4:59 আয়াত, মাযহাবের দলিল ও কুরানী বিশ্লেষণ

 




    কোরানে না কি মাযহাবের  দলিল আছে!! সত্যি‌ই কি আছে?? কিন্তু  কোরানে  যদি  মাযহাবের দলিল থেকেই থাকে, তাহলে  নবী (স) মাযহাব   মেনে   চলতে   নিষেধ করলেন কেন?? তাহলে  কি নবী (স) কোরান আমাদের চেয়ে কম বুঝতেন??


   প্রশ্ন  হবে  এবং  হতেই  পারে- ক‌ই, কোথায়  নবী  (স) মাযহাব মেনে চলতে নিষেধ করেছেন?? এ প্রশ্নের উত্তর কি খুব কঠিন?? কঠিন  হলেও  হোসেন  কুরানীর কাছে তো কঠিন হতেই পারে না!! কেননা, লোকে বলে থাকে-যেখানে হোসেন কুরানী থাকে, সেখানে কঠিন বলে কিছু থাকে না!! যাইহোক, তাহলে  নবী (স) কোথায়  মাযহাব মেনে  চলতে  নিষেধ  করেছেন?? হাদীস নং  বলে দিলে হবে, না কি ব‍্যাখ‍্যা সহ  দেখবেন?? Link দিচ্ছি, Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=954723491579315&id=544853392566329


   তাহলে দেখলেন কি যে, নবী (স) মাযহাব মেনে চলতে নিষেধ   করেছেন?? হ‍্যাঁ, বিশ্বনবী   (স)   মাযহাব   মেনে চলতে  নিষেধ  করেছেন!! তাহলে  প্রশ্ন হল- মাযহাবীরা কোরান  থেকে  মাযহাবের   যেনে   চলার   দলিল   পায় কিভাবে?? দলিল   কিভাবে   পায়, দলিল  কি- তা  পরে আলোচনা করছি!!


   এখন  আলোচনা‌র   বিষয়  হল- যার  উপরে  কোরান নাযিল হল, তিনি  কোরানে মাযহাবের দলিল পেলেন না এবং   মাযহাব   মেনে   চলতে   নিষেধ   করলেন  অথচ আপনি মাযহাব মেনেও চলছেন এবং কোরানে দলিল‌ও পেয়ে  গেলেন!! নিশ্চয়  আপনি   বিশ্বনবী  মহাম্মদ (স)- এর  চেয়ে  বড়   নবী   হবেন, তাই  না?? তো  ভাই, কবে নবুওয়াত   পেলেন?? নবুওয়াত  পেলেন  অথচ  আমরা জানতেই  পারলাম  না!! আপনি  কি  গুপ্ত  নবী?? বলা যায় না, হতেও  পারে  কিন্তু  নবী  কিভাবে হলেন?? এই  বিষয়ে আল্লাহ কোরানে বলেছেন এভাবে, যেভাবে নিচে উদ্ধৃতি   রয়েছে-   وَلَٰكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ  অনুবাদ

অনুবাদ  হবে  এমন-"তিনি [মহাম্মদ সঃ] একজন রাসুল এবং নবীদের শেষ নবী"(33:40)।


   যদি মহাম্মদ (স) শেষ  নবী হন এবং আপনি যদি নবী (স)- এর  চেয়ে  বড়  নবী  না  হন, তাহলে  নবী (স)- এর চেয়ে বেশি বুঝলেন কিভাবে?? এ  প্রশ্নের  উত্তর দেবেন বলে আশা রাখলাম!!


   সুধী  পাঠক, এবার  আমরা   মাযহাবীদের  মাযহাবের দলিল‌টা দেখব  এবং পরে  তার কুরানী  বিশ্লেষণ করব- ইনশাআল্লাহ। সুতরাং প্রথমে  তাদের  দলিল‌টা  একবার দেখে নিন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ

অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের  অনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা أُولِي الْأَمْرِ [উলিল আমরিন] তাদের‌ও"(4:59)।


   মাযহাবীরা  উক্ত  আয়াতকে   দেখিয়ে  বলে- এই  তো এখানে আল্লাহ ও তার  রাসুল ছাড়াও أُولِي الْأَمْرِ (উলিল আমরিন) দের অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে। তাহলে কেন ইমাম  আবু   হানীফা  (রঃ 80-150  হিজরী), জন্ম স্থান- কূফা, মৃত্যু-    বাগদাদ।  ইমাম    মালিক   (রঃ  93-179 হিজরী), জন্ম স্থান- মদীনার উত্তরে ‘যুলমারওয়া’ নামক স্থানে, মৃত্যু-   মদীনা।   ইমাম   শাফেঈ   (রঃ   159-204 হিজরী), জন্ম  স্থান-  সিরিয়ার    গাযা   এলাকায়, মৃত্যু- মিসর। ইমাম  আহমাদ  বিন  হাম্বল (রঃ 164-241 হিঃ), জন্মস্থান  এবং মৃত্যু- বাগদাদ। ইমামদের অনুসরণ করা যাবে না??


   তাদের এই  প্রশ্নের  উত্তর  একটু  কঠিন  কিন্তু  চিন্তার কিছু  নেই, হোসেন  কুরানী  আছে। এ  জন্য  উত্তর খুব‌ই সহজ!! দেখুন-

1) উক্ত আয়াতে  আল্লাহ  ও তার রাসুল ছাড়া أُولِي الْأَمْرِ (উলিল আমরিন) দের   অনুসরণ  করতে  বলা  হয়  নি। বলা  হচ্ছে-"হে ইমানদারগণ, তোমরা   আল্লাহ   ও  তার রাসুলের  অনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা أُولِي الْأَمْرِ [উলিল আমরিন] তাদের‌ও"(4:59)।


2) উক্ত  আয়াতে أُولِي الْأَمْرِ (উলিল  আমরিন) মানে  কি ইমামদের  অনুসরণ  করতে  বলা হয়েছে?? যদি বলেন- হ‍্যাঁ, তাহলে  বলব- أُولِي الْأَمْرِ  (উলিল  আমরিন)  কথার অর্থ   কি?? أُولِي  الْأَمْرِ  কথার  অর্থ   হল-"যিনি  নির্দেশ দাতা"। তাহলে এখানে আপনি "ইমাম" ধরছেন কেন??


3) আর  যদি أُولِي الْأَمْرِ কথার  অর্থ   ইমাম  হয়, তাহলে মুসলিম  জাতির  কাছে  কি  শুধুমাত্র 4 জন ইমাম এসে ছিলেন?? উত্তর  হল- না। তাহলে  শুধুমাত্র 4 জন ইমাম ধরেন কেন?? বাকি ইমাম গুলো কি দোষ করল??


4) উক্ত  আয়াতে  যদি أُولِي الْأَمْرِ মানে যদি 4 জন ইমাম হয়ে  থাকে, তাহলে  1  জন  ইমাম‌কে   অনুসরণ  করেন কেন?? 4 জন  নয়  কেন?? বাকি 3 জন  কি দোষ করে ছিল??


5) যদি  বলেন- 1 জন  ইমাম  মেনে  চললেই  হয়ে যাবে, তাহলে  বাকি  3  জনের   প্রয়োজন  কোথায়?? বাকি 3 জন কি ভুল??


6) যদি  বলেন- 4 জন‌ই  সঠিক, তাহলে   আপনি   আবু হানীফা (র)- কে  ছেড়ে  শাফেঈ (রা)- কে মেনে নিন তো দেখি  বা  শাফেঈ (রা)- কে ছেড়ে  আবু হানীফা (র)- কে মেনে নিন তো দেখি!!


7) যদি  তা   করতে   না   পারেন, তাহলে  4   ইমাম‌কেই সঠিক বলেন কোন মুখে??


8) আর যদি 4 মাযহাব‌কেই সঠিক বলেন, তাহলে ইমাম আবু  হানীফা (রা)- এর  মাযহাবের পর বাকি 3 মাযহাব তৈরী  হল  কেন?? নিশ্চয়  বাকি  3  মাযহাব ইমাম আবু হানীফা (রা)- এর মাযহাবের মধ্যে ভুল পেয়েছিল??


9) যদি  ইমাম  আবু  হানীফা (রা)- এর  মাযহাব  সঠিক হত, তাহলে বাকি 3 মাযহাব তৈরী হল কেন??


10) উক্ত  আয়াতে  أُولِي الْأَمْرِ  কথার  অর্থ  যদি  নির্দেশ দাতা  হয়ে  থাকে, তাহলে  أُولِي الْأَمْرِ  এর   মানে  রাষ্ট্রীয় প্রশাসক  নয়  কেন?? অন্তত  কোরান-হাদীস  মুতাবিক চলা রাষ্ট্রের  রাষ্ট্রীয় প্রশাসক তো أُولِي الْأَمْرِ হতেই পারে, তাই না?? কারণ, তিনি তো নির্দেশ দাতাই!!


11) যদি   উক্ত   আয়াতের   أُولِي الْأَمْرِ  মানে  ইমামদের ধরেও  নিই, তবুও  আল্লাহ  ও তার রাসুল সহ ইমামদের অনুসরণ  করতে  বলা  হয়েছে  অর্থাৎ  আল্লাহ  ও  তার রাসুল বাদ দিয়ে ইমামদের অনুসরণ নয়, তাই না??


12) যদি  তাই  হয়, তাহলে  ইমামদের  কথা   আল্লাহ ও তার রাসুলের বিপক্ষে  যেতে পারে না, তাই তো?? কিন্তু যদি  ইমামদের  কোনও  কথা  আল্লাহ  ও তার রাসুলের সহীহ হাদীসের বিপক্ষে যায, তখন??


13) এখন  যদি  বলেন- আল্লাহ কোরানে যা বলেছেন ও তার রাসুল সহীহ হাদীসে যা বলেছেন/ করেছেন অথবা নিষেধ   করেছেন   বা   সমর্থন  করেছেন, ইমামরা  তাই বলেছেন!! তাহলে ইমামদের মেনে লাভ কি?? সরা-সরি আল্লাহ ও তার রাসুলকে মেনে চললেই তো হল!!


14) আচ্ছা  চলুন, ধরে  নিচ্ছি যে, أُولِي الْأَمْرِ মানে ইমাম বা 4 ইমাম কিন্তু  উক্ত 4:59 আয়াতে কি ইমাম বা ইমাম দের  মেনে  চলতে   বলা   হয়েছে?? আমার  Business প্রায় 4 কোটি  টাকার, আমি আপনাকে 4 কোটি টাকার Challenge  করছি!! যদি  আপনি   প্রমাণ   করে  দিতে পারেন  যে, 4:59  আয়াতে   ইমাম   বা  ইমাম‌দের  মেনে চলতে   বলা   হয়েছে, তাহলে   আমার  4   কোটি  টাকা আপনার!! কি  বলছেন  বলুন?? বড় লোক হ‌ওয়ার এর চেয়ে সহজ উপায় আর নেই!!


   যদি বলেন- এত কম টাকা নেব না, তাহলে আপনাকে দ্বিতীয়  Option  দিতে  পারি  এবং  তা হল- আমি এবং আমার   সঙ্গীরা   আপনাকে  আপনার  ওজনের  সমান পরিমাণ ₹ 100/- উপহার দেব- ইনশাআল্লাহ!! আর কি চান??


   যদি  প্রমাণ  করতে  না  পারেন, তাহলে আমাকে মাত্র 10 লক্ষ টাকা দিতে হবে। রাজি আছেন?? আচ্ছা চলুন, আমাকে  টাকা  দিতে  হবে  না। এমনিতেই  প্রমাণ  করে দিচ্ছি যে, উক্ত 4:59 আয়াতে  ইমাম বা  ইমাম‌দের মেনে চলতে  বলা  হয়  নি  বরং ইমাম বা ইমাম‌দের ছেড়ে শুধু মাত্র   আল্লাহ  এবং  তার  রাসুলকেই  মেনে চলতে বলা হয়েছে। এবার সম্পূর্ণ আয়াতটি দেখুন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ ۖ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا

অনুবাদ   হবে  এমন-"হে   ঈমানদারগণ, অনুসরণ   কর আল্লাহ  ও  তার  রাসুলের  এবং  তোমাদের  মধ্যে  যারা أُولِي الْأَمْرِ [উলিল  আমরিন] তাদের‌ও। পরে  যদি  নিজে দের মধ্যে কোন‌ও  মত-পার্থক্য দেখা দেয়, তাহলে ফিরে এস আল্লাহ‌ এবং রাসুলের  দিকে, যদি  তোমরা যথার্থই আল্লাহ‌ ও  শেষ  দিনে  বিশ্বাসী  হ‌ও!! এটাই  ভাল  এবং  পরিনামে উৎকৃষ্ট"(4:59)।


   সুধী পাঠক, উক্ত  আয়াতটি  পড়ার  পর  আমার মনে কিছু প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো  করি। আর  এই প্রশ্ন‌ই উত্তর হ‌ওয়ার জন্য যথেষ্ট। দেখুন-

ক) ইমাম  বা  ইমামদের  মেনে   চলতে  বলা  হল, না কি ইমাম বা ইমামদের নিয়ে মত-পার্থক্য হলে, তাদের ছেড়ে আল্লাহ‌ এবং রাসুলের দিকে ফিরে আসতে বলা হল??


খ) বর্তমানে ইমাম বা ইমামদের নিয়ে আমাদের সমাজে 

মত-পার্থক্য আছে, না নেই?? তাহলে আমাদের কি করা উচিৎ??


গ) উক্ত আয়াতে আল্লাহ‌  ও  শেষ দিনে বিশ্বাসী হ‌ওয়ার জন্য কি করতে বলা হয়েছে??


ঘ) কোন কাজটাকে 'ভাল  এবং  পরিনামে উৎকৃষ্ট' বলা হয়েছে??


   সুধী পাঠক, উপরিউক্ত  4 টি  প্রশ্নের  উত্তর  আপনার থেকে  আশা  করছি  এবং  শুরুতে  মাযহাবীকে  একটা প্রশ্ন   করেছিলাম, সেটার   উত্তর   তার   থেকেই   আশা করছি!!


   পাঠক, এবার  একটা  ঘটনা   শোনাতে  চাই। শুনবেন তো?? না, না, আমার  অতীত   জীবন   সম্পর্কিত  সেই মহিলার কাহিনী নয়, এক  আলেমের কাহিনী!! একবার এক  আলেমের   সঙ্গে   খুব   তর্কা-তর্কি  হচ্ছিল। তাকে উপরিউক্ত লেখাটা  পুরোটা  তুলে ধরলাম। সে সব ভাল ভাবে   বুঝল। বোঝার   পর  বলল- আপনার  সব  কথা মেনে  নিচ্ছি  কিন্তু  আমার  একটা   প্রশ্নের  উত্তর  দিতে পারলে আমি মাযহাব ছেড়ে দেব!!


   তাকে বললাম- সত‍্যি  সত‍্যি‌ই ছাড়তে হবে!! সে বলল- ওয়াদা  করছি!! আমি  বললাম- প্রশ্ন  করুন। সে বলল- যদি أُولِي الْأَمْرِ (উলিল  আমরিন) দের  ছেড়ে  আল্লাহ ও রাসুলকেই  মেনে  চলতে   বলা   হচ্ছে, তাহলে أُولِي الْأَمْرِ (উলিল আমরিন) দের কথা আনলেন‌ই কেন??


   তাকে  বললাম- أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ  আয়াতটি কোরানে কতবার আছে জানেন?? বলল- না। আমি এই আয়াতটি আছে- 3:31,  3:32, 3:132, 4:59, 5:92, 8:1, 8:20,  8:46,  19:54,  19:56,   33:33,  33:71,  36:20, 47:33, 58:13, 64:12 তে  অর্থাৎ  প্রায় 16 টি আয়াতে। এর মধ্যে মাত্র 1 টি আয়াতে বলা হয়েছে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ

অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের  অনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা أُولِي الْأَمْرِ [উলিল আমরিন] তাদের‌ও"(4:59)। আর এটা কেন  বলা  হয়েছে  জানেন?? এটা  এ জন্য বলা হয়েছে যে, রাসুলের  সমস্ত  হাদীস  গুলো  লিখিত  অবস্থায়  না পাওয়া  পর্যন্ত  জ্ঞানী  ও  হাদীস  বিশারদ‌দের  অনুসরণ করি। তারপর সমস্ত  হাদীস  লিখিত  অবস্থায়  পাওয়ার পর হবে শুধুমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের অনুসরণ!!


   প্রশ্ন হবে- তাহলে কি এখন 4:59  আয়াতের প্রয়োজন শেষ   হয়ে   গেছে?? না, মোটেও   নয়। উক্ত   আয়াতের প্রয়োজন মোটেও শেষ  হয় নি। দাঁড়ান  একটা উদাহরণ দিই, হ‍্যাঁ?? ধরুন, কেউ   প্রশ্ন   করল- কোরানে   আল্লাহ বলেছেন-  لَهُ كُنْ فَيَكُونُ  অনুবাদ  হবে  এমন-"তিনি  হ‌ও বললেই  হয়ে  যায়"(3:59, 6:73)। তাহলে  প্রশ্ন হল- হ‌ও বললে  যদি হয়ে যায়, তাহলে মহাবিশ্ব তৈরী হতে 6 দিন লাগল  কেন?? এ  প্রশ্নের  উত্তর  কি  হবে?? এখন যদি পৃথিবীতে  প্রথমবারের মতো আমি এ প্রশ্নের উত্তর দিই, তাহলে আপনি এই উত্তর গ্ৰহণ করতেন কিভাবে?? যদি 4:59 তে   আল্লাহ  ও  তার  রাসুল  ছাড়া  অন্য  কাউকে অনুসরণ করার  অনুমতি না থাকত!! যাইহোক, তাহলে বুঝতে পারছেন যে, কেন 4:59 আয়াতে وَأُولِي الْأَمْرِ দের

অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে!!


   তবে  যাইহোক, উপরিউক্ত  প্রশ্নের   উত্তর   চান?? যে আল্লাহ হ‌ও বললেই যদি হয়ে যায়, তাহলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে 6 দিন লাগল কেন?? নিচে Link দিলাম---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=990830524635278&id=544853392566329


   পাঠক, এ  পর্যন্ত  আমরা  4:59   আয়াতে  وَأُولِي الْأَمْرِ ব‍্যবহার  করার  2 টো  কারণ দেখিয়েছি। এরপর তৃতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  কারণটা দেখাব- ইনশাআল্লাহ কিন্তু তার  আগে  উক্ত  4:59  আয়াতের  কয়েকটি  English অনুবাদ দেখব। আপনিও দেখুন-


"O  ye  who  believe! Obey   Allah, and  obey  the messenger    and   those   of   you   who   are  in authority; and  if  ye  have a dispute concerning any  matter, refer  it to Allah and the messenger if  ye  are  (in truth)  believers  in  Allah  and  the Last Day. That is better  and more seemly in the end"(Quran- 4:59, M. M. Pickthall).


"O you who have  believed, obey Allah and obey the Messenger, and the ones endowed with the command    (i.e. those    in    authority)   among you"(Quran- 4:59, Dr. Ghali).


"O  you  who  believe! Obey  Allah  and obey the Messenger  (Muhammad  SAW), and   those  of you  (Muslims)  who   are  in   authority"(Quran- 4:59, Muhsin khan).


"O you who  have believed, obey Allah and obey the Messenger  and those  in  authority  among you"(Quran- 4:59, Sahih international).


"O you  who  believe! obey  Allah  and  obey  the Messenger  and those in authority from among you"(Quran- 4:59, Shakir).


"O  ye  who  believe! Obey   Allah, and  obey  the Messenger, and  those  charged  with  authority among you"(Quran- 4:59, A. Yousuf ali).


"You     who     believe,   obey     God     and    the Messenger, and   those   in    authority    among you"(Quran- 4:59, Abdul hallem).


"Believers! Obey Allah and obey the Messenger, and  those  from  among  you  who are invested with authority"(Quran- 4:59, Abul ala moududi).


"O  you  who  believe, obey  Allah  and  obey the Messenger    and   those   in   authority   among you"(Quran- 4:59, Taqi usmani).


"O     believers! Obey     Allah     and    obey    the Messenger   and    those   in   authority   among you"(Quran- 4:59, Dr. Mustofa khattab).


   সুধী  পাঠক, আমরা   শুধুমাত্র M. M. Pickthall  এর English  অনুবাদে‌র  4:59  আয়াতটি  পুরোটা   উদ্ধৃতি করেছি। আর  বাকি  অনুবাদের  ততটা  উদ্ধৃতি করেছি, যতটা  প্রয়োজন  এখানে। যাইহোক জানেন, উপরিউক্ত 4:59  আয়াতের  English   অনুবাদের   বঙ্গানুবাদ   কি হবে??    দেখবেন??    দেখুন-"হে   বিশ্বাসীরা,   তোমরা অনুসরণ কর আল্লাহ  ও  তার রাসুলের  এবং তাদের‌ও, যারা   أُولِي الْأَمْرِ   [উলিল   আমরিন]  অর্থাৎ  তোমাদের উপর কর্তৃত্ব করবে, কর্তৃত্বকারি, আইন সম্মত শাসক বা রাষ্ট্রীয় প্রশাসক ইত‍্যাদি"(4:59)।


   পাঠক, উক্ত English  translation এবং  তার বাংলা অনুবাদ দেখে কি বুঝলেন?? বোঝেন নি?? হায় আল্লাহ গো!! আপনাকে   বোঝানোর   জন্য   10   টা  English  translation  পেশ  করলাম, তাও  বোঝেন  নি?? চলুন অনেক হয়েছে, আর বুঝতে হবে না, আমি বলছি!! উক্ত 4:59 আয়াতে   বলা   হচ্ছে- কোরান-সহীহ   হাদীস  সহ তোমাদের শাসক যে  নির্দেশ দেবে, তা অনুসরণ করবে। বুঝলেন??


   এখন ভারতের  প্রসঙ্গে একটা  প্রশ্ন উঠবে- তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী  মোদীর  নির্দেশ‌ও  মেনে   চলতে  হবে?? এই প্রশ্নের  উত্তর  হল- হ‍্যাঁ, মেনে  চলতে   হবে। এবার   প্রশ্ন হবে- যদি  হারাম  কাজ   করতে   বাধ্য   করে?? তাহলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ ছাড়া দ্বিতীয় কোনও পথ নেই!! যাইহোক, "রাষ্ট্রীয়  পরিকাঠামো, রাষ্ট্র  পরিচালনা ও  ইসলাম" বিষয়ে   পরবর্তীতে    বিস্তারিত   আলোচনা  করব- ইনশাআল্লাহ!!


   সুধী পাঠক, আপনি  কি  বিজ্ঞানের  সাহায্যে  কোরান বুঝতে  চান, তাহলে  নিচে  Link  দিচ্ছি, Link  এ  Click করে পড়ুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1046074349110895&id=544853392566329


   আচ্ছা হ‍্যাঁ, সেই  আলেমের   কথা  তো  বলতে  ভুলেই গিয়েছিলাম!! সে  আমার  ব‍্যাখ‍্যা‌য়  শুধুমাত্র  সন্তুষ্ট  নয় বরং  অবাক!! তিনি বললেন- أُولِي الْأَمْرِ এর ব‍্যাখ‍্যা এত সুন্দর  ও  আধুনিক, তা   কখনও  ভাবিই   নি!! তারপর তাকে   বললাম- একবার   ভেবে   দেখুন, যদি أُولِي الْأَمْرِ এর  ব‍্যাখ‍্যা  যে  কোনও  শাসক  না  হয়, তাহলে ভারতে বস-বাসের  দরুন  আপনার  তো  গুনাহ  হত, তাই না?? কিন্তু উক্ত  আয়াতের  জন‍্যেই  কোরান  ও  সহীহ হাদীস সহ  আমরা  যে কোনও  রাষ্ট্রে  বস-বাস  করতে  পারছি সেখানের  শাসন  মেনে!! তখন  সেই আলেম বলল- হ‍্যাঁ তাই তো!!


   সুধী পাঠক, এবার আপনাকে একটা আয়াত দেখাতে চাই। আয়াতটি   দেখুন-  الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ  অনুবাদ হবে এমন-"আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন সম্পূর্ণ করলাম"(5:3)। তার  মানে  দ্বীন  ইসলাম   সম্পূর্ণ  এবং নবী (স)- এর   যুগে   সম্পূর্ণ, তাই   তো?? এখানে   যদি আপনার   উত্তর   হয়- হ‍্যাঁ। তাহলে   আমার  প্রশ্ন- কোন অপূর্ণ‌তার  কারণে  মাযহাব   মেনে  চলতে  হবে?? আর যদি  আপনি  মাযহাব মানেন, তাহলে কি আপনি মানেন যে, ইসলাম  পরিপূর্ণ  নয়?? যদি  বলেন- মাযহাব  দ্বারা ইসলাম  পরিপূর্ণ  করতে হবে, তাহলে কি 5:3 আয়াতটি ভুল?? যদি বলেন- আয়াতটি ভুল নয়। তাহলে প্রশ্ন সেই এক‌ই- তাহলে মাযহাব মেনে চলতে হবে কেন??


   সুধী   পাঠক, প্রতিটা   মাযহাবীর   জন্য   আমার  এই লেখায় 2 টি  প্রশ্ন  র‌ইল। প্রথম  প্রশ্নটা একেবারে উপরে এবং দ্বিতীয়  প্রশ্নটা এই  সামান্য  উপরে!! উত্তরের জন্য অপেক্ষা করব, যদি কোন‌ও  সাহসী  ব‍্যাক্তি  পাই!! তবে ঐ আলেম সাহসী  ছিল, সে বলল- ইসলাম সম্পূর্ণ, তাই মাযহাবের কোনও প্রয়োজন নেই!!


   সুধী পাঠক, আর যদি  আপনি  আমার  কোরান এবং বিজ্ঞান বিষয়ক  লেখাগুলো পড়তে চান, তাহলে নিচের Link এ Click করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1104980513220278&id=544853392566329


   জানেন পাঠক, যখন হানী আমার জীবনে ছিল, তখন হানী   প্রায়‌ই   বলত- মাযহাবীরা   4:59  কে  মাযহাবের দলিল হিসাবে  গ্ৰহণ করে, আপনি এ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে  লিখুন। যেন  মানুষ  সঠিকটা  জানতে পারে এবং মাযহাবীদের ভন্ডামী বুঝতে পারে!!


   এ জন্য  মাযহাব  সম্পর্কে  যে Link  একেবারে উপরে দেওয়া  আছে, সেটা  আমিই হানীকে লিখে দিয়েছিলাম এবং  হানী  তার Facebook  id থেকে  Post করেছিল। আর   বলেছিলাম- এখন   এটা  Post   করুন,  পরে  এ বিষয়ে আবারও বিস্তারিত লিখব।


   কিন্তু  আমার  দুর্ভাগ্য  দেখুন- যে  এই লেখাটা লেখার জন্য   আমাকে   উৎসাহিত   করেছিল, সে  আজ  আর আমার জীবনের  বর্তমান নয়, অতীত  ও  স্মৃতি!! হয়ত আমার  এই লেখাটা  সে পড়বে‌ও না!! হয়ত সে জানেও না যে, তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমি পূর্ণ করেছি!!


                                       প্রথম সংস্করণ : 12.09.2020


   আশা  করছি, বোঝাতে  পারলাম  এবং আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন   থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                    © : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...