Whats app গ্ৰুপের প্রশ্নের উত্তরে "নারী অধিকার সম্পর্কে" লেখা শুরু করেছিলাম এবং 20-22 টি বিষয়ে লেখা হয়েছে। এবং ভেবেছিলাম হয়ত এই "নারী অধিকার সম্পর্কিত" লেখা এবার শেষ!! কিন্তু তা নয়!!
বেশ কিছুদিন আগে হানী'জি এক নাস্তিকের ভিডিও পাঠিয়েছিলেন ও "ভিডিওতে উত্থাপিত" প্রশ্নের উত্তরও দিতে বলেছিলেন। তাই, "আল্লাহ কি ভুলে যাওয়া রোগে আক্রান্ত" শিরোনামে একটি লিখিত উত্তর দিয়েছিলাম। নিচে সেই উত্তরের লিঙ্ক দিলাম। উক্ত লিঙ্কে ক্লিক 4 টি বিবাহ আলোচনা করা হয়েছে। তাই, অনুরোধ করব যে, লিঙ্কে ক্লিক করুন। আজকের উত্তর, সেই উত্তরের পর থেকে শুরু করব- ইনশাআল্লাহ। তাই, আজকের লেখা ভালভাবে বুঝতে হলে লিঙ্কে অবশ্যই ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=782840528767613&id=544853392566329
এছাড়াও অনেকেই বলেন যে-"ইসলাম 'পুরুষকে 4 টি বিয়ের অধিকার দিয়ে' নারীকে পুরুষের যৌনদাসীতে পরিণত করেছে"। যাইহোক, নিচে আরও একটি লিঙ্ক দিচ্ছি। লিঙ্কে ক্লিক করে দেখুন-"নারীরা পুরুষের যৌন দাসী"?? লেখাটি পড়ে আপনার বুক গর্বে ভরে যাবে ও আপনিও আমার মত "ইসলামে অহংকারী" হয়ে উঠ বেন- ইনশাআল্লাহ। তাই, লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=811579515893714&id=544853392566329
#উত্তর:::- উত্তর দেওয়ার আগে, যে আয়াতটিতে 4 টি বিবাহের প্রস্তাব এসেছে- সেই আয়াতটি দেখা যাক। চলুন, হ্যাঁ?? আচ্ছা, চলুন-
وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَىٰ فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَلَّا تَعُولُوا
অনুবাদ হবে এমন-"আর যদি তোমরা এতিমদের (মেয়ে দের) সাথে ন্যায়বিচার করার ব্যাপারে ভয় কর, তাহলে যেসব (স্বাধীন) মেয়েদের তোমরা পছন্দ কর, তাদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে কর। কিন্তু যদি তোমরা তাদের সাথে ন্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজনকেই বিয়ে কর★। অথবা তোমাদের অধিকারে সেসব মেয়ে আছে তাদেরকে (দা সীকে) বিয়ে কর। অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটিই অধিকতর সঠিক পদ্ধতি"(4:3)।
উক্ত আয়াতটিকে সহজ-সরল ভাবে পেশ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জানি যে, তবুও তা বুঝে নেওয়া একটু মুসকিলইইইই হবে!! তবুও চেষ্টা করুন বুঝতে, হয়ত আল্লাহ আপনাকে সহায়তা করবে। কারণ, আল্লাহ বলে ছেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ অনুবাদ হবে এমন-"হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন"(4 7:7, 22:40)।
এখানে আল্লাহকে সাহায্য করার অর্থ হল- আল্লাহর প্রেরিত জীবন তথা ইসলামকে বোঝা এবং তার বিধি বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রচেষ্টা করে, তাকে আল্লাহ সাহায্য করেন। বুঝলেন??
এবার আমরা উক্ত আয়াতকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করব- তাহলে হয়ত আয়াতটিকে বুঝতে অনেক সুবিধা হবে। উক্ত আয়াত সম্পর্কে বিভিন্ন মুফাসসির ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। যদিও আমরা সেই আলোচনায় প্রবেশ করব না। সত্যি বলতে, মুফাসসিরদের আলোচনা নিয়ে কথা বলার মত *অউকাত* আমার নেই। তাই চলুন, আমরা ছোট্ট বুদ্ধি নিয়ে এগিয়ে যাই। কিন্তু তার আগে আয়াতটির বঙ্গানুবাদ আরও একবার দেখুন-
"আর যদি তোমরা এতিমদের (মেয়েদের) সাথে ন্যায় বিচার করার ব্যাপারে ভয় কর, তাহলে যেসব (স্বাধীন) মেয়েদের তোমরা পছন্দ কর, তাদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে কর। কিন্তু যদি তোমরা তাদের সাথে ন্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজনকেই বিয়ে কর★। অথবা তোমাদের অধিকারে সেসব মেয়ে আছে তাদেরকে (দাসীকে) বিয়ে কর। অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটিই অধিকতর সঠিক পদ্ধতি"(4:3)।
এখান থেকে যে সব তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা লক্ষ্য করা উচিত। তবেই উক্ত 4:3 আয়াতের মর্মার্থ উপলদ্ধি করতে পারব- ইনশাআল্লাহ। নয়ত, আয়াতটিকে প্রতিটি নাস্তিক/ অমুসলিম/ ইসলাম বিদ্বেষীরা ভুল ভাবে উত্থা পিত করে। তাই, চলুন-
1) উক্ত সূরার অর্থাৎ 4:2-3 আয়াত অনুযায়ী এবং মা আয়েশা (রা)- এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী- সম্পদের লোভে সে যুগে অনেকেই এতিম মেয়েদেরকে বিবাহ করত। অথচ সেই এতিম নারীদের প্রতি তাদের কোনও ধরণের আক র্ষণ ছিল না এবং তাদের মোহরানাও ঠিক ভাবে আদায় করত না। এই পরিস্থিতি বিচার করে বলা হয়েছে-
"তাদের জন্য এতিম মেয়েকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে"।
2) তার পরিবর্তে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দুই, তিন, ও চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আচ্ছা বলুন- 4:3 আয়াতকি এতিম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করল না??
3) কিন্তু যদি তোমরা তাদের (একাধিক স্ত্রী'দের) সাথে ন্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজনকেই বিয়ে কর★। এই *একটি বিয়ের* নির্দেশ পবিত্র কোরান বাদ দিয়ে অন্য কোনও ধর্মগ্ৰন্থে নেই।
4) যদি স্বাধীন একজন নারীকে বিয়ে করেও তার সঙ্গে ন্যায় বিচার না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে পবিত্র কোরানের নির্দেশ হল-"তোমাদের অধিকারে সেসব মেয়ে আছে, তাদেরকে (দাসীকে) বিয়ে কর। অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটিই অধিকতর সঠিক পদ্ধতি"(4:3)।
5) এককথায়, উক্ত 4:3 আয়াতে অনেকগুলো Option দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে নির্দেশ হল-"একটি বিয়ের ও বাকি গুলো অনুমোদন"। যাকে, ইসলামী পরিভাষায় বলা হয়-"মুবাহ বা ঐচ্ছিক"।
উপরিউক্ত 5 টি প্রস্তাব উক্ত 4:3 আয়াতে প্রস্তাবিত হয়েছে। এবার আমরা এটা দেখাতে চাই যে, 4:3 আয়া তের তথ্য। তাই চলুন, এগিয়ে যাই-
1) সেই যুগে মানুষ একাধিক বিবাহ করত, যার নিদিষ্ট কোনও সীমা ছিল না। উক্ত 4:3 আয়াতে তার একটি লিমিট করে দেওয়া হয়েছে, আর তা হল- 4 টি। তার বেশি বিবাহ হারাম!! এ বিষয়ে এই হাদীসটি দেখুন-
"ইবনে উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- গাইলান ইবনে সালামা আস-মাকাফী যখন ইসলাম গ্ৰহণ করেন, তখন তার 10 জন স্ত্রী ছিল, যাদের জাহেলী যুগে বিয়ে করেছিলেন এবং তার সমস্ত স্ত্রী'রাও তার সঙ্গে ইসলাম গ্ৰহণ করে। নবী (স) তার স্ত্রী'দের মধ্যে সর্বোচ্চ 4 জন কে বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেন"(তিরমিযী, কিতাবুন নি কাহ, হাদীস 1066)।
2) "মাত্র একটি বিবাহ ফরজ" বা একটি বিয়ের নির্দেশ রয়েছে।
3) একাধিক বিয়ে বা একটির বেশি বিয়ের অনুমোদন রয়েছে, কিন্তু নির্দেশ এক'টির।
4) একাধিক বিয়ের শর্ত হল- স্ত্রীদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করা ও স্ত্রীদের সমান দৃষ্টিতে দেখা!! আর, স্ত্রীদের সম দৃষ্টিতে দেখা প্রসঙ্গে কোরান কি বলে দেখুন-
وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ
অনুবাদ হবে এমন-''স্ত্রীদের মধ্যে কখনও পুরোপুরি ন্যায়বিচার করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তোমরা চাইলেও এ ক্ষমতা তোমাদের নেই"(4:129)।
তাহলে কি বোঝা গেল?? স্ত্রীদের মাঝে ন্যায় বিচার/ সম বিচার একাধিক বিয়ের শর্ত। কিন্তু 4:129 বলছে- "একাধিক স্ত্রীদের মাঝে ন্যায়বিচার ও সম বিচার সম্ভব নয়"।
তাহলে এখন দাঁড়ালো কি?? দাঁড়ালো এটাই যে- ন্যায় বিচার করতে পারলে একের অধিক বিয়ে করতে পার, কিন্তু স্ত্রীদের মাঝে ন্যায়/ সম বিচার অসম্ভব। সুতরাং ঐ জন্যেই 4:3 আয়াত বলছে- فَوَاحِدَةً যার অনুবাদ হবে এমন-"তাহলে মাত্র একটিই বিয়ে কর''।
5) কেন 4 টি বিয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তার অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে প্রথমে যেই লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে, তাতে। তবুও সুবিধার্থে নিচে লিঙ্ক দেওয়া হল---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=782840528767613&id=544853392566329
★পরিশেষে একটু ব্যাক্তিগত কথা বলি। আমার এখ নও বিয়ে হয় নি। তবে, আমার বোনের বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছি। দোয়া করবেন যেন- খুব ভাল পাত্রের সন্ধান আল্লাহ করে দেন। একেবারে খুব দ্বীনদার, পর হেজগার, খাওয়া মিস হবে তো নামাজ না মিস হয়!! আর, সবচেয়ে বড় কথা হল- তার যেন সুন্নাত অনুযায়ী দাড়ি থাকে।
পাত্রের মধ্যে এই গুণ থাকা অবশ্যক- এটা আমার বোনের নিজের সিদ্ধান্ত। এবং তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই!!
যাইহোক, আমি আমার জীবনের কোনও একটা সম য়ে বিবাহ করব না বলে ভেবেছিলাম। অবশ্য তখনও আমি জানতাম না যে- বিবাহ ফরজ!! কারণ, আমাদের আলেম-উলেমারা বলেন- বিবাহ নাকি সুন্নাত!! কিন্তু এ ধারণা ভুল। *বিবাহ সুন্নাত নয়, বিবাহ করা ফরজ*। এ বিষয়ে একটা হাদীস দেখুন, যেখানে নবী (স) বলেছেন-
"যে ব্যাক্তি আমার নিয়মের প্রতি বিরাগ পোষণ করবে, সে আমার উম্মতের শামিল নয়"(বুখারী, কিতাবুন নিকা হ, হাদীস 4693)। এছাড়াও রয়েছে পবিত্র কোরানের পরিষ্কার নির্দেশ, এভাবে-
فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَلَّا تَعُولُوا
অনুবাদ হবে এমন-"কিন্তু যদি তোমরা তাদের সাথে ন্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজনকেই বিয়ে কর★। অথবা তোমাদের অধিকারে সেসব মেয়ে আছে তাদেরকে (দাসীকে) বিয়ে কর। অবি চারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটিই অধিকতর সঠিক পদ্ধতি"(4:3)।
তাই, মজবুর হয়ে যাই নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে। এবং ভাবতে থাকি বয়স হোক না, কখনও করবক্ষণ বিয়ে!! এতে এত তাড়াতাড়ির কি আছে!!?? কিন্তু গত প্রায় 1 বছর 2 আগে আমার জীবনে হানী'জির আর্বিভাব হয় এবং ইচ্ছা হয় বিয়ে করার!! জানি না আর কিছুই এবং আর লিখতেও ভাল লাগছে না!! তবে, অনেক জনের দোয়ায় এবং আল্লাহর দয়ায় আমি এখন ও আজ শারী রিক ও মানসিক ভাবে বেশ সুস্থ। মানে 3.5.19 তারিখে।
★যাইহোক, ভগবত পুরাণের দশম স্কন্ধ থেকে একটা তথ্য তুলে ধরতে চাই, যেখানে বলা হয়েছে- শ্রী কৃষ্ণের স্ত্রী ছিল মোট 16,108 টি মাত্র!! আর, বাইবেলের এই তথ্যটিও তুলে ধরতে চাইছি, যেখানে বলা হচ্ছে- সোলো মোন (সুলাইমান আ.) এর 700 স্ত্রী 300 উপপত্নি ছিল মাত্র!! এটা উল্লেখ রয়েছে 1st kings 11:3 এ। এবার একটা প্রশ্ন জাগছে মনে, তা হল- এই রকম রেকর্ড পরি মাণ বিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউ করেছে কি??
#সবাইকে হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করছি যে, কেউ আমাকে পার্সোনালি প্রশ্ন করবেন না। এ রকম করলে আমাকে খুব বিরক্ত লাগে। অনেকেই আছেন, যারা ছোট্ট ছোট্ট প্রশ্ন আগে আমাকে পার্সোনালি করে, তার পর গ্ৰুপে করেন!! কেন আমাকে পার্সোনালে এসে প্রশ্ন করেন?? আমি মানুষ নই?? আমার বিরক্ত নেই??
কোনও কাজের জন্যও Net on করলেই শত-শত ম্যাসেজ!! এগুলো বিরক্তিকর ব্যাপার!! এবার থেকে কেউ পার্সোনালি প্রশ্ন করলে তাকে ব্লক করতে বাধ্য হব!!
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: