সুধী পাঠক, যদি জিজ্ঞাসা করি যে, আপনি কি এক কথায় উত্তর দিতে পারবেন- শুদ্ধ মিথ্যাবাদী + বিশুদ্ধ ভন্ড = কে/ কারা?? আমি জানতাম- খুব সহজেই উত্তর দেবেন যে- শুদ্ধ মিথ্যাবাদী + বিশুদ্ধ ভন্ড = আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ!!
হ্যাঁ পাঠক, আপনার উত্তর একেবারেই সঠিক। এবার আমরা আমাদের গত লেখা 'সুদ সম্পর্কিত পর্ব- 2' এর পক্ষে এবং বিপক্ষের 3 টি Comment উপস্থিত করতে চাইছি, যেমন প্রায় করি। প্রথমে বিপক্ষের বিষয়টি তুলে ধরি, হ্যাঁ?? দেখুন- ১) হোসেন কুরানী সাহেব, সুদও হালাল হয়ে গেল, তাহলে দুনিয়াতে হারাম আর কি আছে?? প্রেম তো আগেই হালাল করে দিয়েছেন, দেখি আর কি কি হালাল হয়!!
২) হাদীসে পড়েছি যে, নাবী (সা) বলেছেন- আমার উম্মাতের জন্য সর্বাধিক বেশি ভয় করি পথভ্রষ্ট আলিম গণকে। হোসেন কুরানী হল- সেই পথভ্রষ্ট আলিম এবং পথভ্রষ্ট আলিমদের সর্দার!!
৩) জানাব হোসেন কুরানী, আপনি কোথায় ছিলেন এত দিন ভাই?? ভাই, আপনি এত সাহস কোথায় থেকে পান?? অসাধারণ লেখা, অসাধারণ লেখা 2 টি (সুদের পর্ব- 1 ও 2)।
হোসেন কুরানী ভাই, আমিও অনুভব করি/ বহুদিন যাবত ধরে অনুভব করতাম যে, আমাদের আলিমগণই আমাদের/ মুসলিম সমাজকে ধ্বংস করেছে!! তবে, তা আমি সমাজকে বোঝাতে পারতাম না কিন্তু আজ থেকে আমি আপনার লেখার সাহায্যে মুসলিমদেরকে এই ধ্বংসের হাত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব!!
আর ভাই, আমি এত দিয়ে শুধু ভাবতাম- আল্লাহ কি হবে এই সমাজের!! হে আল্লাহ, এভাবেই কি আমরা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাব?? হে আল্লাহ, এখন তুমিই বাঁচাতে পারও মুসলিমদেরকে এই "আলিমদের তৈরি করা ধ্বংসাত্মক নকল ইসলাম" থেকে!!
হোসেন কুরানী ভাই, আপনার মাত্র 3 টি লেখা পড়েই আপনার প্রতি পাগল হয়ে গেছি!! সম্ভবত আপনি হানী নামের কাউকে প্রেম করতেন, তাই তো?? আমি মেয়ে নয়, নয়ত আপনাকে বিয়ে করতাম!! কারণ, আপনার দ্বারা আল্লাহ পৃথিবী বদলাতে চলেছে।
তবে, আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য মন ছট-ফট করছে। আর ভাই, রুপা দ্বারা বাঁধাই করা কোরান উপহার দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমার নেই। তবে ভাই, ছোট্ট কিন্তু বিশেষ একটা উপহার নিয়ে যাব এবং আপনার সঙ্গে একটা Selfie তুলে রাখতে চাই। কেননা তা এক দিন ইতিহাসে স্থান পাবে এবং এই Selfie তখন আমার জন্য গর্বের বিষয় হবে- ইনশাআল্লাহ!!
সুধী পাঠক, আমরা 1'ম জন এবং 2'য় জনকে কিছু বলতে চাইব, 1'ম জনকে বলব- ইনশাআল্লাহ, আপনি এবং আপনারা দেখতে থাকুন। আপনাকে এখন অনেক কিছু দেখতে হবে। আর হ্যাঁ, আজ মহিলা শাসকও হালাল প্রমাণ হবে- ইনশাআল্লাহ এবং অপেক্ষা করুন 10 বছর, 10 বছরে পৃথিবীতে বদলাতে চলেছে!!
2'য় জনকে বলব- ভাই, আপনি তো হাদীসটা দেন নি। আমি আপনাকে একটু সাহায্য করতে চাই, আর ব্যাখ্যা তো হবেই, কুরানী বিশ্লেষণও হবে- ইনশাআল্লাহ। তার আগে আপনি এক বার Doctor কাছে গিয়ে বলুন- Dr sir, আমার হজম শক্তি বৃদ্ধির ওষুধ দিন, নয়ত হোসেন কুরানীর উত্তরটা হজম করতে পারব না!! এই নিন হাদীসটা দেখুন-
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ- إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ●
সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"সাওবান [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নাবী [সা] বলেছেন- আমার উম্মাতের জন্য আমি সবচেয়ে বেশি ভয় করি পথভ্রষ্ট ইমামগণ কে"(দারিমী, কিতাবুল মুকাদ্দামাহ, হাদীস 215)।
আচ্ছা হ্যাঁ, আরও একটা কথা বলি- একই ধরণের আরও একটি হাদীস রয়েছে, যা আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে, যা দারিমীর 217 নং হাদীস কিন্তু খুব দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, হাদীসটি দায়ীফ। আবু যার (রা) হতেও একটা হাদীস রয়েছে, ওটা মনে হয় সাহীহ হাদীস!!
এবার উত্তর দেব, হজম শক্তি বৃদ্ধি করেছেন তো?? ১) উক্ত হাদীসে আরবি عالم (আলিম) বা জ্ঞানী শব্দের ব্যবহার হয় নি বরং ব্যবহার হয়েছে আরবি إمام (ইমাম) বা নেতা শব্দের। তাই যারা ইমাম বা নেতা, তাদেরকে বলুন, আমাকে নয়!!
২) আর যদি 'ইমাম অর্থ আলিম' ধরে নিই, তাহলেও এই হাদীস আমার উপর প্রযোজ্য নয়। কেননা, আমি কোনও আলিম নই বরং আমি হোসেন কুরানী, একজন মুসলিম এবং মুসলিম না হারতে পারে, না মরতে পারে, মুসলিম শুধুমাত্র জিততে পারে!!
৩) কোনও আলিম কি পথভ্রষ্ট হতে পারে?? এমন কথা কি নাবী (স) বলতে পারেন?? দেখুন আল্লাহ কি বলেছেন- إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ অনুবাদ হবে এমন-"প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আল্লাহকে আলিমগণই ভয় করেন"(35:28)।
এবার বলুন, তাহলে নাবী (স) আল্লাহর বিপক্ষে গিয়ে কিভাবে বলতে পারেন যে, আমার উম্মাতের জন্য সব চেয়ে বেশি ভয় করি পথভ্রষ্ট আলিমগণকে?? আলিম কখনও পথভ্রষ্ট হয় না বরং যারা পথভ্রষ্ট হয় তাদেরকে আমরা বলি- সম্মানিত হারামখোর!!
আর রইল কথা হোসেন কুরানীর, তার বিষয়ে আল্লাহ কোরানে কি বলেছেন জানেন?? আপনারা এসব কি ভাবে জানবেন, আপনারা তো বোঝেন কম, গোঁজেন বেশি!! দেখুন- وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا অনু বাদ হবে এমন-"এবং যাকে বিজ্ঞানের জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে, তাকে 'মহা কল্যাণ' দেওয়া হয়েছে"(2:269)।
যাইহোক সুধী পাঠক, এবার আজকের বিষয়ে ফিরে আসতে চাইছি, আপনি কি বলেন?? তাহলে এখন যেটা উচিৎ হবে, তা হল- সেই বিখ্যাত হাদীসটা দেখা নেওয়া। যে হাদীসের ভিত্তিতে মুসলিম মহিলাদের বিকাশ এবং উন্নতির কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে-
عُثْمَانُ بْنُ الْهَيْثَمِ حَدَّثَنَا عَوْفٌ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِيْ بَكْرَةَ قَالَ- لَقَدْ نَفَعَنِي اللهُ بِكَلِمَةٍ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيَّامَ الْجَمَلِ بَعْدَ مَا كِدْتُ أَنْ أَلْحَقَ بِأَصْحَابِ الْجَمَلِ فَأُقَاتِلَ مَعَهُمْ قَالَ- لَمَّا بَلَغَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أَهْلَ فَارِسَ قَدْ مَلَّكُوْا عَلَيْهِمْ بِنْتَ كِسْرَى قَالَ- لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمْ امْرَأَةً●
অনুবাদ হবে এমন-"আবু বাকরাহ [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ [সা] থেকে শোনা একটি বাণীর দ্বারা আল্লাহ জামালের দিন আমার মহা উপকার করেছেন। যে সময় আমি সাহাবা [রা]- দের সঙ্গে মিলিত হয়ে জামাল যুদ্ধে শারীক হতে প্রায় প্রস্তুত হয়েছিলাম!! আবু বাকরাহ [রা] বলেন- সে বাণীটি হল, যখন নাবী [সা]- এর কাছে এ খবর পৌঁছাল যে, ইরানবাসী কিসরা কন্যাকে তাদের শাসক মনোনীত করেছেন, তখন তিনি বললেন- সে জাতি কখনও সফল হবে না, নারী যাদের শাসক হয়"(বুখারী, কিতাবুল মাগাজী, হাদীস 4425 ও কিতাবুল ফিতান, হাদীস 7099)।
পাঠক, এই হল সেই হাদীস। এছাড়াও আরও কিছু হাদীস রয়েছে হাদীস বিভিন্ন গ্ৰন্থে, তবে উক্ত হাদীসটি হল- মৌলিক এবং প্রধান হাদীস!! আর এই হাদীসকে Support দেওয়া হয় কয়েকটি আয়াত দ্বারা, সেগুলো হল- ১) الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ প্রচলিত অনুবাদ হয় এমন-"পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল/ পুরুষরা নারীদের উপর কর্তা"(4:34)। এ বিষয়ে অন্য আয়াতটি হল- ২) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ
প্রচলিত অনুবাদ হয় এমন-"এবং তোমরা অবস্থান কর তোমাদের ঘরের মধ্যে এবং নিজেদে প্রদর্শন করে বেড়িও না, জাহিলী যুগের মতো"(33:33)।
সুধী পাঠক, আমরা এবার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও কুরানী বিশ্লেষণের দিকে এগিয়ে যেতে চাইছি, আপনি এমনটা চাইছেন?? প্রথমে দেখে নেব 4:34 আয়াত, যেখানে বলা হচ্ছে- الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ● এই আয়াতের যে অনুবাদ করা হয়, তা সম্পূর্ণ ভুল অনুবাদ। অনুবাদটি পুরুষতান্ত্রিক ভাবে করা হয়েছে!!
উক্ত 4:34 আয়াতে ব্যবহৃত আরবি শব্দ হল- قَوَّامُونَ (কাওয়ামুনা)। যা সাধারণ ভাবে ব্যবহার হয়- কোনও প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের জন্য। তাই এখানে ঢালাও ভাবে পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল/ পুরুষরা নারী দের উপর কর্তা/ পুরুষরা নারীদের পরিচালক অনুবাদ করে দেওয়া হয়!!
অথচ এই শব্দের মূল হল- قوم (কাউম), যার অর্থ হল- দায়িত্ব। এই শব্দের ব্যবহার পবিত্র কোরানে আল্লাহ তার নিজের জন্যেও করেছেন, শব্দটি হল- قَيُّومُ (কাইয়ুমু), যার অর্থ হল- দায়িত্ব সমূহ তারই। এবার সম্পূর্ণ আয়াতটি দেখুন- اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই এবং তিনি চিরঞ্জীব, [মহাবিশ্ব সমূহের সমস্ত] দায়িত্ব সমূহ তারই"(2:255 অর্থাৎ আয়িত-উল-কুরসী)।
তাহলে সুধী পাঠক, قوم (কাউম) অর্থ- 'দায়িত্ব' হলে/ قَيُّومُ (কাইয়ুমু) অর্থ- 'দায়িত্ব সমূহ তারই' হলে قَوَّامُونَ (কাওয়ামুনা) শব্দের অর্থ হওয়া উচিৎ- 'যাকে দায়িত্ব দেওয়া হল/ যার দায়িত্ব'। তাই নয় কি??
এ ছাড়াও যদি ধরে নিই- পুরুষরা নারীদের কর্তা, তা হলে ছোট্ট একটা প্রশ্ন হবে- তাহলে 40 বছরের মায়ের কর্তা 1 বছরের সন্তান?? কারণ এখানে তো বলা হয় নি যে, স্বামী স্ত্রী'র কর্তা, বলা হচ্ছে- পুরুষরা নারীদের কর্তা!! তাই প্রশ্নটি অস্বাভাবিক কিছু নয় যে- তাহলে 40 বছরের মায়ের কর্তা 1 বছরের সন্তান?? অথচ মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত!!
এখন যদি বলেন- পুরুষরা নারীদের কর্তা, তাহলে এই হাদীসটি অর্থাৎ মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত হাদীসটি ভুল!! এক সঙ্গে 2 টো সঠিক হতে পারে না। তাও যদি বলেন- 2 টিই সঠিক, তাহলে নাবী (সা) পবিত্র কোরানের বিপক্ষে কথা বলেছেন (নাউযুবিল্লাহ), যা কখনও হতে পারে না!!
সুধী পাঠক, নাবী (সা) কখনও কোরানের বিপক্ষে বলতে পারেন না। তাই না?? এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, নিচের Link এ Click করুন---
সুধী পাঠক, তা হলে الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ● এই আয়াতের সঠিক অর্থ কি হবে?? উক্ত আয়াতের সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"পুরুষরা মহিলাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত/ পুরুষরা মহিলাদের উপর [তাদের চেয়ে বেশি] দায়িত্ব প্রাপ্ত"(4:34)। আর হ্যাঁ, উক্ত 4:34 আয়াতে শুধুমাত্র এই টুকু অনুবাদ ভুল নয়, প্রায় 4-5 টি বড় অনুবাদের ভুল রয়েছে!!
প্রশ্ন হবে- সঠিক কোরানের অনুবাদ কোথায় পাব/ কোনটি?? উত্তর সহজ- কোথাও পাবেন না, একটাও অনুবাদ সঠিক নয়!! তবে, আমরা অনুবাদের কাজে হাত দিয়েছি এবং 2022 শেষ হওয়ার পূর্বেই হয়ত হাতে পাবেন Sahin publication, কলকাতা থেকে- ইনশা আল্লাহ। আর হ্যাঁ, আমাদের বঙ্গানুবাদ কোরানের নাম হবে- বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কোরান। দুয়া'র আবেদন থাকল- অনুবাদের জন্য এবং আমার মায়ের জান্নাতুল ফিরদৌস প্রাপ্তির জন্য!!
সুধী পাঠক, উদ্ধৃতি করা 4:34 আয়াতটি "মহিলা শাসক" হারাম হওয়ার দলিল হিসাবে ধোপে টিকল না!! তবে পাঠক, আপনি কি জানেন- এই 4:34 আয়াতকে 2:228 আয়াত দ্বারা Sub support দেওয়া হয়?? দেখে নিন আয়াতটি- وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ প্রচলিত অনুবাদ হয় এমন-"এবং পুরুষদের একটি মর্যাদা আছে তাদের [মহিলাদের] উপর"(2:228)।
উক্ত আয়াত হতে যে প্রশ্নটি উঠবে, তা হল- কি সেই মর্যাদা?? পৃথিবীর সমস্ত আলিম তথা সম্মানিত হারাম খোরদের Challenge করছি যে, সেই মর্যাদা কোনটি?? কিয়ামতের আগে উত্তর দিলেই হবে, নয়ত বিচারের দিন আমি আল্লাহর কাছে এই ভন্ডামির জন্য বিচার উত্থাপন করব যে, কেন ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অনুবাদ করা হয়েছে, যেখানে কোরানের সাম্যকে প্রশ্নের সামনে পড়তে হয়!!
সুধী পাঠক, এখন আমরা কয়েকটি আয়াত উত্থাপন করব। আয়াত গুলো দেখিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করে বলব যে- দেখুন তো, নারীর উপর পুরুষের মর্যাদা আছে কি না!! ঠিক আছে?? দেখুন- هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ অনুবাদ হবে এমন-"তারা [মহিলা/ স্ত্রী'রা] তোমাদের পোষাক, তোমরা [পুরুষ/ স্বামী'রা] তাদের [মহিলা/ স্ত্রী দের] জন্য পোষাক"(2:187)।
আরও একটি- ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَىٰ ۖ بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ অনুবাদ হবে এমন-"পুরুষ হোক বা নারী হোক, একে অন্যের সমান"(3:195)। পাঠক, 1500 বছর পরও সম্মানিত হারামখোরগণ এই আয়াত দেখতে পেলেন না!! আচ্ছা, উনাদের চোখে কি বাজ পড়ে গেছে?? পাঠক, আপনি একটু খবর নিয়ে দেখুন এবং আমাকে অবগত করান!! নয়ত এই আয়াতটি দেখুন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে মানবজাতি, নিশ্চয় আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা থেকে। তারপর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি গোত্র এবং সম্প্রদায়ে, যেন একে অপরের পরিচয় পেতে পারও!! নিশ্চয় আল্লাহ কাছে মর্যাদাবান, যে আল্লাহকে অধিক ভয় করে"(49:13)।
এর পরও আপনার মনে হচ্ছে- নারীর উপর পুরুষ দের মর্যাদা আছে?? যদি এখনও আপনার এমন মনে হয়, তাহলে একটাই কথা বলতে পারি- আপনার মাথার খুলির ভিতরে মগজ নেই, আছে সম্মানিত হারামখোর দের লেখা কিছু গাঁজাখুরি কাগজ!!
এছাড়াও পবিত্র কোরানে মারিয়াম (আ) প্রসঙ্গে আল্লাহ কি বলেছেন, জানেন?? আল্লাহর ব্যবহৃত শব্দ গুলো দেখে হয়ত অবাক হবেন, তবুও দেখাতে চাই, এই নিন- وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثَىٰ অনুবাদ হবে এমন-"পুত্র সন্তান কখনও এই কন্যার মতো নয়"(3:36)।
এবার লজ্জা-শরম বিক্রি যদি খেয়ে না ফেলেন, তা হলে হয়ত বলবেন- পুরুষ ও নারী মর্যাদায় সমান, কেউ ছোট বা বড় নয়, আল্লাহর ভীতি ছাড়া!! পাঠক, এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে 2:228 আয়াতের সঠিক অনুবাদ কি হবে?? উত্তর সহজ- সম্পূর্ণ আয়াতটি দেখুন, তাহলেই উক্ত আয়াতাংশের সঠিক অনুবাদ পেয়ে যাবেন!! আমি করে দেব সঠিক অনুবাদ?? দেখুন-
وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"তালাক প্রাপ্তাগণ 3 Period পর্যন্ত অপেক্ষা করবে [অন্য কোথাও বিবাহ করবে না]। আর তাদের হালাল হবে না, আল্লাহ তাদের গর্ভাশয়ে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তা গোপন করা, যদি তারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়। আর তাদের স্বামীরা তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকারী, যদি তারা নিজেদের মধ্যে সংশোধন করতে চায়। তাদেরও [স্ত্রীদেরও] অধিকার আছে, যেমন তার [স্বামীদের] অধিকার আছে তাদের [স্ত্রীদের] উপর। তবে পুরুষদের শারীরিক ক্ষমতা আছে তাদের [স্ত্রীদের] উপর। আর আল্লাহ শক্তিশালী এবং বিজ্ঞানী"(2:228)।
প্রশ্ন হবে- আপনি আরবি درجة (দারাজাত) শব্দের অনুবাদ "শারীরিক ক্ষমতা" করলেন কেন?? উত্তর খুব সহজ- যা বেশি হয়, তাই درجة (দারাজাত)। মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের শারীরিক ক্ষমতাই শুধু প্রাকৃতিক ভাবে বেশি, আর কোনও মর্যাদা নয়। মর্যাদা অর্জন করতে হয়, শারীরিক ক্ষমতা অর্জন করতে হয় না!! আয়াতটি দেখে শান্ত হয়ে যান- وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا অনুবাদ হবে এমন-"প্রত্যেকের রয়েছে মর্যাদা, সে যা কাজ করে তার ভিত্তিতে"(6:132, 46:19)।
তাহলে পাঠক, Supporting আয়াত দলিল হিসাবে ধোপে টিকল না এবং Sub supporting আয়াতও। এর পর আমরা 33:33 আয়াতের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও কুরানী বিশ্লেষণ করব- ইনশাআল্লাহ। প্রস্তুত আছেন তো?? তা হলে চলুন এবং দেখুন-
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ ۚ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا●
অনুবাদ হবে এমন-"হে নবীর স্ত্রীগণ/ নারীগণ, তোমরা নও অন্য নারীদের মতো!! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করও, তাহলে কমল স্বরে কথা বলও না, যাতে বিকৃত মস্তিষ্ক সম্পন্নরা প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে বরং উচিৎ পন্থায় কথা বলবে"(33:32)। পরবর্তী আয়াতটিও দেখুন-
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা অবস্থান করও/ শান্তি তে বসবাস করও তোমাদের ঘরের মধ্যে। আর তোমরা প্রদর্শন করও না পূর্বের জাহেলী যুগের মতো। আর প্রতিষ্ঠা করও নামায ও যাকাত দাও এবং অনুসরণ করও আল্লাহ ও তার রাসুলের। আল্লাহ চান, আহলুল বাইত বা নাবী পরিবার [স্ত্রী/ কন্যা] হতে অপবিত্রতা/ নোংরা দূর করে দেন এবং তোমাদের পবিত্র করে দেন, সম্পূর্ণ পবিত্র"(33:33)।
সুধী পাঠক, আমি কি কিছু বলব, না কি বুঝে নিতে পারবেন?? আচ্ছা চলুন, একটু বলি- ১) এই আয়াতে সমস্ত মহিলাদের কথা বলাই হয় নি, 33:33 আয়াতে কাকে/ কাদেরকে নিজেদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, তা পরিষ্কার ভাবে 33:32 আয়াতে বলা হয়েছে কিন্তু সমস্যা হল- সম্মানিত হারামখোরগণ 33:33 আয়াতের আদেশটি সবার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন!!
২) কোনও কোনও সম্মানিত হারামখোর তো 33:33 আয়াতের আরবি উদ্ধৃতি দিয়ে অনুবাদ এভাবে করেন যে-"হে নারীরা, তোমরা নিজেদের ঘরের মধ্যে অবস্থান কর" কিন্তু উক্ত আয়াতে "হে নারীরা" শব্দের ব্যবহার করা হয় নি। যদি কোনও সম্মানিত হারামখোর এই আয়াত পবিত্র কোরানে দেখিয়ে দিতে পারেন, তাহলে আমি (হোসেন কুরানী) ₹ 5 কোটি টাকা সহ আমার মাথাটা কেটে ঐ সম্মানিত হারামখোরকে উপহার দেব- ইনশাআল্লাহ। তবে যদি দেখাতে না পারেন, তাহলে 1500 বছর ধরে ভন্ডামি করার জন্য লাত্থি মেরে তার মুখ ভেঙে ফেলব!!
সুধী পাঠক, তাহলে 33:33 আয়াতও সম্মানিত হারাম খোরদের দলিল হিসাবে ধোপে টিকল না, এবার বাকি রইল শুধু হাদীসটা!! তাই না?? চিন্তা করছেন কেন, যে খানে হোসেন কুরানী থাকে, সেখানে কোনও ধরণের ভন্ডামি টিকবে না- ইনশাআল্লাহ!! হাদীসটা একবার দেখে নিন, তবেই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও কুরানী বিশ্লেষণ করতে পারব। দেখুন-
عُثْمَانُ بْنُ الْهَيْثَمِ حَدَّثَنَا عَوْفٌ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِيْ بَكْرَةَ قَالَ- لَقَدْ نَفَعَنِي اللهُ بِكَلِمَةٍ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيَّامَ الْجَمَلِ بَعْدَ مَا كِدْتُ أَنْ أَلْحَقَ بِأَصْحَابِ الْجَمَلِ فَأُقَاتِلَ مَعَهُمْ قَالَ- لَمَّا بَلَغَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أَهْلَ فَارِسَ قَدْ مَلَّكُوْا عَلَيْهِمْ بِنْتَ كِسْرَى قَالَ- لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمْ امْرَأَةً●
অনুবাদ হবে এমন-"আবু বাকরাহ [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ [সা] থেকে শোনা একটি বাণীর দ্বারা আল্লাহ জামালের দিন আমার মহা উপকার করেছেন। যে সময় আমি সাহাবা [রা]- দের সঙ্গে মিলিত হয়ে জামাল যুদ্ধে শারীক হতে প্রায় প্রস্তুত হয়েছিলাম!! আবু বাকরাহ [রা] বলেন- সে বাণীটি হল, যখন নাবী [সা]- এর কাছে এ খবর পৌঁছাল যে, ইরানবাসী কিসরা কন্যাকে তাদের শাসক মনোনীত করেছেন, তখন তিনি বললেন- সে জাতি কখনও সফল হবে না, নারী যাদের শাসক হয়"(বুখারী, কিতাবুল মাগাজী, হাদীস 4425 ও কিতাবুল ফিতান, হাদীস 7099)।
পাঠক, এবার দলিল খন্ডনের পালা তো, তাহলে খন্ডন শুরু করি, না কি?? দেখুন- ১) নাবী (সা) বললেন- "সে জাতি"। "সে জাতি" বলতে কোন জাতি?? ইরানবাসী তো, না কি?? তাহলে তা মুমিন/ মুসলিম নারী এবং জাতির উপর প্রযোজ্য হয় কিভাবে??
হ্যাঁ, যদি বলা হত- কোনও জাতিই সফল হতে পারবে না, যদি তাদের শাসক হয় নারী, তখন বলতে পারতেন যে, এই হাদীস সবার উপর প্রযোজ্য। তখন আমাদের দ্বিমত পোষণ করার আর অন্য কোনও সুযোগ থাকত না!!
২) নাবী (সা) যা বলেছেন, তাই তো হয়েছে!! বুঝতে পারেন নি, তাই না?? বলতে চাইছি- সে জাতি অর্থাৎ ইরানবাসী'রা সফল হবে না, যারা কোনও নারীকে শাসক নিযুক্ত করেছেন। তাই তো?? তাহলে নাবী (সা) ঠিকই তো বলেছেন!! কেননা, ইরানবাসী'রা সফল তো হয় নি। কারণ, আমার পছন্দের খালিফা উমার (রা)- এর সময়েই ইরান পরাস্ত হয় এবং সেখানে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। এখন প্রশ্ন হল- ঐ ভবিষ্যৎ বাণী যুক্ত হাদীস মুমিন/ মুসলিম নারী এবং জাতির উপর প্রযোজ্য হয় কিভাবে??
৩) একটা প্রশ্ন- তাহলে জার্মান সফলতা অর্জন করছে কিভাবে?? আচ্ছা, তাদের কথা বাদই দিলাম, আমাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশের এত দ্রুত উন্নয়ন প্রমাণ করে যে, উক্ত হাদীসে শুধু ইরানের শাসক কিসরার কন্যাকে উদেশ্যে নাবী (সা) বলেছিলেন- সে জাতি অর্থাৎ ইরান বাসী কখনও সফল হবে না, যারা কোনও নারীকে শাসক নিযুক্ত করেছেন!! আর বাস্তবে তা'ই হয়েছিল। কেননা, কিসরা কন্যা শাসক হিসাবে অপটু ছিলেন, তাই নাবী (সা) বলেছিলেন!!
৪) এখনও যদি বলেন যে- উক্ত হাদীসটি সবার উপর প্রযোজ্য হবে, তাহলে নাবী (সা)- এর ভবিষ্যৎ বাণী ভুল প্রমাণিত হল। কেননা, জার্মানি ও বাংলাদেশ সফল!! সম্মানিত হারামখোরগণ, এখন কি বলবেন?? হোসেন কুরানীর লাত্থিটা মুখে পড়ল তো, কেমন লাগল??
৫) সিফা বিনতু আব্দুল্লাহ (রা)- এর নাম শুনেছেন?? তার আসল নাম- লাইলা বিনতু আব্দুল্লাহ (রা)। তিনি একজন মহিলা সাহাবী ছিলেন এবং তিনি প্রায় 12 টি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার থেকে তার পুত্র সুলাইমান (রা) হতে। পেশায় ছিলেন- Nurs এবং Teacher. নাবী (সা) এই মহিলাকে তার স্ত্রীদের শিক্ষার জন্য Home teacher বা গৃহশিক্ষিকা নিযুক্ত করে ছিলেন। আর আমার পছন্দের খালিফা উমার (রা) তাকে মাদিনা'র Market controller নিযুক্ত করে ছিলেন। সম্মানিত হারামখোরগণ, আরও কিছু বলতে হবে??
জানেন সুধী পাঠক, কিছু অপটু বক্তা এবং লেখক আছেন, যারা আয়িশাহ (রা)- এর জামাল যুদ্ধকে নারী নেতৃত্বের দলিল হিসাবে দেন কিন্তু তারা ভুলে যান- এই যুদ্ধে নেতৃত্বের জন্য আয়িশাহ (রা) 33:33 আয়াত পড়ার সময় তিনি কেঁদে ফেলতেন। কেননা এটা ছিল আয়িশাহ (রা)- এর ইজতিহাদী ভুল!! প্রশ্ন হবে- তাহলে কি তার গুনাহ হয়েছে?? না রে ভাই, গুনাহ তো হয়ই নি উপরন্তু নেকী হয়েছে, হাদীসটা দেখুন-
"Amr ibn al-As [رض] reported. The Prophet [ص] said- If a judge makes a ruling, striving to apply his reasoning and he is correct, he will have two rewards. If a judge makes a ruling, striving to apply his reasoning and he is mistaken, he will have one reward"(Sahih al Bukhari, hadis 6919 and sahih Muslim, hadis 1716)।
কারণ, তার ঘরে অবস্থান করা উচিৎ ছিল কিন্তু নারী দের যুদ্ধে অংশ গ্ৰহণের নির্দেশ থাকার কারণে আমার মা আয়িশাহ (রা)- এর দ্বারা ইজতিহাদী ভুলটা হয়ে যায়!! এছাড়াও ইসলাম পরিপূর্ণ হয়েছে 9'ই জিলহজ্ব 11 হিজরী, তারপর যা হয়েছে, কোনও কিছুই দলিল নয়!!
প্রশ্ন হবে- আপনি যে উমার (রা)- এর সময়ের লাইলা (রা)- এর মাদিনা'র Market controller নিযুক্ত করাকে দলিল হিসাবে এনেছেন!! উত্তর সহজ- মাদিনা'র Market controller নিযুক্তকরন আমার দলিল নয়/ হতে পারে না, এটা শুধু উদাহরণ!!
দলিল তো এবার দেব, চিন্তা করছেন কেন?? হোসেন কুরানী আছে মানেই দলিল আছে। তাও আবার পবিত্র কোরান থেকে!! কি ব্যাপার, অবাক হচ্ছেন?? অবাক হওয়ার কিছু নেই, হোসেন কুরানী বেঁচে আছেন এবং এখনও 121 বছর আছেন- ইনশাআল্লাহ। তাই তিনি যতদিন থাকবেন, শুধু অবাকই হতে হবে!! সুতরাং চলুন এবং দেখুন-
إِنِّي وَجَدْتُ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আমি [হুদহুদ] সেখানে [দেখতে] পেয়েছি এক মহিলা তাদেরকে শাসন করে। তাকে [আল্লাহর পক্ষ থেকে] দেওয়া হয়েছে সব কিছু এবং তার রয়েছে একটি বিরাট সিংহাসন"(27:23)।
আর কিছু বলব?? হ্যাঁ আমি জানি, এখন আপনি কি বলবেন!! আপনি এখন 27:31 আয়াতটি দেখাবেন হয়ত, যেখানে বলা হচ্ছে- أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"এছাড়া তোমরা [সুলাইমান (আ)- এর] আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করও না, আমার নিকট মুসলিম/ অনুগত হয়ে উপস্থিত হও"(27:31)।
হ্যাঁ, এখানে সুলাইমান (আ) সেই মহিলা শাসক'কে ইসলাম গ্ৰহণের বা অনুগত (জিজিয়া দেওয়ার) হওয়ার জন্য বললেন। যেমন, অনুগত হওয়ার কথা বিভিন্ন বড় সুলতান/ সম্রাট'রা ছোট রাজা/ নবাব'দের বলেন!!এই আয়াতে তো মহিলা শাসক হারাম হওয়ার বিষয়ে কিছুই বলা হয় নি। হ্যাঁ, এখন হয়ত 27:44 আয়াতের কথা বলতে পারেন। চলুন, ঐ আয়াতটিও দেখে নিই!! দেখুন তাহলে-
قَالَتْ- رَبِّ• إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে প্রভু, [এখন পর্যন্ত) আমি নিজের উপর অত্যাচার করেছি এবং এখন আমি সুলাইমানের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করলাম আল্লাহ কাছে, যিনি মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক"(27:44)।
পাঠক দেখুন তো, এখানে নারী নেতৃত্ব হারামের পক্ষে কিছু পেলেন?? কখনও পাবেন না, কারণ হোসেন কুরানীর দলিল খন্ডনের অউকাত আল্লাহ কোনও জ্বীন এবং মানুষকে দেন নি!!
যেটা বলতে পারেন, তা হল- সেই মহিলা শাসক তো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে দিল!! পাঠক, এদের কি বলবেন?? এখানে বলা হয়েছে- সেই মহিলা শাসক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করলেন, বল হয় নি- তিনি রাজত্ব বিসর্জন দিয়ে দিয়েছেন!!
এছাড়াও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করার অর্থ যদি হয়- রাজত্ব বিসর্জন দেওয়া, তাহলে উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে- وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ অর্থাৎ সুলাইমানের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করলাম। এখন প্রশ্ন- তাহলে নাবী সুলাইমান (আ)-ও কি রাজত্ব বিসর্জন দিয়েছিলেন?? এ বার সম্মানিত হারাম ও তার Team ফেঁসে গেছেন এবং Team, Quranic universe জিতে যাবেন!! তাই তো গো Team, Quranic universe??
প্রশ্ন হবে- হোসেন কুরানীর দলিল কি শেষ?? দাঁড়ান ভাই, মোক্ষম দলিলটা এখনও বাকি আছে যে, তারপর শেষ হবে। এই দলিলের পর আর কিছু বলার থাকবে না। দেখুন, শান্ত হন, নয়ত জ্বলতে থাকুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا• أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-হে ইমানদারগণ, তোমরা অনুসরণ করও আল্লাহর, তার রাসুলের ও তোমাদের নিজেদের নির্বাচিত শাসকের"(4:59)।
আমি জানি আপনার অউকাত এবং আপনি এখন বলবেন- অনুবাদ ভুল, ভুল এবং ভুল!! আচ্ছা ঠিক আছে, আমি কিছু অনুবাদ উপস্থিত করছি, দেখুন এবং মন শান্ত করুন---
"O ye who believe! Obey Allah, and obey the messenger and those of you who are in authority; and if ye have a dispute concerning any matter, refer it to Allah and the messenger if ye are (in truth) believers in Allah and the Last Day. That is better and more seemly in the end"(Quran- 4:59, M. M. Pickthall).
"O you who have believed, obey Allah and obey the Messenger, and the ones endowed with the command (i.e. those in authority) among you"(Quran- 4:59, Dr. Ghali).
"O you who believe! Obey Allah and obey the Messenger (Muhammad SAW), and those of you (Muslims) who are in authority"(Quran- 4:59, Muhsin khan).
"O you who have believed, obey Allah and obey the Messenger and those in authority among you"(Quran- 4:59, Sahih international).
"O you who believe! obey Allah and obey the Messenger and those in authority from among you"(Quran- 4:59, Shakir).
"O ye who believe! Obey Allah, and obey the Messenger, and those charged with authority among you"(Quran- 4:59, A. Yousuf ali).
"You who believe, obey God and the Messenger, and those in authority among you"(Quran- 4:59, Abdul hallem).
"Believers! Obey Allah and obey the Messenger, and those from among you who are invested with authority"(Quran- 4:59, Abul ala moududi).
"O you who believe, obey Allah and obey the Messenger and those in authority among you"(Quran- 4:59, Taqi usmani).
"O believers! Obey Allah and obey the Messenger and those in authority among you"(Quran- 4:59, Dr. Mustofa khattab).
প্রশ্ন হবে- আপনি (হোসেন কুরানী) অনুবাদ করেছেন নির্বাচিত শাসক কিন্তু উপরিউক্ত English translation এ তো Authority (কর্তৃত্বের অধিকারী) করা হয়েছে!! উত্তর সহজ- ভাই, এত বোকা হলে হয়?? সৌদি আরব/ রাজতন্ত্র ছাড়া Authority কিভাবে পাওয়া যায়?? তা কি নির্বাচনের মাধ্যমে নয়??
সম্মানিত হারামখোর, আর কিছু বলতে চাইবেন?? মুখে হোসেন কুরানীর লাত্থিটা পড়ল তো, কেমন লাগল আপনাকে লাত্থিটা?? খুব জোর লাগল তো?? যা তা কথা, না কি?? হোসেন কুরানীর লাথির Speed খুব মারাত্মক , কেননা প্রতিদিন 2 hour : 30 min এর Gym, Gymnastics and yoga করা শরীর!!
সুধী পাঠক, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন- নির্বাচিত শাসকের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে?? তা হোক মহিলা কিংবা পুরুষ!! কারণ উক্ত আয়াতে মহিলা বা পুরুষের কথা বলা হয় নি, শুধু বলা হয়েছে- নির্বাচিত শাসকের অনুসরণ করতে। আর পুরুষ/ মহিলা যে সমান, তা আল্লাহ নিজেই বলেছেন। তাই না?? আয়াত টি হল এটা- ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَىٰ ۖ بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ অনুবাদ হবে এমন-"পুরুষ হোক বা মহিলা, একে অন্যের সমান"(3: 195)। চাই শুধু যোগ্যতা- وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا অনুবাদ হবে এমন-"প্রত্যেকের রয়েছে মর্যাদা, সে যা কাজ করে তার ভিত্তিতে"(6:132, 46:19)।
পাঠক, "নারী নেতৃত্ব বা মহিলা শাসক হালাল"- এ বিষয়ে কি আর কোনও সন্দেহ আছে?? থাকতেই পারে না, তাই না?? এখন বাংলাদেশের আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসন অস্বীকার করা বন্ধ করুন, নয়ত 3:195, 4:59, 6:132, 46:19 আয়াত করা হবে এবং সম্মানিত হারাম খোর থেকে কাফিরে পরিণত হবেন!!
সুধী পাঠক, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও কুরানী বিশ্লেষণের শেষ প্রান্তে এসে হাজির হয়েছি। এখন আমরা (Team, Quranic universe), আমার জন্মভূমি পশ্চিমবঙ্গ এবং আমার প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি ভারতের পক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা'জিকে সরা-সরি বলতে চাই-
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী (বাংলাদেশ), স্বাধীনতার 50 বছর পূর্ণ হতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই, অগ্ৰিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই আপনাকে সহ বাংলাদেশের সমস্ত ভাই-বোনদের।
আপনি মুসলিম 'নারী স্বাধীনতা ও চেতনার' অন্যতম প্রতীক। বাংলাদেশের প্রতি আপনার এবং আপনার পরিবারের অবদান শুধু বাংলাদেশ নয়, আপনার প্রতিবেশী ও আমার দেশ সহ এ পৃথিবী কখনও ভুলবে না, ভোলার নয়ও!!
আমাদের (ভারতের) প্রতিবেশী, বন্ধু ও সহযোগী দেশ সমূহের অন্যতম হল- বাংলাদেশ। আর প্রতিবেশী, বন্ধু ও সহযোগী হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। আমরা আমাদের সম্পর্ক কে ভবিষ্যতে আরও গভীরতায় নিয়ে যাওয়ার কামনা করছি!!
যারা (আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ) নারী নেতৃত্ব ও শাসনকে কটাক্ষ করত, আপনার এবং বাংলাদেশের সফলতা তাদের মুখে চপটাঘাতের তুল্য!!
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী (বাংলাদেশ), আমার এই লেখা আপনাকে ও আপনার দেশের গণতন্ত্রপ্রেমীদের ছোট্ট একটি উপহার!!
★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★
সুধী পাঠক, আজ অর্থাৎ 19.12.2020 তে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ থেকে নূর হোসেন সরকার ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- তাহলে কি হোসেন কুরানী মনে করেন যে, মাদ্রাসা থেকে সন্ত্রাসী তৈরি হয়?? যদি এমনটা না মনে করেন, তাহলে আপনার লেখায় (সুদ পর্ব- 2 তে) কেন মাদ্রাসাকে কটাক্ষ করলেন?? না কি B J P তে যোগ দিলেন?? না কি নিজেকে বিক্রি করলেন??
উত্তর সহজ- কখনই মাদ্রাসায় জঙ্গি/ সন্ত্রাসী তৈরি হয় না, তবে মাদ্রাসায় তৈরি গোঁড়া, আধুনিক সভ্যতার অনুপযুক্ত এবং ইসলাম (কোরান তৎসংলগ্ন সাহীহ হাদীস) বিরোধী মন-মানসিকতা!! এ জন্যই মুসলিম সমাজের এই করুণ অবস্থা, যা গত লেখায় (সুদ পর্ব- 1 ও 2 তে) দেখিয়েছি। যদি তাও আপনি দেখতে না পান/ চান, তার দায় তো আর আমার নয়!!
আর একটা কথা, আমি কোথাও যোগ দিই নি, কারও পক্ষে/ বিপক্ষে নয়, আমি শুধু সত্যের পক্ষে, মিথ্যার বিপক্ষে। আর পৃথিবীতে এত ধনসম্পদ কারও হয় নি, যে হোসেন কুরানীকে কিনে নিতে পারে!! ধনসম্পদ তো অনেক দূরের কথা, গোটা পৃথিবী বিক্রি করে যদি হোসেন কুরানীকে কিনতে চান/ পৃথিবীর বদলে হোসেন কুরানীকে কিনতে চান/ পৃথিবীর শাসনের বদলে যদি হোসেন কুরানীকে কিনতে চান, তবুও পরবেন না!!
আর আমাকে 'পৃথিবী' দ্বারা কিনতে হবে না, অপেক্ষা করুন কিছুদিন, এমনিতেই আমি সত্য দ্বারা পৃথিবী জয় করে নেব- ইনশাআল্লাহ!! আপনার টাকা আপনার কাছে রাখুন, আল্লাহ আমাকে ভিখারি করেন নি বরং ভিখারি ব্যবস্থা সহ ও সমস্ত ধরনের নোংরামি বন্ধ করে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে পাঠিয়ে ছেন, আর তা করবই!! আমাকে কেনার 'চিন্তা' বাদ দিয়ে Team, Quranic universe কে অর্থ সাহায্য করুন, সত্য প্রতিষ্ঠায়!!
প্রশ্ন হবে- কেন কেনা যাবে না?? উত্তর সহজ- আল্লাহ আগেই আমার 'জীবন ও ধনসম্পদ' কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে (দ্রঃ 9:111)। আমি আগেই বিক্রি হয়ে গেছি, বিক্রি হওয়া 'মাল'কে আবার কেউ কেনে?? তাহলে নিশ্চয় আপনি ভাল ব্যাবসায়ী নন। তবে একটা Option আছে, যদি আপনি জান্নাতের চেয়ে উত্তম কিছু দিতে পারেন, তাহলে আমি বিক্রি হতে রাজি!! কিনবেন আমাকে??
প্রশ্ন হবে- তাহলে কি মাদ্রাসা গুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ?? উত্তর সহজ- একদিন মাদ্রাসা ব্যবস্থাই ছিল জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এবং এই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকেই তৈরি হয়েছে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা (School, college এবং university) কিন্তু মাদ্রাসা ব্যবস্থাই বর্তমানে 'সেকেলে' হয়ে গেছে!!
আর মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা যখন জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম ছিল, তার অবদান নিশ্চিত ভাবে আমাদের সম্মানিত আলিমগণের এবং বর্তমান মাদ্রাসা শিক্ষার দুরাবস্থা সম্মানিত হারামখোরদের অবদান!!
তাই এখন 2 টি Option আছে- ১) মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠক্রম বদলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়েও বেশি আধুনিক ও উন্নতমানের করতে হবে। নয়ত- ২) মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ, এখানে টাকা খরচ করেও যদি গোঁড়া, আধুনিক সভ্যতার অনুপযুক্ত এবং ইসলাম (কোরান ও তৎসংলগ্ন সাহীহ হাদীস) বিরোধী মন মানসিকতা তৈরি হয়, তার চেয়ে বন্ধ করে দেওয়া লক্ষ কোটি গুণ ভাল!!
আর একটা কথা, মাদ্রাসা শিক্ষার দুরাবস্থার কারণও হল- আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণের গোঁড়ামিই এবং কোরান ও তৎসংলগ্ন সাহীহ হাদীসের জ্ঞান না থাকাই দায়ি!! হ্যাঁ, আমি কঠিন ভাষায় কথা বলি, কারণ সত্য খুবই কঠিন কিন্তু আমার কথা জ্ঞানী দের খোরাক!!
সুধী পাঠক, আপনি আমাদের গত লেখা এবং বিজ্ঞান ও কোরান বিষয়ক লেখা গুলো পড়তে চান, তাহলে নিচের Link এ Click করুন---
এখন কেউ কেউ বলতে পারেন- গণতন্ত্রই যেখানে হারাম, সেখানে নির্বাচিত শাসক হালাল হয় কিভাবে?? উত্তর সহজ, তবে এর জন্য আপনাকে একটু অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ পরবর্তী লেখার জন্য!!
প্রশ্ন হবে- নারী নেতৃত্ব হারাম, এই Concept বা ধারণা কোথায় থেকে এল?? উত্তর সহজ- Bible (বাইবেল) ও মনুস্মৃতি থেকে!! ওওও আচ্ছা, এখন আপনার দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে, তাই না?? তবে দেখুন-
"And I do not permit a woman to teach or to have authority over a man"(Bible, New King James Version, New Testament, 1'st Timothy- 2:12). অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমি কখনও এটা অনুমোদন দিই না যে, একজন শিক্ষা দেবে বা কোনও পুরুষের উপর কর্তৃত্ব/ শাসন করবে"(Bible, New King James Version, New Testament, 1'st Timothy- 2:12)।
এবার মনুস্মৃতি কি বলে, দেখবেন না?? দেখে নিন-"ন ভজেৎ স্ত্রী স্বতন্ত্রতাম"(5:148)। অনুবাদ দেখলে দেখলে অবাক হবেন-"কিন্তু কখনও স্ত্রীলোক স্বাধীনতা লাভ করতে পারবে না"(5:148)। পাঠক, এ বিষয়ে কি আর কিছু আমাকে বলতে হবে, না বুঝে নিয়েছেন??
বাংলাদেশের বরিশালের ফারিয়া রাহমান বর্ষা প্রশ্ন করা বলেছেন- Sir, বলা হয় যে, মহিলারা কোনও মাহরাম ছাড়া একা সফর করতে পারবে না!! আপনার লেখায় এই বিষয়ে কিছু বলবেন- আসলে কি তাই??
মহিলারা একা সফর করতে পারবে না- এ বিষয়ে বহু সাহীহ হাদীস আছে এবং মহিলারা একা সফর করতে পারবে- এ বিষয়ে কমপক্ষে 2 টি সাহীহ হাদীস আছে কিন্তু আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণ তা গোপন করে রেখেছেন!! প্রথমটা বুখারীতে, দ্বিতীয়টা মুসনাদে আহমাদে কিন্তু আমরা সময় স্বল্পতার জন্য শুধুমাত্র বুখারীর হাদীসটাই উল্লেখ করব। ঠিক আছে?? তাহলে দেখবেন তো হাদীসটা?? দেখুন-
فَإِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ لَتَرَيَنَّ الظَّعِينَةَ تَرْتَحِلُ مِنْ الْحِيرَةِ حَتَّى تَطُوفَ بِالْكَعْبَةِ لَا تَخَافُ أَحَدًا إِلَّا اللَّهَ●
অনুবাদ হবে এমন-"[নাবী (সা) আদি ইবনু হাতীম (রা)- কে বললেন-] যদি তুমি দীর্ঘজীবি হও, তাহলে তুমি দেখবে- হীরা [মেসোপটেমিয়া] থেকে একজন মহিলা একাকী এসে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করে যাবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবে না"(বুখারী, কিতাবুল মানাকিব, হাদীস 3595)।
সুধী পাঠক, এবার একটু বলি, হ্যাঁ?? আসলে নাবী (সা) মাদিনাতে আসার পর নাবী (সা) ও মাদিনার উপর শত্রুদের আক্রমণ হতেই থাকে এবং শত্রুদের দ্বারা মুসলিম মহিলাদের বন্দীনি ও ধর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রচুর। তাই নাবী (সা) মহিলাদের মাহরাম ছাড়া একা সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন কিন্তু ধীরে ধীরে পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেওয়া হয় কিন্তু সম্মানিত হারামখোরগণ তা বোঝেনও নি আর করেনও নি!!
যেমন- কোনও মহিলা মাহরাম ছাড়া সফর না করে!! মাহরাম ছাড়া 1 দিনের সফর করা যাবে না/ 2 দিনের/ 3 দিনের/ 10 দিনের, ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর তিনি যখন দেখলেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, তখন তিনি বললেন-
فَإِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ لَتَرَيَنَّ الظَّعِينَةَ تَرْتَحِلُ مِنْ الْحِيرَةِ حَتَّى تَطُوفَ بِالْكَعْبَةِ لَا تَخَافُ أَحَدًا إِلَّا اللَّهَ●
অনুবাদ হবে এমন-"[নাবী (সা) আদি ইবনু হাতীম (রা)- কে বললেন-] যদি তুমি দীর্ঘজীবি হও, তাহলে তুমি দেখবে- হীরা [মেসোপটেমিয়া] থেকে একজন মহিলা একাকী এসে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করে যাবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবে না"(বুখারী, কিতাবুল মানাকিব, হাদীস 3595)। পাঠক, আর কিছু বলব??
প্রথম প্রকাশ : 20.12.2020
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: