আলিমগণের অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরদের লক্ষ কোটি মিথ্যার মধ্যে এটিও একটি যে- গণতন্ত্র হারাম অথচ মূল গণতন্ত্র কোরানেরই অবদান এবং পবিত্র কোরানে তা জোরদার ভাবে প্রস্তাবিত হয়েছে কিন্তু গত 1500 বছর পরও আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণ দেখতে আর পেলেন না!!
সুধী পাঠক, কোন কারণে 1500 বছর পরও সম্মানিত হারামখোরগণ দেখতে পেলেন না?? পাঠক, কেন তারা দেখতে পেলেন না- এই সম্পর্কে আপনার কিছু জানা আছে?? আমার তো মনে হয়- চোখে 'বাজ' (বজ্রাঘাত) পড়েছে এবং মুসলিম শাসক তথা সুলতান-সম্রাটদের (বর্তমানে সৌদির) দালালির (পা চাঁটার) ফল!!
পাঠক, আমি কি ঠিক বললাম?? আপনি কি আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন?? সুধী পাঠক, এখন একমত হন তো ভাল, নয়ত লেখার শেষে আপনাকে একমত হতেই হবে, যাবেন কোথায়!!
পাঠক, কুরানী বিশ্লেষণ শুরু করতে চাইছি। তবে তার পূর্বে গত লেখা (মহিলা শাসক) সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ Comment এসেছে, সেগুলো আপনাদের দেখাতে চাই। তাহলে আমাকে মূল্যায়ন করতে বেশ সুবিধা হবে। তাই না?? দেখুন-
১) তুই যে একজন ফিতনা সৃষ্টিকারী এবং R S S ও B J P'র Agent, তা আমরা তখনই বুঝে ছিলাম, যখন তুই বলেছিলিস- আজান বন্ধ করতে হবে। কেননা, এতে শব্দ দূষণ হয়!!
২) আল্লাহ বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়েছেন বলে অহংকার করা উচিৎ নয় কিন্তু আপনার লেখার মধ্যে আলিমদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ঘৃণা ও বিজ্ঞানের জ্ঞানের অহংকার এত বেশি ফুটে উঠছে যে, আপনার পরিণতি একদিন ইবলিসের মতো হবে। ইবলিশও প্রচুর জ্ঞানী ছিল, এই অহংকারেই সে শয়তান হয়েছিল!!
৩) সুদূর বাংলাদেশ থেকে ইকবাল হোসাইন ভাই বলে ছেন- হোসেন কুরানী ভাই, আপনার প্রতি অবিরাম ভালবাসা। আপনার লেখা গুলো ইতিহাস সৃষ্টি করবে এবং পৃথিবী আপনার কাছে ঋণী থাকবে!!
৪) আয়েশা জাহান বলেছেন- Qurani sir, আপনার এই লেখাটা (মহিলা শাসক বিষয়ক) আমার অনেক বেশি পছন্দ হয়েছে, তাই মন্তব্য জানালাম। আর আমার পক্ষ হতেও সম্মানিত হারামখোরদের মুখে একটা লাথি মারবেন!!
Sir, আমি তো কবে থেকে আপনাকে বলছি যে, বড় কিছু একটা করুন। আপনি উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য আমি খুব খুব খুব খুশি। আর আপনার মনোবল দেখে এবং লেখায় নেই হানী কাহিনী নেই দেখে আরও বেশি খুশি হয়েছি!!
সুধী পাঠক, এখন আমি দ্বিতীয় জনকে কিছু বলতে চাই- ভাই, "ইবলিশ প্রচুর জ্ঞানী ছিল" এই বাক্যের দলিলটা দেবেন কোরান ও তৎসংলগ্ন সাহীহ হাদীস থেকে। কিয়ামত পর্যন্ত সময় দেওয়া সময় থাকল!! যদি আমার জীবিত থাকাকালীন অর্থাৎ আজ থেকে 121 বছরের মধ্যে দলিল দিতে পারেন, তাহলে আপনাকে আপনার নিজের ওজনের সমপরিমাণ সোনা এবং আমি আমার মাথা নিজে কেটে আপনাকে উপহার দেব- ইনশাআল্লাহ!!
আর প্রথম জনকে বলব- ভাই, এত মিথ্যা বলেন কেন?? আমি কখনও বলি নি- আজান বন্ধ করতে হবে বরং বলেছি- Loud speaker এ আজান দেওয়া বন্ধ করতে হবে। কেননা, এতে শব্দ দূষণ হয় ও Nervous system ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলত একাধিক রোগের সৃষ্টি হয়। যেমন- শ্রবণশক্তি, স্মৃতিশক্তি, সহনশক্তি কমে যাওয়া সহ একাধিক মানসিক রোগের সৃষ্টি হয় এবং Heart ও Brain এর প্রচুর ক্ষতি হয়। সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় শিশু ও বৃদ্ধদের!!
কেননা, আমাদের শ্রবণ যন্ত্র 90 db এর বেশি শব্দ সহ্য করতে পারে না। যদি গায়ের জোরে এর বেশি শব্দ কানে শোনানও হয়, তাহলে উপরিউক্ত ক্ষতি গুলোর সম্মুখীন হতে হবে!!
আর আমি শুধু Loud speaker এ আজানের কথা বলি নি বরং আমি Loud speaker'ই Ban করে দেওয়ার কথা বলেছি। সেটা হোক মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায় সহ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্যের কথায়ও বলেছিলাম। এছাড়াও বলেছিলাম- মন্দিরের ঘন্টাও যদি 90 db এর বেশি শব্দ সৃষ্টি করে, তাও সরকারের বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ। তাছাড়া পূজায় টানা 3-4 দিন করে Loud speaker এর ব্যবহার এবং কীর্তনেও 3-4 দিন করে Loud speaker ব্যবহার Ban এর কথা বলে ছিলাম। সর্বপরি Loud speaker সম্পূর্ণ Ban করার কথা বলেছিলাম!!
এও বলেছিলাম- Train ও Bus সহ বিভিন্ন গাড়ির Horn সহ Train, Bus, Airplane এর শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের কাজ করা উচিৎ। তার সঙ্গে এও বলে ছিলাম যে, কিভাবে শব্দ দূষণ না করেই আযান সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়!!
বলেছিলাম যে- মসজিদে Phone থাকবে, যেখানে মুয়াজ্জিন আজান দেবেন, সেই আজান Bluetooth speaker system এর মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলিমের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাহলে আজান সবার কাছে পৌঁছে গেল, শব্দ দূষণও হল না এবং অমুসলিম দের আপত্তি করার আর কোনও সুযোগ থাকল না!!
এখন আমি আমার পাঠকদের কাছে জানতে চাইব যে- আমি কি কোনও R S S ও B J P পক্ষে কথা বলে ছিলাম?? আমি কি কোরান বিরোধী কোনও প্রস্তাব করেছিলাম?? আচ্ছা, আয়াতটি দেখুন-
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যারা মুমিন পুরুষ ও মহিলা দেরকে কোনও অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা বহন করবে একটি অপবাদ এবং সুস্পষ্ট পাপ"(33:58)। তা হলে- 250-300 db তে আজান দিয়ে কি মুমিন পুরুষ ও মহিলাদেরকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে না?? এখানেই শেষ নয়, আল্লাহ বলেছেন- وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ অনু বাদ হবে এমন-"এবং তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করও না"(2:195)। এখন ছোট্ট একটা প্রশ্ন করব- 250-300 db তে আজান দিয়ে কি নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করছি না??
যাইহোক সুধী পাঠক, কোনও কোনও শাঈখ নামের সম্মানিত হারামখোরগণ (যারা নিজদের 'সালাফী' ও 'আহলে হাদীস' নামে পরিচয় দিয়ে বিদআত ও কুফরী করেন, তারা) এও বলেন- গণতন্ত্র শুধু হারামই নয় বরং কুফরী ও শিরক!!
সুধী পাঠক, আজ 25.12.2020 তারিখ, আজ 29 বছরে পা রাখলাম অথচ জীবনে পাওয়া বলতে 1 গাদা কষ্টদায়ক স্মৃতি ছাড়া কিছুই নেই। হ্যাঁ, Team Quranic universe কে পাশে পেয়েছি। আমার মতো অভাগার জন্য এটাই অনেক!!
পাঠক, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। যেমন 5:3 আল্লাহ বলেছেন- الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ অনুবাদ হবে এমন-"আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করলাম"(5:3)। যদি তা'ই হয়, তাহলে নিশ্চয় কোরান ও তৎসংলগ্ন সাহীহ হাদীসে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে বলা থাকবে, থাকতেই হবে!! তাই না??
কিন্তু এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে পবিত্র কোরানে আল্লাহ কোন পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলেছেন?? সুধী পাঠক, আজ আমরা এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজব কিন্তু আমরা চাই- আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। থাকবেন তো??
পাঠক, আপনার কি মনে হয়- আল্লাহ কোন পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলেছেন?? তা কি রাজতন্ত্র, না কি খালিফাতন্ত্র?? এ বিষয়ে পরে উত্তর দেব, প্রথমে আমরা দেখে নেব যে, খালিফাতন্ত্র বলতে আসলে কি বোঝায়??
আরবি خَلِيفَةً (খালিফাহ বা খালিফা) শব্দটির মূল হল- خلف (খালাফ)। আরবি خَلِيفَةً বা প্রতিনিধি শব্দটি পবিত্র কোরানে প্রত্যক্ষ ভাবে কমপক্ষে 9 বার ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে 2 বার خَلِيفَةً (খালিফাহ) শব্দটি। দেখুন- وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً
অনুবাদ হবে এমন-"এবং [স্মরণ করুন] যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেস্তাদেরকে বলেছিলেন যে, নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে খালিফাহ অর্থাৎ প্রতিনিধি উপস্থিত করব"(2:30)। আর এই একই শব্দের ব্যবহার হয়েছে এখানে- يَا دَاوُودُ• إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ অনুবাদ হবে এমন-"হে দাউদ, নিশ্চয় আমরা আপনাকে পৃথিবী তে প্রতিনিধি করেছি"(38:26)।
আর 4 বার ব্যবহার হয়েছে- خَلَائِفَ (খালাইফা) শব্দ টি। দেখুন- وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তিনিই [আল্লাহ], যিনি তোমাদেরকে করে ছেন পৃথিবীতে প্রতিনিধি"(56:165)। দ্বিতীয় আয়াতটি হল-ثُمَّ جَعَلْنَاكُمْ خَلَائِفَ فِي الْأَرْضِ مِنْ بَعْدِهِمْ অনুবাদ হবে এমন-"এরপর আমরা তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করলাম, তাদের পর"(10:14)। তৃতীয় আয়াতটি রয়েছে এখানে- وَجَعَلْنَاهُمْ خَلَائِفَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমরা তাদেরকে করলাম প্রতিনিধি"(10:73)। চতুর্থ আয়াতটি হল- هُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ فِي الْأَرْضِ অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই [আল্লাহ], যিনি তোমাদেরকে পৃথিবী তে প্রতিনিধি করেছেন"(35:39)।
আর خُلَفَاءَ (খুলাফা-য়া) শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে 3 বার। পাঠক, চট করে একবার আয়াত গুলো দেখে নিন- وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ অনুবাদ হবে এমন-"এবং স্মরণ করও, যখন তোমাদেরকে নূহের জাতির পর প্রতিনিধি করেছিলেন"(7:69)। দ্বিতীয় হল- وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ عَادٍ অনুবাদ হবে এমন-"এবং স্মরণ করও, যখন তোমাদের কে আদের পর প্রতিনিধি করেছিলেন"(7:74)। তৃতীয় আয়াতটি হল- وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তিনি তোমাদের করেন পৃথিবীতে প্রতিনিধি"(27:62)।
পাঠক, আপনি মোটা-মুটি ভাবে বুঝতে পেরেছেন?? এ ছাড়াও আরও কয়েকটি জায়গায় পরোক্ষ ভাবে খালিফাহ শব্দের ব্যবহার হয়েছে যার মূল হল- خلف (খালাফ), যেমন- 24:55 আয়াতে 2 বার। আয়াতটি একবার দেখে নিন-
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যারা তোমাদের মধ্যে ইমান এনে নেক কাজ করেছে, তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করবেন, যেমন
প্রতিনিধি করেছিলেন, যারা পূর্বে ছিল"(24:55)।
পাঠক, তাহলে কি বুঝেছেন যে, খালিফা শব্দের অর্থ হল- প্রতিনিধি এবং খালিফাতন্ত্র অর্থ হল- প্রতিনিধিত্ব করা?? এখন প্রশ্ন হবে- খালিফা 'কার' প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং খালিফা কিভাবে মনোনীত হবেন?? সুধী পাঠক, নিচের আয়াতে আল্লাহ উত্তর দিয়েছেন মনে হয় এভাবে-
يَا دَاوُودُ• إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ• فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَىٰ• فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ• لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ• بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে দাউদ, নিশ্চয় আমরা আপনাকে পৃথিবীতে খালিফা (প্রতিনিধি) করেছি, তাই আপনি মানুষের মধ্যে সত্যতার সঙ্গে শাসন করবেন ও অনুসরণ করবেন না নিজের ইচ্ছার/ খেয়াল খুশির!! কেননা, তা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি, যেহেতু তারা ভুলে গেছে হিসাব দিবসকে"(38:26)।
পাঠক, উপরিউক্ত আয়াত থেকে যে যে তথ্য বেরিয়ে এল, তা হল- ১) দাউদ (আ) রাজা ছিলেন না, ২) তিনি ছিলেন খালিফা, ৩) দাউদ (আ) নির্বাচিত হয়েছিলেন, ৪) খালিফা নিজের ইচ্ছা মতো/ অন্যের ইচ্ছা মতো শাসন করবেন না, ৫) আল্লাহ প্রদত্ত আইন অনুযায়ী শাসন করবেন!!
একটা প্রশ্ন হবে- দাউদ (আ) নির্বাচিত হয়েছিলেন, এ তথ্য কোথায় আছে?? উত্তর সহজ- কোরানে এ তথ্যটি পরিষ্কার ভাবে না থাকলেও কোরান ও বাইবেলে মিশ্রিত ভাবে তথ্যটি রয়েছে। একটু ধৈর্য্য ধরুন, ধীরে-ধীরে প্রমাণ উপস্থিত করব- ইনশাআল্লাহ!! দেখুন-
"Therefore all the elders of Israel came to the king at Hebron, and King David made a covenant with them at Hebron before the Lord. And they anointed David king over Israel"(Bible,
New King James Version, 2ⁿᵈ Samuel- 5:3)।
হ্যাঁ, যদিও উক্ত Verse এ দাউদ (আ)- কে রাজা বলা হচ্ছে কিন্তু রাজা গায়ের জোরে হয়, আর জনগণ যাকে মনোনীত করেন, তিনি হন- খালিফা!! আর উপরিউক্ত 38:26 আয়াতে যে যে গুণাবলীর কথা বলা হয়েছে, তা রাজার মধ্যে থাকে না!!
সুধী পাঠক, জানেন কি- দাউদ (আ)- কে ছিলেন?? দাউদ (আ) ছিলেন শৌল/ তালুত (আ)- এর জামাতা এবং শৌল (আ) ছিলেন সামুয়েল (আ)- এর স্বীকৃতি প্রাপ্ত আল্লাহর মনোনীত একজন 'রাজা'। পাঠক, এবার কোরান থেকে দলিল গুলো দেখে নিন-
أَلَمْ تَرَ إِلَى الْمَلَإِ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَىٰ إِذْ قَالُوا لِنَبِيٍّ لَهُمُ ابْعَثْ لَنَا مَلِكًا نُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۖ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ أَلَّا تُقَاتِلُوا ۖ قَالُوا وَمَا لَنَا أَلَّا نُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِنْ دِيَارِنَا وَأَبْنَائِنَا ۖ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"আপনি কি দেখেন নি, মুসার পর বানী-ইসরাইলের প্রধানদের?? তারা নিজেদের নাবী [সামুয়েল (আ)-] কে বলেছিল- আমাদের জন্য একজন 'রাজা' ঠিক করে দিন, যাতে আমরা আল্লাহর পথে লড়াই করতে পারি। সে [সামু্য়েল (আ)] বলল- এমন হবে না তো যে, যুদ্ধ ফারাদ হলে যুদ্ধ করবে না?? তারা বলেছিল- আমাদের কি হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করব না, অথচ আমাদেরকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের সন্তানদেরকে আমাদের থেকে আলাদা করে দেয়া হয়েছে?? কিন্তু যখন তাদের উপর যুদ্ধ ফারাদ করে দেওয়া হল, সবাই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল, তাদের স্বল্পসংখ্যক ছাড়া। আল্লাহ ভাল জানেন জালিম সম্পর্কে"(2:246)। এবার পরের আয়াতটি এক বার দেখুন, তাহলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে-
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا ۚ قَالُوا أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ الْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِالْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً مِنَ الْمَالِ ۚ قَالَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ ۖ وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَنْ يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"তাদের নাবী [সামুয়েল (আ)] তাদের কে বললেন- নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য তালুতকে 'রাজা' বানিয়ে দিয়েছেন। তারা বলল- তার জন্য [শৌল বা তালুত (আ)] কিভাবে হবে আমাদের উপর 'রাজত্ব' অথচ তার তুলনায় আমরাই 'রাজত্ব' পাওয়ার অধিক যোগ্য। আর তাকে [শৌল বা তালুত (আ)- কে] প্রচুর ধন সম্পদও দেওয়া হয় নি!! [সামুয়েল (আ)] বললেন- নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তাকেই মনোনীত করেছেন এবং তাকে প্রচুর জ্ঞান ও শারীরিক ক্ষমতা দান করেছেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দান করেন রাজত্ব। আল্লাহ সর্বব্যাপী জ্ঞানী"(2:247)।
সুধী পাঠক, বাইবেলেও কোরানে বর্ণিত কাহিনীটির উল্লেখ আছে। এর জন্য আপনাকে Bible এর New King James Version, 1ˢᵗ Samuel এর 7:15-8:22 পর্যন্ত এবং 10:1 এ সামুয়েল (আ) শৌল/ তালুত (আ)- কে 'রাজা' হওয়ার সুসংবাদ দিলেন।
আচ্ছা পাঠক, বলতে পারবেন- সামুয়েল (আ), শৌল বা তালুত (আ)- এর কাহিনী এখানে আনলাম কেন?? একমাত্র কারণ হল- সম্মানিত হারামখোরগণ উক্ত 2 আয়াতকে রাজতন্ত্রের দলিল হিসাবে পেশ করেন!!
কিন্তু তারা ভুলে যান- নাবী সামুয়েল (আ)- এর কাছে ইহুদীদের বা বানী-ইসরাইলের জোরাজুরিতে সামুয়েল (আ)- এর দোয়ার কারণে আল্লাহ শৌল বা তালুত (আ)- কে 'রাজা' ঘোষণা করেছিলেন!! এটা কখনও দলিল হতে পারে না, দলিল হলেও তা নিদিষ্ট সময়ের জন্য কিন্তু রাজতন্ত্রের দলিল নয়। কেননা, শৌল বা তালুত (আ)- এর পরই দাউদ (আ) রাজা না হয়ে খালিফা হয়েছিলেন। যদি রাজতন্ত্র সর্বকালের জন্য হালাল হতো, তাহলে দাউদ (আ) রাজাই হতেন কিন্তু এমনটা হয় নি, তিনি খালিফা হয়েছিলেন!!
কিন্তু এই সামান্য Idea টা সম্মানিত হারামখোরদের মাথায় আসে নি। আসবেই বা কিভাবে, এই Idea এলেই সৌদির দালালি বন্ধ হয়ে যাবে, বন্ধ হয়ে যাবে মুসলিম দের সম্পদ (তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ) লুটে পুটে খাওয়া!!
যাইহোক, সম্মানিত হারামখোরদের পবিত্র কোরান থেকে উদ্ধৃতি প্রধান দলিল ধোপে টিকল না, তারা আরও একটা আয়াতকে রাজতন্ত্রের সপক্ষে দলিল হিসাবে নিয়ে আসেন। সেই আয়াতটি হল-
وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنْبِيَاءَ وَجَعَلَكُمْ مُلُوكًا وَآتَاكُمْ مَا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ
অনুবাদ হবে এমন-"এবং [স্মরণ করুন], যখন মূসা তার জাতিকে বলেছিল- তোমরা আল্লাহর সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করও, যা আল্লাহ তোমাদের উপর করে ছিলেন। তিনি তোমাদের মধ্যে বহু নাবী পাঠিয়েছেন, তোমাদেরকে 'রাজত্ব' দান করে ছিলেন এবং তোমাদের কে এমন অনেক কিছু দিয়েছেন, যা পৃথিবীতে আর কাউকে দেননি"(5:20)।
সুধী পাঠক, এবার দলিল খন্ডন করি?? উক্ত আয়াতে مُلُوكًا (মুলুকা) বা রাজত্ব'র কথা বলা হয়েছে, বলা হয় নি রাজতন্ত্রের কথা নয়!! মানে বিষয়টি খুবই সহজ যে, রাজা বা রাজতন্ত্র ছাড়াও রাজত্ব হতে পারে, যেমন- বর্তমান ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের রাজত্ব কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজা নন!! এক কথায়- রাজত্ব রাজার না'ও হতে পারে কিন্তু রাজার রাজত্ব হয়'ই। এগুলো মাথায় ঢুকবে না, মাদ্রাসায় না পড়লে ঢুকত অবশ্যই!!
সুধী পাঠক, যখন সম্মানিত হারামখোরদের আয়াত দ্বারা দলিল ধোপে টিকল না, তখন তারা একটি হাদীস কে দলিল হিসাবে উপস্থিত করে। এখানে হাঁসির কথা হল- সম্মানিত হারামখোরগণ যে হাদীসটাকে রাজতন্ত্র হালালের দলিল হিসাবে উপস্থিত করে, ঐ হাদীসটাই রাজতন্ত্র হারামের প্রমাণ্য দলিল!!
সুধী পাঠক, আমার মাঝে-মাঝে হাঁসি পায়, সম্মানিত হারামখোরদের জ্ঞানের পরিধি দেখে। কারণ, তার যে হাদীসটাকে রাজতন্ত্র হালালের দলিল হিসাবে উপস্থিত করে, ঐ হাদীসটাই রাজতন্ত্র হারামের প্রমাণ্য দলিল!! এ জন্য মনে হয়- আলিমদেরকে সম্মানিত হারামখোর বললে, হারামখোরদেরকে অপমান করা হয়!!
যাইহোক পাঠক, এবার একটু ব্যাখা বিশ্লেষণ এবং কুরানী বিশ্লেষণ করি, হ্যাঁ?? পাঠক, বলতে পারবেন কি যে, রাজাকে আরবিতে কি বলা হয়?? উত্তর সহজ- ملك (মালিক), 2:246 ও 2:247 আয়াতে শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন দেখুন- قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا অনু বাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য তালুত কে রাজা করেছেন"(2:247)।
এখন হয়ত কেউ-কেউ বলতে পারেন- রাজতন্ত্রের দলিল কোরানে নেই, ঠিক আছে। তা'ই বলে রাজতন্ত্র হারাম প্রমাণ তো হয় নি!! উত্তর সহজ- সামান্য একটু ধৈর্য্য ধরুন, মহা সম্মানিত হারামখোরদের রাজতন্ত্র হালালের হাদীসটা এনে রাজতন্ত্র হারাম প্রমাণ করে দেব- ইনশাআল্লাহ!!
এখন ছোট্ট একটা প্রশ্ন- খালিফাতন্ত্রের বাংলা অর্থ কি হবে?? খালিফা অর্থ- প্রতিনিধি, তাই না?? তাহলে খালিফাতন্ত্রের অর্থ কি হবে?? প্রতিনিধিতন্ত্র, তাই না??প্রতিনিধিতন্ত্র বলতে কি বোঝায়?? জনগণ ঠিক করবে যে, তাদের উপর কে শাসন করবে এবং তাদের সমস্যা গুলো সমাধান করবে!! আমি কি ঠিক বললাম??
সুধী পাঠক, এবার বলুন- জনগণ কোথায়/ কিভাবে তাদের প্রতিনিধি পছন্দ করার সুযোগ পান?? তা কি গণতন্ত্র নয়?? তাহলে কি খালিফাতন্ত্র আসলেই গণতন্ত্র নয়?? আর 38:26 আয়াত থেকে যে যে তথ্য আমরা বের করে ছিলাম, তা কি রাজতন্ত্রে পাওয়া যায়, না কি গণতন্ত্রে?? গণতন্ত্রে, তাই না??
সুধী পাঠক, এবার আমরা 2-1 হাদীস দেখে নেব, যে খানে নাবী (সা) কি সুন্দর ভাবে ভবিষ্যতবাণী করে ছিলেন, অথচ তা হল- প্রায় নাবী (সা)- এর মৃত্যুর পর পৃথিবী ধ্বংসের দিন পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাস!! দেখবেন হাদীসটি?? আপনি কি নাবী (সা)- এর প্রতি মুগ্ধ হতে চাইবেন?? তা হলে দেখুন-
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَشْرَجُ بْنُ نُبَاتَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سَفِينَةُ، قَالَ• قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم- الْخِلاَفَةُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ سَنَةً ثُمَّ مُلْكٌ بَعْدَ ذَلِكَ●
অনুবাদ হবে এমন-"সাঈদ ইবনু জুহমান [র] হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- সাফীনাহ [রা] আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ [সা] বলেছেন- আমার উম্মাতের খিলাফাতের [খালিফাতন্ত্রের সময়কাল [প্রথম শাসন কাল] হবে 30 বছর, তারপর হবে রাজতন্ত্র"(তিরমিযী, কিতাবুত ফিতান, হাদীস 2226)।
সুধী পাঠক, আমরা উপরিউক্ত হাদীসের মারফু অংশ টা উল্লেখ করলাম। উপরিউক্ত হাদীসের মূল রাবি সাফিনাহ (রা)- এর মাওকুফ বা আসারটা উল্লেখ করি নি, যেটা তিনি উপরিউক্ত হাদীসের মারফু অংশের পেক্ষিতে বলেছিলেন। সেটা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব- ইনশাআল্লাহ এবং তা খুবই কাজের!!
সুধী পাঠক, তাহলে দেখুন সেই হাদীসটি, যা সম্মানিত হারামখোরদের কাছে রাজতন্ত্র হালাল এবং গণতন্ত্র হারামের দলিল। পাঠক, এখন আপনি নিজে হাদীসটি দেখে বলুন- নিচের হাদীসটি রাজতন্ত্র হালাল ও গণতন্ত্র হারামের দলিল, না কি গণতন্ত্র হালাল এবং রাজতন্ত্র হারামের দলিল!! দেখুন-
হুজাইফা [রা] থেকে বর্ণিত। নাবী [স] বলেছেন তথা ভবিষ্যৎবাণী করেছেন- নবুওয়াত ব্যবস্থা তোমাদের মাঝে ততদিন থাকবে, যতদিন আল্লাহ চাইবেন। তার পর যখন ইচ্ছা, তখন তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর তোমাদের মাঝে নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খিলাফত [জন প্রতিনিধিত্ব বা গণতন্ত্র] প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা, ততদিন থাকবে। তারপর তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর হানা-হানীর রাজত্ব [রাজতন্ত্র] প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা, ততদিন থাকবে। তারপর আল্লাহর ইচ্ছায় তার বিলুপ্তি ঘটবে। তারপর জবর দখল তথা আধিপত্য বিস্তারের রাজত্ব [সাম্রাজ্যবাদ] প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তা পৃথিবীতে কিছুকাল বিরাজমান থাকবে। তারপর যখন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, তখন এরও অবসান ঘটবে। তারপর পুনরায় নবুওয়াতের নমুনায় খিলাফত [জন প্রতিনিধিত্ব বা গণতন্ত্র] প্রতিষ্ঠিত হবে [যেমন- ভারতে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আর শুধু ভারত নয়, পৃথিবীর বহু দেশই এর উদাহরণ]। এ বলে নাবী [স] চুপ রইলেন"(মুসনাদে আহমাদ, হাদীস 4/ 273)।
সুধী পাঠক, আজও পৃথিবীর বহু শক্তিশালী দেশ ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় সাম্রাজ্যবাদের নীতি অবলম্বন করে ছোট ও গরীব দেশ গুলোকে শাসন/ শোষণ করে চলেছে। যেমন- America, france, britain, chaina, israel ইত্যাদি। এখানে আমার জন্য অনেক বড় দুঃখের বিষয় হল- সাম্রাজ্যবাদের শিকার 98% মুসলিম দেশ। আর আমার জন্য খুশির বিষয় হল- আমার প্রিয় দেশ ভারত চাইলেই সাম্রাজ্যবাদের নীতি অবলম্বন করে ছোট ও গরীব দেশ গুলোকে শাসন/ শোষণ করতে পারে কিন্তু তা করে নি। এটা শুধু আমার জন্য খুশির বিষয়, তা নয় বরং গর্বেরও!!
যাইহোক পাঠক, মুসনাদে আহমাদে হাদীসটা দেখে আপনার কি/ কেমন মনে হল?? রাজতন্ত্র হালাল বলে মনে হল?? যদি আপনার মাথায় মগজ না থেকে ঐ সম্মানিত হারামখোরদের লেখা কাগজ থাকে, তাহলে আপনার কাছে রাজতন্ত্র হালালই মনে হবে!! এখন আপনি বলুন- আপনার মাথায় কি আছে??
সুধী পাঠক, এবার দেখুন- তিরমিযীর 2226 হাদীসের মূল রাবি সাফিনাহ (রা) এবং দ্বিতীয় মুল রাবি সাঈদ ইবনু জুহমান (র)- এর কথোপকথন!! আরও একবার হাদীস দেখুন-
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَشْرَجُ بْنُ نُبَاتَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سَفِينَةُ، قَالَ• قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم- الْخِلاَفَةُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ سَنَةً ثُمَّ مُلْكٌ بَعْدَ ذَلِكَ●
অনুবাদ হবে এমন-"সাঈদ ইবনু জুহমান [র] হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- সাফীনাহ [রা] আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ [সা] বলেছেন- আমার উম্মাতের খিলাফাতের [খালিফাতন্ত্রের সময়কাল [প্রথম শাসন কাল] হবে 30 বছর, তারপর হবে রাজতন্ত্র"(তিরমিযী, কিতাবুত ফিতান, হাদীস 2226)। এর পর সাফিনাহ (রা) এবং সাঈদ (র)- এর কথোপকথন দেখুন-
ثُمَّ قَالَ لِي سَفِينَةُ أَمْسِكْ خِلاَفَةَ أَبِي بَكْرٍ وَخِلاَفَةَ عُمَرَ وَخِلاَفَةَ عُثْمَانَ. ثُمَّ قَالَ لِي أَمْسِكْ خِلاَفَةَ عَلِيٍّ. قَالَ فَوَجَدْنَاهَا ثَلاَثِينَ سَنَةً. قَالَ سَعِيدٌ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ بَنِي أُمَيَّةَ يَزْعُمُونَ أَنَّ الْخِلاَفَةَ فِيهِمْ. قَالَ كَذَبُوا بَنُو الزَّرْقَاءِ بَلْ هُمْ مُلُوكٌ مِنْ شَرِّ الْمُلُوكِ●
অনুবাদ হবে এমন-"তারপর সাফীনাহ [রা] আমাকে বললেন- তুমি আবু বাকার [রা]- এর খিলাফাতকাল গণনা কর, উমার ও উসমান [রা]- এর খিলাফাতকাল গণনা কর। তারপর বললেন- আলী [রা]- এর খিলাফাত কালও গণনা কর। আমরা গণনা করে 30 বছরই সময় কাল পেলাম। তখন সাঈদ [র] বললেন- আমি তাকে [সাফীনাহ (রা)- কে] বললাম বানু উমাইয়ার জনগণও দাবি করে যে, তাদের মাঝেও খিলাফাত বিদ্যমান!! তখন তিনি [সাহাবা সাফীনাহ (রা)] বললেন- যারকার সন্তানেরা মিথ্যা বলছে বরং তারা তো নিকৃষ্ট রাজতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত রাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী"।
পাঠক, সাহাবা সাফীনাহ (রা)- এর উচ্চারিত শব্দ গুলো আরও একবার দেখতে পারেন, হতে আপনার সিদ্ধান্ত নড়বে!! দেখুন- هُمْ مُلُوكٌ مِنْ شَرِّ الْمُلُوكِ অনুবাদ হবে এমন-"তারা তো *নিকৃষ্ট* রাজতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত রাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী"।
এখন হয়ত কেউ-কেউ বলতে পারেন- অনেক বড় বড় এবং বিখ্যাত-বিখ্যাত সাহাবা (রা)- রা মাবিয়া (রা)- সমর্থন করেছিলেন এবং ইয়াজিদ (র)- কেও!! উত্তরটা খুব সহজ, দেখুন-
قَالَ أَبُو عِيسَى- وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ، وَ عَلِيٍّ، قَالَا- لَمْ يَعْهَدِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْخِلَافَةِ شَيْئًا، وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، قَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، وَلَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ●
অনুবাদ হবে এমন-"আবু ঈসা [তিরমিযী (র)] বলেন যে, উমার ও আলী (রা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তারা বলেন- খিলাফাত প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ [সা] কোনও অঙ্গীকার করে যাননি। এই হাদীসটি হাসান। অবশ্য এ হাদীসটি সাঈদ ইবনু জুমহান (র) হতে একের অধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি"। এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযীর (র)- এর মতে হাসান হলেও বর্তমান তাহকীকে হাদীসটি সাহীহ। চাইলে তাহকীক করা তিরমিযী দেখে নিতে পারেন!!
তাহলে সুধী পাঠক, কিছু বুঝলেন?? অন্যান্য বড় ও বিখ্যাত সাহাবা (রা)- রা জানতেন না যে, মাবিয়া (রা) খালিফা নন/ খিলাফাত 30 বছরে শেষ হয়ে যাবে। তার পর রাজতন্ত্র আসবে!! তাই অন্যান্য বড়-বড় ও বিখ্যাত সাহাবা (রা)- রা মাবিয়া (রা)- কে খালিফা-ই ভাবতে ছিলেন, ফলত সমর্থন করেছিলেন। আর তার পুত্র ইয়াজিদ (র)- কেও। পরবর্তী রাজাদের ক্ষেত্রেও তাই-ই হয়েছিল!!
এবার কেউ-কেউ হয়ত বলতে পারেন- দাউদ (আ)- এর পুত্র সুলাইমান (আ) তো রাজা ছিলেন?? তাকে তো আর জনগণ নিজেদের শাসক পদে অধিষ্ঠিত করেন নি?? তিনি তো পিতার সুত্রে রাজত্ব পেয়ে রাজা হয়ে ছিলেন??
সুধী পাঠক, এ প্রশ্নের উত্তর কি হতে পারে?? আপনি কি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন?? আচ্ছা ছাড়ুন ভাই, আপনাকে বলতে হবে না। দেখি এ বিষয়ে আল্লাহ কি বলেছেন!! নিন-
وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ۖ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ• عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং দাউদের উত্তরাধিকারী হল [তার পুত্র] সুলাইমান এবং সে বলল- হে মানুষ, আমাকে শেখানও হয়েছে পাখিদের ভাষা এবং আমাকে দেয়া হয়েছে সব কিছু [একজন খালিফার মধ্যে যা যা থাকা প্রয়োজন]। নিশ্চয় এটা [আল্লাহর] সুস্পষ্ট অনুগ্রহ"(27: 16)।
এই আয়াত পরিষ্কার প্রমাণ বহন করছে যে, নাবী সুলাইমান (আ) মানুষদের থেকে জন সমর্থন চাইছেন!! এখন প্রশ্ন হতে পারে- তাহলে আল্লাহ কেন বললেন যে, وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ অনুবাদ হবে এমন-"সুলাইমান হল দাউদের উত্তরাধিকারী"?? পাঠক, আপনি কি ভাবছেন যে, উত্তর খুব কঠিন?? মোটেও নয়, এখানে হোসেন কুরানী আছে, তাই উত্তর খুব সহজ!! দেখুন-
وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، وَإِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ• فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং নিশ্চয় জ্ঞানীরা হলেন নাবী [আ]- দের উত্তরাধিকারী এবং নিশ্চয় নাবী [আ] গণ কোনও দীনার [Gold coin] বা দিরহাম [Silver coin] মিরাস রেখে যান না, তারা উত্তরাধিকার সূত্রে রেখে যান শুধু- জ্ঞান। সুতরাং যে জ্ঞান অর্জন করেছে সে পূর্ণ অংশ গ্রহণ করেছে"(আবু দাউদ, কিতাবুত ইলমের প্রথম হাদীস অর্থাৎ 3641 নং হাদীস)। পাঠক, তাহলে কি বুঝলেন যে, নাবী সুলাইমান (আ) নাবী দাউদ (আ)- এর কিসের ওয়ারিস/ উত্তরাধিকারী ছিলেন?? হ্যাঁ ঠিক বুঝেছেন, রাজত্বের বা সম্পদের নয়, জ্ঞানের!!
সম্মানিত হারামখোরদের অন্যতম যুক্তি- গণতান্ত্রে প্রতিনিধিদের সংখ্যার ভিক্তিতে হারামকে হালাল করে নেওয়া যায়, যেমন- মদ!! এ প্রশ্নের উত্তর সহজ কিছু অনেক বড়, তাই সমগ্র লেখাটা পড়ে নিন, উত্তর পেয়ে যাবেন- ইনশাআল্লাহ!!
সুধী পাঠক, রাজতন্ত্রের উল্লেখ কোরান ও তৎসংলগ্ন সাহীহ/ হাসান হাদীসে নেই এবং আমরা তা মোটামুটি ভাবে হারাম প্রমাণ করলাম। তাই না?? আর আমরা এও দেখাতে সক্ষম হয়েছি যে, খালিফাতন্ত্র আসলেই গণতন্ত্র। তাই এখন আমরা গণতন্ত্রের পরিকাঠামো সম্পর্কেই আলোচনা করব- ইনশাআল্লাহ। নয়ত শুধু সময় নষ্ট করাই হবে, তাই না??
পরিকাঠামো বলতে, গণতন্ত্রের একাধিক প্রকারভেদ দেখা যায়। তবে, মূলনীতিটা একই। পবিত্র কোরান সেই মূলনীতিটাই মানব জাতিকে উপহার দিয়েছে আজ হতে 1500 বছর পূর্বে, যখন পৃথিবী রাজতন্ত্র ও রাজতন্ত্রে একনায়কতন্ত্র ছাড়া আর কিছুই জানত না!! আমরা এবার দেখে নেব সেই মূলনীতি। পাঠক, আপনি দেখতে চাইবেন?? তবে দেখুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا• أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা অনুসরণ/ আনুগত্য করও আল্লাহর [সংবিধানের], তার রাসুলের [মৌলিক আইনের], আর নির্বাচিত শাসকের"(4:59)।
হ্যাঁ, আমি জানি যে, এখানে কেউ-কেউ বলবেন- ভুল অনুবাদ, ভুল অনুবাদ ভুল অনুবাদ!! পাঠক, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং গত 'মহিলা শাসক' বিষয়ক লেখাটা পড়তে নিচের Link এ Click করুন---
শাসকের কাজ হল- সংবিধান ও আইন প্রতিষ্ঠা করা। শাসক সময়ের প্রয়োজনে আইন তৈরি করতেও পারে কিন্তু তা যেন সংবিধান ও মৌলিক আইনের বিপক্ষে না যায় এবং নতুন আইনের সুত্র যেন সংবিধান ও মৌলিক আইনের পক্ষে থাকে!!
যেমন ধরুন- Bike driving করার জন্য Helmet compulsory act, যা সাধারণ আইন কিন্তু তা কোরান বা সংবিধানে, নাবী (সা) বা মৌলিক আইনে নেই কিন্তু তার সুত্রটা আছে, দেখুন- وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করও না/ নিজেরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করও না"(2:195)।
যতক্ষণ সাধারণ আইন বা সংশ্লিষ্ট আইন সংবিধান ও মৌলিক আইনের বিপক্ষে না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা অনুসরণ করতে হবে। আর বিপক্ষে গেলে, ঐ আইন প্রত্যাহার করতে হবে, না করলে এর জন্য Court তো থাকবেই!!
সত্যি বলতে, গণতন্ত্রে এমনটাই হয়। ধরুন- যদি ভারত বা বাংলাদেশ সরকার Parliament থেকে কোনও আইন তৈরি করে এবং তা সংবিধানের বিপক্ষে যায়, তখন সেই আইনের বিপক্ষে Supreme court এ আইন বিবেচনার আবেদন করা হয়, তখন Supreme court ঐ নতুন আইনকে বাতিল/ অবৈধ ঘোষণা করে দেন!! তাই তো, না কি গো পাঠক??
এটা হল- আইন। এবার শাসকের বিষয়ে বলি, হ্যাঁ?? শাসকেরও অনুসরণ/ আনুগত্য ততক্ষণ পর্যন্ত করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সংবিধান বা কোরান, মৌলিক আইন বা নাবী (সা)- এর পক্ষে থাকবেন!! এবার এই 2 বিষয়ের দলিল দিতে হবে, তাই না?? দেখুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا• أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ ۖ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ• فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ• إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা অনুসরণ/ আনুগত্য করও আল্লাহর [সংবিধানের], তার রাসুলের [মৌলিক আইনের], আর নির্বাচিত শাসকের। অতপর যদি তোমরা কোনও কিছুর [সাধারণ আইন/ শাসক] বিষয়ে, তবে ফিরে এসও আল্লাহ [সংবিধান], তার রাসুলের [মৌলিক আইনের] দিকে, যদি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও!! এটাই উত্তম এবং পরিণতিতে সুন্দর"(4:59)।
প্রশ্ন হবে- আইন তৈরির পদ্ধতি কেমন হবে?? সুধী পাঠক, আমরা প্রথমে ভারতে কিভাবে আইন তৈরি করা হয়, তা খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে বলি। তাহলেই বিষয়টি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন- ইনশাআল্লাহ। দেখুন-
প্রথমে Proposal দিয়ে Draft তৈরি করা হয়, পরে Cabinet এ নিয়ে আসা হয়, তখন তা তা Bill বলে গণ্য হয়। পরে Bill কে হিসেবে Lok sabha অর্থাৎ Lower house এ আনা হয়, তারপর Lok sabha'য় প্রতিনিধি দের আলোচনা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে Bill pass হলে তাতে Lower house এর Speaker's signature হয়ে তা Rajya sabha বা Upper house পাঠানও হয়। সেখানেও আলোচনা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে Bill pass হলে তাতে Rajya sabha'র Chairman/ Vice president of india বা উপরাষ্ট্রপতির Signature হয়ে তা President of india বা রাষ্ট্রপতির কাছে যায়। তার পর Bill এ President of india'র Signature হলেই তা আইন বা Act বলে গণ্য হবে!!
হ্যাঁ, এখানে Law minister ও Law commission এর ভূমিকা থাকে, তা আমি ইচ্ছা করেই উল্লেখ করি নি!! এছাড়াও বেশ কিছু ক্ষেত্রে উক্ত নিয়মের ব্যতিক্রম হয় যেমন- Financial amendment bill. যা শুধুমাত্র Lok sabha অর্থাৎ Lower house থেকে Pass করিয়ে নিলেই হয়!! উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পৃথিবীর প্রায় সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই আইন তৈরির পদ্ধতি কাছা-কাছি একই, হয়ত 2-5% ভিন্ন!!
আরও উল্লেখ করা ভাল- ভারতে গণতন্ত্র পরিচালিত হয় Central govt ও State govt এর মাধ্যমে। এখানে State govt'ও আইন তৈরি করতে পারে বিধানসভার মাধ্যমে M L A দের আলোচনা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। তবে, ঐ আইন ঐ রাজ্য ছাড়া অন্য রাজ্যে প্রযোজ্য হবে না!! এটাকে Political science এর ভাষায় বলা হল- Federal democracy system, এই System মনে হয় বাংলাদেশে নেই। এই জন্যই ভারতের গণতন্ত্র- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সহনশীল গণতান্ত্র!! আর এটা ভারতীয় হিসাবে আমার জন্য অনেক গর্বের বিষয়, অতি গর্বের!!
সুবহানআল্লাহ, পবিত্র কোরান আমাদেরকে 1500 বছর পূর্বেই আইন তৈরির মূলনীতি, সরকার চালানোর মূলনীতি শিখিয়ে দিয়েছেন। আর তা উল্লেখ করা আছে এভাবে- وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ অনুবাদ হবে এমন-"যারা পরামর্শ বা আলোচনা ভিত্তিক সমস্ত কাজ করে অর্থাৎ নিজ সিদ্ধান্ত ভিত্তিক নয়"(42:38)। এছাড়াও আরও বলা হয়েছে এভাবে- وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ অনুবাদ হবে এমন-"সিদ্ধান্ত নেওয়ার [আইন তৈরির বা যে কোনও] ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করুন"(3:159)। এক কথায়, কোরান Parliamentary গণতন্ত্র আমাদেরকে উপহার দিয়েছে!!
পরবর্তী প্রশ্ন হবে- সরকার কিভাবে তৈরি করব?? উত্তর সহজ- আইন তৈরির মতো, সরকার চালানোর মতো শুধু মূলনীতিটাই আমাদের উপহার দিয়েছে। এই মূলনীতি সহ যে কোনও পদ্ধতিই গ্ৰহনযোগ্য। মূলনীতি টা দেখুন-
وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ۖ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ• عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং দাউদের উত্তরাধিকারী হল [তার পুত্র] সুলাইমান এবং সে বলল- হে মানুষ, আমাকে শেখানও হয়েছে পাখিদের ভাষা এবং আমাকে দেয়া হয়েছে সব কিছু [একজন খালিফার মধ্যে যা যা থাকা প্রয়োজন]। নিশ্চয় এটা [আল্লাহর] সুস্পষ্ট অনুগ্রহ"(27: 16)।
অর্থাৎ বিষয়টি খুবই সহজ। নিজের যোগ্যতা এবং রাষ্ট্র ও জনগণ বা মানুষের জন্য কি করতে চাইছেন, তা প্রচার করবেন। তারপর মানুষ যদি আপনাকে সমর্থন/ ভোট দেয়, তাহলে আপনি নির্বাচিত হয়ে যাবেন, হয়ে উঠবেন- أُولِي الْأَمْرِ (উলিল আমার)।
এখন أُولِي الْأَمْرِ (উলিল আমার) বা নির্বাচিত শাসক বা সংবিধান ও আইনের পরে সর্বোচ্চ ব্যাক্তি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী (বৃটেন, ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে)/ রাষ্ট্র পতি (America, Russia'র ক্ষেত্রে) ভিন্ন ভাবে গঠিত হয়। যেমন- America তে রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি জনগণ Vote দেন কিন্তু ভারতে এমনটা হয় না। ভারতে প্রথমে M P (Member of parliament) নির্বাচিত হন, তারপর M P রা তাদের নিজেদের মধ্যে নেতা ও প্রধানমন্ত্রীকে Vote দিয়ে নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তৈরি করেন!! যাইহোক কোরান শুধু মূলনীতিটাই উল্লেখ করেছে।
প্রশ্ন হবে- তাহলে তো রাজনৈতিক দল তৈরি করতে হবে, আর দল তৈরি করা হারাম!! উত্তর সহজ- কোরান দ্বীনকে বিভক্ত করতে নিষেধ করেছে, Company তৈরি করতে নয়। রাজনৈতিক দল হল- গণতন্ত্রের Company. যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রের জন্য, মানুষের জন্য যোগ্য হবে, মানুষ সেই রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার চাকরি দেবেন এবং বেতনও, যাকে আমরা ভাতা বলে থাকি!!
আর সেই Company'র Worker হল- M L A/ M P রা। আর যদি তারা Contract অনুযায়ী কাজ না করেন, তাহলে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করাও হয়। এখন কি কোনও Company কে Contract দেওয়াও হারাম হয়ে গেল??
আর রাজনৈতিক দল ছাড়া একা কোনও প্রধানমন্ত্রী দাবিদার তার লক্ষ্য উদেশ্য গুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন না!! তবে, এখন আমি হোসেন কুরানী Quranic universe এর পক্ষ থেকে কমপক্ষে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করতে চাইব- Vote প্রচারের জন্য শুধু Radio, news paper/ channel ও Social media'র ব্যবহার হোক, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে জনসমাবেশ করে সাধারণ মানুষকে পেরেশান ও হয়রানী করা বন্ধ হোক। একটা জনসমাবেশের জন্য সব মিলিয়ে কোটি-কোটি টাকা অপচয় হয়!! আর একটা অনুরোধ নির্বাচনে হেরে যাওয়া M P/ M L A কে বেতন দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হোক। কারণ হেরে যাওয়া M P/ M L A মানুষের জন্য কিছুই করেন না। সুতরাং তাকে বেতন দেব কেন?? আমাদেরকে অনেক কষ্ট করে টাকা উপার্জন করতে হয়!!
নির্বাচিত সরকার তাদের/ প্রধানমন্ত্রী/ রাষ্ট্রপতি তার প্রতিশ্রুতি পালন না করেন এবং সংবিধান ও আইন বিরোধী কাজ করতে থাকেন, তখন যা করবেন, তা বলা হয়েছে এভাবে-
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ• فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ• إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا●
অনুবাদ হবে এমন-"পরে যদি তোমরা কোনও কিছুর [সাধারণ আইন/ শাসক] বিষয়ে মতভেদ করও, তবে ফিরে এসও আল্লাহ [সংবিধান], তার রাসুলের [মৌলিক আইনের] দিকে, যদি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও!! এটাই উত্তম এবং পরিণতিতে সুন্দর"(4:59)।
গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী বদল তো রাজনৈতিক দল যখন চাইবে, তখন করতে পারবে। তবে যদি সরকার বদলের প্রয়োজন হয়, তখন নিদিষ্ট একটা সময় আছে এবং তা হল- কোনও দেশে 5 বছর (ভারত, বাংলাদেশ), কোনও দেশে 4 বছর (U S A)।
প্রশ্ন হবে- রাষ্ট্রের প্রয়োজন, পরিচালনায় ও সরকার পরিচালনায় বিরাট বড় অংকের অর্থ (টাকা) প্রয়োজন। সেই সম্পর্কে কোরান কোনও মূলনীতি প্রদান করে নি?? উত্তর সহজ- গণতান্ত্রের এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোরান কিছু বলবে না, তা কি হয়?? দেখুন-
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় সাদাকা [Tax বা কর] সমূহ ১) নিঃস্ব, ২) গরিবদের, ৩) রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মচারী, ৪) যাদের জন্য মন জয় করা প্রয়োজন, ৫) দাস মুক্ত করার, ৬) ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করার, ৭) আল্লাহর পথে এবং ৮) রাস্তার ছেলেদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত [ফারাদ]। আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞানী এবং মহাবিজ্ঞানী"(9:60)। সুধী পাঠক, উক্ত আয়াতের 3 no point টা Follow করুন।
প্রশ্ন হবে- গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অন্যতম সুন্দর বৈশিষ্ট্য হল- রাষ্ট্র প্রতিটা ধর্মের প্রতি নিরপেক্ষ!! এ সম্পর্কে পবিত্র কোরান কি কোনও মূলনীতি প্রদান করেছে?? উত্তর খুব সহজ, দেখুন- لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ অনুবাদ হবে এমন-"তোমাদের জন্য তোমাদের জীবন ব্যবস্থা, আমার জন্য আমার জীবন ব্যবস্থা"(109:7)।
আর এ বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই মূল্যবান আয়াতটি- لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ অনুবাদ হবে এমন-"দ্বীনের মধ্যে [অমুসলিমদের উপর] কোনও জোর জবরদস্তি নেই"(2:256)।
অর্থাৎ রাষ্ট্রে বসবাসকারী সবাই সমান। ধর্মের কারণে কেউ কারও থেকে বড় নয়। তবে- وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا অনুবাদ হবে এমন-"এবং প্রত্যেকের রয়েছে বিভিন্ন মর্যাদা, কাজের ভিত্তিতে"(6:132, 46:19)।
প্রশ্ন হবে- নিজ মতাদর্শ প্রচারের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম সুন্দর বৈশিষ্ট্য, এই সম্পর্কে কোরান কি কিছু বলেছে?? ভাই, এই সম্পর্কে কোরান কিছু বলবে না, তা হয়?? নিন- قُلْ يَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ অনু বাদ হবে এমন-"বলুন> হে জাতি, তোমরা তোমাদের অবস্থার উপর কাজ [মতাদর্শ পালন ও প্রচার] করতে থাকও, নিশ্চয় আমিও কাজ করে যাচ্ছি"(39:39)।
প্রশ্ন হবে-"গণতন্ত্রে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এ বিষয়ে ইসলাম কি কিছু বলেছে?? উত্তর সহজ- ইসলাম বলবে না তো, বলবে কে?? এই সম্পর্কে মুহাম্মাদ (সা)- এর এ উক্তিটাই যথেষ্ট-
لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم سَرَقَتْ• لَقَطَعَ مُحَمَّدٌ يَدَهَا●
অনুবাদ হবে এমন-"মুহাম্মাদ [সা]- এর কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করে, তবে অবশ্যই মুহাম্মাদ [সা] তার হাত কেটে দেবে"। পাঠক, সম্পূর্ণ হাদীসটা নিচে উদ্ধৃতি করা হল, দেখে নিন এবং অবাক হন-
"আয়িশাহ [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- মাখযুমী গোত্রের এক মহিলা কুরাইশদের খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল, যে চুরি করেছিল। সহাবা [রা]- গণ বললেন- রাসুলুল্লাহ [সা]- এর সঙ্গে কে কথা বলতে পারবে?? আর রাসুলুল্লাহ [সা]- এর প্রিয় জন উসামাহ [রা] ছাড়া এটা কেউ করতে পারবে না!! তখন উসামাহ [রা] রাসুলুল্লাহ [সা]- এর সঙ্গে কথা বললেন। এতে তিনি বললেন- তুমি আল্লাহর শাস্তির বিধানের ব্যাপারে সুপারিশ করছ?? এরপর তিনি [নাবী (সা)] দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন ও বললেন- হে মানুষ, নিশ্চয়ই তোমাদের আগের মানুষরা পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ, কোনও সম্মানী ব্যক্তি যখন চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তখন তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর শপথ, মুহাম্মাদ [সা]- এর কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করে, তবে অবশ্যই মুহাম্মাদ [সা] তার হাত কেটে দেবে"(বুখারী, কিতাবুল হুদুদ, হাদীস 6788)।
প্রশ্ন হবে- গণতন্ত্রে যে মদ হালাল করা যায়, তার কি হবে?? উত্তর সহজ- সেটা কি গণতন্ত্রের দোষ, না কি জনপ্রতিনিধি বা M P/ M L A দের?? আপনি এমন সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসবেন কেন, যে সরকার মদ হালাল করে দেবে?? এছাড়াও ভারত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও গুজরাট ও বিহারে মদ Ban আছে। এখন কি বলবেন??
এবার একটা কথা বলি, মনযোগ দিয়ে শুনুন- ইসলাম গণতন্ত্রের ধারণা দেয়/ কথা বলে, তবে শুধুমাত্র গণতন্ত্র ইসলাম নয়!! ইসলামের ছোট্ট একটা অংশ হল- এই গণতন্ত্র বা Democracy. আপনি গণতন্ত্রকে ইসলাম ভাবছেন/ গণতন্ত্র VS ইসলাম ভাবছেন কেন??
গণতন্ত্র শুধুমাত্র রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং উন্নততর একটি মাধ্যম, জীবন পরিচালনার নয়!! এখন আমি মুসলিম, সম্পূর্ণ কোরান অনুযায়ী জীবন যাপন করব। তবে হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে ইসলামের বিধি-বিধান হয়ত পালন করা সম্ভব হয় না। যেমন- চুরির শাস্তি 'হাত কাটা' আইনটা, তাই না??
উত্তর সহজ- আইনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কি সম্পর্ক?? গণতন্ত্র এবং দন্ড আইন (penal code) 2 টি ভিন্ন-ভিন্ন বিষয়। গণতন্ত্র হল- রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি, আর দন্ড আইন (penal code) হল- অপরাধের শাস্তির জন্য তৈরি করা আইন।
এখন এই 2 টি তারাই এক করে ফেলে, যাদের গায়ে জ্ঞান নেই, চুলকানিতে ভর্তি। যারা বোঝে কম, গোঁজে বেশি। যারা পড়ে কম, ঝাড়ে বেশি!! আর আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ তো মূর্খতার শেষ সীমায় অবস্থান করেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলে ছেন- إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট জন্তু হল তারা, যারা বধির ও বোবা এবং যারা চিন্তা ভাবনা করে না"(8:22)।
এখন আমরা (মুসলিমরা) যা করতে পারি, তা খুব সহজ কাজ- ১) সরকারের কাছে কোরান প্রদত্ত আইন গুলো তুলে ধরে তার প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে অবগত করানও, ২) জনগণের কাছে কোরান প্রদত্ত আইন গুলো তুলে ধরে তার প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে অবগত করানও!!
প্রশ্ন হবে- গণতন্ত্রে তো জনগণ সর্ব ক্ষমতার মালিক অথচ ইসলামে তা আল্লাহ!! উত্তর সহজ- তারমানে আপনি বলতে চাইছেন- জনগণ এবং আল্লাহ সমান ক্ষমতার অধিকারী?? আপনাকে আলিম (সম্মানিত হারামখোর) কে করল, তা আমার মাথায় ঢোকে না!! যে আপনাকে আলিম (সম্মানিত হারামখোর) হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তার মুখে লাত্থি মেরে তার মুখ ভেঙে দেওয়া দরকার!! হারামখোরদের, গায়ে জ্ঞান নেই, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের "রা" বোঝে না, চলে আসে ফাতুয়া দিতে। যত্ত সব বে'আদব!!
অথচ আল্লাহ বলেছেন- وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তার সমতুল্য কেউ নেই"(112:4)। শুধু এই নয়, আরও দেখুন- لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ অনুবাদ হবে এমন-"কখনও নয় কোনও কিছু তার মতো"(42:11)।
প্রশ্ন হবে- প্রধানমন্ত্রী মোদি, শেখ হাসিনা President of russia ও President of america কি أُولِي الْأَمْرِ (উলিল আমার)?? উত্তর খুবই সহজ- হ্যাঁ, যে কোনও নির্বাচিত শাসকই কোরানে বর্ণিত أُولِي الْأَمْرِ (উলিল আমার)।
প্রশ্ন হবে- রাষ্ট্র ভক্তি সম্পর্কে কি ইসলামে কিছু বলা হয়েছে?? উত্তর সহজ- ইসলাম রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কে এত কিছু বলল, রাষ্ট্র ভক্তি সম্পর্কে বলবে না, কখনও কি তা হতে পারে?? হাদীসটি দেখুন-
قَالَتْ عَائِشَةُ• فَجِئْتُ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُه• فَقَالَ- اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ●
অনুবাদ হবে এমন-"আয়িশাহ [রা] বলেন, এরপর আমি রাসুলুল্লাহ [সা]- এর কাছে এসে তাকে এদের [আবু বাকর, বিলাল (রা)- এর] অবস্থা জানালাম। তখন তিনি দুয়া করে বললেন- হে আল্লাহ, মাক্কার প্রতি আমাদের ভালবাসা যেমন, মাদিনার প্রতিও তেমন কিংবা তার চেয়ে আরও অনেক বেশি ভালবাসা দান করও"(বুখারী, কিতাবুল মারদা, হাদীস 5654)। হ্যাঁ, 'দেশ প্রেম ইমানের অংশ' মর্মে যে হাদীসটি শোনা যায়, তা জাল কিন্তু এই হাদীসটি সম্পূর্ণ সাহীহ!!
হাদীস দ্বারা বোঝা গেল- নাবী (সা) মাক্কাকে অনেক ভালবাসতেন (জন্মভূমি ও মাতৃভূমি হওয়ার জন্য) কিন্তু মাদিনা (কর্মভূমি) কে তার চেয়ে আরও অনেক বেশি ভালবাসতেন। তাই না, বলুন??
তাহলে এখান থেকে কি বোঝা গেল?? এটাই বোঝা গেল- জন্মভূমি, মাতৃভূমি ও কর্মভূমিকে ভালবাসা নাবী (সা)- এর সুন্নাত। তাই তো?? তাহলে পশ্চিমবঙ্গ আমার জন্মভূমি, ভারত আমার মাতৃভূমি ও কর্মভূমি। তাই না??
আমি জানি- অনেক অমুসলিম (যদিও তাদের সংখ্যা হাতে গোনা), মুসলিমদেরকে রাষ্ট্র ভক্ত মনে করেন না (কিছু আলিম বা সম্মানিত হারামখোরদের জন্য), যদিও 100, 000 (1 লক্ষে) এমন 1 জনও ( ভারতীয়) মুসলিম পাওয়া যাবে না, যে তার দেশকে ( আমার ভারতকে) ভালবাসে না!!
সমস্ত ভারতীয় অমুসলিম ভাই দের বলব- মুসলিম দেরকে রাষ্ট্রবিরোধী মনে করাটা বন্ধ করুন, আপনার/আপনাদের এই চিন্তা মুসলিমদের মনে আঘাত দেয়!! আর প্রতিটা মুসলিমকে বলব- নাবী (সা) মাক্কা এবং মাদিনাকে যতটা ভালবাসতেন, ভারতের ভারতীয় মুসলিমদের ততটা ভালবাসা উচিৎ। যদি আমার কথা বলেন, তাহলে বলব- যেদিন আমি দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করব, সেই দিন আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি খুশির দিন হবে- ইনশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ, আলহাম দুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। যেমন- ভারতকে বৃটিশ দের থেকে স্বাধীন করার জন্য 500, 000 (5 লক্ষ) মুসলিম ফাঁসিতে প্রাণ দিয়ে খুশি হয়েছিলেন"(তথ্য সুত্র- এ সত্য গোপন কেন?? : ঐতিহাসিক, গোলাম আহমাদ মার্তুজা)।
এখানেই শেষ নয়, ভারতের জন্য ভালবাসা প্রতিটা মুসলিমের প্রার্থনা করা উচিৎ, যেমন- নাবী (সা) করে ছিলেন!! শেষে মুসলিম/ অমুসলিম সবাইকে বলতে চাইব- চলুন না, আমরা সবাই মিলে আরও একবার ভারতকে সোনার পাখিতে পরিণত করি। যেমন 1700 সালে (পৃথিবীর মোট G D P এর 25% ভারতের নিজস্ব) ছিল!!
সুধী পাঠক, আপনি কি গান্ধীজীর সহযোগী স্বাধীনতা সংগ্ৰামী ও কংগ্রেস নেত্রী Sarojini Naidu মহাশয়াকে চেনেন?? জানেন, তিনি কি বলেছিলেন?? তিনি বলে ছিলেন-"ইসলামই পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছিল"(তথ্য সুত্র- মুসলমানদের অবদান : হোসেন কুরানী ও পুস্তক সম্রাট : ঐতিহাসিক, গোলাম আহমাদ মার্তুজা)।
সুধী পাঠক, এবার একটু দুঃখের কথা বলি- একজন অমুসলিম মহিলা বুঝলেন এবং বুঝে বললেন- গণতন্ত্র ইসলামের অবদান অথচ আলিমগণ/ সম্মানিত হারাম খোরগণ গণতন্ত্রকে হারাম প্রমাণ করার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে!! সুধী পাঠক, এবার বলুন- এই আলিমগণ/ সম্মানিত হারামখোরগণের মুখে লাত্থি মেরে মুখটা ভেঙে দিতে ইচ্ছা করবে না?? আমার তো প্রচুর ইচ্ছা করছে, আপনার করছে না??
পরবর্তী প্রশ্ন- জাতীয় সঙ্গীত পাঠ করলে কি শিরক হয়?? উত্তর সহজ- না, মোটেও নয় (যদিও সম্মানিত হারামখোরগণ জাতীয় সঙ্গীত পাঠ করলে শিরক হবে মর্মে ফাতুয়া দিয়েছেন)। ইসলামীক দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় সঙ্গীত পাঠ করলে/ গাইলে কোনও সমস্যা নেই নেই এবং নেই!!
সম্মানিত হারামখোরদের 'শিরক' ফাতুয়া দেওয়ায় কারণ হল- এই সঙ্গীতে "ভারত্ ভাগ্য বিধাতা" বাক্যটি। তারা মনে করেন- ভাগ্যের বিধাতা হলেন আল্লাহ, সবার ভাগ্য আল্লাহ লিখেছেন। তাই আল্লাহ হলেন ভাগ্যের বিধাতা, ভারত নয়!! এ জন্যে তারা অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ জাতীয় সঙ্গীত পাঠ করাকে শিরক ও হারাম বলেন!!
এবার এখানে কুরানী বিশ্লেষণ প্রয়োজন, আপনি কি বলেন?? আরবি تقدر (তাকদীর) শব্দের অর্থ হল- যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যার মূল শব্দ হল- قدر (কাদর), যার অর্থ হল- নির্ধারিত, মহিমান্বিত, নিদিষ্ট ভাগ্য ইত্যাদি। দেখুন- 54:49, 107:1-3 আয়াত।
আর দেখুন- وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا অনুবাদ হবে এমন-"এবং তিনি সব কিছুকে সৃষ্টি করে পরিমিত করে ছেন তাকদীর [যথাযথ ভাবে] অনুযায়ী"(25:2)। আর হাদীস হতে আমরা জানি-
عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ- قَدَّرَ اللَّهُ الْمَقَادِيرَ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"আবদুল্লাহ ইবনু আমর [রা] বলেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ [সা]- কে বলতে শুনেছি- আল্লাহ মহাবিশ্ব সৃষ্টির 50, 000 বছর আগেই সৃষ্টির তাকদীর বা ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন"(তিরমিযী, কিতাবুল কাদার, হাদীস 2156)।
মোটামুটি ভাবে- এই হল তাকদীর (খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে কিন্তু Coin অন্য Side আলোচনা করলাম না)। এতক্ষণ ধরে যা বোঝা গেল, তা এই যে, تقدر (তাকদীর) শব্দের অর্থ হল- যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে!!
এখন প্রশ্ন হল- ভারত্ ভাগ্য বিধাতা বলতে কি 2156 নং তিরমিযীর হাদীসের ভাগ্য'র কথা বলা হচ্ছে?? না, তা একেবারেই নয় বরং ভারতের জনগণের জন্য যা কল্যাণকর, তা 'ভারত রাষ্ট্র' নিজে নির্ধারণ করবে, অন্য কোনও দেশ নয়। ঠিক যেমন- Doctor তার Patient এর জন্য Dose নির্ধারণ করেন। এই নির্ধারণও তো এক প্রকার তাকদীর!! যেমন- কারও বেতন নির্ধারিত। এও তো এক প্রকার তাকদীর!! ভারত্ ভাগ্য বিধাতা বলতে এই ভাগ্য বা তাকদীরের কথা বলা হচ্ছে!! তাই জাতীয় সঙ্গীত গাইলে কোনও সমস্যা নেই। তাই- জনগণ মন অধিনায়ক্ জয় হে, ভারত্ ভাগ্য বিধাতা...!!
এখন হয়ত কেউ-কেউ গোঁড়ামি করে বলতে পারেন যে- আল্লাহর গুণাবলী মানুষের মধ্যে কিভাবে থাকতে পারে?? উত্তর সহজ- তারমানে আপনি বলতে চাইছেন যে, আল্লাহ জ্ঞানী কিন্তু কোনও মানুষ জ্ঞানী হতে পারবে না, আল্লাহ দয়ালু কিন্তু কোনও মানুষ দয়ালু হতে পারবে না, আল্লাহ ক্ষমাশীল কিন্তু কোনও মানুষ ক্ষমা শীল হতে পারবে না?? এর পরও যদি আপনি নিজেকে বুদ্ধিমান মনে করেন, তাহলে বোকা কি সূর্যে বস-বাস করে?? যাইহোক, তবুও একটা আয়াত দেখাই, যদি কিছু মাথায় ঢোকে- صِبْغَةَ اللَّهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً
অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহর রঙে [গুণে] রঞ্জিত হয়ে যাও। আল্লাহর থেকে উত্তম রঙের [গুণের] কেউ আছে"(2:138)??
প্রশ্ন হবে- বন্দেমাতরাম গান গাইলে কি শিরক হবে?? উত্তর সহজ- না, মোটেও নয় (আলিমগণ বা সম্মানিত হারামখোরগণ বলে থাকেন)। বন্দেমাতরাম শব্দের অর্থ হল- বন্দে > বন্দনা করি বা গুণ-গান, মাতরাম > হে মা তোমার। এক কথায়- হে মা, তোমার বন্দনা/ গুণ-গান করি। যদিও আলিমগণ বা সম্মানিত হারামখোরগণ বলেন- বন্দে > উপাসনা। এটা মোটেও সঠিক অর্থ নয়। উপাসনা শব্দের সংস্কৃত শব্দ হল- উপাস্তে। যা গীতার 12:2 তে, ঈশ উপনিষদের 9, 12 তে, যজুর্বেদের 40:8 নং মন্ত্রে ব্যবহার হয়েছে!!
এছাড়াও মানুষ যে বাড়িতে বসবাস করে, সেই বাড়ির সম্পর্কে বলে- বাড়িটা সুন্দর, মানানসই, চারিদিকে গাছ পালা ও শান্ত পরিবেশ। তাই না?? সুতরাং যে দেশে বসবাস করি, সেই দেশের গুণ-গান/ প্রশংসা করা যাবে না?? আপনারা তো (আলিম বা সম্মানিত হারামখোর) আজব ধরণের মানুষ, শূকর হয়ে জন্মাতে জন্মাতে By chance মানুষ গেছেন!! আপনাদের কি বিচার-বুদ্ধিতে বাজ পড়ে গেছে, না কি বিক্রি করে খেয়ে ফেলেছেন??
তাই পাঠক, দেশের (ভারতের) গুণ-গান করায় কোনও শিরক নেই, হারামও নয়। আমি (হোসেন কুরানী) খুবই গর্বের সঙ্গে বলছি/ বলি- বন্দেমাতরাম!!
প্রশ্ন হবে- দেশকে (ভারতকে) 'মা' বলা যাবে?? ভারত মাতা কি জয়, বলা যাবে?? উত্তর সহজ- দেশকে মা বলা যাবে না মর্মে কোনও নিষিদ্ধতা আমি কোরান, তৎসংলগ্ন সাহীহ ও হাসান হাদীসে পাই নি। অন্যদিকে নিজের জন্ম দেওয়া মা ছাড়াও অন্য কোনও মহিলাকে মা বলা যাবে, তার প্রমাণ 33:6 আয়াতে রয়েছে!!
হ্যাঁ, নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলা যায় না (33:4, 33:40)। তবে, ইব্রাহিম (আ)- কে জাতির পিতা ও আদম (আ)- কে আদি পিতা পারিভাষিক অর্থে বলা হয়েছে এবং তার যৌক্তিকতাও আছে।
কিন্তু নিজের মা ছাড়াও অন্য কোনও মহিলা মা বলা যাবে, তার দলিল দিয়ে দিয়েছি। এখন প্রশ্ন হবে- দেশ কি মহিলা?? উত্তর সহজ- না কিন্তু নিজের মা ছাড়াও অন্য কোনও কাউকে মা বলা যাবে, তার দলিল দিলাম ওটা। আর দেশকে সম্মানার্থে মা বলা যাবে। যাবে না মর্মে কোনও দলিল নেই অথচ যা হারাম, তা বলে দেওয়া হয়েছে (6:119 আয়াত)। এখন আপনি হারাম প্রমাণ করুন, তাহলেই তো ঝামেলা শেষ। কিয়ামত পর্যন্ত দিলাম 'হারাম' প্রমাণ করার জন্য!!
এখন আমি (হোসেন কুরানী) বলছি/ বলি- ভারত মাতা কি জয়!! আর এটা প্রর্থনাও বটে, যে ভারতের জয় হোক!! তাই না?? এছাড়াও দিল্লির একজন স্বনাম ধন্য উকিল প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন- স্বাধীনতার সমস্ত স্লোগানই প্রায় মুসলিম দেওয়া (ভারত মাতা কি জয় ও বন্দেমাতরম বাদ দিয়ে)। যেমন- হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ, মাদার এ বাতান হিন্দুস্তান- জিন্দাবাদ, জয় হিন্দ, ইন কিলাব- জিন্দাবাদ, ইত্যাদি।
প্রশ্ন হবে- স্বাধীনতা দিবস পালন ও পতাকা উত্তোলন করা কি বিদআত?? উত্তর সহজ- যে কোনও দিবস বা Day পালন করা বিদআত ও হারাম। তারচেয়ে বড় কথা তা অযৌক্তিক!! এ জন্য Mothers day, father's day বা Teachers day, এই সবই বিদআত ও হারাম।
কারণ, মায়ের, আব্বার, শিক্ষকের সম্মান বছরে এক দিন কেন?? তাদের সম্মান তো প্রতিদিন/ প্রতিক্ষণ হওয়া উচিৎ। তাই না?? তাই এই ধরণের 'দিবস' পালন করার রীতি ইসলাম আমাদেরকে দেয় নি, তাই এগুলো বিদআত ও হারাম। সুতরাং নিদিষ্ট কোনও একদিন 'স্বাধীনতা দিবস' পালন করাও বিদআত ও হারাম!! এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের Link এ---
তাহলে কি হবে?? কিছুই হবে না, হোসেন কুরানী আছে তো, তাহলে চিন্তা করছেন কেন?? এবার অন্য প্রশ্নটি দেখি- পতাকা উত্তোলন করা যাবে?? উত্তর খুব সহজ- নাবী (সা)- এর পতাকা ছিল (বুখারী, কিতাবুল মাগাজী, হাদীস 4210)। সুতরাং পতাকা উত্তোলন করা হালাল এবং নেকীর কাজ। তাই পতাকা তুলুন, প্রতিদিন তুলুন, সপরিবারে তুলুন!! নিদিষ্ট একদিন কেন?? দেশ ভক্তি শুধু এইটুকু?? পতাকা যে কোনও দেশের পরিচয় ও সম্মান। তাই না?? সুতরাং ঘরে একটি ছোট পতাকা রাখুন ও প্রতিদিন সকালে সপরিবারে পতাকাকে Selut দিন, এটা আসল রাষ্ট্র ভক্তি!!
প্রশ্ন হবে- পতাকা উত্তোলন করা হালাল এবং নেকীর কাজ, তা হলে স্বাধীনতা দিবস পালন গুনাহ'র কাজ কেন?? কারণ নিদিষ্ট কোনও দিবস বা Day পালন বিদআত ও হারাম, অযৌক্তিক তো বটেই। কেননা, দেশ কে প্রতিদিন/ প্রতিক্ষণ সম্মান করতে হবে। আর স্বাধীনতা শুধুমাত্র খুশির নয়, দেশের প্রতি বিরাট বড় দায়িত্বও।
আর হয়ত আপনারা (মুসলিমরা) এটা জেনে খুশি হবেন যে- ভারতের জাতীয় পতাকার Designed করে ছিলেন একজন মহিয়সী মুসলিম মহিলা, সুরাইয়া বাদরুদ্দিন তাইয়েবজী (যদিও এ নিয়ে ছোট্ট একটা বিতর্ক আছে, অনেকেই মনে করেন পিঙ্গলী বেঙ্কাইয়া)। তবুও তা ভারতীয় মুসলিমদের জন্য কম গর্বের বিষয় নয়!! আমি তো অনেক গর্বিত, আপনি নন??
প্রথম প্রকাশ : 29.12.2020
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: