আয়েশা (রা)- এর বিবাহ সম্পর্কে নাস্তিকদের প্রশ্ন

আয়েশা (রা)- এর  বিবাহ সম্পর্কে নাস্তিকদের প্রশ্ন


Whats app গ্ৰুপে  মিজানুর  রহমান  ভাই  প্রশ্ন  করে বলেছেন- "হোসেন ভাই, নাস্তিকরা *নবী (স)- এর একাধিক বিবাহ এবং 6 বছর  বয়সে  মা আয়েশা (রা)- এর সঙ্গে বিবাহ* বিষয়ে অনেক কিছু বলে!! আর, নবী মহাম্মদ (স) এবং ইসলামের   অবমাননা   করে  ও  অপমানিত  করে। এই বিষয়ে  আমি  নিজেও  কিছু  জানি   কিন্তু  তবুও  আমি আপনার থেকে জানতে চাই"।

   আলহামদুলিল্লাহ, আপনি  ইসলাম  সম্পর্কে সচেতন-  এজন্যই  আপনি  এই বিষয়ে  জ্ঞান রাখেন। এটা অবশ্য জাতির জন্য সুখবর যে, জাতি ইসলাম সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। যাইহোক, আমি  যখন  *বিশ্বনবী (স)- এর 13 টি বিবাহের   কারণ*   বিষয়টি    লিখলাম,   তখন   হানীও বললেন  যে- আমি  যেন "মা  আয়েশার  সঙ্গে  নবী (স)- এর 6 বছরে বিবাহ  ও  9 বছরে বাসর" সম্পর্কে লিখি!! হানীজি  বললেন-"এ বিষয়ে  নাস্তিকরা  অনেক  কটুক্তি করে থাকে"।
   কিছুদিন  আগেই *নবী (স)- এর 13 টি বিবাহ  বিবাহ* সম্পর্কে  নাস্তিকদের  সমস্ত  প্রশ্নের  উত্তর  দিয়েছিলাম।  *বহু প্রশংসিত*   লেখার   লিঙ্কটি   দিলাম, চাইলে ফেসবুকে এই লেখাটি দিয়ে সার্চ করতে পারেন  এবং  লেখাটি পড়ে বিস্মিত হন--👇-
 @বিশ্বনবী মহাম্মদ (স)- এর 13 টি বিবাহের কারন@
https://m.facebook.com/story.php?)}]
   আজ 9.7.19 তারিখ  এবং  এখন রাত 2 টো বাজছে। চোখে  একটুও  ঘুম  নেই। সকাল  6:30 থেকে মন খুবই খারাপ   এবং   সারাদিন  কিছু  খেতে  পারি  নি!! আজ সারাদিনে  পেটে  শুধুমাত্র 2/1 লিটার  পানি  ছাড়া অন্য কিছুই  যায়  নি!! এখন  শুয়ে  আছি, কিন্তু  তবুও  মাথা ঘুরছে!!
   আচ্ছা যাইহোক, এবার আমরা দেখব- মা আয়েশা (রা)- কে নবী (স) কেন বিবাহ করেছিলেন!!
   #উত্তর:::-  @বিশ্বনবী মহাম্মদ (স)- এর 13 টি বিবাহের কারন@
লেখাটি পরলে মা আয়েশা (রা)- কে  বিবাহ  করার   রাজনৈতিক  কারণটি  দেখতে পেতেন। তাই  আমার  মতে- অন্তত  একবার উপরিউক্ত লিঙ্কে ক্লিক করে রাজনৈতিক কারণটি দেখে নেবেন। তা হলে এই লেখায় রাজনৈতিক কারণটি বুঝতে পারবেন।
   গোটা বিষয়টিকে গভীর ভাবে  বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা  যাবে  যে- মা আয়েশা (রা)- কে নবী (স) আল্লাহর নির্দেশে  বিবাহ করেছিলেন, এবং নির্দেশটি বুখারীতে এ ভাবে এসেছে-
"আয়েশা  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন  যে, নবী  (স) বলেছেন- দুই   দুইবার   আমাকে   স্বপ্নযোগে   তোমাকে দেখানো  হয়েছে। এক ব‍্যাক্তি  তোমাকে  রেশমী  কাপড় পরিহিতা  অবস্থায়  নিয়ে  যাচ্ছিল  এবং  আমাকে লক্ষ্য করে   বলছিল  যে, এ  হল   আপনার   স্ত্রী। আমি  তখন কাপড় উন্মুক্ত করে দেখলাম যে, তুমি। তখন আমি মনে মনে বললাম যে, এই স্বপ্ন যদি  আল্লাহর পক্ষ হতে হয়েই থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই তা সত‍্যে পরিণত করবেনই করবেন"(বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস 4708)।
 যাইহোক,  এখন প্রশ্ন হল-"কেন আল্লাহ চাইলেন যে, নবী (স) মা আয়েশা (রা)- কে বিবাহ করুক"?? অথবা "কেন আল্লাহ নবী (স) কে নির্দেশ  দিয়েছিলেন   মা   আয়েশা (রা)- কে   বিবাহ করতে"??
   এ প্রশ্নের  উত্তর  অনেক  বড়  হলেও  খুব সুন্দর উত্তর হবে  ইনশাআল্লাহ। তাই  প্রথমেই  এই  আয়াতটি  গুলো দেখে নিন-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
অনুবাদ হবে এমন-"আসলে  তোমাদের  জন্য  আল্লাহর রাসুলের মধ্যে ছিল একটি উত্তম আদর্শ- এমন  প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে, আল্লাহ‌ ও শেষ দিনের আকাঙ্ক্ষী এবং বেশি  করে   আল্লাহকে  স্মরণ  করে"(33:21)। এখানেই কি শেষ?? নিচের আয়াত গুলিও দেখুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ
অনুবাদ হবে এমন-"হে   ইমানদারগণ!! তোমরা  আল্লাহ এবং  তার  রাসুলের (সর্বত্র ভাবে) অনুসরণ কর"(4:59, 4:13,  3:31,  3:132,  5:92,  8:1,  8:20,  8:46, 24:54, 24:56, 33:33, 33:71, 47:33, 58:13,  64:12,  3:32)।  আরও দেখুন-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا
অনুবাদ হবে এমন-"হে নবী!! তোমার  স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মু’মিনদের  নারীদেরকে বলে দিন- তারা  যেন  তাদের চাদরের প্রান্ত  তাদের  ওপর টেনে নেয়। এটি অধিকতর উপযোগী পদ্ধতি, যাতে তাদেরকে  চিনে নেয়া যায় এবং ফলতঃ  তারা  উত‍্যক্ত  হবে  না। আল্লাহ  ক্ষমাশীল এবং করুণাময়"(33:59)। আরও বলা হচ্ছে-
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ ۚ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا
অনুবাদ হবে এমন-"হে  নবীর  স্ত্রীগণ!! তোমরা সাধারণ নারীদের  মত  নও। যদি  তোমরা  আল্লাহকে  ভয়  কর, তাহলে  পুরুষদের  সঙ্গে  কোমল  স্বরে  কথা  বলো  না, যাতে  মনের  গলদে  আক্রান্ত  কোন  ব্যক্তি  প্রলুব্ধ  হয়ে পড়ে,  বরং  পরিষ্কার  সোজা   ও   স্বাভাবিকভাবে  কথা বলবে"(33:32)।
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
অনুবাদ হবে এমন-"নিজেদের  গৃহ  মধ্যে  অবস্থান কর। এবং পূর্বের  জাহেলী  যুগের  মতো  সাজসজ্জা দেখিয়ে বেড়িও  না। নামায   কায়েম   কর,  যাকাত   দাও  এবং আল্লাহ‌   ও   তার  রাসুলের  আনুগত্য  কর। আল্লাহ‌ তো চান,  তোমাদের  নবী  পরিবার  থেকে ময়লা দূর করতে এবং তোমাদের পুরোপুরি পাক-পবিত্র করতে"(33:33)। আর এই শেষ আয়াতটিও দেখে নিন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ ۖ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ ۚ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ۚ ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ ۚ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمًا
অনুবাদ হবে এমন-"হে   ঈমানদারগণ!! নবী  গৃহে  বিনা অনুমতিতে প্রবেশ কর না, খাবার সময়ের অপেক্ষাতেও থেকো না। হ্যাঁ, যদি  তোমাদের  খাবার  জন্য  ডাকা হয়, তাহলে  অবশ্যই  এসো   কিন্তু  খাওয়া  হয়ে  গেলে  চলে যাও, কথাবার্তায়  মশগুল  হয়ে যাবে না। তোমাদের এই সব আচরণ নবীকে  কষ্ট দেয়  কিন্তু  তিনি লজ্জায় কিছু বলেন না এবং আল্লাহ‌ হককথা বলতে লজ্জা করেন না। নবীর  স্ত্রীদের  কাছে  যদি  তোমাদের  কিছু  চাইতে হয়, তবে   পর্দার  পেছন  থেকে  চাও। এটা  তোমাদের  এবং তাদের  মনের  পবিত্রতার  জন্য  বেশী উপযোগী। তোমা দের  জন্য আল্লাহর  রসূলকে কষ্ট  দেয়া মোটেই জায়েয নয়  এবং তার পরে তার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করাও জায়েয নয়, এটা আল্লাহর দৃষ্টিতে মস্তবড় গোনাহ"(33:53)।
   আজ 14.7.19 তারিখ  এবং  এখন রাত 2:30 বাজে। যাইহোক, উপরের
সব  আয়াত গুলো  দেখলেন?? আয়াত গুলো থেকে যা বোঝা  গেল, তা হল- নবী (স)- কে সর্বত্র ভাবে অনুসরণ করতে  হবে। কিন্তু  তাকে  আমরা  সর্বত্র ভাবে অনুসরণ করব  কিভাবে?? তিনি   ঘরের   বাইরে   যে   সর্বজনীন জীবন  কাটান, তা নাহয় জানা যাবে পুরুষ সাহাবা (রা)- দের বর্ণনা থেকে!! কিন্তু  ঘরের মধ্যে সাংসারিক জীবন, বিবাহ  জীবন এবং যৌনজীবন  সম্পর্কে কিভাবে জানা যাবে??
   এখানে অনেকে বলতে পারে- পুরুষ সাহাবা (রা)- দের বর্ণনা  থেকেই  জানা  যাবে!! কিন্তু  এটা হল- মূর্খের মত কমেন্ট!!  কেননা, উপরিউক্ত  33:53 আয়াতে নবী (স)- কে  Privacy  দেওয়ার  কথা  বলা  হয়েছে। তাই, পুরুষ সাহাবা  (রা)- দের  থেকে  নবী মহাম্মদ  (স)- এর  ঘরের মধ‍্যের সাংসারিক জীবন, বিবাহ  জীবন  ও  যৌনজীবন  সম্পর্কে জানার কোনও সুযোগ ছিল না!!
   তাই, প্রয়োজন  ছিল  নবী (স)- এর  স্ত্রী  বা  স্ত্রীগণের। নবী (স)- এর   একাধিক   স্ত্রী   বা   13 টি  বিবাহ করার অন‍্যতম  কারণও  ছিল- নবী  মহাম্মদ  (স)- এর   ঘরের মধ‍্যের সাংসারিক জীবন, বিবাহ  জীবন  ও  যৌনজীবন  সম্পর্কে  জানানো!! যা, উপরের  উল্লেখ করা হয় নি।
   যাইহোক, এ বার  একটি  প্রশ্ন দিয়ে উত্তর শুরু করতে চাই। প্রশ্নটি  হল-"আপনি  কি  জানেন   যে, মা  আয়েশা (রা)  মোট   কত   হাদীস   বর্ণনা  করেছেন"?? না  জানা থাকলে,  জেনে   নিন। মা   আয়েশা   (রা)   হতে   বর্ণিত হাদীসের  সংখ্যা হল- 2210 টি। মা  আয়েশা (রা) হলেন হাদীস  বর্ণনাকারিদের  মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখলকারি। এ বিষয়ে  প্রথম  স্থান  দখল  করে  আছেন- আবু  হুরাইরা (রা)। তার   বর্ণিত    হাদিসের    সংখ্যা    হল- 5374 টি। যাইহোক, এখন   একটি   ছোট্ট   প্রশ্ন-"মা  আয়েশা (রা) হাদীস  বর্ণনাকারিদের  মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করলেন কিভাবে"??
1) আয়েশা (রা)- এর  জন্ম  হয়েছিল  মুসলিম হিসাবেই অর্থাৎ তার  পিতা  আবুবকর (রা)- এর ইসলাম গ্ৰহণের পর। এক কথায়, তার  জন্ম   হয়েছিল  সম্পূর্ণ  ইসলামী পরিবেশে। আর, তিনি মানসিক ভাবেও মুসলিম ছিলেন এবং তার উপরে *মূর্খতার যুগের* যুগের কোনও প্রভাব পড়ে নি।
   বলে  রাখা দরকার যে, নবী (স)- এর অন্য কোনও স্ত্রী মা  আয়েশা (রা)- এর মত  উপরিউক্ত গুণের অধিকারী ছিলেন না!!
2) মা  আয়েশা (রা) তার  জীবনের 9 বছর  বয়স থেকে নবী (স)- এর   সঙ্গে   বসবাস   শুরু  করেন। বলে  রাখা দরকার যে, এ বিষয়েও  নবী (স)- এর  অন্য কোনও স্ত্রী আয়েশা (রা)- এর  মত  এই  গুণের   অধিকারী  ছিলেন না!!
3) মা     আয়েশা    (রা)    ছিলেন    প্রচণ্ড   স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তিনি  নবী (স)- এর  থেকে  যা  শুনতেন, তা সঙ্গে সঙ্গেই  মুখস্থ  করে  নিতে পারতেন। তিনি শুধুমাত্র একজন   মুখস্থকারিই  ছিলেন  না, বরং  তিনি  একজন মুফাসসিরও   ছিলেন। বলে    রাখা   দরকার   যে, এই বিষয়েও নবী (স)- এর  অন‍্যান‍্য স্ত্রীগণের  চেয়ে আয়েশা (রা) ছিলেন ভিন্ন!!
   আজ 15.7.19 তারিখ  এবং  এখন রাত 1:40 বাজে। আজ  রাত 11 টায়  খাওয়ার  পর  ঘুমিয়েছি  এবং রাত 1:30 এ  ঘুম  ভেঙে  গেছে। আজ রাত 2:51 তে আমার অন‍্যতম  প্রিয়  দেশ  ভারতের  মহাকাশ  গবেষণা সংস্থা ISRO চন্দ্রযান-2 নামক যান'কে চন্দ্র অভিযানে পাঠাতে চলেছে  এবং TV তে Live lunching দেখব  বলে ঘুমও আসছে  না!! আসলে   বিজ্ঞানকে    ভালবাসি   তো, ঐ জন‍্য!! বিজ্ঞানকে ভালবাসি, কারণ কোরান বলে-
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ 
অনুবাদ হবে এমন-"মানুষকে প্রভুর পথে আহ্বান করুন বিজ্ঞানময়  ও  যুক্তি-যুক্ত  ভাবে  এবং  লোকদের  সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পদ্ধতিতে"(16:125)।
   হ‍্যাঁ,  বিজ্ঞানকে   *অনেক*   ভালবাসি। আর,  হানীকে তো *অনেকের চেয়ে অনেক বেশি ভালবাসি*।
4) মা আয়েশা  (রা)  ছোট বেলা থেকেই ইসলাম শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। বলে রাখা দরকার যে, এই সুযোগ নবী (স)- এর  অন‍্যান‍্য  স্ত্রীগণ  পান  নি। এ  বিষয়েও মা আয়েশা (রা) ছিলেন ভিন্ন!!
5) মা আয়েশা (রা) শিশু অবস্থা থেকেই ইসলামী জীবন ব‍্যাবস্থা ছাড়া অন্য কিছু শেখার সুযোগ পান নি। কারণ, মা  আয়েশা  9  বছর  বেলা থেকেই  নবী (স)- এর সঙ্গে জীবন-যাপন  শুরু  করেন। বলে  রাখা  দরকার যে, এই বিষয়েও  মা  আয়েশা নবী (স)- এর অন‍্যান‍্য স্ত্রীগণ হতে ভিন্ন!!
6) এককথায়, মা   আয়েশা  (রা)  ছিলেন  সম্পূর্ণ  ভাবে ইসলামে  সমর্পিত। বলে  রাখা  দরকার যে, এ  বিষয়েও মা  আয়েশা  (রা)  ছিলেন  ভিন্ন!! কারণ, নবী  (স)- এর অন‍্যান‍্য  স্ত্রীগণের  কোনও  না  কোনও  *পূর্ব  জীবন  বা অতীত   জীবন*   ছিল। কিন্তু   মা   আয়েশা   (রা)-  এর কোনও  ধরণের  পূর্ব  জীবন  বা অতীত জীবন ছিল না।কেননা, মা আয়েশা (রা)- এর 6 বছর বয়সে বিবাহ হয়ে যায়  এবং  9  বছর  বয়সে  নবী (স)- এর  সঙ্গে  সংসার জীবন  শুরু  করেন। অন‍্যদিকে  নবী  (স)- এর  অন‍্যান‍্য স্ত্রীগণের   *এক  বা  একাধিক*  পূর্ব  স্বামী   ছিল। তাই, তাদের  *জীবনের  বড়  ও  ইসলাম  বিহীন  বা  সংক্ষিপ্ত ইসলাম যুক্ত* অতীত ছিল।
   এগুলোই হয়ত "কারণ" যে, মা আয়েশা (রা) নবী (স)- এর   অন‍্যান‍্য  স্ত্রীগণের  চেয়ে  আলাদা  এবং  2210  টি হাদীস বর্ণনা করার গৌরব অর্জন করেছিলেন!!
   এবার   একটা   ছোট্ট   প্রশ্ন   করতে   চাইছি-"যদি  মা আয়েশা  (রা)- কে  নবী  (স)  6 বছর  বয়সে  বিবাহ  না করতেন  এবং  9  বছর  বয়সে তার সঙ্গে সংসার জীবন শুরু না করতেন, তাহলে  কি  মা আয়েশা (রা) 2210 টি হাদীস   বর্ণনাকারি   হওয়ার    গৌরব    অর্জন   করতে পারতেন"??
   এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হল- না। আরও একটি প্রশ্ন-"মা আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত হাদীস গুলো থেকে আমরা কি কি জানতে পারি"?? মা আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত হাদীস গুলো থেকে আমরা যা জানতে পারি, তা হল-
1) নবী (স)- এর ঘরোয়া জীবন। 
2) নবী (স)- এর ঘরোয়া আধ‍্যাত্মিক জীবন।
3) নবী (স)- এর যৌন জীবন।
4) নবী (স)- এর কৃত তাফসির।
5) নবী (স) সম্পর্কে অন‍্যান‍্য তথ‍্য।
   আরও  একটি  প্রশ্ন-"যদি  নবী  (স)  মা আয়েশা (রা)- কে  6  বছর  বয়সে  বিবাহ  না  করতেন  এবং  9  বছর বয়সে  সংসার  জীবন  শুরু  না  করতেন, তাহলে কি মা আয়েশা  বর্ণিত হাদীস গুলো পেতাম"?? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হন- না, পেতাম না!!
   আবারও  একটি  প্রশ্ন-"যদি  মা  আয়েশা   (রা)   হতে বর্ণিত  হাদীস  গুলো   না   পেতাম, তাহলে   কি   হত?? তাহলে  ইসলাম  অসম্পূর্ণ  থাকত  এবং  এই  আয়াতটি কোরানে  থাকলেও তা, মিথ‍্যায়  পরিণত হত। আয়াতটি হল-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ 
অনুবাদ হবে এমন-"আজ     আমি     তোমাদের     জন্য তোমাদের   দ্বীনকে    পরিপূর্ণ    করে    দিয়েছি, আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য   ইসলামকে   তোমাদের   দ্বীন   হিসেবে   মনোনীত করলাম"(5:3)। এখানেই   কি   শেষ?? মিথ‍্যায়  পরিণত হত এই আয়াত গুলোও-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ
অনুবাদ হবে এমন-"হে   ইমানদারগণ!! তোমরা  আল্লাহ এবং  তার  রাসুলের (সর্বত্র ভাবে) অনুসরণ কর"(4:59, 4:13,  3:31,  3:132,  5:92,  8:1,  8:20,  8:46, 24:54, 24:56, 33:33, 33:71, 47:33, 58:13,  64:12,  3:32)।
   এ  জন‍্যেই আল্লাহ নবী (স)- কে স্বপ্নযোগে এই নির্দেশ দান করেন এবং এ ভাবে নির্দেশটি দেওয়া হয়-
"আয়েশা  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন  যে, নবী  (স) বলেছেন- দুই   দুইবার   আমাকে   স্বপ্নযোগে   তোমাকে দেখানো  হয়েছে। এক ব‍্যাক্তি  তোমাকে  রেশমী  কাপড় পরিহিতা  অবস্থায়  নিয়ে  যাচ্ছিল  এবং  আমাকে লক্ষ্য করে   বলছিল  যে, এ  হল   আপনার   স্ত্রী। আমি  তখন কাপড় উন্মুক্ত করে দেখলাম যে, তুমি। তখন আমি মনে মনে বললাম যে, এই স্বপ্ন যদি  আল্লাহর পক্ষ হতে হয়েই থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই তা সত‍্যে পরিণত করবেনই করবেন"(বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস 4708)।
   যাইহোক, এবার  2:45  বেজে গেছে। তাই এখন লেখা বন্ধ  করছি। কারণ, কিছুক্ষণের  মধ‍্যেই   GSLV   MK-3 চাঁদের  উদেশ‍্যে  যাত্রা  শুরু  করতে  চলেছে। তাই চলুন, এবার TV On করি।
   আজ 16.7.19 তারিখ এবং এখন রাত 12:20 বাজে।  
   এতক্ষণে  জানা  গেল- আল্লাহ কেন  মা আয়েশা (রা)- কে  বিবাহ  করার  নির্দেশ  দিয়েছিলেন  নবী  (স)-  কে। আর, এবার  আমরা   নাস্তিকদের   প্রশ্ন   গুলোর  উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব- ইনশাআল্লাহ। কিন্তু  তার আগে মা আয়েশা (রা)- এর   বিবাহের   বয়স   সম্পর্কিত   হাদীস গুলো দেখে নিন-
"আয়েশা  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন- নবী  মহাম্মদ (স) আমাকে  বিবাহ  করেন  6  বছর   বয়সে  ও  বাসর  হয় 9 বছর বয়সে। আর,  নবী (স)- এর   সঙ্গে    জীবন-যাপন  করি [নবী  সঃ  এর   মৃত্যু  পর্যন্ত] 9  বছর"(সহীহ বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস 4757, 4758)।
   "ওরওরাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- নবী মহাম্মদ (স) আয়েশা  (রা)- কে  বিবাহ  করেন  6 বছর বয়সে ও বাসর   করেন  9  বছর  বয়সে  এবং  আয়েশা (রা) নবী (স)- এর  সঙ্গে  9  বছর  যাবত  বৈবাহিক জীবন-যাপন  করেন"(বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, হাদীস 4781)।
   নাস্তিকদের প্রশ্ন-"51 বছর  বয়সে  6  বছরের  কোনও শিশুকে বিবাহ  করা  এবং  54  বছর বয়সে  9  বছরের সেই  শিশুর  সঙ্গে  বাসর   করা   কি  কোনও  নবী (স)- এর কাজ হতে পারে??
   কেউ  কেউ  এখানেই  শেষ  করে না, বরং আরও এক ধাপ   এগিয়ে   বলে-"51 বছরের   বৃদ্ধ   মহাম্মদ  (স)  6 বছরের  শিশু  আয়েশা  (রা)-  কে  বিয়ে  করে  এবং 54 বছর  বয়সে  9  বছরের  সেই   শিশুর   সঙ্গে   শারীরিক সম্পর্ক  তৈরী করে!! এটা কি কোনও বিশ্বনবী (স)- এর কাজ?? এটা   কোন   মনবতা?? এটা   কি   অমানবিক নয়?? এটা কি একটি শিশুর উপর যৌন নির্যাতন নয়?? এটা কি "ইসলাম ধর্মের" নামে একটি শিশুর উপর যৌন নির্যাতন নয়?? এটা কি ধর্ষণ নয়"??
   নাস্তিকদের  এই  সব   প্রশ্ন   শুনে   অনেক   মুনাফিক জাতীয়  মুসলিম   বলে-"সত্যিই তো!! মাত্র   6   বছরের কোনও   শিশুকে   বিবাহ  এবং  9  বছর বয়সের শিশুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক!! তাও আবার 54 বছরের বৃদ্ধ!! এটা  তো  সত্যিই  ধর্ষণ!! ইসলাম  সত্যিই  একটা   বর্বর ধর্ম!!
   আমার  জানা মতে- বহু  মুসলিম  এটা  জানেই না যে, মা আয়েশা (রা)- এর বিয়ে হয়েছিল 6 বছর বয়সে এবং নবী (স)- এর   সঙ্গে  তার  বাসর  হয়  9 বছর   বয়সে!! আর, এ  জন‍্যেই   যখন   কোনও   মুসলিম   নাস্তিকদের থেকে   প্রথম   এ   ব‍্যাপারে   নবী  (স)  এবং  ইসলামের সমালোচনা  ও  দুর্নাম-বদনাম  শোনে, তখন  সে  চমকে ওঠে  এবং  নাস্তিকদের  কথা-বার্তা সেই মুসলিমের মনে গভীর ছাপ ফেলে!! তাই, আমাদের  আলেমদের দায়িত্ব হল- এ  বিষয়ে  কোনও  কিছু  গোপন না করে মুসলিম/ অমুসলিম/ নাস্তিকদের  মধ্যে  সচেতনতা  তৈরী  করা!! কিন্তু আমি  জানি যে, আলেম সমাজ  এ কাজ  করবেন না হয়ত!! কারণ, আলেম সমাজ নিজেদের মধ্যে গালা-গালি/ মারা-মারি/ কাটা-কাটিতে ব‍্যাস্ত!!
   এ জন‍্যেই আমরা এগিয়ে এসেছি। কিন্তু আমি কোনও আলেম নই, আমি শুধুমাত্র হোসেন কুরানী  এবং  হানীর নাহাল!! এর  বেশি কিছু নই  এবং  হতেও চাই না!! যাই হোক, আজ   24.7.19  তারিখ  এবং  এখন রাত 11 টা বাজে। অনেক  ক্ষণ  হল  ঘুম আসছে না!! আর, ঘুম না এলেই   জানেন   তো- আমি    কি    করি?? লিখি। তাই চলুন, লেখা শুরু করি-
   নবী (স) ও মা  আয়েশা (রা)- এর  বিবাহ  প্রসঙ্গে  প্রশ্ন উত্থাপনকারি এবং কটাক্ষ কারিদের কয়েক  ভাগে ভাগ করা  যায়। যেমন- হিন্দু,  ইহুদী, খৃষ্টান  ও  নাস্তিক। তাই প্রথমে আমরা হিন্দুদের উত্তর দিতে চাই-
1) শ্রী রাম  যখন  মাতা  সীতাকে   বিবাহ   করেন, তখন মাতা  সীতার  বয়স ছিল মাত্র 6 বছর। শুনতে খানিকটা নতুন  এবং  অবাক  লাগলেও, এটা 100% সত‍্য!! তবে, কেউ কেউ বলতে পারেন যে-"আপনি নবী মহাম্মদ (স)- কে ডিফেন্ড করার জন্য মিথ্যা কাহিনী বলছেন"। উত্তরে বলতে পারি- নবী (স)- কে  ডিফেন্ড  করার  জন্য  মিথ্যা বলার  কোনও  প্রয়োজন নেই। কারণ, নবী (স) তার 63 বছরের  জীবনে  কখনও কোনও মিথ্যা বলেন নি। আর, কোরানেও আল্লাহ বলেছেন- وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ
অনুবাদ হবে এমন-"সেদিন    ধ্বংস    অপেক্ষা    করছে মিথ্যাচারিদের জন্য"(77:15, 19, 24, 28,  34,  37,  40, 45, 47, 49)।
   সুতরাং  মিথ্যা  বলার  কোনও   প্রয়োজন   নেই  এবং আমি  সাধারণত  মিথ্যা  বলিইইইই  না। চলুন,  বাল্মীকি রামায়ণের   বনপর্বের  47:4-10  খোলা  যাক!! যেখানে মাতা সীতা  এবং  রামের বয়স বর্ণনা করা হচ্ছে!! তবে, আমরা  এখানে  শুধুমাত্র  মাতা   সীতার   বয়স   নিয়েই আলোচনা সিমিত রাখব!! তাই চলুন-
   রাবণ যখন সন্ন্যাসীর বেসে সীতার কাছে এসে সীতার পরিচয় জিজ্ঞাসা করে, তখন সীতা নিজের পরিচয় দেন এভাবে-"আমি   সীতা, আমার   বয়স 18 এবং 12 বছর শ্বশুরালয় উপভোগ করে বনবাসে এসেছি"।
   এখন  একটি  ছোট  গাণিতিক  হিসাব  করলেই  মাতা সীতার     বিবাহের    বয়স    বেরিয়ে     পড়বে, এভাবে-
বর্তমান   বয়স 18 বছর, তারমধ্যে  শ্বশুরালয়ে 12 বছর বসবাস   করে   বনবাসে   আসেন। তারমানে 18-12= 6 বছর। মাতা  সীতার  যখন  বিবাহ  হয়, তখন তার বয়স ছিল- মাত্র 6 বছর।
   শুধুমাত্র  রামায়নে  নয়, স্কন্দ  পুরাণের 3 নং স্কন্ধের 2 নং খন্ডের 30:8-9 বলা আছে-"শ্রীরাম মিথিলার রাজার 6 বছর বয়সী সুন্দরী কন্যা সীতাকে বিবাহ করেন"।
2) শ্রীকৃষ্ণ  যখন  মাতা  রুক্মিনীকে বিবাহ করেন, তখন মাতা  রুক্মিনীর  বয়স  ছিল- মাত্র 8 বছর। যদি আপনি চান  তাহলে  একবার  স্কন্দ  পুরাণের 5 নং স্কন্ধের 3 নং খন্ডের 142:8-79 খুলে চেক করতে পারেন!!
   এখানেই কি শেষ?? মাত্র 8 বছরের  শিশু  তথা  মাতা রুক্মিনীর   সঙ্গে   শ্রীকৃষ্ণ   যৌনাচারও   করতেন   এবং যৌনাচারের  ফলে  শিশু  মাতা  রুক্মিনী  জ্ঞান হারিয়েও ফেলতেন!!
   শুনতে  হয়ত   খুব   খারাপ   লাগছে!! আমি   অন‍্যের বিশ্বাসে  আঘাত  হানতে  চাই না। আমি  শুধুমাত্র একটি যুক্তি/ প্রমাণ/ উদ্ধৃতি  বহুল  লেখা  লিখতে চাইছি। তবে আপনি  চাইলে  আমার  কথা  গুলোকে  ধর্মগ্ৰন্থের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।
   পুরাণে    তথ‍্যটি    এভাবে    আছে-"কৃষ্ণ   তাহার   স্ত্রী রুক্মিনীর পানে বিমুগ্ধ নয়নে  তাকিয়ে আছেন, যে কিনা এখনও পরিপূর্ণভাবে  বেড়ে  ওঠেনি এবং যার বয়ঃসন্ধি শুরু  হয়েছে  মাত্র  এবং  যৌনতা  সম্বন্ধে   এখনও  যার কোন  ধারণাই  গড়ে  ওঠে  নি। এমন  মুহূর্তে  কৃষ্ণ  তার সহিত  যৌনক্রীড়া  শুরু  করে  দিল  এবং রুক্মিনী জ্ঞান হারিয়ে ফেলল"(ব্রহ্মবৈবর্ত্য  পুরাণের, কৃষ্ণ জন্ম খন্ডের 112:1-10)।
3) প্রথমে শ্রী রামের বিবাহ সম্পর্কে জানলাম!! তারপর শ্রী  কৃষ্ণের  বিবাহ  সম্পর্কে   জানলাম!! এবার  আমরা শীব  এবং  মাতা  পার্বতীর  বিবাহ  সম্পর্কে  জানব  যে- মাতা  পার্বতীর  যখন  বিবাহ  হয়েছিল, তখন তার বয়স কত ছিল!!
   হ্যাঁ, মাতা  পার্বতীরও  বিবাহ   হয়েছিল  মাত্র  8  বছর বয়সে!! চাইলে  দেখতে  পারেন-"শীব  8  বছর  বয়সের পার্বতীকে বিবাহ করে হিমাচলে নিয়ে এসে সংসার শুরু করেন"(শীব পুরাণ, রুদ্র  সংহিতা, পার্বতী  খন্ডের, 3 নং পর্বের, 11:1-2, ইংরেজি    অধ্যায়ের   নাম-"Siva   and Himavat meet together")।
   এখানে  পার্বতীকেই  Himavat  বলা   হয়েছে। কারণ, Himavat পার্বতীর  অন্য নাম। যাইহোক, এবার মনে হয় একজন  হিন্দুর  মুখে   তালা  লেগে  যাবে  বলেই  আশা করছি!! কিন্তু  আমি  জানি   যে, শুধুমাত্র   হিন্দুরা  নবী (স)- কে   কটাক্ষ   করে   না, বরং   ইহুদী   এবং   খৃষ্টান মিশনারিরাও   বিশ্বনবী  (স)-  কে   কটাক্ষ   করে   এবং হেয়প্রতিপন্ন  ও  অপদস্থ  করে। তাই  চলুন, এবার ইহুদী এবং খৃষ্টান মিশনারিদের উত্তর দেব- ইনশাআল্লাহ।
   বাইবেলের  Old  testament  অনুযায়ী- নবী ইব্রাহিম (আ)- এর 40 বছর বয়সী পুত্র ইসহাক (আ)- এর বিবাহ হয়  3  বছর  বয়সী  রেবেকা (আ)- এর  সঙ্গে। বাইবেলে এই তথ‍্য  এভাবে রয়েছে-"Isaac was forty years old when he took  Rebekah as wife, the daughter of Bethuel the  Syrian of Padan Aram, the sister of Laban   the    Syrian"(Bible, book    of    Genesis- 25:20, New King James Version)।
অনুবাদ হবে এমন-"ইসহাক  40  বছর  বয়সে আরামীয় বেথুয়েলের কন‍্যা, আরামীয়  লাবনের  বোন রেবেকা'কে পাদান-আরাম হতে নিয়ে এসে বিবাহ করেন"।
   এখানে  কেউ  কেউ  প্রশ্ন  তুলতে  পারে  যে-"book of Genesis   এর   25:20   তে   তো   রেবেকা'র   বয়সের উল্লেখই   নেই!! তাহলে   আপনি   কি করে বললেন যে, ইসহাক  40  বছর  বয়সে  3 বছরের রেবেকা'কে বিবাহ করেন"??
   এ প্রশ্নের  উত্তর  জানতে  আপনাকে ছোট্ট মত একটা অঙ্ক করতে হবে। এভাবে-
1) book  of  Genesis  এর  17:17 অনুযায়ী- ইব্রাহিম (আ)- এর  যখন  100  বছর বয়স, তখন ইসহাক (আ)- এর মা তথা ইব্রাহিম (আ)- এর স্ত্রীর বয়স 90 বছর।
2) book  of  Genesis    এর  21:5  অনুযায়ী- ইসহাক (আ)- এর   যখন  জন্ম   হয়, তখন  তার  পিতা  ইব্রাহিম (আ)- এর  বয়স 100 বছর। তারমানে উপরিউক্ত book of Genesis  এর  17:17  অনুযায়ী- ইসহাক (আ)- এর জন্মের  সময়  তার  মা  সারা (আ)- এর  বয়স  ছিল 90 বছর।
3) book  of Genesis এর 23:1 অনুয়ায়ী- সারা (আ)- এর  মৃত্যু  হয়  127  বছর  বয়সে। তারমানে সারা (আ)- এর    মৃত্যুর    সময়    ইসহাক  (আ)-  এর   বয়স   ছিল 127-90= 37 বছর।
4) book   of   Genesis   এর  22:22   অনুযায়ী- সারা (আ)- এর  মৃত্যুর  সময়  জন্ম  হয়  রেবেকা  (আ)- এর। তারমানে  সারা  (আ)- এর  মৃত্যুর  সময়  ইসহাক (আ)- এর বয়স ছিল- 37 বছর। আর ইসহাক (আ)- এর যখন 37 বছর, তখন রেবেকা (আ)- এর জন্ম হয়।
   5) book  of  Genesis  এর  25:20  অনুয়ায়ী- ইসহাক (আ)- এর  40  বছর  বয়সে  বিবাহ  হয়। যখন  ইসহাক (আ)- এর  37  বছর  বয়স  ছিল, তখন   যদি   রেবেকা (আ)- এর  জন্ম হয়, তাহলে ইসহাক (আ)- এর 40 বছর বয়স  হয়, তখন  রেবেকা  (আ)- এর  বয়স  কত হবে?? সহজ উত্তর!! 40-37= 3 বছর।
   এবার বলুন, আমি কি ভুল কিছু  বলেছিলাম?? আমি ঠিকই   তো   বলেছিলাম   যে- ইসহাক  (আ)  40  বছর বয়সে    3   বছরের   শিশু   রেবেকা   (আ)- কে   বিবাহ করেন!!
   আর, এখন   আমি   ইহুদী  এবং  খৃষ্টান  মিশনারিদের বলতে  চাই- আপনাদের   কি   লজ্জা-শরম   বলে  কিছু নেই?? যে ধর্ম  3  বছরের  শিশুকে বিবাহ করার বৈধতা রয়েছে, সেই ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বনবী (স)- এর উপরে কিভাবে আঙুল তোলে!!
   এ পর্যন্ত  আমরা  হিন্দু/ ইহুদী/ খৃষ্টানদের  উত্তর দিয়ে দিয়েছি। এবার  আমরা  নাস্তিকদের  উত্তর  দেব- ইনশা আল্লাহ। তবে, এবার  হয়ত  লেখাটি শেষ হতে চলেছে!! তাই, লেখা শেষ করার পূর্বে নিজের সম্পর্কে একটু বলে নিই!! এটা আমার স্বভাব তো!! আজ  25.7.19  তারিখ এবং  এখন   রাত   10:30  বাজে। 
     আপনি  নাস্তিক হন  অথবা  আস্তিক হন- যদি আপনি আমার  এই  লেখাটি  শুরু  থেকে   পড়েন, তাহলে  এটা আপনি  মানতে  বাধ্য হবেন যে, মা  আয়েশা (রা)- কে 6 বছর বয়সে বিবাহ করা  এবং  9 বছর  বয়সে ঘরে নিয়ে আসা জরুরী ছিল!! কমপক্ষে  ইসলাম  পূর্ণতা পাওয়ার জন্য জরুরী ছিল!! তাই নয় কি??
   এবার   নাস্তিকদের   পক্ষ   থেকে   প্রশ্ন   হবে-"6 বছর বয়সের শিশুকে বিবাহ করা  এবং  9 বছর বয়সের সেই শিশুর সঙ্গে  যৌনাচার করা  কতটুকু যৌক্তিক?? অন্তত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে কতটুকু মানানসই"??
   কতটুকু নয়, পুরোটাই  মানানসই!! এখানে হয়ত কেউ কেউ বলবেন যে-"আপনি  গোঁড়ামি করছেন"। এ প্রশ্নের উত্তরে  বলতে  পারি- আমি   গোঁড়া   নই, বিজ্ঞান  জানি এবং  বৈজ্ঞানিক   দৃষ্টিকোণ   থেকেই   বলছি- পুরোটাই মানানসই!! প্রশ্ন    হবে-"কিভাবে?? কিভাবে  একটা 9 বছর বয়সের শিশুর সঙ্গে  যৌনাচার মানানসই মনে হল আপনার"?? চলুন, ব‍্যাখ‍্যা করি-
   Period বা মাসিক সম্পর্কে জানেন?? জানেন মাসিক কেন  হয়?? মাসিক   হল- মাতৃত্বের   বহিঃপ্রকাশ। যখন কোনও  নারীর  মাসিক  শুরু হয়ে যায়, তখন সেই নারী মাতৃত্বের  জন্য  প্রস্তুত  হয়ে  যায়  শারীরিক  ভাবে- এটা জানেন তো??
   আর, যখন  কোনও  নারীর  Period  বা  মাসিক শুরু শুরু   হয়, তখন  তার  সঙ্গে  যৌনমিলন  করা   মোটেও অবৈজ্ঞানিক নয়। কারণ, তখন সেই নারী মাতৃত্বের জন্য বা গর্ভধারণের প্রস্তুত হয়ে যায়!!
   আমি জানি- আপনার  বুঝতে  সমস্যা হচ্ছে!! সুতরাং এখন  দেখাতে  চাই- Period বা মাসিক কেন হয়!! তাই চলুন-
   প্রতি  মাসে  ডিম্বাশয়  একটি  ডিম্বাণু  উৎপাদন করে। সবচেয়ে  পরিপক্ক  বা  পূর্ণাঙ্গ  ডিম্বাণুটি ডিম্বনালির মধ্য দিয়ে  জরায়ুতে  চলে  যায়। জরায়ু  হচ্ছে   দেহের  এমন একটি অংশ যেখানে শিশু সুরক্ষিত থাকে ও প্রতিনিয়ত পুষ্টি   পায়। যখন   ডিম্বাণু   পরিপক্ক   হয়, তখন   শরীর জরাযুতে  রাসায়নিক  সংকেত   পাঠায়। ফলে, জরায়ুর ভিতরের  অংশ পুরু হয়ে ওঠে। ডিম্বাশয় থেকে পরিপক্ক ডিম্বাণু  বেরিয়ে  এসে  ডিম্বনালীতে   অবস্থান  নেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াকে বলে হয়- ডিম্বাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া।
   এই  যৌনমিলন  দ্বারা  ডিম্বানুটি  শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত হলে গর্ভসঞ্চার হয়। গর্ভবতী অবস্থায় নিষিক্ত  ডিম্বাণুটি ডিম্বনালীর  মধ্য  দিয়ে  জরায়ুতে  আসে। এবং 6 দিনের মধ্যে  নিষিক্ত  ডিম্বাণুটি   জরায়ুতে   সৃষ্ট   নরম  ও  পুরু আবরণের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।
   আর যদি গর্ভবতী না হয়, তাহলে  অনিষিক্ত ডিম্বাণুটি নষ্ট হয়ে  যায় এবং জরায়ুর  ভেতরে কোনও শিশু   জন্ম   না নেওয়ায় নরম এবং পুরু  আবরণটিও  ভেঙে  যায় ও ভেঙে যাওয়া আবরণটি  শরীর  থেকে  রক্তের  আকারে বের হয়ে আসে। এভাবেই  মাসিকের শুরু হয় ও মাসিক হয়!! বুঝলেন মশাই??
   আজ 27.7.19 তারিখ  এবং  এখন রাত 1:40 বাজে।    এরপর  আমি  যা করি, তা  তো জানেন!! এখন লেখা শুরু করব, চলুন-
   এখন  বলুন  তো, তাহলে  নারীর  Period  বা  মাসিক শুরু  হওয়ার  অর্থ  কি?? উপরিউক্ত  লেখা থেকে হয়ত জেনেই গেছেন যে, Period বা মাসিক শুরু হওয়ার অর্থ হল- নারীর মা হওয়ার জন্য বা তার শরীর যৌনমিলনের জন্য প্রস্তুত!!
   এবার  প্রশ্ন  হবে-"কত বছর বয়সে নারীর বা নারীদের Period  বা মাসিক শুরু হয়"?? এ প্রশ্নের নিদিষ্ট কোনও উত্তর পৃথিবীর কোনও  ডাক্তার  বা  Medical science এর  কাছে  নেই!! তবে, ডাক্তার  বা Medical science বলে- ভারতে  নারীদের Period বা মাসিক চক্র শুরু হয় 10 থেকে  16 বছর  বয়সে। তবে, 16 বছরের  পরও বহু নারীর  মাসিক  শুরু  হয়!! আবার  10 বছরের আগেও বহু নারীর মাসিক চক্র শুরু হয়!!
   আসলে  আবহাওয়ার  উপরে  নারীদের  মাসিক  চক্র শুরু হওয়া বেশ খানিকটা  নির্ভরশীল। যেমন কাশ্মীরের নারীদের   Period   বা  মাসিক   চক্র   শুরু   হয়  একটু দেরিতে। যথা   13   থেকে   16   বছর   বয়সে!! আবার পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের নারীদের Period বা মাসিক চক্র শুরু হয় 10 থেকে 16 বছর বয়সে!! আবার দক্ষিণ ভারতের নারীদের  Period  বা মাসিক চক্র শুরু হয় 10 থেকে 14 বছর বয়সে!!
   এককথায়, শীতপ্রধান    দেশের   তুলনায়   উষ্ণপ্রধান দেশের নারীদের Period বা মাসিক  চক্র শুরু হয় একটু তাড়াতাড়ি। উষ্ণপ্রধান   দেশের   নারীদের   Period  বা মাসিক চক্র  9  বছর বয়সেও শুরু হতে দেখা যায়। শুধু উষ্ণপ্রধান  দেশ  কেন, আমাদের  দেশ ভারতের অনেক নারীদের  9  বছরে  Period  বা  মাসিক চক্র শুরু হয়!! সত্যি বলতে, এটা  কোনও   ডাক্তার   অথবা   Medical science এর কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়!!
   এবার  একটা  প্রশ্ন   করি-"মা  আয়েশা  (রা)  কোথায় বসবাস করতেন"?? এ প্রশ্নের উত্তর তো আপনি জানেন আর তা হল- আরব  মরুতে। এবার বলুন-"তাহলে কি 9 বছর  বয়সে  মা  আয়েশা (রা)- এর Period  বা  মাসিক চক্র শুরু হয় নি?? সম্ভাবনা  কি বলে"?? সম্ভাবনা এটাই বলে যে- 9 বছর বয়সেই মা আয়েশা (রা) মাতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। সেই জন‍্যেই  নবী (স) মা আয়েশা (রা)-  কে    ঘরে    নিয়ে    এসেছিলেন। তাই, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ   থেকে  মা  আয়েশা  (রা)- এর সঙ্গে নবী (স)- এর যৌনাচার পুরোটাই মানানসই!!★★
   ★★ সুধীপাঠক, আজ  28.7.19  তারিখ  এবং এখন রাত  2:20  বাজে। যাইহোক, এখান    পর্যন্ত    উত্তর   শেষ। কিন্তু আমি  এখন  লেখাটি  শেষ করতে চাই না!! মা আয়েশা (রা)  কেমন  ছিলেন- তা  একটি   কার্যকারী   ও   বাস্তব উদাহরণের   সাহায্যে  আপনাদের  সামনে  তুলে  ধরতে চাই-
   এবার   আমরা   আপনাকে   নিয়ে  যেতে  চাই South Korea তে  এবং  আলাপ  করাতে চাই Kim Yng-Yong এর  সঙ্গে। কিন্তু  কে এই Kim Yng-Yong?? Kim Yng-Yong মাত্র  3  বছর  বয়সে  Hanyang  ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা  বিভাগের  সম্মানিত অতিথি ছাত্রের খাতায় নাম লেখান। যা  চিন্তা  করলেও অসম্ভব মনে হয়!! তাই নয় কি??
   কিন্তু    এখানেই    কি    শেষ?? না, না, মোটেও   শেষ নয়, আরও কিছু অপেক্ষা করছে আপনাদেরকে অবাক করার    মত!! আর, তা    হল-   মাত্র   7   বছর   বয়সে আমেরিকার  পক্ষ  থেকে  Kim Yng-Yong কে আমন্ত্রণ জানিয়ে  NASA  তে  নিয়ে  যাওয়া হয় Reserch করার জন্য।
    Kim Yng-Yong ছেলেটি বিশাল প্রতিভাধর, তাই নয় কি?? তা   না   হলে  কেউ  আবার  মাত্র  3  বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের  পদার্থবিদ্যা   বিভাগের   অতিথি   ছাত্র হতে  পারে?? এবার  একটা  প্রশ্ন-"Kim Yng-Yong এর তুলনা কি অন‍্য কোনও যে কোনও বয়সের ছাত্রের সঙ্গে হতে পারে"?? মোটেও হতে পারে না!! তাই না??
   মা আয়েশা  (রা)  Kim Yng-Yong এর চেয়ে শত গুণ বেশি  প্রতিভাধর  ছিলেন। মা আয়েশা (রা) মাত্র 9 বছর বয়সেই  54  বছরের  নবী  (স)- এর   সঙ্গে  এমন  ভাবে থাকতেন- যেন 50 বছরের  কোনও সুশিক্ষিতা নারী। মা আয়েশা  (রা)  এমন  ছিলেন  যে- তার কাছে তৎকালীন 60-70  বছরের  তাবড়-তাবড়  জ্ঞানী  সাহাবায়ে কেরাম (রা)-  রাও     দ্বীন    শিখতে    আসতেন। এমনকি   তার পিতাও!! হ‍্যাঁ, শুনতে  অবাক  লাগলেও  এগুলো সত্য!! তাই, অন্য  কোনও  নারীর  সঙ্গে  মা  আয়েশা (রা)- এর তুলনা হতে পারে না!! এই  রকম  প্রতিভাধরদের  সর্বদা আলাদা ভাবেই দেখা উচিৎ। আর, নয়ত আপনি একটা গন্ড মূর্খ!!
   এবার আমরা  বিবাহের  বয়স নিয়ে আলোচনা করতে চাইছি। ভারতীয়    আইন    অনুয়ায়ী    বিবাহের     জন্য পুরুষের  বয়স  কমপক্ষে- 21 বছর  এবং  নারীর  বয়স কমপক্ষে- 18 বছর  হওয়া  জরুরী। বাংলাদেশেরও এই একই   আইন!! তাই   না?? আচ্ছা, এবার   একটা  প্রশ্ন করতে  চাইছি-"জানেন  চীনে  বিবাহের   সর্বনিম্ন   বয়স কত"?? উত্তর  হল- পুরুষের 22  এবং  নারীর 20 বছর। এবার  আরও  একটা  প্রশ্ন-"ভারতীয়  আইন   অনুযায়ী যদি কেউ  চীনে বিবাহ  করতে চায়, তাহলে কি তা গ্ৰহন যোগ্য  হবে"?? উত্তর  হল- না, গ্ৰহন যোগ্য হবে না। কিন্তু কেন গ্ৰহণ  যোগ্য হবে না- এ প্রশ্নের বিজ্ঞানসম্মত উত্তর কেউ দিতে পারবেন কি??
   মনে রাখা দরকার  যে, ভারত  ও  চীনের দুরত্ব কত?? আমরা জানি- একটুও  নয়, এই দুই  দেশের সিমা একে-অপরের সঙ্গে লেগে আছে!! তাই না?? কিন্তু  তবুও এই দুই  দেশের   বিবাহ   আইনে   নারীর  বয়সের  ক্ষেত্রে  2 বছরের পার্থক্য কেন??
   এ   প্রশ্নের   যোগ্য   উত্তর   কেউ দিতে পারবেন কি?? জানি  এ  প্রশ্নের  উত্তর নাস্তিকদের কাছে কেন, কারোর কাছেই নেই!! তবে, আমার  কাছে  আছে!! আসলে এই আইন  গুলো  হল- মানব   রচিত   মনগড়া  আইন মাত্র, প্রকৃতির  ভিত্তিতে  তৈরী  করা  বৈজ্ঞানিক  আইন  নয়!! তাই নয় কি??
   আজ  29.7.19  এবং এখন রাত 3:30 বাজে। অনেক ক্ষণ  হল  ঘুম  ভেঙে  গেছে  এবং  সেই  Tention এ ঘুম আসছে   না। এত   Tention   হচ্ছে- যেন   মাথা   ফেটে যাচ্ছে!! এখন  শুধু  সকাল  হওয়ার   অপেক্ষা  করছি!! জানি  না  কখন  সকাল হবে!! যতক্ষণ না সকাল হচ্ছে, ততক্ষণ  একটু  লেখা-লেখি   করা   যাক, হ‍্যাঁ?? তাহলে বিবাহের  বয়স  সম্পর্কে  ইসলাম কি বলে?? প্রথমে এই আয়াত দুটি দেখুন-
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ 
অনুবাদ হবে এমন-"মানুষকে প্রভুর পথে আহ্বান করুন বিজ্ঞানময়  ও  যুক্তি-যুক্ত  ভাবে  এবং  লোকদের  সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পদ্ধতিতে"(16:125)। নিচের এই আয়াতটিও দেখুন-
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই  মহান  সত্তা, যিনি  উম্মীদের মধ্যে  তাদেরই  একজনকে  রাসুল করে পাঠিয়েছেন যে তাদেরকে    তার    আয়াত    শুনায়, তাদের    জীবনকে সজ্জিত  ও   সুন্দর  করে   এবং   তাদেরকে  কিতাব  ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়। অথচ  ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট ভ্রান্তি ও মূর্খতায় নিমজ্জিত ছিল"(62:2)।
   উপরিউক্ত  দুটি  আয়াত  পড়লে দেখা যাচ্ছে- আল্লাহ নবী (স)- কে   পৃথিবীতে   পাঠিয়েছেন   একটা   উদেশ‍্য নিয়ে। আর  তা  হল- حِكْمَةَ বা  বিজ্ঞান  ভিত্তিক  জীবন-যাপন  শেখানো। তাই, বিবাহের     বয়সের  ক্ষেত্রেও কোরান  বিজ্ঞান  ভিত্তিক  সিদ্ধান্ত  নিয়েছেন  এবং তার উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে-
وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَامًا وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا
অনুবাদ হবে এমন-"অবুঝদের  হাতে  সম্পত্তি তুলে দিও না। যা আল্লাহ  তোমাদেরকে  জীবিকার  জন্য দিয়েছেন বরং তা হতে তাদেরকে খেতে-পরতে দাও  এবং  তাদের সদুপদেশ দাও"(4:5)।
وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ 
অনুবাদ হবে এমন-"আর, এতিমদের পরীক্ষা করে নেবে বিবাহের  বয়স   হওয়া   পর্যন্ত। তারপর   যদি   তোমরা তাদের মধ্যে ভাল-মন্দের  জ্ঞানের  সন্ধান  পাও, তাহলে তাদের সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করে দাও"(4:6)।
   উপরিউক্ত  আয়াত  2  টিকে পর্যালোচনা দেখা যাবে- কোরান  বিবাহের  নিদিষ্ট  কোনও  বয়স  নির্ধারণ  করে দেন   নি, বরং   সুঝ-বুঝ   তথা    ভাল-মন্দের   জ্ঞানকে বিবাহের  বয়স  হিসাবে  দেখানো  হয়েছে!! কিন্তু  তবুও হাদীসে সুঝ-বুঝ তথা ভাল-মন্দের জ্ঞানের একটা  বয়স দেখানো হয়েছে, এভাবে-
"আব্দুল্লাহ ইবনে উমার  (রা)  হতে বর্ণিত। তিনি  বলেন- ওহোদ  যুদ্ধের দিন যুদ্ধে যোগদান করার জন্য নবী (স)- এর  সামনে  উপস্থিত  হলে, তিনি  আমাকে  যুদ্ধে  যেতে অনুমতি  দিলেন  না। তখন  তার  বয়স  ছিল  14 বছর। তিনি  আরও   বলেন- পরের  বছর  খন্দক  যুদ্ধের  দিন আমি  আবারও  যুদ্ধে  যোগদানের   জন্য  নবী (স)- এর সামনে  উপস্থিত  হলে, নবী (স) আমাকে অনুমতি দেন। তখন   তার   বয়স   ছিল   15   বছর"(বুখারী, কিতাবুস সাহাদত, হাদীস  2474  এবং  কিতাবুল মাগাযী, হাদীস 3794)।
   প্রশ্ন হতে পারে-"হাদীসে 15 বছর বয়সকে প্রাপ্ত  বয়স্ক হওয়ার   বয়স  ধরা  হল  কেন"?? বিজ্ঞান  সম্মত  উত্তর  হল- 15 বছর বয়সে মানুষের মস্তিষ্ক  পূর্ণতা  পেয়ে যায়। দ্বিতীয় উত্তর হল- কোরানে বিবাহের বয়স হিসাবে সুঝ-বুঝ ও  ভাল-মন্দের জ্ঞানকে মাপকাঠি হিসাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু প্রাপ্ত  বয়স্ক হওয়ার কোনও বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয় নি- সেই নিদিষ্ট বয়স হল- 15 বছর!!
   যদিও  পুরষ  সাবালক  হয়- স্বপ্নদোষ  হলে এবং নারী সাবালিকা  হয়- Period  বা  ঋতুস্রাব  বা  মাসিক  শুরু হলে। তাই, নবী  (স)-  এর  দ্বারা  মা  আয়েশা  (রা)-  কে বিবাহ   করা   ভারতীয়   আইনে   বিরুদ্ধে   হতে   পারে, কিন্তু প্রকৃতির আইনের বিরুদ্ধে নয়!!
   যাইহোক, নিচের একটি লেখা দিচ্ছি। ফেইসবুক এ গিয়ে সার্চ করলে পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ । দেখতে পবেন-"মাসিক অবস্থায় কি নারীরা অপবিত্র"??
@ঋতু অবস্থায় মহিলারা অপবিত্র??@  
)}]
    আচ্ছা, ভারত  ও  বাংলাদেশের   বিবাহ    আইনের সর্বনিম্ন  বয়স  পুরুষের  21  এবং নারীর 18 বছর কেন হল?? উত্তর হল- আমরা   ভারতীয়রা   বৃটিশদের   বমি খেয়ে অভ‍্যাস্ত, তাই  তাদের  তৈরী  করা  আইনটি বিচার না করেই গ্ৰহণ করে  নিয়েছি!! কিন্তু  আমেরিকার  নিউ জার্সির  আইন একটু অন্য রকম। চাইলে, হিন্দি খবরের কাগজ   "दैनिक भास्कर"   পড়তে   পারেন। যেখানে  বলা হচ্ছে-"কোর্টের  অনুমতি  নিয়ে  যে কোনও বয়সে বিবাহ করা যায়, বিবাহের জন্য পুরুষ বা নারীর নিদিষ্ট কোনও নির্ধারিত বয়সের প্রয়োজন হয় না"(18.10.2015)।
   যাইহোক, মূল  উত্তর  অনেক  ক্ষণ  আগেই  শেষ হয়ে গেছে, এবার  লেখাও শেষ হল প্রায়!! লেখা শেষ করার আগে আমার  লেখা ({[ "নারী অধিকার"  সম্পর্কিত  লেখা/রচনা গুলো ফেসবুকে সার্চ দিয়ে  পড়তে পারেন। এখানে একত্রে প্রায়  20-25  টি  লেখা পেয়ে যাবেন। তাই, নিচে দেওয়া লিঙ্কে/লেখায় ক্লিক/সার্চ করুন--👇-
@নারী অধিকার,  মানবাধিকার ও হিন্দু ধর্মগ্রন্থ@
https://m.facebook.com/story.php?)}]
   লেখা   শেষ   করছি, কিন্তু   একটু   বলে  নিই  যে- মা আয়েশা  (রা)-  কে  পবিত্র  কোরানে   আল্লাহ   কিভাবে সম্মানিত  করেছেন!! কোনও  এক ঘটনার পেক্ষিতে মা আয়েশা (রা)- এর উপর তার চারিত্রিক বিষয়ে অপবাদ দেওয়া হয়। সেই  ঘটনার  পেক্ষিতেই  মা  আয়েশা (রা)- কে আল্লাহ নির্দোষ বলে ঘোষণা করেছেন, এভাবে-
إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ ۚ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَكُمْ ۖ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ ۚ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ مَا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ ۚ وَالَّذِي تَوَلَّىٰ كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অনুবাদ হবে এমন-"যারা  এই  মিথ্যা   এবং   মূল  ঘটনা পরিবর্তন    করে   অপবাদ   তৈরী   করে  এনেছে, তারা তোমাদেরই    ভিতরের   একটি   অংশ!! এই   ঘটনাকে নিজেদের পক্ষে খারাপ মনে কর না বরং এও তোমাদের জন্য ভালই। যে   এর   মধ্যে   যতটা  অংশ  নিয়েছে, সে ততটাই  গুনাহ  কামিয়েছে!! আর  যে  ব্যক্তি  এর  দায়-দায়িত্বের বড় অংশ নিজের  মাথায় নিয়েছে, তার   জন্য তো রয়েছে মহাশাস্তি"(24:11)।
   এই  হল  সেই  মূল‍্যবান  আয়াত, যে  আয়াতে  আল্লাহ নিজে মা আয়েশা (রা)- এর  বিষয়ে  সাক্ষী  দেন  যে, মা আয়েশা  (রা)  নির্দোষ!! যাইহোক, লেখাটি  পড়ার  পর আমার  মায়ের  জন্য  "জান্নাতুল ফেরদৌস"  এর জন্যে দোয়া করবেন- আশা রাখছি!!
   আশা করছি, বোঝাতে পারলাম। এবং  আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন  থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা   করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
* THE QURANIC UNIVERSE TEAM *
        © : লেখক, হোসেন কুরানী ।


কোরান ও ভূমিকম্প


কোরান ও ভূমিকম্প

   "ইসলাম কোরান ও বিজ্ঞান" নামক Whatsapp গ্ৰুপে মুর্সিদাবাদের মাসুদ আলম ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- "হোসেন ভাইজান, ভূমিকম্প সম্পর্কে বিস্তারিত এবং লিখিত ভাবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই। দয়া করে জানাবেন"।

   #ভাই, জানাতে তো চাই, কিন্তু আজও আমার পরি স্থিতি গতকালের মতোই। আজ 2.1.2019 তারিখ। এই সময় আমার প্রচুর ব‍্যাস্ত থাকার কথা!! এবং সাধারণত আমি মাসের 1-2 তারিখের মধ্যে ব‍্যাবসা জনিত সমস্ত হিসাব শেষ করে ফেলি, কিন্তু এই মাসে এখনও পর্যন্ত 25% হিসাবও হয় নি।

   গতকালের মত আজও একটা ছোট্ট প্রশ্ন খুঁজছিলাম, কিন্তু পাইনি। ভাবছিলাম লিখবোনা কিন্তু সময়ও তো কাটতে চাইছেনা!! আবার হিসাব করার জন্য ও লেখার জন্য ভাবতে হয়, আর ভাবার জন্য *ফ্রেশ মাইন্ড বা মন* প্রয়োজন, কিন্তু আমার *মন* তো হসপিটালে!!

   শুধু মনে হচ্ছে- এত শীতে 'সে' কিভাবে আরও একটা রাত কাটাবে?? 1 রাত ঘুমাইনি 'সে' এবং আজও 'তার' ঘুম হবে না!! 'সে' কি করছে, কি খাচ্ছে?? 'তার' কতই না কষ্ট হচ্ছে!! আর আমি অসহায়!!

   পরিস্থিতি এমন যে- আমি ঘরে, আর সে হসপিটালে!! নাহলে আমি হয়ত তার সঙ্গে থাকতাম!! কিন্তু আমি ঘরে তো কি হয়েছে?? আমিও তার মত করেই কষ্টে রাত কাটাব!! তবেই আমার মনে হবে যে, আমি তার সঙ্গে আছি!!

   #উত্তর:::- ভূমিকম্পকে ইংরেজিতে বলা হয় Earth quake. ভূমি অর্থ- পৃথিবী। কম্প অর্থ- কম্পন বা কাঁপা। ভূমিকম্প অর্থ হল- পৃথিবীর কম্পন। বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের কারণ খুঁজে বের করেছেন এবং বলেছেন-   *কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক* দু কারণেই ভূমিকম্প হয়।

   ক) কৃত্রিম কারণ:- বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের কয়েকটি কৃত্রিম কারণ চিহ্নিত করেছেন।

   1) সাধারণ বোমা বিস্ফোরণ, 2) পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ, 3) খনি ধ্বস, 4) ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গে ধ্বস। এ ছাড়াও আরও অন‍্যান‍্য কারণও আছে।

   এই কৃত্রিম কারণের উল্লেখ কোরানে এসেছে এভাবে- "তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি কর না"(2:11)।

   খ) প্রাকৃতিক কারণ:- ভূমিকম্পে কৃত্রিম কারণের জন্য মৃদু ভূমিকম্পইইইই হয়ে থাকে। তবে, প্রাকৃতিক কারণেই বড় বড় ভূমিকম্প হয় বা হয়ে থাকে। আর যাকে আমরা সুনামী বলি, তা ভূমিকম্প ছাড়া অন্য কিছু নয়। যা সমুদ্রের নিচে হয় এবং এর তরঙ্গ সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে ছড়িয়ে পড়ে।

   বিজ্ঞানীরা বলেছেন- প্রাকৃতিক ভাবে ভূমিকম্পের 3 টি কারণ আছে।

   1) আগ্নেয়গিরি:- আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। এই ধরণের ভূমিকম্প মৃদু থেকে মাঝারি এবং তীব্রও হতে পারে। তবে, এ ধরণের ভূমি কম্পে কালো ধূঁয়া ও বিষাক্ত গ‍্যাস ভূমিকম্পের বেশি ক্ষতি করে।

   2) প্লেট সঞ্চালন ও 3) প্লেট ভেঙে যাওয়া:- ভূগর্ভ প্লেটের কারণে দুভাগে ভূমিকম্প হয়। কিভাবে হয়, তার উত্তর কোরান ও বিজ্ঞান থেকে নিচের লিঙ্কে দেওয়া রয়েছে। চাইলে লিঙ্কে প্রবেশ করতে পারেন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=739788279739505&id=544853392566329

   আশা করছি, এ পযর্ন্ত বোঝাতে পারলাম। এবার কিছু জ্ঞান বর্ধক আলোচনা করি। যদিও লিখতে ভাল লাগছিল না। কিন্তু কিন্তু কিছুক্ষণ ফোন করেছিলাম তাকে, সে কারণে মনটা ভালো হয়েছে। তাই, চলুন-

   1) সারা বছরে গোটা পৃথিবীতে প্রায় 6 হাজার বা তার বেশি ভূমিকম্প হয়।

   2) ভূমিকম্প মাপার সবচেয়ে ভালো উপায় রিখটার স্কেল। রিখটার স্কেলে 10 পয়েন্ট পযর্ন্ত আছে। এর 1 পয়েন্ট ওঠা মানে ক্ষতির পরিমাণ 10-32 গুণ পযর্ন্ত বাড়তে পারে।

   3) রিখটার স্কেলে 5-5.99 পর্যন্ত ভূমিকম্পকে মৃদু ধরা হয়। আর 6-6.99 কে মাঝারি ধরা হয়। আর 7-7.99 কে তীব্র ভূমিকম্প বলা হয়। আর 7.99 এর বেশি মাত্রাকে ভয়াবহ ভূমিকম্প বলা হয়।

   4) যদি কখনও 10 মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে হয়।

   5) ভূমিকম্পের 3 ধরনের গভীরতা হয়। যেমন ভূগর্ভে 70 কিমি পর্যন্ত উৎসকে বলা হয়- অগভীর উৎস। আর 70-300 কিমিকে বলা হয়- মাঝারি উৎসের ভূমিকম্প। আর 300 কিমির বেশি হলে, তাকে গভীর উৎসের ভূমি কম্প বলে।

   এছাড়াও নবী (স) বলেছেন-"কিয়ামতের অন‍্যতম লক্ষণ হল বড় বড় ভূমিকম্প হবে"।

   আশা করছি, এবার পুরোটা বোঝাতে পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                     @লেখক: হোসেন কুরানী।

আল্লাহর কুরশি, বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ব‍্যাখ‍্যা


 @আল্লাহর কুরশি, বিজ্ঞানের  দৃষ্টিকোণ থেকে ব‍্যাখ‍্যা@

   Facebook এর   একজন    মহিলা   আয়েশা  জাহান Massenger  এ  প্রশ্ন  করে  বলেছেন-"Sir, I  have  no words to praise you. আমি  শব্দহীন হয়ে গেছি, এটা ভেবে- একজন Arts বিভাগে  মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়া  কোনও  মানুষ  কিভাবে  বিজ্ঞানের   এত   নিক্ষুত বিষয়   গুলো   জানেন?? I  mean  sir,  How  is  this possible?? আমি   ভেবে  পাচ্ছি  না!! অনেকেই  বলে- মুজেজা  আগে  হত, এখন  আর  হয় না কিন্তু যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে ধারণা বদলে যেত এবং  তারাও বলত- Sir, you are sign of allah.

   স‍্যার, জানি- আপনি   ঐ   মহিলাকে  এখনও  অনেক ভালবাসেন কিন্তু যে আপনাকে এভাবে প্রতারিত করল, কেন আপনি তাকে আপনার মূল্যবান লেখার মধ্যে স্থান দিচ্ছেন?? আপনি যত ঐ মহিলার বিষয়ে ভাববেন, তত আপনার কষ্ট  হবে  কিন্তু Fraud মহিলা  হয়ত  খুশিতেই আছে!! স‍্যার, আপনি  কেন  বুঝতে  পারছেন না যে, ঐ Fraud মহিলা  আপনার যোগ্য  ছিল না!! ঐ মহিলা তো দূরের কথা, 'আপনার কুন ফা-ইয়াকুন, আল্লাহর অস্তিত্ব ও বিজ্ঞান' লেখাটি  আমার  এক  বান্ধবী‌কে  পাঠালাম। সে  Physics  নিয়ে   অনেক   পড়া-শোনা   করেছে, সে আপনার  লেখাটা  পড়ে  মন্তব্য  করেছে- জীবনে  এমন লেখা  প্রথম   পড়লাম!! বিজ্ঞানের   সাহায্যে   আল্লাহর অস্তিত্বের  প্রমাণ, এটা  সম্ভব   বলে   কখনও   ভাবতেও পারি নি  এবং  কোরান  এত বিজ্ঞানসম্মত, এই লেখাটা না পড়লে কখনও জানতেও পারতাম না!!

   স‍্যার, যখন   আমার   বান্ধবীকে   বলেছি- যিনি   এটা লিখেছেন, তিনি   Arts   বিভাগে   মাত্র   উচ্চ  মাধ্যমিক পর্যন্ত   পড়া-শোনা   করেছেন!! তখন   আমার   বান্ধবী বলছে- তুই  মিথ্যা  বলছিস, এটা  কখনও সম্ভব নয় যে, এই  লেখক  মাত্র   উচ্চ   মাধ্যমিক   পর্যন্ত   পড়া-শোনা করেছে, তাও  আবার  Arts  বিভাগে!! তাকে  আপনার 'আল্লাহ কোথায় আছে' লেখাটা পাঠিয়েছি, ক‌ই এখনও কিছু বলে নি। স‍্যার, আপনি ঐ মহিলার কথা চিন্তা করা ছেড়ে দিন, আপনি অসাধারণ মানুষ, আল্লাহ ভাল কিছু রেখেছেন আপনার জন্য, যে আপনাকে এত ভালবাসবে যে, আপনি সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাবেন!!

   কখনও  কোনও পুরুষ‌কে  কাঁদতে দেখি নি, প্রথমবার আপনাকে দেখলাম, সত‍্যিই আপনি বাচ্চা ছেলের মতো কাঁদেন!! কেন এত কাঁদেন?? চোখের পানির মূল্য সবাই দিতে পারে না স‍্যার, ঐ Fraud মহিলা তো কখনও দেবে না!! কিন্তু আপনার কান্না শুনে  চোখে পানি ধরে রাখতে পারি নি এবং তখন  মনে-মনে ভাবছিলাম- ভাগ‍্যবতী ঐ মহিলা, যার জন্য আমার গর্বের মানুষটা কাঁদছে!!

   আপনি কাঁদবেন না, আমি  আপনাকে এভাবে দেখতে পারব  না, আমি চাই- আমি  সর্বদা খুশিতে  থাকুন এবং দ্বীনের অনেক জন্য বড় কিছু করুন‌। এবার আমার প্রশ্ন টা  করি, প্রশ্ন   হল- আল্লাহর  কুরশি  কি, কেমন?? এই সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক চাই"।

   সর্বপ্রথম গত লেখা অর্থাৎ 'কুন ফা-ইয়াকুন, আল্লাহর অস্তিত্ব ও বিজ্ঞান' লেখার লিঙ্কটা উপস্থিত করি, তাহলে পাঠকরা উপকৃত হবে হয়ত---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=990830524635278&id=544853392566329

   আর যদি  আল্লাহ  কোথায়  আছে, জানতে  চান এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা চান, তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=699366997114967&id=544853392566329

   আসলে কি জানেন তো, আমি  হানীর ব‍্যাপারে কিছুই লিখতে চাই না  কিন্তু  হাতকে আঁটকাতে পারি না!! তার ব‍্যাপারে ভাবতেও চাই না কিন্তু  মনকে বোঝাতেও পারি না!! তার  জন্য  কাঁদতেও  চাই না  কিন্তু  চোখের  উপর নিয়ন্ত্রণ  করতে পারি না!! আসলে, আমি  হানীর বিষয়ে ভাবতাম এমন-


तुम आ गए हो, नूर आ गया है

नहीं तो चरागों से लौ जा रही थी


जीने की तुमसे वजह मिल गयी है

बड़ी बेवजह जिन्दगी जा रही थी

तुम आ गए हो, नूर आ गया है


জানেন, গত  বছর  এই  শীতে  হানীর Aunty  কলকাতা Medical  college  and  hospital  এ  ভর্তি ছিল এবং হানী  তার Aunty র  কাছে  রাত   ছিল!! হানী  সাধারণ শীতের কাপড় পরে  ছিল  এবং  হানীকে শীত লাগছিল, ঐ জন্য  আমি বাড়িতে  সারা রাত  খালি  গায়ে  ছিলাম এবং ঐ জন্য সারা রাত ঘুমাতে পারি নি, শুধু সারা রাত ঠান্ডায়  কেঁপেছি!! কিন্তু  তখন  আমার  কি মনে হচ্ছিল জানেন?? মনে  হচ্ছিল- আমি  যেন হানীর সঙ্গে আছি!!আমি কত  বড় পাগল  ছিলাম, তাই  না?? জানেন, হানী  আমাকে    কি   বলত?? বলত- কেন   এত   ভালবাসেন  আমাকে?? হ‍্যাঁ হানীজি, সত‍্যিই অনেক বড় ভুল করেছি আপনাকে  ভালবেসে, ঐ জন্য  সেই ভুলের শাস্তি পাচ্ছি এবং মাশুল গুণছে আমার দু-চোখ!!

   যাইহোক, এবার  মনে হয়  উচিৎ হবে  প্রশ্নের উত্তরে‌র দিকে এগিয়ে যাওয়া। তাই  না?? হ‍্যাঁ চলুন!! জানেন কি আমার যখন জ্ঞান হয় নি, তখন  আমি  কি  ভাবতাম?? আমি ভাবতাম- কুরশি মানে তো Chair. সুতরাং আল্লাহ হয়ত   কোনও   Chair  এ  বসে  থাকেন, যেমন  আমরা chair এ বসে থাকি!! তাহলে  হয়ত  আল্লাহ আমাদেরই মতো হবে!! আপনিও হয়ত  হয়ত ছোট বেলায় এ রকম ভেবেছেন, তাই  না?? এখানেই শেষ নয়, তখন শিশু মন এও  ভাবত- আল্লাহ  যদি  আমাদের  কুটুম  বা আত্মীয় হত, তবে আমার/ আমাদের  সব  কথা  শুনত  এবং  যা বলতাম, তাই হত!!

   যাইহোক, এ সব তো শিশু মনের খেয়ালী চিন্তা!! সুধী পাঠক  চলুন, দেখে  নিই  আল্লাহর  Chair টা কেমন। এ বিষয়ে আল্লাহ নিজেই বলেছেন এভাবে-

وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ

অনুবাদ হবে এমন-"তার  কুরশি (Chair) মহাবিশ্ব সমূহে বিস্তৃত"(2:255)। কিন্তু   এ   আবার   কেমন  Chair  যে, মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে রয়েছে!! আর  মহাবিশ্ব সমূহ  জুড়ে থাকলেও, তা   দেখা  যায়  না  কেন?? তাহলে  কোথায় আল্লাহর সেই Chair?? এ বিষয়ে এক নাস্তিককে বলতে শুনেছিলাম, তিনি   বলেছিলেন- সেই   যুগের   মানুষ‌কে নবী  মহাম্মদ (স) এই ধরণের মিথ্যা বলে বোকা বানিয়ে ছিল  কিন্তু  আজকে‌র যুগে আর কাউকে বোকা বানিয়ে রাখা  যাবে  না!! সুতরাং কোরান  যে মিথ্যা, তার প্রমাণ হল- আল্লাহর কুরশি!! যদি  আল্লাহর  কুরশি বলে কিছু থাকত, তবে তা অবশ্যই দেখা যেত!!

   সত‍্যিই   কি   আল্লাহর   কুরশি   নেই?? জানেন, প্রথম যখন  আমি আয়াত- উল- কুরশি অর্থাৎ 2:255 আয়াত পড়ি, তখন  আমারও  মনে  হয়েছিল- কোথায় আল্লাহর সেই কুরশি, যা মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে  আছে!! কিন্তু যখন জ্ঞান হল এবং বিজ্ঞান জানলাম-বুঝলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, আল্লাহ বলেছেন-      تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ

অনুবাদ     হবে     এমন-"এগুলো     বিজ্ঞানময়    গ্ৰন্থের আয়াত"(31:2, 36:2)। এখন  প্রশ্ন  হবে- 2:255 আয়াত যদি বিজ্ঞানময় গ্ৰন্থের আয়াত হয়, তাহলে অবৈজ্ঞানিক মনে হচ্ছে কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর হল- 2:255 আয়াত‌ও বৈজ্ঞানিক   আয়াত  কিন্তু  বিজ্ঞান  না  বোঝার  কারণে অবৈজ্ঞানিক  মনে  হচ্ছে!! কিন্তু কিভাবে?? আমি তখন ভাবতে  শুরু  করলাম  যে, কি এমন বস্তু আছে মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে??

   আমি  যখন  বিজ্ঞান বুঝলাম, তখন জানলাম- কুরশি আর  অন্য  কিছু   নয়, আল্লাহর   কুরশি   হল- Gravity অর্থাৎ   Gravitational   force   বা   মধ‍্যকর্ষণ  শক্তি!! মধ‍্যকর্ষণ শক্তিই সেই আল্লাহর কুরশি, যা মহাবিশ্ব সমূহ জুড়ে রয়েছে!! আর মধ‍্যকর্ষণ শক্তির সাহায্যে‌ই আল্লাহ নিয়ন্ত্রণ করেন মহাবিশ্ব সমূহ এবং  এ কাজ করতে তার একটুও সময় লাগে  না, এভাবেই  তিনি  নিয়ন্ত্রণ  করেন তার সৃষ্টি সমূহকে!! এ বিষয়ে তিনি বলেছেন-

كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ

অনুবাদ হবে এমন-"প্রতিক্ষণ  তিনি  সৃষ্টির  নিয়ন্ত্রণে  সু-প্রতিষ্ঠিত"(55:29)। সুধী  পাঠক, যদি   জানতে চান  যে কোরানে  কিভাবে  ও  কোথায়  মধ‍্যকর্ষণ শক্তির উল্লেখ আছে, তাহলে    নিচের   লিঙ্কে   ক্লিক   করতে   পারেন। জানেন, আমার 'মধ‍্যকর্ষণ শক্তি' বিষয়ে লেখাটিতে হানী Comment করেছিল  এভাবে- Just  awesome. কিন্তু আজ  আমি  হানীর  কাছে  তুচ্ছ!! একটা  কবিতা  মনে পড়ছে, আমার‌‌ই পরিস্থিতিতে, আমার‌‌ই তৈরী, শুনুন-


কখনও ছিলাম আমি তার কাছে সোনা

আজ আমি তার কাছে প্রসাবের ফেনা।

না আজ উত্তম, আর না আমি ভাল

দিয়ে ছিল হাজার প্রতিশ্রুতি, সব‌ই বৃথা

কেননা, আমার গায়ের রঙ কালো!!


ফালতু  কবিতা, তাই  না?? পড়তে  হবে  না, বাদ  দিন!! আপনি নিচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=761335144251485&id=544853392566329

   Big bang থেকে মহাবিশ্ব গতি প্রাপ্ত হয় তথা মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত    হয়,  আজও    চলছে    সম্প্রসারণ, হয়ত আগামীতেও  চলবে সম্প্রসারণ কিন্তু কোনও এক সময় বন্ধ হবে সম্প্রসারণ!! যেমন- আমরা  পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে মহাশূন্যে  ইট  ছুঁড়লে গতি তাড়তার জন্য ইট মহাশূন্যে‌র দিকে  যেতে  থাকে  কিন্তু  একটা   সময়   গতির   উপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বল  বিজয় লাভ করে  এবং  ইট গতি শূন্য  হয়, তারপর  ইট  নিচে নেমে আসতে থাকে!! ঠিক তেমনই মধ‍্যকর্ষণ বলের  প্রভাবে  কোনও  একদিন  মহা বিশ্বের   সম্প্রসারণ   বন্ধ  হবে, মহাবিশ্ব  গতি  শূন্য  হবে এবং শুরু হবে সংকোচন!!

   তারপর যেভাবে  মহাবিশ্ব বিন্দু থেকে সিন্ধুতে পরিণত হয়েছিল, সেভাবেই   আবার  সিন্ধু  থেকে  পরিণত  হবে বিন্দুতে। অর্থাৎ  যাকে  আমরা  বিজ্ঞানের  ভাষায় বলি- Big crunch. তারপর কি?? তারপর আবার Big bang এর  মতো  আরও  একটা  বিস্ফোরণ, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন Big bang-2, অর্থাৎ দ্বিতীয় Big bang.

   এখন প্রশ্ন হবে- এগুলো গল্প, না কি কোরান সম্মত?? এ  প্রশ্নের  উত্তর  আমি  না  দিয়ে  কোরানে  আল্লাহ  কি বলেছেন, তা দেখাতে চাই। দেখুন-

يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ

অনুবাদ হবে এমন-"সেদিন    মহাবিশ্বকে    আমি   এমন ভাবে  গুটিয়ে  ফেলব, যেমন  গুটিয়ে  ফেলা হয় লিখিত কোনও  কাগজ [অর্থাৎ  Big  crunch], যেভাবে   আমি প্রথমে  সৃষ্টির   সূচনা   করে   ছিলাম  [Big   bang   এর মাধ্যমে], ঠিক  তেমনিভাবে আবার তার পুনরাবৃত্তি [Big bang-2] করব"(21:107)।

   যদি আল্লাহ তার কুরশি বা মধ‍্যকর্ষণ না সৃষ্টি করতেন, তাহলে কি হত?? এ  প্রশ্নের  উত্তর  হল- মহাবিশ্ব‌ও সৃষ্টি হত  না  অর্থাৎ  Big  bang  হত  না!! কারণ, Big bang ঘটার  জন্য  মধ‍্যকর্ষণ  শক্তির  প্রয়োজন  ছিল, তারপর কণা সৃষ্টির  জন‍্যেও  প্রয়োজন  ছিল  মধ‍্যকর্ষণ  শক্তির। আল্লাহ  তার কুরশি  সৃষ্টি না করলে, মহাবিশ্ব সৃষ্টিও হত না!! অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের   মতে- মহাবিশ্ব  সৃষ্টি  হয়েছিল Space and time এর কলা কৌশলে কিন্তু  বিচার করে দেখলে   Space   and   time   এর   চেয়ে  Time  and gravity মডেল বেশি গুরুত্বপূর্ণ  এবং  কার্যকরী। অর্থাৎ মহাবিশ্ব  সৃষ্টিই  হয়েছিল- Time and gravity এর কলা কৌশলে। এখানে Time আল্লাহ নিজেই ও Gravity হল- আল্লাহর কুরশি। যদি 'আল্লাহ ও সময়' বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=988041798247484&id=544853392566329

   একটা  প্রশ্ন  হতে  পারে- Hawking   radiation  ঘটে মহাবিশ্ব তার সমস্ত শক্তি নিঃশেষ করে ফেলার পর, এই   মধ‍্যকর্ষণ শক্তির কি হবে?? সহজ উত্তর- সৃষ্টি নেই, সৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের জন্য কুরশি‌র‌ও প্রয়োজন নেই!!

   সুধী পাঠক, Hawking radiation ও সমস্ত  সৃষ্টির লয় প্রাপ্ত  সম্পর্কে  বিস্তারিত  তথ্য পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। এখানে অবাক হ‌ওয়ার মতো কিছু তথ্য অপেক্ষা করছে আপনার জন্য---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=962223637495967&id=544853392566329

   আরও  একটা  গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন- সমস্ত সৃষ্টির লয় প্রাপ্ত হ‌ওয়ার পর আল্লাহ কি করবেন?? অর্থাৎ জান্নাত এবং জাহান্নাম‌ও  যখন  ধ্বংস  হয়ে  যাবে, তখন  আল্লাহ  কি করবেন??

   গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, তাই না?? উত্তরে পরে  আসছি, এবার একটু  আমার  দুঃখের  কাহিনী  শুনুন!! আমার দুঃখের কথা  শোনার  মতো  কেউ  নেই, এমন  কেউ নেই, যাকে মন খুলে সব কথা  শোনাতে  পারি!! কেউ  নেই  এমন!! হানীকে  পেয়ে  ভেবেছিলাম- বর্তমান  পৃথিবীতে আমার 'মা' নেই, হানীই  আমাকে  সবচেয়ে  বেশি  বোঝে   এবং ভবিষ্যতে‌ও  বুঝবে!! এ  জন্য  নিজের  A to Z  হানীকে শোনাতাম, কিছুই   লুকাইনি, কোনও   মিথ্যা   বলি  নি। আমার  খারাপ-ভাল সব  কিছু হানীকে শোনাতাম। যদি কোনও    জায়গায়     সম্মান     পেতাম, তাও    হানীকে শোনাতাম  এবং  কখনও  কোথাও থেকে অপমান হলে, তাও হানীকে শোনাতাম!! শুনেছি প্রতিটা মানুষের কিছু না কিছু গোপন কথা থাকে, যা সে কখনও কাউকে বলে না, এমনকি  স্ত্রীকে‌ও  না!! কিন্তু  আমি  হানীকে কোনও কিছু  গোপন  করি নি, আমার  জীবনের  এমন  কোনও সত্য  নেই, যা  হানী  জানে  না!! প্রায় 70 দিন হল হানীর সঙ্গে কোনও  যোগাযোগ নেই, অনেক কথা জমে গেছে, বুক ভর্তি হয়ে গেছে  কিন্তু  হানীকে  শোনাতে পারি নি!! এ জন্য আপনারাই শুনুন-

   হানীকে  বলতাম- হানী'জি  আমার  যখন  মন খারাপ হবে, তখন  আপনি  কি  করবেন?? হানী   বলত- সাহস দেব এবং  বোঝাব  আপনাকে। তারপর হানী মজা করে বলত- যদি না বোঝেন, তাহলে  খুব  পিটব আপনাকে!! আমি  তখন- হেঁসে ফেলতাম। আচ্ছা জানেন, আমি তো সারাদিন ঘরের ভিতরে থাকি  এবং খুব কম বের হ‌ই, ঐ হানীকে কি বলত?? Call  করে বলত- কি Madam, কি করছেন, কেমন  আছেন?? আমিও  মজা  করে হানীকে Sir  বলতাম!! ভাবতাম, আমরা   সারাজীবন   এভাবেই হাঁসি-মজা  করতে  থাকব। কে জানত, কখনও এই দিন আমাকে   দেখতে     হবে!! কে   জানত, হানী   আমাকে গায়ের রঙের জন্য  ছেড়ে  দিয়ে  তার  ফর্সা Boyfriend কে গ্ৰহণ করবে!! কে জানত?? কে জানত?? আমি তো কল্পনাও করতে পারি কখনও!!

   জানেন, আমার  এক  ভক্ত সৌদি আরবে কাজ করে। সে  হানীর  ব‍্যাপারে  জানত। যেমন- আপনারা  জানেন। সেও  আমার  লেখার  নিয়মিত   পাঠক, ভারতে   ফিরে এসেছে   21.12.19   তারিখে। সৌদি   থেকে   আমাকে মাঝে-মধ্যে  Call  করত, শীত  শুরু  হ‌ওয়ার  আগে  সে আমাকে  Call  করে  বলেছিল- স‍্যার, আমি  আপনাকে কিছু  Gift  করতে   চাই, আপনি   নেবেন   তো?? তাকে বলেছিলাম- কি Gift  করতে চান, আগে  বলুন, তারপর বলছি। সে    বলল- আপনার    দু-বোনের    জন্য   এবং আপনার  হানীর  জন্য  সৌদি আরবের বিখ্যাত চামড়ার 'হাত ও পা' মোজা নিয়ে যেতে চাই  এবং  আপনার জন্য একটা  ছোট  রুপায়  মোড়া  কোরান  নিয়ে যেতে চাই!! তাকে  বললাম- রুপার কোরান আনতে হবে না, তবে ঐ গুলো  নিয়ে  আসুন। সে  বাড়িতে   ফিরেই 22.12.19 এ আমার  কাছে   এসেছে। এসেই   বলল- স‍্যার, হানীজির বিষয়ে সব‌ই  তো  জানি, সে আপনার জীবনে আর নেই, সে  প্রতারণা  করে  চলে  গেছে। হানীর   বিষয়ে   বলতে বলতে   আমি  কেঁদে  ফেলি, আমার  কান্না  দেখে  সেও কেঁদে ফেলে!! পরে  তাকে  আমি খেয়ে যেতে বলি কিন্তু সে খেল না এবং যাওয়ার সময় বলে গেল- ভেবেছিলাম হোসেন কুরানী হয়ত খুব শক্ত মনের মানুষ হবে কিন্তু সে যে বাচ্ছদের মতো কাঁদে, এটা  কখনও ভাবি নি!! স‍্যার, কাঁদবেন  না। আপনি যার জন্য কাঁদছেন, সে হয়ত অন্য জনের সঙ্গে  হাঁসছে!! যাইহোক, আমি 2 টো 'হাত ও পা মোজা' নিয়ে 1 টা তার হাতেই ফিরিয়ে  দিই। কে  পরবে তাকে?? হানী  তো  আর  নেই!! আরে  হ‍্যাঁ, সেই  ভায়ের বাড়ি- পান্ডুয়াতে, বাইক নিয়ে এসেছিল। নিজের বিষয়ে বলতে বলতে তার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম!!

   সুধী পাঠক, এবার  লেখা  শেষ  করতে চাই। সব কিছু যখন একেবারে  নিঃশেষ  হয়ে  যাবে, তখন  আল্লাহ  কি করবেন?? চলুন, আল্লাহ   কি   এ  বিষয়ে  কোরানে  কি বলেছেন দেখি- هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ  অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই আদি তিনি অন্ত  ও  তিনিই প্রকাশিত তিনিই গুপ্ত"(57:3)। অর্থাৎ  তিনি  আদি, তারপর  তিনি সময়  হিসাবে  নিজেকে  প্রকাশ  করেন  এবং   মহাবিশ্ব সমূহ সৃষ্টি  করেন। মহাবিশ্ব  সমূহ  অর্থাৎ  জান্নাত  এবং জাহান্নাম    পুরো-পুরি    ধ্বংস    হ‌ওয়ার    পর    অর্থাৎ Hawking radiation  এর  মাধ্যমে  পুরো-পুরি  নিঃশেষ হ‌ওয়ার  পর আল্লাহ হবেন অন্ত এবং তিনি গুপ্ত ছিলেন, আবার গুপ্তে স্থান নেবেন!! বুঝলেন??

   আশা করছি, বোঝাতে  পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন   প্রশ্ন  থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                   © : লেখক, হোসেন কুরানী।

বিশ্ব অর্থনীতি‌তে সুদ ও কুরানী বিশ্লেষণ, পর্ব-2

বিশ্ব  অর্থনীতি‌তে  সুদ  ও  কুরানী  বিশ্লেষণ, পর্ব-2

  শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড- এ কথা শুনেছেন নিশ্চয়?? আর এ কথা অহ-রহ শোনা যায়, তাই না?? এক‌ই অর্থ যুক্ত আরও একটি অপ্রচলিত কথা হল- শিক্ষা জাতির উন্নয়নের চক্র/ চাকা!!

কথা গুলো শুনতে খুব ভাল লাগে, তাই না?? আর ভাল লাগার‌‌ই কথা, তাই না?? এছাড়াও এই কথা গুলো দ্বারা শিক্ষার গুরুত্ব‌ও ফুটে ওঠে, তাই না?? পবিত্র কোরান‌ও আজ হতে 1500 বছর বা 4730, 40, 000, 00 s পূর্বে কথা গুলোর মর্মার্থ এই বলে প্রকাশ করেছে যে- اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ অনুবাদ হবে এমন-"পড়‌ও, তোমার প্রভুর নামে। যিনি সৃষ্টি করেছেন"(96:1)। এই আয়াতের পেক্ষিতে মানবতার মুক্তিদূত বিশ্বনাবী (সা) বললেন- طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ অনুবাদ হবে এমন-"জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফারাদ [Compulsory] করা হয়েছে"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুল ইলম, হাদীস 224)।
শিক্ষা/ জ্ঞান অর্জন হয় পড়া-শোনা থেকে [যদিও ব্যতিক্রম নাবী (সা)], তাই না?? আর পড়া-শোনা করার জন্য প্রয়োজন হয় টাকার/ অর্থের, তাই না?? তাই শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলে/ শিক্ষা উন্নয়নের চাকা হলে, অর্থ জাতির কোমর/ অর্থ উন্নয়নের (Engine) ইঞ্জিন!!
এ জন্য ''এত শিক্ষার প্রচার করা'' সত্ত্বেও সমাজে তার প্রভাব পড়ে না কিন্তু এই ছোট্ট/ সুন্দর তথ্য‌টি সম্মানিত হারামখোরদের মাথায় 1500 বছর বা 4730, 40, 000, 00 s পর‌ও এল না!! যার ফল হল- যে মুসলিম জাতির মাথায় মুকুট ছিল, আজ পায়ে জুতাও নেই এবং যে মুসলিম জাতির ঘরে-ঘরে বিজ্ঞানীর জন্ম হতো, সেই মুসলিম জাতির 60% চতুর্থ শ্রেণীর গন্ডি অতিক্রম করে নি এবং 30% Signature করা‌ও জানে না!!
সুধী পাঠক, আপনি কি বুঝতে পারছেন- গত 1500 বছরে সম্মানিত হারামখোরগণ আপনার কতটা ক্ষতি করেছে?? পাঠক, আরও কিছু বলব, শুনবেন?? দেখুন তাহলে- ভারতে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন Fixed salary'র সরকারিতে মুসলিম 1% এর একটু বেশি এবং বেসরকারি চাকরি‌তে 2% অথচ ভারতে মুসলিম 15% (Census, 2011)। সুধী পাঠক, এর চেয়ে বেশি ও বড় ক্ষতি হতে পারে??
আর যদি ব্যাবসার কথা বলি, তাহলে ভারতে মুসলিম দের অবস্থা আরও খারাপ!! কেননা, ভারতে ₹ 1 কোটি টাকা মূলধন যুক্ত মুসলিম‌ ব্যাবসায়ী .25% (₹ 1 কোটি টাকা মূলধন যুক্ত ব্যাবসায়ীর মধ্যে প্রতি 400 জনে 1 জন)।
এখানে অবাক 'হওয়ার ও দুঃখ পাওয়ার' মতো তথ্য হল- মাত্র 300 বছর আগে এই মুসলিম জাতি‌'ই ব্যাবসা দ্বারা ভারতবর্ষকে সমৃদ্ধ করে সোনার পাখিতে পরিণত করেছিলেন এবং তখন পৃথিবীর মোট G D P'র 25% ভারতের হতো অথচ আজ এই ভারতের মুসলিম‌দেরকে Detention camp এ বন্দি করার পরিকল্পনা চলছে!! পাঠক, এর চেয়ে বেশি ও বড় ক্ষতি হতে পারে??
আপনি কি বুঝতে পারছেন- সম্মানিত হারামখোরগণ আপনার কতটা ক্ষতি করেছে?? কিন্তু আল্লাহ তার দয়া দ্বারা হোসেন কুরানী‌কে ₹ 4.3 কোটি টাকা মূলধন যুক্ত ব্যাবসা দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী 10 বছরে হোসেন কুরানী ভারতের 100 জন সেরা ধনীদের মধ্যে গণ্য হবেন, 30 বছরে 20 জনের মধ্যে এবং 50 বছরে 1 নং হবেন!!
সুধী পাঠক, প্রায় প্রতি লেখায় 2 জন পাঠকের মন্তব্য তুলে ধরি কিন্তু আজ 3 জন পাঠকের মন্তব্য তুলে নিয়ে আসব, যাতে আপনি আমাকে/ আমার লেখা গুলোকে মূল্যায়ন করতে পারেন!! দেখুন- ১) কুরানী ভাই, আমি আপনার সবচেয়ে বড় ভক্তদের অন্যতম এবং আপনার সমস্ত কথার সঙ্গেই একমত পোষণ করি/ করতেই হয়। কারণ, আপনার দলিল-প্রমাণ ও যুক্তির সামনে কেউই দাঁড়াতে পারবে না কিন্তু আমার মনে হয় আলিমদেরকে এভাবে 'সম্মানিত হারামখোর' বলাটা মনে হয় উচিৎ হচ্ছে না। বিষয়টি বিচার করবেন!!
আর- ২) এতদিন কোরান-হাদীসের অপব্যাখ্যা করে করে হয় নি, এবার সুদকে‌ও হালাল প্রমাণ করে ছাড়ল হোসেন কুরানী খা★কির ছেলে!! কুত্তা কুরানী, তোকে যদি তোর 'মায়ের ভোগে' না পাঠাই, তাহলে আমি 2 বাপের জন্ম!! তোর মাকে চু★ব শালা খা★কির ছেলে। তুই নাকি দুনিয়া বদলাবি?? দুনিয়া‌তে থাকলে তবে তো দুনিয়া বদলাবি!! তোর মা‌ওত আমার হাতেই লেখা আছে, এটা মনে রাখিস কুত্তা কুরানী!!
আর- ৩) Sir, কোন বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ আপনাকে দেয় নি?? Sir, আল্লাহ কিভাবে একটা মানুষ‌কে এত জ্ঞান দিতে পারেন!! জানেন Sir, আমার খুব ইচ্ছা হতো যে- যদি আমিও হোসেন কুরানীর মতো হব কিন্তু আমি ভুল ভাবতাম। হোসেন কুরানী হ‌ওয়া যায় না, হোসেন কুরানী জন্মায় এবং পৃথিবী বদলে দেয়!!
Sir, আমার শুধু এখন একটাই ইচ্ছা যে- আপনার উস্তাদ ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মার্তুজা সাহেবের মুখ থেকে আপনার প্রশংসা শুনব!! আমি মনে করি যে, আপনার জন্য তিনি গর্বিত হবেন। কারণ, আপনি তার ছাত্র, এটা সত্যিই অনেক গর্বের বিষয়। হোসেন কুরানী কে ছাত্র হিসাবে পাওয়ার সৌভাগ্য কি সবার হয়??
সুধী পাঠক, আলোচনা-সমালোচনা, গালাগালি এবং প্রশংসা সব‌ই তো হল!! এবার গত পর্বের ছেড়ে আসা Insurance প্রসঙ্গে ফিরে আসতে চাইছি, আপনি কি তা'ই চাইছেন?? তবে 3 জন পাঠকের মধ্যে 1'ম জনের মন্তব্যের ছোট্ট মতো উত্তর দিতে চাই এবং তা হল- ভাই, এই লেখাটা শেষ পর্যন্ত পড়ুন, তাহলে বুঝতে পারবেন হয়ত যে, কেন আমি আলিমদের‌কে "সম্মানিত হারাম খোর" বলি!!
তবে শুধুমাত্র এতটুকু মনে রাখবেন- এই সম্মানিত হারামখোরগণ পৃথিবীতে ও পরকালে আপনার ধ্বংসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, আপনি এখন শুধু ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছেন আপনার অজান্তেই!! যেদিন আপনি এগুলো উপলব্ধি করতে পারবেন, আলিমদেরকে মহা সম্মানিত হারামখোর বলেই থামবেন না বরং তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবেন এবং সেই শান্তি তাদের জন্য ছোট হয়ে যাবে, তাদের অপরাধের তুলনায়!!
সুধী পাঠক, গত পর্বটি যদি না পড়েন, তাহলে এই পর্বটি কখনও পুরো-পুরি বুঝতে সক্ষম হবে‌ন না, তাই নিচের Link এ Click করে গত পর্বটি পড়ুন---
চলুন, এবার Insurance সম্পর্কে কথা বলি, না কি?? গত পর্বে দেখিয়ে‌ছিলাম- অনিচ্ছা‌কৃত হত্যা‌র দিয়াত বা রক্তমূল্য হল যে, 100 টি ভিন্ন-ভিন্ন ধরণের উট। তাই না?? হাদীস‌টি দেখবেন?? আচ্ছা দেখে নিন, বুঝতে সুবিধা হবে। নিন-
"আবদুল্লাহ ইবনু উমার [রা] থেকে বর্ণিত। নাবী [সা] বলেছেন- ভুলবশত হত্যা [কাতিলুল খাতা] হল 'শিবহে আমদ' এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- চাবুক বা লাঠির আঘাতে মৃত্যু। এতে 100 উট [দিয়াত] দিতে হবে। তার মধ্যে 40 টি গর্ভবতী উট"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত দিয়াত, হাদীস 2627)।
এখন প্রশ্ন হল- যদি কাউকে অনিচ্ছা‌কৃত ভাবে Bike accident করে ফেলেন এবং তিনি নিহত হন, তাহলে কি 100 টি উট = 1.5 (দেড়) কোটি টাকা দিয়াত অর্থাৎ রক্তমূল্য/ ক্ষতিপূরণ দিতে পারবেন?? 100 টি উটের কথা বাদ দিন, আপনি ভিটে-মাটি বিক্রি করেও কি 50/ 25 টি উট দিতে পারবেন??
পারবেন না। তাই নিহতের পরিবার যেন সহজেই ঐ 100 উট সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পেয়ে যান, সেই সুন্দর ব্যবস্থা‌টিকে বলা হয়- Life insurance বা জীবন বীমা বা দিয়াত!! মাথায় ঢুকল?? শিক্ষা যদি হয় 400-500 বছর আগের পাঠ্যক্রম ওয়ালা মাদ্রাসায়/ কোনও সম্মানিত হারাম খোরের কাছে মগজ বিক্রি করে দিয়ে থাকেন এবং তাদের লেখা গাঁজাখুরি কাগজ মাথার খুলিতে বয়ে বেড়ান, তাহলে ঢুকবে না!!
কিন্তু তারপরও আমি আপনার মাথায় ঢোকানোর অপচেষ্টা করব- ইনশাআল্লাহ। যাতে বিচারের দিনে আমাকে দায়ী না করা হয়!! আপনি কি জানেন, এই Insurance system কিভাবে কাজ করে??
এ বিষয়ে পরে কথা বলছি, এখন একটা সুন্দর প্রশ্নের উত্তর দিই, তা হল- Insurance company'র agent হয়ে কাজ করে উপার্জন করা কি হালাল?? উত্তর খুবই সহজ- যদি Insurance system হালাল হয় (যদি‌ও কিছুক্ষণ পর‌ই হালাল প্রমাণ হবে- ইনশাআল্লাহ), তা হলে agent হয়ে কাজ করে উপার্জন করা‌ও হালাল হবে, তাই না?? এছাড়াও এটা এক ধরণের দালালি এবং প্রতারণা ছাড়া দালালি হালাল, তা আমরা গত পর্বেই দেখিয়েছি, তাই না??
এবার আপনাকে দেখাব যে, Insurance system কিভাবে কাজ করে। প্রথমে Insurance company গুলো agent এর মাধ্যমে আপনার থেকে টাকা তোলে এবং সেই টাকা বিভিন্ন Project এ Invest করে। তার পর Company নিজে লাভ/ মুনাফা অর্জন করে এবং আপনাকে দেয়!!
এবার ধরুন, আপনি 10 লক্ষ টাকা‌র Policy করেছেন এবং 20 বছর ধরে 10 লক্ষ টাকা Company কে দেবেন। আর আপনার এই Investment এর জন্য Company আপনাকে আপনার Investment পুরো করার 5 বছর পর আপনাকে 20 লক্ষ টাকা দেবে। এই তো System, না কি??
এটা তো Policy, এটা সম্পূর্ণ হালাল Investment ও profit. এবার প্রশ্ন হবে- Fixed deposit কি হালাল?? উত্তর সহজ- হালাল। কেননা, আপনি Bank এ Invest করে‌ন এবং Bank বিভিন্ন Project এ, তাই Fixed deposit এবং তার Profit সম্পূর্ণ হালাল। কেননা, তা Investment এর জন্য Profit. বলে রাখা মনে হয় উচিৎ হবে যে, Policy'র সঙ্গে‌ও Life insurance করে দেওয়া হয়, তবে সেক্ষেত্রে Amount খুবই কম হয়!! এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে রয়েছে।
প্রশ্ন হবে- Fixed deposit এ 8-10 বছরে Double হয় কিন্তু Policy তে 16-25 বছর সময় লাগে কেন?? উত্তর সহজ- Fixed deposit এ Company আপনার থেকে এককালীন টাকা পেয়ে যায় কিন্তু Policy'র ক্ষেত্রে তা হয় না, Policy'র ক্ষেত্রে Company'র টাকা পেতে সময় লেগে যায় অনেক বেশি, এ জন্য!!
প্রশ্ন হবে- হোসেন কুরানীর কাছে Fixed deposit করা যায় ও কত দিনে Double পাওয়া যাবে?? উত্তর সহজ- হোসেন কুরানী‌র ব্যাবসায় বহু পরিচিত ব্যাক্তিই Fixed deposit করেন এবং হোসেন কুরানী 7 বছরে Double দেন!!
পাঠক, এবার পূর্ব প্রসঙ্গে ফিরে আসতে চাইছি। যা কিছুক্ষণ আগে ছেড়ে দিয়েছিলাম। মনে আছে?? কি বলুন তো?? ঐ যে, অনিচ্ছা‌কৃত Bike accident এর নিহত ব্যাক্তির রক্তমূল্য!! মনে পড়েছে??
এও বলেছিলাম- বর্তমান পরিস্থিতি‌তে 100 টি উটকে দিয়াত হিসাবে দিতে পারবেন না, 100 টি উটের কথা বাদ দিন, আপনি ভিটে-মাটি বিক্রি করেও কি 50/ 25 টি উট‌ও দিতে পারবেন না!! কারণ, বর্তমানে আপনার হয়ত Bike থাকতে পারে কিন্তু আপনার মোট সম্পত্তি 25 টি উটের সমান বা 25-30 লক্ষ টাকাও নয়!! তাই নয় কি??
তাহলে যিনি আপনার অনিচ্ছাকৃত ভুলে‌র কারণে নিহত হলেন, তার পরিবারের কি হবে/ কি খাবে এবং কিভাবে জীবন যাপন করবে?? এ জন্যই Insurance system develop করা হয়েছে।
এটা কাজ করে এভাবে- Bike অর্থাৎ 2/ 4/ many wheeler এর Insurance করতে হয়। এই Insurance এর Yearly premium থাকে। তারপর যদি আপনার দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে নিহত হয়, তখন আপনার উপর Murder charge লাগান‌ও হবে না এবং আপনার দ্বারা নিহত ব্যাক্তি Insurance company থেকে রক্তমূল্য পাবে (যদি এই Insurance এর বিভিন্ন ব্যাবসায়ীক System থাকে)।
এখানেই শেষ নয়, এই Insurance নীতি এও বলা হয়- যদি আপনার দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনও ব্যাক্তি নিহত না হয়ে আহত হয়, সেই ক্ষেত্রে‌ও রক্তমূল্য পাওয়া যায়। আর হ্যাঁ, মনে হয় শুধু অনিচ্ছাকৃত নয় বরং ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা/ আহত করেন, তাও হত/ আহত ব্যাক্তি রক্তমূল্য পাবেন। তবে এটা Criminal offence নিঃসন্দেহে, এর শাস্তি আপনাকে পেতে হবে এবং পেতেই হবে!! যদি অনিচ্ছাকৃত হয়, সেক্ষেত্রে তা Criminal offence হবে না।
এটা একটা পদ্ধতি। অন্য পদ্ধতি হল- আপনি নিজেই নিজের Life insurance করে রাখুন। হ্যাঁ, এর জন্য আপনাকে নিদিষ্ট Premium দিতে হবে (Monthly/ quality/ half yearly/ yearly)। ফলত যদি আপনার Accident মৃত্যু হয়, তাহলে বিপুল পরিমাণ রক্তমূল্য পেতে পারেন। কয়েকটি Policy'র বিষয়ে জানি, যে খানে 25 লক্ষ থেকে 1 কোটি টাকা অথবা তার বেশিও দিয়াত পাওয়া যায়!!
তবে আমার জানা মতে ভারতের কোনও Insurance company'ই মনে হয় অঙ্গহানীর উকুল বা বিনিময় দেয় না (অন্যান্য দেশের ব্যাপারে জানি না)। হ্যাঁ, আহত হলে হয়ত Life insurance এর মাধ্যমে Mediclaim পাওয়া যায়। যদি Life insurance এর মাধ্যমে না'ও পাওয়া যায়, তাহলে Health insurance এর মাধ্যমে অবশ্যই Mediclaim পাওয়া যায়। তাই না??
এখন ভারত সরকার সহ গোটা পৃথিবীর সমস্ত দেশের সরকারের উচিৎ- অঙ্গহানীর জন্য শুধুমাত্র Mediclaim এর ব্যবস্থা না করে উকুল/ দিয়াত/ বিনিময়ের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা। কারণ, অঙ্গহানীতে একটা মানুষের জীবন তো নষ্ট হয়‌‌ই, তার পরিবারের‌ সবার জীবন‌ও নষ্ট হয়ে যায়!! তাই নয় কি?? এখন আপনি কি দেখতে চাইবেন যে, ইসলামের 1500 বছর পূর্বে‌র বিধান কতটা Advance, হয়ত অবাক হবেন-
"আব্দুল্লাহ ইবনু আবু বকর ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবন হাজাম [র] তাহার পিতা হাজাম [রা] হইতে বর্ণনা করেন যে, দিয়াতের ব্যাপারে রাসুল [সা] যে চিঠি তাকে লিখেছিলেন তাতে উল্লেখ ছিল- জীবনের দিয়াত বা রক্তমূল্য 100 উট। যখন পূর্ণ নাক কাটা যায় এবং স্থান টি সম্পূর্ণ সমান হয়ে যায়, তার দিয়াত 100 উট। যখন মাথার পিছে পর্যন্ত পৌঁছেছে, তার জন্য 3/100 দিয়াত, পেটের ক্ষতেও 3/100 ভাগ। চোখের দিয়াত পঞ্চাশ উট, হাত এবং পায়েরও পঞ্চাশ উট করিয়া দিয়াত। প্রতিটি অঙুলের দিয়াত 10 উট। প্রতিটি দাতের দিয়াত 5 উট। হাড় বাহির করিয়া দিয়াছে, এমন প্রতিটি একটা আঘাতের দিয়াত 5 উট"(মুয়াত্তা ইবনু মালিক, কিতাবুল উকুল, হাদীস 1598)। এখানেই শেষ নয়, সমস্ত বিষয়ে দিয়াত হয়।
প্রশ্ন হবে- এখন তো পশু/ ঘর-বাড়ি সহ সমস্ত কিছুর
Insurance হচ্ছে/ হয়, এগুলো হালাল?? উত্তর খুবই সহজ- Insurance হল দিয়াতের ছোট সংস্করণ। যে সব বিষয়ে দিয়াত হয়, তার Insurance'ও হালাল!!
আমার পাঠকদের জানাতে চাই যে, আমি আগামী 2021 এর May তে Mahendra scorpio নামক 4 wheeler নেব- ইনশাআল্লাহ। অনেক দিন ধরেই তার প্রয়োজনীয়‌তা অনুভব করছি কিন্তু নাবী (সা)- এর Style এ জীবন-যাপন করি, এ জন্য এতদিন নিচ্ছিলাম না কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে নিতেই হচ্ছে, নয়ত এতদিন Bike নিয়েই (তা'ও উপহার পাওয়া) চালাচ্ছিলাম!!
আর হ্যাঁ, Scorpio হবে- Grey (ধূসর) Colour এর। কারণ, সেই মহিলার খুব শখ ছিল 4 wheeler এর এবং এটাই ছিল 'তার ও আমার' পছন্দের রঙ। আর আমার বোনেদের‌ও এই রঙ‌ই পছন্দ। তাই দুয়া করুন, যেন আমাদের গাড়িতে কখনও কোনও Accident না হয়ে যায়। দুঃখের কথা হল- সেই মহিলার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার শখ ছিল, যা আর কখনও পূরণ হবে না!!
পাঠক, ছোট্ট একটা প্রশ্নের উত্তর দিন- Insurance হারাম কিভাবে হয়ে গেল?? এখানে তো মহাসম্মানিত হারাম‌খোরদের খুশি হ‌ওয়া উচিৎ যে, আমরা তো সারা জীবন হারাম খেয়ে জীবন কাটিয়ে দিলাম কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না, কেউ তো তবু দিয়াতের কাছা-কাছি কোনও System develop করেছে!!
কিন্তু এই সম্মানিত হারাম‌খোরদের তো লজ্জা বলে কিছু নেই, তারা তো তাদের লজ্জা-শরম বিক্রি করে খেয়ে ফেলেছেন!! তাই তাদের মুখ দিয়ে 'হারাম' ছাড়া আর কোনও কথাই বের হয় না, মুখ খুললেই শুধু হারাম হারাম হারাম এবং হারাম। আর এভাবেই মুসলিমদের কে পৌঁছে দিয়েছেন রসাতলে!!
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম থেকে মুহাম্মাদ সেখ হাদীদ ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- Qurani sir, আপনার এই লেখা (পর্ব- 1) এবং অন্যান্য লেখা গুলো একদিন মুসলিম সমাজে ও পৃথিবীতে বিপ্লব সৃষ্টি করবে- ইনশাআল্লাহ। হাদীসে পড়েছি- আল্লাহ প্রতি 100 বছর অন্তর-অন্তর একজন করে মুজাদ্দিদ পাঠান। আমার বিশ্বাস 1400 হিজরীর মুজাদ্দিদ হোসেন কুরানী!!
তবে Sir, জানার জন্যেই একটা প্রশ্ন করছি- আপনি চাষে বিনিয়োগ করার কথা বলেছেন। আর আপনি এও বলেছেন- বিনিয়োগ‌কারি লোকসান নেবে না। তাহলে যদি বন্যা হয় এবং ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তখন কি হবে?? চাষী তো বিনিয়োগ পরিশোধ করতে পারবে না, তখন কি হবে?? তখন কি চাষীর থেকে তার জমি দখল করে নেওয়া হবে??
উত্তর সহজ- ১) সেটা আপনারা যে ভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন, তেমনই হবে এবং ২) চাষী ফসল বীমা করে রাখবে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে চাষী ক্ষতিপূরণ পেয়ে যান এবং বিনিয়োগ‌কারিকেও লোকসান গুনতে হবে না!!
এক মহিলা প্রশ্ন করে বলেছেন- Sir, আমি Bank এ Job করি, আমার এক বান্ধবী আপনার এই লেখাটা (পর্ব- 1) আমাকে পাঠাল‌ও। পড়ে তো আমি অবাক!! আমি Bank এ Job করলেও মনে কখনও শান্তি পেতাম না এবং শুধু মনে হতো- আমি হারাম কাজের সঙ্গে যুক্ত কিন্তু আজ আপনার লেখাটা পড়ার পর যেন আমি শান্তি‌র নিঃশ্বাস নিলাম!! এখন শুধু ছোট্ট 2 টি প্রশ্ন- Bank এ Job করা কি হালাল??
পাঠক, কি উত্তর হতে পারে?? উত্তর সহজ- আপনি যদি গত পর্বটি পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই জানবেন যে, Bank এর কাজ-কর্মে সুদের আদান-প্রদান নেই বললেই চলে (যাকে আমরা সুদ বলি, তা আসলে সুদ‌ই নয়)। আসলে Bank হল- বিনিয়োগের সুরক্ষিত মাধ্যম। যা আপনার টাকা নিয়ে বিনিয়োগ করে এবং আপনাকে Profit দেয় কিন্তু আপনার কোনও ঝুঁকি থাকে না।
অন্য ভাবে বললে হবে- Bank এখানে Middle man এর ভূমিকা পালন তথা দালালি করে এবং Profit নেয়, আর তা দ্বারা আপনাকে Salary দেওয়া হয়!! দালালি যে হালাল, তা গত পর্বে দেখিয়েছি। সুতরাং Bank এ Job করা সম্পূর্ণ হালাল!!
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সাঁত্রাগাছি থেকে হালিমা খাতুন প্রশ্ন করে বলেছেন- মহিলারা কি ঘরের বাইরে গিয়ে Job করতে পারবে?? এই সম্পর্কে কোরান কি বলে?? উত্তর খুবই সহজ কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তর যদি সম্মানিত হারামখোর‌গণ দিতেন, তাহলে তাদের মুখ থেকে একটাই উত্তর বের হতো, তা হল- হারাম হারাম এবং হারাম। আর কাফির ফাতুয়া পেতেন বটেই!!
কিন্তু আপনি সৌভাগ্যবতী যে, প্রশ্ন‌টি হোসেন কুরানী কে করেছেন, এ জন্য কাফির ফাতুয়া‌ও পেলেন না এবং সঠিক উত্তর‌ও পাবেন!! আয়াতটি দেখুন, ইনশাআল্লাহ উত্তর পেয়ে যাবেন-
وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ ۖ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۖ قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّىٰ يُصْدِرَ الرِّعَاءُ ۖ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যখন তিনি [মূসা (আ)] পৌঁছা লেন মাদয়ানের পানির [কূয়ার] কাছে, তখন তিনি তার কাছে [দেখতে] পেলেন- এক দল মানুষ [তাদের পশুদের পানি] পান করাচ্ছে এবং তাদের থেকে আলাদা হয়ে এক দিকে 2 টি মহিলা নিজেদের [পশু গুলো] আগলে রাখছে। তিনি [মূসা [আ)] বললেন- আপনাদের সমস্যা কি?? তারা [2 টি মহিলা] বললেন- আমরা [আমাদের পশু গুলোকে] ততক্ষণ পর্যন্ত পানি পান করাই না, যত ক্ষণ না রাখালরা (তাদের পশু গুলো] সরিয়ে নেয়। আর আমাদের পিতা একজন অতি বৃদ্ধ"(28:23)।
সুধী পাঠক, মহিলারা ঘরের বাইরে কাজ/চাকরি করতে পারবেন- এর পক্ষে আর কোনও প্রমাণ দিতে হবে কি?? হ্যাঁ, আমি জানি এখানে কেউ-কেউ বলতে পারেন- মহিলা গুলোর পিতা বৃদ্ধ ছিলেন, তাই তারা ঘরের বাইরে কাজ করতে বাধ্য হতেন!!
এ প্রশ্নের উত্তরে বলব- ১) তাহলেও মহিলারা ঘরের বাইরে কাজ/ চাকরি করতে তো পারেন!! আর ২) এই আয়াতে এ কথা বলা হয় নি যে, তারা বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে কাজ করতেন বরং বলা হচ্ছে- তারা রাখালদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে যেতেন না, কেননা তাদের পিতা অতি বৃদ্ধ!!
৩) আসমা বিনতু আবুবকর (রা) ছিলেন যুবায়ের (রা)- এর স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি বাড়ির বাইরে কাজ করতেন। চমকে উঠার কথা হল- নাবী (সা) নিষেধ তো করেন নি, উপরন্তু আসমা বিনতু আবুবকর (রা)- কে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন!! প্রমাণ- মুসলিম, কিতাবুস সালাম, 5506 এবং 5507 নং হাদীস। আপনার আরও প্রমাণ চাই??
প্রশ্ন হবে- Bank এ Account খোলা এবং লেন-দেন কি হালাল?? উত্তর সহজ- যদি Bank system হারাম‌ও হতো, তবুও লেন-দেনের জন্য Bank এ Account open করা হালাল হতো। কারণ, তা ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় থাকত না। আর মজবুরির ক্ষেত্রে হারাম হালাল হয়ে যায়, যা আমরা গত পর্বে দেখেছি!! তাই না??
আর দ্বিতীয়ত, Bank system'ই তো হালাল, তাহলে Bank এ Account খোলা এবং লেন-দেন করা হালাল হবে না কেন?? কোন দুঃখে হারাম হবে?? আর লক্ষ্য করে দেখবেন- যারা হারাম ফাতুয়া দেয়, তাদের 1-2 টা নয় বরং তাদের 10-20 টা Bank এ Account খোলা আছে এবং তাতে লক্ষ-লক্ষ নয়, কোটি-কোটি টাকাও আছে!!
এক স্বর্ণ শ্রমিক ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- Hossen qurani sir, আমি সেখ সেহজাদ রাহীম আপনার ছোট্ট একজন পাঠক কিন্তু বড় ভক্ত এবং আপনার দ্বারা নতুন ভাবে ইসলাম শিখছি। আপনার সুদ সম্পর্কে এই লেখা (পর্ব- 1) পড়ার পর ছোট একটা প্রশ্ন - সেই ছোট বেলা থেকে শুনে আসছি যে, সোনার কাজ থেকে উপার্জন হারাম এবং তা থেকে জীবনে যা যা করা হয়েছে/ হবে, সব‌ই হারাম!!
কিন্তু Sir, আমি সোনার কাজ‌ই করি কিন্তু মনে-মনে সব সময় ভয় পাই যে, সোনার কাজ দ্বারা উপার্জন করে জীবনে যা যা করব, সব‌ই হারাম!! আমি আমার আব্বুকে হজ্ব করিয়েছি, অনেকে বলে- তাও না কি আল্লাহ কাবুল করবেন না!!
Sir, আপনার থেকেই সঠিক উত্তর চাই এবং আশা করছি যে, তা পাব‌!! আর Sir, আমি সৌদি‌র জিদ্দায় থাকি এবং 4-5 পর বাড়ি ফিরব, আপনার জন্য কি কি নিয়ে যাব?? আপনার কি কি পছন্দ, তা আমাকে বলুন। আমি আপনাকে অনেক ভালবাসি, আপনার কয়েকটি লেখা পড়ে তো কেঁদেই ফেলেছি। এখন আমি শুধুমাত্র আপনাকে খুশি দেখতে চাই, তাই আপনি বলুন যে, কি পেলে (আমি আপনাকে হানী দিতে পারব না) আপনি খুশি হবেন??
উত্তর সহজ- চুরি করা হারাম কিন্তু বর্তমান সময়ে স্বর্ণের কাজ থেকে চুরি করা প্রায় অসম্ভব। তাই হারাম বলার কোনও সুযোগ নেই। এখন যা হয় (আমার জানা মতে), তা হল- Salary ও Loss, তাই না?? আর Loss যতটা বাঁচাতে পারবেন, তা আপনার!! এই তো??
এখানে এটা Maker, showroom and customer রা জানে। তাই তা চুরির মধ্যে গণ্য হবে কিভাবে?? তাই তা হারাম নয় বরং এটা উপার্জনের বৈধ একটা পদ্ধতি!! এ বিষয়ে আয়াতটি দেখে মন শান্ত করুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا। لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদার‌গণ, তোমরা নিজেদের মধ্যে সন্তোষজনক লেন-দেনের [ব্যাবসা ও শ্রম] মাধ্যম ছাড়া অন্যায়-অবৈধ ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ খে‌ও না"(4:29)।
আর উপহারের বিষয়ে এটাই বলতে পারি- আমার জন্য যা যা আপনার সঠিক মনে হবে, তাই তাই উপহার দিতে পারেন। তবে, আমার পছন্দ 'রুপার বাঁধাই' করা পবিত্র কোরান!! আর আমি চাইব- Quranic universe এর পাশে থাকুন, Quranic universe পৃথিবী বদলাতে চলেছে- ইনশাআল্লাহ!!
প্রশ্ন হবে- Money exchange process এ কজ করে উপার্জন করা কি হালাল?? উত্তর সহজ- আমি জানি যে, সম্মানিত হারামখোরগণ এই কাজকেও হারাম বলেন এবং এর উপার্জন‌কেও!! তবে আমি জানি, তারা কেন হারাম বলেন!! সম্ভব‌ত এই হাদীসের জন্য-
"আব হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সা] বলেছেন- রুপার সাথে রুপা, সোনার সাথে সোনা, যবের সাথে যব এবং গমের সাথে গম পরিমাণে সমান সমান হলে ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় হালাল"(2255)।
কিন্তু Money exchange process এ কাজ ক্রয় ও বিক্রয় নয় বরং Customer service তথা শ্রম এর বদলে Service charge, এতে হারাম কোথায় থেকে এল, তা আমার মাথায় আসে না!! এখন কি সম্মানিত হারামখোর‌গণের কাছে শ্রমিকের কাজ করাও হারাম হয়ে গেল??
প্রশ্ন হবে- তাবিজ করে টাকা নেওয়া যাবে?? উত্তর সহজ- অবশ্যই টাকা নেওয়া যাবে কিন্তু সমস্যা এখানে নয়, অন্যত্রে এবং তা হল- তাবিজ পরা'ই তো শিরক এবং হারাম, এখন যদি শিরক করিয়ে রোজগার করতে চান, করুন!! তবে যা হারাম, তা থেকে উপার্জন‌ও যে হারাম- এটা জানেন তো??
সুধী পাঠক, আপনি তাবিজ সম্পর্কে কোরান ও সহীহ হাদীস অনুয়ায়ী বিশ্লেষণ ভিত্তি‌ক লেখা পড়তে চান, তা হলে নিচের Link এ Click করুন---
পাঠক, আর যদি ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে‌ বিস্তারিত কোরান ও তৎসংলগ্ন সহীহ হাদীস থেকে জানতে চান, তাহলে নিচের Link এ Click করুন---
প্রশ্ন হবে- কোরান প্রচারের বিনিময়ে কি টাকা নেওয়া যাবে?? উত্তর সহজ- অবশ্যই হালাল কিন্তু হাদীসে প্রবেশ করলে পক্ষে এবং বিপক্ষের হাদীস দেখতে পাবেন। তবে, হোসেন কুরানী হাদীসে প্রবেশ করবেই না। কেননা, কোরানেই উত্তর রয়েছে!! দেখুন-
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ক্রয় করেছ কিন্তু তাদের এই ব্যাবসা লাভজনক নয়, না তারা সৎপথে আছে"(2:16)।
পাঠক, বুঝতে পারে‌ন নি তো আয়াতটা?? আয়াতটি ভাল করে লক্ষ্য করে দেখুন- হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রান্তি ক্রয় করার ব্যাবসা লাভজনক নয় কিন্তু হিদায়াত ক্রয় করার ব্যাবসা তো লাভজনক!! তাই আপনি টাকা দিয়ে হিদায়াত (কোরান ও তার জ্ঞান। দ্রঃ 2:185) ক্রয় করে নেবেন, তা যার কাছে আছে। আর যার কাছে আছে, তিনি বিক্রয় করবেন!!
প্রশ্ন হবে- ইমামের এবং মুয়াজ্জিনের উপার্জন বিষয়ে কোরান কি বলে?? উত্তর সহজ- ইমামের বিষয়টি তো উপরিউক্ত কোরান প্রচারের মতোই। এ জন্য আর তার জন্য আলাদা দলিল দিচ্ছি না!!
আর র‌ইল মুয়াজ্জিনের উপার্জনের দলিল!! চিন্তা করছেন কেন, অবশ্যই এর দলিল‌ও কোরান থেকেই দেব- ইনশাআল্লাহ!! ব্যাখ্যা পরে করব, প্রথমে দলিল‌টা দেখে নিন-
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় সাদাকা [Tax বা কর] সমূহ ১) নিঃস্ব, ২) গরিবদের, ৩) সাদাকা সংক্রান্ত কর্মচারী, ৪) যাদের জন্য মন জয় করা প্রয়োজন, ৫) দাস মুক্ত করার, ৬) ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করার, ৭) আল্লাহর পথে এবং ৮) রাস্তার ছেলেদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত [বা ফরজ ]। আল্লাহর সবকিছুর জ্ঞানী ও মহাবিজ্ঞানী"(9:60)।
পাঠক, উক্ত আয়াতে বলা হচ্ছে- فِي سَبِيلِ اللَّهِ বা আল্লাহর পথে। সালাতের জন্য ডাকা বা আযান দেওয়া আল্লাহর পথ নয়?? তাহলে কোরান থেকে পেয়েছেন মুয়াজ্জিনের উপার্জনের দলিল?? আর হ্যাঁ, ইমামের উপার্জনের দলিল‌ও এটা!!
তবে, যা না বললে নয়, তা হল- ভিন্ন এলাকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে দিয়ে ইমামতি করানও এবং আজান দেওয়া‌ন‌ও বিদ‌আত!! ইমাম ও মুয়াজ্জিন হবে নিজস্ব এলাকার কোনও মুসলিম!! আর ভিন্ন এলাকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে দিয়ে ইমামতি করানও এবং আজান দেওয়া‌ন‌ও এর জন্য মুসলিম সমাজে ইমাম/ মুয়াজ্জিন হ‌ওয়ার প্রতি অলসতা সৃষ্টি হয়েছে অথচ তা সম্মান জনক পেশা!!
্যাঁ তবে, এক এলাকার কোনও যোগ্য মুসলিম অন্য এলাকার মসজিদে ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতে বা করাতে পারবে, যেমন 9:108 আয়াতে বলা হয়েছে কিন্তু তা Permanent নয়। মুয়াজ্জিনের ক্ষেত্রে‌ও তা'ই নিয়ম। যেমন বিলাল (রা) মাসজিদ আন নাববীর (সা)- এর মুয়াজ্জিন হ‌ওয়া সত্ত্বেও মাক্কা বিজয়ের দিন তিনি নাবী (সা)- এর নির্দেশে কাবার উপরে দাঁড়িয়ে আজান দিয়েছিলেন!!
আর নিজস্ব এলাকার ইমাম/ মুয়াজ্জিন হলে, তিনি সমাজের প্রতি অনেক বেশি দায়বদ্ধ হবেন, এই পেশা শুধুমাত্র পেশা থাকবে না!! এছাড়াও তিনি‌ও বিভিন্ন ব্যাবসা করে জীবনে আরও প্রতিষ্ঠিত হ‌ওয়ার সুযোগ পাবেন!! তাই না?? এ ছাড়া যদি পবিত্র কোরান থেকে বিদ‌আত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তাহলে নিচের Link এ Click করুন---
পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ধনিয়াখালি থেকে মিন্টু দেওয়ান ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- কুরানী ভাই, আমরা যে গুলোকে হারাম বলে জানতাম, আপনার লেখায় দেখলাম যে, সেই সব‌ই হালাল। ভাই, আমি কৃষকদের থেকে আলু কিনে নিই এবং Store করে নিই, পরে দাম বাড়লে বিক্রয় করে দিই- এটা কি হালাল??
উত্তর সহজ- ভাই, ক্রয়-বিক্রয় তো হালাল, এটা ভিন্ন কথা কিন্তু Store করে রাখা 2 ধরণের- ১) Supply বন্ধ করে কৃত্রিম Demand তৈরি করে দাম বাড়ান‌ও এবং ২) এক সঙ্গে সমস্ত আলু বাজারে এলে, আলু নষ্ট হয়ে যাবে, এই জন্য Store করা। এখানে প্রথমটি হারাম এবং দ্বিতীয়‌টি হালাল!! দেখুন-
"মা‘মার ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নাদলা [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহ রাসুল [সা] বলেছেন- পাপিষ্ঠ ছাড়া কেউ Store করে না"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত, হাদীস 2154)।
এক (নাম গোপনকারি) মাসজিদে‌র ইমাম প্রশ্ন করে বলেছেন- শুনেছি 'বাইনামা' হারাম। বিষয়টি যদি একটু করে বলতেন, তাহলে আমি উপকৃত হতাম এবং জাতি অনেক উপকৃত হতো!! আপনি কি বলবেন?? উত্তর সহজ, হাদীস‌টি দেখুন-
"আমার ইবনে শু‘আইব [রা] থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সুত্রে বর্ণিত। নাবী [সা] বলেছেন- উরবান বা 'বাইনামা'র মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত, হাদীস 2192)।
কিন্তু নাসির উদ্দিন আলবানী (র) বলেছেন- হাদীস‌টি জায়ীফ। শুধুমাত্র এটা নয়, এর পরের 2193 হাদীসটিও জয়ীফ!! সুতরাং 'বাইনামা' হারাম নয়, এই সম্পর্কিত নীতিমালা গত পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তা আরও একবার দেখে নিন!!
সুধী পাঠক, এবার মনে হয় আমরা প্রায় সমস্ত প্রশ্নের উত্তর (অর্থনীতি ও হালাল-হারাম বিষয়ে উত্তর) দিয়ে দিয়েছি, তাই না?? এবার ছোট্ট মতো একটি কুরানী বিশ্লেষণ করতে চাইছি। আপনি কি তা পড়তে/ জ্ঞান অর্জন করতে চাইবেন??
আমরা প্রথমে দেখব- بيع (বাই'য়া) শব্দটি, যার অর্থ হল- ক্রয় ও বিক্রয়। যদি‌ও এটা সাধারণ অর্থ, অন্যান্য অর্থ‌ও হয়। তারপর দেখব- ربا (রিবা) শব্দটি, যার অর্থ হল- বৃদ্ধি। যদিও পারিভাষিক অর্থে হয়- সুদ। যেমন এই আয়াতে বলা হয়েছে-
فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ ★ وَرَبَتْ ★ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"অতপর যখন আমরা বর্ষণ করি পানি তার (পৃথিবীর) উপর, তখন তা (পৃথিবী) স্ফীত/ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় এবং উদ্গত করে সব রকমের উদ্ভিদ সদৃশ্য"(22:5)।
সুধী পাঠক, গত পর্বের সংজ্ঞা থেকে জেনেছি যে- بيع (বাই'য়া তে) ক্রয় ও বিক্রয়ে ربا (রিবা) নেই। কারণ, এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا অনু বাদ হবে এমন-"আল্লাহ ক্রয় ও বিক্রয় হালাল, সুদকে হারাম করেছে‌ন"(2:275)।
তাহলে প্রশ্ন হবে- بيع (বাই'য়া তে) ক্রয় ও বিক্রয়ে কি হয়?? উত্তর সহজ- ক্রয় ও বিক্রয়ে হয়- Profit বা লাভ। যাকে বলা হয়- ربح (রিবহুন)। আর এই শব্দটি পবিত্র কোরানেও আল্লাহ ব্যবহার করেছেন 2:16 আয়াতে।
সুধী পাঠক, আরবিতে সরা-সরি ভাবে ব্যাবসা‌কে কি বলা হয়?? উত্তর সহজ- تجارت (তিজারাত)। আর শুধু ব্যাবসা নয়, বলা ভাল- আর্থিক লেন-দেন!! এই শব্দের মূল হল- تجر (তিজার), যার অর্থ- লেন-দেন। আর এই শব্দটি ইংরেজরা গ্ৰহণ করেছে, শব্দটি হল- Treasur ও Treasurer (কোষ ও কোষাধ্যক্ষ)। এ ছাড়াও কোরানে আল্লাহ ব্যবহার করেছেন 2:16 ও 4:29 আয়াতে।
আল্লাহ 2:275 আয়াতে বলেছেন- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ অনু বাদ হবে এমন-"এবং আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন"। এবার একটা ছোট্ট প্রশ্ন হবে- আল্লাহ এখানে ক্রয়-বিক্রয় না বলে تجارت (তিজারাত) বা ব্যাবসা/ আর্থিক লেন-দেন বলেন নি কেন??
পাঠক, কি উত্তর হতে পারে?? উত্তর সহজ- ব্যাবসায় সুদ থাকতেই পারে, কারণ ব্যাবসা তো সুদের‌ও হয়!! তাই না?? এখন একটা ছোট্ট প্রশ্ন হতে পারে- ব্যাবসা ও ক্রয়-বিক্রয়ের পার্থক্য কোথায়?? উত্তর সহজ- প্রতিটা ক্রয়-বিক্রয়‌ই ব্যাবসা কিন্তু প্রতিটা ব্যাবসা ক্রয়-বিক্রয়‌ নয়!!
প্রশ্ন হবে- ক্রয় এবং বিক্রয় থেকে Profit হয়, ব্যাবসা থেকে তাহলে কি হয়?? উত্তর সহজ- ব্যাবসা থেকে Profit'ও হতে পারে, সুদ বা Interest'ও হতে পারে!! তাই আল্লাহ 2:275 আয়াতে 'বৈধ যে কোনও কিছুর ক্রয়-বিক্রয়কে' সরাসরি হালাল ঘোষণা করেছেন, তা এভাবে- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ ক্রয় ও বিক্রয়কে হালাল করেছেন"।
কিন্তু ব্যাবসার বিধান‌টা ভিন্ন। কেননা ব্যাবসায় হালাল ও হারাম হয় (সুদ ছাড়াও অন্যান্য হারাম)। এ জন্যই 'বৈধ যে কোনও কিছুর ব্যাবসা‌ও' হারাম হতে পারে, এ জন্য‌ই আল্লাহ শর্ত আরোপ করে বলেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا। لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদার‌গণ, তোমরা নিজেদের মধ্যে সন্তোষজনক লেন-দেনের [ব্যাবসা ও শ্রম] মাধ্যম ছাড়া অন্যায়-অবৈধ ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ খে‌ও না"(4:29)।
যেমন, উক্ত আয়াতে باطل (বাতিল) ব্যাবসা‌র কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হবে- ব্যাবসা থেকে Profit হয়, এমন একটি আয়াতের কথা বলতে পারবেন?? আয়াতটি নিচে দেওয়া হল এবং এখানে যে تجارت (তিজারাত) বা ব্যাবসা থেকে ربح (রিবহুন) লাভ হয়, তাও বলা হয়েছে। দেখুন-
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এরাই তারা, যারা সঠিক পথের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ক্রয় করেছ কিন্তু তাদের এই ব্যাবসা লাভজনক নয় এবং না তারা সৎপথে আছে"(2:16)।
সুধী পাঠক, আমি কি এ পর্যন্ত বোঝাতে এবং বুঝতে পারলেন?? যদি বুঝে থাকেন, তাহলে এবার এখন সব চেয়ে বড় প্রশ্নটি উপস্থিত করতে চাইছি- বিনিয়োগ সম্পর্কে কোরানে কি কোনও আয়াত আছে??
সুধী পাঠক, আমরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তার সঙ্গে অবশ্যই কুরানী বিশ্লেষণ করব- ইনশাআল্লাহ। প্রথমে আমরা আয়াতটি দেখে নেব। তারপর আমরা দেখাব‌ যে, আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণ আমাদের অর্থাৎ মুসলিম সমাজের কত বড় ক্ষতি করেছে। এত বড় ক্ষতি 'আবু জাহিল'ও করতে পারে নি!! সুতরাং প্রথমে আয়াতটি দেখুন-
وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ●
প্রচলিত অনুবাদ হয় এমন-"তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর‌ও এবং নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দি‌ও না। অনুগ্রহ প্রদর্শনের পথ অবলম্বন কর‌ও। কারণ আল্লাহ‌ সুবহানুতায়ালা অনুগ্রহ প্রদর্শনকারীদেরকে ভালবাসেন"(2:195)।
সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা বিনিয়োগ কর‌ও আল্লাহর নির্দেশিত পথে এবং তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের‌কে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ কর‌ও না এবং তোমরা অনুগ্ৰহ কর‌ও!! নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্ৰহ কারিকে ভালবাসেন"(2:195)।
উক্ত আয়াতে আরবি أَنْفِقُوا (আনফিকু) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যার সাধারণ অর্থ হল- খরচ/ খরচ করা। এই শব্দটির মূল আরবি হল- نفق (নাফাক), যার অর্থ- গর্ত, সুড়ঙ্গ ইত্যাদি। তাই أَنْفِقُوا (আনফিকু) এর Actual অর্থ হবে- গর্ত ভরাট করা।
আর চমকে উঠার মতো তথ্য হল- منافق (মুনাফিক) শব্দটি‌ও মূল نفق (নাফাক) শব্দ থেকে এসেছে। পবিত্র কোরানের 63 নং সূরার নাম‌ مُنَافِقُونَ (মুনাফিকুন)। এর কারণ হল- তারা দ্বীনের পথে গর্ত/ বাধা সৃষ্টি করত, এ জন্য তাদের منافق (মুনাফিক) বা গর্ত/ বাধা সৃষ্টিকারি বলা হয়। আর Actual অর্থ হল- যিনি গর্ত করেন, তিনি منافق (মুনাফিক)।
পাঠক, আমি কি বোঝাতে পারছি?? এবার বলুন- তা হলে أَنْفِقُوا (আনফিকু) এর পারিভাষিক অর্থ কি হবে??
উত্তর সহজ- যেখানে ঘাটতি থাকবে, সেখানে অর্থ দ্বারা ভরাট। তারমানে- দা‌ন‌ও হয়, বিনিয়োগ হয়। বিনিয়োগ নিজের ব্যাবসা‌তেও হতে পারে, অন্যের‌ও!!
2:195 আয়াতে وَأَحْسِنُوا বা তোমরা অনুগ্রহ কর‌ও, এ কথা আল্লাহ কেন বললেন?? উত্তর সহজ- বিনিয়োগের মাধ্যমে পৃথিবীর অর্থনীতি টিকে আছে, কোটি-কোটি মানুষ রোজগার পাচ্ছে। ফলত মানবজাতি টিকে আছে এবং জীবজগতের বেশিরভাগ‌ই!! এ জন্যেই আল্লাহ বলেছেন-
وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ●
সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা বিনিয়োগ কর‌ও আল্লাহর নির্দেশিত পথে এবং তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের‌কে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ কর‌ও না এবং তোমরা অনুগ্ৰহ কর‌ও!! নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্ৰহ কারিকে ভালবাসেন"(2:195)।
প্রশ্ন হবে- আল্লাহ কেন বললেন যে, তোমরা নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দি‌ও না?? উত্তর খুব সহজ- বর্তমান মুসলিম সমাজ এবং তাদের আলিমগণ (সম্মানিত হারামখোরগণ) কে উদেশ্যে করে আল্লাহ কোরানে বলেছেন-
وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ●
সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা বিনিয়োগ কর‌ও আল্লাহর নির্দেশিত পথে এবং তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের‌কে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ কর‌ও না এবং তোমরা অনুগ্ৰহ কর‌ও!! নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্ৰহ কারিকে ভালবাসেন"(2:195)।
সুধী পাঠক, আপনার কি মনে হয় না যে, আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণের কথা শুনে আমরা (মুসলিম রা) বিনিয়োগ না করে নিজেদের‌কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছি?? পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা আমরা লেখার শুরুতে দেখিয়েছি!! তাই না??
প্রশ্ন হবে- বিনিয়োগের পরিণতি সম্পর্কে কি আল্লাহ পবিত্র কোরানে কিছু বলেছেন?? উত্তর সহজ- আল্লাহ বিনিয়োগ সম্পর্কে বললেন, বিনিয়োগের পরিণতি সম্পর্কে বলবেন না, তা কি হয়?? আয়াতটি দেখতে চাইবেন না?? এই নিন-
مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"যারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর নির্দেশিত পথে বিনিয়োগ করে, তাদের বিনিয়োগের উদাহরণ হল এমন, যেমন- একটি শস্যবীজ বপন করা হয় এবং তা থেকে 7 টি শীষ উৎপন্ন হয়, যার প্রত্যেকটি শীষে থাকে 100 টি করে শস্যকণা (7 × 100= মোট 700 টি অর্থাৎ 1 টাকার বিনিয়োগে লাভ কমপক্ষে 700 টাকা)। আল্লাহ‌ যাকে চান, তাকে আরও বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ সর্বব্যাপী ও জ্ঞানী"(2:261)।
প্রশ্ন হবে- কিন্তু 2:261 আয়াতের পরবর্তী আয়াত গুলো দেখলে তো পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এগুলো দান সম্পর্কিত আয়াত, বিনিয়োগ সম্পর্কিত নয়!! তাহলে কি উপরিউক্ত অনুবাদ ভুল নয়??
উত্তর সহজ- আমরা আগেও দেখিয়েছি যে, আরবি أَنْفِقُوا (আনফিকু) শব্দের সাধারণ অর্থ হল- খরচ/ খরচ করা কিন্তু কোরানের একটি আয়াতের একটি অর্থ নয়, একাধিক অর্থ হতে পারে, যারা কোরান এবং আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞ, তারা তা ওয়াকিবহাল। তবে আমরা এখানে বিশেষ অর্থটাই গ্ৰহণ করেছি!!
এবার একেবারে শেষ প্রশ্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমার মায়ের বয়সী একজন মহিলা মালেশিয়া থেকে বাংলাদেশ‌র প্রবাসী প্রশ্ন করে বলেছেন- আপনার সমস্ত লেখা পড়ি কিন্তু Silent পাঠক। আপনার সমস্ত কথার সঙ্গে একমত হ‌ই কিন্তু এই (পর্ব- 1) লেখার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না!!
কেননা, আপনি বলেছেন- সুদ শুধুমাত্র ঋণের ক্ষেত্রে হয়, অন্য কোনও ক্ষেত্রে নয়!! তবে যদি আপনি প্রমাণ দেন, তাহলে একমত না হয়ে আর অন্য কোনও উপায় থাকবে না!! তবে, আপনার সাহসের প্রশংসা না করে পারা যায় না এবং সত্যিই আমি আপনার মধ্যে উমার (রা)- কে দেখছি!! আর আমি আপনাকে মালেশিয়াতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আপনি আমার বাঁসায় উঠবেন। আপনার পথ খরচ আমি দেব- ইনশাআল্লাহ। আমি একবার আমাদের উমার (রা)- কে সামনে থেকে প্রাণ ভরে দেখতে চাই, জানি না কত দিন বাঁচব!!
আর আপনার শরীরের দিকে খেয়াল করুন, ছেলে বলছিল- শরীর খুব রোগা হয়ে গেছে!! আর এত হানী হানী ভাল নয়। দুনিয়া‌তে কি আপনি একাই প্রেম করে ছেন না কি?? হোসেন কুরানীর বিয়ের জন্য কি মেয়ের অভাব পড়েছে না কি?? আপনি আমার মেয়েকে বিয়ে করবেন??
আপনি আমার নাম ছাড়া আমার পুরো কথা গুলো লিখবেন। যেন আপনার হানী/ সবাই দেখে যে, হোসেন কুরানীর কাছে বিয়ের জন্য মেয়ের কোনও অভাব নেই। তার ভাগ্য খারাপ, ঐ জন্য আপনাকে ছেড়ে গেছে। সে তার নিজের মুখে থাপ্পড় মেরেছে, শুধু বুঝতে পার নি। যখন বুঝবে, তখন হানী হানী করার আর কাউকে পাবে না!! আপনি তার ও আপনার মায়ের জন্য দুঃখ করবেন না, আমি আপনার মা হব, এ জন্য আমি খুব খুশি!!
দেখুন মা, আমার নিজের মা নেই। তাই আপনাকে মা বলেই সম্বোধন করছি। মা, অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করছে, পরে বলব- ইনশাআল্লাহ। চলুন, আমরা প্রথমে হাদীস‌টা দেখে নিই, না কি?? হ্যাঁ, দেখুন-
رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ- إِنَّمَا الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ●
অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহর রাসুল [সা] বলেছেন, সুদ আছে শুধু ঋণে"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত, হাদীস 2257)।
না মা, বিয়ের শখ মিটে গেছে। আজও ওষুধ ছাড়া ঘুমাতে পারি না। দ্বিতীয়বারে হয়ত রাঁচিতে ভর্তি হতে হবে। এখন অনেক কাজ করতে হবে। আপনি আমার জন্য দুয়া করুন- হে আল্লাহ, আপনি হোসেন কুরানীর কাজ সহজ করে দিন!!
্যাঁ, যদি কখনও আল্লাহ মালেশিয়া‌তে যাওয়ার সুযোগ করে দেন, তা হলে অবশ্যই আপনার বাড়িতে উঠার চেষ্টা করব- ইনশাআল্লাহ। আর ঐ মহিলা‌কে কেন ভুলে যেতে পারি না, এটা শুধু আল্লাহ‌ই ভাল বলতে পারবেন!!
তবে, ঐ মহিলা বলতেন- আমি তো হোসেন কুরানীর কলিজায় থাকি!! ঐ মহিলা হয়ত অন্য সব কথা গুলো মিথ্যা বলেছিলেন কিন্তু এই বাক্যটি সত্য বলেছিলেন। নয়ত দিনটা আমার হলেও, রাতটা আজও কেন তার‌ই হয়??
প্রথম প্রকাশ : 13.12.2020
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...