#সূরাহ _আল_ফাতিহাহ, 4 নং আয়াহ, এবং কুরানী বিশ্লেষণ।
@সূরাহ আল-ফাতিহাহ, 4 নং আয়াহ। বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কুরআন এবং কুরানী বিশ্লেষণ। অনুবাদে : হোসেন কুরানী।
1 নং সূরাহ আল-ফাতিহাহ।
(মাক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা 7)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
অর্থাৎ আল্লাহর নামে (শুরু), (যিনি) সীমাহীন/ অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়।
4 নং আয়াহ: (কেননা¹, হে আল্লাহ) আমরা² শুধু এবং শুধু মাত্র³ আপনার ইবাদাত⁴/ উপাসনা করি⁵। এবং আমরা⁶ শুধু এবং শুধুমাত্র⁷ আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা⁸ করি⁹।
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 1)
"কেননা" বলতে কি, তা যদি জানতে চান, তাহলে একটু কষ্ট করে 1:2 আয়াহ'র 1 ও 2 কুরানী বিশ্লেষণ'টি দেখে নিন দয়া করে। নয়ত আমাদের'কে আবার অনেক লিখতে হবে। তবুও ছোট্ট করে বলি-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ'র, কেননা তিনি মহা বিশ্ব সমূহের প্রতিপালক"(1:1)। "কেননা, তিনি সীমাহীন দয়ালু, সীমাহীন করুণাময়"(1:2)। "কেননা, তিনি বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক"(1:3)। আর তারপর এই 2:4 আয়াহ'টি দেখুন-"(কেননা, হে আল্লাহ) আমরা শুধু এবং শুধু মাত্র আপনার ইবাদাত/ উপাসনা করি। এবং আমরা শুধু এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি"।
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 2)
একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- এখানে نَعْبُدُ (না'বুদু) "আমরা ইবাদাত করি" কেন আল্লাহ ব্যবহার করলেন?? উত্তর খুব সহজ রে ভাই, কিন্তু খুব বড় হবে। এ জন্য মনোযোগ দিন- এখানে মূল কালিমাহ'র পূর্বে نا (না) ব্যবহৃত হয়েছে, যা কালিমাহ'কে جمع (জাম'য়া) বা বহুবচনে পরিণত করে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য এখন প্রশ্ন- কেন?? তাই তো?? দেখুন- ১) 1:1 আয়াহ' তে মহাবিশ্ব সমূহের কথা বলা হচ্ছে, তাই মহাবিশ্ব সমূহের সব বাসিন্দাদের (মানব ও জিন'দের) পক্ষ থেকেও প্রার্থনার প্রস্তাবনা এবং নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করা হচ্ছে। তাই "আমি" না বলে "আমরা" ব্যবহার করা হচ্ছে।
২) এখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রস্তাব করা হয়েছে। যা সাধারণত আমরা (তাফসীরকারীরা) Ignore করে চলে যাই। কিন্তু হোসেন কুরানী এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি Ignore করে চলে যেতে পারি না। যাইহোক, যে সব মুফাস সির Ignore করে চলে যান/ গেছেন, তাদের অবশ্য একটা গুরুত্বপূর্ণ মজবুরি ছিল, আর তা হল- তারা বস-বাস কর তেন রাজতন্ত্রে!! ফলে তারা "খালিফা'তন্ত্র/ জন'প্রতিনিধিত্ব" ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলতে পারেন নি।
কিন্তু হোসেন কুরানী প্রজাতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মহান দেশ ভারতে বস-বাস করেন। প্রশ্ন হবে- ইসলাম কি গণতন্ত্র'কে সমর্থন করে?? উত্তর সহজ- হ্যাঁ। তবে, সম্পূর্ণ নয়। এখন প্রশ্ন হবে- এর মানে কি?? এর মানে হল- ইসলাম যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা বা রাষ্ট্র পরিচালন পদ্ধতির কথা বলে, তা গণতন্ত্রের চেয়েও অনেক কিছু উন্নত এবং নিখুঁত ব্যবস্থা। যার নাম হল- "খালিফাতন্ত্র বা জন'প্রতিনিধিত্ব" ব্যবস্থা। অন্য ভাবে যদি বলতে চাই, তাহলে বলতে হবে- আসলে গণতন্ত্র "খালিফাতন্ত্র বা জন'প্রতিনিধিত্ব" ব্যবস্থার 75-80% মাত্র।
তাই একজন মুসলিম হিসেবে আমরা গণতন্ত্র'কে সমর্থন করতে বাধ্য। যাইহোক, এ বিষয়ে আমরা পরে বিস্তারিত আলোচনা করব- ইনশাআল্লাহ। এবার আমরা "আমরা"তে ফিরে আসতে চাই। কি বলেন পাঠক?? ৩) পবিত্র কুরআন শুধুমাত্র দীন বা জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কিত কিতাব'ই নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কিত কিতাব'ও। যাকে আমরা রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক বিধি অর্থাৎ "সংবিধান" বলে থাকি। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুযায়ী সংবিধা নের একটি প্রস্তাবনা (Preamble) থাকে, যা সাধারণ শুরু হয়- "আমরা" দিয়ে। উদাহরণের জন্য আমাদের মহান দেশ ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা দেখুন-"WE, THE PEOPLE OF INDIA, having solemnly resolved to constitute India into a SOVEREIGN SOCIALIST SECULAR DEMOCRATIC REPUBLIC and to secure to all its citizens: JUSTICE, social, economic and political; LIBERTY of thought, expression, belief, faith and worship; EQUALITY of status and of opportunity;
and to promote among them all FRATERNITY assuring the dignity of the individual and the unity and integrity of the Nation; IN OUR CONSTITUENT ASSEMBLY this twenty-sixth day of November, 1949, do HEREBY ADOPT, ENACT AND GIVE TO OURSELVES THIS CONSTITUTION"। कुछ समझो??
৪) সাধারণত আমরা ভাবি- আমি+ আমরা+ পরিবার+ সমাজ= দেশ। কিন্তু পবিত্র কুরআন "আমরা" থেকে শুরু করে "আমি" তে শেষ করেছে। "আমি" একা কখনও সুস্থ্য সমাজ গঠন করে শান্তি পাব না। কিন্তু "আমরা" সুস্থ্য সমাজ করে শান্তি পেতে পারি। তাই না?? এ জন্য পবিত্র কুরআন "আমরা" দ্বারা সূরাহ ফাতিহাহ শুরু করে "আমি" দ্বারা সূরাহ না'স এ প্রার্থনা প্রস্তাব করেছে। এখন খুব ছোট করে বললে যা হবে, তা হল- "আমি"র শান্তির জন্য "আমরা"র শান্তি প্রয়োজন। একটু ভিন্ন ভাবে বললে হবে- "আমি"র অস্তিত্ব "আমরা"র জন্য। তাই না??
৫) সর্বদা "আমরা"র গুরুত্ব "আমি"র চেয়ে অনেক বেশি। এ জন্য हिंदी (হিন্দি), English সহ একাধিক ভাষায় "আমি" কে প্রকাশ করার জন্য "আমরা" ব্যবহার করা হয়। এ জন্যই हिंदी (হিন্দি) তে हम (হাম) বা "আমরা" শব্দ ব্যবহার করা হয় নিজেকে বা "আমি"কে প্রকাশ করার জন্য। একই ভাবে English এও নিজেকে বা "আমি"কে প্রকাশ করার "We" ব্যবহার করা হয়, যাকে আমরা "Royal We" বা "রাজকীয় "আমরা" বলে জানি। যা মূলত বহুবচন নয়, একবচন'ই। যা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ নিজেও নিজেকে প্রকাশ করার জন্য (نَحْنُ বা "আমরা") ব্যবহার করেছেন। চলুন আপনাকে একটা আয়াহ দেখাই- إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ অনু বাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই আমরা এই স্মরণিকা বা উপদেশ [পবিত্র কুরআন] নাযিল করেছি, এবং আমরা'ই তার হিফা জ্বাত'কারী"(15:9)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ نَحْنُ (নাহনু) দ্বারা বহু আয়া'তে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। তেমন'ই আবার نا (না) দ্বারা নিজেকে "আমরা" বলে প্রকাশ করে ছেন। যা 15:9 আয়াহ'তেও ব্যবহৃত হয়েছে, দেখুন- نَزَّلْنَا (নাযযাল'না) বা "আমরা নাযিল করেছি"। এ ছাড়াও দেখতে পারেন- إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই আমরা নাযিল করেছি তা [পবিত্র কুরআন'কে] মহিমান্বিত রাতে"(97:1)। অনেকেই বা হিন্দু ভাই'রা এই আয়া'ত সমূহ দেখিয়ে আল্লাহ' র বহুশ্বেরবাদ প্রমাণ করতে চেষ্টা করে। খৃষ্টান'রা ত্রিত্ব'বাদ প্রমাণ করার চেষ্টা করে। মূর্খ ও মুনাফিক গোছের ভন্ড পীর'রা এবং তাদের মুরিদ'রা বা মুরগী'রা (মজা করলাম) আল্লাহ'র দ্বিত্ববাদ [আল্লাহ ও মুহাম্মাদ (সা)- কে মিলিয়ে ত্রিত্ববাদ Type এর কিছু] প্রমাণ করার চেষ্টা করে।
আর এটা শুধুমাত্র আরবি ভাষা ও ব্যাকারণ সম্পর্কে অজ্ঞ তার ফল। কেননা, এটা শুধুমাত্র পবিত্র কুরআনেই নয়, আরবি সাহিত্যের পুস্তক গুলোতেও রচয়িতা নিজেকে প্রকাশ করার জন্য نَحْنُ (নাহনু) বা আমরা এবং نا (না) দ্বারাও নিজেকে "আমরা" বলে প্রকাশ করেছেন। বা সাহিত্য দ্বারা চরিত্র প্রকাশ করিয়েছেন। যাইহোক, ইসলাম বিদ্বেষ সম্পন্ন ব্যক্তিগণ আবার এটাকে নিয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ'র বক্তব্য'কে সাংঘর্ষিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। সুতরাং এ বিষয়েও ছোট করে একটু বলতে চাইব। তারা বলেন- আল্লাহ পবিত্র কুরআন এ নিজেকে أَنَا (আনা) বা "আমি" বলে (20:14) প্রকাশ করেছেন। আবার نَحْنُ (নাহনু) বা "আমরা" বলেও প্রকাশ করেছেন!! এর পর বলেন- এটা কি পরস্পর বিরোধী তথ্য নয়?? তারপর বলেন- আল্লাহ এক, না কি একাধিক!!
আর মুনাফিক গোছের মুসলিম গুলো বলেন- তাই তো, এটা পরস্পর বিরোধী তথ্য!! অথচ আল্লাহ পবিত্র কুরআন এ দাবি করেছেন- পবিত্র কুরআন এ কোনও পরস্পর বিরোধী তথ্য নেই। আর যদি থাকে, তাহলে পবিত্র কুরআন আল্লাহ'র নাযিল করা নয় (4:82)। তারপর তারা এ রকম বলেন- আল্লাহও নেই, মুহাম্মাদ (সা)-ও মিথ্যা নাবী এবং ইসলাম জঘন্য একটা ধর্ম। আসলে সমস্ত ধর্ম মিথ্যা!! কিন্তু এখানে লক্ষ্যণীয় যে, তারা গোপনে হিন্দু ধর্ম এবং খৃষ্ট ধর্ম পালন করে, তার প্রচারও করে। যদিও পরে এমনটা শোনা যায় যে, তাদের ইসলাম ত্যাগ ও নাস্তিক হওয়ার অভিনয় এবং গোপনে হিন্দু ধর্ম এবং খৃষ্ট ধর্ম পালন ও প্রচার করার জন্য কিছু টাকা অথবা শহরে একটা ঘর বা Flat অথবা সুন্দরী একটা মহিলার সঙ্গে বিবাহের সুযোগ পেয়েছে!! তাই নয় কি পাঠক??
এবার উত্তর দিই?? দেখুন- إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, কোনও উপাস্য নেই আমি ছাড়া। সুতরাং আমার ইবাদাত করো"(20:14)। এই আয়াহ তো?? এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু আয়াত এ আল্লাহ নিজেকে أَنَا (আনা) বা "আমি" বলে প্রকাশ করে ছেন। এখন প্রশ্ন হবে- "আমি" এবং "আমরা" কি পরস্পর বিরোধী?? উত্তর সহজ- হ্যাঁ, পরস্পর বিরোধী। তাহলে 4:82 আয়াহ মিথ্যা?? আর 1 টা আয়াহ মিথ্যা মানে সমগ্র পবিত্র কুরআন'ই মিথ্যা। তাই না?? তাহলে কি হবে?? কিচ্ছু হবে না রে ভাই, হোসেন কুরানী বেঁচে আছেন?? এবং এখনও 120 বছর আছেন- ইনশায়াআল্লাহ।
এখন হয়ত কেউ-কেউ বলতে পারেন- Dialogue না মেরে উত্তর দিন কুরানী সাহেব। কি উত্তর দেব বলুন তো, উত্তর যে খুব সহজ। আর এত সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে ভালো লাগে না। যান, উত্তর দেব না!! আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে। উত্তর দিচ্ছি দাঁড়ান, দেখুন- বাংলা ব্যাকারণ অনুযায়ী এটা সত্যিই পরস্পর বিরোধী তথ্য। এখানে খুশির খবর হল- পবিত্র কুরআন বাংলা ব্যাকারণ অনুযায়ী নাযিল হয় নি। তাই বাংলা ব্যাকারণ দ্বারা পবিত্র কুরআন'কে বিচার করা মানে হল- আপনি 1 টা গন্ড মূর্খ। প্রশ্ন হবে- তাহলে কোন ভাষার ব্যাকারণ দ্বারা পবিত্র কুরআন'কে বিচার করব?? আরবি ব্যাকারণ দ্বারা রে ভাই, তাও কুরাঈশ গোত্রের আরবি ভাষা ও ব্যাকারণ দ্বারা। এ ছাড়াও কুরাঈশ আরবি ভাষার 1 টা বিশেষত্ব হল- নতুন কালিমাহ/ শব্দ তৈরি হয়। তাই কুরাঈশ আরবি ভাষা দ্বারাও পবিত্র কুরআন'কে বিচার করা উচিৎ নয়। কেননা, আজ থেকে 1500 বছর পূর্বের কুরাঈশ ভাষার ব্যবহার করা হয়েছে পবিত্র কুরআনে। তাই পবিত্র কুরআন'ই আরবি ভাষার মৌলিক ব্যাকারণের কিতাব। তাই 'আবুল আসাদ দুইয়েলী' (র) পবিত্র কুরআন থেকেই নাহু প্রণয়ন বা কালিমা গঠন (বাক্য গঠন) নিয়ম-নীতি তৈরি করেছেন, যা আলী (রা)- এর শাসনের সময়ে তৈরি হয়।
তাই যেহেতু পবিত্র কুরআন'ই আরবি ব্যাকারণের মৌলিক কিতাব এবং আরবি ব্যাকারণ কুরআন থেকেই এসেছে, সে হেতু বর্তমান ব্যাকারণ ভুল হতে পারে, কুরআন নয়। কেননা ব্যাকারণ থেকে পবিত্র কুরআন নয়, পবিত্র কুরআন থেকে ব্যাকারণ। অর্থাৎ 1 থেকে 9 হল মৌলিক সংখ্যা, মানে সমস্ত সংখ্যার মূল। তখন যে কোনও সংখ্যায় ভুল থাকতে পারে। কিন্তু 1-9 ভুল থাকতে পারে না। কেননা 1-9 সব কিছু, সব কিছু থেকে 1-9 নয়, তাই না??
দ্বিতীয়ত, যদি আপনি हिंदी (হিন্দি) ভাষার ব্যাকারণের দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন- हिंदी (হিন্দি) তে নিজে কে मैं (ম্যায়) বা "আমি" এবং हम (হাম) বা "আমরা" (কিন্তু তা আসলে আমি) বলেও প্রকাশ করা হয়। मैं (ম্যায়) বা "আমি"র চেয়ে हम (হাম) বা "আমি" বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও हम (হাম) এর সাধারণ অর্থ "আমরা" হয়ে থাকে। কিন্তু তবুও কোনও ব্যক্তি নিজেকে একই সঙ্গে हिंदी (হিন্দি) তে मैं (ম্যায়) বা "আমি" এবং हम (হাম) বা "আমি" বলেও প্রকাশ করা হয় এবং তা মোটেও পরস্পর বিরোধী নয়। বরং নিয়ম এটা যে, যখন নিজেকে সত্ত্বা কেন্দ্রিক দেখাতে চায়, তখন हिंदी (হিন্দি) তে मैं (ম্যায়) বা "আমি" বলে প্রকাশ করে এবং যখন নিজেকে প্রভাবশালী এবং প্রতিপত্তির অধিকারী দেখাতে চায়, তখন हिंदी (হিন্দি) তে নিজেকে हम (হাম) বা "আমরা" (যা আসলে আমি) বলেও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এবার দেখুন, নিজেকে हम (হাম) বা আমরা বলে প্রকাশ করার একটা উদাহরণ, যদিও তা কিশোর কুমারের हिंदी (হিন্দি) গান, কখনও হোসেন কুরানী হানী'র জন্য গাইতেন। যা আজ শুধুমাত্র কষ্টদায়ক স্মৃতি। যাইহোক দেখুন-
हमें तुमसे प्यार कितना,
ये हम नहीं जानते,
मगर जी नहीं सकते तुम्हारे बिना।
हमें तुमसे प्यार कितना,
ये हम नहीं जानते,
मगर जी नहीं सकते तुम्हारे बिना।
हमें तुमसे प्यार!!
এবার मैं (ম্যায়) বা "আমি"র এবং हम (হাম) বা "আমরা"র একটা সুন্দর উদাহরণ দেখুন- मैं खुद जाउंगा, ओर जाकर हम देखेंगे वास्तव में क्या हुआ था!! অর্থ- আমি নিজে যাব, এবং আমরা (মানে আমি) গিয়ে দেখব যে, আসলে কি হয়েছে!! পাঠক, আর বোঝার কিছু বাকি আছে??
আচ্ছা, একটু বলে রাখা ভালো হবে যে, হোসেন কুরানীও নিজেকে সর্বদা "আমরা" বলেই প্রকাশ করে থাকেন, তার উদাহরণ হল- এই কুরানী বিশ্লেষণ। এবং এও বলে রাখা ভালো যে, হোসেন কুরানী যখন একেবারে নিজ সত্ত্বা বা ব্যক্তি কেন্দ্রিক কথা বলেন, শুধু তখনই নিজেকে "আমি" বলে প্রকাশ করেন। যেমন- আমি হোসেন কুরানী হানী'কে অনেক ভালোবাসি। আরও বলা যায়- আমরা হানী'র জন্য সর্বদা তৎপর। তাই না??
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 3)
প্রশ্ন হবে- "শুধু এবং শুধুমাত্র" বলতে আসলে কি বোঝানো হয়েছে?? উত্তর খুব সহজ- এর মানে হল "আল্লাহ'র সঙ্গে কোনও কিছুর নয়, আল্লাহ ছাড়া আর কিছু নয়, ইবাদাত শুধু এবং শুধুমাত্র আল্লাহ'র"। এখন প্রশ্ন হবে- এর মানে কি?? আল্লাহ বলেছেন- وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ অনুবাদ হবে এমন-"এবং শুধু আমার ইবাদাত করা ছাড়া অন্য কোনও উদ্দেশ্যে আমি মানব এবং জিন'কে সৃষ্টি করে নি"(51:56)। সুতরাং মানব ও জিন'কে সৃষ্টিই করা হয়েছে শুধু এবং শুধুমাত্র আল্লাহ'র আল্লাহর ইবাদতের জন্য। এ এখানে বলা হচ্ছে-"আমরা শুধু এবং শুধুমাত্র আপনার ইবাদাত করি"(1:4)। আর শুধুমাত্র আমরা এটা'ই ঘোষণা করি, এমনটা নয়। এটাও ঘোষণা করি- وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমরা তার সঙ্গে কোনও কিছুকে শরিক করি না"(3:64)। প্রশ্ন হবে- আমরা কেন তার সঙ্গে কোনও কিছুকে শরিক করি না?? উত্তর সহজ- لَا شَرِيكَ لَهُ অনুবাদ হবে এমন-"তার কোনও শরিক নেই"(6:163)। যদি তার কোনও শরিক না'ই, তাহলে কিভাবে তার শরিক করব?? এখন প্রশ্ন হবে- তার কোনও শরিক নেই, এটার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে?? উত্তর সহজ- অবশ্যই আছে। কিন্তু এখানে আলোচনা করা অপ্রাসঙ্গিক। আমরা অন্য কোথাও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, চিন্তার প্রয়োজন নেই- ইনশায়া'আল্লাহ।
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 4)
ইবাদাত বলতে মোটেও শুধুমাত্র স্বালাত আদায় বা স্বিয়াম পালন করা নয়, বরং আল্লাহ'র সমস্ত আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন-যাপন করাই হল- আল্লাহর ইবাদাত। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে- শুধুমাত্র আল্লাহর আল্লাহর আল্লাহ'রই আদেশ নিষেধ মেনে চলাই আল্লাহ'র ইবাদাত?? মুহাম্মাদ (সা)- এর আদেশ নিষেধ মেনে চলা কি তাহলে মুহাম্মাদ (সা)- এর ইবাদাত?? উত্তর সহজ রে ভাই- أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা অনুসরণ করো আল্লাহর এবং রাসুল এর"(4:59)। মুহাম্মাদ (সা)- কে অনুসরণ করতে হবে, এটা আল্লাহ'রই নির্দেশ রে ভাই। ঠিক আছে, তবে আরও দেখুন- مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ অনুবাদ হবে এমন-"যে রাসুল এর অনুসরণ করে, সে মূলত আল্লাহ'রই অনুসরণ করল"(4:80)। এর মানে হল- মুহাম্মাদ (সা)- আদেশ-নিষেধ মেনে চললে, পক্ষান্তরে আল্লাহ'রই আদেশ-নিষেধই মেনে চলা হয় এবং তা আল্লাহ'রই ইবাদাত। समझो??
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 5)
"ইবাদাত করি"- এটা আবার আলাদা করে বলতে হচ্ছে
কেন?? উত্তর সহজ- যেহেতু "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ'র, যিনি মহাবিশ্ব সমূহের রাব/ প্রতিপালক/ মালিক"। "যিনি সীমাহীন দয়ালু, সীমাহীন করুণাময়"। "যিনি বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক"(1:1-3)। সেহেতু এটা ঘোষণা করতে হচ্ছে-"আমরা শুধুমাত্র আপনারই ইবাদাত করি, এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি"(1:4)। মানে- যিনি মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক, তার ইবাদাত করি। যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়, তার ইবাদাত করি। যিনি বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক, তার ইবাদাত করি। এবার বলুন- বুঝতে পেরেছেন??
আরও একটা প্রশ্ন- কেন আল্লাহর ইবাদাত করি?? উত্তর সহজ- কারণ, তিনি মহাবিশ্ব সমূহের রাব/ মালিক তথা প্রতিপালক। তার সঙ্গে সঙ্গে আমারও। তিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়। তিনি বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক (1:1-3)। এ ছাড়াও একাধিক উত্তর আছে, সূরাহ ফাতিহাহ'তে 3 টি উত্তর আছে, সেই 3 টি উত্তরই এখানে আমরা উল্লেখ করলাম।
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 6)
"আমরা" বলতে কি- তা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি 1:4 আয়াহ'রই 2 নং কুরানী বিশ্লেষণে। সুতরাং একটু কষ্ট করে তা একবার দেখে নিন। নয়ত আমাদেরকে আবার লিখতে হবে। এবং তাতে কুরানী বিশ্লেষণের আকার বৃদ্ধি পাবে!! তাই না??
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 7)
প্রশ্ন হবে- "শুধু এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই" বলতে কি?? উত্তর সহজ- 1:4 আয়াহ'র 3 নং কুরানী বিশ্লেষণটা দেখে নিন ভাই। নয়ত আমাদেরকে আবার লিখতে হবে। সুতরাং একটু কষ্ট করে নিন ভাই। তবে, এই আয়াহ 2 টি আপনাকে দেখাই, দেখুন- وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ অনু বাদ হবে এমন-"আল্লাহ'কে বাদ দিয়ে কাউকে ডাকবেন না বা কারও কাছে প্রার্থনা করবেন না। যে আপনার না উপকার করতে পারে, আর না অপকার বা ক্ষতি"(10:106)। এটাও দেখুন- فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ অনুবাদ হবে এমন-"এতএব আপনি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনও ইলাহা'কে/ উপাস্যকে ডাকবেন না"(26:213)। সেটারই Practice করানো হচ্ছে 1:4 আয়াহ'তে। দ্বিতীয়ত, এই জন্যই পরের আয়াহ'তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে- হে আল্লাহ, "আমাদেরকে সহজ-সরল পথ দেখান"(1:5)।
আমরা এখানেই কুরানী বিশ্লেষণটা শেষ করে দিতে পার তাম। কিন্তু এই সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই ছি। এখন প্রশ্ন হবে- কেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও ইলাহা' কে ডাকতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন?? এ প্রশ্নের উত্তর তো খুব সহজ, দেখুন- لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ অনুবাদ হবে এমন-"নেই কোনও ইলাহা/ উপাস্য আল্লাহ ছাড়া"(37:35, 47:19)। যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও ইলাহা না'ই থাকে, তাহলে তাদের ডেকে লাভ কি?? এ জন্য আল্লাহ তাকে ছাড়া অন্য ইলাহা কে ডাকতে নিষেধ করেছেন। বুঝলেন??
এ ছাড়াও আল্লাহ এ জন্যও আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকতে নিষেধ করেছেন- ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব"(40:60)। অর্থাৎ আল্লাহ'কে ডাকলে তিনি সাড়া দেন, কিন্তু অন্য ইলাহা কিয়ামাত পর্যন্ত সাড়া দেবেন না। আয়াহ টি দেখুন- وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لَا يَخْلُقُونَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ অনুবাদ হবে এমন-"তারা তাকে [আল্লাহ'কে] বাদ দিয়ে এমন ইলাহা/ উপাস্য গ্ৰহণ করেছে, যারা কোনও সৃষ্টি করতে পারে না। বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট"(25:3 ও 16:29)। আরও বলা হয়েছে- وَلَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا অনুবাদ হবে এমন-"এবং তারা [ইলাহা বা উপাস্যরা] নিজেদের জন্য ক্ষতি এবং উপকারের ক্ষমতা রাখে না"(25:3)। আরও বলা হয়েছে-
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং তার অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে ডাকে আল্লাহ'কে বাদ দিয়ে এমন কোনও সত্ত্বাকে ডাকে যে, কিয়ামাত দিন তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। এবং তাদের প্রার্থনা সম্পর্কে তারা [ইলাহা'রা] জানেই না"(46:5)। যখন তারা সাড়া দিতেই অক্ষম, তখন তাদের ডেকেই লাভ টা কি!! তাই না?? যাইহোক, এখন প্রশ্ন হবে- তাদের প্রার্থনা সম্পর্কে মিথ্যা ইলাহা'রা জানে না কেন?? উত্তর খুব সহজ রে ভাই, দেখুন- أَمْوَاتٌ غَيْرُ أَحْيَاءٍ ۖ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ অনুবাদ হবে এমন-"[হয়ত] তারা মৃত, [নয়ত] তারা জীবন হীন। [যদি এই 2 গুণে ভূষিত না হয়, তাহলে] তারা পুনরু ত্থান সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না"(16:21)।
এ বিষয়ে শেষ আয়াহ- إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَىٰ অনুবাদ হবে এমন-"আপনি মৃতদের ডাক শোনাতে পারবেন না"(27:80 ও 30:52)। এ বিষয়ে শেষ প্রশ্ন- পীর এর কাছে প্রার্থনা বা পীর এর মাধ্যমে আল্লাহ'র কাছে বা যে কোনও মাধ্যমে আল্লাহ'র কাছে প্রার্থনা করা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন কি বলে?? ঠিক আছে পাঠক, ছোট্ট করে উত্তর দিয়ে দিই?? আয়াত 2 টি দেখুন- إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَىٰ অনুবাদ হবে এমন-"আপনি মৃত দের ডাক শোনাতে পারবেন না"(27:80 ও 30:52)। আরও দেখুন- وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তাদেরকে আপনি আপনার ডাক শোনাতে পারবেন না, যারা আছে কবরের ভিতরে"(35:22)। পাঠক, আর কিছু বলতে হবে, না কি বুঝে গেছেন?? আরও একটা আয়াহ আপনাকে দেখাতে চাইছি, দেখতে চান?? নিন-
وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যারা তাকে [আল্লাহ'কে] বাদ দিয়ে আউলিয়া/ অভিভাবক গ্ৰহণ করেছে, তারা বলে- আমরা এদের ইবাদাত এ জন্য করি/ এদের কাছে এ জন্য প্রার্থনা করি, যেন এরা আমাদেরকে আল্লাহ'র কাছে পৌঁছে দেয়"(39:3)। সুতরাং আল্লাহ'র কাছে প্রার্থনা করার জন্য মাধ্যম গ্ৰহণ করা “শিরক”। এখানে কেউ কেউ বলতে পারেন যে- "ইবাদাত বা উপাসনা" অনুবাদের স্থানে "প্রার্থনা" অনু বাদ করেছেন কেন?? উত্তরটা মুহাম্মাদ (সা) দিয়েছেন, এই নিন- إِنَّ الدُّعَاءَ هُوَ الْعِبَادَةُ অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই দুয়া'আ হল ইবাদাত"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুদ দুয়া'আ, হাদীস 3828)।
এখন প্রশ্ন হবে- ওয়াসীলাহ সম্পর্কে কিছু বললেন যে?? উত্তর সহজ- ওয়াসীলাহ শব্দের অর্থই হল “মাধ্যম”। এই সম্পর্কেই আলোচনা করলাম। এখন প্রশ্ন হল- জীবিত কোনও মানুষ দ্বারা নিজের প্রার্থনা করানো সম্পর্কে পবিত্র কুরআন কি বলে?? উত্তর সহজ- পবিত্র কুরআন কি বলে, তা আর আলাদা করে বলছি না। তবে এই আয়াহ'টি দেখে নিন, বুঝে যাবেন-
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"আপনি গ্ৰহণ করুন তাদের থেকে [দীন প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য] সাদাকাহ। এবং তা দ্বারা তাদেরকে পবিত্র করুন এবং পরিশুদ্ধ করুন। তাদের জন্য স্বালাত বা দুয়া'আ করুন। নিশ্চয়ই আপনার স্বালাত বা দুয়া'আ তাদের জন্য প্রশান্তি"(9:103)। কাছা-কাছি ধরণের বক্তব্য রয়েছে 47:19 আয়াহ'তে।
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 8)
প্রশ্ন হবে- তাহলে যে আমরা বিভিন্ন মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, সেটার কি হবে?? যেমন- কোনও মানুষের থেকে হয়ত টাকা ধার করে থাকি ইত্যাদি। উত্তর খুব সহজ রে ভাই- এখানে এই ধরণের সাহায্য প্রার্থনার কথা বলা হয় নি রে ভাই। এখানে যে ধরণের সাহায্য প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে, তা 1:5-7 আয়াত এ বা পরের 3 টি আয়াত এ বলা হয়েছে!! যদিও ঐ 3 টি আয়াত এ বর্ণিত প্রার্থনা ছাড়াও আল্লাহ'র কাছে যে কোনও প্রার্থনা করা যায়। এখন একটা প্রশ্ন হবে- আল্লাহ'র কাছে প্রার্থনা করব কখন, এর জন্য কি নিদিষ্ট কোনও সময় আছে?? উত্তর সহজ- না, কোনও সময় নেই। যখন প্রয়োজন, তখনই প্রার্থনা করা যায়। এবং আয়াহ দেখুন- أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ অনুবাদ হবে এমন-"যখন কেউ আমাকে ডাকে, তখনই আমি তার ডাকে সাড়া দিই"(2: 186)। এখন প্রশ্ন হবে- আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেই কি কাবুল করবেন, এমন কোনও Guarantee আছে?? 100% Guarantee আছে। দেখুন- ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব"(40:60)।
1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 9)
প্রশ্ন হবে- "করি" বলতে কি?? উত্তর সহজ- সাহায্য প্রার্থনা করি রে ভাই। প্রশ্ন হবে- এটা আলাদা করে আবার বলতে হচ্ছে কেন?? কারণ, আল্লাহ'র কাছে প্রার্থনা না করলে, তিনি অসন্তুষ্ট হন। কারণ- إِنَّ الدُّعَاءَ هُوَ الْعِبَادَةُ অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই দুয়া'আ হল ইবাদাত"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুদ দুয়া'আ, হাদীস 3828)। সুতরাং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা না করা, আল্লাহর ইবাদাত না করা। বুঝলেন?? প্রশ্ন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা না করলে, তিনি অসন্তুষ্ট হন, এটা কোথায় পেলেন কুরানী সাহেব?? ঠিক আছে, তবে দেখেই নিন কোথায় পেয়েছি- مَنْ لَمْ يَدْعُ اللَّهَ سُبْحَانَهُ غَضِبَ عَلَيْهِ অনু বাদ হবে এমন-"যে আল্লাহর কাছে দুয়া'আ করে না, তার আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন"(ইবনে মাজাহ, কিতাবুদ দুয়া'আ, হাদীস 2827)। পাঠক, এ জন্যেই বলতে হচ্ছে- "করি"।
1:4 মূল আয়াহ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কুরানী বিশ্লেষণ:-
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ●
এই আয়াহ পবিত্র কুরআনে শুধুমাত্র 1 বারই ব্যবহৃত হয়ে ছে। আচ্ছা, কেন বলুন তো?? উত্তর সহজ- প্রস্তাবনা কোনও কিতাবে মাত্র 1 বারই হয়ে থাকে। তাই না?? এখানে অবাক করা ব্যাপার হল- إِيَّاكَ نَعْبُدُ (আমরা শুধুমাত্র আপনার ইবাদাত করি) কালিমা 2 টিও একত্রে পবিত্র কুরআন এ 1 বারই ব্যবহৃত হয়েছে। বলুন তো- কেন?? কারণ- আমরা শুধুমাত্র 1 আল্লাহ'রই ইবাদাত করি। তাই না?? আরও 1 টি অবাক করা ব্যাপার কি জানেন?? এই وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি) কালিমা 3 টিই পবিত্র কুরআন এ মাত্র 1 বার ব্যবহৃত হয়েছে। এবার বলুন তো- কেন?? কারণ- আমরা শুধুমাত্র 1 আল্লাহ'রই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তাই না?
চলতেই থাকবে.................
প্রকাশ কাল : 29.12.2021
© হোসেন কুরানী।
#সূরাহ _আল_ফাতিহাহ, 3 নং আয়াহ, এবং কুরানী বিশ্লেষণ।
@সূরাহ আল-ফাতিহাহ, 3 নং আয়াহ। বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কুরআন এবং কুরানী বিশ্লেষণ। অনুবাদে : হোসেন কুরানী।
1 নং সূরাহ আল-ফাতিহাহ।
(মাক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা 7)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
অর্থাৎ আল্লাহর নামে (শুরু), (যিনি) সীমাহীন/ অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়।
3 নং আয়াহ : (যিনি¹/ কেননা²) কর্মফল দিবস তথা বিচার দিবসের³ একচ্ছত্র মালিক⁴ / প্রভু/ ক্ষমতার অধিকারী⁵।
1:3 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 1 ও 2)
আচ্ছা, আপনি "যিনি" ও "কেননা" বলতে কি, তা কি বুঝতে পেরেছেন?? যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে 1:2 আয়াহর 1 ও 2 নং কুরানী বিশ্লেষণটা দেখে নিন একবার। যদি এতটুকু না করেন, তাহলে এখন আবার আমাদেরকে আলাদা ভাবে লিখতে হবে। যা লেখার আকার বৃদ্ধি করবে এবং তা আপনাকে বাধ্য হয়ে পড়তেও হবে। এতে আমাদেরও সময় নষ্ট হবে এবং আপনারও!! তাই না??
1:3 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 3)
প্রশ্ন হবে- আসলে "কর্মফল দিবস তথা বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক" বলে এখানে কি বলতে চাওয়া হচ্ছে?? এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ- যেন প্রতি রাকাহ'তে আপনি মনে করতে পারেন যে, আমার সমস্ত কর্মের হিসাব হবে এবং আমি সমস্ত কর্মের হিসাব দিতে বাধ্য। এতএব যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবে নয়। বরং আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ঠিক সেই ভাবে জীবন-যাপন করতে হবে। নয়ত নিজ ইচ্ছা মতো জীবন-যাপনের পরিণতি আমাকেই ভোগ করতে হবে!! এ জন্যই তো পরের আয়াহ'তে বলা হচ্ছে-"আমরা শুধুমাত্র আপনারই ইবাদাত [আপনারই/ আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ-কর্ম] করি এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি"(1:4)।
এখন কেউ বলতে পারেন- কেন আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন-যাপন করব?? আমাদের ইচ্ছার কি কোনও মূল্য নেই?? উত্তর সহজ- ধরুন, আপনি আমার গর্বের দেশ ভারতের বাসিন্দা। এখন আপনি স্বাধীন, কিন্তু তারমানে কি এই যে, আপনি ভারতের সংবিধান এবং আইন মানবেন না?? যদি আপনি ভারতে বসবাস করতে চান, তাহলে ভারতের আইন আপনাকে মানতেই হবে। নয়ত আপনি "দেশদ্রোহী" বলে গণ্য হবেন। শাস্তি হতে পারে- যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত, এরপর সম্পদ-সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও হতে পারে!!
একই ভাবে, স্বাধীন ইচ্ছা সহ "আল্লাহর ইচ্ছা বা আল্লাহর সংবিধান (পবিত্র কুরআন) আইন (হাসান ও সাহীহ হাদীস) অনুযায়ী জীবন-যাপন করতে পারবেন না কেন?? এটা তো খুব এবং খুবই সহজ। এ ছাড়াও আল্লাহ কিন্তু ভারতের চেয়েও অনেক বেশি গণতান্ত্রিক। কিভাবে, সেটাই মনে হয় ভাবছেন, তাই না?? দেখুন- لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ অনুবাদ হবে এমন-"দীন [ইসলাম] গ্ৰহণের ব্যাপারে কারোর উপর কোনও ধরণের জবরদস্তি নেই"(2:256)। মানে- কেউ চাইলে দীন ইসলাম অনুযায়ী জীবন-যাপন করতে পারেন, আবার নাও করতে পারেন!! আর কি চান?? এখন নিচের আয়াহ'টি দেখুন- ذَٰلِكَ الْيَوْمُ الْحَقُّ ۖ فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِ مَآبًا অনুবাদ হবে এমন-"সেই দিনটি [বিচার দিবস/ কর্মফল দিবস] সত্য। এতএব যে চায়, সে তার প্রতিপালকের/ প্রভুর দিকে ফিরে আসার পথ ধরুক"(78:39)।
1:3 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 4)
এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে- "একচ্ছত্র মালিক" বলতে কি বোঝানো হচ্ছে?? উত্তর খুবই সহজ- সেদিন আপনার পাশে দাঁড়ানোর বা আপনাকে বিচারের সম্মুখীন হওয়া থেকে কেউ বাঁচানোর বা আল্লাহর সিদ্ধান্ত বদল করার কেউ থাকবেন না। তাই কেউ আপনাকে বাঁচিয়ে নেবেন- এই আশায় জীবন যাপন করবেন না। আপনার যার উপর ভর দিয়ে বেঁচে যাওয়ার আশা করছেন, তিনি নিজেই সেদিন বাঁচার পথ পাবেন না। সুতরাং এটা মনে রেখে জীবন-যাপন করা উচিৎ, নয়ত শুধু শুধু 60-70 বছরের জন্য অনন্তকাল জাহান্নামের অধিবাসী হয়ে যেতে হবে!!
1:3 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 5)
প্রশ্ন হবে- "একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী" বলতে আসলে কি বোঝানো হয়েছে?? উত্তর সহজ- আল্লাহর ক্ষমতায় কোনও শরিক নেই। কিন্তু প্রশ্ন হবে- এটা বলা হল কেন?? উত্তর খুব সহজ-"Let not your heart be troubled; you believe in God, believe also in Me. In My Father’s house are many mansions; if it were not so, I would have told you. I go to prepare a place for you. And if I go and prepare a place for you, I will come again and receive you to Myself; that where I am, there you may be also. And where I go you know, and the way you know"(Jhon, 14:1-4)।
উপরিউক্ত উদ্ধৃতিটা NKJV থেকে। যাইহোক, এখানে তথা কথিত যিশু (আ)- এর "গা-জোয়ারিটা" লক্ষ করেছেন?? তা কিন্তু লক্ষণীয় ছিল, তাই না?? ওওওও আচ্ছা, English উদ্ধৃতি বলে বুঝতে পারেন নি!! দাঁড়ান, সহজ অনুবাদ করে দিচ্ছি। দেখুন-"তোমাদের মন বিচলিত না হোক৷ ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখো, আর আমার প্রতিও আস্থা রাখো৷
আমার পিতার বাড়িতে অনেক ঘর আছে, যদি না থাকতো আমি তোমাদের বলতাম৷ আমি তোমাদের থাকবার একটা জায়গা ঠিক করতে যাচ্ছি৷ সেখানে গিয়ে জায়গা ঠিক করার পর আমি আবার আসব ও তোমাদেরকে আমার কাছে নিয়ে যাব, যাতে আমি যেখানে থাকি, তোমরাও সেখানে থাকতে পার৷ আমি য়েখানে যাচ্ছি তোমরা সকলেই সে জায়গার পথ চেন"।
এবার বুঝতে পেরেছেন?? এখানে "একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী" এটাই বোঝানো হয়েছে যে, এই ধরণের কোনও "গা-জোয়ারি" কেউই সেদিন করতে পারবেন না। এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে কি যিশু (আ) মিথ্যা ভুল/ বলেছেন?? উত্তর সহজ- এই ধরণের কোনও কথা যিশু (আ) বলেন নি। তার নামে পরবর্তীতে এই বাক্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে মানুষ কে জান্নাতের Guarantee দিয়ে খৃষ্টান বানানো যায়। যেমন, বর্তমানে মিশনারিরা মানুষ ও মুসলিমদের "ঈশায়ী মুসলিম" বানাচ্ছে। এবং তা এই বলে- মুহাম্মাদ (সা) কি তোমাদের জান্নাতের Guarantee দিয়েছে?? না, দিতে পারেন নি। কিন্তু ঈশা দিয়েছেন। সুতরাং "মুহাম্মাদী মুসলিম" থেকে "ঈশায়ী মুসলিম" হয়ে যাও, তাহলেই জান্নাত।
কিন্তু লক্ষণীয় হল- Jhon 14:16 তে যিশু (আ) সম্পূর্ণ নাবী (আ)- এর মতো বক্তব্য রেখেছেন। দেখুন-"And I will pray the Father, and He will give you another Helper, that He may abide with you forever"। এবার অনুবাদ করে দিই?? দেখুন-"আমি পিতার কাছে “প্রার্থনা করব বা ভিক্ষা চাইব”, আর তিনি তোমাদের আর একজন "সহায়/ সাহায্যকারী" [মুহাম্মাদ (সা)- কে] দেবেন, যেন তিনি চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকেন"।
এখানে হয়ত কোনও মিশনারি বলতে পারেন- Jhon 14: 1-4 এর বক্তব্য ঈশ্বর হিসাবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, 14:16 বক্তব্যটা 14:1-4 এরই অংশ। এছাড়াও 14:1-4 এর শুরুতেই বলা হচ্ছে-"আমার পিতার বাড়িতে অনেক ঘর আছে"। যদি এখানে যিশু (আ) ঈশ্বর হিসাবে কথা বলতেন, তাহলে "আমার পিতার বাড়ি" বলতেন না। বরং তিনি বলতেন- "আমার বাড়ি"। তাই নয় কি??
এ ছাড়াও বলা হয়েছে-"My little children, these things I write to you, so that you may not sin. And if anyone sins, we have an Advocate with the Father, Jesus Christ the righteous. And He Himself is the propitiation for our sins, and not for ours only but also for the whole world"(1 Jhon, 2:1-2)। এবার বঙ্গা নুবাদ দেখুন-"আমার প্রিয় সন্তানরা, আমি তোমাদের একথা লিখছি যাতে তোমরা পাপ না কর৷ কিন্তু কেউ যদি পাপ করে ফেলে, তবে পিতার কাছে আমাদের পক্ষে কথা বলার একজন আছেন, তিনি সেই ধার্মিক ব্যক্তি, যীশু খ্রীষ্ট৷ তিনিই সেই প্রায়শ্চিত্ত বলি, যার ফলে আমাদের সব পাপ দূর হয়৷ কেবল আমাদের সব পাপ নয়, জগতের সমস্ত মানুষেরও পাপ দূর হয়"।
উপরিউক্ত উদ্ধৃতির আলোকে এটা সহজেই বলা যেতে পারে যে, কোনও মানুষেরই খৃষ্টান হওয়ার/ ঈশায়ী মুসলিম হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ, তথাকথিত যিশু (আ) তো সমগ্র মানব জাতির পাপের জন্য নিজেকে বলি দিয়ে দিয়েছেন!! তাই না?? যাইহোক, পরিশেষে "অন্যের পাপ নেওয়ার বা আদি পাপ" সম্পর্কে Bible কি বলে, তা আপনাকে দেখাতে চাই-"The soul who sins shall die. The son shall not bear the guilt of the father, nor the father bear the guilt of the son. The righteous ness of the righteous shall be upon himself, and the wickedness of the wicked shall be upon him self"(Ezekiel, 18:20)। এবার অনুবাদ-"যে ব্যক্তি পাপ করে, শুধু সেই মারা যাবে। পুত্রকে তার পিতার পাপের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে না, আবার পিতাকেও তার পুত্রের পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে না। ভাল লোকের ধার্মিকতা তার নিজের হাতে, তেমনই মন্দ লোকের মন্দতাও শুধু তারই অধিকারগত"।
একই ধরণের বক্তব্য দেখুন-"Fathers shall not be put to death for their children, nor shall children be put to death for their fathers; a person shall be put to death for his own sin"(Deuteronomy, 24:16)। এবার বাংলা-"সন্তান দোষ করলে পিতা-মাতার বা পিতা-মাতা দোষ করলে, তার জন্য সন্তানের প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে না। কোনও ব্যক্তিকে শুধু তার নিজের করা অন্যায়ের জন্যই প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে"।
যাইহোক, এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে ঈশা (আ) বিচার দিনে কিছুই করতে পারবেন না?? উত্তর সহজ- শুধু ঈশা (আ) নয়, কেউই কারোর জন্য কিছু করতে পারবেন না। দেখুন আয়াহটি- وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا অনুবাদ হবে এমন-"ভয় করো সেই দিনকে, যে দিন কেউ কারোর জন্য সামান্যটুকুও কাজে আসবে না"। এবার দেখুন পরের অংশটি- وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ অনুবাদ হবে এমন-"এবং কারোর শাফায়াত/ সুপারিশ গ্ৰহণ করা হবে না এবং কারোর নেওয়া হবে না কোনও বিনিময়"(2:48 ও 2: 123)। প্রশ্ন হবে-"মালাইকা/ ফেরেস্তারাও শাফায়াত/ সুপা রিশ করতে পারবেন না?? উত্তর সহজ- না, পারবেন না। প্রশ্ন হবে- "না" বললে হবে না, Reference কই?? ঠিক আছে, দেখুন- 53:26 আয়াহ।
প্রশ্ন হবে- যাহহহহ, তাহলে কি হবে?? উত্তর সহজ- চিন্তার কিছুই নেই। এতক্ষণ আমরা অর্ধেক তথ্য উপস্থাপন করেছি মাত্র, এবার সম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করব, তাহলেই বুঝতে পারবেন- ইনশাআল্লাহ। দেখুন- يَوْمَئِذٍ لَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ অনুবাদ হবে এমন-"সেদিন কারোর সুপারিশ কার্যকর হবে না"। প্রশ্ন হবে- এটা কি হল?? উত্তর সহজ- কিছুই হয় নি, শুধুমাত্র অর্ধেক আয়াহ'টি উদ্ধৃতি করেছি মাত্র। আচ্ছা, পরের অংশ টি এবার দেখুন- إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَٰنُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا অনুবাদ হবে এমন-"তবে দয়াময় [আল্লাহ] যদি কাউকে সুপারিশ করার অনুমতি দেন এবং যার কথা শুনতে পছন্দ করেন, তার কথা ভিন্ন"(20:109)। এবার সম্পূর্ণ আয়াহ'টি একত্রে দেখুন-"সেদিন কারোর সুপারিশ কার্যকর হবে না। তবে দয়াময় [আল্লাহ] যদি কাউকে সুপারিশ করার অনুমতি দেন এবং যার কথা শুনতে পছন্দ করেন, তার কথা ভিন্ন"(20: 109 ও 19:87)। सामझो कि नही??
প্রশ্ন হবে- কেন, এমন কেন?? উত্তর সহজ- এখনও বুঝতে পারেন নি?? দেখুন-"[কেননা তিনি আল্লাহ] কর্মফল দিবস তথা বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক/ প্রভু/ ক্ষমতার অধিকারী"(1:3)। প্রশ্ন হবে- একচ্ছত্র কেন?? কারণটা এই যে- لَا شَرِيكَ لَهُ অনুবাদ হবে এমন-"তার কোনও শরিক নেই"। অবশ্য ভিন্ন অনুবাদও হতে পারে-"কেউ তার শরিক নয়"(6:163)। এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে বলা হয়েছে-"وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ অনুবাদ হবে এমন-"আর না আছে তার মালিকিতে/ প্রভুত্বে/ রাজত্বে/ কর্মে কোনও শরিক"(17:111)। আর এই জন্যই তো আল্লাহ বলেছেন- مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ অনুবাদ হবে এমন-"কে এমন আছে যে, তার অনুমতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করতে পারে"(2:255)??
এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে- আল্লাহর শরিক নেই কেন?? উত্তর সহজ, দেখুন- وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তার সমতুল্য কেউ নেই"(112:4)। এখন প্রশ্ন হবে- তার সমতুল্য কেউ নেই কেন?? এ প্রশ্নের উত্তরও খুব সহজ- لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ অনুবাদ হবে এমন-"কারণ, তার মতো কোনও কিছুই নেই"(42:11)। এখন প্রশ্ন হবে- তার মতো কোনও কিছুই নেই কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর তো আরও সহজ- هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ অনুবাদ হবে এমন-"কারণে, তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়"(112:1)।
এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে ঈশা (আ) কি সুপারিশ করতে পারবেন?? উত্তর সহজ-"সেদিন কারোর সুপারিশ কার্যকর হবে না। তবে দয়াময় [আল্লাহ] যদি কাউকে সুপারিশ করার অনুমতি দেন এবং যার কথা শুনতে পছন্দ করেন, তার কথা ভিন্ন"(20:109 ও 19:87)। উত্তর পেয়েছেন?? তবে, সুপারিশকারী নিজের ইচ্ছা মতো সুপারিশ করতে পারবেন না। আয়াহ'টি দেখুন- وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَىٰ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তারা [যার-তার জন্য] সুপারিশ করতে পারেন না, তবে যার প্রতি [আল্লাহ] সন্তুষ্ট, তার জন্য সুপারিশ তারা করতে পারেন"(21:28)। প্রশ্ন হবে- এমন কেন??
দেখুন- لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ অনুবাদ হবে এমন-"কারণ, তারা [কোনও বিষয়ে] অগ্ৰগামী হয়ে কথা বলেন না। এবং তারা তার [আল্লাহর] হুকুম অনুযায়ী সমস্ত কাজ করে থাকেন"(22:27)। প্রশ্ন হবে- এমন কেন?? উত্তর খুব সহজ, দেখুন- وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ অনুবাদ হবে এমন-"কারণ, তারা তার [আল্লাহর] ভয়ের কারণে ভীত ও সন্ত্রস্ত"(21:28)। তাই শুধু ঈশা (আ) নয়, সমস্ত নাবী রাসুল (আ)- রাই সুপারিশ করবেন। এমনকি, সাধারণ মুসলিমও অন্য পরিচিত মুসলিমদের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। বলা ভালো, আল্লাহ সুপারিশ করতে দেবেন। এ জন্য সময় থাকতে হোসেন কুরানীর Team Quranic Universe এ যুক্ত হয়ে যান। ইনশাআল্লাহ, আশা করা যায় হোসেন কুরানীকেও আল্লাহ আপনার জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন।
প্রশ্ন হবে- সাধারণ মুসলিমও সুপারিশ করতে পারবেন। কিন্তু সাধারণ মুসলিম বলতে কি?? উত্তর সহজ- সাধারণ মুসলিম বলতে "তথাকথিত বা নামধারী" মুসলিমের কথা বলছি না। "পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ'র অনুসারী মুসলিম" মুসলিমের কথা বলছি। এখন কেউ বলতে পারেন- এবার দালায়িল'টা পেশ করুন!! ঠিক আছে, নিন-"সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ [র]... আবূ সাঈদ আল খুদরী [রা] থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সা]- এর যুগে কতিপয় সাহাবী তাকে বলে ছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামাত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব?? রাসূলুল্লাহ [সা] বললেন- হ্যাঁ। তখন তিনি আরও বললেন- দুপুরে মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য অবলোকন করতে কি তোমাদের ধাক্কা-ধাক্কির সৃষ্টি হয়?? সকলে বললেন- হে আল্লাহর রাসুল, না, তা হয় না। নাবী [সা] বললেন- ঠিক তদ্রুপ কিয়ামাত দিবসে তোমাদের প্রতিপালককে অবলোকন করতে কোনও বাধার সৃষ্টি হবে না। সেদিন এক ঘোষনাকারী ঘোষণা দিবে- যে যার উপাসনা করতে, সে আজ তার অনুসরণ করুক।
তখন আল্লাহ ব্যতীত যারা অন্য দেব-দেবী ও বেদীর উপাসনা করত, তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না, সকলেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সৎ হোক বা অসৎ যারা আল্লাহর ইবাদত করত, তারাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে এবং কিতাবী দের যারা দেব-দেবী ও বেদীর উপাসক ছিল না তারাও বাকি থাকবে। এরপর ইহুদীদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হবে!! তোমরা কার ইবাদাত করতে?? তারা বলবে- আল্লাহর পুত্র উযায়িরের। তাদেরকে বলা হবে- তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ কোনও স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেন নি। তোমরা কি চাও?? তারা বলবে- হে আল্লাহ, আমাদের খুবই পিপাসা পেয়েছে। আমাদের পিপাসা নিবারণ রুকন। প্রার্থনা শুনে তাদেরকে ইঙ্গিত করে মরীচিকাময় জাহান্নামের দিকে জমায়িত করা হবে। এর একাংশ আরেক অংশকে গ্রাস করতে থাকবে। তারা এতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
এরপর খৃষ্টানদেরকে ডাকা হবে। বলা হবে- তোমরা কার ইবাদাত করতে?? তারা বলবে- আল্লাহর পুত্র মসীহের উপাসনা করতাম। বলা হবে- মিথ্যা বলছ, আল্লাহ কোনও স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। জিজ্ঞেস করা হরে- এখন কি চাও?? তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু, আমাদের খুব তৃষ্ণা পেয়েছে, আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করুন। তখন তাদেরকেও ইঙ্গিত করে জাহান্নামের দিকে জমায়িত করা হবে। একে মরীচিকার মত মনে হবে। এর এক অংশ অপর অংশকে গ্রাস করে নিবে। তারা তখন জাহান্নামে ঝাপিয়ে পড়তে থাকবে। শেষে মুমিন হউক বা গুনাহগার, এক আল্লাহর উপাসক ছাড়া আর কেউ [বিচার ময়দানে] অবশিষ্ট থাকবে না।
তখন আল্লাহ তাদের কাছে এসে বলবেন- সবই তাদের নিজ নিজ উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে, তোমরা কার অপেক্ষা করছ?? তারা বলবে- হে আমাদের প্রভু, যে খানে আমরা বেশি মুখাপেক্ষী ছিলাম, সেই দুনিয়াতে আমরা অপরাপর মানুষ থেকে পৃথক থেকেছি এবং তাদের সঙ্গী হই নি। তখন আল্লাহ বলবেন- আমিই তোমাদের প্রভু। তখন মুমিনরা বলবে- আমরা তোমার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আল্লাহর সঙ্গে আমরা কিছুই শরিক করি না। এই কথা তারা 2-3 বার বলবে। এমনকি কেউ কেউ অবাধ্যতা প্রদর্শনেও অবতীর্ণ হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ বল বেন- আচ্ছা, তোমাদের কাছে এমন কোন নিদর্শন আছে, যা দ্বারা তাকে তোমরা চিনতে পার?? তারা বলবে- অবশ্যই আছে। এরপর “সাক বা গোড়ালি” [68:42] উন্মোচিত হবে, তখন পৃথিবীতে যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা করত, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা সিজদা করার অনুমতি দিবেন। আর যারা লোক দেখানো বা লোকভয়ে আল্লাহকে সিজদা করত, সেই মুহূর্তে তাদের মেরুদন্ড শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়া হবে। যখনই তারা সিজদা করতে ইচ্ছা করবে, তখনই তারা “চিত” হয়ে পড়ে যাবে। তারপর তারা মাথা তুলবে।
এরই মধ্যে তারা আল্লাহকে প্রথমে যে আকৃতিতে দেখে ছিল তা পরিবর্তিত হয়ে যাবে এবং তিনি তার আসল রুপে আবির্ভূত হবেন। অনন্তর বলবেন- আমি তোমাদের প্রভু, তারা বলবে- হ্যাঁ, আপনি আমাদের প্রতিপালক। তারপর জাহান্নামের উপর জিসর [পূল] স্থাপন করা হবে। “শাফায়া তেরও” অমুমতি দেয়া হবে। মানুষ বলতে থাকবে- হে আল্লাহ, আমাদের নিরাপত্তা দিন, আমাদের নিরাপত্তা দিন। জিজ্ঞেস করা হল- হে আল্লাহর রাসূল [সা], জিসর কি?? রাসুলুল্লাহ [সা] বললেন- এটি এমন স্থান, যেখানে পা পিছলে যায়। সেখানে আছে নানা প্রকারের লৌহ শলাকা ও কাঁটা, দেখতে নজদের নাদান বৃক্ষের কাঁটার মতো।
মুমিনগণের কেউ এ পথ পলকের গতিতে, কেউ বিদ্যুতের গতিতে, কেউ বায়ুর গতিতে, কেউ অশ্বগতিতে, কেউ উষ্ট্রের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পাবে, আর কেউ হবে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায়। আর কতককে কাঁটা বিদ্ধ অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে মুমিন গণ জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভ করবে। রাসুলুল্লাহ [সা] বলেন- সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, ঐ দিন মুমিনগণ তাদের ঐ সব ভাইয়ের স্বার্থে আল্লাহর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে, যারা জাহান্নামে রয়ে গেছে। অথচ তোমরা পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও এমন বিতর্কে লিপ্ত হও না!!
মুক্তি প্রাপ্তরা বলবে- হে প্রভু, এরা তো আমাদের সাথেই স্বালাত আদায় করত, রোযা পালন করত, হাজ্জ করত। তখন আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দিবেন- যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে নিয়ে এসো। উল্লেখ্য, এরা জাহা ন্নামে পতিত হলেও মুখমন্ডল আযাব থেকে রক্ষিত থাকবে। [তাই তাদেরকে চিনতে কোনও অসুবিধা হবে না]। মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে আনবে। এদের অবস্থা এমন হবে যে, কারোর পায়ের অর্ধ গোড়ালি পর্যন্ত, আবার কারোর হাঁটু পর্যন্ত দেহ অগ্নি ভস্ম করে দিয়েছে। উদ্ধার শেষ করে মুমিনগণ বলবে- হে প্রভু, যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদের মধ্যে আর কেউ অবশিষ্ট নেই।
আল্লাহ বলবেন- পূনরায় যাও, যার অন্তরে এক দ্বীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন তারা আরও একদলকে উদ্ধার করে এনে বলবে- হে প্রভু, অনুমতি প্রাপ্তদের কাউকেও রেখে আসি নি। আল্লাহ বলবেন- আবার যাও, যার অন্তরে অর্ধ দ্বীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে, তাকেও বের করে আন। তখন আবার এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে- হে প্রভু, যাদের আপনি উদ্ধার করতে বলেছিলেন, তাদের কাউকে ছেড়ে আসি নি। আল্লাহ বলবেন- আবার যাও, যার অন্তরে Quark [Electron ও Proton এর চেয়েও ক্ষুদ্র মৌলিক কণা] পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন আবারও এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে- হে প্রভু, যাদের কথা বলেছিলেন, তাদের কাউকেই রেখে আসিনি।
সাহাবী আবূ সাঈদ আল খুদরী [রা] বলেন, তোমরা যদি এ হাদীসের ব্যাপারে আমাকে সত্যবাদী মনে না কর, তবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াতটিও তিলাওয়াত করতে পারো এবং তা এই-“আল্লাহ Quark পরিমাণও জুলুম করেন না এবং Quark পরিমাণ নেক কাজ হলেও আল্লাহ তা দ্বিগুন করে করে দেন এবং তার নিজের কাছ থেকে মহা-পুরস্কার প্রদান করেন”[4:40]। এরপর আল্লাহ তায়ালা বলবেন- মালাইকা রা সুপারিশ করলেন, নাবী-রাসূল [আ]- রাও সুপারিশ কর লেন এবং মুমিনরাও সুপারিশ করেছে, এখন শুধু রাহমানির রাহিমই বাকি রয়ে গেছেন। এরপর তিনি জাহান্নাম থেকে এক মুঠো তুলে আনবেন, ফলে এমন একদল লোক মুক্তি পাবে, যারা কখনও কোনও সৎকর্ম করে নি, এবং আগুনে জ্বলে অঙ্গার হয়ে গেছে। পরে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের মুখে “নাহরুল হায়াতে” ফেলে দেয়া হবে। তারা এতে এমন ভাবে সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন শস্য অংকুর স্রোত বাহিত পানিতে সতেজ হয়ে ওঠে।
এরপর রাসুলুল্লাহ [সা] বললেন- তোমরা কি কোনও বৃক্ষ কিংবা পাথরের আড়ালে কোনও শস্য দানা অংকুরিত হতে দেখ নি?? যেগুলো সূর্য কিরণের মাঝে থাকে সেগুলো হলুদ ও সবুজ রুপ ধারণ করে আর যেগুলো ছায়ামুক্ত স্থানে থাকে, সেগুলো সাদা হয়ে যায়। তখন সাহাবী [রা] গণ বললেন- হে আল্লাহর রাসুল, মনে হয় আপনি যেন গ্রাম অঞ্চলে পশু চরিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ [সা] বললেন- এরপর তারা নহর বা নদী থেকে মুক্তার মতো ঝক-ঝকে অবস্থায় উঠে আসবে এবং তাদের গ্রীবাদেশে মোহরাঙ্কিত থাকবে, যা দেখে জান্নাতিগণ তাদের চিনতে পারবেন। এরা হল- “উতা কাউল্লাহ বা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত”। আল্লাহ তায়ালা সৎ আমল ছাড়াই তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করা বেন।
এরপর আল্লাহ তাদেরকে বলবেন- যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর। আর যা কিছু দেখছ, সব কিছু তোমাদেরই। তারা বলবে- হে প্রভু, আপনি আমাদেরকে এতই দিয়েছেন যা সৃষ্ট-জগতের কাউকে দেন নি। আল্লাহ বলবেন- তোমাদের জন্য আমার কাছে এর চেয়েও উত্তম বস্তু আছে। তারা বলবে- কি সে উত্তম বস্তু?? আল্লাহ বলবেন- সে হল আমার সন্তুষ্টি। এরপর আর কখনও তোমাদের উপর অন্তুষ্ট হব না"(মুসলিম, কিতাবুল ইমান, হাদীস 351)।
সুধী পাঠক, হাদীস'টি পড়ে কিছু বুঝলেন?? এটাই বোঝা গেল যে, শুধু ঈশা (আ) নয়, সমস্ত নাবী-রাসূল (আ)- রা সহ মালাইকা (আ)- রা সহ সাধারণ মুসলিমও সুপারিশ করতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হবে- মালাইকা (আ)- রা সুপারিশ করবে, এর দালায়িল পবিত্র কুরআনে নেই?? উত্তর সহজ- অবশ্যই আছে, আছে তো। কিন্তু এখন শুধুমাত্র তা উদ্ধৃতি করি নি, এবার করব, দেখুন-
وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَىٰ●
অনুবাদ হবে এমন-"কতই না মালাইকা/ ফেরেস্তা আছে মহাবিশ্বে, তাদের সাফায়াত/ সুপারিশ তাদের কিছু মাত্র কাজে লাগবে না। যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ ইচ্ছায় যাকে খুশী তার জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দান করেন"(53:26 এবং কাছা-কাছি বক্তব্য রয়েছে 78:38 তে)। যাইহোক, ঈশা (আ) সুপারিশ করবেন মর্মে 1 টি আয়াহ রয়েছে। তাই এই যে- إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
অনুবাদ হবে এমন-"এখন যদি আপনি তাদেরকে [কথিত খৃষ্টানদের কে] শাস্তি দেন, তাহলে তারা তো আপনার ইবাদ/ দাস/ বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন, তাহলে আপনি মহাশক্তিধর ও মহাবিজ্ঞানী"(5:118)।
বর্তমানে তথাকথিত খৃষ্টান মিশনারিরা পবিত্র কুরআন থেকে এই আয়াহ'টির উদ্ধৃতি করে এটা বলে- দেখো, যিশু (আ) শাফায়াত করবেন। কিন্তু পবিত্র কুরআনে কোথাও বলা হয় নি যে, মুহাম্মাদ (সা) শাফায়াত করবেন!! আমরা তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও সম্মান সহ বলতে চাইব- উক্ত আয়াহ' তে ঈশা (আ) শুধুমাত্র তথাকথিত পথভ্রষ্ট খৃষ্টানদের জন্য শাফায়াত করবেন। তথাকথিত খৃষ্টান বলতে আসলে সেই ইহুদী, যারা ঈশা (আ)- কে "আল্লাহ" বানিয়ে দিয়েছেন। অথচ ঈশা (আ) তার জাতি ইহুদীদের যা বলেছিলেন, তা এই- اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা সেই আল্লাহর ইবাদাত করো, যিনি আমার ও তোমাদের রাব/ প্রভু/ প্রতিপালক"(5:117)।
ঈশা (আ) আপনাকে শুধুমাত্র এক আল্লাহর ইবাদাত করতে বললেন, কিন্তু আপনি তাকেই আল্লাহ বানিয়ে দিলেন!! আবার 'Trinity বা ত্রিত্ববাদ'ও আবিষ্কার করে ফেললেন!! তারপরও আপনি ঈশা (আ)- এর জান্নাতের শাফায়াত আশা করছেন?? লজ্জা লাগে নি আপনাদের??হ্যাঁ, এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে আপনি বললেন যে, শাফায়াত করবেন তিনি?? উত্তর সহজ- শুধু তিনি নন, সমস্ত নাবী ও রাসুল (আ)- রা'ই তাদের উম্মাহর জন্য শাফায়াত করবেন, আল্লাহর থেকে করার অনুমতি সহ। কিন্তু কিন্তু কিন্তু, আল্লাহ তাদের শাফায়াত সবার জন্য গ্ৰহণ করবেন না!! এখন প্রশ্ন হবে- এটা কোথায় আছে?? ঠিক আছে, দেখুন-
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ۖ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۖ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিঃসন্দেহে যারা মূল সত্য অস্বীকার/অবিশ্বাস করেছে এবং বলে- “আল্লাহ তিনিই, যিনি মাসিহ ইবনে মারইয়াম অর্থাৎ মারইয়াম পুত্র মাসিহ। কিন্তু তিনি বলেছিলেন- হে বানী ইসরাইল, তোমরা এক আল্লাহর ইবা দাত/ উপাসনা করো। যিনি আমার ও তোমাদের রাব/ প্রভু/ প্রতিপালক। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, তখন নিঃসন্দেহে আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম/ নিষিদ্ধ করে দেন এবং তার আবাসস্থল হয় আগুন। এবং জ্বালিম/ সীমালঙ্ঘনকারীদের কোনও সাহায্যকারী নেই"(5:72)।
এবার দেখুন, এ বিষয়ে Bible কি বলেন!! দেখবেন তো নাকি?? দেখুন-"Not everyone who says to Me- Lord, Lord, shall enter the kingdom of heaven, but he who does the will of My Father in heaven. Many will say to Me in that day- Lord, Lord, have we not prophesied in Your name, cast out demons in Your name, and done many wonders in Your name?? And then I will declare to them- I never knew you; depart from Me, you who practice lawles sness"(Matthew, 7:21-23)। এবার অনুবাদ করে দিই?? দেখুন-"যারা আমাকে ‘প্রভু, প্রভু’ বলে, তাদের প্রত্যেকেই যে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে, তা নয়৷ আমার স্বর্গের পিতার ইচ্ছা যে পালন করবে, কেবল সেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে। সেই দিন [বিচার দিনে] অনেকে আমাকে বলবে- ‘প্রভু, প্রভু আমরা কি আপনার নামে ভাববাণী বলি নি?? আপনার নামে আমরা কি ভূতদের তাড়াই নি?? আপনার নামে আমরা কি অনেক অলৌকিক কাজ করিনি’?? তখন আমি তাদের স্পষ্ট বলব- আমি তোমাদের কখনও আপন বলে জানি নি, দুষ্টের দল! আমার সামনে থেকে দূর হও"।
যাইহোক, এই হল মোটা-মুটি মৌলিক ভাবে শাফায়াত তথ্য। এ ছাড়াও গর্ভপাত হওয়া সন্তান, 10 বছর বয়সের পূর্বে মৃত শিশু-সন্তান, এমনকি পবিত্র কুরআনও শাফায়াত করবে। তবে, শাফায়াতের কাহিনী এখনও শেষ হয় নি, ছোট্ট একটু বাকি আছে। দেখুন-"আবূ হুরাইরাহ [রা] হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ [সা] -এর সামনে গোশ্ত আনা হল এবং তাকে সামনের রান পরিবেশন করা হল। তিনি এটা পছন্দ করতেন। তিনি তার থেকে কামড়ে খেলেন। এরপর বললেন, আমি হব কিয়ামাতের দিন মানবকুলের নেতা। তোমাদের কি জানা আছে, তা কেন?? কিয়ামাতের দিন আগের ও পরের সকল মানুষ এমন এক মাঠে জামায়েত হবে, যেখানে এক জন আহবানকারীর আহবান সকলে শুনতে পাবে এবং সকলেই এক সঙ্গে দৃষ্টিগোচর করবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কি বিপদের সম্মুখীন হয়েছ, তা কি দেখতে পাচ্ছ না?? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবে না, যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন?? কেউ কেউ অন্যদের বলবে- আদম [আ]- এর কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাকে বলবে- আপনি আবুল বাশার [(আ) মানবজাতির পিতা], আল্লাহ আপনাকে নিজ হস্ত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তার রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন এবং মালাইকাহকে হুকুম দিলেন তারা আপনাকে 'সিজদা' বা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেন। আপনি আপনার রাবের নিকট আমাদের জন্য শাফায়াত করুন। আপনি কি দেখ ছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি?? আপনি কি দেখ ছেন না যে, আমরা কি অবস্থায় পৌঁছেছি। তখন আদম [আ] বলবেন- আজ আমার রাব এত রাগান্বিত হয়েছেন, যার আগেও কোনও দিন এমন রাগান্বিত হন নি আর পরেও এমন রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে একটি গাছের নিকট যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি, নফসী, নফসী, নফসী [আমার কি হবে, আমার কি হবে, আমার কি হবে]। তোমরা অন্যের কাছে যাও, তোমরা নূহ [আ] -এর কাছে যাও।
তখন সকলে নূহ [আ]- এর কাছে এসে বলবে- হে নূহ [আ], নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রাসূল। আর আল্লাহ আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ ইবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রাবের কাছে আমাদের জন্য শাফায়াত করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি?? তিনি বলবেন- আমার রাব আজ এত ভীষণ রাগান্বিত যে, আগেও এমন রাগান্বিত হন নি, আর পরে কখনও এমন রাগান্বিত হবেন না। আমার একটি গ্রহণ যোগ্য দুয়া ছিল, যা আমি আমার কাওমের ব্যাপারে করে ফেলেছি। [এখন] নফসী, নফসী, নফসী। তোমরা অন্যের কাছে যাও, যাও তোমরা ইব্রাহীম [আ]- এর কাছে। তখন তারা ইব্রাহীম [আ]- এর কাছে এসে বলবে- হে ইব্রাহীম [আ], আপনি আল্লাহর নাবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহর বন্ধু। আপনি আপনার রাবের কাছে আমাদের জন্য শাফায়াত করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি?? তিনি তাদের বলবেন- আমার রাব আজ ভীষণ রাগান্বিত, যার আগেও কোন দিন এরূপ রাগান্বিত হন নি, আর পরেও কোন দিনও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো 3 টি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। রাবী আবূ হাইয়ান তার বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন। [এখন] নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও মূসা [আ]- এর কাছে।
তারা মূসা [আ]- এর কাছে এসে বলবে- হে মূসা [আ], আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ আপনাকে রিসালাতের সম্মান দিয়েছেন এবং আপনার সঙ্গে কথা বলে সমস্ত মানব কূলের উপর মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য শাফায়াত করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি?? তিনি বললেন- আজ আমার রাব ভীষণ রাগান্বিত আছেন, এরূপ রাগান্বিত আগেও হন নি এবং পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এখন নফসী, নফসী, নফসী। তোমরা অন্যের কাছে যাও, যাও ঈসা [আ]- এর কাছে।
তখন তারা ঈসা [আ]- এর কাছে এসে বলবে- হে ঈসা [আ], আপনি আল্লাহর রাসূল এবং কালিমাহ, যা তিনি মার ইয়াম [আ]- এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি তো ‘রূহ’। আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ আপনি আমাদের জন্য শাফায়াত করুন। আপনি কি দেখ ছেন না, আমরা কিসের মধ্যে আছি?? তখন ঈসা [আ] বল বেন- আজ আমার রাব এত রাগান্বিত যে, এর আগে এরূপ রাগান্বিত হন নি এবং এর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি নিজের কোনও গুনাহর কথা বলবেন না। শুধু বলতে থাকবেন- নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা অন্য কারও কাছে যাও, যাও বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সা]- এর কাছে।
তারা মুহাম্মাদ [সা]- এর কাছে এসে বলবে- হে মুহাম্মাদ [সা], আপনি আল্লাহর তো রাসূল এবং শেষ নাবী। আল্লাহ আপনার আগের, পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রাবের কাছে শাফায়াত করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি?? তখন আমি আরাশের নিচে এসে আমার রাবের সামনে সিজদা দিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ তার প্রশংসা ও গুণ-গানের এমন সুন্দর নিয়ম আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে অন্য কারও জন্য খোলেন নি। এরপর বলা হবে- হে মুহাম্মাদ [সা], তোমার মাথা উঠাও। আপনি যা চান, এখন আপনাকে দেওয়া হবে। আপনি শাফায়াত করুন, আপনার শাফায়াত কাবূল করা হবে।
এরপর আমি আমার মাথা উঠিয়ে বলব- হে আমার রাব, আমার উম্মাত। হে আমার রাব, আমার উম্মাত। হে আমার রাব, আমার উম্মাত। তখন বলা হবে- হে মুহাম্মাদ [সা] আপ নার উম্মাতের মধ্যে যাদের কোনও হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ব্যতীত অন্যদের সঙ্গে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন- যার হাতে আমার প্রাণ, সে সত্ত্বার কসম। জান্নাতের এক দরজার দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানের প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামীরের মধ্যবর্তী দূরত্ব, অথবা মাক্কা ও বস্রার মাঝে দূরত্বের সমতুল্য"(বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, হাদীস 4712)।
সুধী পাঠক, এটাই ছিল শাফায়াত সম্পর্কে শেষ কাহিনী। এবার বলুন- কি বুঝলেন?? আচ্ছা, এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে এবং খৃষ্টান মিশনারিরা বলতে পারেন- এখনে নাবী (সা) নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন!! কিন্তু বিষয়টি এমন নয় মোটেও। নাবী (সা)- এর শাফায়াতে বিচার শুধু হবে মাত্র। এটা এ জন্য যে, নাবী (সা)- এর উম্মাত সংখ্যা হবে সবচেয়ে বেশি। এতএব 'তার' অধিকারও হবে বেশি। যাকে আমরা Democracy বা গণতন্ত্র বলে জানি। তাই না??
1:3 মূল আয়াহ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কুরানী বিশ্লেষণ:-
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ●
এই Formate এ উক্ত আয়াহ'টি পবিত্র শুধুমাত্র 1 বারই ব্যবহৃত হয়েছে। আর কেন শুধুমাত্র 1 বার ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না!! তাই না?? নাকি বলতে হবে?? ঠিক আছে, প্রথমে আয়াহ'টি দেখুন-"যিনি/ কেননা কর্মফল দিবস তথা বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক/ প্রভু/ ক্ষমতার অধিকারী"। এই আয়াহ'তে সরা-সরি যা বলা হয়েছে, আল্লাহ সংখ্যা তাত্ত্বিক ভাবেও সেটা বলেছেন। তাই নয় কি??
যাইহোক, উক্ত مَالِكِ কালিমাহ'টি মনে হয় এই Formate পবিত্র কুরআনে 1 বারই মাত্র ব্যবহৃত হয়েছে। আর 1 বার কেন ব্যবহৃত হয়েছে, তা কি বলতে হবে?? যদিও বলে রাখা ভালো যে, সাধারণত কোনও কালিমাহ'তে 'যের' ব্যবহার করে কালিমাহ'কে معرفة (মা'রিফাহ) বা নিদিষ্ট করে দেওয়া হয়। তাই না?? আর يَوْمِ Formate এ কালিমাহ'টি পবিত্র কুরআনে 73 বার ব্যবহৃত হয়েছে। পাঠক, 73 এর অর্থ বলতে পারবেন?? হাদীস'টি দেখুন-"আনাস ইবনু মালিক [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ [সা] মদীনা'তে এসে দেখেন যে, মদীনাহ'বাসীরা নির্দিষ্ট 2 টি দিনে খেলাধুলা ও আনন্দ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ [সা] জিজ্ঞেস করলেন- এই।2 টি দিন কিসের?? সকলেই বলল- জাহিলী যুগে আমরা এ 2 টি দিন খেলাধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ [সা] বললেন- মহান আল্লাহ তোমাদের এই 2 দিনের পরিবর্তে উত্তম 2 টি দিন দান করেছেন। তা হল- আদ্বহা'র দিন এবং ফিত্বার এর দিন অর্থাৎ কুরবানী'র ঈদ এবং সাওম এর ঈদ"(আবুদাউদ, কিতাবুস্ব স্বালাত, হাদীস 1134)।
বুঝতে পারেন নি, তাই না?? আসলে ভাই, 73 দিনের সব চেয়ে ব্যাখ্যা হল- ফিত্বার এর ঈদ এবং কুরবানী'র ঈদ সহ
তাশরীক দিন পর্যন্ত মোট 73 দিন হয়। এই 73 দিন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য দারুণ খুশি এবং বিশেষ ইবাদাতের দিন। এ জন্যই আল্লাহ সংখ্যা তত্ত্বের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করে দিয়েছেন। এখনও সুবহানআল্লাহ বলবেন না?? বলুন বলছি, নয়ত গাছে বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে পেটাব!!
যাইহোক, يَوْمِ الدِّينِ Format এ এই কালিমা 2 টি পবিত্র কুরআনে ব্যবহৃত 5 বার মতো, যথা- 1:3, 15:35, 38:78, 70:26, 83:11 আয়াত এ। এখন প্রশ্ন হবে- يَوْمِ الدِّينِ এর অর্থ কি?? অর্থ হল-"কর্মফল দিবস"। আচ্ছা পাঠক, এখনও কি বলে দিতে হবে- আমরা 5 ওয়াক্ত স্বালাত কেন আদায় করি!! হ্যাঁ, ঠিকই বুঝেছেন যে- 5 বার উল্লেখিত يَوْمِ الدِّينِ বা "কর্মফল দিবস" এর ভয়াবহতা থেকে বাঁচার জন্যই আমরা 5 ওয়াক্ত স্বালাত আদায় করি। তাই তো গো, নাকি??
আচ্ছা পাঠক, বলতে পারবেন- الدِّينِ Format এ উক্ত কালিমাহ'টি পবিত্র কুরআনে কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?? 30 বার মতো, তাই না?? কিন্তু এখন প্রশ্ন হবে- কেন?? প্রথমে দেখে নিন- الدِّينِ এর অর্থ "কর্মফল"। তাই না?? এবার একটু দেখুন- 30= 3+ 0= 3, তাই না?? প্রশ্ন হবে- 3 এর অর্থ কি?? উত্তর খুব সহজ এবং সেখানে বলা হচ্ছে- বিচার দিবসে যাদের বিচার হবে, তারা 3 টি দলে বিভক্ত হবে। এই সম্পর্কে আল্লাহ 56:7 আয়াহ এবং তার পরবর্তী আয়াতে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
এখন কেউ হয়ত বলতে পারেন- 73 কে তো 7+ 3 করলেন না!! উত্তর সহজ- করলেও সমস্যা নেই। দেখুন- 73= 7+ 3= 10= 1+ 0= 1, তাই না?? এতে আবার প্রমাণ হল- "আল্লাহই হলেন বিচার দিবসের একচ্ছত্র অধিপতি"। সুধীপাঠক, তাই নয় কি??
আর বাকি থাকল সর্বশেষ প্রশ্ন- বিচার দিবস ও পুনুরুত্থান এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কি?? অবশ্যই আছে, কেননা হোসেন কুরানী আছেন। আর এর চেয়ে আরও বড় কথা হল- পবিত্র কুরআনই বিজ্ঞানময় (36:2)। প্রশ্ন হবে- তাহলে কই বিচার দিবস ও পুনুরুত্থানের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিন!! দেব রে ভাই, দেব। তবে, সব কিছু এখানেই নেবেন?? 21: 104 এবং 39:67 আয়াতে পাবেন- ইনশাআল্লাহ। তবে, তত ক্ষণ এটা দেখুন-
وَخَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَلِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং আল্লাহ মহাবিশ্বকে এমন ভাবে নিখুঁত বিজ্ঞান দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, যেন প্রত্যেকেই প্রতিদান পায়, যা সে অর্জন করেছে। এবং তাদের উপর অত্যাচার করা হবে না"(45:22)। বুঝতে পারেন নি, তাই তো?? আর একটু চেষ্টা করবেন?? করুন না, আমরা আপনাকে Help করছি। দেখুন- اللَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ অনু বাদ হবে এমন-"আল্লাহ [মহাবিশ্ব] সৃষ্টির সূচনা করেন, তার পর তিনিই তার পুনরাবৃত্তি করবেন। তারপর তারই দিকে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে"(30:11)। এখনও যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে 5-7 বছর অপেক্ষা করুন। কেননা 21: 104 ও 39:67 আয়াতে আমাদের পৌছানো পযর্ন্ত!! আচ্ছা চলুন, আপনাকে এতটা অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাকে আরও একটু Help করি, হ্যাঁ?? কি বলেন পাঠক?? 45:22 ও 30:11 আয়াত এর সঙ্গে 42:29 আয়াহ টি দেখুন-
وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَثَّ فِيهِمَا مِنْ دَابَّةٍ ۚ وَهُوَ عَلَىٰ جَمْعِهِمْ إِذَا يَشَاءُ قَدِيرٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং তার অন্যতম নিদর্শন হল মহা বিশ্বের সৃষ্টি। এবং তাতে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন জীব-জন্তু। এবং তিনি তাদের একত্রিত করতেও সক্ষম"(42:29)। এখন প্রশ্ন হবে- তিনি কিভাবে ছড়িয়ে দিলেন?? উত্তর খুব সহজ রে ভাই- وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমরা মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছি শক্তি [Energy] দ্বারা, ও আমরাই তার সম্প্রসারণ করে চলেছি"(51:47)।
সম্প্রসারণ কিভাবে হচ্ছে?? Dark energy দ্বারা, যা মহা বিশ্বের 68% মতো। প্রশ্ন হবে-"30:22 আয়াত এ সৃষ্টির পুনরা বৃত্তি করা হবে" বলতে কি বোঝানো হয়েছে?? উত্তর সহজ রে ভাই- Big bang 2 এর কথা বলা হচ্ছে। প্রশ্ন হবে- Big bang 2 হওয়ার জন্য কি প্রয়োজন?? উত্তর সহজ- Dark energy'র পরিমাণ কমতে হবে। প্রশ্ন হবে- এটা হওয়া কি সম্ভব?? উত্তর সহজ- Big bang 1 এর সময় Dark energy এর পরিমাণ কমই ছিল, এ জন্য তখন মহাবিশ্ব সম্প্রসার ণের গতি ছিল কম। তারপর Matter ও Anti matter এর পরিমাণ কমতে থাকে, Dark energy'র পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের গতিও বাড়তে থাকে।
সুতরাং Dark energy কম থেকে বাড়তে পারে, কোনও এক অজ্ঞাত কারণে। তাহলে সেই অজ্ঞাত কারণে কমবে না কেন?? প্রশ্ন হবে- "অজ্ঞাত কারণ" বলতে?? উত্তর সহজ রে ভাই- أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"সৃষ্টি তার, তাতে আইনও তার। আল্লাহ বারাকাত'ময় বা কল্যাণময়, তিনিই মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক/ প্রভু/ মালিক"(7:54)। যাইহোক, Dark energy কমলেই Matter ও Anti matter বৃদ্ধি পাবে। বৃদ্ধি পেয়ে 50% অতিক্রম কর লেই মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থেমে যাবে শুরু হবে সংকোচন, এবং ঘটবে Big crunch এর মতো ঘটনা। যা Big bang 2 ঘটাবে। সেটাই তো বলা হয়েছে- 30:11 আয়াত এ।
আর সংকোচন হয়ে Big crunch ঘটলেই 42:29 আয়াত এ বর্ণিত শেষ অংশটা ঘটে যাবে। অর্থাৎ সমস্ত সৃষ্টিকে এক ত্রিত করা হয়ে যাবে। একত্রিত হয়ে গেলে, কি হবে তা কি আর বলতে হবে?? "বিচার দিবস" রে ভাই। এবার আয়াত 2 টি দেখুন, মনে হয় বোঝার আর কিছু বাকি থাকবে না-
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَا ۚ إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"সে দিন, আমরা মহাবিশ্বকে এমন ভাবে গুটিয়ে ফেলব, যেমন গুটিয়ে ফেলা হয় লিখিত কাগজ। তারপর যেভাবে আমরা প্রথমবার সৃষ্টি বা Big bang 1 করেছিলাম, ঠিক তেমনি ভাবে আবার তার পুনরাবৃত্তি বা Big bang 2 ঘটাব। এটা একটি প্রতিশ্রুতি, যা আমরা সম্পা দনা করব"(21:104)। এটাও দেখুন-
وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ যতটা মর্যাদা সম্পন্ন, তারা আল্লাহ'কে যথাযথ মর্যাদা দেয় নি। কিয়ামাত এর দিন সমস্ত গ্ৰহ [যেখানে মানুষ ও জিনের মতো জীবন আছে] থাকবে মুঠির মধ্যে বা আয়ত্তে। মহাবিশ্ব সমূহ গুটানো অবস্থায় তার ডান হাতে থাকবে। তিনি পবিত্র, সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে। তারা যে শিরক করে, তা হতে"(39:67)। আমাদের মনে হয়- আর কিছু বলার বাকি নেই। ছোট্ট প্রশ্ন- বিচার দিবস কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?? উত্তর সহজ- সংকোচিত ভূমি বা একত্রিত ভূমি বা Big crunch এর উপর। সেখানেই সমস্ত কিছু একত্রিত হবে (42:29)। এবং 21:104 ও 39:67 আয়াত এ Big crunch এর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই একত্রিত ভূমি বা Big crunch এর Gravitational force হবে অকল্পনীয় তীব্র। যার প্রভাবে মানুষের চেহারা বিকৃত হয়ে যাবে। আর এই তথ্য রয়েছে- سَأُصْلِيهِ سَقَرَ অনুবাদ হবে এমন-"তাদের রাখা হবে সাকার এ বা একত্রিত ভূমি তথা Big crunch এর উপর"(74:26)। আরও- وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ অনুবাদ হবে এমন-"আপনি কি জানেন সাকার কি"(74:27)?? আরও বলা হয়েছে- لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ অনুবাদ হবে এমন-"যা আসলে তার [Gravitational force এর কারণে] রাখেও না, ছাড়েও না"(74:28)। আরও- لَوَّاحَةٌ لِلْبَشَرِ অনুবাদ হবে এমন-"যা দেহের আকৃতি বিকৃতকারী"(74:29)। আচ্ছা, আর কিছু মনে হয়- বলার, বোঝানোর প্রয়োজন নেই। বলুন??
চলতেই থাকবে.................
প্রকাশ কাল : 09.12.2021
প্রথম সংস্করণ : 29.12.2021
© হোসেন কুরানী।
#সূরাহ _আল_ফাতিহাহ, 2 নং আয়াহ, এবং কুরানী বিশ্লেষণ।
@সূরাহ আল-ফাতিহাহ, 2 নং আয়াহ। বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কুরআন এবং কুরানী বিশ্লেষণ। অনুবাদে : হোসেন কুরানী।
1 নং সূরাহ আল-ফাতিহাহ।
(মাক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা 7)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
অর্থাৎ আল্লাহর নামে (শুরু), (যিনি) সীমাহীন/ অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়।
2 নং আয়াহ : (যিনি¹/ কেননা²) সীমাহীন/ অসীম দয়ালু³ এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়⁴।
1:2 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 1)
প্রশ্ন হবে- "যিনি" বলতে কি?? উত্তর সহজ- যদি শুধুমাত্র 1:2 আয়াহটা পড়েন, তাহলে "যিনি" বলতে কি, বোঝা বেশ কঠিন হয়ে যাবে। এই "যিনি" কে বুঝতে চাইলে 1:1 আয়াহর সঙ্গে 1:2 ও 1:3 আয়াত পড়তে হবে। দাঁড়ান, এবার পড়ুন তো। নিন-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, [যিনি] মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক"(1:1)। "[যিনি] সীমাহীন/ অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়"(1:2)। এবার বুঝতে পারলেন কি??
1:2 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 2)
প্রশ্ন হবে- "যিনি" তো গেল, "কেননা" আবার কেন?? উত্তর সহজ- ভাই, আসলে "কেননা"র উত্তরটা ঠিক, "যিনি"র মতো। এবার পড়ুন-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, [কেননা] মহা বিশ্ব সমূহের প্রতিপালক"(1:1)। "[কেননা] সীমাহীন/ অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়"(1:2)। বুঝলেন ভাই??
1:2 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 3)
এখানে ব্যবহৃত আরবি কালিমাহ হল- الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহ মান)। এটা "যের" এর (আর-রাহমান), "পেশ" (الرَّحْمَٰنُ) দ্বারা নয়, যা 55:1 আয়াহতে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন হবে- এর মধ্যে পার্থক্য কি?? অনেক, অনেক, অনেক রে ভাই। কিন্তু আমরা আপনাকে খানিকটা দেখাবার চেষ্টা করব- ইনশাআল্লাহ। তা হলে দেখুন- আসলে "যের" দিয়ে الرَّحْمَٰنِ বিষয়কে যুক্ত করে ও সংকীর্ণতা নিয়ে আসে। এখানে 1:2 আয়াহর "যের" এবং 1:3 আয়াহর "যের" এই 2 টি আয়াতকে 1:1 আয়াহর সঙ্গে যুক্ত করেছে।
1:2 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 4)
পূর্বোক্ত الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহমান) এর মতোই পরিস্থিতি الرَّحِيمِ (আর-রাহীম) এর। তাই এ বিষয়ে আর Special কিছু লিখতে চাইছি না। তবে, প্রশ্ন হবে- الرَّحْمَٰنِ বললেই তো অসীম দয়ালু বলা হয়ে যেত, তারপরে الرَّحِيمِ বলা হল কেন?? উত্তর সহজ এবং এখানে আমরা মাওদুদী (র)- এর ব্যাখ্যাটা উপস্থিত করতে চাইছি। তিনি বলেছেন- আল্লাহ এখানে "প্রচুর সাদা" না বলে "সাদা ধব-ধবে" বলেছেন। যেন মানুষ জন সাদার গুরুত্বটা বুঝতে পারে।
একই এবং পরবর্তী প্রশ্ন- শুধুমাত্র رحْمَٰنِ (রাহমান) না বলে আল্লাহ এখানে الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহমান) বলেছেন কেন?? বা শুধুমাত্র رحِيمِ (রাহীম) না বলে الرَّحِيمِ (আর-রাহীম) বলে ছেন কেন?? উত্তর সহজ- এ প্রশ্নের বেশ কয়েকটি উত্তর হতে পারে। এবং তা হল- ১) আরবিতে ال (আল) অনেকটা English এর The (দি/ দা) এর মতো। যা, কালিমাহর গুরুত্ব কে সর্বোচ্চ করে দেয়। এছাড়াও ২) আরবির ال (আল) কালিমাহকে "মারিফা" বা নিদিষ্ট করে দেয়, যা প্রসঙ্গত আল্লাহর জন্য। এখানে الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহমান) ও الرَّحِيمِ (আর-রাহীম) আল্লাহর জন্য নিদিষ্ট, তা পূর্বোক্ত আয়াহ অর্থাৎ 1:1 আয়াহতের الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদুলিল্লাহ) এর সঙ্গে যুক্ত, যা আমরা পূর্বেও দেখিয়েছি। এবং الْعَالَمِينَ'ও الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদুলিল্লাহ) এর সঙ্গে যুক্ত।
এখন প্রসঙ্গ পরিবর্তন করতে চাইছি ও একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইছি। অনেক ইসলাম বিদ্বেষী তথা নাস্তিক ভাই আল্লাহ সম্পর্কে Comment করতে গিয়ে বলে থাকেন- আমরা তো আল্লাহকে অস্বীকার করি, তার সঙ্গে এই "আল্লাহ" শব্দটাকেই ঘৃণা করি। এ ছাড়াও ইসলাম মেনে চলি না, তবুও আল্লাহ আমাদের লালন পালন বা প্রতিপালন করছেন কেন??
এ প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত ভাবে কঠিন। কঠিন বলতে, শুনতে কঠিন, উত্তর খুব সহজ!! কেননা, উত্তর দিচ্ছেন হোসেন কুরানী। যার সঙ্গে কঠিনের সঙ্গে ঝগড়া ও মারা-মারি হয়েছিল, এ জন্য কঠিন কখনও হোসেন কুরানীর সামনে আসে না। যদিও Team Quranic Universe হোসেন কুরানীর সঙ্গে কঠিনের মনো-মালিন্যতা দূর করার অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ফল পাওয়া গেল না!!
এবার উত্তর দেখুন- الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, [যিনি] মহাবিশ্ব সমূহের প্রতি পালক"(1:1)। যেহেতু আপনি মহাবিশ্ব সমূহের মধ্যে কোনও এক মহাবিশ্বের অংশ, তাই তিনি আপনারও প্রতিপালক। আর যেহেতু তিনি "প্রস্তাব" করেছেন, সেহেতু তিনি তার প্রস্তাব থেকে ফিরে যেতে পারবেন না। কেননা, এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ অনু বাদে হবে এমন-"নিশ্চয়ই আল্লাহ তার ওয়াদা খিলাফ/ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না"(3:9 ও 13:31, 39:20)। কেননা, এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে- إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা চিরসত্য"(10:55, 18:21, 28:13, 30:60, 31:33, 35:5, 40:55, 40:77, 45:32, 50:17)।
এছাড়াও তিনি الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ অনুবাদ হবে এমন-"অসীম/ সীমাহীন দয়ালু, অসীম/ সীমাহীন করুণাময়(1:3)। এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে আল্লাহর "ক্রোধ বা রাগ" নেই?? উত্তর সহজ- আছে, তীব্র রাগ আছে। কিন্তু যা ঘোষণা করেছেন, তা হয়ত আপনাকে একটু ভাবতে বাধ্য করবে বলেই মনে করি। দেখুন- نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ অনুবাদ হবে এমন-"জানিয়ে দিন আমার ইবাদ/ দাসদের, নিশ্চয়ই আমি অসীম/ সীমাহীন ক্ষমাকারী ও অসীম/ সীমাহীন দয়ালু"(15: 49)। এছাড়াও আল্লাহ বলেছেন- إِنَّ رَحْمَتِيْ غَلَبَتْ غَضَبِي অনু বাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই আমার দয়া রাগের চেয়ে বেশি"(বুখারী, কিতাবু বাদউল খালাকা, হাদীস 3194)।
প্রশ্ন হবে- আল্লাহকে অস্বীকার করলেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেন না কেন?? উত্তর সহজ- مَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِعَذَابِكُمْ অনু বাদ হবে এমন-"আল্লাহর কাজ কি শুধুই তোমাদের শাস্তি দেওয়া"(4:147)?? এখন প্রশ্ন হবে- কেন শাস্তি দেবেন না?? সামান্য কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বা রাষ্ট্রপতিকে যদি অস্বীকার করা হয়, তার জন্যেও রাষ্ট্রদ্রোহীতার শাস্তি প্রযোজ্য হয়!! উত্তর সহজ- গণতন্ত্র বোঝেন তো?? আল্লাহ সর্বোচ্চ হলেন গণতান্ত্রিক। দেখুন, এ বিষয়ে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে কি বলেছেন- وَأُمْلِي لَهُمْ ۚ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমি তাদের অবকাশ দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আমার পদ্ধতি দারুণ বলিষ্ঠ"(7:183)। দেখুন, আরও কি বলা হয়েছে- وَلَٰكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَىٰ أَجَلٍ مُسَمًّى অনুবাদ হবে এমন-"কিন্তু তিনি নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন"(35:45)।
প্রশ্ন হবে- "বলিষ্ঠ পদ্ধতি" বলতে কি?? আর কেন আল্লাহ অবকাশ দেন?? উত্তর সহজ- কারণ, যদি আল্লাহ অস্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেন, তাহলে অস্বীকারকারী বলতেন যে, আমাকে তো সুযোগ/ অবকাশ দেওয়া হল না। যদি দেওয়া হতো, তাহলে আমি জ্ঞান দ্বারা বিচার করতাম এবং অস্বীকারকারী হতাম না এবং ইসলাম মেনেই জীবন-যাপন করতাম। তাই আল্লাহ তাদেরকে সেই সুযোগটা দিচ্ছেন, যেন তাদের অভিযোগ না থাকে।
কেননা, মানুষ যখন তার মৃত্যুর পর পরকালের সত্যতা সামনে পাবেন, তখন যা বলবেন, তা পবিত্র কুরআন বলে রেখেছে, দেখুন- حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ অনুবাদ হবে এমন-"শেষ পর্যন্ত যখন তাদের কারোর মৃত্যু উপস্থিত হল/ হবে। তখন সে বলল/ বলবে- প্রভু, আমাকে পুনরায় পূর্বের জীবনে পাঠান"(23:99)। এছাড়াও দেখতে পারেন- 6:27-28, 7:53, 14:44-45, 23:105-115, 26:102, 32:12-14, 39:58-59, 40:10-12, 42:44, 63:10-12 আয়াত। যাইহোক, তারা আরও বলবেন এবং বক্তব্যের পর আল্লাহ যা বলবেন, তাও পবিত্র পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে-
لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"যাতে আমি স্বলিহা আমাল করতে পারি, যা পূর্বের ছেড়ে আসা জীবনে করি নি। [তখন আল্লাহ বলবেন] কখনও নয়, এটা শুধু তাদের কথার কথা মাত্র। এখন তাদের পিছনে [ফিরে আসার জন্য] রয়েছে বারযাখ/ অন্তরায়, পুনুরুত্থান দিবস পর্যন্ত"(23:100)। যাতে আপনার কাছে এই অজুহাত না থাকে যে, আমি পৃথিবীতে সুযোগ/ অবকাশ পাই নি। তাই আল্লাহ আপনাকে ইহজীবনে মৃত্যু পর্যন্ত পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছেন। समझो कि नही??
প্রশ্ন হবে- আল্লাহকে অস্বীকার করলেও তিনি কোনও শাস্তি দেবেন না?? এ প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ, এবং তা হল এই- إِنْ تَكْفُرُوا أَنْتُمْ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا فَإِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ حَمِيدٌ অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা এবং মহাবিশ্বের সবাই যদি [তাকে] অস্বীকার করো, তাহলেও আল্লাহ অভাব মুক্ত এবং প্রশংসিত"(14:8)। এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনে আরও বলা হয়েছে, দেখুন- فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ يَكُونُ لِزَامًا অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই তোমরা [আল্লাহর প্রতি] মিথ্যারোপ করেছো, এ জন্য অতি শীঘ্রই হবে অনিবার্য ও স্থায়ী শাস্তি"(25:77)। আমার মনে হয় না যে, আর কিছু বলতে হবে!! আর কি কিছু বলতে হবে?? হবে না, তাই না??
তবে, যেটা আপনাকে না দেখিয়ে প্রসঙ্গ শেষ করতে চাই না, তা হল এই যে- وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا অনুবাদ হবে এমন-"আপনার প্রভুর দান কারোর জন্য বন্ধ হয় না"(17: 20)। কেননা- الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ অনুবাদ হবে এমন-"শুধুমাত্র তিনিই সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়"(1:2)। প্রশ্ন হবে- তিনি যদি এতই দয়ালু, তাহলে তিনি পরকালে হলেও শাস্তি দেবেন কেন?? উত্তর খুব সহজ- আপনার Biometric device যদি আপনাকে গ্ৰহণ করতে অস্বীকার করে, তখন আপনি কি করবেন?? তাকে "ঠিক বা সংশোধন করার" চেষ্টা করবেন, তাই না?? কিন্তু তাও যদি "না হয়", তখন কি করবেন?? তখন ঐ Device কে নষ্ট করে ফেলবেন, তাই না?? ঠিক একই ভাবে- আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করার জন্য নাবী-রাসুল (আ) পাঠান, সঙ্গে কিতাব বা ঐশী গ্ৰন্থ পাঠান। যেন আপনি নাবী-রাসুল (আ)- দের মৃত্যুর পরও "আল্লাহর মনোনীত দীন/ জীবন ব্যবস্থা" অনুসরণ করতে পারেন।
কিন্তু তারপরও যদি আপনি সংশোধন না হন, তখন আল্লাহর কি করা উচিৎ, তা আপনিই বলুন!! একটাই উত্তর হতে পারে- আপনাকে "জাহীম" তথা জাহান্নামে দেওয়া হবে, তাই না?? কেউ কেউ বলতে পারেন- কিন্তু কুরআনের মধ্যে যে অনেক অবৈজ্ঞানিক তথ্য পাই, তা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে তা মেনে নিই?? উত্তর সহজ- পবিত্র কুরআনে কোনও ভুল নেই, কোনও ধরণের ভুল নেই। তবে, অনুবাদকদের অনুবাদ পাঠ করলে এমন মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি তাদের ভ্রান্ত অনুবাদ পাঠ করবেন কেন। আপনি হোসেন কুরানীর "বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল কুরআন" কুরানী বিশ্লেষণ সহ পাঠ করুন। বৈজ্ঞানিক ভুল তো দূরের কথা, এমন বৈজ্ঞানিক তথ্য পাবেন, তা কিয়ামাত পর্যন্ত আপনাকে অবাক করতেই থাকবে- ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন হবে- যে কোনও মানুষই তো رحْمَٰن (রাহমান) হতে পারেন। সুতরাং এর সঙ্গে الرَّحْمَٰن (আর-রাহমান) এর পার্থক্য কোথায়?? একই ভাবে رحِيم (রাহীম) এর সঙ্গে الرَّحِيم (আর-রাহীম) এর পার্থক্য কোথায়?? উত্তর সহজ, খুব সহজ রে ভাই- মানুষ رحْمَٰن (রাহমান) বা দয়ালু হতে তো পারেন, মানুষ সর্বোচ্চ দয়ালু অর্থে الرَّحْمَٰن (আর-রাহমান'ও) হতে পারেন। কিন্তু অসীম বা সীমাহীন অর্থে الرَّحْمَٰن (আর- রাহমান) হতে পারেন না। এই সিফাহ বা গুণাবলী শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নিদিষ্ট। আর رحِيم (রাহীম) এর সঙ্গে الرَّحِيم (আর-রাহীম) এর পার্থক্যটাও ঠিক একই।
1:2 মূল আয়াহ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কুরানী বিশ্লেষণ:-
الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ●
এই الرَّحْمَٰن ও الرَّحِيم পাশা-পাশি পবিত্র কুরআনে 5 বার মতো ব্যবহৃত হয়েছে, দেখুন- 1:2, 2:163, 27:30, 41:2 ও 59:22 আয়াত। এ জন্যই আমাদেরকে 5 ওয়াক্ত স্বালাত আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেন আমরা আল্লাহর অসীম/ সীমাহীন দয়া ও অসীম/ সীমাহীন করুণা পেতে পারি। এখানেই শেষ নয়, এই জন্য স্বালাতে রয়েছে 5 টি গুরুত্বপূর্ণ Steps বা ধাপ। যথা- ১) কিয়াম/ দাঁড়ানো, ২) রুকু, ৩) সিজদা, ৪) বৈঠক, ৫) সালাম ফিরানো। তাই নয় কি?? সুধীপাঠক, আপনি কি পবিত্র কুরআনের এই সংখ্যা তাত্ত্বিক ও গাণিতিক বিষয় গুলোর সৌন্দর্য্য উপভোগ করছেন?? তবে এখানেই শেষ নয়। শুধু الرَّحْمَٰنِ Format এ কালিমাহটি পবিত্র কুরআনে 24 বার মতো ব্যবহৃত হয়েছে। এবং الرَّحِيمِ Format এ কালিমাহটি পবিত্র কুরআনে 6 বার মতো ব্যবহৃত হয়েছে।
পাঠক, এখানেও একটা দারুণ গাণিতিক বিষয় লুকানো আছে, যা হয়ত আপনি দেখতে পান নি। তবে অবশ্যই তা আপনাকে অবাক করবে। বলুন তো- তা কি?? ছাড়ুন রে ভাই, আপনাকে বলতে হবে না। আমরা বলছি, আপনি শুধু দেখতে থাকুন- الرَّحْمَٰنِ পবিত্র কুরআনে কত বার ব্যবহৃত হয়েছে?? 24 বার, তাই না?? তারমানে- 24= 2+ 4= 6, তাই না?? এবার দেখুন- الرَّحِيمِ ব্যবহৃত হয়েছে 6 বার। অবাক করা বিষয়, তাই না?? পাঠক, এগুলো আপনাকে অবাক করছে না?? আমাদেরকে তো অবাক নয়, বরং হতবাক ও বাকরুদ্ধ করে দিচ্ছে বার বার এবং বহুবার। আপনাকেও অবাক, হতবাক ও বাকরুদ্ধ করার কথা তো!! যদি না হন, তাহলে 1:3 আয়াহর কুরানী বিশ্লেষণের জন্য অপেক্ষা করুন।
চলতেই থাকবে.................
প্রকাশ কাল : 14.11.2021
© হোসেন কুরানী।
Featured Post
আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...
-
"ইসলাম, কোরান ও বিজ্ঞান" নামক Whatsapp এর গ্ৰুপে মাসুদ আলম ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন-"কেউ কেউ বলেন যে, দাজ্জাল নাকি কোনও দ্ব...
-
"মদ খেলে 40 দিন স্বালাত কবুল হবে না" হাদীশ'টি গাঁজাখুরি সাহীহ হাদীশ। https://youtu.be/hNOX6BQud0Y By #হোসেন #কুরানী। #Quranic...
-
@সূরাহ আল-ফাতিহাহ, 2 নং আয়াহ। বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কুরআন এবং কুরানী বিশ্লেষণ। অনুবাদে : হোসেন কুরানী। ...