@আল্লাহর কুরশি, বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা@
Facebook এর একজন মহিলা আয়েশা জাহান Massenger এ প্রশ্ন করে বলেছেন-"Sir, I have no words to praise you. আমি শব্দহীন হয়ে গেছি, এটা ভেবে- একজন Arts বিভাগে মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়া কোনও মানুষ কিভাবে বিজ্ঞানের এত নিক্ষুত বিষয় গুলো জানেন?? I mean sir, How is this possible?? আমি ভেবে পাচ্ছি না!! অনেকেই বলে- মুজেজা আগে হত, এখন আর হয় না কিন্তু যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে ধারণা বদলে যেত এবং তারাও বলত- Sir, you are sign of allah.
স্যার, জানি- আপনি ঐ মহিলাকে এখনও অনেক ভালবাসেন কিন্তু যে আপনাকে এভাবে প্রতারিত করল, কেন আপনি তাকে আপনার মূল্যবান লেখার মধ্যে স্থান দিচ্ছেন?? আপনি যত ঐ মহিলার বিষয়ে ভাববেন, তত আপনার কষ্ট হবে কিন্তু Fraud মহিলা হয়ত খুশিতেই আছে!! স্যার, আপনি কেন বুঝতে পারছেন না যে, ঐ Fraud মহিলা আপনার যোগ্য ছিল না!! ঐ মহিলা তো দূরের কথা, 'আপনার কুন ফা-ইয়াকুন, আল্লাহর অস্তিত্ব ও বিজ্ঞান' লেখাটি আমার এক বান্ধবীকে পাঠালাম। সে Physics নিয়ে অনেক পড়া-শোনা করেছে, সে আপনার লেখাটা পড়ে মন্তব্য করেছে- জীবনে এমন লেখা প্রথম পড়লাম!! বিজ্ঞানের সাহায্যে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ, এটা সম্ভব বলে কখনও ভাবতেও পারি নি এবং কোরান এত বিজ্ঞানসম্মত, এই লেখাটা না পড়লে কখনও জানতেও পারতাম না!!
স্যার, যখন আমার বান্ধবীকে বলেছি- যিনি এটা লিখেছেন, তিনি Arts বিভাগে মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়া-শোনা করেছেন!! তখন আমার বান্ধবী বলছে- তুই মিথ্যা বলছিস, এটা কখনও সম্ভব নয় যে, এই লেখক মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়া-শোনা করেছে, তাও আবার Arts বিভাগে!! তাকে আপনার 'আল্লাহ কোথায় আছে' লেখাটা পাঠিয়েছি, কই এখনও কিছু বলে নি। স্যার, আপনি ঐ মহিলার কথা চিন্তা করা ছেড়ে দিন, আপনি অসাধারণ মানুষ, আল্লাহ ভাল কিছু রেখেছেন আপনার জন্য, যে আপনাকে এত ভালবাসবে যে, আপনি সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাবেন!!
কখনও কোনও পুরুষকে কাঁদতে দেখি নি, প্রথমবার আপনাকে দেখলাম, সত্যিই আপনি বাচ্চা ছেলের মতো কাঁদেন!! কেন এত কাঁদেন?? চোখের পানির মূল্য সবাই দিতে পারে না স্যার, ঐ Fraud মহিলা তো কখনও দেবে না!! কিন্তু আপনার কান্না শুনে চোখে পানি ধরে রাখতে পারি নি এবং তখন মনে-মনে ভাবছিলাম- ভাগ্যবতী ঐ মহিলা, যার জন্য আমার গর্বের মানুষটা কাঁদছে!!
আপনি কাঁদবেন না, আমি আপনাকে এভাবে দেখতে পারব না, আমি চাই- আমি সর্বদা খুশিতে থাকুন এবং দ্বীনের অনেক জন্য বড় কিছু করুন। এবার আমার প্রশ্ন টা করি, প্রশ্ন হল- আল্লাহর কুরশি কি, কেমন?? এই সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক চাই"।
সর্বপ্রথম গত লেখা অর্থাৎ 'কুন ফা-ইয়াকুন, আল্লাহর অস্তিত্ব ও বিজ্ঞান' লেখার লিঙ্কটা উপস্থিত করি, তাহলে পাঠকরা উপকৃত হবে হয়ত---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=990830524635278&id=544853392566329
আর যদি আল্লাহ কোথায় আছে, জানতে চান এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা চান, তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=699366997114967&id=544853392566329
আসলে কি জানেন তো, আমি হানীর ব্যাপারে কিছুই লিখতে চাই না কিন্তু হাতকে আঁটকাতে পারি না!! তার ব্যাপারে ভাবতেও চাই না কিন্তু মনকে বোঝাতেও পারি না!! তার জন্য কাঁদতেও চাই না কিন্তু চোখের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না!! আসলে, আমি হানীর বিষয়ে ভাবতাম এমন-
तुम आ गए हो, नूर आ गया है
नहीं तो चरागों से लौ जा रही थी
जीने की तुमसे वजह मिल गयी है
बड़ी बेवजह जिन्दगी जा रही थी
तुम आ गए हो, नूर आ गया है
জানেন, গত বছর এই শীতে হানীর Aunty কলকাতা Medical college and hospital এ ভর্তি ছিল এবং হানী তার Aunty র কাছে রাত ছিল!! হানী সাধারণ শীতের কাপড় পরে ছিল এবং হানীকে শীত লাগছিল, ঐ জন্য আমি বাড়িতে সারা রাত খালি গায়ে ছিলাম এবং ঐ জন্য সারা রাত ঘুমাতে পারি নি, শুধু সারা রাত ঠান্ডায় কেঁপেছি!! কিন্তু তখন আমার কি মনে হচ্ছিল জানেন?? মনে হচ্ছিল- আমি যেন হানীর সঙ্গে আছি!!আমি কত বড় পাগল ছিলাম, তাই না?? জানেন, হানী আমাকে কি বলত?? বলত- কেন এত ভালবাসেন আমাকে?? হ্যাঁ হানীজি, সত্যিই অনেক বড় ভুল করেছি আপনাকে ভালবেসে, ঐ জন্য সেই ভুলের শাস্তি পাচ্ছি এবং মাশুল গুণছে আমার দু-চোখ!!
যাইহোক, এবার মনে হয় উচিৎ হবে প্রশ্নের উত্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তাই না?? হ্যাঁ চলুন!! জানেন কি আমার যখন জ্ঞান হয় নি, তখন আমি কি ভাবতাম?? আমি ভাবতাম- কুরশি মানে তো Chair. সুতরাং আল্লাহ হয়ত কোনও Chair এ বসে থাকেন, যেমন আমরা chair এ বসে থাকি!! তাহলে হয়ত আল্লাহ আমাদেরই মতো হবে!! আপনিও হয়ত হয়ত ছোট বেলায় এ রকম ভেবেছেন, তাই না?? এখানেই শেষ নয়, তখন শিশু মন এও ভাবত- আল্লাহ যদি আমাদের কুটুম বা আত্মীয় হত, তবে আমার/ আমাদের সব কথা শুনত এবং যা বলতাম, তাই হত!!
যাইহোক, এ সব তো শিশু মনের খেয়ালী চিন্তা!! সুধী পাঠক চলুন, দেখে নিই আল্লাহর Chair টা কেমন। এ বিষয়ে আল্লাহ নিজেই বলেছেন এভাবে-
وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ
অনুবাদ হবে এমন-"তার কুরশি (Chair) মহাবিশ্ব সমূহে বিস্তৃত"(2:255)। কিন্তু এ আবার কেমন Chair যে, মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে রয়েছে!! আর মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে থাকলেও, তা দেখা যায় না কেন?? তাহলে কোথায় আল্লাহর সেই Chair?? এ বিষয়ে এক নাস্তিককে বলতে শুনেছিলাম, তিনি বলেছিলেন- সেই যুগের মানুষকে নবী মহাম্মদ (স) এই ধরণের মিথ্যা বলে বোকা বানিয়ে ছিল কিন্তু আজকের যুগে আর কাউকে বোকা বানিয়ে রাখা যাবে না!! সুতরাং কোরান যে মিথ্যা, তার প্রমাণ হল- আল্লাহর কুরশি!! যদি আল্লাহর কুরশি বলে কিছু থাকত, তবে তা অবশ্যই দেখা যেত!!
সত্যিই কি আল্লাহর কুরশি নেই?? জানেন, প্রথম যখন আমি আয়াত- উল- কুরশি অর্থাৎ 2:255 আয়াত পড়ি, তখন আমারও মনে হয়েছিল- কোথায় আল্লাহর সেই কুরশি, যা মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে আছে!! কিন্তু যখন জ্ঞান হল এবং বিজ্ঞান জানলাম-বুঝলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, আল্লাহ বলেছেন- تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ
অনুবাদ হবে এমন-"এগুলো বিজ্ঞানময় গ্ৰন্থের আয়াত"(31:2, 36:2)। এখন প্রশ্ন হবে- 2:255 আয়াত যদি বিজ্ঞানময় গ্ৰন্থের আয়াত হয়, তাহলে অবৈজ্ঞানিক মনে হচ্ছে কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর হল- 2:255 আয়াতও বৈজ্ঞানিক আয়াত কিন্তু বিজ্ঞান না বোঝার কারণে অবৈজ্ঞানিক মনে হচ্ছে!! কিন্তু কিভাবে?? আমি তখন ভাবতে শুরু করলাম যে, কি এমন বস্তু আছে মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে??
আমি যখন বিজ্ঞান বুঝলাম, তখন জানলাম- কুরশি আর অন্য কিছু নয়, আল্লাহর কুরশি হল- Gravity অর্থাৎ Gravitational force বা মধ্যকর্ষণ শক্তি!! মধ্যকর্ষণ শক্তিই সেই আল্লাহর কুরশি, যা মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে রয়েছে!! আর মধ্যকর্ষণ শক্তির সাহায্যেই আল্লাহ নিয়ন্ত্রণ করেন মহাবিশ্ব সমূহ এবং এ কাজ করতে তার একটুও সময় লাগে না, এভাবেই তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন তার সৃষ্টি সমূহকে!! এ বিষয়ে তিনি বলেছেন-
كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ
অনুবাদ হবে এমন-"প্রতিক্ষণ তিনি সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণে সু-প্রতিষ্ঠিত"(55:29)। সুধী পাঠক, যদি জানতে চান যে কোরানে কিভাবে ও কোথায় মধ্যকর্ষণ শক্তির উল্লেখ আছে, তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন। জানেন, আমার 'মধ্যকর্ষণ শক্তি' বিষয়ে লেখাটিতে হানী Comment করেছিল এভাবে- Just awesome. কিন্তু আজ আমি হানীর কাছে তুচ্ছ!! একটা কবিতা মনে পড়ছে, আমারই পরিস্থিতিতে, আমারই তৈরী, শুনুন-
কখনও ছিলাম আমি তার কাছে সোনা
আজ আমি তার কাছে প্রসাবের ফেনা।
না আজ উত্তম, আর না আমি ভাল
দিয়ে ছিল হাজার প্রতিশ্রুতি, সবই বৃথা
কেননা, আমার গায়ের রঙ কালো!!
ফালতু কবিতা, তাই না?? পড়তে হবে না, বাদ দিন!! আপনি নিচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=761335144251485&id=544853392566329
Big bang থেকে মহাবিশ্ব গতি প্রাপ্ত হয় তথা মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়, আজও চলছে সম্প্রসারণ, হয়ত আগামীতেও চলবে সম্প্রসারণ কিন্তু কোনও এক সময় বন্ধ হবে সম্প্রসারণ!! যেমন- আমরা পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে মহাশূন্যে ইট ছুঁড়লে গতি তাড়তার জন্য ইট মহাশূন্যের দিকে যেতে থাকে কিন্তু একটা সময় গতির উপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বল বিজয় লাভ করে এবং ইট গতি শূন্য হয়, তারপর ইট নিচে নেমে আসতে থাকে!! ঠিক তেমনই মধ্যকর্ষণ বলের প্রভাবে কোনও একদিন মহা বিশ্বের সম্প্রসারণ বন্ধ হবে, মহাবিশ্ব গতি শূন্য হবে এবং শুরু হবে সংকোচন!!
তারপর যেভাবে মহাবিশ্ব বিন্দু থেকে সিন্ধুতে পরিণত হয়েছিল, সেভাবেই আবার সিন্ধু থেকে পরিণত হবে বিন্দুতে। অর্থাৎ যাকে আমরা বিজ্ঞানের ভাষায় বলি- Big crunch. তারপর কি?? তারপর আবার Big bang এর মতো আরও একটা বিস্ফোরণ, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন Big bang-2, অর্থাৎ দ্বিতীয় Big bang.
এখন প্রশ্ন হবে- এগুলো গল্প, না কি কোরান সম্মত?? এ প্রশ্নের উত্তর আমি না দিয়ে কোরানে আল্লাহ কি বলেছেন, তা দেখাতে চাই। দেখুন-
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ
অনুবাদ হবে এমন-"সেদিন মহাবিশ্বকে আমি এমন ভাবে গুটিয়ে ফেলব, যেমন গুটিয়ে ফেলা হয় লিখিত কোনও কাগজ [অর্থাৎ Big crunch], যেভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টির সূচনা করে ছিলাম [Big bang এর মাধ্যমে], ঠিক তেমনিভাবে আবার তার পুনরাবৃত্তি [Big bang-2] করব"(21:107)।
যদি আল্লাহ তার কুরশি বা মধ্যকর্ষণ না সৃষ্টি করতেন, তাহলে কি হত?? এ প্রশ্নের উত্তর হল- মহাবিশ্বও সৃষ্টি হত না অর্থাৎ Big bang হত না!! কারণ, Big bang ঘটার জন্য মধ্যকর্ষণ শক্তির প্রয়োজন ছিল, তারপর কণা সৃষ্টির জন্যেও প্রয়োজন ছিল মধ্যকর্ষণ শক্তির। আল্লাহ তার কুরশি সৃষ্টি না করলে, মহাবিশ্ব সৃষ্টিও হত না!! অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের মতে- মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল Space and time এর কলা কৌশলে কিন্তু বিচার করে দেখলে Space and time এর চেয়ে Time and gravity মডেল বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী। অর্থাৎ মহাবিশ্ব সৃষ্টিই হয়েছিল- Time and gravity এর কলা কৌশলে। এখানে Time আল্লাহ নিজেই ও Gravity হল- আল্লাহর কুরশি। যদি 'আল্লাহ ও সময়' বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=988041798247484&id=544853392566329
একটা প্রশ্ন হতে পারে- Hawking radiation ঘটে মহাবিশ্ব তার সমস্ত শক্তি নিঃশেষ করে ফেলার পর, এই মধ্যকর্ষণ শক্তির কি হবে?? সহজ উত্তর- সৃষ্টি নেই, সৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের জন্য কুরশিরও প্রয়োজন নেই!!
সুধী পাঠক, Hawking radiation ও সমস্ত সৃষ্টির লয় প্রাপ্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। এখানে অবাক হওয়ার মতো কিছু তথ্য অপেক্ষা করছে আপনার জন্য---
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=962223637495967&id=544853392566329
আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- সমস্ত সৃষ্টির লয় প্রাপ্ত হওয়ার পর আল্লাহ কি করবেন?? অর্থাৎ জান্নাত এবং জাহান্নামও যখন ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ কি করবেন??
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, তাই না?? উত্তরে পরে আসছি, এবার একটু আমার দুঃখের কাহিনী শুনুন!! আমার দুঃখের কথা শোনার মতো কেউ নেই, এমন কেউ নেই, যাকে মন খুলে সব কথা শোনাতে পারি!! কেউ নেই এমন!! হানীকে পেয়ে ভেবেছিলাম- বর্তমান পৃথিবীতে আমার 'মা' নেই, হানীই আমাকে সবচেয়ে বেশি বোঝে এবং ভবিষ্যতেও বুঝবে!! এ জন্য নিজের A to Z হানীকে শোনাতাম, কিছুই লুকাইনি, কোনও মিথ্যা বলি নি। আমার খারাপ-ভাল সব কিছু হানীকে শোনাতাম। যদি কোনও জায়গায় সম্মান পেতাম, তাও হানীকে শোনাতাম এবং কখনও কোথাও থেকে অপমান হলে, তাও হানীকে শোনাতাম!! শুনেছি প্রতিটা মানুষের কিছু না কিছু গোপন কথা থাকে, যা সে কখনও কাউকে বলে না, এমনকি স্ত্রীকেও না!! কিন্তু আমি হানীকে কোনও কিছু গোপন করি নি, আমার জীবনের এমন কোনও সত্য নেই, যা হানী জানে না!! প্রায় 70 দিন হল হানীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই, অনেক কথা জমে গেছে, বুক ভর্তি হয়ে গেছে কিন্তু হানীকে শোনাতে পারি নি!! এ জন্য আপনারাই শুনুন-
হানীকে বলতাম- হানী'জি আমার যখন মন খারাপ হবে, তখন আপনি কি করবেন?? হানী বলত- সাহস দেব এবং বোঝাব আপনাকে। তারপর হানী মজা করে বলত- যদি না বোঝেন, তাহলে খুব পিটব আপনাকে!! আমি তখন- হেঁসে ফেলতাম। আচ্ছা জানেন, আমি তো সারাদিন ঘরের ভিতরে থাকি এবং খুব কম বের হই, ঐ হানীকে কি বলত?? Call করে বলত- কি Madam, কি করছেন, কেমন আছেন?? আমিও মজা করে হানীকে Sir বলতাম!! ভাবতাম, আমরা সারাজীবন এভাবেই হাঁসি-মজা করতে থাকব। কে জানত, কখনও এই দিন আমাকে দেখতে হবে!! কে জানত, হানী আমাকে গায়ের রঙের জন্য ছেড়ে দিয়ে তার ফর্সা Boyfriend কে গ্ৰহণ করবে!! কে জানত?? কে জানত?? আমি তো কল্পনাও করতে পারি কখনও!!
জানেন, আমার এক ভক্ত সৌদি আরবে কাজ করে। সে হানীর ব্যাপারে জানত। যেমন- আপনারা জানেন। সেও আমার লেখার নিয়মিত পাঠক, ভারতে ফিরে এসেছে 21.12.19 তারিখে। সৌদি থেকে আমাকে মাঝে-মধ্যে Call করত, শীত শুরু হওয়ার আগে সে আমাকে Call করে বলেছিল- স্যার, আমি আপনাকে কিছু Gift করতে চাই, আপনি নেবেন তো?? তাকে বলেছিলাম- কি Gift করতে চান, আগে বলুন, তারপর বলছি। সে বলল- আপনার দু-বোনের জন্য এবং আপনার হানীর জন্য সৌদি আরবের বিখ্যাত চামড়ার 'হাত ও পা' মোজা নিয়ে যেতে চাই এবং আপনার জন্য একটা ছোট রুপায় মোড়া কোরান নিয়ে যেতে চাই!! তাকে বললাম- রুপার কোরান আনতে হবে না, তবে ঐ গুলো নিয়ে আসুন। সে বাড়িতে ফিরেই 22.12.19 এ আমার কাছে এসেছে। এসেই বলল- স্যার, হানীজির বিষয়ে সবই তো জানি, সে আপনার জীবনে আর নেই, সে প্রতারণা করে চলে গেছে। হানীর বিষয়ে বলতে বলতে আমি কেঁদে ফেলি, আমার কান্না দেখে সেও কেঁদে ফেলে!! পরে তাকে আমি খেয়ে যেতে বলি কিন্তু সে খেল না এবং যাওয়ার সময় বলে গেল- ভেবেছিলাম হোসেন কুরানী হয়ত খুব শক্ত মনের মানুষ হবে কিন্তু সে যে বাচ্ছদের মতো কাঁদে, এটা কখনও ভাবি নি!! স্যার, কাঁদবেন না। আপনি যার জন্য কাঁদছেন, সে হয়ত অন্য জনের সঙ্গে হাঁসছে!! যাইহোক, আমি 2 টো 'হাত ও পা মোজা' নিয়ে 1 টা তার হাতেই ফিরিয়ে দিই। কে পরবে তাকে?? হানী তো আর নেই!! আরে হ্যাঁ, সেই ভায়ের বাড়ি- পান্ডুয়াতে, বাইক নিয়ে এসেছিল। নিজের বিষয়ে বলতে বলতে তার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম!!
সুধী পাঠক, এবার লেখা শেষ করতে চাই। সব কিছু যখন একেবারে নিঃশেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ কি করবেন?? চলুন, আল্লাহ কি এ বিষয়ে কোরানে কি বলেছেন দেখি- هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই আদি তিনি অন্ত ও তিনিই প্রকাশিত তিনিই গুপ্ত"(57:3)। অর্থাৎ তিনি আদি, তারপর তিনি সময় হিসাবে নিজেকে প্রকাশ করেন এবং মহাবিশ্ব সমূহ সৃষ্টি করেন। মহাবিশ্ব সমূহ অর্থাৎ জান্নাত এবং জাহান্নাম পুরো-পুরি ধ্বংস হওয়ার পর অর্থাৎ Hawking radiation এর মাধ্যমে পুরো-পুরি নিঃশেষ হওয়ার পর আল্লাহ হবেন অন্ত এবং তিনি গুপ্ত ছিলেন, আবার গুপ্তে স্থান নেবেন!! বুঝলেন??
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: