#সূরাহ _আল_ফাতিহাহ, 4 নং আয়াহ, এবং কুরানী বিশ্লেষণ।

 @সূরাহ  আল-ফাতিহাহ, 4 নং   আয়াহ। বিজ্ঞানের   বিজ্ঞান  আল-কুরআন   এবং   কুরানী   বিশ্লেষণ। অনুবাদে : হোসেন কুরানী।



                          1 নং সূরাহ আল-ফাতিহাহ।

                     (মাক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা 7)


                        বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

অর্থাৎ  আল্লাহর   নামে   (শুরু),   (যিনি)   সীমাহীন/  অসীম দয়ালু এবং সীমাহীন/ অসীম করুণাময়।


4 নং আয়াহ: (কেননা¹, হে  আল্লাহ)  আমরা² শুধু  এবং শুধু মাত্র³  আপনার   ইবাদাত⁴/  উপাসনা  করি⁵। এবং  আমরা⁶ শুধু এবং শুধুমাত্র⁷ আপনার  কাছেই সাহায্য প্রার্থনা⁸ করি⁹।


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 1)

"কেননা" বলতে কি, তা যদি  জানতে চান, তাহলে একটু কষ্ট করে 1:2 আয়াহ'র 1 ও 2 কুরানী বিশ্লেষণ‌'টি দেখে নিন দয়া করে। নয়ত আমাদের'কে আবার অনেক লিখতে হবে। তবুও ছোট্ট করে বলি-"সমস্ত  প্রশংসা  আল্লাহ'র, কেননা তিনি মহা বিশ্ব    সমূহের   প্রতিপালক"(1:1)। "কেননা,  তিনি  সীমাহীন দয়ালু,  সীমাহীন   করুণাময়"(1:2)। "কেননা,   তিনি   বিচার দিবসের  একচ্ছত্র  মালিক"(1:3)। আর   তারপর   এই   2:4 আয়াহ'টি  দেখুন-"(কেননা,  হে  আল্লাহ)  আমরা  শুধু  এবং শুধু মাত্র  আপনার  ইবাদাত/  উপাসনা  করি। এবং  আমরা শুধু এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি"।


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 2)

একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- এখানে نَعْبُدُ (না'বুদু) "আমরা ইবাদাত করি" কেন  আল্লাহ  ব‍্যবহার  করলেন?? উত্তর খুব সহজ রে ভাই, কিন্তু খুব বড় হবে। এ জন্য মনোযোগ দিন- এখানে মূল কালিমাহ'র  পূর্বে  نا  (না)  ব‍্যবহৃত  হয়েছে, যা  কালিমাহ'কে جمع (জাম'য়া) বা  বহুবচনে  পরিণত করে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য এখন  প্রশ্ন- কেন?? তাই তো?? দেখুন- ১) 1:1 আয়াহ' তে  মহাবিশ্ব  সমূহের  কথা  বলা  হচ্ছে, তাই মহাবিশ্ব সমূহের সব বাসিন্দা‌দের (মানব  ও জিন'দের) পক্ষ থেকেও প্রার্থনার প্রস্তাবনা  এবং নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করা   হচ্ছে। তাই  "আমি" না বলে "আমরা" ব‍্যবহার করা হচ্ছে।


   ২) এখানে   রাষ্ট্রবিজ্ঞানের  গুরুত্বপূর্ণ  বক্তব্য  প্রস্তাব  করা হয়েছে। যা   সাধারণত   আমরা  (তাফসীরকারীরা)  Ignore করে চলে যাই। কিন্তু  হোসেন কুরানী এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি Ignore করে  চলে  যেতে  পারি না। যাইহোক, যে সব মুফাস সির Ignore করে  চলে  যান/ গেছেন, তাদের  অবশ্য একটা গুরুত্বপূর্ণ  মজবুরি  ছিল, আর  তা  হল- তারা  বস-বাস কর তেন রাজতন্ত্রে!! ফলে তারা "খালিফা'তন্ত্র/ জন'প্রতিনিধিত্ব" ব‍্যবস্থার পক্ষে কথা বলতে পারেন নি।


   কিন্তু হোসেন  কুরানী  প্রজাতন্ত্র  ও  গণতান্ত্রিক  মহান দেশ ভারতে  বস-বাস  করেন। প্রশ্ন  হবে- ইসলাম  কি  গণতন্ত্র'কে সমর্থন   করে?? উত্তর   সহজ- হ‍্যাঁ। তবে, সম্পূর্ণ  নয়। এখন প্রশ্ন  হবে- এর  মানে  কি?? এর  মানে  হল- ইসলাম  যে রাষ্ট্র ব‍্যবস্থা‌  বা রাষ্ট্র পরিচালন পদ্ধতির  কথা  বলে, তা গণতন্ত্রের চেয়েও   অনেক  কিছু  উন্নত  এবং  নিখুঁত  ব‍্যবস্থা। যার নাম হল- "খালিফাতন্ত্র  বা  জন'প্রতিনিধিত্ব"  ব‍্যবস্থা। অন্য  ভাবে যদি   বলতে   চাই,   তাহলে   বলতে    হবে- আসলে  গণতন্ত্র "খালিফাতন্ত্র বা জন'প্রতিনিধিত্ব" ব‍্যবস্থা‌র 75-80% মাত্র।


   তাই  একজন  মুসলিম  হিসেবে আমরা গণতন্ত্র'কে সমর্থন করতে  বাধ্য। যাইহোক, এ  বিষয়ে  আমরা   পরে   বিস্তারিত আলোচনা  করব- ইনশাআল্লাহ। এবার  আমরা "আমরা"তে ফিরে  আসতে  চাই। কি  বলেন পাঠক?? ৩) পবিত্র কুরআন শুধুমাত্র দীন  বা জীবন ব‍্যবস্থা সম্পর্কিত কিতাব'ই নয়, বরং রাষ্ট্র   পরিচালনা   সম্পর্কিত   কিতাব'ও। যাকে  আমরা  রাষ্ট্র বিজ্ঞানের  ভাষায়  রাষ্ট্র   পরিচালনার  মৌলিক  বিধি  অর্থাৎ "সংবিধান" বলে  থাকি। আর  রাষ্ট্রবিজ্ঞান  অনুযায়ী সংবিধা নের  একটি  প্রস্তাবনা (Preamble) থাকে, যা  সাধারণ শুরু হয়- "আমরা" দিয়ে। উদাহরণের  জন্য  আমাদের মহান দেশ ভারতীয়  সংবিধানের প্রস্তাবনা দেখুন-"WE, THE PEOPLE OF INDIA, having  solemnly  resolved  to  constitute India   into   a   SOVEREIGN   SOCIALIST   SECULAR DEMOCRATIC  REPUBLIC  and  to  secure  to  all its citizens:  JUSTICE, social,  economic  and  political; LIBERTY  of  thought,  expression,  belief,  faith and worship;  EQUALITY  of  status  and of  opportunity;

and  to   promote   among   them   all   FRATERNITY assuring the dignity of  the  individual and the unity and  integrity  of the Nation; IN OUR CONSTITUENT ASSEMBLY  this   twenty-sixth   day   of   November, 1949, do   HEREBY  ADOPT, ENACT  AND  GIVE  TO OURSELVES THIS CONSTITUTION"। कुछ समझो??


   ৪) সাধারণত  আমরা  ভাবি- আমি+   আমরা+  পরিবার+ সমাজ= দেশ। কিন্তু  পবিত্র   কুরআন  "আমরা"  থেকে  শুরু করে  "আমি"  তে  শেষ  করেছে। "আমি" একা  কখনও সুস্থ্য সমাজ গঠন করে শান্তি পাব  না। কিন্তু "আমরা" সুস্থ্য সমাজ করে  শান্তি  পেতে  পারি। তাই  না?? এ জন্য পবিত্র কুরআন "আমরা" দ্বারা সূরাহ ফাতিহাহ শুরু করে "আমি" দ্বারা সূরাহ না'স এ প্রার্থনা প্রস্তাব করেছে। এখন  খুব  ছোট করে বললে যা  হবে, তা   হল- "আমি"র   শান্তির  জন্য  "আমরা"র  শান্তি প্রয়োজন। একটু  ভিন্ন  ভাবে  বললে  হবে- "আমি"র  অস্তিত্ব "আমরা"র জন্য। তাই না??


   ৫) সর্বদা  "আমরা"র  গুরুত্ব  "আমি"র চেয়ে অনেক বেশি। এ জন্য हिंदी (হিন্দি), English সহ একাধিক ভাষায়  "আমি" কে প্রকাশ করার জন্য "আমরা" ব‍্যবহার করা হয়। এ জন্য‌ই हिंदी (হিন্দি) তে हम (হাম) বা "আমরা" শব্দ ব‍্যবহার করা হয় নিজেকে  বা  "আমি"কে  প্রকাশ   করার   জন্য। এক‌ই  ভাবে English  এও  নিজেকে  বা  "আমি"কে  প্রকাশ করার "We" ব‍্যবহার  করা  হয়, যাকে  আমরা "Royal We" বা "রাজকীয় "আমরা" বলে  জানি। যা মূলত বহুবচন নয়, একবচন‌'ই। যা পবিত্র  কুরআনে  আল্লাহ  নিজেও   নিজেকে  প্রকাশ  করার জন্য (نَحْنُ বা "আমরা") ব‍্যবহার  করেছেন। চলুন আপনাকে একটা আয়াহ  দেখাই- إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ অনু বাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই আমরা এই  স্মরণিকা  বা  উপদেশ [পবিত্র কুরআন] নাযিল  করেছি, এবং  আমরা'ই  তার হিফা জ্বাত'কারী"(15:9)। পবিত্র   কুরআনে   আল্লাহ  نَحْنُ (নাহনু) দ্বারা   বহু   আয়া'তে   নিজেকে   প্রকাশ   করেছেন। তেমন'ই আবার نا  (না)  দ্বারা  নিজেকে  "আমরা"  বলে  প্রকাশ  করে ছেন। যা   15:9   আয়াহ'তেও   ব‍্যবহৃত  হয়েছে, দেখুন- نَزَّلْنَا (নাযযাল'না) বা "আমরা নাযিল করেছি"। এ ছাড়াও দেখতে পারেন- إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي  لَيْلَةِ الْقَدْرِ অনুবাদ  হবে  এমন-"নিশ্চয়ই আমরা  নাযিল  করেছি  তা [পবিত্র কুরআন'কে]  মহিমান্বিত রাতে"(97:1)। অনেকেই  বা  হিন্দু ভাই'রা  এই  আয়া'ত সমূহ দেখিয়ে  আল্লাহ' র  বহুশ্বেরবাদ  প্রমাণ   করতে  চেষ্টা  করে। খৃষ্টান'রা ত্রিত্ব'বাদ প্রমাণ করার চেষ্টা  করে। মূর্খ ও মুনাফিক গোছের  ভন্ড  পীর'রা   এবং   তাদের  মুরিদ'রা  বা  মুরগী'রা (মজা করলাম) আল্লাহ'র দ্বিত্ববাদ [আল্লাহ ও মুহাম্মাদ (সা)- কে  মিলিয়ে  ত্রিত্ববাদ Type  এর  কিছু]  প্রমাণ  করার  চেষ্টা করে। 


   আর এটা শুধুমাত্র আরবি ভাষা ও ব‍্যাকারণ সম্পর্কে অজ্ঞ তার  ফল। কেননা, এটা   শুধুমাত্র   পবিত্র   কুরআনে‌ই  নয়, আরবি    সাহিত্যের   পুস্তক   গুলোতেও   রচয়িতা   নিজেকে প্রকাশ  করার  জন্য  نَحْنُ  (নাহনু)  বা  আমরা  এবং  نا  (না) দ্বারাও নিজেকে "আমরা"  বলে প্রকাশ করেছেন। বা সাহিত্য দ্বারা  চরিত্র  প্রকাশ  করিয়েছেন। যাইহোক, ইসলাম  বিদ্বেষ সম্পন্ন  ব‍্যক্তিগণ  আবার   এটাকে   নিয়ে   পবিত্র   কুরআনে আল্লাহ'র বক্তব্য'কে সাংঘর্ষিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। সুতরাং  এ  বিষয়ে‌ও  ছোট  করে  একটু  বলতে  চাইব। তারা বলেন- আল্লাহ  পবিত্র  কুরআন  এ  নিজেকে  أَنَا  (আনা) বা "আমি" বলে (20:14) প্রকাশ করেছেন। আবার نَحْنُ (নাহনু) বা "আমরা" বলেও  প্রকাশ  করেছেন!! এর পর বলেন- এটা কি  পরস্পর  বিরোধী  তথ্য  নয়?? তারপর   বলেন- আল্লাহ এক, না কি একাধিক!!


   আর  মুনাফিক  গোছের  মুসলিম  গুলো  বলেন- তাই তো, এটা পরস্পর  বিরোধী তথ্য!! অথচ আল্লাহ পবিত্র কুরআন এ   দাবি   করেছেন- পবিত্র   কুরআন   এ  কোনও  পরস্পর বিরোধী তথ্য নেই। আর  যদি  থাকে, তাহলে পবিত্র কুরআন আল্লাহ'র  নাযিল  করা  নয় (4:82)। তারপর  তারা  এ রকম বলেন- আল্লাহ‌ও   নেই,  মুহাম্মাদ  (সা)-ও  মিথ্যা  নাবী  এবং ইসলাম জঘন্য একটা ধর্ম। আসলে  সমস্ত  ধর্ম মিথ্যা!! কিন্তু এখানে  লক্ষ‍্যণীয়  যে, তারা  গোপনে  হিন্দু ধর্ম এবং খৃষ্ট ধর্ম পালন  করে, তার  প্রচার‌ও  করে। যদিও পরে এমন‌টা শোনা যায় যে, তাদের  ইসলাম  ত‍্যাগ  ও  নাস্তিক  হ‌ওয়ার অভিনয় এবং গোপনে  হিন্দু ধর্ম  এবং খৃষ্ট ধর্ম পালন ও প্রচার করার জন্য কিছু  টাকা  অথবা  শহরে  একটা  ঘর  বা  Flat অথবা সুন্দরী একটা মহিলা‌র সঙ্গে বিবাহের সুযোগ পেয়েছে!! তাই নয় কি পাঠক??


   এবার উত্তর দিই?? দেখুন- إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا  أَنَا  فَاعْبُدْنِي অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয়ই  আমি  আল্লাহ, কোনও উপাস্য নেই  আমি  ছাড়া। সুতরাং  আমার  ইবাদাত করো"(20:14)। এই  আয়াহ  তো?? এ ছাড়াও  আরও  বেশ  কিছু আয়াত এ আল্লাহ  নিজেকে  أَنَا (আনা)  বা  "আমি"  বলে  প্রকাশ  করে ছেন। এখন প্রশ্ন  হবে- "আমি"  এবং  "আমরা"  কি  পরস্পর বিরোধী?? উত্তর সহজ- হ‍্যাঁ, পরস্পর বিরোধী। তাহলে 4:82 আয়াহ মিথ্যা?? আর 1 টা  আয়াহ  মিথ্যা মানে সমগ্র পবিত্র কুরআন'ই মিথ্যা। তাই না?? তাহলে কি হবে?? কিচ্ছু হবে না রে  ভাই, হোসেন  কুরানী বেঁচে আছেন?? এবং এখনও 120 বছর আছেন- ইনশায়াআল্লাহ।


   এখন হয়ত  কেউ-কেউ বলতে পারেন- Dialogue না মেরে উত্তর দিন কুরানী সাহেব। কি উত্তর দেব বলুন তো, উত্তর যে খুব সহজ। আর এত  সহজ  প্রশ্নের উত্তর দিতে ভালো লাগে না। যান, উত্তর  দেব  না!! আচ্ছা  আচ্ছা, ঠিক আছে। উত্তর দিচ্ছি দাঁড়ান, দেখুন- বাংলা  ব‍্যাকারণ অনুযায়ী এটা সত্যিই পরস্পর   বিরোধী   তথ্য। এখানে   খুশির   খবর  হল- পবিত্র কুরআন  বাংলা  ব‍্যাকারণ  অনুযায়ী   নাযিল   হয়   নি। তাই বাংলা  ব‍্যাকারণ  দ্বারা  পবিত্র কুরআন'কে বিচার করা মানে হল- আপনি  1  টা  গন্ড  মূর্খ। প্রশ্ন হবে- তাহলে কোন ভাষার ব‍্যাকারণ দ্বারা  পবিত্র  কুরআন'কে  বিচার  করব?? আরবি ব‍্যাকারণ দ্বারা  রে  ভাই, তাও কুরাঈশ গোত্রের আরবি ভাষা ও ব‍্যাকারণ দ্বারা। এ  ছাড়াও  কুরাঈশ  আরবি  ভাষার 1 টা বিশেষত্ব হল- নতুন কালিমাহ/ শব্দ  তৈরি হয়। তাই  কুরাঈশ আরবি ভাষা দ্বারাও  পবিত্র  কুরআন'কে  বিচার  করা উচিৎ নয়। কেননা, আজ থেকে 1500 বছর পূর্বে‌র কুরাঈশ ভাষার ব‍্যবহার করা হয়েছে পবিত্র কুরআনে। তাই পবিত্র কুরআন'ই আরবি  ভাষার  মৌলিক  ব‍্যাকারণের   কিতাব। তাই 'আবুল আসাদ দুইয়েলী' (র) পবিত্র কুরআন  থেকেই নাহু প্রণয়ন বা কালিমা  গঠন  (বাক্য গঠন)  নিয়ম-নীতি তৈরি করেছেন, যা আলী (রা)- এর শাসনের সময়ে তৈরি হয়।


   তাই যেহেতু পবিত্র কুরআন'ই আরবি ব‍্যাকারণের মৌলিক কিতাব এবং  আরবি ব‍্যাকারণ  কুরআন থেকেই এসেছে, সে হেতু বর্তমান ব‍্যাকারণ ভুল  হতে পারে, কুরআন নয়। কেননা ব‍্যাকারণ থেকে  পবিত্র  কুরআন  নয়, পবিত্র কুরআন থেকে ব‍্যাকারণ। অর্থাৎ 1 থেকে 9 হল মৌলিক সংখ্যা, মানে  সমস্ত সংখ্যা‌র  মূল। তখন  যে  কোনও সংখ্যা‌য় ভুল থাকতে পারে। কিন্তু 1-9  ভুল থাকতে  পারে না। কেননা 1-9  সব  কিছু, সব কিছু থেকে 1-9 নয়, তাই না??


   দ্বিতীয়ত, যদি  আপনি  हिंदी  (হিন্দি)  ভাষার   ব‍্যাকারণের দিকে তাকান, তাহলে দেখতে  পাবেন- हिंदी (হিন্দি) তে নিজে কে मैं (ম‍্যায়) বা  "আমি"  এবং   हम (হাম) বা "আমরা" (কিন্তু তা  আসলে  আমি) বলেও  প্রকাশ  করা   হয়।  मैं  (ম‍্যায়) বা "আমি"র চেয়ে हम (হাম)   বা "আমি" বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও हम (হাম) এর সাধারণ অর্থ "আমরা" হয়ে থাকে। কিন্তু তবুও কোনও  ব‍্যক্তি   নিজেকে   এক‌ই   সঙ্গে   हिंदी  (হিন্দি)  তে  मैं (ম‍্যায়) বা "আমি" এবং  हम (হাম) বা  "আমি"  বলেও প্রকাশ করা হয় এবং তা মোটেও  পরস্পর বিরোধী নয়। বরং নিয়ম এটা যে, যখন  নিজেকে  সত্ত্বা  কেন্দ্রিক  দেখাতে চায়, তখন हिंदी (হিন্দি) তে  मैं (ম‍্যায়) বা "আমি" বলে  প্রকাশ করে এবং যখন  নিজেকে   প্রভাবশালী   এবং   প্রতিপত্তির   অধিকারী দেখাতে  চায়, তখন  हिंदी  (হিন্দি) তে  নিজেকে हम (হাম) বা "আমরা" (যা আসলে  আমি) বলেও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এবার  দেখুন, নিজেকে   हम  (হাম)  বা  আমরা  বলে প্রকাশ করার  একটা  উদাহরণ, যদিও  তা  কিশোর  কুমারের  हिंदी  (হিন্দি) গান, কখনও হোসেন কুরানী  হানী'র  জন্য গাইতেন। যা আজ শুধুমাত্র কষ্টদায়ক স্মৃতি। যাইহোক দেখুন-


हमें तुमसे प्यार कितना,

ये हम नहीं जानते,

मगर जी नहीं सकते तुम्हारे बिना।

हमें तुमसे प्यार कितना,

ये हम नहीं जानते,

मगर जी नहीं सकते तुम्हारे बिना।

हमें तुमसे प्यार!!


   এবার मैं  (ম‍্যায়) বা "আমি"র এবং हम (হাম) বা "আমরা"র একটা সুন্দর উদাহরণ দেখুন- मैं  खुद  जाउंगा, ओर जाकर हम देखेंगे वास्तव  में  क्या  हुआ था!! অর্থ- আমি নিজে  যাব, এবং আমরা (মানে  আমি) গিয়ে  দেখব  যে, আসলে কি হয়েছে!! পাঠক, আর বোঝার কিছু বাকি আছে??


   আচ্ছা, একটু বলে রাখা  ভালো  হবে যে, হোসেন কুরানী‌ও নিজেকে  সর্বদা  "আমরা"  বলেই  প্রকাশ  করে থাকেন, তার উদাহরণ  হল- এই  কুরানী  বিশ্লেষণ। এবং  এও  বলে  রাখা ভালো  যে, হোসেন  কুরানী   যখন  একেবারে  নিজ  সত্ত্বা বা ব‍্যক্তি  কেন্দ্রিক  কথা  বলেন, শুধু  তখনই  নিজেকে  "আমি" বলে প্রকাশ  করেন। যেমন- আমি  হোসেন  কুরানী  হানী'কে অনেক  ভালোবাসি। আরও  বলা  যায়- আমরা হানী'র জন্য সর্বদা তৎপর। তাই না??


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 3)

প্রশ্ন হবে- "শুধু  এবং  শুধুমাত্র" বলতে আসলে কি বোঝানো হয়েছে?? উত্তর  খুব   সহজ- এর মানে হল  "আল্লাহ'র  সঙ্গে কোনও  কিছুর  নয়, আল্লাহ  ছাড়া  আর  কিছু নয়, ইবাদাত শুধু  এবং  শুধুমাত্র   আল্লাহ'র"। এখন  প্রশ্ন  হবে- এর  মানে কি?? আল্লাহ  বলেছেন- وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ  وَالْإِنْسَ  إِلَّا  لِيَعْبُدُونِ অনুবাদ হবে এমন-"এবং  শুধু  আমার  ইবাদাত  করা  ছাড়া অন্য কোনও উদ্দেশ্যে  আমি মানব  এবং জিন'কে সৃষ্টি করে নি"(51:56)। সুতরাং  মানব  ও  জিন'কে  সৃষ্টি‌ই  করা হয়েছে শুধু  এবং  শুধুমাত্র  আল্লাহ'র  আল্লাহর  ইবাদতের জন্য। এ এখানে  বলা  হচ্ছে-"আমরা  শুধু  এবং   শুধুমাত্র   আপনার ইবাদাত  করি"(1:4)। আর  শুধুমাত্র  আমরা  এটা'ই  ঘোষণা করি, এমনটা    নয়। এটাও   ঘোষণা   করি- وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا অনুবাদ হবে এমন-"এবং  আমরা তার সঙ্গে কোনও কিছুকে শরিক  করি  না"(3:64)। প্রশ্ন  হবে- আমরা  কেন  তার  সঙ্গে কোনও  কিছু‌কে  শরিক  করি  না?? উত্তর সহজ- لَا شَرِيكَ لَهُ অনুবাদ হবে এমন-"তার  কোনও  শরিক নেই"(6:163)। যদি তার   কোনও   শরিক   না'ই, তাহলে   কিভাবে   তার   শরিক করব?? এখন  প্রশ্ন  হবে- তার   কোনও   শরিক  নেই, এটার বৈজ্ঞানিক   ব্যাখ্যা   আছে?? উত্তর  সহজ- অবশ্যই  আছে। কিন্তু  এখানে  আলোচনা   করা   অপ্রাসঙ্গিক। আমরা  অন্য কোথাও  এ   বিষয়ে    বিস্তারিত    আলোচনা   করব, চিন্তার প্রয়োজন নেই- ইনশায়া'আল্লাহ।


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 4)

ইবাদাত বলতে মোটেও শুধুমাত্র  স্বালাত আদায়  বা  স্বিয়াম পালন  করা  নয়, বরং  আল্লাহ'র সমস্ত আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন-যাপন করাই হল- আল্লাহর ইবাদাত। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে- শুধুমাত্র  আল্লাহর   আল্লাহর   আল্লাহ'র‌ই  আদেশ নিষেধ  মেনে  চলাই আল্লাহ'র ইবাদাত?? মুহাম্মাদ (সা)- এর আদেশ  নিষেধ  মেনে   চলা   কি  তাহলে  মুহাম্মাদ (সা)- এর ইবাদাত?? উত্তর সহজ রে ভাই- أَطِيعُوا اللَّهَ  وَأَطِيعُوا  الرَّسُولَ অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  অনুসরণ  করো আল্লাহর এবং রাসুল এর"(4:59)। মুহাম্মাদ (সা)- কে অনুসরণ করতে হবে, এটা  আল্লাহ'র‌ই  নির্দেশ  রে  ভাই। ঠিক  আছে, তবে  আরও দেখুন- مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ অনুবাদ  হবে এমন-"যে রাসুল  এর  অনুসরণ  করে, সে  মূলত  আল্লাহ'র‌ই অনুসরণ করল"(4:80)। এর মানে  হল- মুহাম্মাদ (সা)- আদেশ-নিষেধ মেনে  চললে, পক্ষান্তরে  আল্লাহ'র‌ই   আদেশ-নিষেধ‌ই  মেনে চলা হয় এবং তা আল্লাহ'র‌ই ইবাদাত। समझो??


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 5)

"ইবাদাত করি"- এটা  আবার   আলাদা   করে   বলতে  হচ্ছে

 কেন?? উত্তর সহজ- যেহেতু "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ'র, যিনি  মহাবিশ্ব সমূহের রাব/ প্রতিপালক/ মালিক"। "যিনি সীমাহীন দয়ালু, সীমাহীন করুণাময়"। "যিনি বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক"(1:1-3)। সেহেতু এটা  ঘোষণা করতে  হচ্ছে-"আমরা শুধুমাত্র  আপনার‌ই  ইবাদাত  করি, এবং  শুধুমাত্র আপনার কাছেই   সাহায্য   প্রার্থনা   করি"(1:4)। মানে- যিনি   মহাবিশ্ব সমূহের   প্রতিপালক, তার    ইবাদাত   করি। যিনি   সীমাহীন দয়ালু  এবং  সীমাহীন  করুণাময়, তার  ইবাদাত  করি। যিনি বিচার দিবসের  একচ্ছত্র মালিক, তার ইবাদাত করি। এবার বলুন- বুঝতে পেরেছেন??


   আরও একটা প্রশ্ন- কেন  আল্লাহর  ইবাদাত  করি?? উত্তর সহজ- কারণ, তিনি   মহাবিশ্ব   সমূহের   রাব/ মালিক   তথা প্রতিপালক। তার সঙ্গে সঙ্গে আমারও। তিনি সীমাহীন দয়ালু এবং  সীমাহীন   করুণাময়। তিনি  বিচার  দিবসের  একচ্ছত্র  মালিক (1:1-3)। এ  ছাড়াও   একাধিক   উত্তর  আছে, সূরাহ ফাতিহাহ'তে  3  টি  উত্তর  আছে, সেই  3  টি  উত্তর‌ই এখানে আমরা উল্লেখ করলাম।


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 6)

"আমরা" বলতে কি- তা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি 1:4  আয়াহ'র‌ই  2  নং  কুরানী  বিশ্লেষণে। সুতরাং একটু কষ্ট করে   তা  একবার  দেখে  নিন। নয়ত   আমাদের‌কে  আবার লিখতে  হবে। এবং  তাতে  কুরানী  বিশ্লেষণের  আকার  বৃদ্ধি পাবে!! তাই না??


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 7)

প্রশ্ন হবে- "শুধু এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই" বলতে কি??   উত্তর সহজ- 1:4 আয়াহ'র  3  নং  কুরানী  বিশ্লেষণটা  দেখে নিন ভাই। নয়ত  আমাদের‌কে  আবার  লিখতে  হবে। সুতরাং একটু কষ্ট করে  নিন  ভাই। তবে, এই আয়াহ 2 টি আপনাকে দেখাই, দেখুন- وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ  مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ অনু বাদ হবে এমন-"আল্লাহ'কে  বাদ  দিয়ে  কাউকে ডাকবেন না বা কার‌ও কাছে প্রার্থনা করবেন না। যে আপনার না উপকার করতে পারে, আর না  অপকার  বা  ক্ষতি"(10:106)। এটাও দেখুন- فَلَا  تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ  অনুবাদ  হবে  এমন-"এত‌এব আপনি আল্লাহর  সঙ্গে  অন্য  কোনও  ইলাহা'কে/ উপাস্যকে ডাকবেন  না"(26:213)। সেটার‌ই   Practice  করানো  হচ্ছে 1:4  আয়াহ'তে। দ্বিতীয়‌ত, এই    জন্যই    পরের    আয়াহ'তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে- হে আল্লাহ, "আমাদের‌কে সহজ-সরল পথ দেখান"(1:5)।


   আমরা এখানেই  কুরানী  বিশ্লেষণটা  শেষ  করে দিতে পার তাম। কিন্তু এই  সম্পর্কিত  কয়েকটি  প্রশ্নের  উত্তর দিতে চাই ছি। এখন  প্রশ্ন হবে- কেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও ইলাহা' কে ডাকতে আল্লাহ  নিষেধ  করেছেন?? এ প্রশ্নের উত্তর তো খুব   সহজ, দেখুন- لَا  إِلَٰهَ  إِلَّا  اللَّهُ  অনুবাদ   হবে  এমন-"নেই কোনও ইলাহা/ উপাস্য আল্লাহ ছাড়া"(37:35, 47:19)। যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও ইলাহা না'ই থাকে, তাহলে তাদের ডেকে লাভ কি?? এ  জন্য  আল্লাহ  তাকে  ছাড়া অন্য ইলাহা কে ডাকতে নিষেধ করেছেন। বুঝলেন??


   এ ছাড়াও  আল্লাহ  এ  জন্য‌ও  আল্লাহ  ছাড়া অন্য কাউকে ডাকতে  নিষেধ  করেছেন- ادْعُونِي  أَسْتَجِبْ لَكُمْ অনুবাদ  হবে এমন-"তোমরা  আমাকে  ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব"(40:60)। অর্থাৎ  আল্লাহ'কে  ডাকলে  তিনি  সাড়া দেন, কিন্তু  অন্য ইলাহা  কিয়ামাত  পর্যন্ত সাড়া দেবেন না। আয়াহ টি দেখুন- وَاتَّخَذُوا  مِنْ  دُونِهِ  آلِهَةً  لَا يَخْلُقُونَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ অনুবাদ   হবে   এমন-"তারা   তাকে  [আল্লাহ'কে]  বাদ  দিয়ে এমন  ইলাহা/  উপাস্য   গ্ৰহণ   করেছে, যারা   কোনও   সৃষ্টি করতে পারে না। বরং তারা  নিজেরাই সৃষ্ট"(25:3 ও 16:29)। আরও বলা  হয়েছে- وَلَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا অনুবাদ হবে এমন-"এবং তারা [ইলাহা বা  উপাস্য‌রা] নিজেদের জন্য ক্ষতি এবং উপকারের  ক্ষমতা রাখে না"(25:3)। আরও বলা হয়েছে-


وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ●

অনুবাদ হবে এমন-"এবং তার  অধিক  বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে ডাকে  আল্লাহ'কে  বাদ দিয়ে এমন কোনও সত্ত্বাকে ডাকে যে, কিয়ামাত দিন  তাদের  ডাকে সাড়া দেবে না। এবং তাদের  প্রার্থনা  সম্পর্কে তারা [ইলাহা'রা] জানেই না"(46:5)। যখন তারা সাড়া  দিতেই  অক্ষম, তখন  তাদের ডেকেই লাভ টা কি!! তাই না?? যাইহোক, এখন  প্রশ্ন হবে- তাদের প্রার্থনা সম্পর্কে মিথ্যা  ইলাহা'রা  জানে  না  কেন?? উত্তর খুব সহজ রে  ভাই, দেখুন- أَمْوَاتٌ  غَيْرُ  أَحْيَاءٍ ۖ وَمَا  يَشْعُرُونَ  أَيَّانَ  يُبْعَثُونَ অনুবাদ হবে  এমন-"[হয়ত]  তারা  মৃত, [নয়ত]  তারা  জীবন হীন। [যদি  এই  2  গুণে  ভূষিত  না  হয়, তাহলে] তারা পুনরু ত্থান সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না"(16:21)।


   এ  বিষয়ে  শেষ  আয়াহ- إِنَّكَ  لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَىٰ  অনুবাদ  হবে এমন-"আপনি মৃতদের ডাক শোনাতে পারবেন না"(27:80 ও 30:52)। এ বিষয়ে শেষ প্রশ্ন- পীর  এর কাছে প্রার্থনা বা পীর এর মাধ্যমে আল্লাহ'র কাছে বা যে কোনও মাধ্যমে আল্লাহ'র কাছে প্রার্থনা করা সম্পর্কে পবিত্র  কুরআন  কি বলে?? ঠিক আছে পাঠক, ছোট্ট  করে  উত্তর   দিয়ে  দিই?? আয়াত 2 টি দেখুন- إِنَّكَ  لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَىٰ  অনুবাদ  হবে  এমন-"আপনি মৃত দের ডাক  শোনাতে  পারবেন  না"(27:80 ও 30:52)। আরও দেখুন- وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ অনুবাদ হবে এমন-"এবং তাদের‌কে আপনি আপনার ডাক শোনাতে পারবেন না, যারা আছে  কবরের  ভিতরে"(35:22)। পাঠক, আর  কিছু বলতে হবে, না কি বুঝে গেছেন?? আরও একটা আয়াহ আপনাকে দেখাতে চাইছি, দেখতে চান?? নিন-


وَالَّذِينَ  اتَّخَذُوا  مِنْ  دُونِهِ  أَوْلِيَاءَ   مَا   نَعْبُدُهُمْ   إِلَّا   لِيُقَرِّبُونَا   إِلَى اللَّهِ●

অনুবাদ হবে এমন-"এবং যারা তাকে [আল্লাহ'কে] বাদ দিয়ে আউলিয়া/ অভিভাবক  গ্ৰহণ  করেছে, তারা   বলে- আমরা এদের ইবাদাত এ  জন্য  করি/ এদের  কাছে  এ জন্য প্রার্থনা করি, যেন    এরা    আমাদের‌কে    আল্লাহ'র    কাছে   পৌঁছে দেয়"(39:3)। সুতরাং  আল্লাহ'র  কাছে  প্রার্থনা  করার  জন্য মাধ্যম গ্ৰহণ করা “শিরক”। এখানে কেউ কেউ বলতে পারেন যে- "ইবাদাত বা  উপাসনা"  অনুবাদের  স্থানে  "প্রার্থনা"  অনু বাদ করেছেন কেন?? উত্তর‌টা  মুহাম্মাদ (সা)  দিয়েছেন, এই নিন-  إِنَّ   الدُّعَاءَ   هُوَ   الْعِبَادَةُ  অনুবাদ   হবে   এমন-"নিশ্চয়ই দুয়া‌'আ হল ইবাদাত"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুদ দুয়া‌'আ, হাদীস 3828)।


   এখন প্রশ্ন হবে- ওয়াসীলাহ  সম্পর্কে  কিছু  বললেন  যে?? উত্তর   সহজ- ওয়াসীলাহ   শব্দের   অর্থ‌ই  হল “মাধ্যম”। এই সম্পর্কে‌ই    আলোচনা    করলাম। এখন   প্রশ্ন   হল- জীবিত কোনও  মানুষ  দ্বারা  নিজের প্রার্থনা করানো সম্পর্কে পবিত্র কুরআন  কি  বলে?? উত্তর  সহজ- পবিত্র কুরআন কি বলে, তা আর  আলাদা  করে  বলছি না। তবে এই আয়াহ'টি দেখে নিন, বুঝে যাবেন-


خُذْ  مِنْ  أَمْوَالِهِمْ  صَدَقَةً  تُطَهِّرُهُمْ  وَتُزَكِّيهِمْ  بِهَا   وَصَلِّ  عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ●

অনুবাদ হবে এমন-"আপনি  গ্ৰহণ  করুন তাদের থেকে [দীন প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য] সাদাকাহ। এবং  তা দ্বারা তাদেরকে পবিত্র করুন  এবং  পরিশুদ্ধ  করুন। তাদের জন্য স্বালাত বা দুয়া'আ করুন। নিশ্চয়ই আপনার স্বালাত বা দুয়া'আ তাদের জন্য  প্রশান্তি"(9:103)। কাছা-কাছি  ধরণের  বক্তব্য রয়েছে 47:19 আয়াহ'তে।


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 8)

প্রশ্ন হবে- তাহলে  যে  আমরা  বিভিন্ন মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থনা   করি, সেটার   কি   হবে?? যেমন- কোনও   মানুষের থেকে হয়ত টাকা ধার  করে  থাকি  ইত্যাদি। উত্তর খুব সহজ রে ভাই- এখানে এই  ধরণের  সাহায্য প্রার্থনা‌র কথা বলা হয় নি রে ভাই। এখানে  যে  ধরণের  সাহায্য  প্রার্থনা‌র  কথা বলা হয়েছে, তা 1:5-7 আয়াত এ  বা  পরের  3 টি আয়াত এ বলা হয়েছে!! যদিও ঐ  3  টি  আয়াত  এ  বর্ণিত  প্রার্থনা  ছাড়াও আল্লাহ'র কাছে যে  কোনও  প্রার্থনা  করা যায়। এখন একটা প্রশ্ন হবে- আল্লাহ'র কাছে  প্রার্থনা করব কখন, এর জন্য কি নিদিষ্ট কোনও সময় আছে?? উত্তর সহজ- না, কোনও সময় নেই। যখন প্রয়োজন, তখনই প্রার্থনা করা যায়। এবং আয়াহ দেখুন- أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ  অনুবাদ  হবে  এমন-"যখন কেউ আমাকে ডাকে, তখনই আমি তার ডাকে সাড়া দিই"(2: 186)। এখন  প্রশ্ন  হবে- আল্লাহর  কাছে প্রার্থনা করলেই কি কাবুল করবেন, এমন  কোনও Guarantee আছে?? 100% Guarantee   আছে।  দেখুন-  ادْعُونِي  أَسْتَجِبْ  لَكُمْ  অনুবাদ  হবে এমন-"তোমরা   আমাকে  ডাক, আমি  তোমাদের ডাকে সাড়া দেব"(40:60)।


1:4 আয়াহ, কুরানী বিশ্লেষণ 9)

প্রশ্ন হবে- "করি" বলতে  কি?? উত্তর  সহজ- সাহায্য  প্রার্থনা করি রে  ভাই। প্রশ্ন  হবে- এটা  আলাদা  করে  আবার বলতে হচ্ছে  কেন?? কারণ, আল্লাহ'র  কাছে   প্রার্থনা   না   করলে, তিনি  অসন্তুষ্ট   হন।  কারণ- إِنَّ   الدُّعَاءَ   هُوَ   الْعِبَادَةُ  অনুবাদ   হবে   এমন-"নিশ্চয়ই   দুয়া‌'আ  হল  ইবাদাত"(ইবনু  মাজাহ, কিতাবুদ  দুয়া‌'আ,  হাদীস 3828)। সুতরাং   আল্লাহর  কাছে প্রার্থনা  না  করা, আল্লাহর ইবাদাত না করা। বুঝলেন?? প্রশ্ন আল্লাহর  কাছে  প্রার্থনা  না  করলে, তিনি  অসন্তুষ্ট  হন, এটা কোথায়  পেলেন  কুরানী  সাহেব?? ঠিক  আছে, তবে দেখেই নিন কোথায় পেয়েছি- مَنْ لَمْ يَدْعُ اللَّهَ سُبْحَانَهُ  غَضِبَ عَلَيْهِ অনু বাদ হবে এমন-"যে  আল্লাহর  কাছে  দুয়া'আ  করে  না, তার আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন"(ইবনে মাজাহ, কিতাবুদ দুয়া'আ, হাদীস 2827)। পাঠক, এ জন্যেই বলতে হচ্ছে- "করি"।


1:4 মূল আয়াহ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কুরানী বিশ্লেষণ:-

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ●

এই আয়াহ  পবিত্র  কুরআনে  শুধুমাত্র  1 বার‌ই ব‍্যবহৃত হয়ে ছে। আচ্ছা, কেন বলুন তো?? উত্তর সহজ- প্রস্তাবনা কোনও কিতাবে মাত্র 1 বার‌ই  হয়ে  থাকে। তাই না?? এখানে অবাক করা  ব‍্যাপার   হল- إِيَّاكَ  نَعْبُدُ  (আমরা     শুধুমাত্র   আপনার ইবাদাত  করি) কালিমা  2  টিও  একত্রে পবিত্র কুরআন এ 1 বার‌ই  ব‍্যবহৃত  হয়েছে। বলুন  তো-   কেন?? কারণ-  আমরা শুধুমাত্র  1  আল্লাহ'র‌ই  ইবাদাত  করি। তাই  না?? আর‌ও  1 টি   অবাক   করা   ব‍্যাপার   কি  জানেন?? এই وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (এবং  শুধুমাত্র   আপনার‌   কাছেই   সাহায্য   প্রার্থনা   করি) কালিমা  3  টিই  পবিত্র  কুরআন  এ  মাত্র  1   বার   ব‍্যবহৃত হয়েছে।  এবার  বলুন  তো- কেন?? কারণ- আমরা  শুধুমাত্র 1 আল্লাহ'র‌ই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তাই না?


                                                    চলতেই থাকবে.................

                                                    প্রকাশ কাল : 29.12.2021


                                © হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...