Facebook এর একজন মহিলা আয়েশা জাহান Massenger এ প্রশ্ন করে বলেছেন-"হোসেন Sir, আমি বেশ কিছুদিন পূর্বে একটা প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি হয়ত ব্যাস্ততার জন্য উত্তর দিতে ভুলে গেছেন!! উত্তরটা দিয়ে উপকৃত করবেন"।
না, না, ভুলি নি ও ব্যাস্তও নয়!! আসলে সারাজীবন কখনও সুখের মুখ দেখি নি কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিই হয়ত আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এবং তা অতিক্রম করতে হচ্ছে!! খুব দুঃখ-কষ্ট হচ্ছে, ব্যাথা- বেদনা ও যন্ত্রণা হচ্ছে, কিন্তু তবুও বেঁচে থাকতে হচ্ছে!! এ জন্য গোটা জীবনই ওলট-পালট হয়ে গেছে!! আমি যেন কি করব, কি করব না- কিছুই ভেবে পাই না!!
আর ভুলে যাব কি করে, আমি কোনও কিছু ভুলতেই পারি না!! এ জন্যেই হয়ত কষ্টের পরিমাণ বেশি!! যদি আমিও সবার মতো হতাম এবং সব কিছু ভুলে যেতে পারতাম, তাহলে আজ হয়ত আমার পরিস্থিতি ভিন্ন হত!! আমি ভুলি নি, মনে আছে, শুধু মাত্র একটা মনই তো আছে- তাও আবার ভাঙা!! যাইহোক, আপনার প্রশ্নটা এবার দেখব। কিন্তু আপনি তো English Typing করেন, সেটাকে আবার বাংলায় লিখতে সমস্যা হয়!! যদি আপনি বাংলায় লিখতেন, তাহলে শুধুমাত্র Copy paste করে সামান্য-সামান্য সংশোধন করে দিলেই হত!! তাই না বলুন??
এখন আপনার প্রশ্নটা ছিল-"হোসেন স্যার, সব সময় একটা বিষয় আমাকে ভাবায় এবং তা হল- Theory of evolution. বিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে এটাই জেনেছি- Theory of evolution সত্য কিন্তু যখন থেকে ইসলাম চর্চা শুরু করলাম, তখন জানতে পারলাম- Theory of evolution মিথ্যা!! জাকির নায়েকও Theory of evolution এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে!! এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান কি?? আমি কোরান ও বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা চাই, তাও লিখিত!! আমি জানি- একমাত্র আপনিই পারেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কোরান ও বিজ্ঞান সম্মত তথ্য তুলে ধরতে।
আসলে স্যার, এ বিষয়ে মুসলিমদের সঠিক কোনও Stand নেই, ফলত আমরা হীনমন্যতায় ভুগতে বাধ্য হই!! কখনও মনে হয়- আলেম-মৌলানারা ঠিক বলছে, আবার কখনও মনে হয়- বিজ্ঞানীরা ঠিক বলছেন কিন্তু সঠিক কোনও Stand নিতে পারি না!! যখন ইসলাম সম্পর্কে বান্ধবীদের সঙ্গে আলোচনা করি, তখনও Theory of evolution প্রসঙ্গে কথা উঠলে চুপ থাকতে হয়!! যদিও প্রায় এক বছর আগে আপনার Whatsapp গ্ৰুপের প্রশ্নের 32 মিনিটের Voice উত্তর শুনেছি কিন্তু লিখিত উত্তর Statement বলে গণ্য হয় এবং তা ইতিহাসে স্থান পাবে- ইনশাআল্লাহ!!
আর আপনি কোরানের যে ধরণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করেন, ইতিহাসে তা স্বর্ণালী অক্ষরে লেখা হবে এবং মানুষ আপনার অবদানকে কখনও ভুলবে না। এ জন্যে আপনাকে নিয়ে গর্বিত হই এবং আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমি আপনার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি!! আপনার মানসিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি"।
আপনি হয়ত জানেন না যে, গতবার যখন প্রশ্নটা করে ছিলেন, তখন বেশ খানিকটা উত্তর লিখেছিলাম কিন্তু কেন জানি না, তখন খুব বিরক্ত আসছিল এবং ঐ মহিলার কথা মনে পড়ছিল। ঐ জন্য রাগে লেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং Delete করে দিয়েছিলাম কিন্তু গত কয়েক দিন আগে ''রাফিউদ্দিন মিদ্যা'' তার "Al-quran & science" নামক Whatsapp গ্ৰুপে এই সম্পর্কিত প্রশ্ন করেছিলেন এবং আপনিও দ্বিতীয়বার প্রশ্নটা করে Remind করে দিলেন, তখন ভাবলাম- এবার লিখেই ফেলি!! কি বলেন??
সুধী পাঠক, সর্বপ্রথম কি দেখতে চান, বিজ্ঞান না কি কোরানের আয়াত?? চলুন, সর্বপ্রথম কোরানের আয়াত গুলো দেখে নিন- وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ অনুবাদ হবে এমন-"এবং পানি থেকে সৃষ্টি করলাম প্রত্যেকটি প্রাণীকে"(21:30)। সুধী পাঠক, এখন শুধু আয়াতটা দেখে রাখুন, ব্যাখ্যা পারে করব। আরও দেখুন-
وَاللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَابَّةٍ مِنْ مَاءٍ ۖ فَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ بَطْنِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ رِجْلَيْنِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ أَرْبَعٍ ۚ يَخْلُقُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অনুবাদ হবে এমন-"আর আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ চলছে পেটে ভর দিয়ে, কেউ চলছে 2 পায়ে হেঁটে আবার কেউ 4 পায়ে ভর দিয়ে। আর তিনি যেমন ইচ্ছা, তেমন সৃষ্টি করেন এবং তিনি সব কিছুর উপর নিয়ন্ত্রক"(24:45)।
সুধী পাঠক, ততক্ষণ আপনি আয়াত গুলো সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করুন। এই লেখায় 21:30 এবং 24:45 আয়াতের ব্যাখ্যা হবে ভিন্ন, তবে বহুদিন আগে উক্ত 2 আয়াতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করেছিলাম। এই লেখা পড়ার আগে গত লেখাটা পড়ে নিন, নিচের Link এ Click করে---
পানি এবং জীবনের উৎস, কোরান কি বলে??
আপনি ততক্ষণ উপরের Link এ গিয়ে লেখাটা পড়ে নিন, আমি ততক্ষণ বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কি বলেন- তা দেখানোর চেষ্টা করি!! এটাই মনে হয় ঠিক হবে বলুন?? হ্যাঁ, চলুন-
সুধী পাঠক, পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে এখন পর্যন্ত অর্থাৎ পৃথিবীর বয়স হল- 450-460 কোটি বছর, এই সময়কে 4 টি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়। সেই 4 টি পর্যায় এর নাম হল- Precambrian, Paleozoic, Mesozoic ও Cenozoic.
এর মধ্যে শুরুতেই অর্থাৎ Precambrian যুগেই এ পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের উৎপত্তি হয় এবং তা প্রায় 375 কোটি বছর পূর্বে। সেই এক কোষী জীব বা Bacteria থেকেই সমস্ত ধরণের উদ্ভিদ সৃষ্টি হয় বিবর্তনের মাধ্যমে এবং পৃথিবী উদ্ভিদে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এই পৃথিবী ভর্তি উদ্ভিদরাই বাতাসে মুক্ত O2 ছড়িয়ে দিয়েছিল। তারপর পরিবেশে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা H ও O2 Gas এর বিক্রিয়ায় পৃথিবীতে পানি সৃষ্টি হয় এবং পৃথিবীকে পানিতে ভরিয়ে তোলে!!
আচ্ছা, বলে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছি যে- এক কোষী Bacteria সৃষ্টির পূর্বেও পৃথিবীতে অল্প পানি বিরাজ করছিল। তবেই তো তাতে এককোষী উদ্ভিদ Bacteria সৃষ্টি হয়েছিল!! প্রশ্ন হবে- পানি সৃষ্টি হল কি ভাবে?? এ প্রশ্নের উত্তর সহজ- আগে থেকেই অবস্থিত H ও O2 বলে বিক্রিয়ায়!!
সুধী পাঠক, এরই মধ্যে পৃথিবীতে চলতে থাকে মহাদেশ গুলোর সম্প্রসারণ। মহাদেশ সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের Link এ Click করতে পারেন---
![]() |
মহাদেশ সৃষ্টি, পৃথিবীর ইতিহাস ও কোরান, পর্ব-3
তারপর আজ হতে 65 কোটি বছর পূর্বে হঠাৎ করেই কোনও এক দুর্ঘটনার ফলে ''পানিতে'' প্রাণের উৎপত্তি ঘটে অর্থাৎ হঠাৎ করেই এককোষী জীবের উদ্ভব হয়। তারপর বিবর্তন শুরু!! তারপর এককোষী থেকে বহু কোষী এবং তারপর লক্ষ-লক্ষ বছর বিবর্তনের পর জটিল জীবের উদ্ভব হয়।
তারপর পানিতে চলে এবং চলতেই থাকে বিবর্তন!! তারপর কোটি-কোটি বছর ধরে পানিতে বিবর্তনের পর জলজ প্রাণী বুকে হেঁটে আড়ায় বা ডাঙায় উঠে আসে। তারপর তা হতে বিবর্তনের মাধ্যমে 2 পায়ে হাঁটা প্রানীদের উদ্ভব হয়, যেমন- হাঁস, মুরগি, বিভিন্ন পাখি ইত্যাদি। তারপরই উদ্ভব হয় 4 পায়ে হাঁটা ভিন্ন-ভিন্ন প্রাণীদের। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে Post এর সঙ্গে দেওয়া ছবিটায় Geological time scale এর সারণীটা দেখতে পারেন!!
সুধী পাঠক, এখনও কি 21:30 ও 24:45 আয়াতটা বুঝতে পারেন নি?? সত্যি বোঝেন নি?? হায়, এ কি!! আচ্ছা চলুন, আমিই বলছি!! পাঠকগণ দেখুন, প্রথমে কি বলা হচ্ছে- وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ অনুবাদ হবে এমন-"পানি থেকে সৃষ্টি করলাম প্রত্যেক প্রকারের প্রাণীকে"(21:30)। সুধী পাঠক, পূর্বেই আমরা দেখেছি- পানিতেই প্রাণের উৎপত্তি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের হিসাব বলে- পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি হয়েছে পৃথিবী সৃষ্টির কয়েক কোটি বছর পরই। কোরানে এটাও আল্লাহ বেশ সুন্দর কায়দায় বলেছেন এভাবে, দেখুন-
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
অনুবাদ হবে এমন-"সত্য [ইসলাম] অস্বীকারকারিরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশ [সূর্য] ও পৃথিবী মিশে ছিল!! আমিই তাদের পৃথক করে দিলাম এবং প্রত্যেক প্রকার প্রাণীকে সৃষ্টি করলাম পানি হতে। তবুও কি তারা বিশ্বাস করবে না(21:30 ও 41:11)।
সুধী পাঠক, পৃথিবী সৃষ্টির কয়েক কোটি বছর পরই জীবন এবং বিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। আর সেটা হয় পানিতে। তারপর আল্লাহ এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলেছেন এভাবে-
وَاللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَابَّةٍ مِنْ مَاءٍ ۖ فَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ بَطْنِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ رِجْلَيْنِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ أَرْبَعٍ ۚ يَخْلُقُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অনুবাদ হবে এমন-"আর আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ চলছে পেটে ভর দিয়ে, কেউ চলছে 2 পায়ে হেঁটে আবার কেউ 4 পায়ে ভর দিয়ে। আর তিনি যেমন ইচ্ছা, তেমন সৃষ্টি করেন এবং তিনি সব কিছুর উপর নিয়ন্ত্রক"(24:45)।
পাঠক, উপরে বিজ্ঞান কি বলে দেখিয়েছি। এবার ছোট-ছোট করে ব্যাখ্যা করি, না কি?? আপনি কি বলেন?? হ্যাঁ চলুন- وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ অনুবাদ হবে এমন-"পানি থেকে সৃষ্টি করলাম প্রত্যেক প্রকারের প্রাণীকে"(21:30)। সুধী পাঠক, এই তথ্য বিজ্ঞান আজ জানলেও, আজ হতে 1500 বছর পূর্বেই মরু অঞ্চলের এক অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যাক্তির কাছে মহাবিশ্ব সমূহের স্রষ্টা জানিয়েছেন এই তথ্য, যেখানে পানির সংকটের কারণে যুদ্ধ হয়েছে!! যদি কোরান সত্যিই মানব রচিত হত, তাহলে কি 'পানিতেই জীবন সৃষ্টি ও বিকশিত হওয়ার তথ্য কোরানে আসত'?? বিচার করে উত্তর দেবেন বলে আশা রাখলাম!!
কোরান ও সৌরজগতের বিষয়ে খুঁটি-নাটি তথ্য পেতে নিচের Link এ Click করতে পারেন। সুধী পাঠক, উক্ত Link এ সূর্য থেকে পৃথিবী সৃষ্টির তথ্যও রয়েছে। তাই আর দেরী না করে Link এ Click করুন---
আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সৌরজগৎ ও কোরান
যাইহোক, পানিতে জীবন সৃষ্টি হওয়ার পর কোটি কোটি বছর পানিতেই জীবন বিবর্তন ও বিকশিত হতে থাকে। তারপর ভিন্ন-ভিন্ন জীব বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হতে থাকে পানিতেই। তারপর বহু জীব পানি ছেড়ে আড়ায় বা ডাঙায় উঠে আসে বুকে হেঁটে, আর এই বিষয়েই কোরান বলে- فَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ بَطْنِهِ সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"তাদের [পানিতে সৃষ্ট ও বিবর্তিত জীবদের] কেউ-কেউ পেটে বা বুকের উপর ভর দিয়ে চলাচল করে"(24:45)।
তারপর সেই বুকে বা পেটের উপর ভর দিয়ে চলাচল করা জীবরা ডাঙায় কোটি-কোটি বছর ধরে বিবর্তিত হওয়ার পর 2 পা ওয়ালা জীবদের সৃষ্টি হয়, এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন- وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ رِجْلَيْنِ অনুবাদ হবে এমন-"তাদের [ডাঙায় পেটের উপর ভর দিয়ে জীবরা বিবর্তিত হয়ে] কেউ-কেউ 2 পায়ে চলাচল করতে শুরু করে"(24:45)।
তারপর সেই বুকে বা পেটের উপর ভর দিয়ে চলাচল করা জীবরা ডাঙায় কোটি-কোটি বছর ধরে বিবর্তিত হওয়ার পর, পাখি, হাঁস-মুরগি সৃষ্টি হওয়ার পর পেটের উপর ভর দিয়ে চলাচল করা জীবরা বিবর্তিত হয়ে 4 পায়ে চলাচল শুরু করে। এই তথ্য আল্লাহ এভাবে তুলে ধরেছেন- وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَىٰ أَرْبَعٍ সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"তাদের [বুকের উপর ভর দিয়ে চলাচল করা জীবদের] কেউ-কেউ 4 পায়ে চলাচল করে"(24:45)।
তারপর আল্লাহ এখানেই শেষ করে দেন নি। যদি শেষ করে দিত, তাহলে কোরান বৈজ্ঞানিক ভুলে পরিণত হয়ে যেত। কারণ বহু পায়ে চলাচল করা জীবরাও পৃথিবীতে বিবর্তননের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বিষয়েও আল্লাহ বলেছেন- يَخْلُقُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"অতপর আল্লাহ যেমন ইচ্ছা সৃষ্টি করেন বা যে ভাবে ইচ্ছা সৃষ্টি করেন"(24:45)।
এই আয়াতের 2 টি অর্থ হতে পারে- 1) শুধুমাত্র 2 পা ওয়ালা বা 4 পা ওয়ালা জীব সৃষ্টি নয়, তিনি 4 পায়ের বেশি পা ওয়ালা জীবও সৃষ্টি করেছেন, যেমন- কেন্ন এবং মাকড়সা ইত্যাদি!! আর দ্বিতীয় অর্থটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা জবাব!! জানেন, কি জবাব?? যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে- আল্লাহ বিবর্তনের মাধ্যমে কেন সৃষ্টি করলেন?? তার উত্তর হল- يَخْلُقُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"তিনি যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবে সৃষ্টি করে থাকেন"(24:45)। আল্লাহ কি ভাবে সৃষ্টি করবেন আর কিভাবে করবেন না, তা কি আপনি ঠিক করে দেবেন?? আপনি কোন লাটের বাঁট, হ্যাঁ??
আরও একটা প্রশ্ন উঠতে পারে- পৃথিবীতে 4 টি পর্যায়ে বিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে, এ বিষয়ে আর কোনও আয়াত কোরানে আছে কি?? আরও একটা প্রশ্ন হতে পারে- বিবর্তন কেন?? সুধী পাঠক, এই 2 টি প্রশ্নের উত্তর এক সঙ্গে আল্লাহ কোরানে দিয়েছেন, আর তা হল এভাবে-
وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ
অনুবাদ হবে এমন-"তিনি (পৃথিবীতে) পাহাড় সৃষ্টি করে ছেন এবং তাতে কল্যাণ দান করেছেন। আর তার মধ্যে [বিবর্তনের মাধ্যমে] সমস্ত প্রাণীদের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন 4 টি পর্যায়ে। যা প্রশ্নকারিদের জন্য গণনায় পরিপূর্ণ হয়েছে"(41:10)।
সুধী পাঠক, কোরান সর্বত্র বলেছে- মহাবিশ্ব সমূহ সৃষ্টি হয়েছে 6 দিনে কিন্তু 41:9- 41:12 পর্যন্ত পড়লে মনে হয় মহাবিশ্ব সমূহ সৃষ্টি হয়েছে 8 (৮) দিনে। এই গাণিতিক অমিলটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে নিচের Link এ। চাইলে Link এ Click করতে পারেন এবং দেখতে পারেন-
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=791936511191348&id=544853392566329
সুধী পাঠক, একটা কঠিন প্রশ্ন হবে- তাহলে কি আল্লাহ নেই?? আরও প্রশ্ন- বিবর্তনবাদীরা বলে থাকেন যে, বিবর্তন সত্য এবং আল্লাহ মিথ্যা!! এ বিষয়ে হোসেন কুরানীর কাছে কোনও উত্তর আছে কি?? এ প্রশ্ন 2 টির উত্তরে বলতে পারি- হোসেন কুরানীর কাছে উত্তর নেই, এমন প্রশ্ন আছে কি?? আপনি কেমন উত্তর চান?? কি ধরণের উত্তর পেলে খুশি হবেন?? বৈজ্ঞানিক উত্তর পছন্দ হবে কি?? তাহলে নিচের Link এ Click করতে পারেন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=735752006809799&id=544853392566329
এখন প্রশ্ন হতে পারে- তাহলে মানুষও কি বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে?? এক কথায়, উত্তর হবে- না কিন্তু আমি এ প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দিতে চাই না!! আমি এ প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দিতে চাই। তবে আজ আর নয়!! কারণ এমনিতেই লেখা অনেক বড় হবে গেছে!! এখন যদি মানুষ প্রসঙ্গে আবার লিখতে শুরু করি, তা হলে আরও বিরাট বড় হয়ে যাবে লেখাটা এবং তাতে পাঠকদের মনযোগ নষ্ট হতে পারে!! পাঠক, আপনার কি মনে হয়??
আজ 13.02.2020 তারিখ। আমার জীবনের গুরুত্ব পূর্ণ তারিখ গুলোর অন্যতম তারিখ!! জানেন তো কি হয়েছিল, গতবছর আজকের দিনে?? গতবছর অর্থাৎ 13.02.2019 তারিখে সেই মহিলার থেকে তার বাড়ির লোকেরা Mobile টা কেড়ে নেয় এবং আমাদের আত্মিক দুরত্ত্ব বাড়িয়ে দেয়!! তারপর লুকিয়ে-লুকিয়ে আরও 8 (৮) মাস যোগা-যোগ থাকে ও 13.10.2019 তারিখে সেই মহিলা নিজেই আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আজীবনের জন্য দূরে সরে যায়!! কেন আমার সঙ্গে প্রতারণা করল শুনবেন না?? আমার রঙ কালো এবং তার School life এর ফর্সা Boyfriend তার জীবনে আবারও ফিরে এসেছে!! অবাক করা- কারণ!! তাই নয় কি?? এ বিষয়ে একটা সুন্দর হিন্দি গানের কিছু অংশ দেখুন-
शीशा हो या दिल हो
आख़िर, टूट जाता है।
জানেন, 13.02.2019 তারিখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম এবং যখনই তার কথা মনে পড়ত, তখনই শুধু কাঁদতাম এবং আমি একা নয়, সেই মহিলাও কাঁদত!! তখন তার বাড়ির লোকের উপর খুব রাগ হত ও নিজের অজান্তেই কত অভিশাপ দিয়েছি কিন্তু আজ মনে হয়- কত ভুল করেছি, কত অন্যায় করেছি তার বাড়ির লোকের উপর অভিশাপ দিয়ে!! মাঝে-মধ্যে মনে হয় রাস্তায় যখন তার বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা হবে, তখন ক্ষমা চেয়ে নেব কিন্তু তারা কি ভাববে?? এ জন্য পিছিয়ে যাই!! এজন্য মাঝে-মধ্যেই মনে হয়-
इस ज़माने में इस मोहब्बत ने
कितने दिल तोड़े कितने घर फूँके!!
जाने क्यों लोग मुहब्बत किया करते हैं
दिल के बदले दर्द-ए-दिल लिया करते हैं
जाने क्यों लोग मुहब्बत किया करते हैं!!
যাইহোক, আপনি কি আমার বিজ্ঞান সম্মত লেখা গুলো পড়তে চান?? কোরানকে বিজ্ঞানের সাহায্যে বুঝতে চান?? তাহলে নিচের Link এ Click করতে পারেন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1026930141025316&id=544853392566329
এবার একটা শেষ প্রশ্ন- 24:45 আয়াতের শেষে কেন বলা হল- إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান তথা নিয়ন্ত্রক"(24:45)?? এ প্রশ্নের সাধারণ উত্তর চান, নাকি বৈজ্ঞানিক উত্তর চান?? চলুন, বৈজ্ঞানিক উত্তর দিই!! দেখুন-
উক্ত কথা বলে আল্লাহ এটা বোঝাতে চেয়েছেন যে- পানিতে যে প্রাণের সুত্রপাত হয়েছিল, তা তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণে বিবর্তনের মাধ্যমে নিদিষ্ট উদেশ্য সাধন করে ছেন এবং বিবর্তনে যদি আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ না থাকত, তা হলে বিবর্তন সফল হত না!! কিভাবে?? নিচের Link এ Click করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=735752006809799&id=544853392566329
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: