#সূরা_আল_ফাতিহাহ, 1 নং আয়াহ এর কুরানী বিশ্লেষণ।

 @সূরাহ  আল-ফাতিহাহ, 1 নং   আয়াহ। বিজ্ঞানের   বিজ্ঞান  আল-কুরআন   এবং   কুরানী   বিশ্লেষণ। অনুবাদে : হোসেন কুরানী।



                          1 নং সূরাহ আল-ফাতিহাহ।

                     (মাক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা 7)


                        বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

অর্থাৎ  আল্লাহর   নামে   (শুরু),   (যিনি)   সীমাহীন/  অসীম দয়ালু এবং অসীম/ সীমাহীন করুণাময়।


1 নং আয়াহ : সমস্ত  প্রশংসা‌¹  (শুধুমাত্র)  আল্লাহর‌ই  জন্য,² (যিনি/ কেননা তিনি) মহাবিশ্ব  সমূহের   অর্থাৎ  Multiverse  (মাল্টিভার্স)³ এর রাব/ প্রভু/ মালিক/ পালনকর্তা  তথা প্রতি পালক  ও পূর্ণতাদানকারী⁴/ রক্ষণাবেক্ষণকারী ও  সংরক্ষণ কারী⁵/  সার্বভৌম   ক্ষমতার   অধিকারী    এবং   শাসনকর্তা তথা নিয়ন্ত্রণকারী⁶/ পরিচালক⁷ এবং সংগঠক⁸।


1:1 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 1)

নাবী  (সা)  বলেছেন-  وَأَفْضَلُ  الدُّعَاءِ  الْحَمْدُ لِلَّهِ  অনুবাদ  হবে এমন-"সর্বোত্তম (গুরুত্বপূর্ণ)  দুয়া  আলহামদুলিল্লাহ। অর্থাৎ সূরা   ফাতিহা‌হ"(ইবনু   মাজাহ,   কিতাবুল    আদাব,  হাদীস 3800)। কিন্তু  প্রশ্ন  হবে- সমস্ত  প্রশংসা  বলতে  কি?? উত্তর খুব সহজ- যত  প্রকারের  প্রশংসা  আছে, শব্দ ব‍্যবহার করে যত প্রশংসা করা সম্ভব। সেই সমস্ত  প্রশংসা‌র  একমাত্র দাবী‌ দার হলেন আল্লাহ।


1:1 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 2)

"সমস্ত   প্রশংসা‌  শুধুমাত্র  আল্লাহর‌ই  জন্য"। প্রশ্ন হবে- কিন্তু কেন?? এ  প্রশ্নের  উত্তর  খুব  সহজ- এই  আয়াহ'র পরবর্তী অংশে  তা  বলেছেন  এবং 1:2 ও 1:3  আয়াতেও  বলেছেন। আর তা আমরা আপনাকে পরে দেখাব- ইনশাআল্লাহ। কিন্তু 1:1 আয়াহর পরবর্তী অংশটা দেখুন-"সমস্ত প্রশংসা‌ শুধুমাত্র  আল্লাহর‌ই    জন্য। কেননা   তিনি   মহাবিশ্ব   সমূহের   অর্থাৎ  Multiverse   (মাল্টিভার্স)   এর  রাব/  প্রভু/  মালিক/  প্রতি পালক"।


   এখন প্রশ্ন হবে- সমস্ত  প্রশংসা  শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য, এ কথা   আল্লাহ   বললেন   কেন?? উত্তর   সহজ- যেন   মানুষ পবিত্র কুরআনের প্রথম আয়াহ থেকেই এটা জেনে  যায় যে, আল্লাহ "শরিক  বিহীন"। তাই তো বলা  হচ্ছে- সমস্ত  প্রশংসা  শুধুমাত্র   আল্লাহর   জন্য। অর্থাৎ   শুধুমাত্র   আল্লাহর, আর কার‌ও নয়, তার সঙ্গে‌ও কার‌ও নয়!!


1:1 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 3)

প্রশ্ন হবে- আল্লাহ  কি  মহাবিশ্বের প্রতিপালক, না কি আল্লাহ মহাবিশ্ব  সমূহের  প্রতিপালক?? উত্তর সহজ- আল্লাহ হলেন মহাবিশ্ব   সমূহের  প্রতিপালক। প্রশ্ন  হবে- মহাবিশ্বের  সংখ্যা কয়'টি?? এ  বিষয়ে  পবিত্র  কুরআন   কি   কিছু  বলেছে?? হোসেন  কুরানী‌র  কাছে  কি  এ প্রশ্নের উত্তর আছে?? উত্তর খুব  সহজ- হোসেন   কুরানীর   কাছে   থাকবে  না  তো, কার কাছে থাকবে?? আর  পবিত্র  কুরআনে বলা থাকবে না তো, কোথায়  থাকবে?? দেখুন- وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا অনু বাদ হবে এমন-"এবং  যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামাত (সৃষ্টি) গণনা করতে চাও, তবে কখনও তোমরা তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না "(16:18 ও 14:34)।


   প্রশ্ন হবে- এখানে তো আল্লাহ "নিয়ামাতের" কথা বলেছেন, আর  তা  আপনি "সৃষ্টি" করে  দিলেন?? উত্তর  সহজ- বলুন তো, O₂ (অক্সিজেন) কি?? আল্লাহর  একটি  নিয়ামাত, তাই না?? কিন্তু O₂ তো  আসলেই  আল্লাহর  সৃষ্টি মাত্র, তাই না?? তাহলে  কি  বুঝলেন?? আল্লাহর  সৃষ্টি‌ই  আল্লাহর নিয়ামাত। তাই তো গো, না কি??


   প্রশ্ন হবে- মহাবিশ্বের সংখ্যা কত, তা কেন গণনা করে শেষ করা যাবে না?? উত্তর  সহজ  রে ভাই- মনে করুন,  1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি  লক্ষ  কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি  লক্ষ  কোটি × 1 কোটি   লক্ষ  কোটি× 1  কোটি  লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ  কোটি× 1 কোটি  লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি   লক্ষ  কোটি× 1  কোটি  লক্ষ  কোটি× 1  কোটি  লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি  লক্ষ  কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি  লক্ষ  কোটি× 1  কোটি  লক্ষ   কোটি× 1  কোটি  লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ  কোটি× 1  কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি লক্ষ কোটি× 1 কোটি  লক্ষ  কোটি× 1  কোটি  লক্ষ   কোটি× 1  কোটি  লক্ষ কোটি× 1 কোটি  লক্ষ   কোটি   সংখ্যক   মহাবিশ্ব  আছে, তা আপনি কষ্ট  করে হলেও গণনা করে ফেলতে পারবেন।


   কিন্তু  যদি  এমন  হয়  যে, 1 Second  কে 10⁴⁴ দিয়ে ভাগ করলে  যা  হবে, তত  সময়ে  যদি  আরও  উপরোক্ত সংখ্যক মহাবিশ্ব  সৃষ্টি  হয়, তাহলে  কিভাবে   গণনা   করবেন?? প্রশ্ন হবে- সত্যিই  কি 1  Second  কে 10⁴⁴ দিয়ে ভাগ করলে  যা  হবে, তত   সময়ে    উপরোক্ত    সংখ্যক   মহাবিশ্ব   সৃষ্টি  হয়ে চলেছে??  উত্তর   সহজ- না। কেননা, 1  Second  কে 10⁴⁴ দিয়ে ভাগ করলে  যা  হবে, তত  সময়ে  যত সংখ্যক মহাবিশ্ব সৃষ্টি  হয়ে  চলেছে, তাও  গণনা   করা   সম্ভব   নয়, উপরোক্ত সংখ্যাটা শুধুমাত্র উদাহরণের জন্য ব‍্যবহার করেছি মাত্র!!


   প্রশ্ন হবে- আপনি  যে  এত  Dialogue  দিয়ে  যাচ্ছেন, এর পক্ষে  পবিত্র  কুরআনে  কোনও   আয়াহ   আছে  কি?? সুধী পাঠক, আপনার  কি  মনে হয়- আছে পবিত্র কুরআনে এমন কোনও   আয়াহ?? আছে   রে   ভাই  আছে!! চিন্তা  করছেন কেন?? 1 টি  নয়, 2 টি আয়াহত  তো  আছেই, আর  হোসেন কুরানী‌ও   এখনও 120  বছর   মতো   আছেন!! আচ্ছা, এই প্রশ্নের সঙ্গে আরও 1 টা প্রশ্ন  জুড়ে  দিই, হ‍্যাঁ?? আর তা হল এই- Parallel  universes  কি সত্যিই আছে?? বেশি চিন্তার দরকার, দেখুন-


أَوَلَيْسَ  الَّذِي  خَلَقَ  السَّمَاوَاتِ  وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَىٰ أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ ۚ بَلَىٰ وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ●

অনুবাদ হবে এমন-"অথবা [আল্লাহ‌ই] কি  নন, যিনি Galaxy সমূহ  ও  পৃথিবী [তথা মহাবিশ্ব] সৃষ্টি  করেছেন, তিনি  তাদের [মহাবিশ্বের] মতো অন‍্যান‍্য [মহাবিশ্ব] কি  সৃষ্টি করার শক্তি বা Energy রাখেন না?? হ‍্যাঁ নিশ্চয়ই, যখন তিনি মহাস্রষ্টা [স্রষ্টা দের স্রষ্টা] এবং জ্ঞানী"(36:81)। এখন  প্রশ্ন  হবে- আপনি যে বললেন  2   টি   আয়াহ!! আরও  1 টি   আয়াহ   কোথায়?? আরররেহহ ভাই, থামা  থামা থামা, দাঁড়ান। এই নিন- 17:99 আয়াহ। आव खुश (আব খুশ)?? খুশি হয়েছে‌ন??


   প্রশ্ন  হবে- 1  second  কে 10⁴⁴ দিয়ে ভাগ করলে যা হবে,  তত  সময়ে  অগণিত  সংখ্যক মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়ে চলেছে, এই বিষয়ক আয়াহ কোথাও?? উপরোক্ত  আয়াহ তো বহুবিশ্ব ও Parallel  universes  বিষয়ক!! উত্তর  সহজ- দিই  নি, ঠিক আছে, এবার   দিয়ে    দিচ্ছি। চিন্তা   করছেন   কেন, হোসেন কুরানী  তো  এখনও 120 বছর মতো আছেন!! আচ্ছা, ঠিক আছে, নিন-  وَيَخْلُقُ  مَا  لَا  تَعْلَمُونَ অনুবাদ  হবে  এমন-"এবং তিনি আরও অগণিত সংখ্যক  সৃষ্টি করেছেন/ করছেন/ কর বেন, যা তোমরা জান‌ও না"। এখন প্রশ্ন হবে- এমন মারাত্মক আয়াহ  পবিত্র  কুরআনে  আছে, যা আমরা এতদিন জানিই নি?? উত্তর সহজ- হোসেন কুরানী  না থাকলে জানতেনই না হয়ত  কখনও!! আচ্ছা, এখন  প্রশ্ন   হবে- ক‌ই   Reference number  টা  দিলেন  না?? এই  নিন  রে  ভাই-16:8 আয়াহ। आव खुश हो (আব খুশ হো)??


   এবার  সম্মানিত  আলিম (??) দের  পক্ষ  থেকে  1  টি প্রশ্ন হবে- সবাই  তো عَالَمِينَ এর  অনুবাদ  করেন "জগৎ বা জগৎ সমূহ"। আপনি  "মহাবিশ্ব সমূহ"   অনুবাদ   করলে‌ন  কেন?? উত্তর  খুব  সহজ   রে   ভাই, দেখুন- عَالَم অর্থ  কি?? অনেক গুলো  বড়  সৃষ্টি  জগৎ, তাই  না?? অর্থাৎ  মহাবিশ্ব সমূহ। এ জন্য   যে, عَالَم   এমনিতেই  جمع  বা  বহুবচন। তাহলে عَالَمِينَ অর্থ কি আর বলে দিতে হবে??


   প্রশ্ন হবে- এখানে আল্লাহ 1 টা "মহাবিশ্ব" না বলে "মহাবিশ্ব সমূহ" বললেন কেন?? উত্তর সহজ- আজ 1500 বছর পূর্বে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে, আর তখন আধুনিক বিজ্ঞান Geocentric  theory  তে  বিশ্বাসী  ছিল। সেখানে বহুবিশ্বের  অস্তিত্বের কথা বলেছে পবিত্র কুরআন। এ থেকে এটা প্রমাণ হল- ১) পবিত্র কুরআন  মানব রচিত নয়। যদি হতো, তাহলে পবিত্র   কুরআনে   সেই   সময়ের   আধুনিক  বিজ্ঞান  অর্থাৎ Geocentric   theory   স্থান   পেত। যেমন-  Bible   এ  স্থান পেয়েছে। দেখুন-


"Tremble  before  Him, all  the earth. The world also is firmly  established, It  shall not be moved"(1 Chro nicles  16:30)। আরও  দেখুন-"The  Lord  reigns, He is clothed with majesty; The  Lord  is  clothed, He has girded  Himself  with  strength. Surely  the  world is established, so  that   it  cannot   be  moved"(Plasm 93:1)। আরও   দেখুন-"Say  among   the   nations, The Lord  reigns; The  world  also  is  firmly  established,

It shall  not  be  moved; He  shall  judge the peoples righteously"(Plasm 96:10)।


   আরও দেখুন- When   He   prepared   the  heavens, I was  there, When  He  drew  a  circle  on the face of the deep, When  He  established  the clouds above,

When  He  strengthened  the fountains of the deep,

When  He  assigned  to the sea its limit, So that the waters  would  not transgress His command, When He  marked  out  the  foundations  of the earth"(Pro verbs 8:27-29)। আরও  দেখুন-"Indeed  My  hand  has laid the foundation of the  earth, And My right hand has   stretched   out   the   heavens; When  I  call  to them, They stand up together"(Isaiah 48:13)।


   আরও দেখুন-"Father, I  desire  that they also whom You gave Me may be with Me where I am, that they may behold My  glory which You have given Me; for You   loved   Me   before   the    foundation    of   the world"(John 17:24)। আরও  দেখুন-"And   it   shall  be

That  he  who  flees from the noise of the fear Shall fall into  the  pit, And  he  who  comes  up  from  the midst  of  the  pit  Shall be  caught  in the snare; For the  windows  from  on high are open, And the foun dations  of the earth are shaken"(Isaiah 24:18)।


   আরও দেখুন-"He   raises   the  poor  from  the  dust

And  lifts  the  beggar  from  the   ash   heap, To  set them  among  princes  And  make  them  inherit the throne  of  glory. For  the  pillars of the earth are the Lord’s, And  He  has  set  the   world   upon  them"(1 Samuel 2:8)। আরও দেখুন-"He  shakes the earth out of its place, And its pillars tremble"(Job 9:6)। আরও দেখুন-"You  who  laid  the  foundations of the earth,

So  that  it  should  not  be  moved  forever"(Psalms 104:5)।


   শেষ  হয়  নি  এখনও, আরও  দেখুন-"Where  were  you when  I  laid the foundations of the earth?? Tell Me, if   you   have   understanding. Who  determined  its measurements?? Surely you know!! Or who stretch ed the line upon it?? To  what  were its foundations fastened?? Or   who     laid     its    cornerstone"(Job 38:4-6)। আরও দেখুন-"These  were the visions of my head  while  on  my  bed: I was looking, and behold,

A tree  in the midst of the earth, And its height was great. The tree grew and became strong; Its height reached  to  the  heavens, And  it  could  be seen to the ends of all the earth"(4:10-11)।


   আরও দেখুন-"Again,  the  devil  took  Him  up on an exceedingly  high  mountain, and   showed  Him  all the kingdoms of the  world  and  their  glory"(Matth ew 4:8  ও  Luke 4:5)। আরও  দেখুন-"It  is He who sits above the  circle  of  the  earth, And  its inhabitants are    like   grasshoppers, Who   stretches   out   the heavens like a curtain, And spreads them out like a tent  to  dwell  in"(40:22)। বলে  রাখতে   চাইছি- এখানে  যত উদ্ধৃতি করা হয়েছে, তা NKJV  বা New  King  James  Version থেকে। এছাড়াও  Bible অনুযায়ী- শুধু পৃথিবী নয়, বরং  আকাশ‌ও  Pillars  এর  উপর দাঁড়  কারানো আছে। এ বিষয়ে আমরা পরে আলোচনা হবে- ইনশাআল্লাহ।


   ২) যখন  বহুবিশ্বের  কথা  মানুষ   জানবে   অথবা  বহুবিশ্ব প্রমাণিত  হবে, তখন  এও  স্পষ্ট হয়ে যাবে-"পবিত্র কুরআন, বিজ্ঞানের বিজ্ঞান"। মনে  করিয়ে  দিই- যদি‌ও  আপনি এখন যেটা  পড়ছেন, অর্থাৎ  পবিত্র  কুরআনের  যে  ব‍্যাখ‍্যা‌টা  পড় ছেন, তার  নাম-"বিজ্ঞানের  বিজ্ঞান আল কুরআন"। আর এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন-


سَنُرِيهِمْ  آيَاتِنَا  فِي  الْآفَاقِ  وَفِي  أَنْفُسِهِمْ   حَتَّىٰ   يَتَبَيَّنَ   لَهُمْ   أَنَّهُ الْحَقُّ●

অনুবাদ হবে এমন-"আমরা  শীঘ্রই  আমাদের  নিদর্শন  সমূহ তাদেরকে  দেখাবো  তাদের  আশে-পাশ  থেকে  এবং তাদের নিজেদের  মধ্যে‌ও, যতক্ষণ  পর্যন্ত  না  তাদের কাছে  সুস্পষ্ট হয় যে, এটা  [কুরআন] সত্য"(41:53)। তাই  প্রথম আয়াহতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন এক  মহানিদর্শন। যা মানুষ‌কে এই কিতাব সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করবে!! তাই না??


   ৩) যেন  পবিত্র  কুরআন খুললেই যে কেউ এটা খুব সহজে উপলদ্ধি করতে পারেন যে, আল্লাহ  মহাবিশ্বের নয়, মহাবিশ্ব সমূহের   প্রতিপালক। আর  তার‌ই  পক্ষ  থেকে  নাযিল  করা কিতাব  পাঠ  করছি। যেন   মানসিক  ভাবে  নিজেকে  প্রস্তুত করে  নিতে  পারে সে। এবং এটা এ জন্য যে, যেন সে প্রতিটা আয়াহকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।


   ৪) পবিত্র  কুরআন  পড়ার  শুরুতেই  1  টা  গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে- এটা  কার  লেখা  কিতাব!! এবং  এই প্রশ্নের খুব সহজ উত্তর হল- আল্লাহ, এবং তিনি  মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক। এবং  এ  বিষয়ে  পবিত্র  কুরআনে‌ই  রয়েছে  খুব  ছোট্ট করে বলা  হয়েছে- تَنْزِيلُ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ অনুবাদ  হবে  এমন-"কিতাব‌/  গ্ৰন্থ‌টি  অবতীর্ণ  করা  হয়েছে  মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, এবং এতে কোনও প্রকার সন্দেহের  অবকাশ   নেই"(32:2 এবং 10:37)। কেন   সন্দেহ নেই?? কারণ, যে    যুগে    পবিত্র   কুরআন   অবতীর্ণ   করা হয়েছে, তখন  বিজ্ঞান  ছিল  2-4 seconds এর শিশু মাত্র!! তখন  মহাবিশ্ব  সমূহের  প্রস্তাব  করা  নিকছ পাগলামি ছাড়া আর   কিছুই   নয়, এ  কারণে‌ই   অনেকে  মুহাম্মাদ (সা)- কে পাগল বলে অপবাদ  দিতেন (নাউজুবিল্লাহ)। এবং এ বিষয়ে বলা হয়েছে- وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ অনুবাদ  হবে  এমন-"এবং তোমাদের   সাথী [নাবী   ও   রাসুল   মুহাম্মাদ  (সা)]  মোটেও পাগল  নন"(81:22)। আরও  দেখুন- وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ অনু বাদ হবে এমন-"এবং তিনি  নিজের ইচ্ছা মতো কোনও কিছু বলে না"(53:3)। আরও দেখুন- إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ অনুবাদ হবে এমন-"তা  অবতীর্ণ  করা  ওয়াহী/ প্রত‍্যাদেশ ছাড়া অন্য কিছু নয়"(53:4)।


1:1 আয়াত, কুরানী বিশ্লেষণ 4)

একটা  প্রশ্ন হবে- এখানে আল্লাহ  নিজেকে "মহাবিশ্ব সমূহের খালিক" না  বলে  "মহাবিশ্ব  সমূহের  রাব "  বললেন কেন?? এবং আরও  একটা  প্রশ্ন  হবে- আল্লাহ  কিভাবে  মহাবিশ্বের  প্রতিপালন করছেন?? উত্তর  সহজ- প্রথম  প্রশ্নের উত্তর খুব বড়, এখান  থেকে  কুরানী  বিশ্লেষণ‌টা  সবটা পড়ুন, অবশ্যই উত্তর   পেয়ে   যাবেন- ইনশাআল্লাহ। এবার   দ্বিতীয়   প্রশ্নের উত্তরটা  দিই, হ‍্যাঁ?? তবে  হ‍্যাঁ, ব‍্যাখ‍্যা‌র  শেষে  যখন  আপনি অবাক  হবেন, তখন   হোসেন  কুরানীর "মা সাবেরা   বেগম"  এর   জন্য    জান্নাতুল   ফিরদাউস    প্রার্থনা   করবেন। যিনি  12  বছর  পর্যন্ত  হোসেন  কুরানী‌কে  বুকের  দুধ  খাইয়ে বড় করেছেন   ও   হোসেন   কুরানী‌কে  23  বছর  পর্যন্ত  নিজের  হাতে  খাইয়ে  দিয়েছেন, এমনকি Brain  Stoke এর আগের মুহুর্তেও। হোসেন  কুরানীর মায়ের মৃত্যুর পর হোসেন কুরানী   নিজে হাতে খেতে  শিখেছেন!! মা-ছেলের  এমন ভালোবাসা হয়ত দেখেন নি কখনও, তাই না??


   যাইহোক, মহাবিশ্ব  গুলো  সৃষ্টি হয়েছে Energy থেকে (51: 47), এবং  তখন  অর্থাৎ  1500  কোটি  বছর আগে মহাবিশ্ব Energy আকারে  সৃষ্টি  হয়ে গেছে। কিন্তু তা কখনও বর্তমান মহাবিশ্বের মতো মহাবিশ্ব  সৃষ্টি করতে পারতো না। এখন প্রশ্ন হবে- কিন্তু কেন?? উত্তর সহজ- এই  Energy  কে  মারাত্মক  ছোট্ট একটি   বিন্দুতে   অসম্ভব   মারাত্মক   ঘনত্বে  অবস্থান করতে   হতো, যা  Singularity  নামে  পরিচিত  হতো। তবেই  Big bang ঘটা সম্ভব  হতো, তবেই  বর্তমান মহাবিশ্বের মতো মহাবিশ্ব  সৃষ্টি হতো!!


   Energy   যদি  মারাত্মক  ছোট্ট  একটি  বিন্দুতে  মারাত্মক ঘনত্বে  অবস্থান  না  করতো?? উত্তর সহজ- Big bang আর  ঘটতো না, তৈরি হতো না এই  অতি সুন্দর  মহাবিশ্ব। মহাবিশ্ব  আর মহাবিশ্ব  হতো না, হতো 1 টা Black hole মাত্র। এখানে কেউ  হয়ত  বলতে  পারেন- এটা  প্রকৃতির নিয়ম এবং সমস্ত কিছু প্রকৃতির নিয়মে  ঘটেছে, এখানে আল্লাহর কোনও হাত নেই!! আবার   কেউ  হয়ত  বলতে  পারেন- সব কিছু হয়েছে Quantum  fluctuations এর  জন্য। কারণ, প্রকৃতি শূন্যতা  পছন্দ করে না, তাই সব কিছু এমনি-এমনি‌ই হয়ে গেছে!!


   প্রশ্ন হল- যখন  শূন্যতা  ছাড়া কিছুই ছিল না, তখন প্রকৃতি এল কোথায়  থেকে  যে, প্রকৃতি  শূন্যতা  পছন্দ  করল  না?? আল্লাহর  অস্তিত্ব  অস্বীকারের  জন্য অন্য উপায় বের করুন ভাই। তবে হ‍্যাঁ, বিজ্ঞানের  মতোই  পবিত্র  কুরআন‌ও  ঘোষণা করেছে- بَدِيعُ  السَّمَاوَاتِ  وَالْأَرْضِ অনুবাদ  হবে  এমন-"তিনিই শূন্য থেকে মহাবিশ্ব  সৃষ্টিকারি স্রষ্টা"(2:117 ও 6:101)। আর হ‍্যাঁ, বিজ্ঞানী Newton এর প্রথম গতি সুত্র মনে আছে তো?? মনে  না  থাকলে  আমরা  মনে করিয়ে দিচ্ছি, দেখুন-"বাইরে থেকে  প্রযুক্ত  বল   দ্বারা  বস্তুর  অবস্থার  পরিবর্তনে বাধ্য না করলে স্থির বস্তু  চিরকাল  স্থির অবস্থানে থাকবে এবং সচল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে"।


   তবে, তিনি  শুধু  শূন্য  থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টিই করেন নি, তার সঙ্গে  সঙ্গে  তিনি   পদার্থে  "Law  বা  আইন"  সৃষ্টি  করেছেন (7:54)। দেখুন- أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ অনুবাদ   হবে   এমন-"সৃষ্টি তার‌, তাতে  আইন‌ও  তার"। তার  সঙ্গে সঙ্গে  তিনি তার প্রতি পালন‌ও করছেন। আর আল্লাহ  মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালন করছেন শাসনের মাধ্যমে। শাসন করছেন  পদার্থে  আইন বা Law of physics সৃষ্টি  করার  মাধ্যমে। এ  সম্পর্কে  1:1  নং  আয়াহ‌র কুরানী বিশ্লেষণের শেষে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। এখন শুধু পড়তে থাকুন।


   এখন  একটা  প্রশ্ন  হতে  পারে- আল্লাহ মহাবিশ্বের দায়িত্বে ছিলেন, এমন  কোনও  আয়াহ  আছে কি?? এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ- إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ  السَّمَاوَاتِ  وَالْأَرْضَ  أَنْ  تَزُولَا অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়‌ই  আল্লাহ  মহাবিশ্বের দায়িত্বে আছেন। এ জন্য যে, যেন  মহাবিশ্ব  নিখুঁত ভাবে কাজ করে"(35:41)। এ খানে কি  কিছু  বলতে হবে?? আর হ‍্যাঁ, আপনি ভাবলেন কি ভাবে  যে, এত  গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়   আল্লাহ  কুরআন  বলবেন না??


1:1 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 5)

প্রশ্ন হবে- রক্ষণাবেক্ষণকারী  ও সংরক্ষণকারী বলতে কি?? উত্তর সহজ- রক্ষণাবেক্ষণকারী   ও   সংরক্ষণকারী  বলতে রক্ষণাবেক্ষণকারী   ও  সংরক্ষণকারী। বোঝেন   নি?? ঠিক আছে, বুঝতেও   হবে  না, একটু  অপেক্ষা  করুন, বোঝাচ্ছি এবং মাথায়  ঢুকিয়ে  দিচ্ছি!! এখন যদি  আমরা  মহাবিশ্বের কথা বলতে  যাই, তাহলে  বিষয়টা  অনেক বড় আকার নিয়ে নেবে, শুধু পৃথিবীর কথা বলি, হ‍্যাঁ??


   আমরা জানি যে, পৃথিবীর  উপরে একটা বায়ুমণ্ডল আছে, ফলত  জীব  জগৎ  টিকে   আছে, নয়ত   এটা   লেখা  জন্য আমরা  এবং  পড়ার  জন্য  আপনি বেঁচে থাকতেন না!! যদি আপনি বায়ুমণ্ডলের কাজ সম্পর্কে School এ পড়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই  পড়েছেন  যে, বায়ুমণ্ডলের  একাধিক কাজ রয়েছে, তার  মধ্যে  প্রধান কাজ 4  টি। যে গুলোর জন্য সরা সরি জীব জগৎ টিকে আছে। তাই না??


   প্রশ্ন  হবে- 4  টি  কাজ   কি  কি?? উত্তর  তো  সহজ- কিন্তু আপনি কি School এ পড়েন নি?? ঠিক আছে, চলুন। চিন্তা করার  দরকার   নেই, আমরা  বলছি, পড়ুন- ১) সূর্যের Ultra violate ray কে  বায়ুমণ্ডলের  O₃  শোষণ করে নেয়, নয়ত 6 মাস থেকে 1 বছরের মধ্যেই জীব জগতের কাহিনী শেষ হয়ে যাবে। কেউ হয়ত  বলতে পারেন- Space suit পরে থাকব!! উত্তর   সহজ- Space  suit  নাহলে  পরলেন,  খাবেন কি?? খাওয়ার  জন্য  Food   chain   system  প্রয়োজন  তো, তা কোথায়  পাবেন?? সমগ্র  জীব  জগতকে  তো  আর Space suit পরাতে পারবেন না!!


   ২) বায়ুমণ্ডলের  অন‍্যতম  প্রধান  কাজ হল- Asteroids এ আগুন লাগিয়ে দেওয়া  এবং  তা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ছোট্ট ছোট্ট  টুকরায়  পরিণত  করে  দেওয়া। নয়ত  জীব  জগতের কাহিনী শেষ হতে 1 বছর‌ও  লাগবে  না!! বলে রাখি- এখানে Space suit পরলেও  নিজের  ধ্বংস  আঁটকাতে পারবেন না মোটেও!! তাই না??


   ৩) বায়ুমণ্ডল না থাকলে  পানি তরল আকারে আর থাকবে না। আর পানি তরল অবস্থায়  না  থাকার  পরিণতি  সম্পর্কে মনে হয় আর বলতে হবে না, তাই না?? বায়ুমণ্ডল না থাকলে পানি   3   অবস্থায়   থাকবে, ফলত   আপনার  এবং  আমার কাহিনী আর ইতিহাস হবে না!! আর কি হবে??


   ৪) বায়ুমণ্ডল  না  থাকলে  জীব  জগৎ  টিকে  থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপ  সংরক্ষিত  হবে  না, ফলত  কি হবে, তা কি আর বলতে হবে?? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- শ্বাস নিতেন  কিভাবে?? আমাদের  মনে  হয়  না  যে, এখানে আর কিছু বলতে হবে!! এবার এ বিষয়ে  আল্লাহ কি বলেছেন, তা দেখুন- وَجَعَلْنَا  السَّمَاءَ  سَقْفًا  مَحْفُوظًا ۖ وَهُمْ  عَنْ  آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং  আমরা  বায়ুমণ্ডল‌কে [পৃথিবীর  ও তার জীব জগতের জন্য] করেছি সুরক্ষিত ছাদ। কিন্তু এ সব নিদর্শন  হতে   মুখ   ফিরিয়ে   নিচ্ছে"(21:32)। এখানে  হয়ত কোনও ইসলাম বিদ্বেষী  বলতে পারেন- এটা হয়ত 1 বার By chance পবিত্র  কুরআনে  এসে গেছে!! উত্তর সহজ- 1 বার হলে  By  chance   হতে   পারে, কি   3  বার  হলেও  কি  By chance   হতে   পারে??  দেখুন- 2:22,   22:32   ও   40:64 আয়াত।


   এছাড়াও প্রতিপালন এবং  সংরক্ষণের আরও একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যথা- Dark matter ও Dark  energy  এর। আমরা  জানি  মহাবিশ্বে  Matter ও Dark matter এর  পরিমাণ হল- 5 ও 27% মতো। এছাড়াও Dark   energy'এর   পরিমাণ  হল- 68%  মতো। ফলত  এই মহাবিশ্ব   সম্প্রসারিত   হচ্ছে। যদি   এই   Dark  energy'এর পরিমাণ কম হতো, তাহলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি‌ই হতো না!! তাই নয় কি?? প্রশ্ন হবে- পবিত্র  কুরআনে কি Dark matter ও Dark energy সম্পর্কে  বলা হয়েছে?? আচ্ছা, আরও  একটা প্রশ্ন হতে  পারে- এগুলো‌র  শতকরা  (%)  হিসাবের উল্লেখ আছে কি?? উত্তর সহজ- পবিত্র কুরআনে  থাকবে না তো, থাকবে কোথায়!! হ‍্যাঁ?? কিন্তু  আমরা  এখানে  উল্লেখ  করব না, যে খানে  এগুলো  সম্পর্কে   বলা   আছে, সেই  আয়াহতে  গিয়ে টিকা করে দেখিয়ে দেব- ইনশাআল্লাহ।


1:1 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 6)

প্রশ্ন হবে- শাসনকর্তা  বলতে  আসলে  কি?? এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ- পদার্থের "আইন বা Law physics" সম্পর্কে বলা হচ্ছে  এখানে। যা  আমরা  একটু  আগেই  দেখিয়েছি। তবুও একবার  দেখুন- أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ অনুবাদ হবে   এমন-"সৃষ্টি তার‌, তাতে আইন‌ও  তার"(7:54)। আর  সার্বভৌম  ক্ষমতার   অধিকারী  বলতে হল- তার এই শাসনে  এবং ক্ষমতায় কেউ ভাগীদার  নেই। এবার  দেখুন  পবিত্র   কুরআনে  আল্লাহ কি বলেছেন- مَا أَشْهَدْتُهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ  وَالْأَرْضِ  وَلَا  خَلْقَ  أَنْفُسِهِمْ

অনুবাদ হবে এমন-"আমি  তাদের [কাউকে/ অন‍্যান‍্য উপাস্য সমূহকে] মহাবিশ্ব তথা Galaxy সমূহ ও  পৃথিবী  সৃষ্টির  সময় সাক্ষী করি নি, আর না তাদের  নিজেদের  সৃষ্টির  সময়"(18: 51)। প্রশ্ন   হবে- এর    মানে    কি?? উত্তর   সহজ- Law  of physics এ তাদের  অধিকার  তো তখন হতে পারতো, যখন তারা পদার্থ বা সৃষ্টির উপস্থিত থাকতো। মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় আল্লাহ  ছাড়া  আর  কেউ  তো  ছিল‌ই না!! তাহলে সার্বভৌম  ক্ষমতায় তাদের অধিকার হবে  কিভাবে?? এখন একটা প্রশ্ন হবে- নিয়ন্ত্রণকারী বলতে কি?? উত্তর  সহজ রে ভাই- শাসন দ্বারাই তো নিয়ন্ত্রণ হয়!!


   প্রশ্ন হবে- সমস্ত  কিছুর  পূর্বে  যে  আল্লাহ  ছিলেন, এটা কি  বিজ্ঞান  দ্বারা  প্রমাণ  করা  সম্ভব?? উত্তর  সহজ- লিখেছেন হোসেন কুরানী, আর প্রমাণ করা  সম্ভব  নয়, তা কি  কখনও হতে  পারে?? দেখুন-  هُوَ  الْأَوَّلُ  অনুবাদ   হবে   এমন-"তিনি‌‌ সৃষ্টির  পূর্বে   ছিলেন"(57:3)। প্রশ্ন  হবে- আপনি  তো বিজ্ঞান দ্বারা  প্রমাণ  করবেন  বললেন, তা  না  করে  কুরআন থেকে আয়াহ  নিয়ে  এলেন!! না  কি আপনি বিজ্ঞান দ্বিতীয় প্রমাণ করতে পারবেন না?? উত্তর সহজ- হোসেন  কুরানী  পারবেন না, এমন কিছু আল্লাহ সৃষ্টি‌ই করেন নি। এমন  শুধু আয়াহটা দেখে  নিন, 57:3  আয়াহর   বিশ্লেষণে  বিজ্ঞান  দ্বারা  প্রমাণ করে   দেব- ইনশাআল্লাহ। আর  কি  বিজ্ঞান  বিজ্ঞান  করেন বলুন তো, হোসেন কুরানী যদি সঠিক সময়ে  বিয়ে  করতেন, তাহলে  হোসেন   কুরানীর  "বিজ্ঞান নামের"  8-10  টা  ছেলে হয়ে যেত এতদিনে!!


1:1 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 7)

প্রশ্ন   হবে- পরিচালক   বলতে   কি?? উত্তর   সহজ- আল্লাহ পদার্থে  "আইন" সৃষ্টি  করেছেন  কেন?? যেন মহাবিশ্ব নিদিষ্ট নিয়মে  পরিচালিত   হতে   পারে। যেমন  ধরুন- চাঁদ পৃথিবীর চারি দিকে ঘুরে চলেছে, পৃথিবী  সূর্যের  চারি  দিকে। কেন?? কেন ঘুরছে?? কারণ, আল্লাহ পরিচালনা‌র উদেশ্যেই পদার্থে আইন সৃষ্টি করেছেন। যেন মহাবিশ্ব  সমূহ নিদিষ্ট নিয়মে পরি চালিত  হয়!! প্রশ্ন  হবে- যদি  তিনি  পদার্থে  "আইন"  সৃষ্টি না করতেন, তাহলে   কি   হতো?? উত্তর  সহজ- 1500  পূর্বে যে Big  bang  ঘটেছিল, তা   আর   ঘটতো   না। কারণ, পদার্থে "আইন" সৃষ্টি  করেছিলেন   বলেই, Energy'র  ঘনায়ণ  সম্ভব হয়েছিল। এবং  পরবর্তীতে  মহাবিশ্ব  নিদিষ্ট নিয়মের অধীনে এগিয়ে গিয়েছে!!


   এখন  একটা  গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন  হবে- এই মুহুর্তে আল্লাহ  কি করছেন?? উত্তরে  পরে  আসছি, কিন্তু  এখন আমরা পাঠক  দের  প্রশ্ন  করতে  চাইছি  যে, আপনার  কি মনে হয়- আল্লাহ এখন কি করছেন?? ভাবুন  ভাবুন। আরররেহহ, একটু মনো যোগ সহ  ভাবুন  না, তাহলেই   বলতে   পারবেন। কি  হল?? বলুন। বলতে  পারবেন না?? ঠিক  আছে, বলতে হবে না। তা হলে  দেখুন- كُلَّ  يَوْمٍ هُوَ  فِي شَأْنٍ অনুবাদ  হবে  এমন-"তিনি প্রতিক্ষণ নতুন নতুন কর্মকাণ্ডে ব‍্যস্ত"(55:29)। আচ্ছা, এখন প্রশ্ন  হবে- এর   মানে  কি?? উত্তর  সহজ- আমরা  কিছুক্ষণ আগেই  বলেছি  যে, মহাশূন্যে    প্রতিক্ষণ   অগণিত  সংখ্যক মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়ে চলেছে, আল্লাহ  এখন সেগুলো নিয়ে ব‍্যস্ত আছেন!!


1:1 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 8)

প্রশ্ন হবে- সংগঠক  বলতে কি?? উত্তর সহজ- মহাবিশ্ব সমূহ সত্যিই  কিন্তু  সংগঠিত। যেমন- পৃথিবী  তার  উপগ্রহ  চাঁদের সঙ্গে সংগঠিত, সূর্য তার গ্ৰহ  পরিবার নিয়ে সংগঠিত, Milky way  galaxy  সূর্য  সহ  10,  000,  000,  00,  00 (10, 000 কোটি) নক্ষত্র  নিয়ে সংগঠিত। এবং Galaxy গুলো Cluster দ্বারা  সংগঠিত। আর   এই   Cluster দ্বারা  গঠিত আমাদের মহাবিশ্ব। আর  এই   সুসংগঠিত   মহাব‍্যবস্থার   মহাসংগঠক হলেন- মহান আল্লাহ।


   শেষে  আমাদের  পাঠকদের  একটা  প্রশ্ন করতে চাই- যদি আল্লাহ 1:1 আয়াহতে  নিজেকে "মহাবিশ্ব সমূহের সৃষ্টিকর্তা" বলতেন, তাহলে  কি  এক কালিমাহ বা শব্দে এত কিছু নিজ সম্পর্কে   বলতে   পারতেন?? এই   জন্যই   আল্লাহ   এখানে নিজেকে মহাবিশ্ব সমূহের "খালিক" না বলে মহাবিশ্ব সমূহের "রাব" বলেছেন!! सामझो कि नही??


1:1 মূল আয়াহ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কুরানী বিশ্লেষণ:-


الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ●

প্রায় হুবহু এই  আয়াহটি  পবিত্র কুরআনে মোট 6 বার মতো ব‍্যবহৃত  হয়েছে, দেখুন- 1:1, 6:45,  10:10,  37:82,  39:75  ও  40:65  নং  আয়াতে। শুধু  الْحَمْدُ لِلَّهِ  পবিত্র কুরআনে 23 বার  মতো  ব‍্যবহৃত  হয়েছে। শুধুমাত্র الْحَمْدُ পবিত্র কুরআনে 28  বার  মতো, এর  34:1  আয়াহতে   2   বার। শুধুমাত্র  لِلَّهِ পবিত্র কুরআনে 149 বার  মতো  ব‍্যবহৃত  হয়েছে। এছাড়াও رَبِّ الْعَالَمِينَ পবিত্র  কুরআনে  42  বার মতো ব‍্যবহৃত হয়েছে।

শুধুমাত্র   رب  বা  رب যুক্ত  কালিমাহ  পবিত্র  কুরআনে  609  বার মতো  ব‍্যবহৃত  হয়েছে। শুধুমাত্র عَالَمِينَ পবিত্র কুরআনে 77   বার   মতো  ব‍্যবহৃত  হয়েছে, এর   মধ্যে  1   বার   নাবী (সা)- এর জন্য ব‍্যবহৃত হয়েছে 21:107 আয়াহতে।


   সুধী পাঠক, এবার একটু মনোযোগ দিন। কারণ, এখন তা জানতে  চলেছেন, যা গত 1500 বছরে  জানতে  পারেন নি। বলা  ভালো, কেউ  জানাতে  পারেন  নি!! পবিত্র  কুরআনে‌র প্রথম কালিমাহ বা শব্দ হল- الْحَمْدُ (আলহামদু) এবং এখানে ব‍্যবহৃত হয়েছে  5  টি  হারাফ বা আরবি অক্ষর। এখন হয়ত কেউ বলতেই পারেন- এতে  কি এমন বড় তত্ত্ব বা তথ্য আছে যে, এটা  আবার  আলাদা  করে  বলতে  হবে!! ভাই, আপনি কি হোসেন  কুরানী‌কে  আপনার  নিজের  মতো ভাবছেন, না কি??


   দেখুন- পবিত্র  কুরআনের শেষ কালিমাহ‌তেও 5 টি অক্ষর ব‍্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন হবে- এর মানে কি?? আরররেহহ ভাই, বোঝেন  নি?? এর  মানে  হল- পবিত্র   কুরআন  এই  5  এর মধ্যে সংরক্ষিত। প্রশ্ন হবে- এর মানে কি?? আরররেহহ ভাই, এটাও   বোঝেন   নি?? ঠিক   আছে, বলছি। এখানে  হাঁসির কথা কি জানেন?? তারপর‌ও  সবাই  হোসেন কুরানীকে তার নিজের  মতো  ভাবেন?? যাইহোক, চলুন- আরররেহহ  ভাই, আমরা  5  ওয়াক্ত   স্বালাতের   কথা   বলছি। এই  5  ওয়াক্ত স্বালাতের মধ্যেই পবিত্র কুরআন সুরক্ষিত। বিখ্যাত একজন স্বামী, স্বামী   বিবেকানন্দ‌ও  বলেছেন-"কোরআনের   একটি বিশেষত্ব, আজ পর্যন্ত এর কেউ করম চালাতে পারে নি........

...........কোন‌ও পুস্তকের এমন বিশুদ্ধতা রক্ষা বড় দেখা যায় না"(বিবেকানন্দ   ও   সমকালীন    ভারতবর্ষ, পৃ  383, শঙ্করী প্রসাদ বসু)। প্রশ্ন  হবে- পবিত্র  কুরআনের  শেষ  কালিমাহ‌টি কি, সেটা  তো  বলুন!! দেখুন- النَّاسِ (আন নাস)। যা, 114:6 আয়াহ। এবার  যদি  সম্পূর্ণ  আয়াহটি  দেখতে  চান, তাহলে দেখুন- مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ, দেখলেন??


   আচ্ছা, এখানে  আরও  এক ব‍্যাকারণগত সৌন্দর্য্য আছে। আচ্ছা, বলুন তো কি?? বলুন বলুন  বলুন তো!! আরররেহহ ভাই, বলুন না। খুব বেশি হলে ভুল‌ই  হবে  নাহলে!! এর বেশি আর  কি  হবে!! ছাড়ুন, আমি  বলি, আপনি  পড়ুন- আসলে الْحَمْدُ  (আলহামদু)   হল  حُرُوْفُ   القَمَرِيَّةُ  (হুরুফুল  কামার)। আর النَّاسِ (আন নাস) হল حُرُوْفُ الشَّمْسِيَّةُ (হুরুফুশ শামস)। বুঝলেন মশাই??


   পাঠক, আরও  একটা  বিষয়  হয়ত  লক্ষ্য করেন নি, লক্ষ্য করুন- 1:1  আয়াহ'তে   18  টি  হারাফ  আছে  এবং  114:6 আয়াহ'তে  13  টি  হারাফ  আছে। প্রশ্ন  হবে- এতে  এমন কি আছে?? উত্তর  খুব  সহজ  রে  ভাই-  18- 13=  5, Brain  এ কিছু ঢুকল??


   এখন প্রশ্ন হবে- 5  এ  আর  কি আছে?? দেখুন না, অবাক হ‌ওয়ার  অনেক  কিছু   আছে। দেখুন  এবং  বলুন যে,  الْحَمْدُ (আলহামদু) এর অর্থ কি?? সমস্ত  প্রশংসা, তাই না?? এখন বলতে পারেন- এর আর কি  আছে!! আছে রে ভাই, অনেক কিছু আছে?? প্রথমে  الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদুলিল্লাহ) এর অর্থ বলুন!! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তাই না?? সমস্ত  প্রশংসা যে আল্লাহর,  এটা   কিভাবে    জানলেন??  মুহাম্মাদ  (সা)- এর মাধ্যমে, তাই না?? পবিত্র  কুরআনে  মুহাম্মাদ (সা)- এর নাম আছে  5  বার, এর  মধ্যে  4  বার  মুহাম্মাদ (সা) বলে, 1 বার আহমাদ  (সা)  বলে। দেখুন- 3:144,  33:40,  47:2,  48:29, 61:6 আয়াতে। কিছু বুঝলেন??


    এখন প্রশ্ন হবে- 5 এ আর  কি আছে?? অনেক কিছু‌ই তো আছে। আপনি  কি  চান, সেটা বলুন!! পবিত্র কুরআন কখন কত তারিখে নাযিল হয়েছে, তা এই 5 থেকে জানতে চাই। এ তথ্য আপনি  (হোসেন  কুরানী)  দিতে  পারবেন?? উত্তর  খুব সহজ- আচ্ছা, হোসেন  কুরানী  পারবেন   না, তো   আর  কে পারবেন??  দেখবেন??  দেখতে চান?? ঠিক  আছে, আয়াহ টা দেখুন- إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ অনুবাদ  হবে এমন-"নিশ্চত ভাবে  আমরা  তা [পবিত্র কুরআন] নাযিল/ অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত কাদারের রাতে"(97:1)।


   এখন প্রশ্ন হবে- এর  সঙ্গে  5  এর  কি সম্পর্ক?? উত্তর খুব সহজ- উক্ত  আয়াহতে   রয়েছে  5  টি  কালিমা। এখন  কেউ হয়ত বলতে  পারেন- আচ্ছা, ঠিক  আছে। কিন্তু কত তারিখে নাযিল হয়েছে?? উত্তর সহজ- উক্ত আয়াহতে হারাফ সংখ্যা হল- 21 কি। তারমানে  কি?? তারমানে 21 তারিখে রে ভাই। এখন  প্রশ্ন- কোন  মাসের  21  তারিখে?? এটাও  বলে দিতে হবে?? দেখুন- شَهْرُ  رَمَضَانَ  الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ অনুবাদ হবে এমন-"রামাদ্বানের  মাস‌ই  হল  সেই  মাস, যে  মাসে  নাযিল/ অবতীর্ণ করা হয়েছে কুরআন"(2:185)।


   এবার দেখুন- 1+ 8+ 5= 14= 1+  4=  5, তাই  না?? এখন কেউ বলতে  পারেন 2:185 আয়াহর 2 টার কি হবে?? উত্তর খুব  সহজ- পবিত্র  কুরআন  রামাদ্বান  মাসে  2  বার  নাযিল হয়েছে, তাই  এই  2  টা এসেছে। বোঝেন নি, তাই না?? ঠিক আছে  চলুন  আপনাকে   বোঝাবার  চেষ্টা  করি। কিন্তু  ছোট্ট মতো  চেষ্টা  করলেও  অনেক  বড়  করে  বোঝাতে হবে। তাই এখন  শুধুমাত্র   Reference  no  গুলো  দিই-  72:8-10  নং আয়াত  দেখুন। পরে  ঐ  আয়াত  গুলোর  কুরানী  বিশ্লেষণে বিস্তারিত তথ্য পাবেন- ইনশাআল্লাহ।


   এখন  প্রশ্ন  হবে- 5  এ  আর  কি  আছে?? হোসেন  কুরানী আছেন, আর  5  এ  আরও  কিছু  থাকবে  না, তা  কি হয়?? আচ্ছা, বলুন  তো- Fundamental Forces বা মৌলিক বল কয়টি?? 4 টি, তাই না?? কি কি?? The Four Fundamen tal Forces  of  Nature  are- ১)  Gravitational force, ২) Weak   Nuclear    force, ৩)   Electromagnetic    force and  ৪)  Strong   Nuclear    force, তাই    না?? এটাকেও Standard model বলা  হয়, তাই  না?? কিন্তু নতুন গবেষণা এই Standard model কে বিপদে ফেলে দিয়েছে!!


   কি  রকম?? আসলে  LHC  এ  যে  তত্ত্ব  তথ্য  হিসাবে ধরা দিয়েছে, তা  হতে  অনেক  বিজ্ঞানীই  নিশ্চিত যে, মহাবিশ্বের Forces of Nature 4 টি নয়, বরং 5 টি। তাই বলা ভাল হবে যে, মহাবিশ্ব  4  টি  নয়, বরং  5  টি  Forces of Nature এর মাধ্যমে  সৃষ্টি  হয়েছে। আর  সেটাই এখানে তুলে ধরা হয়েছে সংখ্যাতাত্ত্বিক   ভাবে। এছাড়াও   عَالَمِينَ  কালিমাহ‌টি  পবিত্র কুরআনে 77 বার  মতো  ব‍্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ- মহাবিশ্ব সমূহ। এবার  দেখুন- 7+  7=  14=  1+  4= 5, কিছু  বুঝলেন পাঠক?? दीमाग मे कुछ घुसा?? অর্থাৎ এই 5 Fundamental particles  বা  মৌলিক  কণা 5 টি হ‌ওয়ার নির্দেশ করছে, যা আজ থেকে 1500 বছর পূর্বে।


   এছাড়াও বিজ্ঞানী  Nikola Tesla  বলেছিলেন- মহাবিশ্বের চাবি রয়েছে 3 6 9 এ। দেখুন- 3+ 6+ 9= 18= 1+ 8=9, তাই না?? মানে  9  এ   রয়েছে   মহাবিশ্বের   চাবি। এবার  চমকে ওঠার বিষয় হল 1:1  আয়াহর   হারাফ  সাংখ্য 18 টি, মানে- 18= 1+ 8= 9, তাই না?? প্রশ্ন  হবে- চাবি  বলতে কি?? চাবি হল- মহাবিশ্ব  1  টা  নয়, বরং  একাধিক  তথা অগণিত। এর মানে String theory তে  আসতে হবে। এবং String theory তে এলেই Worm hole বেরিয়ে  আসবে, যা 51:7 আয়াহতে প্রস্তাব   করা   রয়েছে। আর  Worm  hole  মানেই  মহাবিশ্ব গুলো  ভ্রমণ  করতে 1 second'ও  সময় লাগবে না। তাই না পাঠক?? প্রশ্ন  হবে- তাহলে  মুহাম্মাদ  (সা)  কি Space suit ছাড়াই  এই ভাবে মহাবিশ্ব ভ্রমণ করে ছিলেন?? হ‍্যাঁ রে মোর ভাই, হ‍্যাঁ!! এই Worm hole এ Space  suit  এর  প্রয়োজন হয় না, এ জন্য নাবী (সা)- এর Space  suit  ছাড়াই  মিরাজ যাত্রা সম্ভব হয়েছিল।


   এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- এই عَالَمِينَ এর  বা  মহাবিশ্ব  সমূহের স্রষ্টা কত জন?? এ প্রশ্নের উত্তর  রয়েছে  এই عَالَمِين মধ্যেই। কিভাবে, তা বুঝতে  পারেন  নি, তাই  না?? পবিত্র  কুরআনে عَالَمِين As the  noun ব‍্যবহৃত  হয়েছে 73 বার  মতো। এখন প্রশ্ন হবে- এ থেকে কি প্রমাণ হল?? উত্তর সহজ- 7+ 3= 10 = 1+ 0= 1, তাই না?? তাই  বলা হয়েছে- قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ অনু বাদ হবে এমন-"বলে দিন যে, আল্লাহ শুধুমাত্র 1 জন"(112: 1)। এখানে  লক্ষ‍্যণীয়   বিষয়   হল- 1:1  আয়াহতে  ব‍্যবহৃত কালিমা এবং 112:1  আয়াহতে  ব‍্যবহৃত  কালিমা  সংখ্যা  4 টি। এটাও عَالَمِينَ  এর  বা  মহাবিশ্ব  সমূহের  স্রষ্টা  1  হ‌ওয়ার প্রমাণ বহন করছে। তাই না??


   তবে, অবাক  হ‌ওয়ার পালা কিন্তু এখনও শেষ নয়। আমরা আপনাকে  আরও  একটু  অবাক  করতে  চাই। আবাক হতে চাইবেন?? দেখুন- 1:1 আয়াহ'র  কালিমা  সংখ্যা  4 টি এবং 114:6 আয়াহ'র  কালিমা  সংখ্যা'ও  4 টি। অর্থাৎ পবিত্র কুর আনের প্রথম  আয়াহ  এবং  পবিত্র  কুরআনের শেষ আয়াহ' তে ব‍্যবহৃত কালিমা সংখ্যা  এক‌ই। পাঠক, তথ্য‌টা আপনাকে অবাক করে নি??


   সুধী পাঠক, অনেক ক্ষুত সন্ধানী তথা ইসলাম  বিদ্বেষী এই অভিযোগ  করেন- পবিত্র  কুরআন  যেভাবে  নাযিল হয়েছে, সেভাবে মুদ্রিত  হয়  নি। বরং  উসমান (রা) যেভাবে ইচ্ছা, সে ভাবে   সংকলন   করেছেন!! পাঠক, পবিত্র  কুরআনের  এই সংখ্যাতত্ত্ব গুলো দেখে আপনার  কি মনে হচ্ছে- এগুলো সব By chance??  নাকি  এগুলো  সব  মহাবিশ্ব  সমূহের  প্রভুর  Signature?? দেখুন- تَنْزِيلُ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ অনুবাদ হবে এমন-"এতে  কোনও সন্দেহ নেই যে, এ কিতাব টি নাযিল করা হয়েছে  মহাবিশ্ব  সমূহের প্রভু/ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে"(10:37, 32:2)। এরপর  দেখুন, আল্লাহ কি প্রতি শ্রুতি  দিয়েছেন- إِنَّا  نَحْنُ  نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ  অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই  আমরা   নাযিল  করেছি  এই  স্বরণীকা [কুরআন] কে এবং  আমরাই  তার সংরক্ষক"(15:9)। এবার এ বিষয়ে শেষ আয়াহ-


لَا  يَأْتِيهِ  الْبَاطِلُ  مِنْ  بَيْنِ  يَدَيْهِ  وَلَا  مِنْ  خَلْفِهِ ۖ تَنْزِيلٌ  مِنْ  حَكِيمٍ حَمِيدٍ●

অনুবাদ হবে এমন-"না   তার   [কুরআনের]   কাছে   আসতে পারে  বাতিল/ অসত্য  সামনে  থেকে, আর  না পিছন থেকে। [কেননা] তা  [কুরআন] নাযিল  করা   হয়েছে  মহা  প্রশংসিত মহা   বিজ্ঞানীর   পক্ষ   থেকে"(41:42)। সুধী   পাঠক, পবিত্র কুরআনের  প্রথম  আয়াহ'তের   সঙ্গে  শেষ  আয়াহ'তের এই সংখ্যাতাত্ত্বিক মিল  প্রমাণ  করে- পবিত্র কুরআনে না সামনে থেকে  কোনও  কিছু  প্রবেশ  করেছে, আর  না পিছন থেকে। তাই  না?? ক্ষুত   সন্ধানী   তথা   ইসলাম  বিদ্বেষী‌দের আরও একটা  অপবাদ  এই   যে- আল্লাহ  কুরআনে   নিজের  ঢোল নিজে  পিটিয়েছেন। যেমন- 41:42 আয়াহ'র  শেষে  সরাসরি বললেই হতো যে, আল্লাহ  নাযিল করেছেন। কিন্তু আল্লাহ তা না  বলে  বললেন-"তা  [কুরআন]  নাযিল  করা  হয়েছে  মহা  প্রশংসিত   মহাবিজ্ঞানীর   পক্ষ  থেকে"। কি  প্রয়োজন  ছিল এটা বলার?? উত্তর সহজ- আল্লাহ পবিত্র  কুরআনের প্রথম আয়াহ'তের সঙ্গে পবিত্র  কুরআনের সর্বশেষ আয়াহ'তের যে সংখ্যা    তাত্ত্বিক   মিল   রেখেছেন, তা   নিশ্চয়ই   বৈজ্ঞানিক কর্ম?? আর   এই    কাজটা    যিনি   করবেন, নিশ্চয়ই  তিনি প্রশংসা‌র দাবীদার?? আর তাই তো আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন- تَنْزِيلٌ   مِنْ  حَكِيمٍ  حَمِيدٍ  অনুবাদ   হবে   এমন-"তা [কুরআন] নাযিল  করা  হয়েছে মহা  প্রশংসিত মহাবিজ্ঞানীর পক্ষ থেকে"। শেষ প্রশ্ন- এটা বলার প্রয়োজন কি ছিল??


   উত্তর  খুব  সহজ- যদি  আল্লাহ  এটা  না  বলতেন, তা হলে আমরা Hints পেতাম  কোথায় থেকে?? বুঝতে পারেন নি?? ঠিক আছে, দেখুন- যখন  পবিত্র  কুরআনে  আল্লাহ বললেন যে-


لَا  يَأْتِيهِ  الْبَاطِلُ  مِنْ  بَيْنِ  يَدَيْهِ  وَلَا  مِنْ  خَلْفِهِ ۖ تَنْزِيلٌ  مِنْ  حَكِيمٍ حَمِيدٍ●

অনুবাদ হবে এমন-"না   তার   [কুরআনের]   কাছে   আসতে পারে  বাতিল/ অসত্য  সামনে  থেকে, আর  না পিছন থেকে। [কেননা] তা  [কুরআন] নাযিল  করা   হয়েছে  মহা  প্রশংসিত মহা    বিজ্ঞানীর   পক্ষ   থেকে"(41:42)। তবেই  তো  আমরা জানতে পারলাম- তাহলে  নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআনের সামনে বা প্রথমে এবং পিছনে বা শেষেকিছু একটা বৈজ্ঞানিক বিষয় লুকিয়ে    আছে!! তাই    না?? ঠিক   আছে, শেষ   আয়াহ'টি দেখুন- كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ

অনুবাদ  হবে  এমন-"আমরা  আপনার [মুহাম্মাদ (সা)]  প্রতি একটি কল‍্যাণকর  কিতাব  নাযিল  করেছি, যেন  মানুষ তার আয়াত  সমূহ  নিয়ে  গবেষণা  করে। তবে, এ  থেকে উপদেশ গ্ৰহণ  করে  চিন্তাশীলরা   তথা  জ্ঞানী‌রা"(38:29)। দেখুন না- আমরা   গবেষণা   করলাম,  উপদেশ‌ও   নিলাম, আপনাকে দিয়েও দিলাম!! তাই না??


                                                     চলতেই থাকবে................

                                                    প্রকাশ কাল : 09.11.2021

                                                প্রথম সংস্করণ : 13.12.2021


                                © হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...