নামাজ(অজানা দৃষ্টি)/ NAMAJ(AJANAYA DRISTI)

                 নামাজ (অজানা দৃষ্টি)

           হোসেন কুরানী।

   NAMAJ (AJANAYA DRISTI)

            HOSSEN QURANI.

------------------------------------------------

ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া।মুদ্রিয় অফিস:- বায়তুল হিকমা ভবন, লক্ষণপুর, হুগলি 712 404

প্রকাশক:-

ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া

প্রথম প্রকাশ:- মার্চ 2017

 মুদ্রন :

আর্ট এন্ড ইমেজ,6

 অরবিন্দ সরণি, কলিকাতা 700 006

গ্রুফ রির্ডার:-সাহেনারা খাতুন ।

☆:লেখক 

মতামত ও ত্রুটি পাঠাবার ঠিকানা:-

গ্রাম+ পোস্ট:- লক্ষণপুর (দক্ষিণ), বাদাম তলা, জেলা:- হুগলি 712 404

(বায়তুল হিকমা ভবন)

মূল্য:- 35 টাকা মাত্র।

          লেখক 

বইটি নামাজের বই, নামাজ শিক্ষার বই নয়। বর্তমান বাজারে নামাজ শিক্ষার বই এর অভাব নেই। কিন্তু নামাজ কি? নামাজ কেন পড়া উচিত? নামাজ "পাঁচ ওয়াক্ত" কেন? এই ধরনের বইয়ের অভাব প্রচুর। এ বই হয়তো সেই অভাব পূরণ করবে।


 এছাড়াও এই বইটি লেখার দ্বিতীয় কারণ হল- বহুদিন ধরেই আমাদের সংস্থার সদস্য বা সদস্যরা নামাজ সম্পর্কিত বই লেখার অনুরোধ করছিল। সেই কথা মাথায় রেখেই এই বইটি লেখার সিদ্ধান্ত নিই। আশা করব--- পাঠক পাঠকগন নামাজের অজানা বিষয় গুলোর স্বাদ পাবেন।

পরিশেষে বলবো তাদের কথা যারা আমাকে এ বইটি লেখার প্রেরণা যুগিয়েছিল। তারা হলেন আমার মাতৃসম দুই বোন ও লক্ষ লক্ষ অনুরাগী বৃন্দ। তাদের প্রত্যেকের জন্য রইল দোয়া ও ভালোবাসা।

□《বলে রাখি-  বইটিতে রয়েছে অজানা গবেষনাকৃত তথ্য ও তত্ব।

তবে উক্ত গবেষণাই শেষ বা একমাত্র নয়।

● আরো বলি-- ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন যোগ্য। জানাবেন।

● আরো বলি-- শিরক ও কুফর হইতে আল্লাহর আশ্রয় চাই।

● আরো বলি-- বইটি "গবেষণাপত্র" নাম পাওয়ার উপযুক্ত।》》

  

          ---ইসলাম সেবক 

                     হোসেন কুরানী। লক্ষণপুর, হুগলি, ওয়েস্ট বেঙ্গল, ভারত।

          ☆ ঘোষণা ☆

   এই বইয়ের লভ্যাংশ আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য ব্যয়িত হবে।

আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল " ইসলামিক ইউম্যান হসপিটাল" যেখানে মহিলাদের সমস্ত চিকিৎসা, মহিলা ডাক্তার দ্বারা হবে।   

          লেখক:- ☆হোসেন কুরানী।

             □ কালিমা □

"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ান্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" অর্থ:- নেই কোন উপাস্য, আল্লাহ ছাড়া- এবং- মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম) আল্লাহর রসূল ।

  এটা "কালেমায়ে তাইয়্যেব" আরো অন্যান্য কালেমা রয়েছে।

      □ ইমান বা বিশ্বাস □

ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস। যে ব্যক্তি মুখে কালেমা পাঠ করে অন্তরে বিশ্বাস করে তাকে বলে বিশ্বাসী বা ইমানওয়ালা বা মমিন। বুখারী শরীফের ৮ নং হাদিস অনুযায়ী--  "ইমানের শাখা ৬০ এর কিছু বেশি।"


《《 বলে রাখি-- আমাদের সমাজে 'ইমানদার' অর্থ ধরা হয়- সৎ, সৎব্যক্তি, ভালো মানুষ। কিন্তু ইসলামী পরিভাষায় 'ইমানদার' কথার অর্থ হল-- 'কালেমায়ে অটুট বিশ্বাস এবং ঈমানের ৬০ টি শাখাতেও রয়েছে দখল।'

     ●আরো বলি--  যিনি কালেমায় বিশ্বাস তিনি সৎ হবেনই।》》

       ☆ মুমিন ও মুসলিম ☆

মুমিন বা বিশ্বাসী এবং মুসলিম শব্দ দুটি ভিন্ন। দুটি শব্দের অর্থও ভিন্ন। দুটি শব্দের অর্থের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। কিন্তু অধিকাংশ সময়ে আমরা ভুল ধারনার বশবর্তী হয়ে মনে করি--- 'যেহেতু আমি কালেমা পড়েছি সেহেতু আমি মুসলিম।'


         সুধী পাঠক, কোরআনের একটি মাত্র আয়াত উদ্ধৃতি করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেই মূল্যবান আয়াত হলো---  "বিশ্বাসীরা; তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না"(৩:১০২)। এই আয়াত হতে এটা স্পষ্ট যে, বিশ্বাসী এবং মুসলিম এক নয়। কারণ, উক্ত আয়াতে বিশ্বাসিদের, মুমিনদের, ইমানওয়ালাদের মুসলিম হতে বলা হয়েছে।


☆ কালিমার দুটি অংশ ☆

কালেমার বঙ্গানুবাদ পূর্বেই দেখেছেন, তবুও দ্বিতীয়বার পেশ করার প্রয়োজন মনে করছি--- ' নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ছাড়া, এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল।' সুধী পাঠক, এবার কালেমাকে সহজ করে ফেলা যাক।


                     ১) শিরক বিহীন আল্লাহ্

ইমান বা বিশ্বাস>

          ২) মোহাম্মদ(সা:) আল্লাহর দূত

       ☆ কালেমার গভীরে ☆

ধরা হয়ে যাক,  কালেমার ব্যবহার হয়েছে আরবি বর্ণমালার ২৪ টি অক্ষর। এখানে ২৪ টি অক্ষরের ব্যাখ্যায় এইযে, ২৪ টি অক্ষর ২৪ ঘন্টার প্রতীক। এই ব্যাখ্যাকে সহজে বুঝবেন এভাবে: আমার বা আপনার জীবনের প্রতি ২৪ ঘন্টা বা প্রতিদিন কাটবে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী এবং মহাম্মদ (সা:) এর নির্দেশ অনুযায়ী এবং মহাম্মদ (সা:) এর পন্থা অনুযায়ী।

এটা বিশ্বাস করার নাম ইমান, মেনে নিয়ে পালন করার নাম--- ইবাদত।

কোরআন ও হাদীসের প্রতিটা নির্দেশ এক- একটি ইবাদত। তারই একটা হল নামাজ।' তবে, নামাজ অন্যান্য ইবাদত এর মত নয়, বরং নামাজ হলো উপহার বিশেষ ইবাদত।'

   ☆ নামাজ বিশেষ ইবাদত কেন? ☆

অন্যান্য বহু নির্দেশের  মতোই নামাজের নির্দেশও কোরআন দ্বারা প্রস্তাবিত হয়েছে। তবে, নামাজের নির্দেশ অন্যান্য নির্দেশের মত শুধুমাত্র কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রস্তাবিত হয়নি।

 দয়াময় আল্লাহ নামাজের নির্দেশ দেওয়ার জন্য এক বিশেষ পন্থা অবলম্বন করেছিলেন--- যাকে আমরা "মিরাজ যাত্রা" বলে জানি।

সুধী পাঠক, আপনারা হয়তো জানেন যে, বার্তাবাহক ফেরেশতা (মালাইকা বা দেবদূত) হলেন জিব্রাইল (আ:)। কোরআনের বাহকও হলেন জিব্রাইল (আ:)। কিন্তু নামাজের নির্দেশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

     নামাজের নির্দেশ নাবী (সা:) কে দেওয়া হয়েছে সরাসরি, কোন মাধ্যম ছাড়া। "পাঁচ ওয়াক্ত" নামাজের নির্দেশের মত সরাসরি নির্দেশ কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে হয়নি। এমনকি রমজানের রোজা, যাকাত, হজ্বের নির্দেশও 'ওহি' বা মাধ্যম দ্বারা পবিত্র কুরআনে এসেছে।

এই সমস্ত কারণেই হয়তো নামাজ বিশেষ এবাদতের মধ্যে গণ্য হয়।

☆ নামাজ কি শুধু কোরানের আদেশ☆

ভাবলে অবাক হতে হয় যে, নামাজের নির্দেশ কোরআন ছাড়াও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে দেখা যায়। যেমন ইহুদি ধর্ম ও খ্রিস্টান ধর্ম ইত্যাদি।

 •ইহুদীদের ধর্ম গ্রন্থে বলা হয়েছে-- " আব্রাহাম নামাজ পড়িলেন ( বাইবেল, জেনেসিস--17:3)। 

ইহুদি ধর্ম গ্রন্থ ছাড়াও বাইবেলের আরো তিনটি স্থানে নামাজের উল্লেখ রয়েছে। যেমন, বুক অফ যেশুয়াতে বলা হয়েছে  "যেশুয়া নামাজ পড়িলেন এবং প্রার্থনা করিলেন" (5:14)।

বুক অফ ডানিয়েলে বলা হয়েছে-- "ভবিষ্যবাদী ডানিয়েল দিনে তিনবার জেরুজালেমের (মসজিদে আকসার) দিকে মুখ করে নামাজ পড়িত (10:6)।

ভাবলে অবাক হবেন এটা জেনে যে, যীশুখ্রীষ্ট নিজেও নামাজ পড়তেন। 'গোস্পেল অফ ম্যাথউ' তে বলা হয়েছে-- " তিনি কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং নামাজ পড়লেন ও প্রার্থনা করলেন (26:39)।

সুধী পাঠক, এখানে যতগুলো উদ্ধৃতি দিয়েছি সবগুলো ইংরেজি বাইবেল থেকে । বাংলা বাইবেলে 'নামাজ' কথাটা গোপন করে অনুবাদ করা হয়েছে---" উবুড় হইয়া পড়িয়া প্রার্থনা করিলেন।" অথচ ইংরেজি বাইবেলে বলা হয়েছে -- He Went Little Farther And Fell On His Face" (Matthew- 26:39)। অন্যত্রে বলা হয়েছে--"Joshua Fell On His Face To The Earth And Worshiped (Joshua- 5:14)।

উপরি-উক্ত ইংরেজি উদৃতি গুলোতে পরিষ্কারভাবে বলা হচ্ছে- "উবুর হয়ে পড়ে মাটিতে মাথা ঠেকালেন।" এটাকে কি বলবেন? নামাজে না তো কি?

☆ নামাজের প্রকাশিত অক্ষর ও নাম ☆

সুপ্রিয় পাঠক, আপনি কোন ব্যক্তি কে নামাজ পড়তে দেখেছেন কি? যদি না দেখেন থাকেন তাহলে আজই 'নামাজ পরছে' এমন ব্যক্তির বাঁদিকে গিয়ে দাঁড়ান এবং লক্ষ্য করুন। 

নামাজে দাঁড়ানো আরবি 'আলিফ' অক্ষর বহন করছে।

রুকু আরবি 'লাম' অক্ষর বহন করছে। 

সেজদার সময় পিঠ, রুকু ও হাঁটু আরবি 'হা' অক্ষর বহন করছে।

পাঠকগণ, লক্ষণীয় বিষয় হল-- "আলিফ, লাম, হা" এই অক্ষরগুলোর সমম্বয়ে তৈরি হয় আরবি 'আল্লাহ' শব্দ।

প্রিয় পাঠক, এবার 'নামাজ পরছে' এমন ব্যক্তির সেজদা অবস্থানটিকে ডানদিক হতে লক্ষ্য করুন। দেখতে পাবেন মাথা ও গলা আরবি 'মিম' অক্ষর বহন করছে।

 পিঠ ও হাত আরবি 'হা' অক্ষর বহন করছে ।

কোমর ও উরু আরবী 'মিম' অক্ষর বহন করছে।

পরিশেষে উরু, হাত ও পা আরবি অক্ষর 'দাল' বহন করছে।

পাঠকগণ, লক্ষণীয় বিষয় হল--'মিম, হা, মিম, দাল' অক্ষরগুলির সমম্বয়ে তৈরি হয় আরবি 'মহাম্মদ' শব্দটি।

☆ নামাজ কি? ☆

 ইতিপূর্বে কালেমার গভীরে প্রবেশ করে দেখেছি যে, কালেমায়ে রয়েছে দুটি নাম-- 'আল্লাহ  ও মহাম্মদ (সা:),

আর রয়েছে দুটি সাক্ষী-- "শিরিক বিহীন এক আল্লাহ ও মহাম্মদ (সা:) আল্লাহর প্রেরিত দূত।"

একইভাবে নামাজের মধ্যে ফুটে উঠেছে দুটি নাম-- আল্লাহ ও মুহাম্মদ (সা:)।

এখন প্রশ্ন হলো-- তাহলে কালেমা ও নামাজের মধ্যে কি সম্পর্ক? তাহলে নামাজ কি কালেমার বাহিক প্রকাশক? তাহলে কি নামাজ কালেমার ইঙ্গিত যুক্ত সাক্ষী?

নামাজ কি? প্রশ্নের উত্তর নিজেই ভাবুন।

☆ হাত, পা, পীঠ ও কোমর দ্বারা আল্লাহু ও মহাম্মদ (সা:) নামের ইঙ্গিত কেন?☆

সুধী পাঠক,  এ প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে বিচার দিবসের দৃশ্য বর্ণনা করতে হবে।

বিচার দিবসে আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক কে জিজ্ঞাসা করবেন,-- "তোমরা কি আল্লাহ ও  রসূলের আনুগত্য এবং অনুসরণ করেছিলে?"

তখন শাস্তির ভয়ে অনেকেই মিথ্যে বলবে-- "হ্যাঁ, আমি আল্লাহ ও মুহাম্মদ (সা:) এর অনুসরণ করে ছিলাম।"

তখন তাদের মিথ্যার কারণে আল্লাহ তাদের মুখ বন্ধ করে দিবেন এবং তাদের হাত, পা সাক্ষী দিবে। সূরা ইয়াসিনের ৬৫ নং আয়াতে এমনই তথ্য এসেছে। 

এজন্যই হয়তো নামাজের মধ্যে হাত-পা-মাথা- পিঠ ও কোমর দ্বারা  (আল্লাহ্ ও মহাম্মদ (সা:) নামের সাক্ষীর ব্যবস্থা রয়েছে। যাতে করে সেদিন প্রকৃত কালেমায়  বিশ্বাসী ও প্রকৃত নামাজিরা সাক্ষী দিতে পারে।

    ☆ বিচার দিবসে "নামাজের ব্যবস্থা" প্রথম কেন? ☆

যিনি কালেমায় বিশ্বাসী নন তিনি তো অবিশ্বাসী বা কাফির।

আর কাফিরের স্থান  হলো জাহান্নাম।

কাফির সেদিন হয়তো মুখে বলবেন যে,  আমি কালেমায়ে বিশ্বাসী ছিলাম, কিন্তু তার হাত-পা সাক্ষী দিতে পারবে না। কারণ হাত, পা, মাথা, পিঠ, কোমর কখনো আল্লাহ ও মহাম্মদ (সা:) নামের সাক্ষী দেয় নি।

অন্যদিকে মুমিন-মুসলিম কালেমায়ে বিশ্বাসী এবং তাদের হাত-পা সাক্ষী দিতে পারবে।

সুতরাং নামাজের বিচারের ফলেই কাফির ও মুমিন মুসলিম সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।

বুখারী শরীফে বলা হয়েছে-- "যার মনে সরিষা পরিমাণ ইমান আছে তিনি দোযখের শাস্তি ভোগ করার পরে জান্নাতে প্রবেশ করবে (কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং- ২১)।"

  ☆ নাবি (সা:) এর সাথে কালেমার সম্পর্ক ☆

পাঠকগণ, পূর্বেই অবগত হয়েছি যে, মহাম্মদ  (সা:) এর নামে ব্যবহার হয়েছে আরবি চার-টি অক্ষর যথা মিম, হা, মিম, দাল । অন্যদিকে কালেমায়ে ব্যবহার হয়েছে ২৪ টি অক্ষর।

এখানে অবাক করা ব্যাপার হল আরবি বর্ণমালা ২৪ নং অক্ষর হলো 'মীম'। এবং মহাম্মদ (সা:) এর নামের প্রথম  অক্ষর 'মিম'।

এ থেকেই অনুমেয় নাবী  (সা:) ও কালেমার সম্পর্ক।

☆ নামাজ পশ্চিমমুখে কেন? ☆

এ প্রশ্নের জানা উত্তর অনেক। যেমন, -- পশ্চিম দিকে কিবলা, কোরআনে বলা হয়েছে, ইত্যাদি। কিন্তু এ বইয়ে জানা উত্তরের কোন স্থান নেই। থাকবে এমন উত্তর যা অজানা।

পাঠকগণ, নামাজের প্রধান উদ্দেশ্য গুলি একটা হল-- সমাজ থেকে  বৈষম্য ও বিভেদ দূর করে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব বোধ প্রতিষ্ঠা করা। সত্যি বলতে প্রতিটা মুসলিম যদি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে তাহলে নামাজের এই প্রধান উদ্দেশ্য টি আঞ্চলিক ভাবে হলেও বাস্তব রুপ ধারণ করবে।

    《《 বলে রাখি-- জামাতে নামাজ পড়লে বাড়িতে নামাজ পড়ার চেয়ে ২৫ বা ২৭ গুণ নেকি  বেশি হয়। ( বুখারী শরীফ, কিতাবুল আজান, হাদীস নং-- ৬০৯, ৬১১ ও মুসলিম শরিফ, হাদীস নং-- ১৩৪৭)》》

কিন্তু ইসলাম আঞ্চলিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধে সন্তুষ্ট নয়, ইসলাম বিশ্বসাম্য ও  বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধে বিশ্বাসী। সেই জন্যই ইসলামী ব্যবস্থাপনায় জায়গা পেয়েছে-- 'হজ্ব'।

হজ্ব বা বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ আনুষ্ঠিত হয় মক্কার কাবা বা তৎসংলগ্ন এলাকায় যা-- ভারতের পশ্চিমে অবস্থীত। এখন কাবাকে কিবলা ( সম্মুখ দিক) করার অর্থ হলো, নামাজ পশ্চিমমুখী করার অর্থ হলো--- নামাজের মাধ্যমেই স্থানীয় সাম্য ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে বিশ্ব সাম্য ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব বোধের আহ্বান। এককথায়, নামাজের মাধ্যমে দেওয়া হয় 'হজ্বের  ডাক।'

☆ প্রতি রাকাতে সেজদা দুটো, রুকু একটা কেন? ☆

 পাঠকগণ, ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি 'সেজদা' সরাসরি 'মহাম্মদ' নামের অক্ষর গুলির প্রতিফলন ঘটায় এবং 'রুকু' আরবি 'লাম' অক্ষর বহন করে।

আর 'লাম' হল আরবি 'আল্লাহ' শব্দে কেন্দ্রীয় অক্ষর। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে রুকু আল্লাহ শব্দের বহনকারী।

তাহলে প্রশ্ন হল--রুকু একটা সেজদা দুটো কেন? এই প্রশ্নের বোধগম্য যুক্ত উত্তর হল-- নামাজে রুকু আগে সেজদা পরে। ইসলামী জীবন যাপনের ক্ষেত্রেও তাই, আল্লাহর বাণী পবিত্র কোরআন আগে, হাদিস তারপর।

 এখন একটা বিষয় পরিষ্কার হলেও, অন্য প্রশ্নটি থেকে গেল। তা হল, রুকু একটা, সেজদা দুটো কেন?  

এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হল-- ইসলামী জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আল্লাহর বাণী পবিত্র কোরআন যতটা মেনে চলতে হয়, হাদিস তার দ্বিগুণ মেনে চলতে হয়।

উদাহরণস্বরূপ কোরআনে নামাজ পড়তে বলা হয়েছে কিন্তু কিভাবে পড়তে হবে তার জন্য হাদিস মেনে চলতে হবে অনেক বেশি।

দ্বিতীয়তঃ  কোরআনের সূরা ইমরানের ৯৬, ৯৭ নং আয়াতের 'হজ্ব' করতে বলা হয়েছে। কিন্তু কিভাবে হজ্ব করতে হবে খানিকটা কোরআনে বলা থাকলেও, বেশিরভাগ হাদিসের ওপর নির্ভরশীল।

   《《বলে রাখি:--- অনেকেই বলে কোরআন মানবো, হাদিস মানবো না---  এই উত্তরটি তাদের উপরের ঘাটবে।》》

  ☆  নামাজে তাশাহুদ বা আত্তাহিয়াতুর সময় আঙ্গুল তুলতে হয় কেন? ☆

পাঠকগণ, আত্তায়াতু হলো বিরাট সাক্ষী। সাক্ষী সর্বদা আংগুল  তুলেই দিতে হয়। দেখবেন, আমাদের সমাজে একটি কথার প্রচলন রয়েছে যে---  "কেউ আঙ্গুল না তুলে কথাই বলতে পারে না।"

এর অর্থ অভিযোগ বা সাক্ষী দেওয়ার জন্য আংগুল তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই আত্তাহিয়াতু'তে যখন পড়া হয় " আশশাহিদু আল্লাহ........... মোহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।" তখন শাহাদাত আঙ্গুল বা তর্জনী আঙ্গুল তুলতে হয়।

উপরি-উক্ত আরবি উদ্ধৃতির বঙ্গানুবাদ হল--- " আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,মোহাম্মদ  (সা:) 

আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।"

এখন বুঝেছেন, কেন আঙুল তুলতে হয়।

《• বলে রাখি--- শাহাদাত আঙ্গুল/ তর্জনী আঙুল তোলার দ্বিতীয় কারণ হলো---'নার্ভাস সিস্টেমের' দিক থেকে এ আঙ্গুলই হল সবচেয়ে বেশি সচেতন। তৃতীয়তঃ আত্তাহিয়াতু'র মধ্যে এই আঙ্গুল তোলা যত সহজ, অন্য আঙ্গুল তোলা ততটাই কঠিন।》》


☆ নামাজ পাঁচ  ওয়াক্ত কেন?  ☆

নামাজ 'পাঁচ  ওয়াক্ত' কিভাবে হল--  তা অনেকেরই জানা। কিন্তু নামাজ 'পাঁচ  ওয়াক্ত' কেন---  এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই হয়তো অজানা। আর অজানাতে দৃষ্টিপাত করাই হল এই পুস্তকের ট্যাগলাইন ।

সুধী পাঠক, এবার চলুন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজিঃ-

পাঠকগণ, যদি ভালোভাবে লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখতে পাবেন যে, ইসলামে ও আমাদের জীবনে পাঁচ  এর প্রাধান্য দেখতে পাওয়া যায়, সেগুলো হলো---- 

১).ইসলাম পাঁচ টি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে, যথা-- কালিমা- নামায-রোযা হজ্ব-যাকাত।

২). মোট কালেমা ৫টি, যথা-- কলেমা তাইয়েব, কালেমা শাহাদাত, কালেমা তাওহীদ, কালেমা তামজীদ, কালেমা রদ্দে কুফর।

৩). কালেমার শব্দ সংখ্যা ৫টি যথা---লা, ইলাহা, ইল্লাল্লাহু, ওয়াআন্না- মুহাম্মাদুর, রাসুলুল্লাহ।

৪). পবিত্র কোরআনে মুহাম্মদ (সা:) এর পবিত্র নামটি উচ্চারিত হয়েছে মোট ৫ বার।

৫). কোরআনের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াত সংখ্যা ৫ টি যথা-- সূরা আলাক প্রথম ৫ আয়াত।

৬). কোরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত বাক্য সংখ্যাও পাঁচটি, যথা-- সূরা ময়দার ৩ নং আয়াতের শেষটুকু।


৭). পবিত্র কোরআনে পাঁচটি এমন সূরা আছে যারা আয়াত সংখ্যা ৫ টি যথাঃ-- সূরা কদর, সূরা ফীল, সূরা ইখলাছ, সূরা লাহাব, সূরা ফালাক ।

《《 বলে রাখি-- বেশিরভাগ পন্ডিত মনে করেন সূরা ইখলাসের চারটে আয়াত আছে। তবে কেউ কেউ মনে করেন ইখলাসে পাঁচটি আয়াত আছে। আমরা ব্যাখ্যার সুবিধার্থে শেষ মন্তব্যটিই গ্রহণ করলাম।》》

৮). পবিত্র কোরআনে 'সিজদা' বা 'বিশেষ সম্মান যুক্ত' আয়াতের সংখ্যা ১৫ টি (১৫÷3=৫)।

《《বলে রাখি--  কোরআনের সিজদা কয়টি তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন কোরআনের সেজদা সংখ্যা ১৪ টি। কেউ মনে করেন ১৫ টি। আমরা ব্যাখ্যার সুবিধার্থে শেষ মন্তব্যটি গ্রহণ করলাম।》》

৯). পবিত্র কোরআনে রয়েছে ৩০ টি  পারা বা খন্ড  যা ৫ দ্বারা বিভাজ্য(৩০÷৬=৫)

১০). ইসলাম অনুযায়ী জান্নাত-জাহান্নামের সংখ্যা মোট ১৫ টি, যা ৫ দ্বারা বিভাজ্য(১৫÷৩=৫)।

১১). আরবি বর্ণমালায় স্বরবর্ণ-- ৩টি, ব্যঞ্জনবর্ণ ২৫ টি, যা ৫ দ্বারা বিভাজ্য(২৫÷৬=৫)।

১২).আকৃতির দিক হতে দেখলে আরবি হরফ বা অক্ষর গুলিকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়।

১৩).ইসলাম অনুযায়ী মানুষের জীবন পাঁচ ভাগে বিভক্ত, যথা-- গর্ব জীবন, পৃথিবী জীবন, কবরের জীবন, পুনরুত্থান বা বিচার জীবন, অনন্ত জীবন (জান্নাত ও জাহান্নাম)।

১৪).মানুষের প্রধান অঙ্গ পাঁচটি, যথা-- ব্রেন, হার্ট, কিডনি, লিভার, ফুসফুস।

১৫).মানুষের শরীর হতে পাঁচটি অঙ্গ বেরিয়েছে, যথা-- দুই হাত, দুই পা ও মাথা।

  ১৬).মানুষের ইন্দ্রিয়ের সংখ্যা ৫ টি, চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, ত্বক।

১৭).এছাড়াও লক্ষণীয় হলো মানুষের হাত- পায়ের আংগুল পাঁচটি করে।

১৮).পবিত্র কুরআনে ৫ নং সূরা মায়েদার আয়াত সংখ্যা ১২০ টি, যা ৫ দ্বারা বিভাজ্য (১২০÷২৪=৫)।

সুধী পাঠক, এখানে শেষ নয়। ইসলামী ২৪ সংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, ধরা হয়ে থাকে যে, কালেমায়ে ২৪ টি অক্ষর এর সম্বন্ধে গঠিত। তবে চমকে ওঠার পালা এখনো শেষ হয়নি। মানুষ দিনে নিঃশ্বাস প্রশ্বাস নেয় ২৪ হাজার বার ।

১৯) . নামাজের ইস্টেপ বা ধাপ  পাঁচটি, যথা-- দাঁড়ানো, রুকু, সিজদা, বসা, সালাম ফেরানো।

সুধী পাঠ, এগুলি হয়তো কারণ নামাজ 'পাঁচ ওয়াক্ত' হওয়ার।

☆ প্রভুর সঙ্গে আলাপের মাধ্যম হলো--  নামাজ☆

আল্লাহ কোথায়? কোরআনে আল্লাহ ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে নিজের অবস্থানের কথা বলেছেন।

যেমন 'সূরা কাফ'এর ১৬ নং আয়াতে বলেছেন-- "তিনি 'ঘাড়' এর শীরার থেকেও নিকটে অবস্থান করেন"।

সূরা বাকারার ১৮৬ নং আয়াতে বলেছেন যে-- "আমি মানুষের নিকটেই  আছি"।

আবার অন্যত্রে আল্লাহ্ বলেছেন -- "তিনি আরশের প্রভু" (২০:৫)। অর্থাৎ তিনি আরশের অবস্থান করেন।

উপরিউক্ত আয়াত গুলির  ব্যাখ্যা আমারই লেখা 'আল্লাহ্' নামক পুস্তকে করা হবে( যা শীঘ্রই হাতে পাবেন)।

যাইহোক, এটা সত্য যে, নামাজ রত অবস্থায় আল্লাহ নামাজের সামনে অবস্থান করেন। বুখারী শরীফের, 'মাওয়াকিতুস সালাত' অধ্যায়ের --৫০০ ও ৫০১ নং হাদীসে বলা হয়েছে--

আনাস (রা:) মোহাম্মদ  (সা:) হতে বর্ণনা-- "নামাজ'রত অবস্থায় সামনে থুথু ফেলবে না। কারণ, মানুষ তার নিজ প্রভুর সাথে আলাপ করে।" 

অর্থাৎ  আল্লাহ্ তখন মানুষের সামনে অবস্থান করেন।

প্রিয় পাঠক, এখন আপনাকে একটা প্রশ্ন করব।  প্রশ্ন টি হল-- আপনি কি চান না আপনার প্রভুর সাথে আলাপ করতে? তাহলে নামায থেকে দূরে কেন ?

☆দোয়া কবুলের শর্ত হলো নামাজ☆

বহু ব্যক্তি কে বলতে শুনেছি-- 'আল্লাহকে কত করে বলছি, তবুও আমার দোয়া কবুল হচ্ছে না।' পাঠকগণ, আপনি নিজেও হয়তো এই ধরনের কথা কখনো বলেছেন--- মনে করে দেখুন! ভাই, দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ ও দোয়া কবুল হওয়ার পদ্ধতি টা জানতে হবে। তাহলে সহজেই দোয়া কবুল হবে-- ইনশাআল্লাহ।

এবার শুনুন, আপনার বিষয়ে কি বলেছেন-- "হে বিশ্বাসীরা! সাহায্য প্রার্থনা কর নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে।"(বাকারা ২:১৫৩)।

এই আয়াত থেকে এটা স্পষ্ট যে, নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে, তবেই দোয়া কবুল হবে। তা ছাড়া অন্যত্রে আল্লাহ বলেছেন--- "ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। তবে, এই পদ্ধতি বিনয়ী লোক ছাড়া অন্যদের নিকট অত্যন্ত কঠিন" (সূরা বাকারা: ৪৫)। 

এই বিষয়টি আল্লাহ আরও পরিষ্কার করে বলেছেন--" আমি তো নিকটেই রয়েছি। আমি সারা দিই, (নামাজ রত অবস্থায়) প্রার্থনাকারীর প্রার্থনায়" (সূরা বাকারা ১৮৬ নং আয়াত)।

《《 বলে রাখি--দোয়া কবুলের অন্যান্য শর্তও রয়েছে। যত কটা শর্ত আছে তার মধ্যে প্রধান-- নামাজ।》》

☆গুনাহ মাফের মাধ্যম হলো--নামাজ☆

বুখারী শরীফে বলা হয়েছে--"তোমাদের কাহারো বাড়ির দরজায় যদি একটি নদী থাকে আর কোন ব্যক্তি উহাতে দৈনিক পাঁচবার স্নান করে তবে কি তাহার শরীরে কোন ময়লা থাকিবে?

জবাবে সকলেই বলিল-- না, তাহার শরীরে কোনরুপ ময়লা থাকিবে না। তখন নাবী (সা:) বলিলেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ব্যাপারটি তেমনই। ইহার দ্বারা আল্লাহ গুনাহসমূহ মিটাইয়া দেন" (হাদীস নং-- ৪৯৭)।

উপরিউক্ত হাদীসটি আবু হুরায়রা (রা:) নাবী  (সা:) থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও সূরা হুদের ১১৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে-- "নিশ্চয়ই নামাজ গুহাকে ধ্বংস করে।"

☆ জানাজার নামাজের আজান হয় না কেন?☆

প্রশ্নটি শুনে কঠিন মনে হলেও, উত্তর খুবই সহজ। উত্তর হল--- সন্তান জন্মানোর পর সন্তানকে সামনে রেখে 'আযান দিতে হয়-- এটা জানা আছে তো? এই আজানই হলো জানাজার নামাজের আজান। অর্থাৎ জন্মানোর পর আযান, মৃত্যুর পর নামাজ। কি অবাক করা ব্যাপার তাইনা?

এখন প্রশ্ন হল-- এমনটা হল কেন যে, জন্মানোর পর আজান, মৃত্যুর পর নামাজ? এবং আজান ও নামাজের ৫০, ৬০,৭০ মধ্যে বছরের গ্যাপ কেন? সাধারণভাবে আজান ও নামাজের মধ্যে গ্যাপ  থাকে ৫,১০,১৫,২০,২৫ মিনিট-তাই না?

 সুধী পাঠক, এ প্রশ্নের উত্তরও খুব সহজ। আমরা পৃথিবীতে হয়তো ৫০,৬০,৭০,৮০ বছর বাঁচি। কিন্তু এটা আমাদের হিসাব।যা নির্ণয় হয় পৃথিবীর আয়তন ও ঘূর্ণনের উপর।

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আমার এই লেখা 'সৃষ্টি' নামক পুস্তকে (যা হয়তো বছরখানেক এরমধ্যে হাতে পাবেন) যাইহোক, পৃথিবীতে মৃত্যু রয়েছে-- এ কারণেই ৭০,৮০ বছর বিশাল সময় মনে হচ্ছে।

 কিন্তু পরপারে মৃত্যু নেই তাই সেখানে ৭০,৮০ বছর টাকে মনে হবে ২০,২৫ মিনিট অথবা একদিন বা একদিনের কিছু অংশ। এমন তথ্যই উঠে এসেছে সূরা মুমিনুনের-- ১১৪ নং আয়াতে।

সুতরাং সাধারণ আজান ও নামাজের মধ্যে যেমন ২০,২৫ মিনিট গ্যাপ থাকে, ঠিক তেমনি জন্মকালের আযান ও মৃত্যু কালের জানাজার নামাজের মধ্যে ২০,২৫ মিনিটই গ্যাপ থাকে--  যা শুধুমাত্র পৃথিবীর হিসাবে ৬০,৭০,৮০ বছর মনে হয় ।

★ নামাজে সুরা ফাতিহা পড়া বাধ্যতামূলক কেন?☆

অনেকেই হয়তো বলেন, 'নাবী  (সা:) নামাজের মাধ্যে সূরা ফাতিহা পরতে বলেছেন।' হ্যাঁ, এটা সত্যি যে, নাবী  (সা:) বলেছেন-- "যে ব্যক্তি নামাজের মাধ্যে সূরা ফাতিহা পরিল না, তাহার নামাজই হইল না (বুখারি শরিফ, হাদীস নং-- ৭১২)। 

কিন্তু এটা জানা উত্তর। এই বইয়ের বিশেষজ্ঞ হল ---অজানা দৃষ্টিপাত করা। তাই উপরিউক্ত উত্তরে জ্ঞানপিপাসু পাঠকদের তৃষ্ণা মিটবে না।

পাঠক, ভাবুন কী কারণে নামাজে সূরা ফাতিহাকে বাধ্যতামূলক করা হল? কী আছে  এর মধ্যে ?

সুধী পাঠক, চলুন  উত্তরের দিকে  এগোনো যাক। নামাজে সূরা ফাতিহা'কে অপরিহার্য করার করন হল-- এই সূরা ফাতিহার মাধ্যে রয়েছে নাবী  (সা:) এর সংক্ষিপ্ত জীবনি।

প্রশ্ন হতে পারে--- "সূরা ফাতিহাতে তো নাবী  (সা:) এর নাম পযন্ত নেই, জীবনী কোথায়?" উত্তর হল --- সূরা ফাতিহা'তে নাবী  (সা:) এর জীবনী রয়েছে কিন্তু তা সাধারণ ভাবে বলা নেই। কারণ সাধারণ ভাবে সাধারণ নাবী  (আ:) দের বর্ণনা কোরানে রয়েছে । যা, বর্নিত হয়েছে বিভিন্ন সূরাতে।

--- কিন্তু মহানাবী মহাম্মদ (সা:) অসাধারণ নাবী এবং রাসূল। তাই মহানাবী মহাম্মদ  (সা:) এর জীবনী ও এক অসাধারণ পদ্ধতিতে সূরা ফাতিহাতে বর্নিত হয়েছে ।নাম হল--- 'NUMBER CODE WORDS' ।

পাঠকগন, এবার চলুন সূরা ফাতিহার গুরুত্ব উম্মোচন করা যাক।

১) সূরা ফাতিহার প্রথম তিন আয়াতে আল্লাহ'র প্রশংসা করা হয়েছে।

প্রশংসাকারিকে আরবিতে বলা হয়  'আহমদ'। আহমদ হল নাবী  (সা:) এর অন্য  এক নাম।

এখনে প্রথম তিন আয়াতের প্রশংসা যুক্ত আয়াতের অর্থ হল---- আরবির তৃতীয় মাস । যার নাম হল -- রবিউল আওয়াল।

২) সূরা ফাতিহা'র প্রথম আয়াত হল--"আল-হামদুলিল্লাহি রাব্বীল  আ'লামিন।" বলে রাখা দরকার যে 'আলামিন' শব্দ বা কথাটিকে ২১ নং সূরার ১০৭ নং আয়াতে নাবীজির জন্যেও ব্যবহার করা হয়েছে ।

সেখানে বলা হয়েছে -- "অমা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামিন" (২১:১০৭)।

সুধী পাঠক, যেহেতু ' আলামিন' শব্দটি নাবীর জন্যেও ব্যবহার হয়েছে, সেহেতু  সূরা ফাতিহা'র প্রথম আয়াত থেকে আলামিন শব্দটা বাদ দিলে বাকিটা হবে---"আল-হামদুলিল্লাহি রাব্বীল ।" উক্ত বাক্যে রয়েছে  আরবির ১২ টা অক্ষর ব্যবহার হয়েছে । আর এখনে ১২ এর অর্থ হল ১২ তারিখ ।

《《বলে রাখি--বিশ্বনাবী  (সা:) এর জন্ম হয়েছিল》》

৩)  সুরা ফাতিহা'র আয়াত সংখ্যা ৭ টি। 

অন্যদিকে নাবি (সাঃ) এ-র পুত্র- কন্ন্যা সর্বমোট ৭ টিকে। যথা, কন্ন্যা-- যয়নব, রুকাইয়া, ফাতিমা,  কুলসুম। পুত্র -- ইবরাহীম,  কাসেম, আবদুল্লাহ।

《《বলে রাখি--  নাবীপুত্র আবদুল্লাহ'র দুটি উপনাম ছিল। যথা-- তৈয়েব  ও তাহির । এটাকে অনেকেই ভুল করে নাবী  (সা:) এর ৯ টি সন্তান গন্য করে (বিশ্বনাবী  (সা:)  এর জীবনী A.S.M AZUUL ANSARI বাংলাদেশ, মিনা বুক হাউস)। 》》

৪)আমরা পূর্বেই জেনেছি সূরা _ফাতিহার প্রথম তিন আয়াত আল্লাহ'র প্রশংসা যুক্ত আয়াত। এই ৩ আয়াতে অক্ষর সংখ্যা হল ৪০ টি। অন্যদিকে নাবী (সাঃ) প্রথম  'ওহি' পেয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সে। এই 'ওহি' পাওয়া মানব ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট ছিল।

৫)সুরা ফাতিহাতে আল্লাহ'র মোট ৯টি নাম ব্যবহার হয়েছে এবং ফাতিহা'র আয়াত হলো ৭টি , এখন যদি ৭ কে ৯ দিয়ে গুন করা যায় তাহলে হবে ৭×৯=৬৩। এখানে চমকে যাওয়ার বিষয় হলো।__নাবী (সাঃ) পরলোকগমন করেন ৬৩ বছর বয়সে (এই অনু অধ্যায় পড়ার পর আল্লাহর প্রশংসা করুন। ইন্না লিল্লাহি......) । 

[[✪ বলে রাখি সুধী পাঠক,এই অনুঅধ্যায়   পড়ার পর আল্লাহর প্রশংসা করুন।কেননা তিনিই সেই মহান আল্লাহ রাব্বিল আলামিন যিনি সুরা ফাতিহার মধ্যে এক অভিনব ছকে নাবীর জীবনি গেঁথে রেখে ছিলেন।  সুতরাং বলতেই হবে "সমস্ত প্রশংসা  আল্লাহ'র  যিনি জগৎসমুহের  প্রতিপালক। তিনি দয়ালু ও  করুনাময়। তিনি বিচার দিনের মালিক" (সুরা ফাতিহা, আয়াত ১, ২,  ৩)

আর দরুদপাঠ করুন  বিশ্বনাবি মহাম্মদ (সাঃ) এ-র উপর,   যার জীবনী এত  সন্মান জনক  পদ্ধতিতে গেথেঁ রাখা হয়েছে। ( আল্লাহুম্মা   ... .... ....) ]

উক্ত কারণেই হয়তো  সুরা ফাতিহা'কে নামাজে পাঠ করা অপরিহার্য করা  হয়েছে। 

  কারণ নাবি (সাঃ) এ-র জীবনি  বিশয়ক এ-ই কায়দা অন্যান্য  সুরাতে লক্ষ করা যায় না।

* সুরা ফাতিহাতে ৭ টি  আয়াত কেন? *

এ-ই 'সুন্দর ও কঠিন' প্রশ্নটি  প্রথমবার আমার কাছে আসে প্রায় তিন বছর আগে। সেদিও উত্তর দিয়ে ছিলাম, আজও উত্তর দেব । কিন্তু সেদিনের অপেক্ষায় আজকের উত্তরটি 'সুন্দর সহজ ও বোধগম্য' যুক্ত হবে--ইংশা আল্লাহ। 

সুধি পাঠক, এটা সবারই জানা যে, সূরা ফাতিহা পবিত্র কোরানের  প্রথম সুরা বা অধ্যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, 'এ-ই সুরাতে ৭ টি আয়াত কেন? ৩,৪,৫ অথবা ৮,১০ টি আয়াত হলে কি ক্ষতি  হত।

সুধি পাঠক, উত্তর বেশ খানিকটা বড়, মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আপনি অবগত আছেন কিনা জানি না যে,মানুষের ব্রেনের 'স্টোর' ২ ভাবে হয়।একটা ক্ষণস্থায়ী ভাবে ও অন্যটা দীর্ঘস্থায়ি ভাবে। মানুষের 'ব্রেন' প্রতি সেকেন্ডে বা প্রতিমুহূর্তে সবচেয়ে বেশি '৭ টি' কথা বা ৭ টি অক্ষর মুখস্ত করতে পারে। পাঠকগন, লক্ষ করে দেখবেন--'১০ ডিজিট' মোবাইল নং এ জন্যেই একবার পড়লে মুখস্থ হতে চায়না, বা হয় না।

এবার বুঝেছেন, সুরা ফাতিহাতে কেন ৭ টি আয়াত ব্যবহার হয়েছে। যাতে করে মাত্র একবার পড়লে ( মনোযোগ সহকারে)  সূরা ফাতিহা মুখস্থ হয় বা হতে পারে।

প্রশ্ন হতে পারে যে,যদি না মুখস্ত হত ক্ষতি কি হতো?  উত্তর সহজ, যা আমরা পুর্বের অনুঅধ্যায়ে অবগত হয়েছি। তার কখনোই নামাজে উচছারিত হতো না। অর্থাৎ নামাজের মধ্যে নাবী(সাঃ) এ-র জীবনী উচচারিত হতো না (গুপ্ত ভাবে)।

* গুপ্তভাবে নাবি (সাঃ) এ-র জীবনির প্রায়জন কি? *

যাতে প্রমানিত হয় এ-ই বিখ্যাত আয়াতটি--- যদি আল্লাহ'কে ভালোবাসো  তবে আমার ( মহাম্মদ) অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালো বাসেন (৩ঃ৩১)। 

এছাড়াও বুখারি শরিফে বলা রয়েছে---"আনাস (রাঃ) হতে বর্নিত,  নাবি (সাঃ) বলেছেন ___ কেহ ততক্ষণ প্রযন্ত ইমান ওয়ালা হয় না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, পুত্র এবং সকল মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই"( দ্বিতীয় অদ্ধায়, হাদীস নং-১৪)

তাই যদি কেউ নাবী (সাঃ) কে জানতে চায়। তাহলে প্রয়োজন হবে নাব(সাঃ) এ-র জীবনী। এখন যদি পৃথিবীর সমস্ত হাদীস ও নাবী (সাঃ) এ-র জীবনী কোন কারণে বা কেয়ামতের পূর্বে বিনিষ্ট হয়ে তবুও কোরানের মধ্যে সুরক্ষিত থাকবে নাবী (সাঃ) এ-র জীবনী। 

৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷  আল- হামদুলিল্লাহ।

কারণ, কোরান মানব হস্তক্ষেপ থেকে  সুরক্ষিত পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে ----"কোরান আমিই অবতীর্ন করেছি, আমিই তার রক্ষক" (১৫ঃ৯)

* নাবী (সাঃ) এ-র উপর কেন দরূদ পরতে হয়ে? *

দরূদ অর্থ = দোয়া। এজন্য কিছু বে- আদব মুসলিম বলে___ "নাবী (সাঃ) কী গুনাহাগার ছিলেন যে তার উপর দরূদ পরতে হবে? অতএব দরূদ পরার প্রয়োজন নেই"।

তাদেরকে কোরানের ভাষায় বলি__ "এমন কিছু মুর্খ আছে যাদের মিথ্যা আসা ছাড়া কিতাবের কোন জ্ঞান নেই। তাড়া কেবল অমূলক ধারণা করে " (২ঃ৭৮)

পবিত্র কোরান বলে "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও ফেরেস্তারা নাবীর উপর দরূদ পেরন করেন, হে ইমানওয়ালারা ; তোমরাও নাবীর উপর দরূদ পরতে থাক"(৩৩ঃ৫৬)। 

সুতরাং নাবীর উপর দরূদ পরতে হবে বা রাসূলের জন্য দোয়া করতে হবে --- এটা কোরানের আদেশ। 

এখন দরূদ কেন পরতে হয়তার জানতে হলে, দরূদে কি পরা হয় তার জানতে হবে।  দরূদের মধ্যে বলা হয়-- ওগো আল্লাহ,  তুমি শান্তি বর্ষন কর নাবী মহাম্মদ ও তার বংশের প্রতি। যেমন শান্তি বর্ষন করেছিলে ইব্রাহীম ও তার বংশের প্রতি। ওগো আল্লাহ,  তুমি রহমত ও বরকত দাও নাবী মহাম্মদ  ও তার বংশের প্রতি। যেমন বরকত ও রহমত দিয়ে ছিলে নাবী ইব্রাহিম ও তার বংশের প্রতি।

সুফি পাঠক,  দরূদ কেন পরতে হয়__ এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে দরূদের মধ্যেই। নাবী মহাম্মদ (সাঃ) এ-র পূর্বে বহু নাবী-- রাসূল কে আল্লাহ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাদের কতককে তাদের ভক্তরা আল্লাহ বলে সাব্যস্ত করেছে। বর্তমানেই কিছু নাম ধারি 'মুসলিম' নাবী মহাম্মদ (সাঃ) কে আল্লাহ সাব্যস্ত করতে উদ্যত।

কিন্তু এখন তো আর কেউ নাবী আসবেন না। তাহলে কে বলবে যে "মহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ নন,একজন নাবী ও রাসূল"। মহাম্মদ (সাঃ) নাবী ও রাসূল তার প্রমান হলো দরূদ।  কেননা,  আল্লাহ'র জন্যে দোয়ার প্রয়োজনে হয়ে না। কিন্তু নাবী (সাঃ) এ-র জন্যে দরূদের মধ্যে 'দোয়া' হচ্ছে।  অতএব দরূদের মধ্যে এটা প্রমানিত যে নাবী মহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ নন।

[ বলে রাখি--- এটা কখনই ভাবা যাবে না যে, আমরা দরূদ পরলে তবেই নাবী (সাঃ) এ-র উপর  আল্লাহ শান্তি ও রহমত -- বরকত দেবেন।]

  * আল্লাহ দরূদ পরতে বলেছেন তাই পড়া  উচিত। *

* আন্যান্য নাবী (আঃ) দের গুপ্ত  সাক্ষি? *

আমরা প্রত্যেক মুসলিম এ-ই সাক্ষি দিই যে, "আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই,  এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহ'র  প্রেরিত রাসূল "।  

এটাই হলো কালেমা। আমরা পূর্বে আমরা এ-ও জেনেছি যে, নামাজের স্টেপ বা ধাপ  গুলো এমনই তার যেন আরবির আল্লাহ ও মহাম্মদ (সাঃ) নাম বহনকারী। 

সুধী পাঠক, এ তথ্য আমরা অবগত।  এবং আমরা এ-ও জানি যে, উক্ত সাক্ষির বিনিময়েই নাবী মহাম্মদ (সাঃ) কে পৃথিবী ও পরকালের নেতা হিসেবে স্বীকার করেছি বা পেয়েছি বা পাবো।

 এখন প্রশ্ন হলো __যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে অন্যান্য নাবী (আঃ) রাও নিশ্চয়ই নামাজ পড়েছিল। তাদের নামাজেও নিশ্চয়ই আল্লাহ ও মহাম্মদ (সাঃ) নাম দুটি প্রতিফলিত হয়েছিল । তাহলে কি তারা ও নামাযের মাধ্যমে নাবী মহাম্মদ (সাঃ) কে বিশ্বের নাবী 'আখেরাতের' নেতা হিসাবে প্রদর্শন ও সাক্ষী প্রদান করেছিল। 

হ্যাঁ, সুধী পাঠক হ্যাঁ, অন্যান্য নাবী (আঃ) রাও বিশ্বনাবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে বিশ্বের নাবী ও আখেরাতে মানব জাতির নেতা হিসেবে স্বীকার করেছিল। এজন্যই তো প্রত্যেক নাবী (আঃ) তাদের ভক্তদের বলে গিয়েছিলেন যে,-- "মহাম্মদ নামে একজন নবী বা ঈশ্বর প্রেরিত দূত আসলে তাকে তোমরা মেনে নেবে"। 

[বলে রাখি-- উপরিউক্ত  অনুঅধ্যায়টি পড়ার পরেও 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবেন। কারন,এই অনু অধ্যায় অন্যান্য নাবীরা কিভাবে নাবী মহাম্মদ (সাঃ) কে কিভাবে স্বীকার করেছেন-- তার দেখানো হয়েছে।

 *আরো বলি--"নাবী  (সাঃ) আখেরাতে সমস্ত মানবজাতির নেতা"(বুখারী, হাদিস -৩০৯৬)।

★নামাজ, আত্মসমর্পণ ও মুসলিম★

মুমিন কাকে বলে তা আমরা শুরুতেই আলোচনা করেছি। কিন্তু মুসলিম কাকে বলে তা আমরা কখনো আলোচনা করি নি এবার করব।  

'মুসলিম' কথাটি আরবি কথা,যার বাংলা অর্থ হলো-- 'আত্মসমর্পণকারী।'

শরীয়তের পরিভাষায়--"মুসলিম হল সেই ব্যক্তি যিনি দয়ালু আল্লাহর নিকট নিজের সমস্ত ইচ্ছা কে সমর্পণ করে এবং ঐশী বিধান অনুযায়ী  জীবনী  যাপন করে।"

পবিত্র কুরআনের_ সুরা ইমরানের ১০২ নং আয়াতে দয়াময় আল্লাহ  বিশ্বাসী ও মুমিনদের মুসলিম হতে  বলেছেন। আর মুমিন থেকে মুসলিম হওয়ার প্রথম ও প্রধান রাস্তা  হল---- নামাজ। কারণ, নামাজের মধ্যে ফুটে ওঠে আত্মসমর্পণকারী লক্ষণ বা  'সিম্বল'। সিম্বলটি হলো ---নামাজে দাড়িয়ে নামাজের প্রথম কাজ হলো --দু হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত তুলতে হয়।

পাঠকগণ, আপনারা জানেন কি জানি না যে, বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক আত্মসমর্পণ পদ্ধতি  হল __দু হাত কাধ বা কান পর্যন্ত তোলা। 

সুতরাং আজই নামাজে দাঁড়ান, আর আত্মসমর্পণ করুন।

★ নামাজের ধাপ ও তার অর্থ ★

নামাজের প্রত্যেকটি ধাপের এক-  একটি বিশাল অর্থ রয়েছে। 

যা রয়ে গেছে আজও অজানা। তাই চলুন অজানাতে দৃষ্টিপাত করা যাক। 

*দাঁড়ানো ও হাত তোলা -- 'আত্মসমর্পণ বা সারেন্ডার ' আল্লাহর নিকট। 

*হাত তোলা --নামাজে হাত বাধার অর্থ হলো ---নামাজের হাত থেকে তার প্রতিবেশীরা ও মুসলিমগণ সুরক্ষিত। 

এ বিষয়ে মহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন-- "যার হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ, সে হলো মুসলিম" (বুখারী শরীফ, কিতাবুল ঈমান,  হাদিস নং --৯)।

*রূকু-- আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট ছোট না হওয়ার প্রতিক।

*সিজদা--- আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত-বন্দেগি না করার প্রতীক। 

সত্যি বলতে কালেমায়ে এটাই বলা হচ্ছে যে--- "নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ছাড়া।" 

★ বে-নামাজির জন্য কোরানীয় হুঁশিয়ারি ★ 

যারা নামাজ বা 'বিশেষ ইবাদত' হতে দূরে অবস্থান করে অর্থাৎ বে-নামাজি সম্পর্কে কঠোর ভাবে বলেছেন -- "অ- আকিমুস সালাতা অলা তাকুনু মিনাল- মুশরিকীন" (৩০ঃ৩১) অর্থ -- "নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং মুশরিক হয়ো না" ( সূরা রূম, আয়াত নং-- ৩১)। 

সুধী পাঠক, উপরিউক্ত আয়াতটি কোন ব্যক্তির কথা নয়। কথাটি বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ। 

 তাই স্বাভাবিকভাবেই কথাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং কথাটিকে দেখুন এবং আরো একবার ভাবুন। বলা হচ্ছে--  "নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং মুশরিক হয় না" (৩০ঃ৩১)।

এখন আপনার কাছে প্রশ্ন হল --নামাজ না পড়লে কি হবেন?

★ নামাজ না পড়ার বাহানা ★

আমরা অনেকেই বলি --'নামাজ তো পড়বো' তবে অনেক অজর বা বাহানা  উপস্থিত করি। প্রধান প্রধান ওজর বা বাহানা গুলি হল --------

১)সময় হয়ে উঠে না ঃ ---

উত্তর ঃ ভাই,  আপনি জানেন কিনা জানি না যে, নামাজের প্রধান অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো -- মানবজাতিকে সময় সম্পর্কে সচেতন করা। 

যাদের কাছে সময় কম তারা নামাজ ধরে জান। নামাজ আপনার সময় ম্যানেজ করবে-- ইনশাআল্লাহ। 

তবে, এই ওজর বেকার যে, সময় হয়না এজন্য নামাজ পড়ি নি।

*মনে রাখবেন-- আপনি এই লেখকের এর চেয়ে বেশি ব্যস্ত নন। 

২)অনেকে বলে-- "বেশি দোয়া-দরুদ জানিনা। "

উত্তর ঃ নামাজ পড়ার জন্য মহামারী দোয়া-দুরুদ এর প্রয়োজন নেই। 

নামাজ শিক্ষার বইগুলোতে যত দোয়া-দরুদ আছে, তত না জেনেও নামাজ পড়া যায়। 

৩)অনেকে বলে-- "বিভিন্ন দল বিভিন্ন রকম কথা বলে। কার কথা শুনব, কার কথা মানবো।"

উত্তর ঃ আপনি যেমন জানেন, তেমনিইপরে  শুরু করুন। পরে বিশেষ ব্যক্তির শরণাপন্ন হন কিংবা কোরআন ও হাদিস পড়া শুরু করে নিজের ভুল শুধরে নিন। 

৪)অনেকে বলে-- 'ছেলেপুলে ছোট ছোট, বড় হোক না।'

উত্তর ঃ ছেলেরা বড় হলেই যে আপনি ফ্রি হয়ে যাবেন এমন কোন কথা নেই। যদি আপনার ছেলের মধ্যে দ্বীনি শিক্ষা না থাকে আপনার ছেলে আপনাকে বাড়ি থেকে বেরও করে দিতে পারে। কিন্তু যদি আপনি নামাজ পড়েন তাহলে আপনার ছেলের মধ্যে দ্বীনি শিক্ষা প্রবেশ করবেই। 

৫)অনেকেই বলে-- 'আমার আর্থিক অবস্থা খারাপ, আমি গরিব। আর্থিক অবস্থা ভাল হোক না।'

উত্তর ঃ ভাই, আর্থিক অবস্থা খারাপ এবং বে-নামাজি থাকার কী সম্পর্ক?  আর এটাও জরুরি নয় যে, আর্থিক অবস্থা ভালো হলেই কেউ নামাজি হবে। যদি হতো তাহলে প্রত্যেক বড়লোকই নামাজী হত। সুতরাং নামাজের সঙ্গে আর্থের কোন সম্পর্ক নেই। "আল্লাহর নিকট উত্তম হল সেই ব্যক্তি যিনি ধর্মভীরু" (৪৯ঃ১৩)।

সুতরাং আপনি গরীব হলে আজই নামাজ ধরুন।  আল্লাহ আপনার অবস্থার পরিবর্তন করবেন। 

৬)অনেকেই বলে-- 'আমি অমুসলিমদের কাছে  কাজ করি, এজন্যে নামাজ পড়তে  পারি না।'

উত্তর ঃ ভাই, আমিও অমুসলিম সমাজে মিশি এবং কোন অমুসলিম নামাজ করতে বাধা দেয় না। তবে, কাজের ক্ষতি করবেন কেন?  

*দ্বিতীয়ঃ- যারা আপনার অমুসলিম বন্ধু তারা তো আপনার জন্য মূর্তিপূজা ছাড়ে না, আপনি তাদের জন্য নামাজ পড়া ছাড়বেন কেন? 

৭)অনেকেই বলে-- 'পড়তে তো হবেই, পরে পরবো।'

উত্তর ঃ  ভাই,  আল্লাহর কোরআনে কি বলেছেন শুনুন -- "কোন ব্যাপারেই বলো না যে--আমি তা আগামীকাল করব" (১৮ঃ২৩)। আগামীকাল করব, পরে করব--- এটা কুঁড়ে বা গাফিলতির লক্ষণ। 

৮)অনেকেই বলে-- 'শয়তান পিছনে লেগে আছে।'

উত্তর ঃ ভাই, বিচার দিবসে এই কথা বলতে পারবেন তো? সেদিন শয়তান যা বলবে তা আল্লাহ  কোরআনে উল্লেখ করে রেখেছেন। 

শয়তান বলবে -- "আমি তোমাকে ডেকেছি মাত্র,  তাতে তুমি সাড়া দিয়েছে। তাই আমাকে দোষী করো না, নিজেদেরকে দোষী করো" (১৪ঃ২২)।

৯)অনেকেই বলে-- 'আল্লাহর পড়ালে পরব।'

উত্তর ঃ তার মানে কি এই যে, এখন আল্লাহ আপনাকে বে-নামাজি করে রেখেছে? 

কেউ যদি মদ খায় -- তাকে কি আল্লাহর মদ খাওয়াচ্ছে? 

আল্লাহ আপনাকে নামাজই পড়াবেন কেন বা মদ খাওয়াবে  কেন ?

কোরআনে খারাপ ভাল সবই কথা রয়েছে।আপনি খারাপ করবেন, আর দোষ দেবেন আল্লাহর উপর। তা কি করে হয়?

★ অন্ত'র কথা ★

আমি জানি যে, বইটি পড়ার পর নামাজ পড়ার জন্য আপনার মন ব্যকুল হয়ে উঠেছে। সুতরাং আর দেরি নয়। আজ, এখনই শুরু করুন এবং ঘোষণা করে দিন -- "ইন্নি অজ্জাহাতু অজহিয়া লিল্লাহি ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাঁও আয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন।"

অর্থ ঃ "নিশ্চই আমি সমস্ত দিক হতে মুখ ফিরিয়ে মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তার দিকে মুখ করলাম এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই।"

সূধী পাঠক,  আজ যদি এই ঘোষণা দিতে না পারেন তাহলে কবে বলবেন --- 'আমি মুশরিক নই।'

বিষয়টি চিন্তার, কেননা-- "কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়েছে "(সূরা ক্বামার, আয়াত নং- ১)।

 "সেদিন কেউ কারো উপকারে আসবেনা--কোন বিনিময় ও চলবে না এবং কোন প্রকার সাহায্য পাবে না " (সূরা বাকার,  আয়াত নং ৪৮)।

  তারাই হেদায়াতের বদলে বিপদ কিনেছে। কিন্তু তাদের এ ব্যবসা সফল হয়নি" ( সূরা বাকারাহ, আয়াত নং- ১৬)।

এখন বলুন, আপনি কি বিপদ কিনবেন? 

অতএব---- "দ্রুত দৌড়ায় প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে প্রভুর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে।.... তা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত "(  সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং-- ১৩৩)।


লেখকের বহু প্রশংসিত দুটি বইঃ

       ★ "কোরআন ও ভূগোল" ★

 'কোরআন ও ভূগোল' কে জানার সেরা ঠিকানা হলো বইটি।

বইটি বহু লেখক ও গবেষক দ্বারা প্রশংসা প্রাপ্ত।  বইটিতে রয়েছে  বিজ্ঞানের নতুন কিছু তত্ত্ব -- যা প্রস্তাবিত হয়েছে লেখক- হোসেন কুরানীর  দ্বারা। 

   ★ "মুসলমানদের অবদান" ★

 এ-ই বইটিতে রয়েছে মুসলমানদের  আবিষ্কার  সম্পর্কৃিত গোপন রাখা ইতিহাস। 

 বইটি ইতিহাসের জঙ্গাল  থেকে তুলে আনা বিশুদ্ধ ইতিহাসের সম্ভার।

৷৷৷৷৷৷  বই দুটি অবশ্যই সংগ্রহ করুন।  ৷৷৷৷

★ লেখকের মহান আবিষ্কার ★

*সোনার উপর বিনা সুদের লোনঃ 

পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ২৭৫ নং আয়াতে আল্লাহ সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন ২৮২ নং ও ২৮৩ নং আয়াতে  "নির্দিষ্ট সময়ের" লোন ব্যবস্থার কথা বলেছেন।  এখানে শেষ নেয়। ২৮৩ নং আয়াতে  আল্লাহতালা বলেছেন --"বন্ধক হিসাবে কোন বস্তু রাখা  বিধেয়।"

উপরিক্ত কোরানিয় পদ্ধতিতে  গত পাঁচ বছর ধরে সফলতার সাথে লেখক - 'হোসেন  কুরানী' এ-ই  "ইসলামিক লোন" পরিচালনা করেছেন -- যা শুধুমাত্র জাতীয় স্তরে নয় বরং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসার দাবি রাখে। 

*সকল ধনী ব্যক্তিদের নিকট অনুরোধ যে, তারা যেন এই নেক কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। 

৷৷৷৷৷৷৷  মূল্য = ৩৫. ০০ টাকা মাত্র।।।।।।।।

Blogerr written = Johirul Islam 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...