#সূরাহ _আল_ফাতিহাহ, 3 নং আয়াহ, এবং কুরানী বিশ্লেষণ।

 @সূরাহ  আল-ফাতিহাহ, 3 নং   আয়াহ। বিজ্ঞানের   বিজ্ঞান  আল-কুরআন   এবং   কুরানী   বিশ্লেষণ। অনুবাদে : হোসেন কুরানী।



                          1 নং সূরাহ আল-ফাতিহাহ।

                     (মাক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা 7)


                        বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

অর্থাৎ  আল্লাহর   নামে   (শুরু),   (যিনি)   সীমাহীন/  অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়।


3 নং আয়াহ : (যিনি¹/ কেননা²) কর্মফল  দিবস  তথা  বিচার দিবসের³ একচ্ছত্র মালিক⁴ / প্রভু/ ক্ষমতার অধিকারী⁵।


1:3 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 1 ও 2)

আচ্ছা, আপনি "যিনি" ও "কেননা" বলতে কি, তা কি বুঝতে পেরেছেন?? যদি  বুঝতে  না পারেন, তাহলে 1:2 আয়াহর 1 ও 2 নং কুরানী বিশ্লেষণ‌টা দেখে  নিন একবার। যদি এতটুকু না করেন, তাহলে এখন আবার  আমাদের‌কে আলাদা ভাবে লিখতে  হবে। যা   লেখার   আকার   বৃদ্ধি   করবে   এবং  তা আপনাকে বাধ্য হয়ে  পড়তে‌ও  হবে। এতে আমাদের‌ও সময় নষ্ট হবে এবং আপনার‌ও!! তাই না??

       

1:3 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 3)

প্রশ্ন হবে- আসলে  "কর্মফল   দিবস   তথা   বিচার   দিবসের  একচ্ছত্র মালিক" বলে এখানে কি  বলতে চাওয়া হচ্ছে?? এ প্রশ্নের উত্তর  খুব  সহজ- যেন  প্রতি  রাকাহ'তে আপনি মনে করতে  পারেন  যে, আমার  সমস্ত  কর্মের   হিসাব  হবে এবং আমি সমস্ত কর্মের হিসাব দিতে বাধ্য। এত‌এব যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবে  নয়। বরং  আল্লাহ  যেভাবে  নির্দেশ  দিয়েছেন, ঠিক সেই ভাবে  জীবন-যাপন  করতে হবে‌। নয়ত নিজ ইচ্ছা মতো জীবন-যাপনের  পরিণতি  আমাকেই  ভোগ করতে হবে!! এ জন্যই  তো  পরের  আয়াহ'তে  বলা  হচ্ছে-"আমরা  শুধুমাত্র আপনার‌ই   ইবাদাত [আপনার‌ই/   আল্লাহর  ইচ্ছা  অনুযায়ী কাজ-কর্ম]  করি   এবং   শুধুমাত্র  আপনার  কাছেই  সাহায্য প্রার্থনা করি"(1:4)।


   এখন কেউ বলতে পারেন- কেন  আল্লাহর  ইচ্ছা  অনুযায়ী জীবন-যাপন   করব?? আমাদের  ইচ্ছার  কি  কোনও  মূল্য নেই?? উত্তর    সহজ- ধরুন, আপনি   আমার   গর্বের   দেশ ভারতের বাসিন্দা। এখন আপনি  স্বাধীন, কিন্তু  তারমানে কি এই  যে, আপনি  ভারতের  সংবিধান   এবং  আইন  মানবে‌ন না?? যদি   আপনি   ভারতে   বসবাস   করতে   চান, তাহলে ভারতের  আইন   আপনাকে   মানতেই   হবে। নয়ত   আপনি "দেশদ্রোহী" বলে গণ্য  হবেন। শাস্তি  হতে  পারে- যাবজ্জীবন থেকে  মৃত্যুদন্ড   পর্যন্ত, এরপর  সম্পদ-সম্পত্তি  বাজেয়াপ্ত‌ও   হতে পারে!!


   এক‌ই ভাবে, স্বাধীন ইচ্ছা  সহ "আল্লাহর  ইচ্ছা বা আল্লাহর সংবিধান (পবিত্র কুরআন)  আইন  (হাসান ও সাহীহ হাদীস) অনুযায়ী জীবন-যাপন করতে  পারবেন  না কেন?? এটা তো খুব   এবং  খুবই  সহজ। এ  ছাড়াও  আল্লাহ  কিন্তু  ভারতের চেয়েও  অনেক  বেশি  গণতান্ত্রিক। কিভাবে, সেটাই  মনে হয়  ভাবছেন, তাই   না?? দেখুন-  لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ  অনুবাদ  হবে এমন-"দীন [ইসলাম] গ্ৰহণের ব‍্যাপারে কারোর উপর কোনও ধরণের   জবরদস্তি   নেই"(2:256)। মানে- কেউ  চাইলে দীন ইসলাম  অনুযায়ী  জীবন-যাপন করতে পারেন, আবার নাও করতে  পারেন!! আর   কি   চান?? এখন  নিচের  আয়াহ'টি দেখুন- ذَٰلِكَ  الْيَوْمُ  الْحَقُّ ۖ فَمَنْ  شَاءَ  اتَّخَذَ  إِلَىٰ رَبِّهِ مَآبًا  অনুবাদ হবে এমন-"সেই  দিনটি [বিচার দিবস/ কর্মফল দিবস] সত্য। এত‌এব  যে  চায়, সে  তার প্রতিপালকের/ প্রভুর দিকে ফিরে আসার পথ ধরুক"(78:39)।


1:3 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 4)

এখানে  গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন  হবে- "একচ্ছত্র  মালিক" বলতে  কি  বোঝানো হচ্ছে?? উত্তর খুবই সহজ- সেদিন  আপনার পাশে দাঁড়ানোর বা আপনাকে বিচারের সম্মুখীন হ‌ওয়া থেকে কেউ বাঁচানোর  বা  আল্লাহর  সিদ্ধান্ত  বদল  করার কেউ থাকবেন না। তাই কেউ আপনাকে বাঁচিয়ে  নেবেন- এই আশায় জীবন যাপন   করবেন   না। আপনার   যার  উপর  ভর  দিয়ে  বেঁচে যাওয়ার  আশা   করছেন, তিনি  নিজেই  সেদিন  বাঁচার  পথ পাবেন না। সুতরাং এটা মনে রেখে জীবন-যাপন করা উচিৎ, নয়ত শুধু শুধু 60-70 বছরের  জন্য অনন্তকাল জাহান্নামের অধিবাসী হয়ে যেতে হবে!!


1:3 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 5)

প্রশ্ন হবে- "একচ্ছত্র  ক্ষমতার অধিকারী" বলতে  আসলে কি বোঝানো হয়েছে?? উত্তর সহজ- আল্লাহর  ক্ষমতায় কোনও শরিক নেই। কিন্তু প্রশ্ন  হবে- এটা বলা হল কেন?? উত্তর খুব সহজ-"Let not your heart be troubled; you believe in God, believe  also  in  Me. In  My Father’s house are many mansions; if it were  not so, I would have told you. I go to prepare a place  for you. And if I go and prepare  a  place  for   you, I  will   come   again  and receive  you  to  Myself; that  where  I am, there you may  be  also. And  where  I  go  you  know, and  the way you know"(Jhon, 14:1-4)।


   উপরিউক্ত  উদ্ধৃতিটা NKJV থেকে। যাইহোক, এখানে তথা কথিত যিশু (আ)- এর "গা-জোয়ারিটা" লক্ষ করেছেন?? তা কিন্তু  লক্ষণীয়   ছিল, তাই   না?? ওওওও  আচ্ছা, English উদ্ধৃতি বলে বুঝতে  পারেন নি!! দাঁড়ান, সহজ অনুবাদ করে দিচ্ছি। দেখুন-"তোমাদের   মন   বিচলিত  না  হোক৷ ঈশ্বরের উপর  বিশ্বাস  রাখো, আর   আমার   প্রতিও   আস্থা   রাখো৷

আমার  পিতার  বাড়িতে  অনেক ঘর আছে, যদি না থাকতো আমি  তোমাদের  বলতাম৷ আমি তোমাদের থাকবার একটা জায়গা  ঠিক   করতে   যাচ্ছি৷ সেখানে   গিয়ে  জায়গা  ঠিক করার  পর  আমি  আবার  আসব  ও  তোমাদেরকে  আমার কাছে   নিয়ে   যাব, যাতে   আমি    যেখানে  থাকি, তোমরাও সেখানে  থাকতে পার৷ আমি য়েখানে যাচ্ছি তোমরা সকলেই সে জায়গার পথ চেন"।


   এবার    বুঝতে   পেরেছেন?? এখানে  "একচ্ছত্র  ক্ষমতার অধিকারী" এটাই বোঝানো  হয়েছে যে, এই  ধরণের কোনও "গা-জোয়ারি" কেউ‌ই  সেদিন  করতে পারবেন না। এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে  কি  যিশু  (আ)  মিথ্যা  ভুল/ বলেছেন?? উত্তর সহজ- এই  ধরণের  কোনও  কথা যিশু (আ) বলেন নি। তার নামে পরবর্তীতে এই বাক্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে মানুষ কে জান্নাতের Guarantee দিয়ে খৃষ্টান বানানো যায়। যেমন, বর্তমানে  মিশনারি‌রা মানুষ‌ ও মুসলিম‌দের "ঈশায়ী মুসলিম" বানাচ্ছে। এবং  তা  এই  বলে- মুহাম্মাদ  (সা)  কি  তোমাদের জান্নাতের Guarantee দিয়েছে?? না, দিতে পারেন নি। কিন্তু ঈশা  দিয়েছেন। সুতরাং  "মুহাম্মাদী  মুসলিম" থেকে  "ঈশায়ী মুসলিম" হয়ে যাও, তাহলেই জান্নাত।


   কিন্তু  লক্ষণীয়  হল- Jhon  14:16  তে  যিশু  (আ) সম্পূর্ণ নাবী (আ)- এর  মতো  বক্তব্য  রেখেছেন। দেখুন-"And I will pray  the   Father, and   He   will   give   you   another Helper, that He may abide  with  you  forever"। এবার অনুবাদ  করে  দিই?? দেখুন-"আমি   পিতার   কাছে “প্রার্থনা করব বা ভিক্ষা চাইব”, আর তিনি  তোমাদের  আর  একজন "সহায়/ সাহায্যকারী" [মুহাম্মাদ (সা)- কে] দেবেন, যেন  তিনি  চিরকাল তোমাদের  সঙ্গে থাকেন"।


   এখানে  হয়ত  কোনও  মিশনারি বলতে পারেন- Jhon 14: 1-4 এর বক্তব্য ঈশ্বর হিসাবে। কিন্তু  দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, 14:16  বক্তব্য‌টা  14:1-4 এর‌ই অংশ। এছাড়াও 14:1-4 এর  শুরুতেই  বলা  হচ্ছে-"আমার   পিতার  বাড়িতে  অনেক ঘর  আছে"। যদি   এখানে   যিশু  (আ)  ঈশ্বর   হিসাবে  কথা বলতেন,  তাহলে  "আমার  পিতার  বাড়ি"  বলতেন  না। বরং তিনি বলতেন- "আমার বাড়ি"। তাই নয় কি??


   এ   ছাড়াও   বলা   হয়েছে-"My   little   children,  these things I write to you, so that you may not sin. And if anyone sins,  we have an Advocate with the Father, Jesus Christ the  righteous.  And  He Himself is the propitiation  for  our  sins, and  not for ours only but also for  the  whole world"(1 Jhon, 2:1-2)। এবার বঙ্গা নুবাদ দেখুন-"আমার প্রিয় সন্তানরা, আমি তোমাদের একথা লিখছি যাতে তোমরা পাপ না কর৷ কিন্তু কেউ যদি পাপ করে ফেলে, তবে  পিতার   কাছে   আমাদের   পক্ষে   কথা   বলার একজন আছেন, তিনি সেই  ধার্মিক ব্যক্তি, যীশু খ্রীষ্ট৷ তিনিই সেই  প্রায়শ্চিত্ত  বলি, যার  ফলে আমাদের সব পাপ দূর হয়৷ কেবল  আমাদের  সব  পাপ  নয়, জগতের  সমস্ত মানুষেরও পাপ দূর হয়"।


   উপরিউক্ত  উদ্ধৃতির  আলোকে  এটা  সহজেই  বলা  যেতে পারে যে, কোনও  মানুষের‌ই  খৃষ্টান হ‌ওয়ার/ ঈশায়ী মুসলিম হ‌ওয়ার   কোনও    প্রয়োজন   নেই। কারণ, তথাকথিত  যিশু (আ) তো সমগ্র  মানব জাতির  পাপের  জন্য  নিজেকে  বলি দিয়ে   দিয়েছেন!! তাই   না?? যাইহোক,  পরিশেষে  "অন‍্যের পাপ নেওয়ার  বা  আদি  পাপ" সম্পর্কে  Bible  কি  বলে, তা আপনাকে  দেখাতে চাই-"The  soul  who  sins shall die. The  son  shall  not  bear  the guilt of the father, nor the father bear  the  guilt  of the son. The righteous ness of  the  righteous  shall  be  upon himself, and the wickedness of  the  wicked  shall  be  upon him self"(Ezekiel, 18:20)। এবার     অনুবাদ-"যে   ব্যক্তি   পাপ করে, শুধু সেই মারা যাবে। পুত্রকে তার  পিতার পাপের জন্য শাস্তি  ভোগ  করতে  হবে  না, আবার  পিতাকেও তার পুত্রের পাপের  শাস্তি  ভোগ করতে হবে না। ভাল লোকের ধার্মিকতা তার নিজের হাতে, তেমনই মন্দ লোকের মন্দতাও শুধু তারই অধিকারগত"।


   এক‌ই  ধরণের  বক্তব্য দেখুন-"Fathers shall not be put to death for their children, nor  shall children be put to death for their  fathers; a  person  shall  be put to death  for  his own sin"(Deuteronomy, 24:16)। এবার বাংলা-"সন্তান  দোষ  করলে   পিতা-মাতার   বা   পিতা-মাতা দোষ  করলে, তার  জন্য  সন্তানের প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে না। কোন‌ও  ব্যক্তিকে  শুধু  তার  নিজের  করা  অন্যায়ের জন্যই প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে"।


   যাইহোক, এখন  প্রশ্ন  হবে- তাহলে  ঈশা (আ) বিচার দিনে কিছুই  করতে  পারবেন   না?? উত্তর  সহজ- শুধু  ঈশা (আ) নয়, কেউই  কারোর  জন্য  কিছু  করতে  পারবেন না। দেখুন আয়াহটি- وَاتَّقُوا  يَوْمًا  لَا  تَجْزِي  نَفْسٌ  عَنْ  نَفْسٍ شَيْئًا অনুবাদ হবে এমন-"ভয়  করো  সেই  দিনকে, যে  দিন  কেউ  কারোর জন্য সামান্যটুকুও  কাজে  আসবে  না"। এবার দেখুন পরের অংশ‌টি- وَلَا يُقْبَلُ  مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ অনুবাদ হবে এমন-"এবং কারোর  শাফায়াত/ সুপারিশ গ্ৰহণ করা হবে না এবং  কারোর  নেওয়া  হবে  না কোনও  বিনিময়"(2:48 ও 2: 123)। প্রশ্ন  হবে-"মালাইকা/  ফেরেস্তা‌রাও  শাফায়াত/  সুপা রিশ  করতে  পারবেন   না?? উত্তর   সহজ- না,  পারবেন না। প্রশ্ন  হবে- "না"   বললে   হবে  না,  Reference  ক‌ই??  ঠিক আছে, দেখুন- 53:26 আয়াহ।


   প্রশ্ন হবে- যাহহহহ, তাহলে  কি হবে?? উত্তর সহজ- চিন্তার কিছুই নেই। এতক্ষণ আমরা  অর্ধেক তথ্য উপস্থাপন করেছি মাত্র, এবার  সম্পূর্ণ  তথ্য  উপস্থাপন  করব, তাহলেই  বুঝতে পারবেন- ইনশাআল্লাহ। দেখুন- يَوْمَئِذٍ لَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ অনুবাদ হবে এমন-"সেদিন কারোর  সুপারিশ  কার্যকর হবে না"। প্রশ্ন হবে- এটা  কি  হল?? উত্তর   সহজ- কিছুই  হয়  নি, শুধুমাত্র অর্ধেক আয়াহ'টি  উদ্ধৃতি  করেছি মাত্র। আচ্ছা, পরের অংশ‌ টি  এবার  দেখুন- إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَٰنُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا অনুবাদ হবে   এমন-"তবে  দয়াময়  [আল্লাহ]  যদি  কাউকে  সুপারিশ করার অনুমতি দেন  এবং  যার  কথা  শুনতে  পছন্দ করেন, তার কথা ভিন্ন"(20:109)। এবার  সম্পূর্ণ  আয়াহ'টি  একত্রে দেখুন-"সেদিন   কারোর   সুপারিশ   কার্যকর   হবে  না। তবে দয়াময় [আল্লাহ] যদি কাউকে  সুপারিশ করার অনুমতি দেন এবং যার  কথা  শুনতে  পছন্দ  করেন, তার  কথা ভিন্ন"(20: 109 ও 19:87)। सामझो कि नही??


   প্রশ্ন হবে- কেন, এমন কেন?? উত্তর সহজ- এখনও বুঝতে পারেন নি?? দেখুন-"[কেননা  তিনি  আল্লাহ]  কর্মফল  দিবস  তথা    বিচার   দিবসের   একচ্ছত্র   মালিক/  প্রভু/  ক্ষমতার অধিকারী"(1:3)। প্রশ্ন  হবে- একচ্ছত্র  কেন?? কারণটা  এই যে- لَا  شَرِيكَ  لَهُ  অনুবাদ   হবে   এমন-"তার  কোনও  শরিক নেই"। অবশ্য  ভিন্ন  অনুবাদ‌ও  হতে  পারে-"কেউ তার শরিক নয়"(6:163)। এ  ছাড়াও  পবিত্র কুরআনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে  বলা  হয়েছে-"وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ অনুবাদ  হবে এমন-"আর  না  আছে  তার  মালিকিতে/  প্রভুত্বে/  রাজত্বে/ কর্মে কোনও শরিক"(17:111)। আর এই জন্যই তো আল্লাহ বলেছেন- مَنْ   ذَا   الَّذِي   يَشْفَعُ   عِنْدَهُ   إِلَّا   بِإِذْنِهِ  অনুবাদ হবে এমন-"কে  এমন  আছে  যে, তার  অনুমতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করতে পারে"(2:255)??


   এখন  একটা   গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন  হবে- আল্লাহর  শরিক  নেই কেন?? উত্তর   সহজ, দেখুন- وَلَمْ  يَكُنْ  لَهُ  كُفُوًا  أَحَدٌ অনুবাদ হবে  এমন-"এবং  তার  সমতুল্য  কেউ  নেই"(112:4)। এখন প্রশ্ন হবে- তার  সমতুল্য  কেউ নেই কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর‌ও খুব  সহজ- لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ অনুবাদ হবে এমন-"কারণ, তার মতো   কোনও   কিছুই  নেই"(42:11)। এখন  প্রশ্ন  হবে- তার মতো কোনও কিছুই নেই কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর তো আরও সহজ- هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ অনুবাদ হবে এমন-"কারণে, তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়"(112:1)।


   এখন  প্রশ্ন  হবে- তাহলে  ঈশা  (আ)  কি  সুপারিশ  করতে পারবেন?? উত্তর সহজ-"সেদিন  কারোর  সুপারিশ কার্যকর   হবে না। তবে দয়াময় [আল্লাহ] যদি কাউকে  সুপারিশ করার অনুমতি  দেন  এবং  যার   কথা  শুনতে  পছন্দ  করেন, তার  কথা   ভিন্ন"(20:109  ও  19:87)। উত্তর   পেয়েছেন?? তবে, সুপারিশকারী  নিজের  ইচ্ছা  মতো সুপারিশ করতে পারবেন না। আয়াহ'টি  দেখুন- وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَىٰ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তারা [যার-তার জন্য]  সুপারিশ  করতে  পারেন না, তবে  যার  প্রতি [আল্লাহ] সন্তুষ্ট, তার জন্য সুপারিশ তারা করতে পারেন"(21:28)। প্রশ্ন হবে- এমন কেন??


   দেখুন- لَا  يَسْبِقُونَهُ  بِالْقَوْلِ  وَهُمْ  بِأَمْرِهِ  يَعْمَلُونَ  অনুবাদ হবে এমন-"কারণ, তারা  [কোনও   বিষয়ে]  অগ্ৰগামী  হয়ে  কথা বলেন না। এবং তারা  তার [আল্লাহর] হুকুম  অনুযায়ী সমস্ত কাজ  করে  থাকেন"(22:27)। প্রশ্ন হবে- এমন কেন?? উত্তর খুব  সহজ, দেখুন-  وَهُمْ  مِنْ  خَشْيَتِهِ  مُشْفِقُونَ  অনুবাদ  হবে এমন-"কারণ, তারা  তার [আল্লাহর] ভয়ের  কারণে  ভীত  ও সন্ত্রস্ত"(21:28)। তাই  শুধু  ঈশা (আ) নয়, সমস্ত  নাবী রাসুল (আ)- রাই  সুপারিশ   করবেন। এমনকি, সাধারণ  মুসলিম‌ও অন্য  পরিচিত  মুসলিম‌দের  জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। বলা  ভালো, আল্লাহ  সুপারিশ  করতে দেবেন। এ জন্য সময় থাকতে হোসেন কুরানীর Team Quranic Universe এ যুক্ত হয়ে যান। ইনশাআল্লাহ, আশা করা যায় হোসেন কুরানীকে‌ও আল্লাহ আপনার জন্য সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন।


   প্রশ্ন হবে- সাধারণ   মুসলিম‌ও  সুপারিশ  করতে  পারবেন। কিন্তু  সাধারণ  মুসলিম  বলতে  কি?? উত্তর সহজ- সাধারণ মুসলিম  বলতে  "তথাকথিত   বা  নামধারী"  মুসলিমের কথা বলছি  না। "পবিত্র  কুরআন  ও  সুন্নাহ'র  অনুসারী  মুসলিম" মুসলিমের  কথা  বলছি। এখন  কেউ  বলতে  পারেন- এবার দালায়িল'টা  পেশ  করুন!! ঠিক আছে, নিন-"সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ [র]... আবূ সাঈদ  আল খুদরী [রা] থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সা]- এর যুগে কতিপয় সাহাবী তাকে বলে ছিলেন, হে   আল্লাহর  রাসূল, কিয়ামাত  দিবসে  আমরা  কি আমাদের   প্রতিপালককে   দেখতে   পাব?? রাসূলুল্লাহ  [সা] বললেন-  হ্যাঁ। তখন তিনি  আর‌ও  বললেন- দুপুরে  মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য অবলোকন  করতে কি তোমাদের ধাক্কা-ধাক্কির সৃষ্টি হয়?? সকলে  বললেন- হে  আল্লাহর  রাসুল, না, তা হয় না। নাবী    [সা]   বললেন-   ঠিক   তদ্রুপ   কিয়ামাত   দিবসে তোমাদের প্রতিপালককে অবলোকন  করতে  কোন‌ও বাধার সৃষ্টি হবে না। সেদিন এক ঘোষনাকারী ঘোষণা দিবে- যে যার উপাসনা করতে, সে আজ তার অনুসরণ করুক।


   তখন   আল্লাহ   ব্যতীত   যারা   অন্য  দেব-দেবী  ও  বেদীর উপাসনা  করত, তাদের  কেউ  অবশিষ্ট  থাকবে না, সকলেই জাহান্নামে  নিক্ষিপ্ত  হবে। সৎ  হোক  বা অসৎ যারা আল্লাহর ইবাদত  করত, তারাই  কেবল অবশিষ্ট থাকবে এবং কিতাবী দের যারা দেব-দেবী ও বেদীর উপাসক ছিল না তারাও বাকি থাকবে। এরপর   ইহুদীদেরকে  ডেকে  জিজ্ঞেস  করা  হবে!! তোমরা  কার  ইবাদাত  করতে?? তারা বলবে- আল্লাহর পুত্র উযায়িরের।  তাদেরকে   বলা   হবে- তোমরা    মিথ্যা   বলছ। আল্লাহ  কোন‌ও  স্ত্রী  বা  সন্তান  গ্রহণ  করেন নি। তোমরা কি চাও?? তারা   বলবে- হে   আল্লাহ, আমাদের   খুবই  পিপাসা পেয়েছে। আমাদের  পিপাসা  নিবারণ   রুকন। প্রার্থনা  শুনে তাদেরকে    ইঙ্গিত   করে   মরীচিকাময়   জাহান্নামের   দিকে জমায়িত করা  হবে। এর  একাংশ   আরেক   অংশকে   গ্রাস করতে থাকবে। তারা এতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।


   এরপর  খৃষ্টানদেরকে  ডাকা  হবে। বলা  হবে- তোমরা কার ইবাদাত    করতে?? তারা    বলবে- আল্লাহর   পুত্র   মসীহের উপাসনা  করতাম। বলা  হবে- মিথ্যা  বলছ, আল্লাহ  কোন‌ও স্ত্রী বা  সন্তান  গ্রহণ  করেননি। জিজ্ঞেস  করা হরে- এখন কি চাও?? তারা  বলবে, হে  আমাদের প্রভু, আমাদের খুব তৃষ্ণা পেয়েছে, আমাদের তৃষ্ণা  নিবারণ করুন। তখন তাদেরকেও ইঙ্গিত  করে  জাহান্নামের  দিকে  জমায়িত  করা  হবে। একে মরীচিকার  মত  মনে  হবে। এর  এক  অংশ  অপর অংশকে গ্রাস   করে  নিবে। তারা  তখন   জাহান্নামে  ঝাপিয়ে   পড়তে থাকবে। শেষে   মুমিন   হউক   বা  গুনাহগার, এক  আল্লাহর উপাসক ছাড়া  আর  কেউ [বিচার ময়দানে] অবশিষ্ট থাকবে না।


   তখন  আল্লাহ  তাদের  কাছে  এসে  বলবেন- সবই  তাদের নিজ  নিজ  উপাস্যের  অনুসরণ  করে  চলে   গেছে, তোমরা কার  অপেক্ষা  করছ?? তারা  বলবে- হে  আমাদের প্রভু, যে খানে আমরা বেশি মুখাপেক্ষী ছিলাম, সেই দুনিয়াতে আমরা অপরাপর মানুষ থেকে পৃথক  থেকেছি এবং তাদের সঙ্গী হই নি। তখন   আল্লাহ   বলবেন- আমিই  তোমাদের  প্রভু। তখন মুমিনরা   বলবে- আমরা   তোমার   থেকে   আল্লাহর   কাছে আশ্রয় প্রার্থনা  করছি, আল্লাহর  সঙ্গে  আমরা কিছুই শরিক করি না। এই কথা তারা 2-3 বার বলবে। এমনকি কেউ কেউ অবাধ্যতা  প্রদর্শনেও  অবতীর্ণ  হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ বল বেন- আচ্ছা, তোমাদের কাছে এমন কোন নিদর্শন আছে, যা দ্বারা  তাকে  তোমরা   চিনতে   পার?? তারা  বলবে- অবশ্যই আছে। এরপর  “সাক  বা গোড়ালি” [68:42] উন্মোচিত হবে, তখন পৃথিবীতে  যারা  স্বতঃপ্রণোদিত  হয়ে আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা  করত, তাদেরকে   আল্লাহ  তাআলা  সিজদা  করার অনুমতি  দিবেন। আর  যারা  লোক  দেখানো  বা  লোকভয়ে আল্লাহকে সিজদা করত, সেই মুহূর্তে  তাদের  মেরুদন্ড  শক্ত ও  অনমনীয়  করে  দেয়া  হবে। যখনই  তারা সিজদা করতে ইচ্ছা  করবে, তখনই  তারা  “চিত”  হয়ে পড়ে  যাবে। তারপর তারা মাথা তুলবে।


   এরই  মধ্যে  তারা  আল্লাহকে  প্রথমে  যে  আকৃতিতে দেখে ছিল  তা  পরিবর্তিত  হয়ে যাবে  এবং তিনি তার আসল রুপে আবির্ভূত  হবেন। অনন্তর   বলবেন- আমি   তোমাদের  প্রভু, তারা   বলবে- হ্যাঁ, আপনি   আমাদের   প্রতিপালক। তারপর জাহান্নামের  উপর  জিসর [পূল] স্থাপন  করা হবে। “শাফায়া তেরও”   অমুমতি    দেয়া    হবে। মানুষ   বলতে   থাকবে- হে আল্লাহ, আমাদের  নিরাপত্তা  দিন, আমাদের নিরাপত্তা দিন। জিজ্ঞেস  করা  হল- হে  আল্লাহর   রাসূল [সা], জিসর  কি?? রাসুলুল্লাহ   [সা]   বললেন-  এটি   এমন   স্থান,  যেখানে   পা পিছলে যায়। সেখানে  আছে নানা প্রকারের লৌহ শলাকা ও কাঁটা, দেখতে নজদের নাদান বৃক্ষের কাঁটার মতো।


   মুমিনগণের  কেউ এ  পথ পলকের গতিতে, কেউ বিদ্যুতের গতিতে, কেউ  বায়ুর গতিতে, কেউ  অশ্বগতিতে, কেউ উষ্ট্রের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ  অক্ষত  অবস্থায় মুক্তি পাবে, আর  কেউ  হবে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায়। আর কতককে কাঁটা বিদ্ধ অবস্থায় জাহান্নামে  নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে মুমিন গণ    জাহান্নাম   থেকে    মুক্তিলাভ    করবে। রাসুলুল্লাহ [সা]  বলেন- সেই  সত্তার  কসম, যার  হাতে  আমার  প্রাণ, ঐ দিন মুমিনগণ   তাদের  ঐ  সব  ভাইয়ের   স্বার্থে   আল্লাহর  সাথে  বিতর্কে   লিপ্ত   হবে, যারা   জাহান্নামে    রয়ে    গেছে। অথচ তোমরা পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও এমন বিতর্কে  লিপ্ত হও না!!


   মুক্তি প্রাপ্তরা  বলবে- হে  প্রভু, এরা  তো  আমাদের  সাথেই স্বালাত  আদায়  করত, রোযা  পালন   করত, হাজ্জ   করত। তখন   আল্লাহ   তাদেরকে   নির্দেশ   দিবেন- যাও, তোমাদের পরিচিতদের  উদ্ধার  করে  নিয়ে  এসো। উল্লেখ্য, এরা  জাহা ন্নামে পতিত হলেও  মুখমন্ডল  আযাব থেকে রক্ষিত থাকবে। [তাই  তাদেরকে  চিনতে কোন‌ও অসুবিধা হবে না]। মুমিনগণ জাহান্নাম  থেকে  এক  বিরাট  দলকে  উদ্ধার  করে  আনবে। এদের অবস্থা এমন  হবে যে, কারোর  পায়ের  অর্ধ  গোড়ালি পর্যন্ত, আবার   কারোর   হাঁটু   পর্যন্ত   দেহ  অগ্নি  ভস্ম  করে দিয়েছে। উদ্ধার  শেষ  করে মুমিনগণ বলবে- হে প্রভু, যাদের সম্পর্কে   আপনি   নির্দেশ  প্রদান  করেছিলেন, তাদের  মধ্যে আর কেউ অবশিষ্ট নেই।


   আল্লাহ  বলবেন- পূনরায়  যাও, যার   অন্তরে  এক  দ্বীনার পরিমাণও ঈমান  অবশিষ্ট  পাবে, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন তারা আরও  একদলকে  উদ্ধার  করে  এনে বলবে- হে প্রভু, অনুমতি  প্রাপ্তদের  কাউকেও  রেখে  আসি নি। আল্লাহ বলবেন- আবার  যাও, যার  অন্তরে  অর্ধ  দ্বীনার  পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট  পাবে, তাকেও বের করে আন। তখন আবার এক বিরাট  দলকে  উদ্ধার  করে  এনে  তারা বলবে- হে প্রভু, যাদের  আপনি  উদ্ধার  করতে  বলেছিলেন, তাদের  কাউকে ছেড়ে আসি  নি। আল্লাহ  বলবেন- আবার  যাও, যার অন্তরে Quark  [Electron  ও  Proton  এর  চেয়েও  ক্ষুদ্র  মৌলিক কণা] পরিমাণও ঈমান  বিদ্যমান, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন আবারও  এক  বিরাট  দলকে  উদ্ধার  করে এনে তারা বলবে- হে  প্রভু, যাদের  কথা  বলেছিলেন, তাদের  কাউকেই রেখে আসিনি।


   সাহাবী আবূ সাঈদ আল খুদরী [রা] বলেন, তোমরা যদি এ হাদীসের ব্যাপারে  আমাকে  সত্যবাদী মনে না কর, তবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াতটিও তিলাওয়াত করতে পারো এবং তা  এই-“আল্লাহ  Quark  পরিমাণও  জুলুম  করেন  না এবং Quark পরিমাণ  নেক  কাজ  হলেও  আল্লাহ তা দ্বিগুন করে করে দেন এবং তার নিজের  কাছ থেকে মহা-পুরস্কার প্রদান করেন”[4:40]। এরপর  আল্লাহ  তায়ালা  বলবেন- মালাইকা রা  সুপারিশ করলেন,  নাবী-রাসূল  [আ]- রাও  সুপারিশ কর লেন এবং মুমিনরাও সুপারিশ করেছে, এখন শুধু রাহমানির রাহিম‌ই  বাকি  রয়ে  গেছেন। এরপর  তিনি  জাহান্নাম  থেকে এক  মুঠো  তুলে  আনবেন, ফলে  এমন একদল লোক মুক্তি পাবে, যারা  কখন‌ও  কোন‌ও  সৎকর্ম করে নি, এবং আগুনে জ্বলে  অঙ্গার  হয়ে গেছে। পরে তাদেরকে জান্নাতে  প্রবেশের মুখে “নাহরুল হায়াতে” ফেলে  দেয়া  হবে। তারা  এতে  এমন ভাবে  সতেজ  হয়ে  উঠবে, যেমন  শস্য অংকুর স্রোত বাহিত পানিতে সতেজ হয়ে ওঠে।


   এরপর  রাসুলুল্লাহ [সা] বললেন- তোমরা  কি  কোন‌ও বৃক্ষ কিংবা পাথরের  আড়ালে  কোন‌ও  শস্য দানা অংকুরিত হতে দেখ  নি?? যেগুলো   সূর্য   কিরণের   মাঝে  থাকে   সেগুলো হলুদ  ও  সবুজ   রুপ  ধারণ  করে  আর  যেগুলো  ছায়ামুক্ত স্থানে থাকে, সেগুলো  সাদা  হয়ে যায়। তখন সাহাবী [রা] গণ বললেন- হে  আল্লাহর  রাসুল, মনে   হয়   আপনি  যেন  গ্রাম অঞ্চলে  পশু  চরিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ  [সা]  বললেন- এরপর তারা  নহর  বা  নদী থেকে  মুক্তার মতো ঝক-ঝকে  অবস্থায় উঠে আসবে এবং  তাদের গ্রীবাদেশে মোহরাঙ্কিত থাকবে, যা দেখে জান্নাতিগণ  তাদের  চিনতে  পারবেন। এরা হল- “উতা কাউল্লাহ   বা   আল্লাহর   পক্ষ    থেকে    মুক্তিপ্রাপ্ত”। আল্লাহ তায়ালা সৎ  আমল  ছাড়াই  তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করা বেন।


   এরপর  আল্লাহ  তাদেরকে  বলবেন- যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর। আর  যা   কিছু   দেখছ, সব   কিছু   তোমাদেরই। তারা বলবে- হে  প্রভু, আপনি   আমাদেরকে   এতই  দিয়েছেন  যা সৃষ্ট-জগতের কাউকে  দেন  নি। আল্লাহ  বলবেন- তোমাদের জন্য  আমার  কাছে  এর  চেয়েও  উত্তম   বস্তু   আছে। তারা বলবে- কি সে উত্তম  বস্তু?? আল্লাহ বলবেন- সে হল আমার সন্তুষ্টি। এরপর   আর   কখন‌ও  তোমাদের  উপর  অন্তুষ্ট  হব না"(মুসলিম, কিতাবুল ইমান, হাদীস 351)।


   সুধী পাঠক, হাদীস‌'টি  পড়ে  কিছু বুঝলেন?? এটাই বোঝা গেল যে, শুধু ঈশা (আ) নয়, সমস্ত  নাবী-রাসূল (আ)- রা সহ মালাইকা (আ)- রা সহ  সাধারণ  মুসলিম‌ও  সুপারিশ করতে পারবেন। এখন    প্রশ্ন    হবে- মালাইকা‌    (আ)- রা  সুপারিশ করবে, এর দালায়িল পবিত্র  কুরআনে  নেই?? উত্তর সহজ- অবশ্যই  আছে, আছে  তো। কিন্তু  এখন  শুধুমাত্র তা উদ্ধৃতি করি নি, এবার করব, দেখুন-


وَكَمْ  مِنْ مَلَكٍ  فِي  السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَىٰ●

অনুবাদ হবে এমন-"কত‌ই   না    মালাইকা/  ফেরেস্তা  আছে মহাবিশ্বে, তাদের  সাফায়াত/   সুপারিশ   তাদের   কিছু  মাত্র কাজে লাগবে না। যতক্ষণ  না   আল্লাহ‌   নিজ  ইচ্ছায়  যাকে খুশী তার জন্য সুপারিশ  করার অনুমতি দান করেন"(53:26  এবং কাছা-কাছি বক্তব্য রয়েছে 78:38 তে)। যাইহোক, ঈশা (আ)  সুপারিশ  করবেন  মর্মে  1 টি আয়াহ রয়েছে। তাই এই যে- إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

অনুবাদ হবে এমন-"এখন  যদি   আপনি   তাদেরকে [কথিত খৃষ্টানদের কে] শাস্তি দেন, তাহলে তারা  তো আপনার ইবাদ/ দাস/ বান্দা। আর  যদি  তাদের‌কে  ক্ষমা  করে  দেন, তাহলে  আপনি  মহাশক্তিধর ও মহাবিজ্ঞানী"(5:118)।


   বর্তমানে  তথাকথিত  খৃষ্টান   মিশনারি‌রা   পবিত্র  কুরআন থেকে  এই  আয়াহ'টির  উদ্ধৃতি  করে এটা বলে- দেখো, যিশু (আ)   শাফায়াত   করবেন। কিন্তু  পবিত্র  কুরআনে  কোথাও  বলা  হয়  নি  যে, মুহাম্মাদ (সা)  শাফায়াত করবেন!! আমরা তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা  ও  সম্মান সহ বলতে চাইব- উক্ত আয়াহ' তে  ঈশা (আ)  শুধুমাত্র  তথাকথিত  পথভ্রষ্ট  খৃষ্টানদের জন্য শাফায়াত  করবেন। তথাকথিত  খৃষ্টান  বলতে  আসলে  সেই ইহুদী, যারা   ঈশা   (আ)- কে  "আল্লাহ"   বানিয়ে  দিয়েছেন। অথচ  ঈশা (আ) তার  জাতি  ইহুদীদের  যা  বলেছিলেন, তা এই- اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ অনুবাদ  হবে  এমন-"তোমরা সেই আল্লাহর  ইবাদাত  করো, যিনি  আমার   ও  তোমাদের রাব/ প্রভু/ প্রতিপালক"(5:117)।


   ঈশা   (আ)  আপনাকে   শুধুমাত্র   এক  আল্লাহর  ইবাদাত করতে   বললেন,  কিন্তু    আপনি    তাকেই   আল্লাহ  বানিয়ে দিলেন!! আবার   'Trinity   বা   ত্রিত্ববাদ'ও  আবিষ্কার  করে ফেললেন!! তারপরও   আপনি   ঈশা   (আ)- এর  জান্নাতের শাফায়াত  আশা  করছেন?? লজ্জা  লাগে নি আপনাদের??হ‍্যাঁ, এখন  প্রশ্ন  হবে- তাহলে  আপনি বললেন যে, শাফায়াত করবেন তিনি?? উত্তর সহজ- শুধু  তিনি  নন, সমস্ত  নাবী ও রাসুল (আ)- রা'ই  তাদের  উম্মাহর  জন্য শাফায়াত করবেন, আল্লাহর থেকে করার অনুমতি সহ। কিন্তু কিন্তু কিন্তু, আল্লাহ তাদের  শাফায়াত  সবার জন্য গ্ৰহণ করবেন না!! এখন প্রশ্ন হবে- এটা কোথায় আছে?? ঠিক আছে, দেখুন-


لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا  إِنَّ  اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ۖ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ  رَبِّي  وَرَبَّكُمْ ۖ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ●

অনুবাদ হবে এমন-"নিঃসন্দেহে  যারা  মূল  সত্য  অস্বীকার/অবিশ্বাস  করেছে  এবং  বলে- “আল্লাহ  তিনিই, যিনি মাসিহ ইবনে  মার‌ইয়াম  অর্থাৎ  মার‌ইয়াম   পুত্র  মাসিহ। কিন্তু তিনি  বলেছিলেন- হে বানী  ইসরাইল, তোমরা  এক   আল্লাহর ইবা দাত/ উপাসনা করো। যিনি আমার  ও তোমাদের রাব/ প্রভু/ প্রতিপালক। আর  যে  ব‍্যক্তি  আল্লাহর   সঙ্গে   শরিক  করে, তখন নিঃসন্দেহে আল্লাহ  তার  উপর জান্নাত হারাম/ নিষিদ্ধ করে দেন এবং  তার  আবাসস্থল হয় আগুন। এবং জ্বালিম/ সীমালঙ্ঘনকারীদের কোনও সাহায্যকারী নেই"(5:72)।


   এবার  দেখুন, এ  বিষয়ে  Bible  কি  বলেন!! দেখবেন তো নাকি?? দেখুন-"Not  everyone  who says to Me- Lord, Lord, shall  enter  the  kingdom  of   heaven, but  he who does  the  will  of  My  Father in  heaven. Many will  say  to  Me  in that day- Lord, Lord, have we not prophesied in Your name, cast out  demons in Your name, and   done  many  wonders  in  Your  name?? And then I will  declare  to  them- I  never knew you; depart     from     Me,   you    who    practice    lawles sness"(Matthew, 7:21-23)। এবার  অনুবাদ  করে দিই?? দেখুন-"যারা  আমাকে ‘প্রভু, প্রভু’   বলে, তাদের   প্রত্যেকেই  যে  স্বর্গরাজ্যে  প্রবেশ করতে পারবে, তা নয়৷ আমার স্বর্গের পিতার ইচ্ছা যে পালন করবে, কেবল সেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে  পারবে। সেই   দিন [বিচার  দিনে]  অনেকে   আমাকে বলবে- ‘প্রভু, প্রভু  আমরা  কি আপনার নামে ভাববাণী বলি নি?? আপনার   নামে   আমরা   কি   ভূতদের   তাড়াই  নি?? আপনার   নামে   আমরা   কি    অনেক    অলৌকিক   কাজ করিনি’?? তখন  আমি  তাদের  স্পষ্ট বলব- আমি তোমাদের কখনও  আপন  বলে  জানি  নি, দুষ্টের  দল! আমার  সামনে থেকে দূর হও"।


   যাইহোক, এই  হল   মোটা-মুটি   মৌলিক  ভাবে  শাফায়াত তথ্য। এ  ছাড়াও  গর্ভপাত  হ‌ওয়া  সন্তান, 10  বছর  বয়সের পূর্বে মৃত শিশু-সন্তান, এমনকি  পবিত্র  কুরআন‌ও শাফায়াত করবে। তবে, শাফায়াতের কাহিনী এখনও শেষ হয় নি, ছোট্ট একটু  বাকি  আছে। দেখুন-"আবূ হুরাইরাহ [রা] হতে বর্ণিত। একদা  রাসূলুল্লাহ [সা] -এর   সামনে   গোশ্ত  আনা  হল এবং তাকে সামনের  রান  পরিবেশন  করা  হল। তিনি এটা পছন্দ করতেন। তিনি তার থেকে কামড়ে খেলেন। এরপর বললেন, আমি হব কিয়ামাতের দিন মানবকুলের নেতা। তোমাদের কি জানা আছে, তা  কেন?? কিয়ামাতের দিন আগের  ও পরের সকল  মানুষ  এমন  এক  মাঠে জামায়েত হবে, যেখানে এক জন   আহবানকারীর   আহবান  সকলে  শুনতে  পাবে  এবং সকলেই  এক   সঙ্গে   দৃষ্টিগোচর   করবে। সূর্য  নিকটে  এসে যাবে। মানুষ  এমনি  কষ্ট-ক্লেশের  সম্মুখীন হবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কি বিপদের সম্মুখীন হয়েছ, তা কি  দেখতে  পাচ্ছ না?? তোমরা কি  এমন  কাউকে  খুঁজে   বের   করবে  না, যিনি  তোমাদের রবের  কাছে  তোমাদের  জন্য  সুপারিশকারী  হবেন?? কেউ কেউ  অন্যদের  বলবে-  আদম [আ]- এর  কাছে  চল। তখন সকলে তার  কাছে এসে তাকে বলবে- আপনি আবুল বাশার [(আ) মানবজাতির পিতা], আল্লাহ আপনাকে নিজ হস্ত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তার  রূহ আপনার  মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন এবং  মালাইকাহকে  হুকুম  দিলেন তারা আপনাকে 'সিজদা' বা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা  করেন। আপনি আপনার রাবের নিকট  আমাদের  জন্য  শাফায়াত  করুন। আপনি  কি  দেখ ছেন  না  যে, আমরা  কিসের মধ্যে আছি?? আপনি কি দেখ ছেন  না  যে, আমরা   কি   অবস্থায়  পৌঁছেছি। তখন  আদম [আ] বলবেন- আজ   আমার  রাব  এত  রাগান্বিত  হয়েছেন, যার আগেও কোন‌ও দিন এমন রাগান্বিত হন নি আর পরেও এমন   রাগান্বিত   হবেন   না। তিনি  আমাকে  একটি  গাছের নিকট যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি, নফসী,  নফসী,  নফসী [আমার  কি   হবে, আমার  কি  হবে, আমার  কি  হবে]। তোমরা  অন্যের  কাছে  যাও, তোমরা নূহ [আ] -এর কাছে যাও।


   তখন সকলে নূহ [আ]- এর কাছে এসে বলবে- হে নূহ [আ], নিশ্চয়ই  আপনি  পৃথিবীর  মানুষের প্রতি প্রথম রাসূল। আর আল্লাহ  আপনাকে  পরম  কৃতজ্ঞ  ইবাদ  হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং আপনি  আপনার  রাবের কাছে আমাদের জন্য শাফায়াত করুন। আপনি  কি  দেখছেন  না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি?? তিনি বলবেন- আমার রাব আজ এত ভীষণ  রাগান্বিত  যে, আগেও   এমন  রাগান্বিত  হন নি, আর পরে কখন‌ও  এমন  রাগান্বিত হবেন না। আমার একটি গ্রহণ যোগ্য দুয়া  ছিল, যা  আমি  আমার  কাওমের  ব্যাপারে করে ফেলেছি। [এখন]  নফসী,   নফসী,   নফসী। তোমরা  অন্যের কাছে  যাও, যাও  তোমরা  ইব্রাহীম  [আ]-  এর  কাছে। তখন তারা ইব্রাহীম [আ]- এর কাছে এসে বলবে- হে ইব্রাহীম [আ], আপনি  আল্লাহর  নাবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহর  বন্ধু। আপনি  আপনার   রাবের   কাছে   আমাদের জন্য  শাফায়াত করুন। আপনি  কি দেখতে  পাচ্ছেন  না যে, আমরা কিসের মধ্যে  আছি?? তিনি তাদের বলবেন- আমার রাব  আজ  ভীষণ রাগান্বিত, যার  আগেও  কোন দিন এরূপ রাগান্বিত  হন  নি, আর  পরেও  কোন দিন‌ও এরূপ রাগান্বিত হবেন  না। আর আমি  তো  3 টি  মিথ্যা  বলে  ফেলেছিলাম। রাবী আবূ হাইয়ান তার  বর্ণনায়  এগুলোর উল্লেখ করেছেন। [এখন] নফসী, নফসী,  নফসী, তোমরা  অন্যের  কাছে যাও।  যাও মূসা [আ]- এর কাছে।


   তারা   মূসা [আ]-  এর   কাছে   এসে  বলবে- হে  মূসা [আ], আপনি  আল্লাহর   রাসূল। আল্লাহ   আপনাকে   রিসালাতের সম্মান দিয়েছেন এবং  আপনার সঙ্গে কথা বলে সমস্ত মানব কূলের  উপর  মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আপনার রবের কাছে  আমাদের  জন্য শাফায়াত করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি?? তিনি বললেন- আজ আমার রাব ভীষণ রাগান্বিত  আছেন, এরূপ রাগান্বিত আগেও হন নি এবং পরেও  এরূপ  রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, যাকে হত্যা করার  জন্য  আমাকে  নির্দেশ  দেওয়া  হয়নি। এখন  নফসী, নফসী, নফসী। তোমরা  অন্যের  কাছে যাও, যাও ঈসা [আ]- এর কাছে।


   তখন  তারা  ঈসা [আ]- এর   কাছে   এসে   বলবে- হে ঈসা [আ], আপনি  আল্লাহর  রাসূল এবং কালিমাহ, যা তিনি মার ইয়াম [আ]- এর  উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি তো ‘রূহ’। আপনি দোলনায় থেকে মানুষের  সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ আপনি আমাদের  জন্য  শাফায়াত  করুন। আপনি  কি দেখ ছেন না, আমরা  কিসের  মধ্যে আছি?? তখন ঈসা [আ] বল বেন- আজ আমার রাব  এত রাগান্বিত যে, এর আগে এরূপ রাগান্বিত হন নি  এবং  এর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি  নিজের  কোন‌ও  গুনাহর কথা বলবেন না। শুধু বলতে থাকবেন- নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা  অন্য কারও কাছে যাও, যাও বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সা]- এর কাছে।


   তারা  মুহাম্মাদ [সা]- এর  কাছে   এসে  বলবে- হে মুহাম্মাদ [সা], আপনি   আল্লাহর  তো রাসূল  এবং শেষ নাবী। আল্লাহ আপনার আগের, পরের  সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি  আমাদের   জন্য  আপনার  রাবের  কাছে শাফায়াত করুন। আপনি   কি   দেখছেন  না যে, আমরা  কিসের  মধ্যে আছি?? তখন  আমি  আরাশের  নিচে  এসে  আমার রাবের সামনে সিজদা দিয়ে পড়ব। তারপর  আল্লাহ  তার প্রশংসা ও গুণ-গানের এমন সুন্দর  নিয়ম  আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে অন্য কারও জন্য খোলেন নি। এরপর বলা হবে- হে মুহাম্মাদ [সা], তোমার মাথা উঠাও। আপনি যা চান, এখন আপনাকে দেওয়া হবে। আপনি  শাফায়াত  করুন, আপনার শাফায়াত কাবূল করা হবে।


   এরপর  আমি  আমার মাথা উঠিয়ে বলব- হে আমার রাব, আমার উম্মাত। হে  আমার  রাব, আমার উম্মাত। হে আমার রাব, আমার উম্মাত। তখন বলা হবে- হে মুহাম্মাদ [সা] আপ নার উম্মাতের  মধ্যে  যাদের  কোন‌ও  হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ  করিয়ে দিন। এ  দরজা  ব্যতীত  অন্যদের  সঙ্গে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন- যার হাতে আমার প্রাণ, সে সত্ত্বার কসম। জান্নাতের এক  দরজার   দুই  পার্শ্বের  মধ্যবর্তী  স্থানের  প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামীরের মধ্যবর্তী  দূরত্ব, অথবা মাক্কা ও বস্রার মাঝে দূরত্বের    সমতুল্য"(বুখারী,    কিতাবুত     তাফসীর,    হাদীস 4712)।


   সুধী পাঠক, এটাই  ছিল  শাফায়াত  সম্পর্কে শেষ কাহিনী। এবার বলুন- কি বুঝলেন?? আচ্ছা, এখন  একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে এবং খৃষ্টান মিশনারি‌রা বলতে পারেন- এখনে  নাবী (সা) নিজের  প্রশংসা  নিজে  করেছেন!! কিন্তু বিষয়টি এমন নয়   মোটেও। নাবী  (সা)- এর   শাফায়াতে  বিচার  শুধু  হবে মাত্র। এটা  এ  জন্য  যে, নাবী (সা)- এর  উম্মাত  সংখ্যা  হবে সবচেয়ে  বেশি। এত‌এব  'তার'  অধিকার‌ও হবে বেশি। যাকে আমরা Democracy বা গণতন্ত্র বলে জানি। তাই না??


1:3 মূল আয়াহ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কুরানী বিশ্লেষণ:-

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ●

এই  Formate  এ  উক্ত  আয়াহ‌'টি  পবিত্র  শুধুমাত্র  1 বার‌ই ব‍্যবহৃত হয়েছে। আর  কেন  শুধুমাত্র 1 বার ব‍্যবহৃত হয়েছে, তা  নিশ্চয়ই   বলে  দিতে  হবে  না!! তাই  না?? নাকি  বলতে হবে?? ঠিক  আছে, প্রথমে  আয়াহ'টি দেখুন-"যিনি/ কেননা কর্মফল দিবস তথা  বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক/ প্রভু/ ক্ষমতার   অধিকারী"। এই   আয়াহ'তে    সরা-সরি   যা  বলা হয়েছে, আল্লাহ  সংখ্যা  তাত্ত্বিক ভাবেও সেটা বলেছেন। তাই নয় কি??


   যাইহোক, উক্ত  مَالِكِ  কালিমাহ‌'টি  মনে  হয় এই Formate  পবিত্র কুরআনে 1 বার‌ই মাত্র  ব‍্যবহৃত  হয়েছে। আর  1 বার  কেন ব‍্যবহৃত হয়েছে, তা কি  বলতে হবে?? যদিও বলে রাখা ভালো  যে, সাধারণত  কোনও   কালিমাহ'তে  'যের'  ব‍্যবহার করে কালিমাহ'কে معرفة (মা'রিফাহ) বা  নিদিষ্ট করে দেওয়া হয়। তাই  না?? আর  يَوْمِ  Formate  এ  কালিমাহ'টি পবিত্র কুরআনে   73   বার  ব‍্যবহৃত  হয়েছে। পাঠক, 73  এর  অর্থ বলতে   পারবেন?? হাদীস'টি   দেখুন-"আনাস  ইবনু  মালিক [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ [সা] মদীনা'তে এসে দেখেন  যে, মদীনাহ'বাসীরা  নির্দিষ্ট  2 টি  দিনে  খেলাধুলা ও আনন্দ  করে  থাকে। রাসূলুল্লাহ [সা] জিজ্ঞেস করলেন- এই।2 টি দিন কিসের?? সকলেই  বলল- জাহিলী যুগে আমরা এ 2 টি দিন খেলাধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ [সা] বললেন- মহান আল্লাহ  তোমাদের  এই  2  দিনের  পরিবর্তে  উত্তম 2 টি দিন দান করেছেন। তা  হল- আদ্বহা'র দিন এবং  ফিত্বার এর দিন অর্থাৎ   কুরবানী'র   ঈদ  এবং  সাওম  এর  ঈদ"(আবুদাউদ, কিতাবুস্ব স্বালাত, হাদীস 1134)।


   বুঝতে  পারেন  নি, তাই না?? আসলে ভাই, 73 দিনের সব চেয়ে  ব‍্যাখ‍্যা  হল- ফিত্বার  এর  ঈদ এবং কুরবানী'র ঈদ সহ 

তাশরীক  দিন  পর্যন্ত মোট 73 দিন হয়। এই 73 দিন প্রত‍্যেক মুসলিমের জন্য দারুণ খুশি এবং বিশেষ ইবাদাতের দিন। এ জন্যই আল্লাহ সংখ্যা তত্ত্বের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করে  দিয়েছেন। এখনও  সুবহান‌আল্লাহ বলবেন না?? বলুন বলছি, নয়ত গাছে বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে পেটাব!!


   যাইহোক, يَوْمِ الدِّينِ Format  এ  এই  কালিমা  2 টি পবিত্র কুরআনে  ব‍্যবহৃত  5  বার  মতো, যথা- 1:3,  15:35, 38:78, 70:26,  83:11  আয়াত   এ। এখন  প্রশ্ন  হবে- يَوْمِ الدِّينِ এর অর্থ কি?? অর্থ হল-"কর্মফল দিবস"। আচ্ছা পাঠক, এখনও কি বলে  দিতে  হবে- আমরা 5  ওয়াক্ত  স্বালাত কেন আদায় করি!! হ‍্যাঁ, ঠিকই বুঝেছেন যে- 5 বার উল্লেখিত يَوْمِ الدِّينِ বা "কর্মফল দিবস" এর  ভয়াবহতা  থেকে বাঁচার জন‍্য‌ই আমরা 5 ওয়াক্ত স্বালাত আদায় করি। তাই তো গো, নাকি??


   আচ্ছা  পাঠক, বলতে   পারবেন-  الدِّينِ  Format  এ  উক্ত কালিমাহ'টি পবিত্র কুরআনে  কতবার ব‍্যবহৃত হয়েছে?? 30 বার  মতো, তাই  না?? কিন্তু  এখন  প্রশ্ন হবে- কেন?? প্রথমে দেখে নিন- الدِّينِ এর অর্থ "কর্মফল"। তাই না?? এবার একটু দেখুন- 30= 3+ 0= 3, তাই না?? প্রশ্ন হবে- 3 এর অর্থ কি?? উত্তর  খুব  সহজ  এবং   সেখানে   বলা  হচ্ছে- বিচার দিবসে যাদের বিচার হবে, তারা 3 টি দলে বিভক্ত হবে। এই সম্পর্কে আল্লাহ 56:7  আয়াহ  এবং  তার পরবর্তী আয়াতে বিস্তারিত বলা হয়েছে।


   এখন কেউ হয়ত বলতে পারেন- 73 কে তো 7+ 3 করলেন না!! উত্তর সহজ- করলেও সমস্যা নেই। দেখুন- 73= 7+ 3= 10= 1+ 0= 1, তাই না?? এতে আবার প্রমাণ হল- "আল্লাহ‌ই হলেন বিচার  দিবসের একচ্ছত্র অধিপতি"। সুধীপাঠক, তাই নয় কি??


   আর বাকি থাকল সর্বশেষ প্রশ্ন- বিচার দিবস ও পুনুরুত্থান এর  বৈজ্ঞানিক  ব্যাখ্যা  আছে কি?? অবশ্যই আছে, কেননা হোসেন  কুরানী  আছেন। আর  এর  চেয়ে  আরও  বড়  কথা হল- পবিত্র  কুরআন‌ই  বিজ্ঞানময় (36:2)। প্রশ্ন হবে- তাহলে ক‌ই  বিচার দিবস  ও  পুনুরুত্থানের  বৈজ্ঞানিক  ব্যাখ্যা দিন!! দেব  রে  ভাই, দেব। তবে, সব  কিছু  এখানে‌ই  নেবেন?? 21: 104 এবং 39:67  আয়াতে  পাবেন- ইনশাআল্লাহ। তবে, তত ক্ষণ এটা দেখুন-


وَخَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ  بِالْحَقِّ  وَلِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ●

অনুবাদ হবে এমন-"এবং   আল্লাহ   মহাবিশ্ব‌কে  এমন  ভাবে নিখুঁত বিজ্ঞান দ্বারা  সৃষ্টি  করেছেন, যেন প্রত‍্যেকেই প্রতিদান পায়, যা  সে  অর্জন  করেছে। এবং  তাদের  উপর  অত্যাচার করা  হবে  না"(45:22)। বুঝতে  পারেন  নি, তাই তো?? আর একটু  চেষ্টা  করবেন?? করুন  না, আমরা  আপনাকে Help করছি। দেখুন- اللَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ  يُعِيدُهُ  ثُمَّ  إِلَيْهِ  تُرْجَعُونَ অনু বাদ হবে এমন-"আল্লাহ [মহাবিশ্ব] সৃষ্টির  সূচনা  করেন, তার পর  তিনিই  তার  পুনরাবৃত্তি  করবেন। তারপর  তারই  দিকে তোমাদের  ফিরিয়ে  নেয়া হবে"(30:11)। এখনও যদি বুঝতে না  পারেন,  তাহলে  5-7  বছর  অপেক্ষা  করুন। কেননা 21: 104 ও 39:67 আয়াতে  আমাদের  পৌছানো পযর্ন্ত!! আচ্ছা  চলুন,  আপনাকে  এতটা  অপেক্ষা  করতে  হবে  না। আমরা আপনাকে   আরও   একটু   Help   করি,  হ‍্যাঁ??  কি   বলেন পাঠক?? 45:22 ও  30:11 আয়াত  এর সঙ্গে 42:29 আয়াহ টি দেখুন-


وَمِنْ  آيَاتِهِ  خَلْقُ  السَّمَاوَاتِ  وَالْأَرْضِ  وَمَا بَثَّ فِيهِمَا مِنْ دَابَّةٍ ۚ وَهُوَ عَلَىٰ جَمْعِهِمْ إِذَا يَشَاءُ قَدِيرٌ●

অনুবাদ হবে এমন-"এবং  তার  অন‍্যতম   নিদর্শন   হল  মহা বিশ্বের সৃষ্টি। এবং তাতে তিনি  ছড়িয়ে  দিয়েছেন জীব-জন্তু। এবং তিনি তাদের একত্রিত  করতেও সক্ষম"(42:29)। এখন প্রশ্ন হবে- তিনি  কিভাবে  ছড়িয়ে  দিলেন?? উত্তর খুব সহজ রে  ভাই-  وَالسَّمَاءَ   بَنَيْنَاهَا   بِأَيْدٍ  وَإِنَّا  لَمُوسِعُونَ   অনুবাদ  হবে এমন-"এবং আমরা মহাবিশ্ব‌কে সৃষ্টি করেছি শক্তি [Energy] দ্বারা, ও আমরা‌ই তার সম্প্রসারণ করে চলেছি"(51:47)।


   সম্প্রসারণ  কিভাবে  হচ্ছে?? Dark  energy দ্বারা, যা মহা বিশ্বের 68% মতো। প্রশ্ন হবে-"30:22 আয়াত এ সৃষ্টির পুনরা বৃত্তি করা হবে" বলতে  কি  বোঝানো  হয়েছে?? উত্তর সহজ রে ভাই- Big bang 2  এর  কথা  বলা  হচ্ছে। প্রশ্ন  হবে- Big bang 2 হ‌ওয়ার  জন্য  কি  প্রয়োজন?? উত্তর  সহজ- Dark  energy'র  পরিমাণ  কমতে  হবে। প্রশ্ন  হবে- এটা  হ‌ওয়া কি সম্ভব?? উত্তর সহজ- Big bang 1 এর সময় Dark  energy এর পরিমাণ কম‌ই  ছিল, এ  জন্য  তখন  মহাবিশ্ব  সম্প্রসার ণের  গতি  ছিল  কম। তারপর Matter  ও Anti matter এর পরিমাণ   কমতে   থাকে, Dark  energy'র  পরিমাণ  বাড়তে থাকে এবং মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের গতি‌ও বাড়তে থাকে।


   সুতরাং  Dark  energy  কম  থেকে  বাড়তে  পারে, কোনও এক অজ্ঞাত কারণে। তাহলে সেই  অজ্ঞাত কারণে কমবে না কেন?? প্রশ্ন হবে- "অজ্ঞাত কারণ" বলতে?? উত্তর সহজ রে ভাই- أَلَا  لَهُ  الْخَلْقُ  وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ  اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ  অনুবাদ হবে এমন-"সৃষ্টি তার, তাতে আইন‌ও  তার। আল্লাহ বারাকাত'ময় বা  কল‍্যাণময়, তিনি‌ই  মহাবিশ্ব  সমূহের  প্রতিপালক/  প্রভু/ মালিক"(7:54)। যাইহোক, Dark  energy  কমলেই Matter ও Anti matter বৃদ্ধি পাবে। বৃদ্ধি  পেয়ে  50% অতিক্রম কর লেই মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ  থেমে  যাবে শুরু হবে সংকোচন, এবং  ঘটবে  Big crunch  এর মতো ঘটনা। যা Big bang 2 ঘটাবে। সেটাই তো বলা হয়েছে- 30:11 আয়াত এ।


   আর  সংকোচন হয়ে  Big crunch ঘটলেই 42:29 আয়াত এ বর্ণিত শেষ অংশটা  ঘটে  যাবে। অর্থাৎ সমস্ত সৃষ্টি‌কে এক ত্রিত করা  হয়ে  যাবে। একত্রিত  হয়ে  গেলে, কি  হবে  তা কি আর বলতে হবে?? "বিচার দিবস" রে ভাই। এবার আয়াত 2 টি দেখুন, মনে হয় বোঝার আর কিছু বাকি থাকবে না-


يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَا ۚ إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ●

অনুবাদ হবে এমন-"সে দিন, আমরা মহাবিশ্ব‌কে  এমন ভাবে গুটিয়ে  ফেলব, যেমন  গুটিয়ে  ফেলা  হয়  লিখিত  কাগজ। তারপর  যেভাবে  আমরা  প্রথমবার   সৃষ্টি  বা  Big  bang 1  করেছিলাম, ঠিক  তেমনি  ভাবে  আবার  তার  পুনরাবৃত্তি বা Big bang 2 ঘটাব। এটা একটি প্রতিশ্রুতি, যা আমরা সম্পা দনা করব"(21:104)। এটাও দেখুন-


وَمَا  قَدَرُوا  اللَّهَ  حَقَّ  قَدْرِهِ  وَالْأَرْضُ  جَمِيعًا  قَبْضَتُهُ  يَوْمَ  الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ●

অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ    যতটা    মর্যাদা    সম্পন্ন, তারা আল্লাহ'কে যথাযথ মর্যাদা দেয় নি। কিয়ামাত এর দিন সমস্ত গ্ৰহ [যেখানে  মানুষ  ও  জিনের  মতো জীবন আছে] থাকবে মুঠির মধ্যে বা আয়ত্তে। মহাবিশ্ব সমূহ গুটানো অবস্থায় তার ডান  হাতে  থাকবে। তিনি  পবিত্র, সমস্ত  কিছু‌র ঊর্ধ্বে। তারা যে শিরক করে, তা   হতে"(39:67)। আমাদের মনে হয়- আর কিছু  বলার  বাকি   নেই। ছোট্ট  প্রশ্ন- বিচার  দিবস  কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?? উত্তর  সহজ- সংকোচিত  ভূমি  বা একত্রিত ভূমি  বা  Big  crunch   এর   উপর। সেখানেই   সমস্ত   কিছু একত্রিত  হবে (42:29)। এবং  21:104 ও  39:67 আয়াত এ  Big crunch এর প্রস্তাব  করা  হয়েছে। এই একত্রিত ভূমি বা Big  crunch  এর   Gravitational  force   হবে  অকল্পনীয় তীব্র। যার  প্রভাবে  মানুষের  চেহারা  বিকৃত হয়ে যাবে। আর এই  তথ্য  রয়েছে- سَأُصْلِيهِ سَقَرَ অনুবাদ  হবে  এমন-"তাদের রাখা হবে সাকার এ  বা একত্রিত ভূমি তথা Big crunch এর উপর"(74:26)।  আরও-   وَمَا  أَدْرَاكَ  مَا  سَقَرُ   অনুবাদ   হবে এমন-"আপনি  কি  জানেন   সাকার   কি"(74:27)?? আরও বলা হয়েছে- لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ অনুবাদ  হবে  এমন-"যা আসলে তার [Gravitational force এর  কারণে] রাখেও না, ছাড়েও না"(74:28)। আরও-  لَوَّاحَةٌ  لِلْبَشَرِ   অনুবাদ   হবে  এমন-"যা দেহের   আকৃতি   বিকৃতকারী"(74:29)। আচ্ছা, আর   কিছু মনে হয়- বলার, বোঝানোর প্রয়োজন নেই। বলুন??


                                                    চলতেই থাকবে.................

                                                    প্রকাশ কাল : 09.12.2021

                                                প্রথম সংস্করণ : 29.12.2021


                                © হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...