Whatsapp- এ হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার সিরাজুল ইসলাম ভাই তার এক নাস্তিক বন্ধুর প্রশ্ন পাঠিয়ে বলেছেন-"হোসেন স্যার, আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছেন যে, 68:4 আয়াতে বলা হয়েছে-"নিশ্চয় নবী মহাম্মদ (স) উত্তম চরিত্রের অধিকারী"। কিন্তু 33:37 আয়াতে বলা হচ্ছে- মহাম্মদ (স) কৌশল অবলম্বন করে নিজের পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করেন!! যে ব্যাক্তি নিজের পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করে, তাকে কি করে উত্তম চরিত্রের অধিকারী বলা যেতে পারে?? তাও আবার কৌশল অবলম্বন করে পালিত পুত্র ও পুত্র বধূর মধ্যে অশান্তি লাগিয়ে তাদের সংসার ভেঙে নিজে পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ের করে!! সেই ব্যাক্তি উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয় কিভাবে??
স্যার, এ প্রশ্নের যোগ্য উত্তর আপনার থেকেই আশা করতে পারি। স্যার, আমার গত প্রশ্নের উত্তরের কমেন্টে একটা কথাই বলতে পারি- অসাধারণ, আপনার মতোই আপনার লেখাও অসাধারণ। অসাধারণ ব্যাক্তির লেখা তো অসাধারণ হবেই!! স্যার, বুঝতে পারছি আপনার মানসিক অবস্থা ভাল নেই। স্যার, ভেঙে পড়বেন না। হানীজির কাছে হয়ত আপনি অপ্রয়োজনীয় কিন্তু আপনাকে প্রয়োজন আমাদের, গোটা মুসলিম জাতির প্রয়োজন আপনাকে। আপনি তো আমাদের জন্য আল্লাহর নিয়ামত। স্যার, সে সব প্রশ্নের উত্তর কেউ কখনও দিতে পারে না, দেওয়ার চেষ্টাও করে না, সেই সব প্রশ্নের উত্তর আপনি কত সুন্দর ভাবে দেন!! আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে, আপনার মত মানুষের সঙ্গে যুক্ত!! আর সেদিন তো আমার উপর আল্লাহ সহায় হয়ে ছিল, যে দিন বাঁকড়ায় বিয়ে বাড়িতে আপনার সাক্ষাৎ লাভ করি এবং আপনাকে জড়িয়ে ধরতে পেরেছিলাম!! স্যার, আমি যদি মহিলা হতাম, তাহলে যে কোনও কিছুর বিনিময়ে আপনাকে ছিনিয়ে নিতাম!! স্যার, ভাগ্য আপনার খারাপ নয় এবং আপনি আল্লাহর উপর দোষ দেবেন না!! ঐ নারীর অর্থাৎ হানীজির ভাগ্য খারাপ যে আপনার মত অসাধারন মানুষকে পেয়েও হারিয়ে ফেলে!! স্যার, ভেঙে পড়বেন না, ভাল করে খাওয়া-দাওয়া করুন। খবর পেলাম আপনার শারীরিক অবস্থাও খুব নাকি খারাপ হয়ে গেছে?? স্যার, কি করছেন?? একজন প্রতারক এবং ধোকাবাজ নারীর জন্য নিজেকে এভাবে শেষ করে দেবেন না!! আপনি কেন ভুলে যাচ্ছেন যে, আপনি হোসেন কুরানী!! আপনি আমার ও আমাদের গর্ব এবং অহংকার। স্যার, ঐ মহিলা আপনার শুধু অভিনয় করে গেছে, কখনও ভালবাসেই নি, নয়ত কোনও কিছুর জন্য আপনাকে পরিত্যাগ করত না বরং আপনার জন্য সব কিছু ত্যাগ করত!! আপনি চিন্তা করবেন না। আল্লাহ হয়ত আপনার জন্য ভাল কিছু ঠিক করে রেখেছেন"।
সিরাজুল ইসলাম ভাই, আপনি এত প্রশংসা করেন যে, মাঝে-মধ্যে মনে মনে অহংকার চলে আসে!! Sorry মজা করলাম, অনেক দিন হল হাসি-মজা করি নি!! ঐ জন্য একটু মজা করলাম মাত্র!! যদিও আমি কোনও অহংকারী ব্যাক্তি নই। যাইহোক, গত লেখাটি পড়তে চাইলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=962223637495967&id=544853392566329
সুধী পাঠক জানেন, আমার একটা স্বপ্ন ছিল!! কেমন জানেন?? আমার একজন বন্ধু ছিল এবং সে তার স্ত্রী ও একটি মেয়েকে নিয়ে খুব খুশি ছিল। তারা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একে-অপরকে খুব ভালবাসত। সত্যি বলছি যে, তাদের ভালবাসা দেখে আমার খুব হিংসা হত!! হঠাৎ একদিন আমার বন্ধুর 2 টি কিডনিই খারাপ হয়ে যায় এবং প্রাণে বেঁচে থাকার জন্য তাকে প্রতি সপ্তাহে 2 বার ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছিল!! আমার বন্ধু সোনায় পাথর Setting এর কাজ করত এবং তার স্ত্রীও এই কাজ বেশ খানিকটা জানত। কিন্তু হঠাৎ করে কিডনি খারাপ হতে তারা চেন্নাই থেকে বাড়ি ফিরে আসে। এ ভাবে প্রতি সপ্তাহে 2 বার করে ডায়ালাইসিস করতে করতে তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। কারণ, 1 বার ডায়ালাইসিস করতে প্রায় 1500/- খরচ হত এবং তখন আমার বন্ধু কোনও কাজই করতে পারছিল না, ঐ সময় বন্ধুর স্ত্রী তাদের সংসারের হাল ধরেন এবং নিজে সোনায় পাথর Setting এর কাজ করে রোজগার করে সংসার চালাচ্ছিল ও তার স্বামীর চিকিৎসাও করাচ্ছিল!! যদিও তখন আমার বন্ধু তার স্ত্রীকে বলেছিল- তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাও এবং অন্য জায়গায় বিয়ে করে নাও। আমার বন্ধুর বয়স 30 বছর মত এবং তার স্ত্রীর বয়স 26 বছর মত কিন্তু তবুও তার তাকে ছেড়ে যায় নি এবং তার স্ত্রী বলেছিল- তুমি মরলে আমার কোলে মাথা রেখে মরবে কিন্তু তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না!!
আহাঃ রে, এমন প্রেম-ভালবাসা কি টাকা-পয়সা দিয়ে কেনা যায়?? বিশ্বাস করুন, তখন আমার মনে হত- যে আমার জীবন সঙ্গীনি হবে, সে যেন আমার বন্ধুর স্ত্রীর মত হয়!! জানেন, আমি হানীকে বলতাম- যদি আমার মৃত্যু আপনার আগে হয়, তাহলে আপনি আমাকে শেষ গোসল করাবেন। আর যদি আপনার মৃত্যু আমার আগে হয়, তাহলে আমি আপনাকে শেষ গোসল করাব, আপনার জানাজার নামাজ পড়াব এবং কবরে আমিই নামাব!!
কিন্তু আজ......?? হানীজি, আপনি এগুলো সব ভুলে গেলেন?? আপনার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস এবং অন্ধর মত ভালবাসা আজ আপনার কাছে মূল্যহীন?? শুধুমাত্র গায়ের রঙের জন্য?? হানীজি, আপনার বন্ধুর মুখ থেকে শুনেছি, পরিশেষে আপনার মুখ থেকেও শুনলাম কিন্তু আমি আজও বিশ্বাস করতে পারি নি যে, আপনি আমাকে ঠকিয়েছেন/ প্রতারণা করেছেন!!
হ্যাঁ আমি জানি যে, আপনার School life এর ফর্সা boyfriend আপনার জীবনে ফিরে এসেছে এবং এখন আপনি তার সঙ্গে খুব ব্যাস্ত!! সেই জন্যেই এই কাল রঙের মানুষটা আপনার কাছে মূল্যহীন হয়ে গেছে!! এগুলো আমার Brain জানে কিন্তু আমার মন আজও মানতে পারে নি!! এ জন্যেই তো আমার মোবাইলে Ring হলেই দৌড়ে Call received করতে যাই কিন্তু গিয়ে দেখি অন্য কেউ, তখন মনে হয়- আপনি আবার আমাকে Call করেন, আপনার কাছে এখন আপনার ফর্সা Boyfriend আছে!!
যাইহোক সুধী পাঠক, আর আমরা কোনও ফালতু আলোচনা করব না, এবার আমারা আমাদের কাছে আসা মূল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব, কিন্তু তার আগে আমরা উল্লেখিত আয়াতটি দেখে নেব-
وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ ۖ فَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا ۚ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا
অনুবাদ হবে এমন-"স্মরণ কর, যখন আল্লাহ যার প্রতি এবং আপনি যার প্রতি দয়া করেছিলেন, তাকে আপনি বলছিলেন-“তোমার স্ত্রীকে ত্যাগ কর না এবং আল্লাহকে ভয় কর”। সে সময় আপনি আপনার মনের মধ্যে যে কথা গোপন করছিলেন, আল্লাহ তা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলেন, আপনি লোকভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, আপনি তাকে ভয় করবেন। তারপর তখন তার (যায়নাবের) উপর থেকে যায়েদের সকল প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল, তখন আমি সেই (তালাক প্রাপ্তা মহিলার) বিয়ে আপনার সঙ্গে দিয়ে দিলাম, যাতে মু’মিনদের জন্য তাদের পালক পুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে কোন প্রকার সংকীর্ণতা না থাকে, যখন তাদের উপর থেকে তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। আর আল্লাহর হুকুম তো কার্যকর হয়েই থাকে"(33:37)।
সুধীপাঠক, উপরের আয়াতটি আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে- নবী (স) হয়ত তার পালিত পুত্রবধূকে মনে মনে বিয়ে করতে চাইতেন। যা, তিনি মুখ ফুটে বলতে চাইছিলেন না, তিনি শুধুমাত্র মুখে পালিত পুত্র যায়িদ কে বলছিলেন যে- স্ত্রীকে তালাক দিও না, তার সঙ্গে সংসার কর। অথচ নবী (স) মনে মনে চাইছিলেন- যায়িদ তার স্ত্রীকে তালাক দিক, তারপর আমি তাকে বিয়ে করব!!
আর, উপরিউক্ত অভিযোগ গুলোই নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীরা করে থাকে!! আর, অনেক মুসলিমও আছেন যারা সন্দিহান হয়ে থাকে!! যারা সন্দেহ করেন অথবা অভিযোগ করেন, দোষ তাদের নয়। দোষ তাদের অর্থাৎ আলেমদের, যারা এসব প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারে না!! অথচ কাউকে কাফির ফতোয়া দেওয়ার হলে, তারা সবচেয়ে এগিয়ে থাকে!!
যাইহোক, নবী (স)- কে নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বহু বিতর্ক আছে, যেযন- নবী (স) নূরের তৈরী, নাকি মাটির তৈরী?? তিনি গায়িব জানতেন, নাকি জানতেন না?? নবী দিবস পালন করা যাবে, নাকি যাবে না?? তিনি মৃত, নাকি জীবিত?? ইত্যাদি ইত্যাদি। এ সব বিষয়ে শুধু কোরান থেকে উত্তর পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন এবং বিতর্কের অবসান ঘাটান---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=905883383129993&id=544853392566329
এছাড়াও নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীগণ মা আয়েশা (রা)- এর বিবাহ সম্পর্কে বহু প্রশ্ন তুলে থাকেন, নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে সেই সব প্রশ্নের পেতে পারেন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=879753365742995&id=544853392566329
এছাড়াও নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীগণ নবী (স)- এর 13 টি বিবাহ সম্পর্কে বহু প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ ও অপবাদ পর্যন্ত দিয়ে থাকেন, তাদের সমস্ত প্রশ্নের জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=862208950830770&id=544853392566329
যাইহোক সুধীপাঠক, আমরা আর কোনও ভিন্ন ভিন্ন আলোচনা না করে, সরাসরি 33:37 আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রবেশ করতে চাই। তাই সর্বপ্রথম আমরা 33:37 আয়াতের প্রসঙ্গ জানব, চলুন-
যায়িদ (রা) ছিলেন আসলে কালব গোত্রের হারেসা ইবনে শারাহীল নামক এক ব্যক্তির পুত্র। তার মাতা সু’দা বিনতে সা’লাব ছিলেন তাঈ গোত্রের বনী মা’ন শাখার মহিলা। যায়িদ (র)- এর বয়স যখন আট বছর, তখন তার মা তাকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। সেখানে নবী কাইন ইবনে জাসরের লোকেরা তাদের লোকালয় আক্রমণ করে এবং লুটপাট করে যেসব লোককে নিজেদের সাথে Kidnap করে নিয়ে যায়, তাদের মধ্যে যায়িদ (রা)- ও ছিলেন। তারা তায়েফের নিকটবর্তী উকাযের মেলায় নিয়ে গিয়ে তাকে বিক্রি করে দেয়। খাদীজার (রা)- এর ভায়ের পুত্র হাকিম ইবনে হিযাম তাকে কিনে নিয়ে যান। তিনি তাকে মক্কায় নিয়ে এসে নিজের ফুফু খাদিজা (রা)- কে উপঢৌকন হিসেবে পেশ করেন। নবী (স)- এর সাথে খাদীজা (রা)- এর যখন বিয়ে হয়, তখন নবী (স) তার কাছে যায়িদকে দেখেন এবং তার চাল-চলন এবং আচার-আচরণ তার এত বেশী পছন্দ হয়ে যায় যে, তিনি হযরত খাদীজা (রা)- এর কাছ থেকে তাকে চেয়ে নেন। তখন হযরত যায়েদের ( রা)- এর বয়স ছিল 15 বছর। কিছুকাল পরে তার পিতা এবং কাকা জানতে পারেন যে, তাদের ছেলে মক্কায় আছে। তারা তার খোঁজ করতে করতে নবী (স)- এর কাছে পৌঁছে যায়। তারা বলেন- আপনি মুক্তিপণ হিসেবে যা নিতে চান বলুন, আমরা তা আপনাকে দিতে প্রস্তুত আছি, আপনি আমাদের সন্তান আমাদের হাতে ফিরিয়ে দিন। নবী (স) বলেন- আমি আপনাদের পুত্রকে ডেকে আনছি এবং তার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিচ্ছি, সে চাইলে আপনাদের সাথে চলে যেতে পারে এবং চাইলে আমার কাছে থাকতে পারে। যদি সে আপনাদের সাথে চলে যেতে চায়, তাহলে আমি এর বিনিময়ে মুক্তি পণ হিসেবে কোন অর্থ নেব না এবং তাকে এমনিই ছেড়ে দেব। আর, যদি সে আমার কাছে থাকতে চায়, তাহলে আমি এমন লোক নই যে, কেউ আমার কাছে থাকতে চাইলে, আমি তাকে শুধু শুধু তাড়িয়ে দেব!! উত্তরে তারা বলেন- আপনি যে কথা বলেছেন তা তো সুবিচারের চেয়েও বেশি। আপনি যায়িদকে ডেকে জিজ্ঞেস করে নিন। নবী (স) যায়িদ (রা)- কে ডেকে আনেন এবং তাকে বলেন- এই দু’জন ভদ্রলোককে চেন?? যায়িদ (রা) উত্তর দেন- হ্যাঁ, ইনি আমার পিতা এবং ইনি আমার কাকা। তখন নবী (স) বলেন- আচ্ছা, তুমি এদের সঙ্গেও পরিচিত ও আমার সঙ্গেও। এখন তোমার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে, তুমি চাইলে এদের সাথে চলে যেতেপার এবং চাইলে আমার সাথে থেকে যাও। যায়িদ (রা) বলেন- আমি আপনাকে ছেড়ে কারোর কাছে যেতে চাই না। তখন তার পিতা ও কাকা বলেন- যায়েদ (রা), তুমি কি স্বাধীনতার ওপর দাসত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছ এবং নিজের মা-বাপ,পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে অন্যদের কাছে থাকতে চাও?? তিনি উত্তর দেন- আমি এ ব্যক্তির যে গুণাবলী দেখেছি, তার অভিজ্ঞতা লাভ করার পর এখন গোটা পৃথিবীর কাউকে তার উপর প্রাধান্য দিতে পারি না। যায়িদ (রা)- এর এই উত্তর শুনে তার পিতা ও কাকা সন্তুষ্ট হয়ে তাকে রেখে যেতে রাজি হয়ে যান। নবী (স) তখনই যায়িদ (রা)- কে মুক্ত করে দেন ও হারাম শরীফে গিয়ে কুরাইশদের সাধারণ সমাবেশে ঘোষণা করেন- আপনারা সবাই সাক্ষী থাকুন, আজ থেকে যায়িদ (রা) আমার ছেলে, সে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং আমি তার। এ কারণে লোকেরা তাকে যায়িদ ইবনে মহাম্মদ (স) বলে ডাকত!!
এই ঘটনা নবুওয়াতের পূর্বের। এভাবেই চলতে থাকে। তারপর মহাম্মদ (স) নবুয়ত পান এবং মক্কায় 13 বছর থাকার পর মদিনায় চলে আসেন, সঙ্গে যায়িদ (রা)- ও চলে আসেন। মদিনায় চলে আসার পর চতুর্থ হিজরীতে নবী (স) নিজের ফুফার কন্যা যায়নাব (রা)- এর সঙ্গে পালিত পুত্র যায়িদ (রা)- এর বিয়ে দেন কিন্তু এই বিয়ে 1 বছরও যায় নি এবং তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়ে যায়!! অশান্তির কারণ হল-
যায়নাব (রা) সম্ভ্রান্ত বংশের নারী আর যায়িদ (রা) হল- মুক্ত করা দাস। তাই, যায়নাব (রা) যায়িদ (রা)- কে মনে-প্রাণে স্বামী বলে মেনে নিতে পারছিল না। ঠিক হানী যেমন আমার গায়ের কাল রঙকে মেনে নিতে পারে নি!! যদিও আমার জীবন নিয়ে ছেলে-খেলা করাই ছিল হানীর উদেশ্য!! যাইহোক, তাদের সংসারে প্রায় অশান্তি লেগেই থাকত, যায়িদ (রা) মাঝে-মধ্যেই নবী (স)- এর কাছে এসে অভিযোগ করত যে, আমি আর সংসার করতে চাই না এবং স্ত্রীকে তালাক দিতে চাই!!
কিন্তু এই সূরারই অর্থাৎ সূরা আহযাবের 4 নং আয়াতে অর্থাৎ 33:4 আয়াতে বলা হচ্ছে-
مَا جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِنْ قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ ۚ وَمَا جَعَلَ أَزْوَاجَكُمُ اللَّائِي تُظَاهِرُونَ مِنْهُنَّ أُمَّهَاتِكُمْ ۚ وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ قَوْلُكُمْ بِأَفْوَاهِكُمْ ۖ وَاللَّهُ يَقُولُ الْحَقَّ وَهُوَ يَهْدِي السَّبِيلَ
অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ কোনও ব্যক্তির দেহাভ্যন্তরে দু’টি হৃদয় সৃষ্টি করেন নি। তোমাদের যেসব স্ত্রীকে তোমরা “যিহার” কর, তাদেরকে আল্লাহ তোমাদের মা জননীও করেন নি এবং তোমাদের পালক পুত্রদেরকেও তোমাদের প্রকৃত পুত্র করেন নি। এসব তো হচ্ছে এমন ধরনের কথা, যা তোমরা মুখে উচ্চারণ কর, কিন্তু আল্লাহ এমন কথা বলেন যা প্রকৃত সত্য এবং তিনিই সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন"(33:4)। এই আয়াত হতে এবং ওহী দ্বারা নবী (স) অবগত হন যে, যায়িদ (রা)- এর সংসার হবে না এবং তাদের সংসারের শেষ পরিণতি হবে- তালাক!! তারপরে পালিত পুত্রের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ করতে হবে!!
নবী (স) এই কথাটি মনে গোপন রেখেছিলেন, তিনি তা প্রকাশ করতে চাইছিলেন না। কারণ, তিনি লোক ভয় করছিলেন!! তাই, যখনই যায়িদ (রা) নবী (স)- এর কাছে এসে বলত- আমি আর সংসার করতে চাই না এবং স্ত্রীকে তালাক দিতে চাই। তখনই নবী (স) তাকে বলত- স্ত্রীকে তালাক দিও না এবং আল্লাহকে ভয় কর। নবী (স) যায়িদ (রা)- কে তালাক দিতে নিষেধ করে ছিলেন এজন্য যে, যাতে যায়িদ (রা) তার স্ত্রীকে তালাক না দেয় এবং যায়নাব (রা)- কে বিয়ে করতে না হয়!! বিয়ে করতে হবে না এবং বদনামও হবে না!!
সুধী পাঠক, এই ছিল 33:37 আয়াতের প্রসঙ্গ। প্রসঙ্গ দেখে নিয়েছেন?? এবার আয়াতটি আরও একবার পড়ে দেখুন, আশা করছি এবার বুঝতে পারবেন-
وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ ۖ فَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا ۚ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا
অনুবাদ হবে এমন-"স্মরণ কর, যখন আল্লাহ যার প্রতি এবং আপনি যার প্রতি দয়া করেছিলেন, তাকে আপনি বলছিলেন-“তোমার স্ত্রীকে ত্যাগ কর না এবং আল্লাহকে ভয় কর”। সে সময় আপনি আপনার মনের মধ্যে যে কথা গোপন করছিলেন, আল্লাহ তা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলেন, আপনি লোকভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, আপনি তাকে ভয় করবেন। তারপর তখন তার (যায়নাবের) উপর থেকে যায়েদের সকল প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল, তখন আমি সেই (তালাক প্রাপ্তা মহিলার) বিয়ে আপনার সঙ্গে দিয়ে দিলাম, যাতে মু’মিনদের জন্য তাদের পালক পুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে কোন প্রকার সংকীর্ণতা না থাকে, যখন তাদের উপর থেকে তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। আর আল্লাহর হুকুম তো কার্যকর হয়েই থাকে"(33:37)।
সুধী পাঠক, উক্ত আয়াতে বলা হচ্ছে-"আপনি যার প্রতি দয়া করেছিলেন"। এর অর্থ হল- যায়িদ (রা)- কে নবী (স) লালন-পালন করেছিলেন, তাকে দাসত্ব হতে মুক্ত করেছিলেন, তার বিয়ে দিয়েছিলেন এবং সংসার করার জন্য যাবতীয় উপকরণ দিয়েছিলেন। পাঠকগণ, আর বাকিটা তো উক্ত আয়াতের যে প্রসঙ্গ দেখিয়েছি, তা তো পরিষ্কার!! তাই না??
এবার সেই নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রশ্ন করতে চাই যে, এখানে কোথায় নবী (স) যায়নাব (রা)- কে বিয়ে করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন?? নবী (স) তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, না এ বিয়ে থেকে দূরে যেতে চেয়েছিলেন??
এখন প্রশ্ন হবে- আল্লাহ কেন চেয়েছিলেন নবী (স) এবং যায়নাব (রা)- এর বিয়ে দিতে?? সুধী পাঠক, এ প্রশ্নের কঠিন নয়, এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-
لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا
অনুবাদ হবে এমন-"যেন মু’মিনদের জন্য তাদের পালক পুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে কোন প্রকার সংকীর্ণতা না থাকে, যখন তাদের উপর থেকে তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়"(33:37)। অর্থাৎ যদি আপনার পালক পুত্রও তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, যেন আপনি সেই তালাক প্রাপ্তা নারীকে বিবাহ করতে পারেন। বুঝতে পারলেন??
এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন- এর জন্য নবী (স)- কে দিয়ে বিয়ে করালেন কেন?? শুধু কোরানে নির্দেশ দিয়ে দিলেই তো হত!! এ প্রশ্নের উত্তর কোনও দেওয়া কঠিন বিষয় নয়, তবে একটু ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এই আরকি!! চলুন তাহলে-
1) কোরানের কোন নির্দেশটা নবী (স) পালন করেন নি?? যা কোরানের নির্দেশ, তাই তো নবী (স)- এর জীবন!! কোরানের নির্দেশ এবং নবী (স)- এর জীবনের মধ্যে পার্থক্য কি এবং কোথায়??
2) পালক পুত্রের ব্যাপারটি ছিল গুরুতর। নবুওয়াতের পূর্ব যুগে মানুষ পালক পুত্রকে নিজ পুত্র বলেই গণ্য করত!! নিজ পুত্রের যা যা অধিকার ছিল, পালক পুত্রেরও তাই তাই অধিকার ছিল!! সূরা আহযাবের 4 ও 5 নং আয়াতে বিষয়টি উল্লেখিত হলেও, পালক পুত্র এবং নিজ পুত্রের পার্থক্য তৈরী করার জন্য যয়িদ (রা)- তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছিল জরুরী। এতে নিজ পুত্র এবং পালক পুত্রের মধ্যে বিরাট বড় পার্থক্য সৃষ্টি হল এবং তা এই যে- নিজ পুত্রের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ নিষিদ্ধ কিন্তু পালক পুত্রের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ করা অনুমোদিত!!
পালক পুত্রের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ করার সাহস সেই যুগে কারো ছিল না, এমনকি নবী (স)- ও বিবাহ করতে ভয় পেয়েছিলেন!! তাই শুধুমাত্র কোরানে নির্দেশ দিলেই যে, সবাই তা পালন করত- তা কিন্তু নয় মোটেও!! এ জন্যেই নবী (স)- কে দিয়ে বিবাহ করান টা ছিল জরুরী। বুঝলেন নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী ভাই??
যাইহোক সিরাজুল ভাই, উত্তর পেয়ে গেছেন মনে হয়!! হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন যে আমি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি আর শারীরিক ভাবেও!! আসলে এমন ভাবে প্রতারিত হয়েছি যে, ভেঙে পড়ারই তো কথা!! হ্যাঁ, আজ প্রায় 40 দিন হল প্রতারণার শিকার হয়েছি অর্থাৎ গত মাসের অর্থাৎ 13.10.19 তারিখে প্রতারিত হয়েছি কিন্তু তা বুঝতে পেরেছি সম্ভবত 20.10.19 তারিখে এবং Confirm হয়েছি সম্ভবত 22.10.19 এ। সেই থেকেই প্রায় খাওয়া-দাওয়া উঠে গেছে এবং তার সঙ্গে ঘুমও!!
তবে, নিজেকে মানসিক ডাক্তার দেখাচ্ছি এবং ঔষধও খাচ্ছি নিয়মিত। ঔষধ গুলো হল- সকালে কিছু খাবার পর Mankind এর Placida এবং রাতে খাবার পর Tryptomer- 25 mg একটি করে। ঔষধ গুলো খাবার পর 'একা একা বকাটা' কমে গেছে। কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল, সেটা কমে গেছে। ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছিল, সেটা কমে গেছে। ঘর থেকে বাইরে বের হতে ভয় লাগছিল, সেটা কমে গেছে। আগে ঘুমাতে গিয়ে চোখ বন্ধ করলেই হানীর ছবি চোখে ভেসে উঠত এবং বুখ ধড়ফড় করে ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল, এখন এটাও কমে গেছে এবং সারাদিনে 2-3 ঘন্টা ঘুমাতে পারছি কিন্তু খিদে একেবারেই নেই!! সারাদিন কিছু না খেলেও খিদে লাগছে না!!
যাইহোক, এত দূরে বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও যে আমার খোঁজ রেখেছেন- এটাই বড় কথা অথচ যার খোঁজ রাখা উচিৎ ছিল, সে খোঁজ রাখে নি!! হ্যাঁ, হানীকে এবং আল্লাহকে বলছি!! আল্লাহ, হানী না হলে আমাকে ভুলে গেছে ফর্সা Boyfriend পেয়ে কিন্তু আপনিও আমাকে ভুলে গেছেন??
জানেন ভাই, আজ ফ্ল্যাটে গিয়েছিলাম!! গিয়ে দেখি সুন্দর ভাবে সাজানো-গোছানো অবস্থায় ফ্ল্যাটটা পড়ে রয়েছে, যার জন্য এত সুন্দর করে সাজালাম, জানি না আজ কোথায় এবং কার সঙ্গে ব্যাস্ত!! কার সঙ্গে আবার?? School life এর সেই ফর্সা Boyfriend এর সঙ্গে!!
যেতে একটা Broker এর সঙ্গে দেখা হল এবং বলল- হাতে একটা ভাড়াটিয়া আছে, আপনার ফ্ল্যাটটা ভাড়ায় দেবেন, মাসে 6000/- ভাড়া পাইয়ে দেব?? আমি বললাম না গো ভাই, এটা এত সুন্দর করে সাজিয়েছি আমি, হানী এবং আমার ছোট বোন থাকব বলে, এজন্য ভাড়ায় দেব না!! আমার কথা শুনে Broker টা বলল- আমি আপনার মত পাগল দেখি নি, বছরে 72,000/- ভাড়া পাবেন, তাও ভাড়ায় দেবেন না?? বললাম- হ্যাঁ রে ভাই, আমি পাগলই তো!! তা না হলে কেউ প্রতি বছর 72,000/- ছেড়ে দেয়, যেখানে ভারতের বেশিরভাগ ভাগ মানুষ দিনে মাথা পিছু 33/- রোজগার করে!! তাকে বললাম- কখনও কাউকে পাগলের মত প্রেম করেছেন?? বলেছে- না। তাকে বললাম- তাহলে আপনি বুঝবেন না, কেন ভাড়ায় দিচ্ছি না!! বলতে বলতে আমার Sun glass এর ফাঁক দিয়ে পানি বেরিয়ে পড়েছে, এটা দেখে লোকটা বলছে- কে সেই ভাগ্যবান মহিলা?? তাকে বললাম- হ্যাঁ, সেই মহিলা খুব ভাগ্যবান বটে কিন্তু আমি অভাগা!!
কথা বলতে বলতে আমার কথা তখন এবার জড়িয়ে যাচ্ছিল, তখন বুঝতে পারছিলাম যে, এবার আমি জোরে কেঁদে ফেলব হয়ত। তখন- আসছি বলে, চলে এলাম!!
হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম!! জানেন, ফ্ল্যাটে গিয়ে পুরান স্মৃতি গুলো মনে পড়ছিল। মনে পড়ার কথা তো!! আসলে হানীর অস্তিত্ব তো এখন স্মৃতিতেই। হ্যাঁ, হানী এবং আমার ছোট বোন সাহেনারা গিয়েছিল ফ্ল্যাটে!! সব কথা গুলো মনে পড়ছিল আজ!! মনে পড়ছিল যে- হানী এখানে দাঁড়িয়ে ছিল, ওখানে দাঁড়িয়ে ছিল, Building এর ছাদে উঠেছিল, এখানে যাচ্ছিল, ওখানে যাচ্ছিল এবং আমার বোনের সঙ্গে Selfie তুলছিল, কত খুশি ছিল হানী!! কিন্তু ফর্সা Boyfriend পেয়ে সব ভুলে গেল!! আসলে আমার সঙ্গে এমনই হওয়া উচিৎ!! সব সময়, সারাজীবন আমার সঙ্গে এমনই তো এতদিন হয়ে আসছে!! আল্লাহ, এখন মনে হয় আপনি খুব খুশি হয়ে ছেন?? হ্যাঁ আল্লাহ, আমার ভাগ্যে আপনিও হাসুন!!
ভাই, জানেন কি কি করেছিলাম?? ফ্ল্যাটে সব জিনিস 3 টি করে কিনে রেখেছিলাম!! যেমন- Tooth brush, সাবান, ফ্ল্যাটের ভিতরে ব্যবহারের জুতা, ছাতা, সব কিছু 3 টি করে কিনে ছিলাম। আমার, হানীর এবং ছোট বোনের জন্য!! কারণ, ভেবেছিলাম- বড় বোনের বিয়ে দিলে আমরা 3 জনই তো থাকব, আমি এবং হানী ও আমার ছোট বোন!! এখন ভাবছি- 1 টা করে সব জিনিস ফেলে দিতে হবে এবং আর হয়ত ফ্ল্যাটে থাকাও হবে না!! রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় রাত-দিন করে খুব কষ্ট করে ফ্ল্যাট সাজিয়ে ছিলাম, কিন্তু!! আজ মনে হচ্ছে- আগামীকাল আর আসবে না......!!
সুধী পাঠক, আপনি কি জানতে চাইবেন না, বাইবেলে নবী (স) সম্পর্কে কি বলা হয়েছে?? জানতে চাইলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=713404892377844&id=544853392566329
সুধী পাঠক, যদি 'কোরান ও বিজ্ঞান বিষয়ক' লেখা গুলো পড়তে চান, তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে পড়তে পারেন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=962223637495967&id=544853392566329
আল্লাহ জানেন, সারাজীবন কি আমার সঙ্গে এই রকমই হবে?? আমি কখনও কারোর কাছে প্রিয় হতে পারলাম না!! আর, যে আমাকে নিজে হাতে খাইয়ে না দিয়ে নিজে খেত না, তাকে আপনি আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন?? সে হল আমার- মা!! দু-বোন আছে, এদেরও বিয়ে হয়ে যাবে!! তখন?? তখন কি হবে??গোটা পৃথিবীতে আমি একা হয়ে যাব!!
বেশ সুন্দর একটা হিন্দি গান মনে পড়েছে!! চলুন না কয়েক লাইন হিন্দিতে লিখি!! বহু দিন হল হিন্দি লেখা ছেড়ে দিয়েছি!! সেই 13.2.19 তারিখের আগে যখন হানীকে Massage করতাম, তখন হিন্দি লিখতাম। ईसलिए चालिए, कुछ लाइन लिखने की कोशिश करते हैं-
हम उनसे मोहब्बत करके
दिन रात सनम रोते हैं
मेरी नींद गयी मेरा चैन गया
और चैन से वो सोते हैं
दिल को धडकना तुम्ही ने सिखाया
मुझे तेरी चाहत ने पागल बनाया
ईयै गाना कोई दुःख के गाना नही है, लेकिन ईयै रोमांटिक गाना है। लेकिन आज ये गाना हम पर फिट बैठता है।
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।
x

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: