আয়েশা (রা)- এর বিবাহ সম্পর্কে নাস্তিকদের প্রশ্ন

আয়েশা (রা)- এর  বিবাহ সম্পর্কে নাস্তিকদের প্রশ্ন


Whats app গ্ৰুপে  মিজানুর  রহমান  ভাই  প্রশ্ন  করে বলেছেন- "হোসেন ভাই, নাস্তিকরা *নবী (স)- এর একাধিক বিবাহ এবং 6 বছর  বয়সে  মা আয়েশা (রা)- এর সঙ্গে বিবাহ* বিষয়ে অনেক কিছু বলে!! আর, নবী মহাম্মদ (স) এবং ইসলামের   অবমাননা   করে  ও  অপমানিত  করে। এই বিষয়ে  আমি  নিজেও  কিছু  জানি   কিন্তু  তবুও  আমি আপনার থেকে জানতে চাই"।

   আলহামদুলিল্লাহ, আপনি  ইসলাম  সম্পর্কে সচেতন-  এজন্যই  আপনি  এই বিষয়ে  জ্ঞান রাখেন। এটা অবশ্য জাতির জন্য সুখবর যে, জাতি ইসলাম সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। যাইহোক, আমি  যখন  *বিশ্বনবী (স)- এর 13 টি বিবাহের   কারণ*   বিষয়টি    লিখলাম,   তখন   হানীও বললেন  যে- আমি  যেন "মা  আয়েশার  সঙ্গে  নবী (স)- এর 6 বছরে বিবাহ  ও  9 বছরে বাসর" সম্পর্কে লিখি!! হানীজি  বললেন-"এ বিষয়ে  নাস্তিকরা  অনেক  কটুক্তি করে থাকে"।
   কিছুদিন  আগেই *নবী (স)- এর 13 টি বিবাহ  বিবাহ* সম্পর্কে  নাস্তিকদের  সমস্ত  প্রশ্নের  উত্তর  দিয়েছিলাম।  *বহু প্রশংসিত*   লেখার   লিঙ্কটি   দিলাম, চাইলে ফেসবুকে এই লেখাটি দিয়ে সার্চ করতে পারেন  এবং  লেখাটি পড়ে বিস্মিত হন--👇-
 @বিশ্বনবী মহাম্মদ (স)- এর 13 টি বিবাহের কারন@
https://m.facebook.com/story.php?)}]
   আজ 9.7.19 তারিখ  এবং  এখন রাত 2 টো বাজছে। চোখে  একটুও  ঘুম  নেই। সকাল  6:30 থেকে মন খুবই খারাপ   এবং   সারাদিন  কিছু  খেতে  পারি  নি!! আজ সারাদিনে  পেটে  শুধুমাত্র 2/1 লিটার  পানি  ছাড়া অন্য কিছুই  যায়  নি!! এখন  শুয়ে  আছি, কিন্তু  তবুও  মাথা ঘুরছে!!
   আচ্ছা যাইহোক, এবার আমরা দেখব- মা আয়েশা (রা)- কে নবী (স) কেন বিবাহ করেছিলেন!!
   #উত্তর:::-  @বিশ্বনবী মহাম্মদ (স)- এর 13 টি বিবাহের কারন@
লেখাটি পরলে মা আয়েশা (রা)- কে  বিবাহ  করার   রাজনৈতিক  কারণটি  দেখতে পেতেন। তাই  আমার  মতে- অন্তত  একবার উপরিউক্ত লিঙ্কে ক্লিক করে রাজনৈতিক কারণটি দেখে নেবেন। তা হলে এই লেখায় রাজনৈতিক কারণটি বুঝতে পারবেন।
   গোটা বিষয়টিকে গভীর ভাবে  বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা  যাবে  যে- মা আয়েশা (রা)- কে নবী (স) আল্লাহর নির্দেশে  বিবাহ করেছিলেন, এবং নির্দেশটি বুখারীতে এ ভাবে এসেছে-
"আয়েশা  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন  যে, নবী  (স) বলেছেন- দুই   দুইবার   আমাকে   স্বপ্নযোগে   তোমাকে দেখানো  হয়েছে। এক ব‍্যাক্তি  তোমাকে  রেশমী  কাপড় পরিহিতা  অবস্থায়  নিয়ে  যাচ্ছিল  এবং  আমাকে লক্ষ্য করে   বলছিল  যে, এ  হল   আপনার   স্ত্রী। আমি  তখন কাপড় উন্মুক্ত করে দেখলাম যে, তুমি। তখন আমি মনে মনে বললাম যে, এই স্বপ্ন যদি  আল্লাহর পক্ষ হতে হয়েই থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই তা সত‍্যে পরিণত করবেনই করবেন"(বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস 4708)।
 যাইহোক,  এখন প্রশ্ন হল-"কেন আল্লাহ চাইলেন যে, নবী (স) মা আয়েশা (রা)- কে বিবাহ করুক"?? অথবা "কেন আল্লাহ নবী (স) কে নির্দেশ  দিয়েছিলেন   মা   আয়েশা (রা)- কে   বিবাহ করতে"??
   এ প্রশ্নের  উত্তর  অনেক  বড়  হলেও  খুব সুন্দর উত্তর হবে  ইনশাআল্লাহ। তাই  প্রথমেই  এই  আয়াতটি  গুলো দেখে নিন-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
অনুবাদ হবে এমন-"আসলে  তোমাদের  জন্য  আল্লাহর রাসুলের মধ্যে ছিল একটি উত্তম আদর্শ- এমন  প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে, আল্লাহ‌ ও শেষ দিনের আকাঙ্ক্ষী এবং বেশি  করে   আল্লাহকে  স্মরণ  করে"(33:21)। এখানেই কি শেষ?? নিচের আয়াত গুলিও দেখুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ
অনুবাদ হবে এমন-"হে   ইমানদারগণ!! তোমরা  আল্লাহ এবং  তার  রাসুলের (সর্বত্র ভাবে) অনুসরণ কর"(4:59, 4:13,  3:31,  3:132,  5:92,  8:1,  8:20,  8:46, 24:54, 24:56, 33:33, 33:71, 47:33, 58:13,  64:12,  3:32)।  আরও দেখুন-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا
অনুবাদ হবে এমন-"হে নবী!! তোমার  স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মু’মিনদের  নারীদেরকে বলে দিন- তারা  যেন  তাদের চাদরের প্রান্ত  তাদের  ওপর টেনে নেয়। এটি অধিকতর উপযোগী পদ্ধতি, যাতে তাদেরকে  চিনে নেয়া যায় এবং ফলতঃ  তারা  উত‍্যক্ত  হবে  না। আল্লাহ  ক্ষমাশীল এবং করুণাময়"(33:59)। আরও বলা হচ্ছে-
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ ۚ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا
অনুবাদ হবে এমন-"হে  নবীর  স্ত্রীগণ!! তোমরা সাধারণ নারীদের  মত  নও। যদি  তোমরা  আল্লাহকে  ভয়  কর, তাহলে  পুরুষদের  সঙ্গে  কোমল  স্বরে  কথা  বলো  না, যাতে  মনের  গলদে  আক্রান্ত  কোন  ব্যক্তি  প্রলুব্ধ  হয়ে পড়ে,  বরং  পরিষ্কার  সোজা   ও   স্বাভাবিকভাবে  কথা বলবে"(33:32)।
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
অনুবাদ হবে এমন-"নিজেদের  গৃহ  মধ্যে  অবস্থান কর। এবং পূর্বের  জাহেলী  যুগের  মতো  সাজসজ্জা দেখিয়ে বেড়িও  না। নামায   কায়েম   কর,  যাকাত   দাও  এবং আল্লাহ‌   ও   তার  রাসুলের  আনুগত্য  কর। আল্লাহ‌ তো চান,  তোমাদের  নবী  পরিবার  থেকে ময়লা দূর করতে এবং তোমাদের পুরোপুরি পাক-পবিত্র করতে"(33:33)। আর এই শেষ আয়াতটিও দেখে নিন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ ۖ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ ۚ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ۚ ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ ۚ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمًا
অনুবাদ হবে এমন-"হে   ঈমানদারগণ!! নবী  গৃহে  বিনা অনুমতিতে প্রবেশ কর না, খাবার সময়ের অপেক্ষাতেও থেকো না। হ্যাঁ, যদি  তোমাদের  খাবার  জন্য  ডাকা হয়, তাহলে  অবশ্যই  এসো   কিন্তু  খাওয়া  হয়ে  গেলে  চলে যাও, কথাবার্তায়  মশগুল  হয়ে যাবে না। তোমাদের এই সব আচরণ নবীকে  কষ্ট দেয়  কিন্তু  তিনি লজ্জায় কিছু বলেন না এবং আল্লাহ‌ হককথা বলতে লজ্জা করেন না। নবীর  স্ত্রীদের  কাছে  যদি  তোমাদের  কিছু  চাইতে হয়, তবে   পর্দার  পেছন  থেকে  চাও। এটা  তোমাদের  এবং তাদের  মনের  পবিত্রতার  জন্য  বেশী উপযোগী। তোমা দের  জন্য আল্লাহর  রসূলকে কষ্ট  দেয়া মোটেই জায়েয নয়  এবং তার পরে তার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করাও জায়েয নয়, এটা আল্লাহর দৃষ্টিতে মস্তবড় গোনাহ"(33:53)।
   আজ 14.7.19 তারিখ  এবং  এখন রাত 2:30 বাজে। যাইহোক, উপরের
সব  আয়াত গুলো  দেখলেন?? আয়াত গুলো থেকে যা বোঝা  গেল, তা হল- নবী (স)- কে সর্বত্র ভাবে অনুসরণ করতে  হবে। কিন্তু  তাকে  আমরা  সর্বত্র ভাবে অনুসরণ করব  কিভাবে?? তিনি   ঘরের   বাইরে   যে   সর্বজনীন জীবন  কাটান, তা নাহয় জানা যাবে পুরুষ সাহাবা (রা)- দের বর্ণনা থেকে!! কিন্তু  ঘরের মধ্যে সাংসারিক জীবন, বিবাহ  জীবন এবং যৌনজীবন  সম্পর্কে কিভাবে জানা যাবে??
   এখানে অনেকে বলতে পারে- পুরুষ সাহাবা (রা)- দের বর্ণনা  থেকেই  জানা  যাবে!! কিন্তু  এটা হল- মূর্খের মত কমেন্ট!!  কেননা, উপরিউক্ত  33:53 আয়াতে নবী (স)- কে  Privacy  দেওয়ার  কথা  বলা  হয়েছে। তাই, পুরুষ সাহাবা  (রা)- দের  থেকে  নবী মহাম্মদ  (স)- এর  ঘরের মধ‍্যের সাংসারিক জীবন, বিবাহ  জীবন  ও  যৌনজীবন  সম্পর্কে জানার কোনও সুযোগ ছিল না!!
   তাই, প্রয়োজন  ছিল  নবী (স)- এর  স্ত্রী  বা  স্ত্রীগণের। নবী (স)- এর   একাধিক   স্ত্রী   বা   13 টি  বিবাহ করার অন‍্যতম  কারণও  ছিল- নবী  মহাম্মদ  (স)- এর   ঘরের মধ‍্যের সাংসারিক জীবন, বিবাহ  জীবন  ও  যৌনজীবন  সম্পর্কে  জানানো!! যা, উপরের  উল্লেখ করা হয় নি।
   যাইহোক, এ বার  একটি  প্রশ্ন দিয়ে উত্তর শুরু করতে চাই। প্রশ্নটি  হল-"আপনি  কি  জানেন   যে, মা  আয়েশা (রা)  মোট   কত   হাদীস   বর্ণনা  করেছেন"?? না  জানা থাকলে,  জেনে   নিন। মা   আয়েশা   (রা)   হতে   বর্ণিত হাদীসের  সংখ্যা হল- 2210 টি। মা  আয়েশা (রা) হলেন হাদীস  বর্ণনাকারিদের  মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখলকারি। এ বিষয়ে  প্রথম  স্থান  দখল  করে  আছেন- আবু  হুরাইরা (রা)। তার   বর্ণিত    হাদিসের    সংখ্যা    হল- 5374 টি। যাইহোক, এখন   একটি   ছোট্ট   প্রশ্ন-"মা  আয়েশা (রা) হাদীস  বর্ণনাকারিদের  মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করলেন কিভাবে"??
1) আয়েশা (রা)- এর  জন্ম  হয়েছিল  মুসলিম হিসাবেই অর্থাৎ তার  পিতা  আবুবকর (রা)- এর ইসলাম গ্ৰহণের পর। এক কথায়, তার  জন্ম   হয়েছিল  সম্পূর্ণ  ইসলামী পরিবেশে। আর, তিনি মানসিক ভাবেও মুসলিম ছিলেন এবং তার উপরে *মূর্খতার যুগের* যুগের কোনও প্রভাব পড়ে নি।
   বলে  রাখা দরকার যে, নবী (স)- এর অন্য কোনও স্ত্রী মা  আয়েশা (রা)- এর মত  উপরিউক্ত গুণের অধিকারী ছিলেন না!!
2) মা  আয়েশা (রা) তার  জীবনের 9 বছর  বয়স থেকে নবী (স)- এর   সঙ্গে   বসবাস   শুরু  করেন। বলে  রাখা দরকার যে, এ বিষয়েও  নবী (স)- এর  অন্য কোনও স্ত্রী আয়েশা (রা)- এর  মত  এই  গুণের   অধিকারী  ছিলেন না!!
3) মা     আয়েশা    (রা)    ছিলেন    প্রচণ্ড   স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তিনি  নবী (স)- এর  থেকে  যা  শুনতেন, তা সঙ্গে সঙ্গেই  মুখস্থ  করে  নিতে পারতেন। তিনি শুধুমাত্র একজন   মুখস্থকারিই  ছিলেন  না, বরং  তিনি  একজন মুফাসসিরও   ছিলেন। বলে    রাখা   দরকার   যে, এই বিষয়েও নবী (স)- এর  অন‍্যান‍্য স্ত্রীগণের  চেয়ে আয়েশা (রা) ছিলেন ভিন্ন!!
   আজ 15.7.19 তারিখ  এবং  এখন রাত 1:40 বাজে। আজ  রাত 11 টায়  খাওয়ার  পর  ঘুমিয়েছি  এবং রাত 1:30 এ  ঘুম  ভেঙে  গেছে। আজ রাত 2:51 তে আমার অন‍্যতম  প্রিয়  দেশ  ভারতের  মহাকাশ  গবেষণা সংস্থা ISRO চন্দ্রযান-2 নামক যান'কে চন্দ্র অভিযানে পাঠাতে চলেছে  এবং TV তে Live lunching দেখব  বলে ঘুমও আসছে  না!! আসলে   বিজ্ঞানকে    ভালবাসি   তো, ঐ জন‍্য!! বিজ্ঞানকে ভালবাসি, কারণ কোরান বলে-
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ 
অনুবাদ হবে এমন-"মানুষকে প্রভুর পথে আহ্বান করুন বিজ্ঞানময়  ও  যুক্তি-যুক্ত  ভাবে  এবং  লোকদের  সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পদ্ধতিতে"(16:125)।
   হ‍্যাঁ,  বিজ্ঞানকে   *অনেক*   ভালবাসি। আর,  হানীকে তো *অনেকের চেয়ে অনেক বেশি ভালবাসি*।
4) মা আয়েশা  (রা)  ছোট বেলা থেকেই ইসলাম শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। বলে রাখা দরকার যে, এই সুযোগ নবী (স)- এর  অন‍্যান‍্য  স্ত্রীগণ  পান  নি। এ  বিষয়েও মা আয়েশা (রা) ছিলেন ভিন্ন!!
5) মা আয়েশা (রা) শিশু অবস্থা থেকেই ইসলামী জীবন ব‍্যাবস্থা ছাড়া অন্য কিছু শেখার সুযোগ পান নি। কারণ, মা  আয়েশা  9  বছর  বেলা থেকেই  নবী (স)- এর সঙ্গে জীবন-যাপন  শুরু  করেন। বলে  রাখা  দরকার যে, এই বিষয়েও  মা  আয়েশা নবী (স)- এর অন‍্যান‍্য স্ত্রীগণ হতে ভিন্ন!!
6) এককথায়, মা   আয়েশা  (রা)  ছিলেন  সম্পূর্ণ  ভাবে ইসলামে  সমর্পিত। বলে  রাখা  দরকার যে, এ  বিষয়েও মা  আয়েশা  (রা)  ছিলেন  ভিন্ন!! কারণ, নবী  (স)- এর অন‍্যান‍্য  স্ত্রীগণের  কোনও  না  কোনও  *পূর্ব  জীবন  বা অতীত   জীবন*   ছিল। কিন্তু   মা   আয়েশা   (রা)-  এর কোনও  ধরণের  পূর্ব  জীবন  বা অতীত জীবন ছিল না।কেননা, মা আয়েশা (রা)- এর 6 বছর বয়সে বিবাহ হয়ে যায়  এবং  9  বছর  বয়সে  নবী (স)- এর  সঙ্গে  সংসার জীবন  শুরু  করেন। অন‍্যদিকে  নবী  (স)- এর  অন‍্যান‍্য স্ত্রীগণের   *এক  বা  একাধিক*  পূর্ব  স্বামী   ছিল। তাই, তাদের  *জীবনের  বড়  ও  ইসলাম  বিহীন  বা  সংক্ষিপ্ত ইসলাম যুক্ত* অতীত ছিল।
   এগুলোই হয়ত "কারণ" যে, মা আয়েশা (রা) নবী (স)- এর   অন‍্যান‍্য  স্ত্রীগণের  চেয়ে  আলাদা  এবং  2210  টি হাদীস বর্ণনা করার গৌরব অর্জন করেছিলেন!!
   এবার   একটা   ছোট্ট   প্রশ্ন   করতে   চাইছি-"যদি  মা আয়েশা  (রা)- কে  নবী  (স)  6 বছর  বয়সে  বিবাহ  না করতেন  এবং  9  বছর  বয়সে তার সঙ্গে সংসার জীবন শুরু না করতেন, তাহলে  কি  মা আয়েশা (রা) 2210 টি হাদীস   বর্ণনাকারি   হওয়ার    গৌরব    অর্জন   করতে পারতেন"??
   এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হল- না। আরও একটি প্রশ্ন-"মা আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত হাদীস গুলো থেকে আমরা কি কি জানতে পারি"?? মা আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত হাদীস গুলো থেকে আমরা যা জানতে পারি, তা হল-
1) নবী (স)- এর ঘরোয়া জীবন। 
2) নবী (স)- এর ঘরোয়া আধ‍্যাত্মিক জীবন।
3) নবী (স)- এর যৌন জীবন।
4) নবী (স)- এর কৃত তাফসির।
5) নবী (স) সম্পর্কে অন‍্যান‍্য তথ‍্য।
   আরও  একটি  প্রশ্ন-"যদি  নবী  (স)  মা আয়েশা (রা)- কে  6  বছর  বয়সে  বিবাহ  না  করতেন  এবং  9  বছর বয়সে  সংসার  জীবন  শুরু  না  করতেন, তাহলে কি মা আয়েশা  বর্ণিত হাদীস গুলো পেতাম"?? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হন- না, পেতাম না!!
   আবারও  একটি  প্রশ্ন-"যদি  মা  আয়েশা   (রা)   হতে বর্ণিত  হাদীস  গুলো   না   পেতাম, তাহলে   কি   হত?? তাহলে  ইসলাম  অসম্পূর্ণ  থাকত  এবং  এই  আয়াতটি কোরানে  থাকলেও তা, মিথ‍্যায়  পরিণত হত। আয়াতটি হল-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ 
অনুবাদ হবে এমন-"আজ     আমি     তোমাদের     জন্য তোমাদের   দ্বীনকে    পরিপূর্ণ    করে    দিয়েছি, আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য   ইসলামকে   তোমাদের   দ্বীন   হিসেবে   মনোনীত করলাম"(5:3)। এখানেই   কি   শেষ?? মিথ‍্যায়  পরিণত হত এই আয়াত গুলোও-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ
অনুবাদ হবে এমন-"হে   ইমানদারগণ!! তোমরা  আল্লাহ এবং  তার  রাসুলের (সর্বত্র ভাবে) অনুসরণ কর"(4:59, 4:13,  3:31,  3:132,  5:92,  8:1,  8:20,  8:46, 24:54, 24:56, 33:33, 33:71, 47:33, 58:13,  64:12,  3:32)।
   এ  জন‍্যেই আল্লাহ নবী (স)- কে স্বপ্নযোগে এই নির্দেশ দান করেন এবং এ ভাবে নির্দেশটি দেওয়া হয়-
"আয়েশা  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন  যে, নবী  (স) বলেছেন- দুই   দুইবার   আমাকে   স্বপ্নযোগে   তোমাকে দেখানো  হয়েছে। এক ব‍্যাক্তি  তোমাকে  রেশমী  কাপড় পরিহিতা  অবস্থায়  নিয়ে  যাচ্ছিল  এবং  আমাকে লক্ষ্য করে   বলছিল  যে, এ  হল   আপনার   স্ত্রী। আমি  তখন কাপড় উন্মুক্ত করে দেখলাম যে, তুমি। তখন আমি মনে মনে বললাম যে, এই স্বপ্ন যদি  আল্লাহর পক্ষ হতে হয়েই থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই তা সত‍্যে পরিণত করবেনই করবেন"(বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস 4708)।
   যাইহোক, এবার  2:45  বেজে গেছে। তাই এখন লেখা বন্ধ  করছি। কারণ, কিছুক্ষণের  মধ‍্যেই   GSLV   MK-3 চাঁদের  উদেশ‍্যে  যাত্রা  শুরু  করতে  চলেছে। তাই চলুন, এবার TV On করি।
   আজ 16.7.19 তারিখ এবং এখন রাত 12:20 বাজে।  
   এতক্ষণে  জানা  গেল- আল্লাহ কেন  মা আয়েশা (রা)- কে  বিবাহ  করার  নির্দেশ  দিয়েছিলেন  নবী  (স)-  কে। আর, এবার  আমরা   নাস্তিকদের   প্রশ্ন   গুলোর  উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব- ইনশাআল্লাহ। কিন্তু  তার আগে মা আয়েশা (রা)- এর   বিবাহের   বয়স   সম্পর্কিত   হাদীস গুলো দেখে নিন-
"আয়েশা  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন- নবী  মহাম্মদ (স) আমাকে  বিবাহ  করেন  6  বছর   বয়সে  ও  বাসর  হয় 9 বছর বয়সে। আর,  নবী (স)- এর   সঙ্গে    জীবন-যাপন  করি [নবী  সঃ  এর   মৃত্যু  পর্যন্ত] 9  বছর"(সহীহ বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস 4757, 4758)।
   "ওরওরাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- নবী মহাম্মদ (স) আয়েশা  (রা)- কে  বিবাহ  করেন  6 বছর বয়সে ও বাসর   করেন  9  বছর  বয়সে  এবং  আয়েশা (রা) নবী (স)- এর  সঙ্গে  9  বছর  যাবত  বৈবাহিক জীবন-যাপন  করেন"(বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস 4781)।
   নাস্তিকদের প্রশ্ন-"51 বছর  বয়সে  6  বছরের  কোনও শিশুকে বিবাহ  করা  এবং  54  বছর বয়সে  9  বছরের সেই  শিশুর  সঙ্গে  বাসর   করা   কি  কোনও  নবী (স)- এর কাজ হতে পারে??
   কেউ  কেউ  এখানেই  শেষ  করে না, বরং আরও এক ধাপ   এগিয়ে   বলে-"51 বছরের   বৃদ্ধ   মহাম্মদ  (স)  6 বছরের  শিশু  আয়েশা  (রা)-  কে  বিয়ে  করে  এবং 54 বছর  বয়সে  9  বছরের  সেই   শিশুর   সঙ্গে   শারীরিক সম্পর্ক  তৈরী করে!! এটা কি কোনও বিশ্বনবী (স)- এর কাজ?? এটা   কোন   মনবতা?? এটা   কি   অমানবিক নয়?? এটা কি একটি শিশুর উপর যৌন নির্যাতন নয়?? এটা কি "ইসলাম ধর্মের" নামে একটি শিশুর উপর যৌন নির্যাতন নয়?? এটা কি ধর্ষণ নয়"??
   নাস্তিকদের  এই  সব   প্রশ্ন   শুনে   অনেক   মুনাফিক জাতীয়  মুসলিম   বলে-"সত্যিই তো!! মাত্র   6   বছরের কোনও   শিশুকে   বিবাহ  এবং  9  বছর বয়সের শিশুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক!! তাও আবার 54 বছরের বৃদ্ধ!! এটা  তো  সত্যিই  ধর্ষণ!! ইসলাম  সত্যিই  একটা   বর্বর ধর্ম!!
   আমার  জানা মতে- বহু  মুসলিম  এটা  জানেই না যে, মা আয়েশা (রা)- এর বিয়ে হয়েছিল 6 বছর বয়সে এবং নবী (স)- এর   সঙ্গে  তার  বাসর  হয়  9 বছর   বয়সে!! আর, এ  জন‍্যেই   যখন   কোনও   মুসলিম   নাস্তিকদের থেকে   প্রথম   এ   ব‍্যাপারে   নবী  (স)  এবং  ইসলামের সমালোচনা  ও  দুর্নাম-বদনাম  শোনে, তখন  সে  চমকে ওঠে  এবং  নাস্তিকদের  কথা-বার্তা সেই মুসলিমের মনে গভীর ছাপ ফেলে!! তাই, আমাদের  আলেমদের দায়িত্ব হল- এ  বিষয়ে  কোনও  কিছু  গোপন না করে মুসলিম/ অমুসলিম/ নাস্তিকদের  মধ্যে  সচেতনতা  তৈরী  করা!! কিন্তু আমি  জানি যে, আলেম সমাজ  এ কাজ  করবেন না হয়ত!! কারণ, আলেম সমাজ নিজেদের মধ্যে গালা-গালি/ মারা-মারি/ কাটা-কাটিতে ব‍্যাস্ত!!
   এ জন‍্যেই আমরা এগিয়ে এসেছি। কিন্তু আমি কোনও আলেম নই, আমি শুধুমাত্র হোসেন কুরানী  এবং  হানীর নাহাল!! এর  বেশি কিছু নই  এবং  হতেও চাই না!! যাই হোক, আজ   24.7.19  তারিখ  এবং  এখন রাত 11 টা বাজে। অনেক  ক্ষণ  হল  ঘুম আসছে না!! আর, ঘুম না এলেই   জানেন   তো- আমি    কি    করি?? লিখি। তাই চলুন, লেখা শুরু করি-
   নবী (স) ও মা  আয়েশা (রা)- এর  বিবাহ  প্রসঙ্গে  প্রশ্ন উত্থাপনকারি এবং কটাক্ষ কারিদের কয়েক  ভাগে ভাগ করা  যায়। যেমন- হিন্দু,  ইহুদী, খৃষ্টান  ও  নাস্তিক। তাই প্রথমে আমরা হিন্দুদের উত্তর দিতে চাই-
1) শ্রী রাম  যখন  মাতা  সীতাকে   বিবাহ   করেন, তখন মাতা  সীতার  বয়স ছিল মাত্র 6 বছর। শুনতে খানিকটা নতুন  এবং  অবাক  লাগলেও, এটা 100% সত‍্য!! তবে, কেউ কেউ বলতে পারেন যে-"আপনি নবী মহাম্মদ (স)- কে ডিফেন্ড করার জন্য মিথ্যা কাহিনী বলছেন"। উত্তরে বলতে পারি- নবী (স)- কে  ডিফেন্ড  করার  জন্য  মিথ্যা বলার  কোনও  প্রয়োজন নেই। কারণ, নবী (স) তার 63 বছরের  জীবনে  কখনও কোনও মিথ্যা বলেন নি। আর, কোরানেও আল্লাহ বলেছেন- وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ
অনুবাদ হবে এমন-"সেদিন    ধ্বংস    অপেক্ষা    করছে মিথ্যাচারিদের জন্য"(77:15, 19, 24, 28,  34,  37,  40, 45, 47, 49)।
   সুতরাং  মিথ্যা  বলার  কোনও   প্রয়োজন   নেই  এবং আমি  সাধারণত  মিথ্যা  বলিইইইই  না। চলুন,  বাল্মীকি রামায়ণের   বনপর্বের  47:4-10  খোলা  যাক!! যেখানে মাতা সীতা  এবং  রামের বয়স বর্ণনা করা হচ্ছে!! তবে, আমরা  এখানে  শুধুমাত্র  মাতা   সীতার   বয়স   নিয়েই আলোচনা সিমিত রাখব!! তাই চলুন-
   রাবণ যখন সন্ন্যাসীর বেসে সীতার কাছে এসে সীতার পরিচয় জিজ্ঞাসা করে, তখন সীতা নিজের পরিচয় দেন এভাবে-"আমি   সীতা, আমার   বয়স 18 এবং 12 বছর শ্বশুরালয় উপভোগ করে বনবাসে এসেছি"।
   এখন  একটি  ছোট  গাণিতিক  হিসাব  করলেই  মাতা সীতার     বিবাহের    বয়স    বেরিয়ে     পড়বে, এভাবে-
বর্তমান   বয়স 18 বছর, তারমধ্যে  শ্বশুরালয়ে 12 বছর বসবাস   করে   বনবাসে   আসেন। তারমানে 18-12= 6 বছর। মাতা  সীতার  যখন  বিবাহ  হয়, তখন তার বয়স ছিল- মাত্র 6 বছর।
   শুধুমাত্র  রামায়নে  নয়, স্কন্দ  পুরাণের 3 নং স্কন্ধের 2 নং খন্ডের 30:8-9 বলা আছে-"শ্রীরাম মিথিলার রাজার 6 বছর বয়সী সুন্দরী কন্যা সীতাকে বিবাহ করেন"।
2) শ্রীকৃষ্ণ  যখন  মাতা  রুক্মিনীকে বিবাহ করেন, তখন মাতা  রুক্মিনীর  বয়স  ছিল- মাত্র 8 বছর। যদি আপনি চান  তাহলে  একবার  স্কন্দ  পুরাণের 5 নং স্কন্ধের 3 নং খন্ডের 142:8-79 খুলে চেক করতে পারেন!!
   এখানেই কি শেষ?? মাত্র 8 বছরের  শিশু  তথা  মাতা রুক্মিনীর   সঙ্গে   শ্রীকৃষ্ণ   যৌনাচারও   করতেন   এবং যৌনাচারের  ফলে  শিশু  মাতা  রুক্মিনী  জ্ঞান হারিয়েও ফেলতেন!!
   শুনতে  হয়ত   খুব   খারাপ   লাগছে!! আমি   অন‍্যের বিশ্বাসে  আঘাত  হানতে  চাই না। আমি  শুধুমাত্র একটি যুক্তি/ প্রমাণ/ উদ্ধৃতি  বহুল  লেখা  লিখতে চাইছি। তবে আপনি  চাইলে  আমার  কথা  গুলোকে  ধর্মগ্ৰন্থের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।
   পুরাণে    তথ‍্যটি    এভাবে    আছে-"কৃষ্ণ   তাহার   স্ত্রী রুক্মিনীর পানে বিমুগ্ধ নয়নে  তাকিয়ে আছেন, যে কিনা এখনও পরিপূর্ণভাবে  বেড়ে  ওঠেনি এবং যার বয়ঃসন্ধি শুরু  হয়েছে  মাত্র  এবং  যৌনতা  সম্বন্ধে   এখনও  যার কোন  ধারণাই  গড়ে  ওঠে  নি। এমন  মুহূর্তে  কৃষ্ণ  তার সহিত  যৌনক্রীড়া  শুরু  করে  দিল  এবং রুক্মিনী জ্ঞান হারিয়ে ফেলল"(ব্রহ্মবৈবর্ত্য  পুরাণের, কৃষ্ণ জন্ম খন্ডের 112:1-10)।
3) প্রথমে শ্রী রামের বিবাহ সম্পর্কে জানলাম!! তারপর শ্রী  কৃষ্ণের  বিবাহ  সম্পর্কে   জানলাম!! এবার  আমরা শীব  এবং  মাতা  পার্বতীর  বিবাহ  সম্পর্কে  জানব  যে- মাতা  পার্বতীর  যখন  বিবাহ  হয়েছিল, তখন তার বয়স কত ছিল!!
   হ্যাঁ, মাতা  পার্বতীরও  বিবাহ   হয়েছিল  মাত্র  8  বছর বয়সে!! চাইলে  দেখতে  পারেন-"শীব  8  বছর  বয়সের পার্বতীকে বিবাহ করে হিমাচলে নিয়ে এসে সংসার শুরু করেন"(শীব পুরাণ, রুদ্র  সংহিতা, পার্বতী  খন্ডের, 3 নং পর্বের, 11:1-2, ইংরেজি    অধ্যায়ের   নাম-"Siva   and Himavat meet together")।
   এখানে  পার্বতীকেই  Himavat  বলা   হয়েছে। কারণ, Himavat পার্বতীর  অন্য নাম। যাইহোক, এবার মনে হয় একজন  হিন্দুর  মুখে   তালা  লেগে  যাবে  বলেই  আশা করছি!! কিন্তু  আমি  জানি   যে, শুধুমাত্র   হিন্দুরা  নবী (স)- কে   কটাক্ষ   করে   না, বরং   ইহুদী   এবং   খৃষ্টান মিশনারিরাও   বিশ্বনবী  (স)-  কে   কটাক্ষ   করে   এবং হেয়প্রতিপন্ন  ও  অপদস্থ  করে। তাই  চলুন, এবার ইহুদী এবং খৃষ্টান মিশনারিদের উত্তর দেব- ইনশাআল্লাহ।
   বাইবেলের  Old  testament  অনুযায়ী- নবী ইব্রাহিম (আ)- এর 40 বছর বয়সী পুত্র ইসহাক (আ)- এর বিবাহ হয়  3  বছর  বয়সী  রেবেকা (আ)- এর  সঙ্গে। বাইবেলে এই তথ‍্য  এভাবে রয়েছে-"Isaac was forty years old when he took  Rebekah as wife, the daughter of Bethuel the  Syrian of Padan Aram, the sister of Laban   the    Syrian"(Bible, book    of    Genesis- 25:20, New King James Version)।
অনুবাদ হবে এমন-"ইসহাক  40  বছর  বয়সে আরামীয় বেথুয়েলের কন‍্যা, আরামীয়  লাবনের  বোন রেবেকা'কে পাদান-আরাম হতে নিয়ে এসে বিবাহ করেন"।
   এখানে  কেউ  কেউ  প্রশ্ন  তুলতে  পারে  যে-"book of Genesis   এর   25:20   তে   তো   রেবেকা'র   বয়সের উল্লেখই   নেই!! তাহলে   আপনি   কি করে বললেন যে, ইসহাক  40  বছর  বয়সে  3 বছরের রেবেকা'কে বিবাহ করেন"??
   এ প্রশ্নের  উত্তর  জানতে  আপনাকে ছোট্ট মত একটা অঙ্ক করতে হবে। এভাবে-
1) book  of  Genesis  এর  17:17 অনুযায়ী- ইব্রাহিম (আ)- এর  যখন  100  বছর বয়স, তখন ইসহাক (আ)- এর মা তথা ইব্রাহিম (আ)- এর স্ত্রীর বয়স 90 বছর।
2) book  of  Genesis    এর  21:5  অনুযায়ী- ইসহাক (আ)- এর   যখন  জন্ম   হয়, তখন  তার  পিতা  ইব্রাহিম (আ)- এর  বয়স 100 বছর। তারমানে উপরিউক্ত book of Genesis  এর  17:17  অনুযায়ী- ইসহাক (আ)- এর জন্মের  সময়  তার  মা  সারা (আ)- এর  বয়স  ছিল 90 বছর।
3) book  of Genesis এর 23:1 অনুয়ায়ী- সারা (আ)- এর  মৃত্যু  হয়  127  বছর  বয়সে। তারমানে সারা (আ)- এর    মৃত্যুর    সময়    ইসহাক  (আ)-  এর   বয়স   ছিল 127-90= 37 বছর।
4) book   of   Genesis   এর  22:22   অনুযায়ী- সারা (আ)- এর  মৃত্যুর  সময়  জন্ম  হয়  রেবেকা  (আ)- এর। তারমানে  সারা  (আ)- এর  মৃত্যুর  সময়  ইসহাক (আ)- এর বয়স ছিল- 37 বছর। আর ইসহাক (আ)- এর যখন 37 বছর, তখন রেবেকা (আ)- এর জন্ম হয়।
   5) book  of  Genesis  এর  25:20  অনুয়ায়ী- ইসহাক (আ)- এর  40  বছর  বয়সে  বিবাহ  হয়। যখন  ইসহাক (আ)- এর  37  বছর  বয়স  ছিল, তখন   যদি   রেবেকা (আ)- এর  জন্ম হয়, তাহলে ইসহাক (আ)- এর 40 বছর বয়স  হয়, তখন  রেবেকা  (আ)- এর  বয়স  কত হবে?? সহজ উত্তর!! 40-37= 3 বছর।
   এবার বলুন, আমি কি ভুল কিছু  বলেছিলাম?? আমি ঠিকই   তো   বলেছিলাম   যে- ইসহাক  (আ)  40  বছর বয়সে    3   বছরের   শিশু   রেবেকা   (আ)- কে   বিবাহ করেন!!
   আর, এখন   আমি   ইহুদী  এবং  খৃষ্টান  মিশনারিদের বলতে  চাই- আপনাদের   কি   লজ্জা-শরম   বলে  কিছু নেই?? যে ধর্ম  3  বছরের  শিশুকে বিবাহ করার বৈধতা রয়েছে, সেই ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বনবী (স)- এর উপরে কিভাবে আঙুল তোলে!!
   এ পর্যন্ত  আমরা  হিন্দু/ ইহুদী/ খৃষ্টানদের  উত্তর দিয়ে দিয়েছি। এবার  আমরা  নাস্তিকদের  উত্তর  দেব- ইনশা আল্লাহ। তবে, এবার  হয়ত  লেখাটি শেষ হতে চলেছে!! তাই, লেখা শেষ করার পূর্বে নিজের সম্পর্কে একটু বলে নিই!! এটা আমার স্বভাব তো!! আজ  25.7.19  তারিখ এবং  এখন   রাত   10:30  বাজে। 
     আপনি  নাস্তিক হন  অথবা  আস্তিক হন- যদি আপনি আমার  এই  লেখাটি  শুরু  থেকে   পড়েন, তাহলে  এটা আপনি  মানতে  বাধ্য হবেন যে, মা  আয়েশা (রা)- কে 6 বছর বয়সে বিবাহ করা  এবং  9 বছর  বয়সে ঘরে নিয়ে আসা জরুরী ছিল!! কমপক্ষে  ইসলাম  পূর্ণতা পাওয়ার জন্য জরুরী ছিল!! তাই নয় কি??
   এবার   নাস্তিকদের   পক্ষ   থেকে   প্রশ্ন   হবে-"6 বছর বয়সের শিশুকে বিবাহ করা  এবং  9 বছর বয়সের সেই শিশুর সঙ্গে  যৌনাচার করা  কতটুকু যৌক্তিক?? অন্তত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে কতটুকু মানানসই"??
   কতটুকু নয়, পুরোটাই  মানানসই!! এখানে হয়ত কেউ কেউ বলবেন যে-"আপনি  গোঁড়ামি করছেন"। এ প্রশ্নের উত্তরে  বলতে  পারি- আমি   গোঁড়া   নই, বিজ্ঞান  জানি এবং  বৈজ্ঞানিক   দৃষ্টিকোণ   থেকেই   বলছি- পুরোটাই মানানসই!! প্রশ্ন    হবে-"কিভাবে?? কিভাবে  একটা 9 বছর বয়সের শিশুর সঙ্গে  যৌনাচার মানানসই মনে হল আপনার"?? চলুন, ব‍্যাখ‍্যা করি-
   Period বা মাসিক সম্পর্কে জানেন?? জানেন মাসিক কেন  হয়?? মাসিক   হল- মাতৃত্বের   বহিঃপ্রকাশ। যখন কোনও  নারীর  মাসিক  শুরু হয়ে যায়, তখন সেই নারী মাতৃত্বের  জন্য  প্রস্তুত  হয়ে  যায়  শারীরিক  ভাবে- এটা জানেন তো??
   আর, যখন  কোনও  নারীর  Period  বা  মাসিক শুরু শুরু   হয়, তখন  তার  সঙ্গে  যৌনমিলন  করা   মোটেও অবৈজ্ঞানিক নয়। কারণ, তখন সেই নারী মাতৃত্বের জন্য বা গর্ভধারণের প্রস্তুত হয়ে যায়!!
   আমি জানি- আপনার  বুঝতে  সমস্যা হচ্ছে!! সুতরাং এখন  দেখাতে  চাই- Period বা মাসিক কেন হয়!! তাই চলুন-
   প্রতি  মাসে  ডিম্বাশয়  একটি  ডিম্বাণু  উৎপাদন করে। সবচেয়ে  পরিপক্ক  বা  পূর্ণাঙ্গ  ডিম্বাণুটি ডিম্বনালির মধ্য দিয়ে  জরায়ুতে  চলে  যায়। জরায়ু  হচ্ছে   দেহের  এমন একটি অংশ যেখানে শিশু সুরক্ষিত থাকে ও প্রতিনিয়ত পুষ্টি   পায়। যখন   ডিম্বাণু   পরিপক্ক   হয়, তখন   শরীর জরাযুতে  রাসায়নিক  সংকেত   পাঠায়। ফলে, জরায়ুর ভিতরের  অংশ পুরু হয়ে ওঠে। ডিম্বাশয় থেকে পরিপক্ক ডিম্বাণু  বেরিয়ে  এসে  ডিম্বনালীতে   অবস্থান  নেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াকে বলে হয়- ডিম্বাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া।
   এই  যৌনমিলন  দ্বারা  ডিম্বানুটি  শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত হলে গর্ভসঞ্চার হয়। গর্ভবতী অবস্থায় নিষিক্ত  ডিম্বাণুটি ডিম্বনালীর  মধ্য  দিয়ে  জরায়ুতে  আসে। এবং 6 দিনের মধ্যে  নিষিক্ত  ডিম্বাণুটি   জরায়ুতে   সৃষ্ট   নরম  ও  পুরু আবরণের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।
   আর যদি গর্ভবতী না হয়, তাহলে  অনিষিক্ত ডিম্বাণুটি নষ্ট হয়ে  যায় এবং জরায়ুর  ভেতরে কোনও শিশু   জন্ম   না নেওয়ায় নরম এবং পুরু  আবরণটিও  ভেঙে  যায় ও ভেঙে যাওয়া আবরণটি  শরীর  থেকে  রক্তের  আকারে বের হয়ে আসে। এভাবেই  মাসিকের শুরু হয় ও মাসিক হয়!! বুঝলেন মশাই??
   আজ 27.7.19 তারিখ  এবং  এখন রাত 1:40 বাজে।    এরপর  আমি  যা করি, তা  তো জানেন!! এখন লেখা শুরু করব, চলুন-
   এখন  বলুন  তো, তাহলে  নারীর  Period  বা  মাসিক শুরু  হওয়ার  অর্থ  কি?? উপরিউক্ত  লেখা থেকে হয়ত জেনেই গেছেন যে, Period বা মাসিক শুরু হওয়ার অর্থ হল- নারীর মা হওয়ার জন্য বা তার শরীর যৌনমিলনের জন্য প্রস্তুত!!
   এবার  প্রশ্ন  হবে-"কত বছর বয়সে নারীর বা নারীদের Period  বা মাসিক শুরু হয়"?? এ প্রশ্নের নিদিষ্ট কোনও উত্তর পৃথিবীর কোনও  ডাক্তার  বা  Medical science এর  কাছে  নেই!! তবে, ডাক্তার  বা Medical science বলে- ভারতে  নারীদের Period বা মাসিক চক্র শুরু হয় 10 থেকে  16 বছর  বয়সে। তবে, 16 বছরের  পরও বহু নারীর  মাসিক  শুরু  হয়!! আবার  10 বছরের আগেও বহু নারীর মাসিক চক্র শুরু হয়!!
   আসলে  আবহাওয়ার  উপরে  নারীদের  মাসিক  চক্র শুরু হওয়া বেশ খানিকটা  নির্ভরশীল। যেমন কাশ্মীরের নারীদের   Period   বা  মাসিক   চক্র   শুরু   হয়  একটু দেরিতে। যথা   13   থেকে   16   বছর   বয়সে!! আবার পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের নারীদের Period বা মাসিক চক্র শুরু হয় 10 থেকে 16 বছর বয়সে!! আবার দক্ষিণ ভারতের নারীদের  Period  বা মাসিক চক্র শুরু হয় 10 থেকে 14 বছর বয়সে!!
   এককথায়, শীতপ্রধান    দেশের   তুলনায়   উষ্ণপ্রধান দেশের নারীদের Period বা মাসিক  চক্র শুরু হয় একটু তাড়াতাড়ি। উষ্ণপ্রধান   দেশের   নারীদের   Period  বা মাসিক চক্র  9  বছর বয়সেও শুরু হতে দেখা যায়। শুধু উষ্ণপ্রধান  দেশ  কেন, আমাদের  দেশ ভারতের অনেক নারীদের  9  বছরে  Period  বা  মাসিক চক্র শুরু হয়!! সত্যি বলতে, এটা  কোনও   ডাক্তার   অথবা   Medical science এর কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়!!
   এবার  একটা  প্রশ্ন   করি-"মা  আয়েশা  (রা)  কোথায় বসবাস করতেন"?? এ প্রশ্নের উত্তর তো আপনি জানেন আর তা হল- আরব  মরুতে। এবার বলুন-"তাহলে কি 9 বছর  বয়সে  মা  আয়েশা (রা)- এর Period  বা  মাসিক চক্র শুরু হয় নি?? সম্ভাবনা  কি বলে"?? সম্ভাবনা এটাই বলে যে- 9 বছর বয়সেই মা আয়েশা (রা) মাতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। সেই জন‍্যেই  নবী (স) মা আয়েশা (রা)-  কে    ঘরে    নিয়ে    এসেছিলেন। তাই, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ   থেকে  মা  আয়েশা  (রা)- এর সঙ্গে নবী (স)- এর যৌনাচার পুরোটাই মানানসই!!★★
   ★★ সুধীপাঠক, আজ  28.7.19  তারিখ  এবং এখন রাত  2:20  বাজে। যাইহোক, এখান    পর্যন্ত    উত্তর   শেষ। কিন্তু আমি  এখন  লেখাটি  শেষ করতে চাই না!! মা আয়েশা (রা)  কেমন  ছিলেন- তা  একটি   কার্যকারী   ও   বাস্তব উদাহরণের   সাহায্যে  আপনাদের  সামনে  তুলে  ধরতে চাই-
   এবার   আমরা   আপনাকে   নিয়ে  যেতে  চাই South Korea তে  এবং  আলাপ  করাতে চাই Kim Yng-Yong এর  সঙ্গে। কিন্তু  কে এই Kim Yng-Yong?? Kim Yng-Yong মাত্র  3  বছর  বয়সে  Hanyang  ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা  বিভাগের  সম্মানিত অতিথি ছাত্রের খাতায় নাম লেখান। যা  চিন্তা  করলেও অসম্ভব মনে হয়!! তাই নয় কি??
   কিন্তু    এখানেই    কি    শেষ?? না, না, মোটেও   শেষ নয়, আরও কিছু অপেক্ষা করছে আপনাদেরকে অবাক করার    মত!! আর, তা    হল-   মাত্র   7   বছর   বয়সে আমেরিকার  পক্ষ  থেকে  Kim Yng-Yong কে আমন্ত্রণ জানিয়ে  NASA  তে  নিয়ে  যাওয়া হয় Reserch করার জন্য।
    Kim Yng-Yong ছেলেটি বিশাল প্রতিভাধর, তাই নয় কি?? তা   না   হলে  কেউ  আবার  মাত্র  3  বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের  পদার্থবিদ্যা   বিভাগের   অতিথি   ছাত্র হতে  পারে?? এবার  একটা  প্রশ্ন-"Kim Yng-Yong এর তুলনা কি অন‍্য কোনও যে কোনও বয়সের ছাত্রের সঙ্গে হতে পারে"?? মোটেও হতে পারে না!! তাই না??
   মা আয়েশা  (রা)  Kim Yng-Yong এর চেয়ে শত গুণ বেশি  প্রতিভাধর  ছিলেন। মা আয়েশা (রা) মাত্র 9 বছর বয়সেই  54  বছরের  নবী  (স)- এর   সঙ্গে  এমন  ভাবে থাকতেন- যেন 50 বছরের  কোনও সুশিক্ষিতা নারী। মা আয়েশা  (রা)  এমন  ছিলেন  যে- তার কাছে তৎকালীন 60-70  বছরের  তাবড়-তাবড়  জ্ঞানী  সাহাবায়ে কেরাম (রা)-  রাও     দ্বীন    শিখতে    আসতেন। এমনকি   তার পিতাও!! হ‍্যাঁ, শুনতে  অবাক  লাগলেও  এগুলো সত্য!! তাই, অন্য  কোনও  নারীর  সঙ্গে  মা  আয়েশা (রা)- এর তুলনা হতে পারে না!! এই  রকম  প্রতিভাধরদের  সর্বদা আলাদা ভাবেই দেখা উচিৎ। আর, নয়ত আপনি একটা গন্ড মূর্খ!!
   এবার আমরা  বিবাহের  বয়স নিয়ে আলোচনা করতে চাইছি। ভারতীয়    আইন    অনুয়ায়ী    বিবাহের     জন্য পুরুষের  বয়স  কমপক্ষে- 21 বছর  এবং  নারীর  বয়স কমপক্ষে- 18 বছর  হওয়া  জরুরী। বাংলাদেশেরও এই একই   আইন!! তাই   না?? আচ্ছা, এবার   একটা  প্রশ্ন করতে  চাইছি-"জানেন  চীনে  বিবাহের   সর্বনিম্ন   বয়স কত"?? উত্তর  হল- পুরুষের 22  এবং  নারীর 20 বছর। এবার  আরও  একটা  প্রশ্ন-"ভারতীয়  আইন   অনুযায়ী যদি কেউ  চীনে বিবাহ  করতে চায়, তাহলে কি তা গ্ৰহন যোগ্য  হবে"?? উত্তর  হল- না, গ্ৰহন যোগ্য হবে না। কিন্তু কেন গ্ৰহণ  যোগ্য হবে না- এ প্রশ্নের বিজ্ঞানসম্মত উত্তর কেউ দিতে পারবেন কি??
   মনে রাখা দরকার  যে, ভারত  ও  চীনের দুরত্ব কত?? আমরা জানি- একটুও  নয়, এই দুই  দেশের সিমা একে-অপরের সঙ্গে লেগে আছে!! তাই না?? কিন্তু  তবুও এই দুই  দেশের   বিবাহ   আইনে   নারীর  বয়সের  ক্ষেত্রে  2 বছরের পার্থক্য কেন??
   এ   প্রশ্নের   যোগ্য   উত্তর   কেউ দিতে পারবেন কি?? জানি  এ  প্রশ্নের  উত্তর নাস্তিকদের কাছে কেন, কারোর কাছেই নেই!! তবে, আমার  কাছে  আছে!! আসলে এই আইন  গুলো  হল- মানব   রচিত   মনগড়া  আইন মাত্র, প্রকৃতির  ভিত্তিতে  তৈরী  করা  বৈজ্ঞানিক  আইন  নয়!! তাই নয় কি??
   আজ  29.7.19  এবং এখন রাত 3:30 বাজে। অনেক ক্ষণ  হল  ঘুম  ভেঙে  গেছে  এবং  সেই  Tention এ ঘুম আসছে   না। এত   Tention   হচ্ছে- যেন   মাথা   ফেটে যাচ্ছে!! এখন  শুধু  সকাল  হওয়ার   অপেক্ষা  করছি!! জানি  না  কখন  সকাল হবে!! যতক্ষণ না সকাল হচ্ছে, ততক্ষণ  একটু  লেখা-লেখি   করা   যাক, হ‍্যাঁ?? তাহলে বিবাহের  বয়স  সম্পর্কে  ইসলাম কি বলে?? প্রথমে এই আয়াত দুটি দেখুন-
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ 
অনুবাদ হবে এমন-"মানুষকে প্রভুর পথে আহ্বান করুন বিজ্ঞানময়  ও  যুক্তি-যুক্ত  ভাবে  এবং  লোকদের  সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পদ্ধতিতে"(16:125)। নিচের এই আয়াতটিও দেখুন-
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই  মহান  সত্তা, যিনি  উম্মীদের মধ্যে  তাদেরই  একজনকে  রাসুল করে পাঠিয়েছেন যে তাদেরকে    তার    আয়াত    শুনায়, তাদের    জীবনকে সজ্জিত  ও   সুন্দর  করে   এবং   তাদেরকে  কিতাব  ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়। অথচ  ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট ভ্রান্তি ও মূর্খতায় নিমজ্জিত ছিল"(62:2)।
   উপরিউক্ত  দুটি  আয়াত  পড়লে দেখা যাচ্ছে- আল্লাহ নবী (স)- কে   পৃথিবীতে   পাঠিয়েছেন   একটা   উদেশ‍্য নিয়ে। আর  তা  হল- حِكْمَةَ বা  বিজ্ঞান  ভিত্তিক  জীবন-যাপন  শেখানো। তাই, বিবাহের     বয়সের  ক্ষেত্রেও কোরান  বিজ্ঞান  ভিত্তিক  সিদ্ধান্ত  নিয়েছেন  এবং তার উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে-
وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَامًا وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا
অনুবাদ হবে এমন-"অবুঝদের  হাতে  সম্পত্তি তুলে দিও না। যা আল্লাহ  তোমাদেরকে  জীবিকার  জন্য দিয়েছেন বরং তা হতে তাদেরকে খেতে-পরতে দাও  এবং  তাদের সদুপদেশ দাও"(4:5)।
وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ 
অনুবাদ হবে এমন-"আর, এতিমদের পরীক্ষা করে নেবে বিবাহের  বয়স   হওয়া   পর্যন্ত। তারপর   যদি   তোমরা তাদের মধ্যে ভাল-মন্দের  জ্ঞানের  সন্ধান  পাও, তাহলে তাদের সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করে দাও"(4:6)।
   উপরিউক্ত  আয়াত  2  টিকে পর্যালোচনা দেখা যাবে- কোরান  বিবাহের  নিদিষ্ট  কোনও  বয়স  নির্ধারণ  করে দেন   নি, বরং   সুঝ-বুঝ   তথা    ভাল-মন্দের   জ্ঞানকে বিবাহের  বয়স  হিসাবে  দেখানো  হয়েছে!! কিন্তু  তবুও হাদীসে সুঝ-বুঝ তথা ভাল-মন্দের জ্ঞানের একটা  বয়স দেখানো হয়েছে, এভাবে-
"আব্দুল্লাহ ইবনে উমার  (রা)  হতে বর্ণিত। তিনি  বলেন- ওহোদ  যুদ্ধের দিন যুদ্ধে যোগদান করার জন্য নবী (স)- এর  সামনে  উপস্থিত  হলে, তিনি  আমাকে  যুদ্ধে  যেতে অনুমতি  দিলেন  না। তখন  তার  বয়স  ছিল  14 বছর। তিনি  আরও   বলেন- পরের  বছর  খন্দক  যুদ্ধের  দিন আমি  আবারও  যুদ্ধে  যোগদানের   জন্য  নবী (স)- এর সামনে  উপস্থিত  হলে, নবী (স) আমাকে অনুমতি দেন। তখন   তার   বয়স   ছিল   15   বছর"(বুখারী, কিতাবুস সাহাদত, হাদীস  2474  এবং  কিতাবুল মাগাযী, হাদীস 3794)।
   প্রশ্ন হতে পারে-"হাদীসে 15 বছর বয়সকে প্রাপ্ত  বয়স্ক হওয়ার   বয়স  ধরা  হল  কেন"?? বিজ্ঞান  সম্মত  উত্তর  হল- 15 বছর বয়সে মানুষের মস্তিষ্ক  পূর্ণতা  পেয়ে যায়। দ্বিতীয় উত্তর হল- কোরানে বিবাহের বয়স হিসাবে সুঝ-বুঝ ও  ভাল-মন্দের জ্ঞানকে মাপকাঠি হিসাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু প্রাপ্ত  বয়স্ক হওয়ার কোনও বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয় নি- সেই নিদিষ্ট বয়স হল- 15 বছর!!
   যদিও  পুরষ  সাবালক  হয়- স্বপ্নদোষ  হলে এবং নারী সাবালিকা  হয়- Period  বা  ঋতুস্রাব  বা  মাসিক  শুরু হলে। তাই, নবী  (স)-  এর  দ্বারা  মা  আয়েশা  (রা)-  কে বিবাহ   করা   ভারতীয়   আইনে   বিরুদ্ধে   হতে   পারে, কিন্তু প্রকৃতির আইনের বিরুদ্ধে নয়!!
   যাইহোক, নিচের একটি লেখা দিচ্ছি। ফেইসবুক এ গিয়ে সার্চ করলে পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ । দেখতে পবেন-"মাসিক অবস্থায় কি নারীরা অপবিত্র"??
@ঋতু অবস্থায় মহিলারা অপবিত্র??@  
)}]
    আচ্ছা, ভারত  ও  বাংলাদেশের   বিবাহ    আইনের সর্বনিম্ন  বয়স  পুরুষের  21  এবং নারীর 18 বছর কেন হল?? উত্তর হল- আমরা   ভারতীয়রা   বৃটিশদের   বমি খেয়ে অভ‍্যাস্ত, তাই  তাদের  তৈরী  করা  আইনটি বিচার না করেই গ্ৰহণ করে  নিয়েছি!! কিন্তু  আমেরিকার  নিউ জার্সির  আইন একটু অন্য রকম। চাইলে, হিন্দি খবরের কাগজ   "दैनिक भास्कर"   পড়তে   পারেন। যেখানে  বলা হচ্ছে-"কোর্টের  অনুমতি  নিয়ে  যে কোনও বয়সে বিবাহ করা যায়, বিবাহের জন্য পুরুষ বা নারীর নিদিষ্ট কোনও নির্ধারিত বয়সের প্রয়োজন হয় না"(18.10.2015)।
   যাইহোক, মূল  উত্তর  অনেক  ক্ষণ  আগেই  শেষ হয়ে গেছে, এবার  লেখাও শেষ হল প্রায়!! লেখা শেষ করার আগে আমার  লেখা ({[ "নারী অধিকার"  সম্পর্কিত  লেখা/রচনা গুলো ফেসবুকে সার্চ দিয়ে  পড়তে পারেন। এখানে একত্রে প্রায়  20-25  টি  লেখা পেয়ে যাবেন। তাই, নিচে দেওয়া লিঙ্কে/লেখায় ক্লিক/সার্চ করুন--👇-
@নারী অধিকার,  মানবাধিকার ও হিন্দু ধর্মগ্রন্থ@
https://m.facebook.com/story.php?)}]
   লেখা   শেষ   করছি, কিন্তু   একটু   বলে  নিই  যে- মা আয়েশা  (রা)-  কে  পবিত্র  কোরানে   আল্লাহ   কিভাবে সম্মানিত  করেছেন!! কোনও  এক ঘটনার পেক্ষিতে মা আয়েশা (রা)- এর উপর তার চারিত্রিক বিষয়ে অপবাদ দেওয়া হয়। সেই  ঘটনার  পেক্ষিতেই  মা  আয়েশা (রা)- কে আল্লাহ নির্দোষ বলে ঘোষণা করেছেন, এভাবে-
إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ ۚ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَكُمْ ۖ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ ۚ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ مَا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ ۚ وَالَّذِي تَوَلَّىٰ كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অনুবাদ হবে এমন-"যারা  এই  মিথ্যা   এবং   মূল  ঘটনা পরিবর্তন    করে   অপবাদ   তৈরী   করে  এনেছে, তারা তোমাদেরই    ভিতরের   একটি   অংশ!! এই   ঘটনাকে নিজেদের পক্ষে খারাপ মনে কর না বরং এও তোমাদের জন্য ভালই। যে   এর   মধ্যে   যতটা  অংশ  নিয়েছে, সে ততটাই  গুনাহ  কামিয়েছে!! আর  যে  ব্যক্তি  এর  দায়-দায়িত্বের বড় অংশ নিজের  মাথায় নিয়েছে, তার   জন্য তো রয়েছে মহাশাস্তি"(24:11)।
   এই  হল  সেই  মূল‍্যবান  আয়াত, যে  আয়াতে  আল্লাহ নিজে মা আয়েশা (রা)- এর  বিষয়ে  সাক্ষী  দেন  যে, মা আয়েশা  (রা)  নির্দোষ!! যাইহোক, লেখাটি  পড়ার  পর আমার  মায়ের  জন্য  "জান্নাতুল ফেরদৌস"  এর জন্যে দোয়া করবেন- আশা রাখছি!!
   আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং  আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন  থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা   করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
* THE QURANIC UNIVERSE TEAM *
        © : লেখক, হোসেন কুরানী ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...