আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ যত লক্ষ কোটি মিথ্যা আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মিথ্যা হল- সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করতে হবে!! কেউ-কেউ তো আরও একধাপ এ গিয়ে গিয়ে বলেন- তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদেরও অনুসরণ করতে হবে এবং তাদের মতো করেই কোরান/ ইসলাম কে বুঝতে!!
আজ আমরা সম্মানিত হারামখোরদের এই দাবিরই কুরানী বিশ্লেষণ করব- ইনশাআল্লাহ। পাঠক, বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে 5 জন পাঠকের মন্তব্য তুলে ধরতে চাইছি, যেমন- প্রতিটা লেখায় তুলে ধরি, যেন আমাকে ও আমার লেখাকে সহজেই মূল্যায়ন করতে পারেন!! দেখুন-
১) ওওওও এবার বুঝতে পেরেছি- তুমি তো কাফির মাওদুদী পন্থী। এ জন্যেই মাওদুদী পন্থীরা তোমার মধ্যে মাওদুদীকে দেখতে পায়, আমি তো তোমার মধ্যে শুধু একজন পথভ্রষ্ট কাফিরকেই দেখতে পাই!!
২) আপনি বিজ্ঞানে অন্ধ হয়ে আছেন!! আমারা কি বিজ্ঞান অনুসরণ করব, না পবিত্র কোরান?? আর আল্লাহ বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়েছেন- এ জন্য আলিমদের হেয়-প্রতিপন্ন করা বন্ধ করুন। মনে রাখবেন- আলিমরা ছিলেন বলেই আজ আপনি ইসলাম পেয়েছেন!! তবে আমি কারও অন্ধ ভক্ত/ শত্রু নই। তাই এটা স্বীকার করতেই হবে- যে ভাবে আপনি কোরান এবং ইসলামকে উপস্থিত করেন, তার প্রশংসা আপনার শত্রুও করতে বাধ্য হবেন!!
৩) Sir, আপনি 121 বছর বাঁচবেন- এটা ভুল, আপনি অমর হবেন। আপনার অবদান আধুনিক মুসলিম সমাজ কখনও ভুলতে পারবে না। যেমন আপনার উস্তাদের অবদান মুসলিম সমাজ কোনও দিন ভুলতে পারবে না। তবে আমি আশাবাদী-আপনার অবদান খুব শীঘ্রই বিশ্ব সমাজে আলোচিত হবে। আপনার এই (কণা বিজ্ঞান) লেখাটা পড়ে আমি গর্ব অনুভব করছি, আর ঘৃণা হচ্ছে আলিমদের প্রতি। তারা এতদিন করলেন টা কি- সেটাই ভাবছি!!
৪) আপনার লেখা গুলো যদি বাংলায় প্রকাশ না করে English এ করতেন, পৃথিবীর সকল সুশিক্ষিত মানুষ কোরানের অনুসারী হতে বাধ্য হতেন এবং যদি কোরান গবেষণার উপর Nobel prize থাকত, তাহলে তার একমাত্র দাবীদার হতেন আপনি!! আল্লাহ আপনাকে অনেক দিন বাচিয়ে রাখুক, প্ৰকৃত ইসলামের প্ৰচারের জন্য আপনাকে এখনও অনেক কাজ করতে হবে।
৫) Qurani sir, আমার বয়স 24 বছর এবং আমার কোনও Girlfriend নেই, তাই আমাকে আপনার হানীর মতো কেউ বোনের সামনে Love you বলার শর্তও দেয় নি কিন্তু এ জন্য মন খারাপ হয় না, মন খারাপ হয় এ জন্য যে, আমরা সপরিবারে Brazil এ থাকি। এ জন্য আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আপনাকে Love you Qurani sir বলতে পারছি না। আমি আপনার Silent পাঠক কিন্তু এই লেখা (কণা বিজ্ঞান) পড়ে আপনাকে ধন্যবাদ না করে পারলাম না!!
সুধী পাঠক, এবার আমি 1'ম জনকে কিছু বলতে চাইব এবং তা হল- ভাই, আপনি যে মাওদুদী (র)- কে কাফির বলছেন, ঐ মাওদুদী (র)- কেই সৌদি সরকার king faisal award দিয়ে সম্মানিত করেছেন!! আর ঐ মাওদুদী (র)- এরই গায়ীবানা জানাজা আদায় করা হয়েছিল পবিত্র কাবাতে- এ তথ্য গুলো ভুলে যান কেন ভাই??
2'য় জনকে বলব- ভাই, নাবী (সা) কোরানের মাধ্যমে বিজ্ঞানই অনুসরণ করেছিলেন!! শুনতে অবাক লাগছে মনে হয়, তাই না?? চলুন আপনাকে কয়েকটি আয়াত দেখাই, দেখুন- اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ অনুবাদ হবে এমন-"অনুসরণ করও যা তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে"(7:3)। এখানেই শেষ নয়, আল্লাহ বলেছেন- وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ অনুবাদ হবে এমন-"শপথ, বিজ্ঞানময় কোরানের"(36:2)।
সুধী পাঠক, এখন আমরা একটু صحب (সাহাবুন বা সাহাবা) শব্দটির বিশ্লেষণ করব, যার অর্থ- সাথী, সঙ্গী ও বন্ধু, বাহিনী ইত্যাদি হয়ে থাকে। এই صحب (সাহাবুন) শব্দটির বহুবচন হল- اصحاب (আসহাবুন) শব্দটি।
পবিত্র কোরানে নাবী (সা)- কে উদেশ্য করেও صحب (সাহাবা) শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। আয়াতটি দেখে নিন- وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমাদের সাথী [মুহাম্মাদ (সা)] পাগল নয়"(81:9)।
এ ছাড়াও কোরানে সম্ভবত আবু বাকর (রা)- কে উদেশ্য করেও صحب (সাহাবা) শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে 9:40 আয়াতে এবং اصحاب (আসহাবুন) শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে 105:1 আয়াতে, بِأَصْحَابِ الْفِيلِ বা হাতি বাহিনীকে উদেশ্য করে।
এখন ছোট্ট একটা প্রশ্ন হবে- পরিভাষিক অর্থে صحب (সাহাবা) কাকে বলে?? এ প্রশ্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সহজ উত্তর দিয়েছেন আমার পছন্দের একজন হাদীস বিশারদ আল্লামা হাজার আসকালানী (র)। তিনি বলেছেন- যে মানুষ ইমান সহ নাবী (সা)- এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন ও ইমান সহ মৃত্যুবরণ করেছেন, তাকে সাহাবা বলা হবে!!
সুধী পাঠক, এবার আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করতে চাইছি, আপনিও কি চান?? আচ্ছা, আমরা কি ভাবে আলোচনা করব জানেন?? প্রথমে আমরা একটা করে সম্মানিত হারামখোরদের দলিল গুলো পেশ করব এবং নিচে থাকবে সে গুলোর খন্ডন। এই রকম ভাবে আলোচনা করলে কি ভাল হবে?? ঠিক আছে, তাহলে দেখুন-
১)
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ●
অনুবাদ হবে এমন-"মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে যারা অগ্ৰগামী ও প্রথম [ঈমান গ্রহণের ব্যাপারে] এবং যারা [অন্যান্য সাহাবা (রা)- রা] পরে সততার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করছে, আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারা তার উপর সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন জান্নাত তৈরী করে রেখেছেন, যার নিচে নদ-নদী সমূহ প্রবাহিত এবং তারা তাতে থাকবে আজীবন- এটাই মহা সাফল্য"(9:100)।
সুধী পাঠক, 9:100 আয়াতটি দেখুন এবং দেখে বলুন তো- এখানে কি সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে?? মোটেও নয়, তাই না?? হ্যাঁ, এই আয়াতাংশটি দেখে মনে হতে পারে যে, সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, তা হল- وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ অনু বাদ হবে এমন-"যারা পরে তাদের অনুসরণ করেছে"।
কিন্তু তার আগের আয়াতাংশটি দেখলেই পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারবেন যে-"মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে যারা অগ্ৰগামী ও প্রথম [ঈমান গ্রহণের ব্যাপারে] এবং যারা [অন্যান্য সাহাবা (রা)- রা] পরে সততার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করছে"।
উক্ত আয়াতে "যারা পরে" বলতে- সাহাবা (রা)- দেরই বোঝানও হয়েছে। যদি সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করতে বলা হতো, তাহলে উক্ত আয়াতটি এভাবে পবিত্র কোরানে আসত-"মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে যারা অগ্ৰগামী ও প্রথম [ঈমান গ্রহণের ব্যাপারে] এবং যারা পরে নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারা তার উপর সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন জান্নাত তৈরী করে রেখেছেন, যার নিচে নদ-নদী সমূহ প্রবাহিত, তারা তাতে থাকবে আজীবন- এটাই মহা সাফল্য"।
পাঠক, যদি আয়াতটি উপরিউক্ত ধরণেরও হতো, তা হলেও এটা আয়াতটি হতে প্রমাণ হয় না যে, সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করত হবে বরং বলা হচ্ছে- ইমানের ব্যাপারে নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করবে। আমলের ব্যাপারে নয়!! যাইহোক, আল্লাহ এমনটা বলেন নি, যা বলেছেন, তা হল-
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ●
অনুবাদ হবে এমন-"মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে যারা অগ্ৰগামী ও প্রথম [ঈমান গ্রহণের ব্যাপারে] এবং যারা [অন্যান্য সাহাবা (রা)- রা] পরে সততার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করছে, আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারা তার উপর সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন জান্নাত তৈরী করে রেখেছেন, যার নিচে নদ-নদী সমূহ প্রবাহিত এবং তারা তাতে থাকবে আজীবন- এটাই মহা সাফল্য"(9:100)।
২)
فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا ۖ وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ ۖ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ●
অনুবাদ হবে এমন-"যদি তারা ঈমান আনে, যেমন ইমান তোমরা এনেছ তার [আল্লাহর] উপর, তাহলে তারা সঠিক পথ পাবে এবং আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তারা বিরোধে লিপ্ত, সুতরাং তাদের বিপক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি শোনেন, জানেন"(2:137)। একই ধরণের আয়াত আছে 2:13 তে।
পাঠক, দেখুন তো- এখানে কোথাও সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে কি?? কোথাও বলা হয় নি বরং শুধুমাত্র নাবী (সা)- এর যুগে যারা ইমান আনে নি, তাদের উদেশ্যে এটুকু বলা হচ্ছে- فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ অনুবাদ হবে এমন-"যদি তারা ঈমান আনে, যেমন তোমরা এনেছ"। এখানে অনুসরণের নাম গন্ধ নেই!!
আর যদি আয়াতটিকে বর্তমানে ব্যবহার করি, তাহলে যারা এখনও ইমান আনে নি, তাদেরকে উদেশ্য করে আল্লাহ আমাদের কথা বলেছেন- فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ অনুবাদ হবে এমন-"যদি তারা ঈমান আনে, যেমন তোমরা এনেছ"।
৩)
পাঠক, পরবর্তী আয়াতটি যখনই দেখবেন, তখন মনে হবে- পৃথিবীতে এত ভন্ড শুধুমাত্র আলিমগণ/ সম্মানিত হারামখোরগণই হতে পারে। সুধী পাঠক, এবার আয়াত টি দেখুন- اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ অনুবাদ হবে এমন-"অনুসরণ কর, যে তোমাদের কাছে প্রতিদান চায় না এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত"(36:21)।
সুধী পাঠক, সম্মানিত হারামখোরগণের মতে- এই আয়াতে না কি সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে!! হাঁসব, না কি কাঁদব, ভেবে পাই না!! আমি ভেভে পাই না যে, সম্মানিত হারামখোরগণ এত বেশি হারামখোর কিভাবে হলেন??
ক) এই আয়াতে সাহাবা (রা)- দের প্রতি ইঙ্গিতও নেই এবং খ) এই আয়াতের একটা প্রসঙ্গ আছে, তা হল এই যে- قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ অনুবাদ হবে এমন-"এক পুরুষ বলল- হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা রাসুলদের অনুসরণ করও"(36:20)।
এর পর- اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ অনুবাদ হবে এমন-"অনুসরণ কর, যে তোমাদের কাছে প্রতিদান চায় না এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত"(36:21)। পাঠক, এবার বলুন তো- 36:21 আয়াতে সাহাবা (রা)- দের কথা বলা হয়েছে, না কি রাসুল (আ)- দের কথা বলা হয়েছে??
গ) পাঠক, এর পর আপনাকে দেখাব- কারা প্রতিদান চায় না!! দেখতে চান?? দেখতে তো চাইবেনই, হোসেন কুরানীর পাঠক যে!! তাই না, বলুন?? দাঁড়ান, আয়াতটি নিয়ে আসি, এই নিন-
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমি তোমাদের থেকে চাই না কোনও ধরণের প্রতিদান এর [দ্বীনের] জন্য, নেই আমার কোনও প্রতিদান, মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালকের নিকট ছাড়া"(26 নং সূরাতেই কমপক্ষে 5 বার এ কথা 5 টি নাবী-রাসুল [আ]- রা বলেছেন- 26:109, 127, 145, 164, 180)।
৪)
পাঠক, পরের আয়াতটি দেখুন, এই আয়াতটি না কি সাহাবা (রা)- দের অনুসরণের দলিল!! আয়াতটি দেখে মনে হচ্ছে- আলিমগণ সম্মানিত হারামখোর নয়, শুধু হারামখোর। নিন- وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ অনুবাদ হবে এমন-"অনুসরণ করও তার পথ, যে হয়েছে আমার অভিমুখী"(31:15)।
পাঠক, দেখুন তো- আয়াতটিকে দেখে কোন দিক থেকে মনে যে, সাহাবা (রা)- দের অনুসরণের দলিল?? সম্মানিত হারামখোরদের বলে থাকেন- সাহাবা (রা)- রা আল্লাহর অভিমুখী!! কিন্তু শুধু কি সাহাবা (রা)- রা আল্লাহর অভিমুখী, ফুরফুরার পীর আবু বাকর সিদ্দিক (র) ছিলেন না/ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার লক্ষণপুর গ্ৰামের হোসেন কুরানী আল্লাহর অভিমুখী নন?? তাহলে পীর আবু বাকর সিদ্দিক (র)/ হোসেন কুরানীকে অনুসরণ করব না কেন, কোন কারণে??
এছাড়াও আল্লাহর আব্দ বা দাসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহ অভিমুখী কারা ছিলেন?? নাবী-রাসুল (আ)- রা। তাহলে তাদের ছেড়ে কেন অন্যদের অনুসরণ করব?? কোরানেও বলা হয়েছে- يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ অনুবাদ হবে এমন-"হে জাতি, রাসুলদের অনুসরণ করও"(36:20)।
পাঠক, এবার দেখুন, নাবী-রাসুল (আ)- দের সম্পর্কে আল্লাহ কি বলেছেন!! দেখুন- إِنَّهُ أَوَّابٌ অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় সে [দায়ুদ, ইয়াকুব (আ)] ছিল আল্লাহ অভিমুখী"(38:30, 38:44)। তাহলে বুঝতে পেরেছেন কি- প্রথম শ্রেণীর আল্লাহ অভিমুখী কারা??
এছাড়াও নাবী-রাসুল (আ)- গণ নিজেরাই পবিত্র কোরানে বলেছেন- فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ অনুবাদ হবে এমন-"সুতরাং আল্লাহকে ভয় করও, আমার অনুসরণ করও"(26:108, 110, 126, 131, 144, 150, 163, 179)। তাহলে তাদের ছেড়ে অন্যদের অনুসরণ করব কেন?? তাহলে সম্মানিত হারামখোর, ইসলামকে কি আপনার আব্বার সম্পত্তি পেয়েছেন, না কি??
৫)
সুধী পাঠক, সম্মানিত হারামখোরদের উত্থাপিত করা পরবর্তী আয়াতটি দেখুন, তারপর তাদের মুখে লাথি মারবেন, না কি ঝাঁটা-জুতা মারবেন, তা আপনার নিজ সিদ্ধান্ত- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করও এবং হয়ে যাও সত্যবাদীদের সঙ্গী"(9:119)।
পাঠক, দেখুন তো- এখানে সাহাবা (রা) অনেক দূরের কথা, কাউকেই কি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে?? এখানে অনুসরণের নাম গন্ধ নেই অথচ সম্মানিত হারাম খোরগণ এই আয়াতকে সাহাবা (রা)- দের অনুসরণের দলিল বানিয়ে দেন!!
হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবে এই আয়াতটিতে সাহাবা (রা)- দের সত্যবাদী বলা হয়েছে, নিশ্চিতভাবে এই আয়াতটিতে অন্যান্য ইমানদারগণকে সাহাবা (রা)- দের সঙ্গী হতে বলা হয়েছে কিন্তু এও অকাট্য সত্য যে, এখানে সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করতে বলা হয় নি, মোটেও বলা হয় নি!!
তবে, বলে রাখি- আয়াতটিতে অন্যান্য ইমানদারগণ কে এ কথা বলা হলেও- وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ অনুবাদ হবে এমন-" হয়ে যাও সত্যবাদীদের সঙ্গী"। তা মূলত রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল, 9:120 আয়াতটা দেখুন, বুঝতে পারবেন- ইনশাআল্লাহ!! আর একটা বিষয়, তা হল 9:119 আয়াতে সাহাবা (রা)- দের সত্যবাদী এবং তাদের সঙ্গে হওয়ার কথা বলা হলেও, তা শুধু সাহাবা (রা)- দেরকে বলা হয় নি, Including নাবী (সা)। পরের আয়াত অর্থাৎ 9:120 দেখুন।
৬)
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যে কেউ বিরোধীতা করে রাসুলের এবং মুমিনদের পথ অনুসরণ করে না অথচ সুস্পষ্ট হয়েছে তার কাছে সঠিক পথ, তাহলে তাকে সে দিকেই ফিরাব, যে দিকে যাচ্ছে, তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব এবং তা হল- নিকৃষ্টতম গন্তব্যস্থল"(4:115)।
পাঠক, উক্ত আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের পথ অনুসরণ করতে বলছেন। তাই না?? তাই সম্মানিত হারামখোররা বলেন- এখানে সাহাবা (রা)- দের পথ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এতএব সাহাবা (রা)- দের অনুসরণ করতে হবে!!
পাঠক, আপাতদৃষ্টিতে সম্মানিত হারামখোরদের কথা বেশ যৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে, তাই না?? তবে পাঠক, এই পৃথিবীতে হোসেন কুরানী নামে একজন আছেন মনে হয়, তাই না?? তাহলে সম্মানিত হারামখোরদের কোনও যুক্তিই টিকবে না। কেননা, তারা শুধু সম্মানিত হারামখোরই নয়, বিশুদ্ধ গাঁজাখোরও!!
ক) আচ্ছা পাঠক, মুমিন শুধুমাত্র সাহাবা (রা)- রা?? ফুরফুরার পীর আবু বাকর সিদ্দিক (র) মুমিন ছিলেন না?? আমি মুমিন নই?? আমাদেরকে অনুসরণ করতে চাইবেন??
খ) যদি মুমিনদের পথ অর্থ সাহাবা (রা)- দের পথ অনুসরণ করতে হয়, তাহলে এখন থেকে তো মদও খেতে হবে। কারণ, অনেক সাহাবা (রা)- ই মদ হারাম হওয়ার পরও মদ খেতেন। যেমন-
"ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়ার [র]... উমর ইবনু খাত্তাব [রা] হতে বর্ণিত। নাবী [সা]- এর যুগের এক ব্যাক্তি, যার নাম ছিল- আবদুল্লাহ, আর লাকাব ছিল- হিমার (গাধা)। এই ব্যাক্তিটি রাসুলুল্লাহ [সা]- কে হাসাত। রাসুলুল্লাহ [সা] মদ পান করার অপরাধে তাকে বেত্রাঘাত করেছিলেন। একদিন তাকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আনা হল। তিনি তাকে বেত্রাঘাতের আদেশ দিলেন। তাকে বেত্রাঘাত করা হল। তখন দলের মাঝ থেকে এক ব্যাক্তি বলল- হে আল্লাহ, তার উপর লানত বর্ষণ করুন। নেশাগ্রস্ত তাকে অবস্থায় কতবার আনা হল!! তখন নাবী [সা] বললেন- তোমরা তাকে লানত করও না। আল্লাহর কসম, আমি তাকে জানি- সে অবশ্যই আল্লাহ ও তার রাসুলকে ভালবাসে"(বুখারী, কিতাবুল হুহুদ, হাদীস 6323)।
গ) এবার আপনাকে দেখাব- আসল মুমিন/ বেশি মুমিন কারা?? দেখতে চাইবেন?? দাঁড়ান, আয়াতটি দিচ্ছি- قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ অনুবাদ বলে এমন-"[মূসা (আ) জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর আল্লাহ কে বললেন- পবিত্রতা আপনার, আমি আপনার কাছে তাওবা করছি এবং আমিই প্রথম মুমিন"(7:143)। এই বার আমি আপনাকে দেখাব, নাবী (সা) পবিত্র কোরানে কি বলেছেন, নিন- وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ অনুবাদ হবে এমন-"আমি আদিষ্ট হয়েছি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য"(10:104)।
পাঠক, এবার বলুন- মুমিন কারা?? নিশ্চয় প্রথম শ্রেণীর মুমিন হল- নাবী/ রাসুল (আ)- রা। আর উক্ত 4:115 আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের পথ অনুসরণ করতে বলেছেন, তারমানে হল- নাবী/ রাসুল (আ)- দের পথ অনুসরণ করতে বলেছেন। মাথায় ঢুকল??
ঘ) আর যদি 'মুমিনদের পথ' বলতে সাহাবা (রা)- দের পথ ধরে নিই/পীর আবু বাকর সিদ্দিক (র)- এর পথ ধরে নিই/ হোসেন কুরানীর পথ ধরে নিই, তাহলে প্রশ্ন হবে- মুমিনদের পথ কোনটা??
মুমিনদের পথ বলতে কি, তাদের নিজ/ ব্যাক্তিগত কাজ-কর্মকে বোঝায়?? চলুন, দেখে নিই- মুমিনদের পথ কাকে বলা হয়েছে- هُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ অনুবাদ হবে এমন-"এটা পথ-নির্দেশ ও সুসংবাদ মুমিনদের জন্য"(27:2)। কাছা-কাছি আয়াত 2:2, 16:89 ও 102 আয়াত দেখতে পারেন!!
উক্ত আয়াতে "এটা" বলতে কাকে বোঝানও হয়েছে বলতে পারবেন?? উত্তরটা আছে 27:1 আয়াতে। যান আয়াতটি Check করে নিন। সব কি আমিই বলব?? যাইহোক পাঠক, বুঝলেন কি মুমিনদের পথ কোনটা?? মনে হয় বুঝেছেন, তাই না?? হ্যাঁ, ঠিকই বুঝেছেন "এটা" বলতে কোরানকে বোঝানও হয়েছে!!
সুধী পাঠক, সম্মানিত হারামখোরগণ যখন পবিত্র কোরান থেকে সাহাবা (রা)- দের অনুসরণের দলিল বের করতে ব্যার্থ হন, তখন তারা এবার হাদীস দ্বারা প্রমাণ করতে চায়!! তাদের দলিল গুলো হল-
১)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم- خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"রাসুলুল্লাহ [সা] বলেছেন যে, আমার যুগের মানুষজন [সাহাবা (রা)] রা সর্বোত্তম। তারপর তাদের পরবর্তী মানুষজন [তাবেয়ী (র)] রা, তারপর তাদের পরবর্তী মানুষজন [তাবে-তাবেয়ী] রা"(কিতাবে ফাদাইল আসহাব, বুখারী 3650 ও মুসলিম 6247)।
সুধী পাঠক, আলিমগণ কি সম্মানিত হারামখোর, না কি বিশুদ্ধ গাঁজাখোর?? এখানে 3 প্রজন্মকে উত্তম বলা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সত্য কিন্তু সাহাবা (রা)- দের অনুসরণের কথা তো বলা'ই হয় নি!! এই হাদীস তাদের অনুসরণের দলিল হয় কি'ভাবে?? সম্মানিত হারামখোর দের মুখটা কি লাত্থি মেরে ভেঙে দেওয়া মহা জরুরি নয়??
২)
"ইরবায ইবনু সারিয়াহ [রা] বলেন- একদিন রাসুলুল্লাহ [সা] আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের নাসীহাত করেন, যাতে অন্তরসমূহ ভীত হল এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করল। তাকে বলা হল- হে আল্লাহর রাসুল [সা], আপনি তো বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ দিলেন। অতএব আমাদের নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করুন [একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দিন]। তিনি বলেন- তোমরা আল্লাহভীতি অবলম্বন করও, [নেতা/নেত্রীর আদেশ ] শ্রবণ করও ও আনুগত্য করও, যদিও সে হাবশী গোলাম হয়। আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্নক মত-ভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্ত ভাবে কামড়ে ধরবে। অবশ্যই তোমরা বিদআত কাজ পরিহার করবে। কারণ, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা"(ইবনু মাজাহ, হাদীস 42)।
সুধী পাঠক, এই হাদীস পেশ করে সম্মানিত হারাম খোরগণ বলেন- সমস্ত সাহাবা (রা)- দের না অনুসরণ না করলেও, কমপক্ষে 4 জন খালিফা (রা)- এর অনুসরণ করতেই হবে!!
আররেহহ দাঁড়ান ভাই, এত শীঘ্রই সিদ্ধান্ত পৌঁছাচ্ছেন কেন, হোসেন কুরানী বেঁচে আছে তো, না কি?? অনেক সময় চোখের দেখা মিথ্যাও হতে পারে, অনেক সময় আপাতদৃষ্টির ভাবনা ভুলও হতে পারে!!
যেমন- আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় যে, সূর্য পৃথিবীর চারি দিকে ঘুরছে কিন্তু তা সত্য নয়, তা মিথ্যা, মহা মিথ্যা!! যেমন- চলন্ত Train এ বসে বাইরে দেখলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় যে, গাছ-পালা পিছনে ছুটছে কিন্তু তা সত্য নয়, তা মিথ্যা, মহা মিথ্যা!! সুতরাং মনযোগ সহ দেখতে থাকুন-
ক) নাবী (সা) শুধু 4 জন খালিফা (রা)- এর সুন্নাত ধরে থাকতে বলেন নি, তার সঙ্গে-সঙ্গে নাবী (সা) এও বলছেন- بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ অনুবাদ হবে এমন-"আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত"।
খ) শেষে কি বলা হয়েছে, তা দেখেছেন?? পরিষ্কার ভাবে বলা হচ্ছে-"অবশ্যই তোমরা বিদআত কাজ পরিহার করবে। কারণ, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা"। তাই না পাঠক??
এখন প্রশ্ন- বিদআত কাকে বলে?? ছোট্ট করে উত্তর দেব?? 9'ই জিলহজ্ব 10' হিজরীর পর যা যা হয়েছে, যদি তার কোনও সুত্র কোরান/ কোরান তৎসংলগ্ন সাহীহ ও হাসান হাদীসে না থাকে, নিঃসন্দেহে সেই সবই বিদআত!! বিস্তারিত নিচের Link এ-
তাহলে কি বুঝলেন?? এটাই বোঝা গেল যে- 4 জন খালিফা (রা)- এর সুন্নাত যদি রাসুল [সা]- এর সুন্নাতের বিপরীতে যায়, তখন তা হবে- বিদআত!! এ সম্পর্কে নাবী (সা) বলেছেন-"অবশ্যই তোমরা বিদআত কাজ পরিহার করবে। কারণ, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা"।
৩)
"হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সা] বলেছেন- আমি জানি না, আমি তোমাদের মাঝে আর কত দিন জীবিত থাকব!! এতএব আমার অবর্তমানে তোমরা আমার পরের অবশিষ্ট লোকের অনুসরণ করবে এবং (এ কথা বলে) তিনি আবু বাকর ও উমার [রা]- এর প্রতি ইঙ্গিত করেন"(ইবনু মাজাহ, হাদীস 97)।
সুধী পাঠক, উপরিউক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা করার আর কোনও প্রয়োজনই নেই!! ইবনু মাজাহ, হাদীস 42 নং হাদীসের ব্যাখ্যা এবং 97 নং হাদীসের ব্যাখ্যা এক এবং অভিন্ন!!
এখন শুধু একটা প্রশ্ন হবে সম্মানিত হারামখোরদের পক্ষ থেকে, তা হল- এ তথ্য কোথায় আছে যে, 4 জন খালিফা (রা)- এর সুন্নাত/ সাহাবা (রা)- দের সুন্নাত নাবী (সা)- এর বিপরীতে গেলে, তা পরিত্যাগ করতে হবে?? পাঠক, সত্যিই কি জানতে/ দেখতে চান?? তা হলে, দেখুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا• أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ ۖ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ• فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ• إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা অনুসরণ/ আনুগত্য করও আল্লাহর, তার রাসুলের আর নির্বাচিত [খালিফার] শাসকের। অতপর যদি তোমরা কোনও বিষয়ে মতভেদ কর, তবে ফিরে এসও আল্লাহ ও তার রাসুলের দিকে, যদি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও!! এটাই উত্তম ও পরিণতিতে সুন্দর"(4:59)।
পাঠক, আর কিছু বলব, না কি বুঝে নিয়েছেন?? তবে হ্যাঁ, আলিমদের বা সম্মানিত হারামখোরদের/ বিশুদ্ধ গাঁজাখোরদের মাথায় ঢুকবে না। আসলে তাদের মাথায় বজ্রাঘাত পড়েছে!!
সুধী পাঠক, এবার আমরা প্রসঙ্গ পরিবর্তন করতে চাইছি। এবার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই এবং তা হল- কোরান কি সাহাবা (রা), তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ী (র)- দের মতো করে বুঝতে হবে??
এ বিষয়ে আহলে হাদীস এবং সালাফী হারামখোর/ বিশুদ্ধ গাঁজাখোররা এক বাক্যে উত্তর দেবেন- হ্যাঁ, তারা যেভাবে কোরান বুঝেছেন, সেভাবেই কোরান বুঝতে হবে!!
তবে পাঠক, আপনি কি জানতে চাইবেন- এ বিষয়ে পবিত্র কোরান কি বলে?? কোরান কি বলে, তা জানার আগে আহলে হাদীস ও সালাফী হারামখোর/ বিশুদ্ধ গাঁজাখোরদের একটা প্রশ্ন করতে চাইছি।
তা হল- কোরান যদি সাহাবা (রা), তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ী (র)- দের মতো করে বুঝতে হয়, তাহলে কোরান কি কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য নাযিল হয়েছিল, না কি সাহাবা (রা), তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ী (র)- দের জন্য??
যদি কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য হয়, তাহলে সাহাবা (রা), তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ী (র)- দের মতো করে বুঝব কেন?? আর যদি উত্তর হয়- সাহাবা (রা), তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ী (র)- দের জন্য, তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা!!
সুধী পাঠক, এবার আমরা দেখে নেব- কোরান কি কারও মতো করে বুঝতে হবে, না কি কোরান বোঝার 'কোনও উপায়' আল্লাহ বলে দিয়েছেন!! পাঠক, কি মনে হচ্ছে আপনার?? চলুন তাহলে, আয়াতটি দেখে নিই- وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ অনুবাদ হবে এমন-"এবং নিশ্চয় আমরা কোরানকে খুব সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্ৰহণের জন্য, এতএব আছে কোনও উপদেশ গ্ৰহণকারি"(54:17, 22, 32, 40)??
পাঠক, কি বুঝলেন?? এটাই বোঝা গেল যে, কোরান বোঝা খুবই সহজ, তাই অন্য কারও মতো করে কোরান বুঝতে হবে না!! কেননা, কোরান স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে আয়াতের ব্যবহার জানতে নাবী (সা)- কে অনুসরণ করতে পারেন, আর এই জন্যই পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে- أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ সহজ অনুবাদ হবে এমন-"অনুসরণ করও আল্লাহ ও তার রাসুলকে"।
আচ্ছা ধরে নিচ্ছি, কোরান যদি সাহাবা (রা), তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ী (র)- দের মতো করে বুঝতে হবে, তা হলে প্রশ্ন হবে- তাহলে কেন বললেন যে, اقْرَأْ (ইকরা) বা পড়, বলতেন পারতেন যে, সাহাবা (রা), তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ী (র)- দের মতো করে বুঝে নাও!! আরও দেখুন- إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম প্রাণী হল তারা, যারা শোনে না, বলে না এবং যাদের বুদ্ধি নেই/ বুদ্ধি ব্যবহার করে না"(8:22)।
এখন ছোট্ট একটা প্রশ্ন- কোরান বুঝব, না কি বুদ্ধির ব্যবহার না করে আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম প্রাণী হয়ে যাব?? পাঠক, এবার কোরান নাযিলের অন্যতম একটা উদেশ্য দেখুন- كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ অনু বাদ হবে এমন-"আমরা আপনার উপর নাযিল কল্যাণ ময় গ্ৰন্থ [কোরান], যেন তারা আয়াত সম্পর্কে গবেষণা করে"(38:29)।
এখানে হাঁসির কথা হল- আলিমগন অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ মানুষকে বলেন যে, তুমি কিভাবে কোরান বুঝবে!! কোরান সাহাবা (রা), তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ী (র)- দের মতো করে বুঝতে হবে!!
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার টিকিয়া পাড়া থেকে আরিবা সুলতানা প্রশ্ন করে বলেছেন- Qurani sir, আমি নাহারের বান্ধবী, একটা Model school এর Science teacher এবং কোরান/ ইসলামকে জানতে আগ্ৰহী। কিছু দিন আগে নাহারের মাধ্যমে আপনার একটা Article পেলাম "কণা বিজ্ঞান ও কোরান বিষয়ক"। তা পড়ে আমি তো তাজ্জব!!
এখন আমি 2 টি বিষয় ভাবছি যে, ১) নাহারের থেকে জানলাম- আপনি না কি মাত্র দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়া শোনা করেছেন, তাও আবার Art's নিয়ে?? কিন্তু এই লেখাটা (কণা বিজ্ঞান) পড়ে এই কথাটি হজম করতে পারছি না!! আর ২) কোরানে বিজ্ঞানের এত গভীর বিষয়ে এত নিখুঁত তথ্য দিয়েছে অথচ আমি কোরানকে শুধুমাত্র ধর্মগ্রন্থই ভাবতাম!! এখন আমার প্রশ্ন- খুব সহজে কোরান বোঝার কি কোনও উপায় আছে??
Sir, আপনাকেও গভীর ভাবে জানতে আগ্ৰহী, তাই নাহারের থেকে আপনার সম্পর্কে জানতে চাইলাম, ও বলল- আপনার প্রেমের কথা/ হানীর কথা। আপনার সঙ্গে তার Video call এর একটা Screen shot'ও দেখলাম। কই, হানী তো বিশ্বসুন্দরী নয়!! তাহলে তার এত অহংকার কিসের??
প্রিয় আরিবা, আপনার শেষ প্রশ্নের উত্তরে বলব- যার কাছে যা থাকে, সে তা দিয়েই অহংকার করে। তিনি হয়ত তার ফর্সা রঙের অহংকার করেন। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হল- وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ অনুবাদ হবে এমন-"বিজ্ঞানময় কোরানের শপথ"(36:2)।
এমনিতেই কোরান বোঝা খুব সহজ। তবে বিজ্ঞানের জ্ঞান থাকলে কোরানের অলৌকিকতাকে স্পর্শ করতে পারবেন, যেমন- আপনি তো বেশ খানিকটা পেরেছেন। তবে সমস্যা হল- কোরানের অবৈজ্ঞানিক ও ভুল-ভাল অনুবাদ গুলো!!
কিন্তু চিন্তার কিছু নেই!! আমরা নিঁখুত ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি সহ কোরানের বঙ্গানুবাদ করছি, যা খুব শীঘ্রই হয়ত হাতে পাবেন। নাম ঠিক করা হয়েছে- বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল কোরানের। যা Sahin publication, kolkata থেকে প্রকাশিত হবে- ইনশাআল্লাহ। সুতরাং দুয়া করুন আমাদের জন্য, করবেন তো??
সুধী পাঠক, লেখা প্রায় শেষ। শুধু 2 টি প্রশ্নের উত্তর বাকি রয়ে গেছে- ১) তাহলে কাকে অনুসরণ করব?? ২) সাহাবা (রা)- রা কি বিনা হিসাবে জান্নাতী?? পাঠক বলুন তো- কি উত্তর হবে?? আচ্ছা, ছাড়ুন রে ভাই। এত কঠিন ও চলনের বিপরীত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাহস সবার হবে না!! আমি উত্তর দিচ্ছি, প্রথম প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ এভাবে বলেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের অনুসরণ করও এবং [এছাড়া অন্য কাউ কে অনুসরণ করে] তোমাদের আমলগুলোকে ধ্বংস করও না"(47:33)। আর আল্লাহ ও রাসুলের অনুসরণ করতে হবে- এই আয়াত পবিত্র কোরানে কম-বেশি 16 বার এসেছে।
পাঠক, বুঝেছেন কি- কাকে অনুসরণ করতে হবে?? এবার একটা সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন হবে- আল্লাহ ও তার রাসুল ছাড়া অন্য কাউকে অনুসরণ করলে কি হবে?? সুধী পাঠক, এ প্রশ্নের উত্তরও ঐ আয়াতে রয়েছে!! তাই নয় কি??
এবার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর। সাহাবা (রা)- রা কি বিনা হিসাবে জান্নাতী?? পাঠক, এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে, অন্য একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং তা হল- সমস্ত সাহাবা (রা)- রা'ই কি জান্নাতী??
হ্যাঁ, সমস্ত সাহাবা (রা)- রা'ই জান্নাতী- এতে কোনও সন্দেহ নেই। এতে সন্দেহকারি নিঃসন্দেহে কাফির বলে গণ্য হবে। কারণ, সে 9:100 আয়াত অস্বীকারকারি। আর কোরান অস্বীকার কাফির!!
তবে, এও বলতে হবে- শুধু সাহাবা (রা)- রা নয়, যে কোনও ইমান আনায়নকারি মানুষই জান্নাতী, তা হোক সাহাবা (রা) বা আমি/ আপনি- এতেও কোনও সন্দেহ নেই!! এবার আপনি প্রমাণ চাইবেন, তাই না?? ঠিক আছে, নিন-
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অনুবাদ হবে এমন-"এবং আল্লাহ জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইমান আনায়নকারি পুরুষ ও নারীকে, যার নিচে নদীসমূহ প্রবাহমান এবং তাতে তারা আজীবন থাকবে। আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পবিত্র বাসগৃহের, যা জান্নাতে থাকবে, সবচেয়ে বড় কথা হল- থাকবে আল্লাহ সন্তুষ্টি। এটাই তো মহা সাফল্য"(9:72)। এবার 2 টি হাদীস দেখুন-
"আবু বকর ইবনু আবু শায়বা ও যুহাইর ইবনু হারব [র]... উসমান [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ [সা] বলেছেন- যে ব্যাক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র উপর নিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে মৃত্যু বরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"(সাহীহ মুসলিম কিতাবুল ইমান, হাদীস 43)। দ্বিতীয় হাদীসটি দেখুন-
"হারুন ইবনু সাঈদ আল আইলী [র]... আবু সাঈদ খুদরী [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সা] বলেছেন- জান্নাতবাসীদেরকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার রহমতেই। আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তারপর (ফেরেস্তাদেরকে) বলবেন- যার অন্তরে সরিষাদানা পরিমাণও ঈমান দেখতে পাবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবে এবং অনন্তর ফেরেস্তারা তাদেরকে দগ্ধ অঙ্গার অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করে আনবে এবং 'হায়াত বা হায়া' নামক নহরে নিক্ষেপ করবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে"(বুখারী ও মুসলিম কিতাবুল ইমান, হাদীস যথা ক্রমে 22 ও 353)।
পাঠক, তাহলে কি বুঝলেন?? ইমান আনায়ন করলে যে কেউই জান্নাতী। তা হোক, সাহাবা (রা) বা আমি/ আপনি- এটাই বোঝা গেল!! পরের প্রশ্ন- সাহাবা (রা)- রা কি বিনা হিসাবে জান্নাতী?? এ প্রশ্নের এক কথায় উত্তর হল- না, বিনা হিসাবে জান্নাতী নয়!! শুধুমাত্র সাহাবা (রা) হওয়ার জন্য কেউ বিনা হিসাবে জান্নাতী হবে না, কখনও হবে না!! এবার আপনি প্রমাণ চাইবেন, তাই না?? নিন, দেখে মন শান্ত করুন-
"আব্দুর রহমান ইবনু সাল্লাম ইবনু উবাইদুল্লাহ জুমাহী [র]... আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সা] বলেছেন- আমার উম্মাতের মধ্যে 70, 000 [সত্তর হাজার] মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন জনৈক সাহাবা [রা] বললেন- হে আল্লাহর রাসুল [সা], আপনি আল্লাহর কাছে দুয়া করুন, আমাকে যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসুলুল্লাহ [সা] দুয়া করলেন- হে আল্লাহ, একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। তারপর আবারও একজন সাহাবা [রা] দাঁড়িয়ে বললেন- হে আল্লাহর রাসুল [সা], আমার জন্যও আল্লাহর কাছে দুয়া করুন, যেন আমাকেও তাদের অন্তভুক্ত করে নেন। তখন রাসুলুল্লাহ [সা] বললেন- এই সুযোগে উক্কাশাহ (রা] তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে"(সাহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইমান, হাদীস 413)। এই 70, 000 মানুষ কি কারণে জান্নাতে যাবে, তা নিচের Link এ-
পাঠক, উপরিউক্ত হাদীস থেকে কি বুঝলেন?? আমি যা বুঝেছি, তা হল- যদি সাহাবা (রা)- রা বিনা হিসাবে জান্নাতী হতেন, তাহলে কেন উক্কাশাহ (রা) বললেন- হে আল্লাহর রাসুল [সা], আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করুন, আমাকে যেন তাদের (বিনা হিসাবে জান্নাতীদের) অন্তর্ভুক্ত করেন??
আচ্ছা, ঠিক আছে, তিনি না হয় বললেন কিন্তু নাবী (সা) তার জন্য দুয়া করলেন কেন যে- হে আল্লাহ, একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন?? তিনি তো সহজেই বলতে পারতেন যে- আমরা সাহাবা (রা)- রা তো বিনা হিসাবে জান্নাতী, তাই দুয়া করার কোনও প্রয়োজন নেই!! কেন তিনি এ কথা বললেন না??
পাঠক, আর কিছু বলতে হবে, না কি বুঝে গেছেন?? মনে হয় বুঝে গেছেন, তাই না?? এখন একটা প্রশ্ন হতে পারে- 9:100 ও 58:22 আয়াতে আল্লাহ সাহাবা (রা)- দের উদেশ্যে বলেছেন যে, رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ অর্থাৎ আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট!! এখানে হোসেন কুরানীর কি আর কিছু বলার আছে??
এখানে হোসেন কুরানী ছাড়া আর কারও কিছু বলার সাহস আছে?? তাহলে, হোসেন কুরানী বলবে না তো, আর কে বলবে?? পাঠক, হুবহু এই একই শব্দ সমূহ আমার/ আপনার জন্যেও আল্লাহ পবিত্র কোরানে ব্যবহার করেছেন। দেখবেন?? এই নিন-
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎ কাজ করেছে, তারই সৃষ্টির সেরা"(98:7)। এবার পরের আয়াতটি দেখুন-
جَزَاؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۖ ★رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ★ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ●
অনুবাদ হবে এমন-"তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে আজীবনের জান্নাত, যার নিচে নদ-নদী সমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা আজীবন থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তার প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্য, যে তার প্রভুকে ভয় করে"(98:8)।
পরবর্তী প্রশ্ন হবে- বুখারী, মুসলিম সহ বিভিন্ন হাদীস গ্ৰন্থে সাহাবা (রা)- দের মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সে গুলো কি তাহলে সব মিথ্যা?? আর একটা কথা, নাবী (সা) কমপক্ষে 10 জন সাহাবা (রা)- কে জীবিত অবস্থায় জান্নাতী বলেছেন ঘোষণা করেছেন- এ গুলো সব মিথ্যা??
সুধী পাঠক, চলুন প্রথমে আয়াতটি একবার দেখে নিন- وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا অনুবাদ হবে এমন-"সবার আছে মর্যাদা, তার কাজ অনুযায়ী"(6:132, 46:19)। তা হলে কি বুঝলেন পাঠক??
এটাই বোঝা গেল- সাহাবা (রা)- দের মর্যাদা শুধুমাত্র সাহাবা হওয়ার জন্য নয় বরং তাদের ইমান ও আমলের এবং পরস্পরকে হত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেওয়ার জন্য। যা 103:1 থেকে 3 নং আয়াতে বলা হয়েছে, আর এই গুণ সমূহ আমার মধ্যেও আছে এবং আপনিও নিজের মধ্যেও তৈরি করতে পারেন!! তাই না পাঠক??
আর একটা বিষয়, সাহীহ হাদীস সমূহে নাবী (সা) যা বলেছেন, সবই সত্য কিন্তু এও সত্য যে- নাবী (সা)- এর ঐ কথা গুলো "সাহাবা (রা)/ ব্যাক্তি কেন্দ্রিক" নয় বরং নাবী (সা) সাহাবা (রা)- দের প্রশংসায় যা বলেছেন, তা তাদের সিফাত/ গুণ কেন্দ্রিক!!
অর্থাৎ আবু বাকর (রা)- এর সম্পর্কে নাবী (সা) যা বলেছেন, আবু বাকর (রা)- এর জায়গায় যদি আপনি থাকতেন এবং আপনার মধ্যেও আবু বাকর (রা)- এর মতো গুণা-গুণ থাকত, তাহলে আপনার সম্পর্কেও নাবী (সা) তা'ই বলতেন, যা তিনি আবু বাকর (রা)- এর সম্পর্কে বলেছিলেন!!
এছাড়াও একবার Logical ভাবে ভেবে দেখুন না, যদি শুধুমাত্র নাবী (সা)- এর সময়ে জন্মানোর জন্য তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, তাহলে ছোট্ট মতো একটা প্রশ্ন উঠবে এবং তা হল- আমার (হোসেন কুরানী) 25.12.1991 এ জন্ম, এটা কি আমার ভুল?? আল্লাহ কেন আমাকে নাবী (সা)- এর সময়ে পৃথিবীতে পাঠালেন না?? তাহলে আমারও মর্যাদা হতো!! তাই না পাঠক??
আসল সত্য হল- وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا অনুবাদ হবে এমন-"সবার রয়েছে মর্যাদা এবং সেটা তার কাজের ভিত্তিতে"(6:132 ও 46:19)। বুঝলেন?? পাঠক, এখন আপনি হোসেন কুরানীর/ আপনার মর্যাদা অবগত হয়ে যান- إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎ কাজ করেছে, তারই সৃষ্টির সেরা"(98:7)। আরও একটি আয়াত দেখুন-
جَزَاؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۖ ★رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ★ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ●
অনুবাদ হবে এমন-"তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে আজীবনের জান্নাত, যার নিচে নদ-নদী সমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা আজীবন থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তার প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্য, যে তার প্রভুকে ভয় করে"(98:8)।
সুধী পাঠক, হোসেন কুরানী/ আপনি সৃষ্টির সেরা, এর চেয়ে বেশি মর্যাদা কি আর হয়?? উপরন্তু আল্লাহ আবার আমার/ আপনার উপর সন্তুষ্ট, আরও রয়েছে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি। আমি তো আর কিছুই চাই না, সব দিয়ে দিয়েছেন, শুধু ★ ★ ছাড়া!! তবুও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট, যেমন তিনি বলেছেন- رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ তাদের [হোসেন কুরানী ও তার 2 বোন এবং Team Quranic universe এর] প্রতি সন্তুষ্ট, তারাও তার [আল্লাহর] প্রতি সন্তুষ্ট"(98:8)। এখন শুধু বলব- আল্লাহু আকবার, সুবহানআল্লাহ, আলহাম দুলিল্লাহ!!
এখন হয়ত কেউ-কেউ বলতে পারেন- আপনি তো নিজেই নিজেকে সাহাবা (রা)- দের সম-মর্যাদার বানিয়ে নিলেন, আমাদেরকেও সাহাবা (রা)- দের সম-মর্যাদার বানিয়ে দিলেন!!
এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে পারি- আমি নিজেকে সাহাবা (রা)- দের সম-মর্যাদার বানিয়ে নিই নি, আল্লাহ নিজেই আমাকে সাহাবা (রা)- দের সম-মর্যাদার বানিয়ে দিয়ে ছেন। আয়াত 2 টি উপরে উল্লেখ করেছি, একবার দেখে নিন 98:7 ও 8 নং আয়াত।
আচ্ছা, আল্লাহ যদি শুধুমাত্র সাহাবা (রা) হওয়ার জন্য সাহাবা (রা)- দের মর্যাদা দিতেন, বিচারের দিনে যে কেউই আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করত- আমি কেন নাবী (সা)- এর জন্মাই নি?? সুতরাং আল্লাহ, আপনি আমার উপর অবিচার করেছেন!!
পাঠক, এমনটা হতো, না কি হতো না?? অবশ্যই হতো এমনটা। তাই আল্লাহ আপনার মতো বোকামি করেন নি বরং তিনি ন্যায় বিচারই করেছেন ও সবাইকে [সাহাবা (রা)- কে এবং আমাকে/ আপনাকে] সমান সুযোগ করে দিয়েছেন!! দেখুন- وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ অনুবাদ হবে এমন-"এবং প্রভু তার সৃষ্টিদের প্রতি মোটেও অবিচারি নন"(41:46)।
পাঠক, এতটুকু দলিল যথেষ্ট, না কি আরও 2-1 টি দলিল দেব?? নিন- إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْئًا অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহ তার মানুষের উপর অবিচার করেন না"(10:44, 18:49 ও 50:29)। যথেষ্ট হয়েছে, না কি আরও দলিল লাগবে??
যাইহোক, আল্লাহ তো আমাকে সাহাবা (রা)- দের সম-মর্যাদার বানিয়ে দিয়েই'ছেন, এবার আমরা দেখাতে চাই যে, নাবী (সা) আমাদের অর্থাৎ তার মৃত্যু পরবর্তী উম্মাতদের অর্থাৎ শুধু মুসলিমদের (আহলে/ সালাফী/ হানাফী সহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের জন্য নয়) সম্পর্কে কি বলেছেন!! দেখবেন?? দেখুন রে ভাই-
"আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সা) বলেছেন- আমার উম্মাতের উদাহরণ হল বৃষ্টির মতো। যার সম্পর্কে বলা যায় না যে- প্রথমাংশ উত্তম, না কি শেষাংশ উত্তম"(মিশকাত, হাদীস 5901)। এই হাদীসটি তিরমিযীতেও আছে।
এটাই হল শেষ প্রশ্ন- সাহাবা (রা)- দের কি একটুও অনুসরণ করা যাবে না?? উত্তর সহজ- একটু কেন রে ভাই, সাহাবা (রা)- দের গোটাই অনুসরণ করা যাবে!! যদি তাদের কথা, কাজ, আদেশ, নিষেধ ও সমর্থন আল্লাহ বা তার রাসুল (সা)- এর কথা, কাজ, আদেশ, নিষেধ ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়!! আর এভাবে শুধু সাহাবা (রা)- দের নয়, আমার/ আপনার/ কোনও নাস্তিকেরও অনুসরণ করা যাবে!! তখন অবশ্য তা সাহাবা (রা)/ আমার/ আপনার/ কোনও নাস্তিকেরও অনুসরণ বলে গণ্য হবে না বরং আল্লাহ বা তার রাসুল (সা)- এরই অনুসরণ বলে গণ্য হবে!!
পাঠক, বিশ্লেষণ শেষ, আমাদের মনে হয়- বোঝার এবং বোঝাবার আর কিছু বাকি নেই। এবার শুধু ছোট্ট একটা কাহিনী Share করব, শুনুন। শুনবেন তো, না কি শুধু ফালতু লেখা হবে??
পাঠক, জানেন হয়ত আমি এবং ★ ★ প্রতিদিন 12 থেকে 15 ঘন্টা কথা বলতাম। যদিও বেশিরভাগ সময়ই তাকে ইসলাম শেখাতাম। যদিও তিনি একেবারে মূর্খ ছিলেন না, মোটা-মুটি সচেতন ছিলেন!!
একবার তিনি (★ ★) বললেন- নাবী (সা) বলেছেন যে, আমার সাহাবা (রা)- রা আকাশের নক্ষত্র'সম!! এটা তাহলে কেন বললেন?? আমি বললাম- এক তো এই হাদীসটা দায়ীফ বা জয়ীফ, আর যদি হাদীসটাকে সাহীহ ধরেও নিই, তাহলে একটা বড় সমস্যা হবে!!
তিনি বললেন- কেন?? আমি বললাম- ১) আকাশে যত নক্ষত্র আছে, সাহাবা (রা)- দের সংখ্যা তত নয়। কেননা, শুধু Milky way galaxy তেই 10, 000, 000, 00, 00 (10 হাজার কোটি) নক্ষত্র আছে অথচ সাহাবা (রা)- দের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি হলে 2 লক্ষ মতো হবে। তাই, নাবী (সা)- এর এই তুলনা অযৌক্তিক ছিল, এখন আপনি বলুন- নাবী (সা) এমন অযৌক্তিক কথা বলতে পারেন??
আর ২) Milky way galaxy ছাড়াও এবং মহাবিশ্বে Galaxy আছে কমপক্ষে 200, 000, 000, 00, 00 (2 লক্ষ কোটি) কিন্তু এও ধারণা করা হয় যে- আমরা হয়ত এখনও পর্যন্ত এই মহাবিশ্বের 1% জানি না!!
যাইহোক, আমাদের এই পৃথিবী Milky way galaxy ছাড়াও আরও 2 টি Galaxy তে থাকা নক্ষত্রের আলো পায়, এখন সাহাবা (রা)- দেরকে যদি আকাশের নক্ষত্র ধরেও নিই, তাহলে বলতে হবে- সব নক্ষত্রের আলো পৃথিবীতে পৌঁছায় না, তেমনই তাহলে সম্মানিত সাহাবা (রা)- গণ??
তখন তিনি বললেন- তাই তো!! আমি তো কখনও এভাবে ভাবিই নি। তুমি কি খেয়ে এত বুদ্ধিমান হলে গা?? আমাকে আপনার Brain টা অর্ধেক দেবেন?? আমি বলতাম- আমি তো গোটাটাই আপনার, অর্ধেক নেবেন কেন?? তখন তিনি বলতেন- আমি তো তাহলে অনেক বেশি ভাগ্যবান!!
এগুলো মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে, যেমন এখন চোখ ছল-ছল করছে। আসলে যদি আমার রঙ ফর্সা হতো, তাহলে হয়ত এখন (23.01.2021 তারিখ এবং রাত 3:20 am) এগুলো লিখতাম না, February 2020 তে আমাদের বিয়ে হয়ে যেত এবং এখন তাকে বুকে নিয়ে ঘুমাতাম!!
তবে তার দোষ নেই। তিনি তার জায়গায় সঠিক ছিলেন। কারণ, তিনি ফর্সা এবং অতিরিক্ত সুন্দর। কেন তিনি কালো এবং মুখ ভর্তি দাড়ি ওয়ালা বিশ্রী দেখতে কাউকে বিয়ে করবেন?? তাই না??
তার সিদ্ধান্তের কারণে আমি তাকে প্রতারক/ বিশ্বাস ঘাতক বলে মনে করতাম। আসলে প্রথমদিকে Break up এর কষ্টটা ছিল অনেক, তাই হয়ত বিচারের ক্ষমতা লোপ পেয়েছিল আমার। এ জন্য আমার বিভিন্ন লেখায় তাকে প্রতারক এবং বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করতাম কিন্তু আজ আমি অনুতপ্ত!!
কেননা, তিনি তার জায়গায় সঠিক ছিলেন বরং ভুল টা ছিল তো আমারই। নিজেকে আয়নায় দেখে তাকে Propose করা উচিৎ ছিল!! যাইহোক পাঠক, এবার লেখা শেষ করব, কয়েকটি আয়াত দেখুন-
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসও, তাহলে আমার অনুসরণ করও, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন ও তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়"(3:31)। আরও দেখুন- مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ সহজ অনুবাদ হবে এমন-"যে কেউ রাসুলের অনুসরণ করে, সে আল্লাহরই অনুসরণ করল"(4:80)। আরও দেখুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের অনুসরণ করও এবং [এছাড়া অন্য কাউ কে অনুসরণ করে] তোমাদের আমলগুলোকে ধ্বংস করও না"(47:33)।
সুধী পাঠক, আপনি কি আমাদের অন্যান্য বিজ্ঞানপূর্ণ লেখা গুলো পড়তে আগ্ৰহী?? যদি হন, তাহলে "কোরান ও কণা বিজ্ঞান" সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ লেখার Link নিচে দেওয়া হল। দেখুন-
আজকের তারিখ তো সবাই জানেন 23.01.2021 এবং সুভাষচন্দ্র বোসের জন্মদিন- এটা আমরা সকলেই জানি। এও জানি সুভাষচন্দ্র বোসের পরিচয় আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনের জন্য।
এবং দেশের প্রথম স্বাধীন সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য। যদিও এ তথ্য গোপন রাখা হয়েছে!! তবে জানিয়ে রাখি- সুভাষচন্দ্র বোসের পূর্বেও স্বাধীন ভারত সরকার গঠন করা হয়েছিল, যেহেতু তিনি ছিলেন মুসলিম- এ জন্য ইতিহাসে তাকে গোপন করা হয়েছে!! দুঃখের বিষয় হল- মুসলিমরাও তাকে ভুলে গেছে। তিনি হলেন- অধ্যাপক মুহাম্মাদ বারকাতুল্লাহ (র)। নেতাজি দেশের জন্য যা করেছিলেন, মুহাম্মাদ বারকাতুল্লাহ (র) সেই সবই করেছিলেন কিন্তু তিনি মুসলিম- এ জন্য স্থান পেলেন না ইতিহাসে!!
যে সরকার তিনি গঠন করেছিলেন, তিনি ছিলেন সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী, আর রাষ্ট্রপতি ছিলেন- রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ। মুহাম্মাদ বারকাতুল্লাহ (র) 1928 সালে আত্মীয়-স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মারা গেলেন বিদেশেই। মৃত্যুর পূর্বে এক Interview এ বলে ছিলেন- আমার বড় সাধ ছিল, যেন আমার কবরটুকু ভারতের মাটিতে হয়। পাঠক, এমন দেশ প্রেম সচারচর দেখা যায়??
তবে, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে- যদি 1947 সালে আমাদের সুভাষচন্দ্র ভারতে থাকতেন, তাহলে বদমাইশ পাকিস্তান তৈরি হতো না/ পরে বাংলাদেশ তৈরি হতো না/ কাশ্মীর সমস্যা আজ হতো/ থাকত না!!
ফলত ভারত হতো- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় + শক্তিধর রাষ্ট্র এবং America সহ পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভারতের চামচাগিরী করত!! আর এটা হতো- আমার জন্য অতি গর্বের বিষয়, বিরাট গর্বের বিষয় হতো।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস- আমাদের সুভাষচন্দ্রকে অতি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে অথবা তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাই আজ আমরা আবারও ভারত সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন করছি যে, খুবই গুরুত্ব সহকারে আমার/ আমাদের প্রিয় নেতা সুভাষচন্দ্র বোস সম্পর্কে তদন্ত করে আসল সত্য উন্মোচন করা হোক। আর আমি খুশি হব, যদি সেই তদন্ত কমিটিতে এই অধমকে (হোসেন কুরানীকে) স্থান দেওয়া হয়!!
এবার একটু ঐতিহাসিক তথ্য পরিবেশন করতে চাই। আসলে ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মুর্তজার থেকে অনুপ্রাণিত তো, তাই!! অনেকেই হয়ত জানেন না যে, সেই নেতাজি সুভাষচন্দ্রকে 1 কোটি টাকা Donation দিয়েছিলেন একজন মুসলিম।
আজাদ হিন্দ বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ব্যাক্তিগণ ছিলেন মুসলিম। নিজে গুলি খেয়ে নেতাজিকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন একজন মুসলিম। নেতাজি জাপান ও জার্মান থেকে সাহায্য পেয়েছিলেন, তাই না?? কিন্তু আমরা ভুলে গেছি,
কিন্তু আমরা ভুলে গেছি, যার কারণে তিনি জাপান ও জার্মান থেকে সাহায্য পেয়েছিলেন, সেই ব্যাক্তি ছিলেন একজন মুসলিম। নাম- স্বাধীনতা সংগ্ৰামী হাজরাত উবাইদুল্লাহ সিন্ধি (র)।
যাকে বৃটিশ সরকার 25 বছর জেলে বন্দি রেখে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিলেন!! খুব দুঃখ লাগে এবং কষ্ট হয়, যখন কেউ মুসলিমদেরকে দেশপ্রেমিক বলে মেনে নিতে অস্বীকার করে!!
তবে, আমি আশাবাদী- এমন একটা সকাল ভারতে আসবেই, যখন ভারতীয় মুসলিমদের ভারতীয় বলে স্বসম্মানে গ্ৰহণ করা হবে এবং কট্টরপন্থার স্থান হবে ভারতের বাইরে!!
পাঠক, জানেন ভারতকে আরবিতে কি বলা হয়?? জানেন না, তাই না?? আমাদের ভারতকে আরবিতে বলা হয়- هند (হিন্দ) বা الهند (আল হিন্দ)। যার অর্থ হল- বাগান বা সাজানও বাগান।
অনেকেই হয়ত জানেন না যে- هند بنت عتبة [হিন্দ বা হিন্দা বিনতে উতবা (রা)] ছিলেন নাবী (সা)- এর বংশের একজন মহিলা ও ইসলামের ইতিহাসে প্রথম রাজা মুবাবিয়া (রা)- এর মা!!
আমরা (Team Quranic universe) ভারত থেকে সব ধরণের গোঁড়ামি, কুসংস্কার, ভ্রষ্টাচার, কট্টোরতা, সন্ত্রাস দূর করে ভারতকে আবার সাজানও বাগানে পরিণত করতে চাই।
আমরা কি ভারতীয়দের থেকে, বিশেষ করে ভারতীয় মুসলিমদের সহযোগিতা কামনা করতে পারি?? যদি সহযোগিতা না করেন, তাহলে আপনি আবার কিসের মুসলিম/ কেমন মুসলিম রে ভাই??
প্রথম প্রকাশ : 23.01.2021
প্রথম সংস্করণ : 26.01.2021
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: