বিশ্ব অর্থনীতি‌তে সুদ ও কুরানী বিশ্লেষণ, পর্ব-2

বিশ্ব  অর্থনীতি‌তে  সুদ  ও  কুরানী  বিশ্লেষণ, পর্ব-2

  শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড- এ কথা শুনেছেন নিশ্চয়?? আর এ কথা অহ-রহ শোনা যায়, তাই না?? এক‌ই অর্থ যুক্ত আরও একটি অপ্রচলিত কথা হল- শিক্ষা জাতির উন্নয়নের চক্র/ চাকা!!

কথা গুলো শুনতে খুব ভাল লাগে, তাই না?? আর ভাল লাগার‌‌ই কথা, তাই না?? এছাড়াও এই কথা গুলো দ্বারা শিক্ষার গুরুত্ব‌ও ফুটে ওঠে, তাই না?? পবিত্র কোরান‌ও আজ হতে 1500 বছর বা 4730, 40, 000, 00 s পূর্বে কথা গুলোর মর্মার্থ এই বলে প্রকাশ করেছে যে- اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ অনুবাদ হবে এমন-"পড়‌ও, তোমার প্রভুর নামে। যিনি সৃষ্টি করেছেন"(96:1)। এই আয়াতের পেক্ষিতে মানবতার মুক্তিদূত বিশ্বনাবী (সা) বললেন- طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ অনুবাদ হবে এমন-"জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফারাদ [Compulsory] করা হয়েছে"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুল ইলম, হাদীস 224)।
শিক্ষা/ জ্ঞান অর্জন হয় পড়া-শোনা থেকে [যদিও ব্যতিক্রম নাবী (সা)], তাই না?? আর পড়া-শোনা করার জন্য প্রয়োজন হয় টাকার/ অর্থের, তাই না?? তাই শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলে/ শিক্ষা উন্নয়নের চাকা হলে, অর্থ জাতির কোমর/ অর্থ উন্নয়নের (Engine) ইঞ্জিন!!
এ জন্য ''এত শিক্ষার প্রচার করা'' সত্ত্বেও সমাজে তার প্রভাব পড়ে না কিন্তু এই ছোট্ট/ সুন্দর তথ্য‌টি সম্মানিত হারামখোরদের মাথায় 1500 বছর বা 4730, 40, 000, 00 s পর‌ও এল না!! যার ফল হল- যে মুসলিম জাতির মাথায় মুকুট ছিল, আজ পায়ে জুতাও নেই এবং যে মুসলিম জাতির ঘরে-ঘরে বিজ্ঞানীর জন্ম হতো, সেই মুসলিম জাতির 60% চতুর্থ শ্রেণীর গন্ডি অতিক্রম করে নি এবং 30% Signature করা‌ও জানে না!!
সুধী পাঠক, আপনি কি বুঝতে পারছেন- গত 1500 বছরে সম্মানিত হারামখোরগণ আপনার কতটা ক্ষতি করেছে?? পাঠক, আরও কিছু বলব, শুনবেন?? দেখুন তাহলে- ভারতে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন Fixed salary'র সরকারিতে মুসলিম 1% এর একটু বেশি এবং বেসরকারি চাকরি‌তে 2% অথচ ভারতে মুসলিম 15% (Census, 2011)। সুধী পাঠক, এর চেয়ে বেশি ও বড় ক্ষতি হতে পারে??
আর যদি ব্যাবসার কথা বলি, তাহলে ভারতে মুসলিম দের অবস্থা আরও খারাপ!! কেননা, ভারতে ₹ 1 কোটি টাকা মূলধন যুক্ত মুসলিম‌ ব্যাবসায়ী .25% (₹ 1 কোটি টাকা মূলধন যুক্ত ব্যাবসায়ীর মধ্যে প্রতি 400 জনে 1 জন)।
এখানে অবাক 'হওয়ার ও দুঃখ পাওয়ার' মতো তথ্য হল- মাত্র 300 বছর আগে এই মুসলিম জাতি‌'ই ব্যাবসা দ্বারা ভারতবর্ষকে সমৃদ্ধ করে সোনার পাখিতে পরিণত করেছিলেন এবং তখন পৃথিবীর মোট G D P'র 25% ভারতের হতো অথচ আজ এই ভারতের মুসলিম‌দেরকে Detention camp এ বন্দি করার পরিকল্পনা চলছে!! পাঠক, এর চেয়ে বেশি ও বড় ক্ষতি হতে পারে??
আপনি কি বুঝতে পারছেন- সম্মানিত হারামখোরগণ আপনার কতটা ক্ষতি করেছে?? কিন্তু আল্লাহ তার দয়া দ্বারা হোসেন কুরানী‌কে ₹ 4.3 কোটি টাকা মূলধন যুক্ত ব্যাবসা দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী 10 বছরে হোসেন কুরানী ভারতের 100 জন সেরা ধনীদের মধ্যে গণ্য হবেন, 30 বছরে 20 জনের মধ্যে এবং 50 বছরে 1 নং হবেন!!
সুধী পাঠক, প্রায় প্রতি লেখায় 2 জন পাঠকের মন্তব্য তুলে ধরি কিন্তু আজ 3 জন পাঠকের মন্তব্য তুলে নিয়ে আসব, যাতে আপনি আমাকে/ আমার লেখা গুলোকে মূল্যায়ন করতে পারেন!! দেখুন- ১) কুরানী ভাই, আমি আপনার সবচেয়ে বড় ভক্তদের অন্যতম এবং আপনার সমস্ত কথার সঙ্গেই একমত পোষণ করি/ করতেই হয়। কারণ, আপনার দলিল-প্রমাণ ও যুক্তির সামনে কেউই দাঁড়াতে পারবে না কিন্তু আমার মনে হয় আলিমদেরকে এভাবে 'সম্মানিত হারামখোর' বলাটা মনে হয় উচিৎ হচ্ছে না। বিষয়টি বিচার করবেন!!
আর- ২) এতদিন কোরান-হাদীসের অপব্যাখ্যা করে করে হয় নি, এবার সুদকে‌ও হালাল প্রমাণ করে ছাড়ল হোসেন কুরানী খা★কির ছেলে!! কুত্তা কুরানী, তোকে যদি তোর 'মায়ের ভোগে' না পাঠাই, তাহলে আমি 2 বাপের জন্ম!! তোর মাকে চু★ব শালা খা★কির ছেলে। তুই নাকি দুনিয়া বদলাবি?? দুনিয়া‌তে থাকলে তবে তো দুনিয়া বদলাবি!! তোর মা‌ওত আমার হাতেই লেখা আছে, এটা মনে রাখিস কুত্তা কুরানী!!
আর- ৩) Sir, কোন বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ আপনাকে দেয় নি?? Sir, আল্লাহ কিভাবে একটা মানুষ‌কে এত জ্ঞান দিতে পারেন!! জানেন Sir, আমার খুব ইচ্ছা হতো যে- যদি আমিও হোসেন কুরানীর মতো হব কিন্তু আমি ভুল ভাবতাম। হোসেন কুরানী হ‌ওয়া যায় না, হোসেন কুরানী জন্মায় এবং পৃথিবী বদলে দেয়!!
Sir, আমার শুধু এখন একটাই ইচ্ছা যে- আপনার উস্তাদ ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মার্তুজা সাহেবের মুখ থেকে আপনার প্রশংসা শুনব!! আমি মনে করি যে, আপনার জন্য তিনি গর্বিত হবেন। কারণ, আপনি তার ছাত্র, এটা সত্যিই অনেক গর্বের বিষয়। হোসেন কুরানী কে ছাত্র হিসাবে পাওয়ার সৌভাগ্য কি সবার হয়??
সুধী পাঠক, আলোচনা-সমালোচনা, গালাগালি এবং প্রশংসা সব‌ই তো হল!! এবার গত পর্বের ছেড়ে আসা Insurance প্রসঙ্গে ফিরে আসতে চাইছি, আপনি কি তা'ই চাইছেন?? তবে 3 জন পাঠকের মধ্যে 1'ম জনের মন্তব্যের ছোট্ট মতো উত্তর দিতে চাই এবং তা হল- ভাই, এই লেখাটা শেষ পর্যন্ত পড়ুন, তাহলে বুঝতে পারবেন হয়ত যে, কেন আমি আলিমদের‌কে "সম্মানিত হারাম খোর" বলি!!
তবে শুধুমাত্র এতটুকু মনে রাখবেন- এই সম্মানিত হারামখোরগণ পৃথিবীতে ও পরকালে আপনার ধ্বংসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, আপনি এখন শুধু ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছেন আপনার অজান্তেই!! যেদিন আপনি এগুলো উপলব্ধি করতে পারবেন, আলিমদেরকে মহা সম্মানিত হারামখোর বলেই থামবেন না বরং তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবেন এবং সেই শান্তি তাদের জন্য ছোট হয়ে যাবে, তাদের অপরাধের তুলনায়!!
সুধী পাঠক, গত পর্বটি যদি না পড়েন, তাহলে এই পর্বটি কখনও পুরো-পুরি বুঝতে সক্ষম হবে‌ন না, তাই নিচের Link এ Click করে গত পর্বটি পড়ুন---
চলুন, এবার Insurance সম্পর্কে কথা বলি, না কি?? গত পর্বে দেখিয়ে‌ছিলাম- অনিচ্ছা‌কৃত হত্যা‌র দিয়াত বা রক্তমূল্য হল যে, 100 টি ভিন্ন-ভিন্ন ধরণের উট। তাই না?? হাদীস‌টি দেখবেন?? আচ্ছা দেখে নিন, বুঝতে সুবিধা হবে। নিন-
"আবদুল্লাহ ইবনু উমার [রা] থেকে বর্ণিত। নাবী [সা] বলেছেন- ভুলবশত হত্যা [কাতিলুল খাতা] হল 'শিবহে আমদ' এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- চাবুক বা লাঠির আঘাতে মৃত্যু। এতে 100 উট [দিয়াত] দিতে হবে। তার মধ্যে 40 টি গর্ভবতী উট"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত দিয়াত, হাদীস 2627)।
এখন প্রশ্ন হল- যদি কাউকে অনিচ্ছা‌কৃত ভাবে Bike accident করে ফেলেন এবং তিনি নিহত হন, তাহলে কি 100 টি উট = 1.5 (দেড়) কোটি টাকা দিয়াত অর্থাৎ রক্তমূল্য/ ক্ষতিপূরণ দিতে পারবেন?? 100 টি উটের কথা বাদ দিন, আপনি ভিটে-মাটি বিক্রি করেও কি 50/ 25 টি উট দিতে পারবেন??
পারবেন না। তাই নিহতের পরিবার যেন সহজেই ঐ 100 উট সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পেয়ে যান, সেই সুন্দর ব্যবস্থা‌টিকে বলা হয়- Life insurance বা জীবন বীমা বা দিয়াত!! মাথায় ঢুকল?? শিক্ষা যদি হয় 400-500 বছর আগের পাঠ্যক্রম ওয়ালা মাদ্রাসায়/ কোনও সম্মানিত হারাম খোরের কাছে মগজ বিক্রি করে দিয়ে থাকেন এবং তাদের লেখা গাঁজাখুরি কাগজ মাথার খুলিতে বয়ে বেড়ান, তাহলে ঢুকবে না!!
কিন্তু তারপরও আমি আপনার মাথায় ঢোকানোর অপচেষ্টা করব- ইনশাআল্লাহ। যাতে বিচারের দিনে আমাকে দায়ী না করা হয়!! আপনি কি জানেন, এই Insurance system কিভাবে কাজ করে??
এ বিষয়ে পরে কথা বলছি, এখন একটা সুন্দর প্রশ্নের উত্তর দিই, তা হল- Insurance company'র agent হয়ে কাজ করে উপার্জন করা কি হালাল?? উত্তর খুবই সহজ- যদি Insurance system হালাল হয় (যদি‌ও কিছুক্ষণ পর‌ই হালাল প্রমাণ হবে- ইনশাআল্লাহ), তা হলে agent হয়ে কাজ করে উপার্জন করা‌ও হালাল হবে, তাই না?? এছাড়াও এটা এক ধরণের দালালি এবং প্রতারণা ছাড়া দালালি হালাল, তা আমরা গত পর্বেই দেখিয়েছি, তাই না??
এবার আপনাকে দেখাব যে, Insurance system কিভাবে কাজ করে। প্রথমে Insurance company গুলো agent এর মাধ্যমে আপনার থেকে টাকা তোলে এবং সেই টাকা বিভিন্ন Project এ Invest করে। তার পর Company নিজে লাভ/ মুনাফা অর্জন করে এবং আপনাকে দেয়!!
এবার ধরুন, আপনি 10 লক্ষ টাকা‌র Policy করেছেন এবং 20 বছর ধরে 10 লক্ষ টাকা Company কে দেবেন। আর আপনার এই Investment এর জন্য Company আপনাকে আপনার Investment পুরো করার 5 বছর পর আপনাকে 20 লক্ষ টাকা দেবে। এই তো System, না কি??
এটা তো Policy, এটা সম্পূর্ণ হালাল Investment ও profit. এবার প্রশ্ন হবে- Fixed deposit কি হালাল?? উত্তর সহজ- হালাল। কেননা, আপনি Bank এ Invest করে‌ন এবং Bank বিভিন্ন Project এ, তাই Fixed deposit এবং তার Profit সম্পূর্ণ হালাল। কেননা, তা Investment এর জন্য Profit. বলে রাখা মনে হয় উচিৎ হবে যে, Policy'র সঙ্গে‌ও Life insurance করে দেওয়া হয়, তবে সেক্ষেত্রে Amount খুবই কম হয়!! এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে রয়েছে।
প্রশ্ন হবে- Fixed deposit এ 8-10 বছরে Double হয় কিন্তু Policy তে 16-25 বছর সময় লাগে কেন?? উত্তর সহজ- Fixed deposit এ Company আপনার থেকে এককালীন টাকা পেয়ে যায় কিন্তু Policy'র ক্ষেত্রে তা হয় না, Policy'র ক্ষেত্রে Company'র টাকা পেতে সময় লেগে যায় অনেক বেশি, এ জন্য!!
প্রশ্ন হবে- হোসেন কুরানীর কাছে Fixed deposit করা যায় ও কত দিনে Double পাওয়া যাবে?? উত্তর সহজ- হোসেন কুরানী‌র ব্যাবসায় বহু পরিচিত ব্যাক্তিই Fixed deposit করেন এবং হোসেন কুরানী 7 বছরে Double দেন!!
পাঠক, এবার পূর্ব প্রসঙ্গে ফিরে আসতে চাইছি। যা কিছুক্ষণ আগে ছেড়ে দিয়েছিলাম। মনে আছে?? কি বলুন তো?? ঐ যে, অনিচ্ছা‌কৃত Bike accident এর নিহত ব্যাক্তির রক্তমূল্য!! মনে পড়েছে??
এও বলেছিলাম- বর্তমান পরিস্থিতি‌তে 100 টি উটকে দিয়াত হিসাবে দিতে পারবেন না, 100 টি উটের কথা বাদ দিন, আপনি ভিটে-মাটি বিক্রি করেও কি 50/ 25 টি উট‌ও দিতে পারবেন না!! কারণ, বর্তমানে আপনার হয়ত Bike থাকতে পারে কিন্তু আপনার মোট সম্পত্তি 25 টি উটের সমান বা 25-30 লক্ষ টাকাও নয়!! তাই নয় কি??
তাহলে যিনি আপনার অনিচ্ছাকৃত ভুলে‌র কারণে নিহত হলেন, তার পরিবারের কি হবে/ কি খাবে এবং কিভাবে জীবন যাপন করবে?? এ জন্যই Insurance system develop করা হয়েছে।
এটা কাজ করে এভাবে- Bike অর্থাৎ 2/ 4/ many wheeler এর Insurance করতে হয়। এই Insurance এর Yearly premium থাকে। তারপর যদি আপনার দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে নিহত হয়, তখন আপনার উপর Murder charge লাগান‌ও হবে না এবং আপনার দ্বারা নিহত ব্যাক্তি Insurance company থেকে রক্তমূল্য পাবে (যদি এই Insurance এর বিভিন্ন ব্যাবসায়ীক System থাকে)।
এখানেই শেষ নয়, এই Insurance নীতি এও বলা হয়- যদি আপনার দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনও ব্যাক্তি নিহত না হয়ে আহত হয়, সেই ক্ষেত্রে‌ও রক্তমূল্য পাওয়া যায়। আর হ্যাঁ, মনে হয় শুধু অনিচ্ছাকৃত নয় বরং ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা/ আহত করেন, তাও হত/ আহত ব্যাক্তি রক্তমূল্য পাবেন। তবে এটা Criminal offence নিঃসন্দেহে, এর শাস্তি আপনাকে পেতে হবে এবং পেতেই হবে!! যদি অনিচ্ছাকৃত হয়, সেক্ষেত্রে তা Criminal offence হবে না।
এটা একটা পদ্ধতি। অন্য পদ্ধতি হল- আপনি নিজেই নিজের Life insurance করে রাখুন। হ্যাঁ, এর জন্য আপনাকে নিদিষ্ট Premium দিতে হবে (Monthly/ quality/ half yearly/ yearly)। ফলত যদি আপনার Accident মৃত্যু হয়, তাহলে বিপুল পরিমাণ রক্তমূল্য পেতে পারেন। কয়েকটি Policy'র বিষয়ে জানি, যে খানে 25 লক্ষ থেকে 1 কোটি টাকা অথবা তার বেশিও দিয়াত পাওয়া যায়!!
তবে আমার জানা মতে ভারতের কোনও Insurance company'ই মনে হয় অঙ্গহানীর উকুল বা বিনিময় দেয় না (অন্যান্য দেশের ব্যাপারে জানি না)। হ্যাঁ, আহত হলে হয়ত Life insurance এর মাধ্যমে Mediclaim পাওয়া যায়। যদি Life insurance এর মাধ্যমে না'ও পাওয়া যায়, তাহলে Health insurance এর মাধ্যমে অবশ্যই Mediclaim পাওয়া যায়। তাই না??
এখন ভারত সরকার সহ গোটা পৃথিবীর সমস্ত দেশের সরকারের উচিৎ- অঙ্গহানীর জন্য শুধুমাত্র Mediclaim এর ব্যবস্থা না করে উকুল/ দিয়াত/ বিনিময়ের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা। কারণ, অঙ্গহানীতে একটা মানুষের জীবন তো নষ্ট হয়‌‌ই, তার পরিবারের‌ সবার জীবন‌ও নষ্ট হয়ে যায়!! তাই নয় কি?? এখন আপনি কি দেখতে চাইবেন যে, ইসলামের 1500 বছর পূর্বে‌র বিধান কতটা Advance, হয়ত অবাক হবেন-
"আব্দুল্লাহ ইবনু আবু বকর ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবন হাজাম [র] তাহার পিতা হাজাম [রা] হইতে বর্ণনা করেন যে, দিয়াতের ব্যাপারে রাসুল [সা] যে চিঠি তাকে লিখেছিলেন তাতে উল্লেখ ছিল- জীবনের দিয়াত বা রক্তমূল্য 100 উট। যখন পূর্ণ নাক কাটা যায় এবং স্থান টি সম্পূর্ণ সমান হয়ে যায়, তার দিয়াত 100 উট। যখন মাথার পিছে পর্যন্ত পৌঁছেছে, তার জন্য 3/100 দিয়াত, পেটের ক্ষতেও 3/100 ভাগ। চোখের দিয়াত পঞ্চাশ উট, হাত এবং পায়েরও পঞ্চাশ উট করিয়া দিয়াত। প্রতিটি অঙুলের দিয়াত 10 উট। প্রতিটি দাতের দিয়াত 5 উট। হাড় বাহির করিয়া দিয়াছে, এমন প্রতিটি একটা আঘাতের দিয়াত 5 উট"(মুয়াত্তা ইবনু মালিক, কিতাবুল উকুল, হাদীস 1598)। এখানেই শেষ নয়, সমস্ত বিষয়ে দিয়াত হয়।
প্রশ্ন হবে- এখন তো পশু/ ঘর-বাড়ি সহ সমস্ত কিছুর
Insurance হচ্ছে/ হয়, এগুলো হালাল?? উত্তর খুবই সহজ- Insurance হল দিয়াতের ছোট সংস্করণ। যে সব বিষয়ে দিয়াত হয়, তার Insurance'ও হালাল!!
আমার পাঠকদের জানাতে চাই যে, আমি আগামী 2021 এর May তে Mahendra scorpio নামক 4 wheeler নেব- ইনশাআল্লাহ। অনেক দিন ধরেই তার প্রয়োজনীয়‌তা অনুভব করছি কিন্তু নাবী (সা)- এর Style এ জীবন-যাপন করি, এ জন্য এতদিন নিচ্ছিলাম না কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে নিতেই হচ্ছে, নয়ত এতদিন Bike নিয়েই (তা'ও উপহার পাওয়া) চালাচ্ছিলাম!!
আর হ্যাঁ, Scorpio হবে- Grey (ধূসর) Colour এর। কারণ, সেই মহিলার খুব শখ ছিল 4 wheeler এর এবং এটাই ছিল 'তার ও আমার' পছন্দের রঙ। আর আমার বোনেদের‌ও এই রঙ‌ই পছন্দ। তাই দুয়া করুন, যেন আমাদের গাড়িতে কখনও কোনও Accident না হয়ে যায়। দুঃখের কথা হল- সেই মহিলার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার শখ ছিল, যা আর কখনও পূরণ হবে না!!
পাঠক, ছোট্ট একটা প্রশ্নের উত্তর দিন- Insurance হারাম কিভাবে হয়ে গেল?? এখানে তো মহাসম্মানিত হারাম‌খোরদের খুশি হ‌ওয়া উচিৎ যে, আমরা তো সারা জীবন হারাম খেয়ে জীবন কাটিয়ে দিলাম কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না, কেউ তো তবু দিয়াতের কাছা-কাছি কোনও System develop করেছে!!
কিন্তু এই সম্মানিত হারাম‌খোরদের তো লজ্জা বলে কিছু নেই, তারা তো তাদের লজ্জা-শরম বিক্রি করে খেয়ে ফেলেছেন!! তাই তাদের মুখ দিয়ে 'হারাম' ছাড়া আর কোনও কথাই বের হয় না, মুখ খুললেই শুধু হারাম হারাম হারাম এবং হারাম। আর এভাবেই মুসলিমদের কে পৌঁছে দিয়েছেন রসাতলে!!
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম থেকে মুহাম্মাদ সেখ হাদীদ ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- Qurani sir, আপনার এই লেখা (পর্ব- 1) এবং অন্যান্য লেখা গুলো একদিন মুসলিম সমাজে ও পৃথিবীতে বিপ্লব সৃষ্টি করবে- ইনশাআল্লাহ। হাদীসে পড়েছি- আল্লাহ প্রতি 100 বছর অন্তর-অন্তর একজন করে মুজাদ্দিদ পাঠান। আমার বিশ্বাস 1400 হিজরীর মুজাদ্দিদ হোসেন কুরানী!!
তবে Sir, জানার জন্যেই একটা প্রশ্ন করছি- আপনি চাষে বিনিয়োগ করার কথা বলেছেন। আর আপনি এও বলেছেন- বিনিয়োগ‌কারি লোকসান নেবে না। তাহলে যদি বন্যা হয় এবং ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তখন কি হবে?? চাষী তো বিনিয়োগ পরিশোধ করতে পারবে না, তখন কি হবে?? তখন কি চাষীর থেকে তার জমি দখল করে নেওয়া হবে??
উত্তর সহজ- ১) সেটা আপনারা যে ভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন, তেমনই হবে এবং ২) চাষী ফসল বীমা করে রাখবে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে চাষী ক্ষতিপূরণ পেয়ে যান এবং বিনিয়োগ‌কারিকেও লোকসান গুনতে হবে না!!
এক মহিলা প্রশ্ন করে বলেছেন- Sir, আমি Bank এ Job করি, আমার এক বান্ধবী আপনার এই লেখাটা (পর্ব- 1) আমাকে পাঠাল‌ও। পড়ে তো আমি অবাক!! আমি Bank এ Job করলেও মনে কখনও শান্তি পেতাম না এবং শুধু মনে হতো- আমি হারাম কাজের সঙ্গে যুক্ত কিন্তু আজ আপনার লেখাটা পড়ার পর যেন আমি শান্তি‌র নিঃশ্বাস নিলাম!! এখন শুধু ছোট্ট 2 টি প্রশ্ন- Bank এ Job করা কি হালাল??
পাঠক, কি উত্তর হতে পারে?? উত্তর সহজ- আপনি যদি গত পর্বটি পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই জানবেন যে, Bank এর কাজ-কর্মে সুদের আদান-প্রদান নেই বললেই চলে (যাকে আমরা সুদ বলি, তা আসলে সুদ‌ই নয়)। আসলে Bank হল- বিনিয়োগের সুরক্ষিত মাধ্যম। যা আপনার টাকা নিয়ে বিনিয়োগ করে এবং আপনাকে Profit দেয় কিন্তু আপনার কোনও ঝুঁকি থাকে না।
অন্য ভাবে বললে হবে- Bank এখানে Middle man এর ভূমিকা পালন তথা দালালি করে এবং Profit নেয়, আর তা দ্বারা আপনাকে Salary দেওয়া হয়!! দালালি যে হালাল, তা গত পর্বে দেখিয়েছি। সুতরাং Bank এ Job করা সম্পূর্ণ হালাল!!
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সাঁত্রাগাছি থেকে হালিমা খাতুন প্রশ্ন করে বলেছেন- মহিলারা কি ঘরের বাইরে গিয়ে Job করতে পারবে?? এই সম্পর্কে কোরান কি বলে?? উত্তর খুবই সহজ কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তর যদি সম্মানিত হারামখোর‌গণ দিতেন, তাহলে তাদের মুখ থেকে একটাই উত্তর বের হতো, তা হল- হারাম হারাম এবং হারাম। আর কাফির ফাতুয়া পেতেন বটেই!!
কিন্তু আপনি সৌভাগ্যবতী যে, প্রশ্ন‌টি হোসেন কুরানী কে করেছেন, এ জন্য কাফির ফাতুয়া‌ও পেলেন না এবং সঠিক উত্তর‌ও পাবেন!! আয়াতটি দেখুন, ইনশাআল্লাহ উত্তর পেয়ে যাবেন-
وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ ۖ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۖ قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّىٰ يُصْدِرَ الرِّعَاءُ ۖ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যখন তিনি [মূসা (আ)] পৌঁছা লেন মাদয়ানের পানির [কূয়ার] কাছে, তখন তিনি তার কাছে [দেখতে] পেলেন- এক দল মানুষ [তাদের পশুদের পানি] পান করাচ্ছে এবং তাদের থেকে আলাদা হয়ে এক দিকে 2 টি মহিলা নিজেদের [পশু গুলো] আগলে রাখছে। তিনি [মূসা [আ)] বললেন- আপনাদের সমস্যা কি?? তারা [2 টি মহিলা] বললেন- আমরা [আমাদের পশু গুলোকে] ততক্ষণ পর্যন্ত পানি পান করাই না, যত ক্ষণ না রাখালরা (তাদের পশু গুলো] সরিয়ে নেয়। আর আমাদের পিতা একজন অতি বৃদ্ধ"(28:23)।
সুধী পাঠক, মহিলারা ঘরের বাইরে কাজ/চাকরি করতে পারবেন- এর পক্ষে আর কোনও প্রমাণ দিতে হবে কি?? হ্যাঁ, আমি জানি এখানে কেউ-কেউ বলতে পারেন- মহিলা গুলোর পিতা বৃদ্ধ ছিলেন, তাই তারা ঘরের বাইরে কাজ করতে বাধ্য হতেন!!
এ প্রশ্নের উত্তরে বলব- ১) তাহলেও মহিলারা ঘরের বাইরে কাজ/ চাকরি করতে তো পারেন!! আর ২) এই আয়াতে এ কথা বলা হয় নি যে, তারা বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে কাজ করতেন বরং বলা হচ্ছে- তারা রাখালদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে যেতেন না, কেননা তাদের পিতা অতি বৃদ্ধ!!
৩) আসমা বিনতু আবুবকর (রা) ছিলেন যুবায়ের (রা)- এর স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি বাড়ির বাইরে কাজ করতেন। চমকে উঠার কথা হল- নাবী (সা) নিষেধ তো করেন নি, উপরন্তু আসমা বিনতু আবুবকর (রা)- কে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন!! প্রমাণ- মুসলিম, কিতাবুস সালাম, 5506 এবং 5507 নং হাদীস। আপনার আরও প্রমাণ চাই??
প্রশ্ন হবে- Bank এ Account খোলা এবং লেন-দেন কি হালাল?? উত্তর সহজ- যদি Bank system হারাম‌ও হতো, তবুও লেন-দেনের জন্য Bank এ Account open করা হালাল হতো। কারণ, তা ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় থাকত না। আর মজবুরির ক্ষেত্রে হারাম হালাল হয়ে যায়, যা আমরা গত পর্বে দেখেছি!! তাই না??
আর দ্বিতীয়ত, Bank system'ই তো হালাল, তাহলে Bank এ Account খোলা এবং লেন-দেন করা হালাল হবে না কেন?? কোন দুঃখে হারাম হবে?? আর লক্ষ্য করে দেখবেন- যারা হারাম ফাতুয়া দেয়, তাদের 1-2 টা নয় বরং তাদের 10-20 টা Bank এ Account খোলা আছে এবং তাতে লক্ষ-লক্ষ নয়, কোটি-কোটি টাকাও আছে!!
এক স্বর্ণ শ্রমিক ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- Hossen qurani sir, আমি সেখ সেহজাদ রাহীম আপনার ছোট্ট একজন পাঠক কিন্তু বড় ভক্ত এবং আপনার দ্বারা নতুন ভাবে ইসলাম শিখছি। আপনার সুদ সম্পর্কে এই লেখা (পর্ব- 1) পড়ার পর ছোট একটা প্রশ্ন - সেই ছোট বেলা থেকে শুনে আসছি যে, সোনার কাজ থেকে উপার্জন হারাম এবং তা থেকে জীবনে যা যা করা হয়েছে/ হবে, সব‌ই হারাম!!
কিন্তু Sir, আমি সোনার কাজ‌ই করি কিন্তু মনে-মনে সব সময় ভয় পাই যে, সোনার কাজ দ্বারা উপার্জন করে জীবনে যা যা করব, সব‌ই হারাম!! আমি আমার আব্বুকে হজ্ব করিয়েছি, অনেকে বলে- তাও না কি আল্লাহ কাবুল করবেন না!!
Sir, আপনার থেকেই সঠিক উত্তর চাই এবং আশা করছি যে, তা পাব‌!! আর Sir, আমি সৌদি‌র জিদ্দায় থাকি এবং 4-5 পর বাড়ি ফিরব, আপনার জন্য কি কি নিয়ে যাব?? আপনার কি কি পছন্দ, তা আমাকে বলুন। আমি আপনাকে অনেক ভালবাসি, আপনার কয়েকটি লেখা পড়ে তো কেঁদেই ফেলেছি। এখন আমি শুধুমাত্র আপনাকে খুশি দেখতে চাই, তাই আপনি বলুন যে, কি পেলে (আমি আপনাকে হানী দিতে পারব না) আপনি খুশি হবেন??
উত্তর সহজ- চুরি করা হারাম কিন্তু বর্তমান সময়ে স্বর্ণের কাজ থেকে চুরি করা প্রায় অসম্ভব। তাই হারাম বলার কোনও সুযোগ নেই। এখন যা হয় (আমার জানা মতে), তা হল- Salary ও Loss, তাই না?? আর Loss যতটা বাঁচাতে পারবেন, তা আপনার!! এই তো??
এখানে এটা Maker, showroom and customer রা জানে। তাই তা চুরির মধ্যে গণ্য হবে কিভাবে?? তাই তা হারাম নয় বরং এটা উপার্জনের বৈধ একটা পদ্ধতি!! এ বিষয়ে আয়াতটি দেখে মন শান্ত করুন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا। لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদার‌গণ, তোমরা নিজেদের মধ্যে সন্তোষজনক লেন-দেনের [ব্যাবসা ও শ্রম] মাধ্যম ছাড়া অন্যায়-অবৈধ ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ খে‌ও না"(4:29)।
আর উপহারের বিষয়ে এটাই বলতে পারি- আমার জন্য যা যা আপনার সঠিক মনে হবে, তাই তাই উপহার দিতে পারেন। তবে, আমার পছন্দ 'রুপার বাঁধাই' করা পবিত্র কোরান!! আর আমি চাইব- Quranic universe এর পাশে থাকুন, Quranic universe পৃথিবী বদলাতে চলেছে- ইনশাআল্লাহ!!
প্রশ্ন হবে- Money exchange process এ কজ করে উপার্জন করা কি হালাল?? উত্তর সহজ- আমি জানি যে, সম্মানিত হারামখোরগণ এই কাজকেও হারাম বলেন এবং এর উপার্জন‌কেও!! তবে আমি জানি, তারা কেন হারাম বলেন!! সম্ভব‌ত এই হাদীসের জন্য-
"আব হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সা] বলেছেন- রুপার সাথে রুপা, সোনার সাথে সোনা, যবের সাথে যব এবং গমের সাথে গম পরিমাণে সমান সমান হলে ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় হালাল"(2255)।
কিন্তু Money exchange process এ কাজ ক্রয় ও বিক্রয় নয় বরং Customer service তথা শ্রম এর বদলে Service charge, এতে হারাম কোথায় থেকে এল, তা আমার মাথায় আসে না!! এখন কি সম্মানিত হারামখোর‌গণের কাছে শ্রমিকের কাজ করাও হারাম হয়ে গেল??
প্রশ্ন হবে- তাবিজ করে টাকা নেওয়া যাবে?? উত্তর সহজ- অবশ্যই টাকা নেওয়া যাবে কিন্তু সমস্যা এখানে নয়, অন্যত্রে এবং তা হল- তাবিজ পরা'ই তো শিরক এবং হারাম, এখন যদি শিরক করিয়ে রোজগার করতে চান, করুন!! তবে যা হারাম, তা থেকে উপার্জন‌ও যে হারাম- এটা জানেন তো??
সুধী পাঠক, আপনি তাবিজ সম্পর্কে কোরান ও সহীহ হাদীস অনুয়ায়ী বিশ্লেষণ ভিত্তি‌ক লেখা পড়তে চান, তা হলে নিচের Link এ Click করুন---
পাঠক, আর যদি ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে‌ বিস্তারিত কোরান ও তৎসংলগ্ন সহীহ হাদীস থেকে জানতে চান, তাহলে নিচের Link এ Click করুন---
প্রশ্ন হবে- কোরান প্রচারের বিনিময়ে কি টাকা নেওয়া যাবে?? উত্তর সহজ- অবশ্যই হালাল কিন্তু হাদীসে প্রবেশ করলে পক্ষে এবং বিপক্ষের হাদীস দেখতে পাবেন। তবে, হোসেন কুরানী হাদীসে প্রবেশ করবেই না। কেননা, কোরানেই উত্তর রয়েছে!! দেখুন-
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ক্রয় করেছ কিন্তু তাদের এই ব্যাবসা লাভজনক নয়, না তারা সৎপথে আছে"(2:16)।
পাঠক, বুঝতে পারে‌ন নি তো আয়াতটা?? আয়াতটি ভাল করে লক্ষ্য করে দেখুন- হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রান্তি ক্রয় করার ব্যাবসা লাভজনক নয় কিন্তু হিদায়াত ক্রয় করার ব্যাবসা তো লাভজনক!! তাই আপনি টাকা দিয়ে হিদায়াত (কোরান ও তার জ্ঞান। দ্রঃ 2:185) ক্রয় করে নেবেন, তা যার কাছে আছে। আর যার কাছে আছে, তিনি বিক্রয় করবেন!!
প্রশ্ন হবে- ইমামের এবং মুয়াজ্জিনের উপার্জন বিষয়ে কোরান কি বলে?? উত্তর সহজ- ইমামের বিষয়টি তো উপরিউক্ত কোরান প্রচারের মতোই। এ জন্য আর তার জন্য আলাদা দলিল দিচ্ছি না!!
আর র‌ইল মুয়াজ্জিনের উপার্জনের দলিল!! চিন্তা করছেন কেন, অবশ্যই এর দলিল‌ও কোরান থেকেই দেব- ইনশাআল্লাহ!! ব্যাখ্যা পরে করব, প্রথমে দলিল‌টা দেখে নিন-
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় সাদাকা [Tax বা কর] সমূহ ১) নিঃস্ব, ২) গরিবদের, ৩) সাদাকা সংক্রান্ত কর্মচারী, ৪) যাদের জন্য মন জয় করা প্রয়োজন, ৫) দাস মুক্ত করার, ৬) ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করার, ৭) আল্লাহর পথে এবং ৮) রাস্তার ছেলেদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত [বা ফরজ ]। আল্লাহর সবকিছুর জ্ঞানী ও মহাবিজ্ঞানী"(9:60)।
পাঠক, উক্ত আয়াতে বলা হচ্ছে- فِي سَبِيلِ اللَّهِ বা আল্লাহর পথে। সালাতের জন্য ডাকা বা আযান দেওয়া আল্লাহর পথ নয়?? তাহলে কোরান থেকে পেয়েছেন মুয়াজ্জিনের উপার্জনের দলিল?? আর হ্যাঁ, ইমামের উপার্জনের দলিল‌ও এটা!!
তবে, যা না বললে নয়, তা হল- ভিন্ন এলাকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে দিয়ে ইমামতি করানও এবং আজান দেওয়া‌ন‌ও বিদ‌আত!! ইমাম ও মুয়াজ্জিন হবে নিজস্ব এলাকার কোনও মুসলিম!! আর ভিন্ন এলাকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে দিয়ে ইমামতি করানও এবং আজান দেওয়া‌ন‌ও এর জন্য মুসলিম সমাজে ইমাম/ মুয়াজ্জিন হ‌ওয়ার প্রতি অলসতা সৃষ্টি হয়েছে অথচ তা সম্মান জনক পেশা!!
্যাঁ তবে, এক এলাকার কোনও যোগ্য মুসলিম অন্য এলাকার মসজিদে ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতে বা করাতে পারবে, যেমন 9:108 আয়াতে বলা হয়েছে কিন্তু তা Permanent নয়। মুয়াজ্জিনের ক্ষেত্রে‌ও তা'ই নিয়ম। যেমন বিলাল (রা) মাসজিদ আন নাববীর (সা)- এর মুয়াজ্জিন হ‌ওয়া সত্ত্বেও মাক্কা বিজয়ের দিন তিনি নাবী (সা)- এর নির্দেশে কাবার উপরে দাঁড়িয়ে আজান দিয়েছিলেন!!
আর নিজস্ব এলাকার ইমাম/ মুয়াজ্জিন হলে, তিনি সমাজের প্রতি অনেক বেশি দায়বদ্ধ হবেন, এই পেশা শুধুমাত্র পেশা থাকবে না!! এছাড়াও তিনি‌ও বিভিন্ন ব্যাবসা করে জীবনে আরও প্রতিষ্ঠিত হ‌ওয়ার সুযোগ পাবেন!! তাই না?? এ ছাড়া যদি পবিত্র কোরান থেকে বিদ‌আত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তাহলে নিচের Link এ Click করুন---
পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ধনিয়াখালি থেকে মিন্টু দেওয়ান ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- কুরানী ভাই, আমরা যে গুলোকে হারাম বলে জানতাম, আপনার লেখায় দেখলাম যে, সেই সব‌ই হালাল। ভাই, আমি কৃষকদের থেকে আলু কিনে নিই এবং Store করে নিই, পরে দাম বাড়লে বিক্রয় করে দিই- এটা কি হালাল??
উত্তর সহজ- ভাই, ক্রয়-বিক্রয় তো হালাল, এটা ভিন্ন কথা কিন্তু Store করে রাখা 2 ধরণের- ১) Supply বন্ধ করে কৃত্রিম Demand তৈরি করে দাম বাড়ান‌ও এবং ২) এক সঙ্গে সমস্ত আলু বাজারে এলে, আলু নষ্ট হয়ে যাবে, এই জন্য Store করা। এখানে প্রথমটি হারাম এবং দ্বিতীয়‌টি হালাল!! দেখুন-
"মা‘মার ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নাদলা [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহ রাসুল [সা] বলেছেন- পাপিষ্ঠ ছাড়া কেউ Store করে না"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত, হাদীস 2154)।
এক (নাম গোপনকারি) মাসজিদে‌র ইমাম প্রশ্ন করে বলেছেন- শুনেছি 'বাইনামা' হারাম। বিষয়টি যদি একটু করে বলতেন, তাহলে আমি উপকৃত হতাম এবং জাতি অনেক উপকৃত হতো!! আপনি কি বলবেন?? উত্তর সহজ, হাদীস‌টি দেখুন-
"আমার ইবনে শু‘আইব [রা] থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সুত্রে বর্ণিত। নাবী [সা] বলেছেন- উরবান বা 'বাইনামা'র মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত, হাদীস 2192)।
কিন্তু নাসির উদ্দিন আলবানী (র) বলেছেন- হাদীস‌টি জায়ীফ। শুধুমাত্র এটা নয়, এর পরের 2193 হাদীসটিও জয়ীফ!! সুতরাং 'বাইনামা' হারাম নয়, এই সম্পর্কিত নীতিমালা গত পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তা আরও একবার দেখে নিন!!
সুধী পাঠক, এবার মনে হয় আমরা প্রায় সমস্ত প্রশ্নের উত্তর (অর্থনীতি ও হালাল-হারাম বিষয়ে উত্তর) দিয়ে দিয়েছি, তাই না?? এবার ছোট্ট মতো একটি কুরানী বিশ্লেষণ করতে চাইছি। আপনি কি তা পড়তে/ জ্ঞান অর্জন করতে চাইবেন??
আমরা প্রথমে দেখব- بيع (বাই'য়া) শব্দটি, যার অর্থ হল- ক্রয় ও বিক্রয়। যদি‌ও এটা সাধারণ অর্থ, অন্যান্য অর্থ‌ও হয়। তারপর দেখব- ربا (রিবা) শব্দটি, যার অর্থ হল- বৃদ্ধি। যদিও পারিভাষিক অর্থে হয়- সুদ। যেমন এই আয়াতে বলা হয়েছে-
فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ ★ وَرَبَتْ ★ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"অতপর যখন আমরা বর্ষণ করি পানি তার (পৃথিবীর) উপর, তখন তা (পৃথিবী) স্ফীত/ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় এবং উদ্গত করে সব রকমের উদ্ভিদ সদৃশ্য"(22:5)।
সুধী পাঠক, গত পর্বের সংজ্ঞা থেকে জেনেছি যে- بيع (বাই'য়া তে) ক্রয় ও বিক্রয়ে ربا (রিবা) নেই। কারণ, এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا অনু বাদ হবে এমন-"আল্লাহ ক্রয় ও বিক্রয় হালাল, সুদকে হারাম করেছে‌ন"(2:275)।
তাহলে প্রশ্ন হবে- بيع (বাই'য়া তে) ক্রয় ও বিক্রয়ে কি হয়?? উত্তর সহজ- ক্রয় ও বিক্রয়ে হয়- Profit বা লাভ। যাকে বলা হয়- ربح (রিবহুন)। আর এই শব্দটি পবিত্র কোরানেও আল্লাহ ব্যবহার করেছেন 2:16 আয়াতে।
সুধী পাঠক, আরবিতে সরা-সরি ভাবে ব্যাবসা‌কে কি বলা হয়?? উত্তর সহজ- تجارت (তিজারাত)। আর শুধু ব্যাবসা নয়, বলা ভাল- আর্থিক লেন-দেন!! এই শব্দের মূল হল- تجر (তিজার), যার অর্থ- লেন-দেন। আর এই শব্দটি ইংরেজরা গ্ৰহণ করেছে, শব্দটি হল- Treasur ও Treasurer (কোষ ও কোষাধ্যক্ষ)। এ ছাড়াও কোরানে আল্লাহ ব্যবহার করেছেন 2:16 ও 4:29 আয়াতে।
আল্লাহ 2:275 আয়াতে বলেছেন- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ অনু বাদ হবে এমন-"এবং আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন"। এবার একটা ছোট্ট প্রশ্ন হবে- আল্লাহ এখানে ক্রয়-বিক্রয় না বলে تجارت (তিজারাত) বা ব্যাবসা/ আর্থিক লেন-দেন বলেন নি কেন??
পাঠক, কি উত্তর হতে পারে?? উত্তর সহজ- ব্যাবসায় সুদ থাকতেই পারে, কারণ ব্যাবসা তো সুদের‌ও হয়!! তাই না?? এখন একটা ছোট্ট প্রশ্ন হতে পারে- ব্যাবসা ও ক্রয়-বিক্রয়ের পার্থক্য কোথায়?? উত্তর সহজ- প্রতিটা ক্রয়-বিক্রয়‌ই ব্যাবসা কিন্তু প্রতিটা ব্যাবসা ক্রয়-বিক্রয়‌ নয়!!
প্রশ্ন হবে- ক্রয় এবং বিক্রয় থেকে Profit হয়, ব্যাবসা থেকে তাহলে কি হয়?? উত্তর সহজ- ব্যাবসা থেকে Profit'ও হতে পারে, সুদ বা Interest'ও হতে পারে!! তাই আল্লাহ 2:275 আয়াতে 'বৈধ যে কোনও কিছুর ক্রয়-বিক্রয়কে' সরাসরি হালাল ঘোষণা করেছেন, তা এভাবে- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ ক্রয় ও বিক্রয়কে হালাল করেছেন"।
কিন্তু ব্যাবসার বিধান‌টা ভিন্ন। কেননা ব্যাবসায় হালাল ও হারাম হয় (সুদ ছাড়াও অন্যান্য হারাম)। এ জন্যই 'বৈধ যে কোনও কিছুর ব্যাবসা‌ও' হারাম হতে পারে, এ জন্য‌ই আল্লাহ শর্ত আরোপ করে বলেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا। لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদার‌গণ, তোমরা নিজেদের মধ্যে সন্তোষজনক লেন-দেনের [ব্যাবসা ও শ্রম] মাধ্যম ছাড়া অন্যায়-অবৈধ ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ খে‌ও না"(4:29)।
যেমন, উক্ত আয়াতে باطل (বাতিল) ব্যাবসা‌র কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হবে- ব্যাবসা থেকে Profit হয়, এমন একটি আয়াতের কথা বলতে পারবেন?? আয়াতটি নিচে দেওয়া হল এবং এখানে যে تجارت (তিজারাত) বা ব্যাবসা থেকে ربح (রিবহুন) লাভ হয়, তাও বলা হয়েছে। দেখুন-
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এরাই তারা, যারা সঠিক পথের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ক্রয় করেছ কিন্তু তাদের এই ব্যাবসা লাভজনক নয় এবং না তারা সৎপথে আছে"(2:16)।
সুধী পাঠক, আমি কি এ পর্যন্ত বোঝাতে এবং বুঝতে পারলেন?? যদি বুঝে থাকেন, তাহলে এবার এখন সব চেয়ে বড় প্রশ্নটি উপস্থিত করতে চাইছি- বিনিয়োগ সম্পর্কে কোরানে কি কোনও আয়াত আছে??
সুধী পাঠক, আমরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তার সঙ্গে অবশ্যই কুরানী বিশ্লেষণ করব- ইনশাআল্লাহ। প্রথমে আমরা আয়াতটি দেখে নেব। তারপর আমরা দেখাব‌ যে, আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণ আমাদের অর্থাৎ মুসলিম সমাজের কত বড় ক্ষতি করেছে। এত বড় ক্ষতি 'আবু জাহিল'ও করতে পারে নি!! সুতরাং প্রথমে আয়াতটি দেখুন-
وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ●
প্রচলিত অনুবাদ হয় এমন-"তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর‌ও এবং নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দি‌ও না। অনুগ্রহ প্রদর্শনের পথ অবলম্বন কর‌ও। কারণ আল্লাহ‌ সুবহানুতায়ালা অনুগ্রহ প্রদর্শনকারীদেরকে ভালবাসেন"(2:195)।
সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা বিনিয়োগ কর‌ও আল্লাহর নির্দেশিত পথে এবং তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের‌কে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ কর‌ও না এবং তোমরা অনুগ্ৰহ কর‌ও!! নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্ৰহ কারিকে ভালবাসেন"(2:195)।
উক্ত আয়াতে আরবি أَنْفِقُوا (আনফিকু) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যার সাধারণ অর্থ হল- খরচ/ খরচ করা। এই শব্দটির মূল আরবি হল- نفق (নাফাক), যার অর্থ- গর্ত, সুড়ঙ্গ ইত্যাদি। তাই أَنْفِقُوا (আনফিকু) এর Actual অর্থ হবে- গর্ত ভরাট করা।
আর চমকে উঠার মতো তথ্য হল- منافق (মুনাফিক) শব্দটি‌ও মূল نفق (নাফাক) শব্দ থেকে এসেছে। পবিত্র কোরানের 63 নং সূরার নাম‌ مُنَافِقُونَ (মুনাফিকুন)। এর কারণ হল- তারা দ্বীনের পথে গর্ত/ বাধা সৃষ্টি করত, এ জন্য তাদের منافق (মুনাফিক) বা গর্ত/ বাধা সৃষ্টিকারি বলা হয়। আর Actual অর্থ হল- যিনি গর্ত করেন, তিনি منافق (মুনাফিক)।
পাঠক, আমি কি বোঝাতে পারছি?? এবার বলুন- তা হলে أَنْفِقُوا (আনফিকু) এর পারিভাষিক অর্থ কি হবে??
উত্তর সহজ- যেখানে ঘাটতি থাকবে, সেখানে অর্থ দ্বারা ভরাট। তারমানে- দা‌ন‌ও হয়, বিনিয়োগ হয়। বিনিয়োগ নিজের ব্যাবসা‌তেও হতে পারে, অন্যের‌ও!!
2:195 আয়াতে وَأَحْسِنُوا বা তোমরা অনুগ্রহ কর‌ও, এ কথা আল্লাহ কেন বললেন?? উত্তর সহজ- বিনিয়োগের মাধ্যমে পৃথিবীর অর্থনীতি টিকে আছে, কোটি-কোটি মানুষ রোজগার পাচ্ছে। ফলত মানবজাতি টিকে আছে এবং জীবজগতের বেশিরভাগ‌ই!! এ জন্যেই আল্লাহ বলেছেন-
وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ●
সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা বিনিয়োগ কর‌ও আল্লাহর নির্দেশিত পথে এবং তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের‌কে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ কর‌ও না এবং তোমরা অনুগ্ৰহ কর‌ও!! নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্ৰহ কারিকে ভালবাসেন"(2:195)।
প্রশ্ন হবে- আল্লাহ কেন বললেন যে, তোমরা নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দি‌ও না?? উত্তর খুব সহজ- বর্তমান মুসলিম সমাজ এবং তাদের আলিমগণ (সম্মানিত হারামখোরগণ) কে উদেশ্যে করে আল্লাহ কোরানে বলেছেন-
وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ●
সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা বিনিয়োগ কর‌ও আল্লাহর নির্দেশিত পথে এবং তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের‌কে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ কর‌ও না এবং তোমরা অনুগ্ৰহ কর‌ও!! নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্ৰহ কারিকে ভালবাসেন"(2:195)।
সুধী পাঠক, আপনার কি মনে হয় না যে, আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণের কথা শুনে আমরা (মুসলিম রা) বিনিয়োগ না করে নিজেদের‌কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছি?? পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা আমরা লেখার শুরুতে দেখিয়েছি!! তাই না??
প্রশ্ন হবে- বিনিয়োগের পরিণতি সম্পর্কে কি আল্লাহ পবিত্র কোরানে কিছু বলেছেন?? উত্তর সহজ- আল্লাহ বিনিয়োগ সম্পর্কে বললেন, বিনিয়োগের পরিণতি সম্পর্কে বলবেন না, তা কি হয়?? আয়াতটি দেখতে চাইবেন না?? এই নিন-
مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"যারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর নির্দেশিত পথে বিনিয়োগ করে, তাদের বিনিয়োগের উদাহরণ হল এমন, যেমন- একটি শস্যবীজ বপন করা হয় এবং তা থেকে 7 টি শীষ উৎপন্ন হয়, যার প্রত্যেকটি শীষে থাকে 100 টি করে শস্যকণা (7 × 100= মোট 700 টি অর্থাৎ 1 টাকার বিনিয়োগে লাভ কমপক্ষে 700 টাকা)। আল্লাহ‌ যাকে চান, তাকে আরও বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ সর্বব্যাপী ও জ্ঞানী"(2:261)।
প্রশ্ন হবে- কিন্তু 2:261 আয়াতের পরবর্তী আয়াত গুলো দেখলে তো পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এগুলো দান সম্পর্কিত আয়াত, বিনিয়োগ সম্পর্কিত নয়!! তাহলে কি উপরিউক্ত অনুবাদ ভুল নয়??
উত্তর সহজ- আমরা আগেও দেখিয়েছি যে, আরবি أَنْفِقُوا (আনফিকু) শব্দের সাধারণ অর্থ হল- খরচ/ খরচ করা কিন্তু কোরানের একটি আয়াতের একটি অর্থ নয়, একাধিক অর্থ হতে পারে, যারা কোরান এবং আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞ, তারা তা ওয়াকিবহাল। তবে আমরা এখানে বিশেষ অর্থটাই গ্ৰহণ করেছি!!
এবার একেবারে শেষ প্রশ্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমার মায়ের বয়সী একজন মহিলা মালেশিয়া থেকে বাংলাদেশ‌র প্রবাসী প্রশ্ন করে বলেছেন- আপনার সমস্ত লেখা পড়ি কিন্তু Silent পাঠক। আপনার সমস্ত কথার সঙ্গে একমত হ‌ই কিন্তু এই (পর্ব- 1) লেখার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না!!
কেননা, আপনি বলেছেন- সুদ শুধুমাত্র ঋণের ক্ষেত্রে হয়, অন্য কোনও ক্ষেত্রে নয়!! তবে যদি আপনি প্রমাণ দেন, তাহলে একমত না হয়ে আর অন্য কোনও উপায় থাকবে না!! তবে, আপনার সাহসের প্রশংসা না করে পারা যায় না এবং সত্যিই আমি আপনার মধ্যে উমার (রা)- কে দেখছি!! আর আমি আপনাকে মালেশিয়াতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আপনি আমার বাঁসায় উঠবেন। আপনার পথ খরচ আমি দেব- ইনশাআল্লাহ। আমি একবার আমাদের উমার (রা)- কে সামনে থেকে প্রাণ ভরে দেখতে চাই, জানি না কত দিন বাঁচব!!
আর আপনার শরীরের দিকে খেয়াল করুন, ছেলে বলছিল- শরীর খুব রোগা হয়ে গেছে!! আর এত হানী হানী ভাল নয়। দুনিয়া‌তে কি আপনি একাই প্রেম করে ছেন না কি?? হোসেন কুরানীর বিয়ের জন্য কি মেয়ের অভাব পড়েছে না কি?? আপনি আমার মেয়েকে বিয়ে করবেন??
আপনি আমার নাম ছাড়া আমার পুরো কথা গুলো লিখবেন। যেন আপনার হানী/ সবাই দেখে যে, হোসেন কুরানীর কাছে বিয়ের জন্য মেয়ের কোনও অভাব নেই। তার ভাগ্য খারাপ, ঐ জন্য আপনাকে ছেড়ে গেছে। সে তার নিজের মুখে থাপ্পড় মেরেছে, শুধু বুঝতে পার নি। যখন বুঝবে, তখন হানী হানী করার আর কাউকে পাবে না!! আপনি তার ও আপনার মায়ের জন্য দুঃখ করবেন না, আমি আপনার মা হব, এ জন্য আমি খুব খুশি!!
দেখুন মা, আমার নিজের মা নেই। তাই আপনাকে মা বলেই সম্বোধন করছি। মা, অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করছে, পরে বলব- ইনশাআল্লাহ। চলুন, আমরা প্রথমে হাদীস‌টা দেখে নিই, না কি?? হ্যাঁ, দেখুন-
رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ- إِنَّمَا الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ●
অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহর রাসুল [সা] বলেছেন, সুদ আছে শুধু ঋণে"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত, হাদীস 2257)।
না মা, বিয়ের শখ মিটে গেছে। আজও ওষুধ ছাড়া ঘুমাতে পারি না। দ্বিতীয়বারে হয়ত রাঁচিতে ভর্তি হতে হবে। এখন অনেক কাজ করতে হবে। আপনি আমার জন্য দুয়া করুন- হে আল্লাহ, আপনি হোসেন কুরানীর কাজ সহজ করে দিন!!
্যাঁ, যদি কখনও আল্লাহ মালেশিয়া‌তে যাওয়ার সুযোগ করে দেন, তা হলে অবশ্যই আপনার বাড়িতে উঠার চেষ্টা করব- ইনশাআল্লাহ। আর ঐ মহিলা‌কে কেন ভুলে যেতে পারি না, এটা শুধু আল্লাহ‌ই ভাল বলতে পারবেন!!
তবে, ঐ মহিলা বলতেন- আমি তো হোসেন কুরানীর কলিজায় থাকি!! ঐ মহিলা হয়ত অন্য সব কথা গুলো মিথ্যা বলেছিলেন কিন্তু এই বাক্যটি সত্য বলেছিলেন। নয়ত দিনটা আমার হলেও, রাতটা আজও কেন তার‌ই হয়??
প্রথম প্রকাশ : 13.12.2020
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...