Facebook এর একজন মহিলা Massenger এ প্রশ্ন করে বলেছেন-"হোসেন স্যার, আমার গত প্রশ্নের যে উত্তর আপনি দিয়েছেন, তার জন্য কোন শব্দে আপনার প্রশংসা করব, সেই শব্দ পাচ্ছি না!! শুধুমাত্র এত টুকু বলতে পারি- ঐ নোংরা মহিলা (হানী'জি) ঠিকই বলত যে, আপনি সত্যিই অসাধারণ!! যদিও আমি নিজেও জানি!! এখন বুঝতে পারছি, কেন আয়েশা আপনাকে এত সম্মান করে এবং ভালবাসে!!
স্যার, আপনাকে একটা অনুরোধ চাইছি, রাখবেন?? আয়েশাকে বিয়ে করে নিন, আপনি সুখী হবেন, সত্যিই সুখী হবেন। আপনার জন্য দুঃখ হয়, সারাজীবন শুধু দুঃখ-কষ্টই পেয়েছেন, আপনার প্রয়োজন আয়েশার মতো জীবন সঙ্গী, যে আপনার জন্য Perfect হবে। আর আপনি যেমন ইসলাম অনুযায়ী জীবন-যাপন করেন, আয়েশাও আপনারই মতো ইসলাম অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। আর দেরি করবেন না!!
স্যার, এবার আমার প্রশ্নটা করি। প্রশ্নটা হল- কোরান অনুযায়ী, মানুষ কি কখনও মহাবিশ্ব বিজয় করতে পারবে?? স্যার, আপনাকে বলেই এই প্রশ্নটি করতে পারছি, বছর দু'য়েক আগে এক আলেমকে এই প্রশ্নটি করেছিলাম, তখন আপনার ব্যাপারে জানতাম না, সেই আলেম আমাকে বলেছিল- এ ধরণের প্রশ্ন করলে আমি নাকি কাফির হয়ে যাব!!
স্যার, আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত উত্তর চাই, যেন ঐ আলেমকে পাঠাতে পারি, ঐ আলেম আমাকে অনেক ছোট-বড় বলেছিল!! যাইহোক, ঐ মহিলাকে ভুলে যাওয়াই ভাল, নয়ত শুধু শুধু কষ্ট পাচ্ছেন!! তবে স্যার, ঐ মহিলা আপনার সম্পর্কে সব কিছু জেনে-শুনে আপনার সঙ্গে প্রতারণা করল!! ঐ মহিলা একদিন বুঝবে- কি পেয়েছিল এবং কি হারাল!! কিন্তু তখন আর কোনও উপায় থাকবে না!! খুব সহজে যদি কেউ মূল্যবান বস্তু পায়, সে তার মূল্য কখনও বুঝতে পারবে না!! তাই সে আপনার মূল্য বোঝে নি। তাই বলছি স্যার, যে আপনার মূল্য বোঝে তাকে ছেড়ে দেবেন না!!
আর আপনার এক লেখায় পড়লাম যে, আপনার Mobile এ Ring হলেই আপনি সেই মহিলার Call ভেবে দৌড়ে Call received করতে যান!! যে মহিলা গায়ের রঙের জন্য আপনাকে ছেড়ে দেয়, ঐ রকম নোংরা চরিত্রের মহিলা আপনাকে Call করবে বলে ভাবলেন কিভাবে?? আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হন, আপনার সুস্থতা কামনা করছি"।
হ্যাঁ এটা সত্য যে, সারাজীবন আমি শুধু দুঃখ-কষ্ট পেয়েছি, এখনও পাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও হয়ত এভাবেই কষ্ট পেতে থাকব!! আমি কখনও সুখের মুখ দেখি নি!! জানি না কেন, কোন কারণে!! মনে হয় আমার ভাগ্যে আল্লাহ সুখ লিখতে ভুলে গিয়েছেন, আর নয়ত আমার জীবনটাই অভিশপ্ত!! মাঝে-মধ্যে মনে হয়- হানী ভালই করেছে, আমাকে ছেড়ে চলে গেছে!! আমার সঙ্গে থাকলে হয়ত তার জীবনটাও খারাপ হয়ে যেত!! হানী মনে হয় ঠিকই করেছে!!
না, আসলে জানি যে- হানী আর কখনও আমাকে Call করবে না, কখনও না!! কিন্তু কি জানেন তো, 'মন মানে না'। 'মন মানে না' নামে আবার 2 টি বাংলা Film আছে!! একটা মনে হয় 'প্রসেনজিৎ' অভিনীত, অন্যটা মনে হয় 'দেব' অভিনীত!! তাই না??
বিয়ে?? আর এ সব ভাল লাগে না!! আগেও এ সব ভাল লাগত না কিন্তু হানীকে বিয়ে করার ইচ্ছা হয়ে ছিল এবং এই জন্যেই হয়ত আজও আমার গোটা মন জুড়ে অবস্থান করছেন হানী'জি!! জানেন হানী'জি, আজ প্রায় 55 দিন হল আপনি আমাকে ধোকা দিয়েছেন ও প্রতারণা করেছেন। এই 55 দিনে আমি আপনাকে একটুও ভুলতে পারি নি, আপনার প্রতি খারাপ কোনও শব্দ ব্যবহার করি নি, আপনার উপর রাগ/ ঘৃনাও আসে না, যদিও আমার বোনেরা আপনাকে গালাগালি করে!! হানী'জি, আপনি আজও আমার কাছে ঠিক তেমনই প্রিয়, যেমন ছিলেন আগে!! আমি আজও আপনাকে ততটাই ভালবাসি, যতটা ভালবাসতাম আগে!! যদিও আপনি হয়ত ভুল করেও আমার কথা মনে করেন না এবং আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ ঘৃণা করেন!! আসলে কাল রঙের মানুষ তো, ঘৃণা পাবার কথাই তো!! কিন্তু আমি আপনাকে এত ভালবাসি যে, প্রতারণার দরুন আপনার প্রতি ঘৃণাও তৈরী হয় না!! আজ যেন পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি- কিভাবে, কি সুন্দর ভাবে ভালবাসার কাছে ঘৃণা হেরে যাচ্ছে!! আজ যেন লেখার মধ্যে সাহিত্যিক ভাব ফুটে উঠছে!! জানেন হানীজি, আমার পরিস্থিতির উপর একটা হিন্দি গানের কয়েক লাইন মনে পড়ছে, শুনবেন?? শুনুন না, শুনুন-
तू मेरी ज़िन्दगी है
तू मेरी हर ख़ुशी है
तू ही प्यार, तू ही चाहत
तू ही आशिकी है
हर ज़ख्म दिल का तुझे
दिल से दुआ दे
खुशियाँ तुझे, गम
सारे मुझको आललाह दे
तुझको भुला ना पाया
मेरी बेबसी है
সুধী পাঠক, আর আমরা সময় নষ্ট করতে চাই না, যদি আমার গত লেখাটি পড়তে চান, তাহলে নিচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=974593779592286&id=544853392566329
আপনি আরও বলছেন যে, কোনও এক আলেমকে প্রশ্ন করেছিলেন কিন্তু সেই আলেম আপনার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আপনাকে ছোট-বড় বলেছিল!! তাই নয় কি?? আসলে এই আলেমদের 'গায়ে জ্ঞান কম এবং চুলকানিতে ভর্তি'। এরা উত্তর না দিতে পারায় মানুষের সঙ্গে এই রকম আচরণ করে!! অনেক আলেম এও বলে থাকে যে- কিছু কিছু প্রশ্ন করতে নেই, এমন কিছু প্রশ্ন আছে, যেগুলো করলে ইমান চলে যাবে!! আসলে সেই সব প্রশ্নের উত্তর ঐ আলেমদের জানা নেই, ঐ জন্য এই রকম কথা বলে মানুষকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা করে!! এখন একটা প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ইসলাম অনুযায়ী- প্রশ্ন করা কি নিষিদ্ধ?? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=774039472981052&id=544853392566329
জানেন, আমি যখনই 'গায়ে জ্ঞান নেই, চুলকানিতে ভর্তি' কথাটি বলতাম, তখন হানী এই কথাটি শুনে খুব হাসত!! কি আজব জাতীয় ঘটনা দেখুন, উপরে যে লিঙ্ক দিয়েছি, ঐ লিঙ্কের লেখাটি হানী চেক করেছিলেন কিন্তু আজ দেখুন, হানী আমার জীবনে অতীত!! সময় বড় আজব!! এই জন্যেই আল্লাহ হয়ত পবিত্র কোরানে সময়ের শপথ করেছেন এভাবে- وَالْعَصْرِ অনুবাদ হবে এমন-"সময়ের শপথ"(103:1)।
চলুন পাঠকগণ, এবার আমরা মূল প্রশ্নের উত্তরের দিকে এগিয়ে যাব। প্রশ্নটি ছিল- মানুষ কি কখনও পারবে মহাবিশ্ব জয় করতে?? এই প্রশ্নের এককথায় উত্তর হল- হ্যাঁ, পারবে। পবিত্র কোরানে এ প্রশ্নের উত্তর 1500 বছর আগে থেকেই বিদ্যমান এবং উত্তরটি প্রদান করে রাখা হয়েছে এভাবে-
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا ۚ لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ
অনুবাদ হবে এমন-"হে জ্বীন ও মানব সম্প্রদায়, তোমরা যদি মহাবিশ্ব হতে বেরিয়ে যেতে চাও, তবে যাও কিন্তু প্রচণ্ড শক্তি অর্জন ছাড়া মহাবিশ্ব হতে বের হতে পারবে না"(55:33)। এই আয়াতটি কোনও ধর্মগ্ৰন্থের হতে পারে বলে মনে হচ্ছে না, তাই না?? কেননা, 1500 বছর পূর্বে অন্ধকার যুগে অবতীর্ণ হওয়া কোনও ধর্মগ্ৰন্থে মানব জাতি উন্নতি সম্পর্কে এত বিরাট ভবিষ্যৎ বাণী করা সম্ভব ছিল না!! কিন্তু ভবিষ্যৎ বাণীটি কি?? সেটা হল- 'প্রচণ্ড শক্তি অর্জন করলে' মহাবিশ্ব থেকে বের হওয়া সম্ভব!! এটা কত বড় ভবিষ্যৎ বাণী জানেন?? বর্তমান কালেরও তাবড়-তাবড় বিজ্ঞানীগণ এটা বলতে পারেন না যে, মহাবিশ্ব থেকে বের হতে পারবে!! কেননা, মানুষ এ বিষয়ে এখনও শিশু অবস্থায় আছে!! এই শুধুমাত্র আমরা চাঁদে মানুষ পাঠাতে পেরেছি, যার দুরত্ব পৃথিবী হতে মাত্র 3 লক্ষ কিমি!! তাই এ বিষয়ে যে মানুষ এখনও শিশু অবস্থায় রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!! তাই না??
আমি السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ শব্দগুচ্ছের অনুবাদ করেছি- মহাবিশ্ব, কিন্তু প্রচলিত অনুবাদ হবে-"পৃথিবী ও আকাশ মন্ডল"। জানেন, একবার আলেমের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল আমার। সেই আলেম বলছিল- চাঁদে যাওয়া বিশ্বাস করলে কাফির হয়ে যেতে হবে, কারণ মানুষ এত শক্তিশালী নয় যে, এই পৃথিবীর সীমা থেকে বের হতে পারবে, জ্বীনেরা বের হতে চায়লে, অগ্নিশিখা তাদের পিছনে ধাওয়া করে!! আর, তিনি কথা বলতে-বলতে আমাকে বেশ কয়েকবার কাফির বলে দিল!!
আমি প্রথমেই 55:33 আয়াতটি উদ্ধৃতি করলাম এবং বললাম- যখন আল্লাহ বলছে যে, প্রচণ্ড শক্তি অর্জন করলে মানুষ শুধু পৃথিবী থেকে নয়, মহাবিশ্ব জয় নয় বরং মহাবিশ্ব হতে বেরিয়ে যেতে পারবে। তখন আপনি বলার কে যে, চাঁদে যাওয়া বিশ্বাস করলে কাফির হতে হবে?? এই 55:33 আয়াত বিশ্বাস না করলে, আপনি কি হবেন??
তখন সেই আলেম কি করল জানেন?? তিনি তার কাছে থাকা কোরানের একটা অনুবাদ বের করে 55:33 আয়াতটা খুলে দেখে বললেন- এখানে তো বলা হয় নি যে, মহাবিশ্ব হতে বের হয়ে যেতে পারবে বরং বলা হচ্ছে-"হে জ্বীন ও মানব সম্প্রদায়, তোমরা যদি পৃথিবী ও আকাশমন্ডলের সীমা হতে বেরিয়ে যেতে চাও, তবে যাও কিন্তু প্রচণ্ড শক্তি অর্জন ছাড়া তোমারা তা হতে বের হতে পারবে না"।
তখন আমি তাকে বললাম- আমি السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ শব্দগুচ্ছের অনুবাদ করেছি- মহাবিশ্ব, কিন্তু প্রচলিত অনুবাদ-"পৃথিবী ও আকাশ মন্ডল"। সুতরাং যদি তাই হয়, তবুও তো বলা হচ্ছে- শক্তি অর্জন করলে পৃথিবী ও আকাশমন্ডলের সীমা হতে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব!! তাই নয় কি?? তাহলে আপনার দাবী ধোপে টিকল কই??
যাইহোক, এবার গোঁড়া আলেমদের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা যাক!! কোরান দাবী করে ছিল বটে যে, মানুষ পৃথিবীর সীমা অতিক্রম করতে পারবে প্রচণ্ড শক্তি অর্জন করলে!! এটা সত্য প্রমাণিত হল- 1969 সালে চাঁদে পা রাখার মধ্য দিয়ে!! তার আগে পর্যন্ত মানুষের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, পৃথিবীর মধ্যকর্ষণ বল অতিক্রম করা সম্ভব নয় কিন্তু কোরান বলে রেখে ছিল যে- لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ অনুবাদ হবে এমন-''বেরিয়ে যেতে পারবে না প্রচণ্ড শক্তি অর্জন ছাড়া"(55:33)। এখানে بِسُلْطَانٍ (বি সুলতান) অর্থ হল- "প্রচণ্ড শক্তি অর্জন"। কিন্তু 'প্রচণ্ড শক্তি অর্জন' বলতে কোরান কি বোঝাতে চেয়েছে?? এখানে Escape velocity'র কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে 11 কিমি গতি অর্জনের কথা বলা হচ্ছে। এই গতি অর্জন করলে তবেই পৃথিবীর মধ্যকর্ষণ বলকে হারিয়ে পৃথিবীর সীমা অতিক্রম সম্ভব!! বুঝেছেন??
এ তো গেল পৃথিবীর সীমা অতিক্রমের ব্যাপারটি কিন্তু মহাবিশ্ব, মহাবিশ্ব অতিক্রম!! কিভাবে সম্ভব?? আদেও কি সম্ভব এটা?? আজও পর্যন্ত মহাবিশ্বের কোনও সীমা আবিষ্কার হয়েছে কি?? উত্তর হল- না!! তাহলে সীমা অতিক্রমের তো প্রশ্নই ওঠে না!! তাই না?? এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল- সীমা আবিষ্কার হয় নি কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কখনও আবিষ্কার হবে না!!
কারণ, সৃষ্টি জগতে অসীম বলতে কোনও কিছু হয় না, সবই সসীম, অসীম তো শুধুমাত্র আল্লাহ!! তাই এটা নিশ্চিত যে, কখনও তো মহাবিশ্বের সীমা আবিষ্কার হবে এবং হবেই!! আমাদের মহাবিশ্বটি আকারে আনুমানিক 30,000 Billion lights year এর। যদি এই মহাবিশ্বটি আলোর গতিতেও অতিক্রম করার চেষ্টা করা হয়, তবুও আপাত দৃষ্টিতে সময় লেগে যাবে 30,000 Billion বছর!! কিন্তু এখানে সুবিধা হল এটা যে, আলোর গতি অর্জন করলে সময় (0) শূন্যে অবস্থান করবে, তাই আলোর গতিতে মহাবিশ্ব অতিক্রম করতে কোনও সময় লাগবেই না, কিন্তু অসুবিধা হল- সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বস্তুও শূন্যে (0) অবস্থান নেবে!!
যদি ভবিষ্যতে এমন কোনও Technology আবিষ্কার হয় যে, আলোর গতি অর্জন করলেও বস্তু শূন্যে (0) অবস্থান নেবে না, তাহলে মহাবিশ্ব অতিক্রম করা মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র!! মুহূর্ত বলতে 1 সেকেন্ডের লক্ষ ভাগের এক ভাগ হয়ত!!
সুধী পাঠক, এবার মহাবিশ্ব অতিক্রমের একটা বাস্তব উদাহরণ পেশ করতে চাই। কিন্তু জানেন, আবার শীত চলে এল, এবার সব জায়গায় মেলা বসবে!! গত শীতে হাওড়া জেলার বিখ্যাত মুন্সিরহাট মেলায় গিয়েছিলাম হানীর জন্য খেলার পুতুল কিনতে!! আমি জীবনে কোনও মেলায় যায় নি, কারণ মেলা ইসলামে নিষিদ্ধ!! প্রথমবার হানীর জন্য গিয়েছিলাম!! গিয়ে একটা সুন্দর পুতুল কিনেছিলাম হানীর জন্য এবং হানী বলত- এই পুতুলটা আমাদের মেয়ে এবং পুতুলটার নাম দিয়েছিল- মাহি!! জানেন, আমরা পুতুলটাকে আমাদের মেয়েই ভাবতাম এবং মাহি বলেই ডাকতাম!! হানী মাহিকে পেয়ে কত খুশি হয়েছিল!! একবার ডান কাঁধে নিচ্ছিল, একবার বাম কাঁধে নিচ্ছিল, একবার কোলে শোয়াচ্ছিল এবং কত চুমু খাচ্ছিল মাহিকে!! পরে হানীর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিই, তার বাড়ির লোক বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিয়েতে অসম্মতি জানায়, তারপর হানী তাদের বাড়িতে বলে- আমি হোসেনকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু তার বাড়ির লোক তাতেও রাজি না হয়ে হানীর থেকে তার মোবাইলটা কেড়ে নেয় এবং হানীকে যে উপহার গুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে যায়, সঙ্গে মাহিকেও!! তখন থেকে মাহি আমার কাছেই ছিল!!
জানেন, আমি কত পাগল ছিলাম!! আমিও মাহিকে নিয়ে খেলা করতাম, তাকে কোলে নিয়ে বসে থাকতাম এবং সঙ্গে নিয়ে শুতাম!! এই গত 55 দিন যখনই মাহিকে দেখতাম, তখনই পুরান স্মৃতি গুলো যেন জেগে উঠত এবং কেঁদে ফেলতাম!! ঐ জন্য আজ বোনেরা খুব জোর করে বলল- দাদা, এই পুতুলটা ফেলে দাও!! কিন্তু কি করে ফেলে দিই, এ যে আমার মাহি!! হানী এ সব ভুলে গেলেও আমি কি করে ভুলে যাই!! তাই বোনেদের বললাম- ফেলতে পারব না, তবে মাহিকে আমার থেকে দূরে রেখে আসতে পারি!! তাই আজ ফ্ল্যাটে গিয়েছিলাম মাহিকে রেখে আসতে। আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না হয়ত- আমার মা'কে কবরে আমিই নামিয়ে ছিলাম!! মা'কে কবরে নামাবার সময় আমার যেমন কষ্ট ও যন্ত্রণা হচ্ছিল, আজ মাহিকে ফ্ল্যাটে রেখে আসার সময় ঠিক তেমনই কষ্ট ও যন্ত্রণা অনুভব করছিলাম!! এ যেন কলিজা ছিঁড়ে যাওয়ার কষ্ট!! দেখুন না, এখন লিখছি আর চোখ দিয়ে টপ-টপ করে পানি পড়ছে এবং সারাজীবন হয়ত এভাবেই চোখ থেকে পানি পড়তে থাকবে!! সত্যি বলতে, এখন হানীর স্মৃতিই আমার একমাত্র সঙ্গী এবং চোখের পানি যেন আমার জন্য সান্ত্বনা!! এই পরিস্থিতির উপর সুন্দর একটা বাংলা গান মনে পড়ছে, শুনবেন?? শুনুন-
প্রেম বড় মধুর, কভু কাছে, কভু সুদূর
কখনও জীবনে ফুল ফোঁটায়ে
কখনও কাঁদিয়ে যায় সে দূর
প্রেম বড় মধুর, কভু কাছে, কভু সুদূর
হ্যাঁ চলুন, এবার আমরা মহাবিশ্ব অতিক্রম করার বাস্তব একটা উদাহরণ পেশ করতে চাই এবং তা হল- মিরাজ। মিরাজের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে দেখিয়ে দিলেন যে, মানুষ শুধুমাত্র মহাবিশ্ব জয় করতেই নয় বরং মহাবিশ্ব অতিক্রম করতে পারবে, তাও এক মহাবিশ্ব নয় বরং একাধিক মহাবিশ্ব!! যদি মিরাজ সম্পর্কে আরও বেশি জানতে চান, তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=717480885303578&id=544853392566329
সুধী পাঠক, গত কয়েকটি পোষ্টে হিন্দি এবং বাংলা গানের কিছু কিছু লাইন উদ্ধৃতি করি। এ বিষয়ে কেউ কেউ হয়ত প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, ইসলামিক লেখায় গানের লাইন উদ্ধৃতি থাকবে কেন?? এ বিষয়ে জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=647789315606069&id=544853392566329
জানেন, আজ মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে খুব জোরে-জোরে কেঁদে ফেলেছিলাম, ঐ জন্য এখনও মাথার যন্ত্রণা হচ্ছে। জানি না, এসব আমার সঙ্গে কি হচ্ছে!! আমি মনে হয় মারা যাব- আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আল্লাহ একটু তাড়াতাড়ি মৃত্যু দিন, আমি এত কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না!!
আমার অন্যান্য বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা পড়ার জন্য নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=971133386604992&id=544853392566329
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: