এর নাম মুহাম্মদ (স)। তার নামে ব্যবহৃত আরবি অক্ষর গুলি হল- 'মীম' 'হা' মীম' 'দাল'। এবার নামের অক্ষর অনুযায়ী যদি আরবি বর্ণ মালার ক্রমিক নম্বর ব্যাবহার করি, তাহলে দেখা যাবে- মীম=24, হা=6, মীম=24, দাল=8. এবার যদি সব সংখ্যা গুলোকে যোগ করা হয়, তাহলে হব- 24+6+24+8= 62. তাহলে কি বুঝলেন?? নবী (স) কত বছর বয়সে ওফাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, তার উত্তর রয়েছে, তার নাম মুবারকের মধ্যেই। অবাক হন নি?? সুবহা-নাল্লাহ বলুন, আর বেশি করে অবাক হন।
তবে, আমি আপনাকে আরও একটু অবাক করতে চাই। তাই লক্ষ্য করুন-
আমরা ইসলামী ক্যুইজের বইয়ে পড়েছি যে, কোরানে নবী (স)- এর নাম আছে মোট 5 বার। এর মধ্যে 4 বার মুহাম্মদ, আর 1 বার আহমদ। এতটুকু তথ্য প্রায় সকলে জানেন, কিন্তু এর পরে, যে তথ্যটি আমি দেব, তা প্রায় সকলের অজানা।
সর্বপ্রথম 62 কে 4 দিয়ে গুণ করুন। কারণ, মুহাম্মদ (স)- এর নামে 4 টি অক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে। তাই 62×4=248. এবার সংখ্যা গুলোকে এভাবে সাজিয়ে নিন- 2+4+8=14. এরপর আবার-1+4=5. তাহলে কি বুঝলেন?? এখানে সংখ্যা তাত্ত্বিক ভাবেও প্রমাণ করে দিলাম- নবী (স)- এর নাম কোরানে রয়েছে 1 বার আহমদ, ও 4 বার মুহাম্মদ। অর্থাৎ মোট 5 বার (অর্থাৎ 1+4=5)। অবাক হন নি??
আলহামদুলিল্লাহ, আমি এভাবেই একটা 500 পাতার বই লিখে ফেলতে পারি। তবে, এখানেই শেষ নয়, একটা হাদীস ও একটা বিজ্ঞান দিয়ে লেখা শেষ করব।
বিজ্ঞানীরা বলেন- বর্তমানে সারা পৃথিবীর মানুষের গড় আয়ু 65-67 বছর। অন্য দিকে নবী মহাম্মদ (স) বলেছেন-"আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (স) বলেছেন- আমার যুগ হতে কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মাতের গড় আয়ু হবে 60-70 বছর"(তিরমিযী হাদীস 2273)। আর তিনি নিজেও এই গড় আয়ুর মধ্যেই ওফাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং প্রমাণ করলেন-*বিশ্বনবী মহাম্মদ (স) বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানী, মানবশ্রেষ্ঠ ও মহাজ্ঞানী*।
(62/63 র প্যাচে পড়বেন না। আমি শুধু নতুন ধরনের একটা তথ্য পরিবেশন করেছি মাত্র। তবে, 62/63 র ব্যাখ্যাও করেছি। তাই, এতে সংশয় থাকার কথা নয়)।
আশা করছি, এমন উত্তর জীবনে প্রথমবার শুনলেন। তাই, দোয়া করবেন আমার মায়ের জন্য। আল্লাহ যেন *আমার মা'কে জান্নাতুল ফিরদৌস দান করেন*।
এবং এর চেয়েও আরও কঠিন কঠিন, অনেক কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, উত্তর পাবেন। লেখক, হোসেন কুরানী।
সুধী পাঠক, আমরা এবং যারা বাইবেল ও কোরান নিয়ে গবেষণা করেন, তারা সবাই জানে- বাইবেল ও কোরানের ঘটনা প্রবাহের মিল অনেক!! এ জন্যেই বেশ কিছু মানুষ এই অভিযোগ করেন- নবী মহাম্মদ (স) বাইবেল থেকে কোরান নকল করেছেন!! কিন্তু আজ আমরা এই দাবীটিকে ভুল প্রমাণ করতে চাই!!
আচ্ছা জানেন, আমার লেখা পড়ে ও আমার বক্তব্য শুনে অনেকেই আমাকে বলেন- আমি আপনার মতো হতে চাই!! কেউ বলেন- আমার ছেলেকে আপনার মতো তৈরী করতে চাই!! কিন্তু আমি মনে মনে চাই- আমার মতো অভাগা আর কেউ না হয়, যে সারাজীবনে সুখের মুখ দেখি নি!! সত্যি বলতে, আমি সুখ কাকে বলে তাই জানি না!! কখনও সুখ পেলে তবেই তো জানতে পারব সুখ কেমন!! আমার তো ভাগ্যে আল্লাহ সুখ লিখতেই ভুলে গেছে হয়ত!!
জানেন, আমি কখনও ভালবাসা পাই নি। যে আমাকে নিঃস্বার্থ ভালবাসত, তিনি হলেন- আমার মা। আল্লাহ তাকেও আমার থেকে কেড়ে নিলেন!! আর এখন পিতা এবং সমস্ত আত্মীয় থাকা সত্ত্বেও আমি অনাথের মতো জীবন-যাপন করছি!!
জানেন, আমার মা আমাকে ছোট বেলা থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত খাইয়ে দিয়েছে, কখনও নিজের হাতে ভাত খাই নি, সব সময় মা খাইয়ে দিত!! আজ আর কেউ খাইয়ে দেয় না!!
জানেন, লোকে আমার স্মৃতি শক্তির প্রশংসা করে বলে- হোসেন কি Computer না কি, এত কিছু Reference সহ মনে রাখে কি করে?? কিন্তু আজ মনে হচ্ছে- যদি আমি স্মৃতি হারিয়ে ফেলতাম কিংবা হানীর মতো দুর্বল স্মৃতি হত, তাহলে আমিও সব ভুলে যেতাম এবং তাহলে কতই না ভাল হত!! যে স্মৃতি শক্তির সবাই প্রশংসা করে, আজ সেই স্মৃতি শক্তির জন্যেই এত বেশি কষ্ট পাচ্ছি!! হায় রে কপাল!!
সুধী পাঠক, এবার আমরা বাইবেল থেকে ইউসুফ (আ)- এর একটা ঘটনা উদ্ধৃতি করে কোরানের সঙ্গে তার পার্থক্য দেখানোর চেষ্টা করি। ঘটানাটি হল ইউসুফ (আ)- এর একটা স্বপ্ন। তার স্বপ্নটি বাইবেলে উল্লেখ আছে এভাবে-
"Then he dreamed still another dream and told it to his brothers, and said- Look, I have dreamed another dream. And this time, the sun, the moon, and the eleven stars bowed down to me". অনুবাদ হবে এমন-"পরে সে আরও এক স্বপ্ন দেখে তার ভায়েদেরকে বলল। সে বলল, দেখ, আমি এক স্বপ্ন দেখলাম- সূর্য, চন্দ্র এবং এগারটা নক্ষত্র আমাকে সিজদা করল"(Genesis- 37:9)। সুধী পাঠক, কোরানে এই ঘটনা উল্লেখ আছে এভাবে-
إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سَاجِدِينَ
অনুবাদ হবে এমন-"স্মরণ করুন, যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল- হে পিতা!! আমি স্বপ্ন দেখেছি- এগারটি গ্ৰহ, সূর্য ও চাঁদ আমাকে সিজদা করছে"(12:4)।
পাঠকগণ, আপাত দৃষ্টিতে ঘটনাটা একই রকম মনে হচ্ছে, তাই না?? কিন্তু 2 টি বর্ণনার ক্ষেত্রে মৌলিক পার্থক্য আছে!! আপনি হয়ত লক্ষ্য করেন নি!! চলুন তাহলে, বিষয়গুলো আপনার সামনে তুলে ধরি-
1) বাইবেল বলছে- ইউসুফ (আ) তার ভায়েদের স্বপ্নের বৃত্তান্ত শোনাল, আর Genesis- 37:10 বলছে- তার পিতাকেও শোনাল!!
1) কিন্তু কোরান বলছে- ইউসুফ (আ) তার পিতাকে স্বপ্নের বৃত্তান্ত শোনাল!! আর 12:5 বলছে- তার পিতা তাকে বলল যে, তোমার ভায়েদেরকে স্বপ্নের বিষয়ে কোনও কিছু শোনাবে না!!
2) বাইবেল বলছে- সূর্য, চন্দ্র ও এগারটি নক্ষত্র ইউসুফ (আ)- কে সিজদা করেছে!!
2) কিন্তু কোরান বলছে- সূর্য, চন্দ্র এবং এগারটি গ্ৰহ ইউসুফ (আ)- কে সিজদা করেছে!!
3) এখানে বাইবেল অবৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান করেছে!! কিভাবে?? সূর্য-চন্দ্র সিজদা করেছে মেনে নিচ্ছি কিন্তু নক্ষত্রের সংখ্যা কি মাত্র 11 টি?? না, তা নয়, নক্ষত্রের সংখ্যা তো অগণিত!! শুধুমাত্র আমাদের গ্যালাক্সিতেই নক্ষত্রের সংখ্যা 10, 000, 000, 00, 00 (দশ হাজার কোটি)। তাহলে শুধুমাত্র 11 টি নক্ষত্রের কথা আসবে কেন??
3) কিন্তু কোরান এখানে বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান করেছে এবং উক্ত স্বপ্ন দ্বারা সৌরজগতের বর্ণনা তুলে ধরেছে, যা International Astronomycal Union বলেছে 2006 সালে। উক্ত সংস্থা বলেছে- সৌরজগতে মোট গ্ৰহ 11 টি, এর 8 টি সাধারণ গ্ৰহ এবং 3 টি বামন গ্ৰহ। কিন্তু বাইবেল কোন জগতের বর্ণনা দিয়েছি, তা আপনি অর্থাৎ পাঠকগণ অনুমান করুন!!
সুধী পাঠক, এবার বলুন যে- কোরান কি বাইবেল থেকে নকল করা হয়েছে?? যদি হয়, তাহলে বাইবেল ও কোরানের বর্ণনার মধ্যে এত পার্থক্য কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর আমি আপনার থেকেই চাই!!
পাঠক, এবার আপনাদেরকে একটা ছোট কিন্তু সুন্দর কাহিনী শোনাতে চাই। শুনবেন?? দেখুন অবস্থা আমার, লেখা শুরু করার আগেই হাত কাঁপছে, কি আর লিখব তাহলে!!
আমি আমার জীবনে শুধুমাত্র আমার মা'কে পাশে আর সঙ্গে পেতাম কিন্তু এখন তো আমার মা'কেও আল্লাহ আমার থেকে কেড়ে নিয়েছেন এবং এখন আমি একা এবং.........!!
সুধী পাঠক, এবার বলুন যে- কোরান কি বাইবেল থেকে নকল করা হয়েছে?? যদি হয়, তাহলে বাইবেল ও কোরানের বর্ণনার মধ্যে এত পার্থক্য কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর আমি আপনার থেকেই চাই!!
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
*THE QURANIC UNIVERSE TEAM*
© : লেখক, হোসেন কুরানী।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: