জানেন, 1500 বছর কত লম্বা সময়?? আচ্ছা ঠিক আছে, দাঁড়ান- আমরা আজ আপনাকে অনুভব করাতে চাইব। আপনি কি অনুভব করতে চাইবেন?? মোটা-মুটি ভাবে ধরা হয়ে থাকে- 1 day = 24 hour, 1 hour = 60 min, 1 min = 60 sec. এর অর্থ হল- 1 hour = 3, 600 sec, 24 hour or 1 day = 86, 400 sec. এক কথায় বলা যেতে পারে- 1 দিন = 86, 400 s.
তাহলে 1 বছর = কত second হবে?? উত্তরটা দেখে হয়ত চমকে উঠবেন, তবুও আপনাকে দেখাতে চাইব। তবেই নিজের/ নিজেদের ক্ষতির পরিমাণটা অনুভব করতে পারবেন। দেখুন- 1 year = 3, 15, 36, 000 s. দাঁড়ান, বাংলায় বলি শুনুন- 1 বছর = মাত্র 3 কোটি 15 লক্ষ 36 হাজার সেকেন্ড!!
সুধী পাঠক, তাহলে 1500 বছর = কত sec হবে?? উত্তর দেখে চোখ কপালে উঠবে না তো?? কিন্তু ছাড়ব না, দেখুন- 1500 year = 4730, 40, 000, 00 s. তার মানে?? মানেটা সহজ- Forty seven billion three hundred four million Seconds. দাঁড়ান বাংলায় বলি, তবেই আরও বেশি চমকাবেন, তা হল- 4 হাজার 730 কোটি 40 লক্ষ সেকেন্ড!!
সুধী পাঠক, ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়েছে মোটামুটি 1500 বছর বা 4730, 40, 000, 00 second পূর্বে কিন্তু তবুও কোরান তৎসংলগ্ন সহীহ ও হাসান হাদীসের ইসলাম আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় নি অথচ এই পৃথিবীতে আজও লক্ষ-লক্ষ আলিম রয়েছেন!!
পাঠক, আপনি জানেন- সুদ কি, কাকে বলে ও তার সংজ্ঞা কি?? আমরা নিশ্চিত যে, শুধু আপনি নয়, এই পৃথিবীর কেউই এ প্রশ্নের 'এক কথায়' উত্তর জানেন না। আর যদি আজ হোসেন কুরানী এ প্রশ্নের উত্তর না দেন, তা হলে হয়ত কিয়ামত পর্যন্ত এ প্রশ্নের উত্তর আপনি আর পাবেন না!!
শুধু এ বিষয়ে নয়, আজ আমরা পবিত্র কোরান প্রদত্ত অর্থনীতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা এবং কুরানী বিশ্লেষণ করব- ইনশাআল্লাহ। আপনি খোলা মন নিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন, নয়ত কোরান প্রদত্ত অর্থনীতি হজম করা কঠিন হবে আপনার জন্য!!
সুধী পাঠক, আমরা প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে ভিন্ন-ভিন্ন আলোচনা করতে থাকব। চেষ্টা করব মৌলিক ভাবে আলোচনাটা উপস্থাপিত করার, যাতে করে আপনি আপনার মনে ওঠা প্রশ্নেরও উত্তর পেয়ে যান!! ঠিক আছে?? তাহলে এগিয়ে যাই??
প্রশ্ন হবে- সুদ কি, কাকে বলে এবং তার সংজ্ঞা কি?? উত্তর সহজ কিন্তু আমাদের সম্মানিত হারামখোরদের জন্য নয়। তবে, সবাই বলে যে- যেখানে হোসেন কুরানী থাকে, সেখানে কঠিন বলে কোনও কিছু থাকে না, তাই না?? আচ্ছা, এটা কি সত্যি??
সত্যি কি মিথ্যা, পরে বুঝবেন। এখন পড়া শুরু করুন এবং মনযোগ দিন। মনে রাখা উচিৎ যে, ওয়ারিশ সুত্রে/ উপহার স্বরূপ এবং অন্যান্য কিছু 'হালাল' ভাবে সম্পদ অর্জন (কয়েক ধরণের ভাতা ও অন্যান্য) ছাড়া সম্পদ উপার্জনের পদ্ধতি একটাই, তা হল- "বদল"। এর মানে হল- কোনও কিছুর বদলে কোনও কিছু!!
একটা উদাহরণ দিই?? আধুনিক সভ্যতা সম্পদকে অর্থ বা কাজগের টাকা দ্বারা বদলে নিয়েছি। তাই না?? যেমন ধরুন, আমি বাজারে গেলাম এবং গিয়ে আপনার থেকে 10 আঁটি কলমি শাক কিনলাম ₹ 40/- দিয়ে। যা সত্যিই আমার Daily routine এ ভাতের সঙ্গে একমাত্র খাবার হিসেবে থাকে!!
অর্থাৎ সকালে আমার কাছ থেকে ₹ 40/- আপনার কাছে গেছে। তাই না?? তারপর বিকাল 4 টের সময় আপনি আমার 'Qurani attar house' এ 3 ml একটা Magnet আত্তর কিনতে এলেন এবং ₹ 40/- দিয়ে 3 ml একটা Magnet আত্তর কিনলেন। ঠিক আছে??
তাহলে Actually কি হল?? উত্তর সহজ- আমার ₹ 40/- আপনার কাছে যায় নি, আপনার থেকে আমার কাছে আসে নি বরং আপনি আমাকে 10 আঁটি কলমি শাক দিয়ে 3 ml একটা Magnet আত্তর নিয়েছেন এবং আমি 3 ml একটা Magnet আত্তর দিয়ে 10 আঁটি কলমি শাক নিয়েছি। তাই না??
তাহলে বুঝতে পেরেছেন "বদল" আসলে কি?? আর এই বদলের নাম দেওয়া হয়েছে- ব্যাবসা এবং শ্রম!! এই 2 টি পদ্ধতিই কোরান দ্বারা স্বীকৃত। যাইহোক, আমরা উপরে ব্যাবসার উদাহরণ দিয়েছি, তাই আর শ্রমের উদাহরণ দিলাম না। যদি আপনি আমার পাঠক হন, তা হলে আপনি বুঝে যাবেন- ইনশাআল্লাহ!!
সুধী পাঠক, এবার আমরা দেখব যে, আল্লাহ পবিত্র কোরানে ব্যাবসা ও শ্রম সম্পর্কে কি বলেছেন। আপনি দেখতে চাইবেন তো?? দেখুন- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল বা বৈধ করেছেন"(2:275)। আর শ্রম সম্পর্কেও পবিত্র কোরানে স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে, দেখুন-
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ ۖ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ●
অনুবাদ হবে এমন-"মহিলাটি [মূসা (আ)- এর হবু স্ত্রী (রা)] বলল- হে পিতা, একে [মূসা (আ)- কে] শ্রমিক নিযুক্ত করুন, নিশ্চয় যাকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করবেন, তার থেকে ইনি [মূসা (আ)] উত্তম হবে। ইনি শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত"(28:26)।
কেউ হয়ত বলতে পারেন যে, প্রশ্ন ছিল- সুদ কি, ককে বলে, সংজ্ঞা কি!! এখন আপনি (হোসেন কুরানী) সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে, সম্পদ উপার্জনের পদ্ধতি বিষয়ে কথা বলছেন কেন??
ভাই, এই প্রশ্নটি যদি আপনার হয়, তাহলে আসলেই আপনি খুব বোকা। আমি সুদ কি/ কাকে বলে ও সংজ্ঞা সম্পর্কেই বলছি কিন্তু সমস্যা হল- আপনার মাথায় ঢোকে নি, যার দোষ আপনি আমার উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন!! ঠিক আছে, তবে নিচের আয়াত গুলো দেখে বোঝার চেষ্টা করুন, নয়ত একেবারে এই লেখার শেষে গিয়ে তবেই বুঝবেন!!
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا। لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা নিজেদের মধ্যে সন্তোষজনক লেন-দেনের [ব্যাবসা ও শ্রম] মাধ্যম ছাড়া অন্যায়-অবৈধ ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ খেও না"(4:29)।
বুঝতে পারেন নি?? ভাল!! আপনাকে বুঝতে আর হবে না। আয়াতটি দেখুন- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
অনুবাদ হবে এমন-" আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন"(2:275)। এবার বুঝেছেন?? এখনও বোঝেন নি?? যান বলব না, আমার পাঠক এত বোকা হয় কিভাবে?? এটা অবিশ্বাস্য!! তাই না??
আচ্ছা নিন, বলছি!! আমি যদি অভিমান করে না বলি, তাহলে সম্মানিত হারামখোরদের থেকে এ প্রশ্নের উত্তর হয়ত কিয়ামত পর্যন্ত পাবেন না!! সুতরাং 2:275, 4:29 ও 28:26 আয়াত থেকে যা বেরিয়ে এল, তা নিচে বর্ণিত হল-
উপার্জনের 2 টি পদ্ধতি, শ্রম ও ক্রয়-বিক্রয়। এ ছাড়া যে লাভ/ মুনাফা আসে, তা بَاطِل (বাতিল) অবৈধ এবং رِّبَا (রিবা) সুদ!! বোঝাতে পারলাম?? দুঃখের বিষয় কি জানেন, এই ছোট্ট তথ্যটি ইসলাম প্রতিষ্ঠার 1500 বছর বা 4 হাজার 730 কোটি 40 লক্ষ সেকেন্ড পর হোসেন কুরানীর দ্বারা জানতে পারলাম!! এবার একটা ছোট্ট মতো এই বোকা মনের ছোট্ট প্রশ্ন- তাহলে এতদিন ধরে আমাদের মহাসম্মানিত ও হারামখোর আলিমগণ (2-4 জন বাদে) কাফির ফাতুয়া দেওয়া , মুসলিম-মুসলিমে ভেদা-ভেদ এবং Direct-indirect ভাবে ইসলামের/ মুসলিমদের দুর্নাম-বদনাম ও ক্ষতি করা ছাড়া আর কি করেছেন??
তাহলে এক কথায় উত্তর দিতে হলে সুদের সংজ্ঞায় কি বলবেন?? শ্রমও নয়, ক্রয়-বিক্রয়ও নয় কিন্তু তা সত্ত্বেও অর্থ অর্জন হচ্ছে, শ্রমের ক্ষেত্রে তা অবৈধ এবং ব্যাবসার ক্ষেত্রে তা সুদ!!
সুধী পাঠক, আপনি কি ইসলামী মৌলিক নীতিমালা বুঝতে পেরেছেন?? এই মূলনীতির সাহায্যে যে কোনও অর্জনকে আপনি হালাল ও হারাম সাব্যস্ত করতে পারবেন। আমাকেও জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হবে না এবং আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণকেও!! হ্যাঁ এটা দেখবেন যে, সেটা হারাম বস্তুর কেনা-বেঁচা/ তাতে শ্রম না হয়। কারণ তা এমনিতেই হারাম, যেমন- মদ!!
ছোট্ট প্রশ- অর্জন ও উপার্জনের পার্থক্য কি?? যা যা পেয়েছেন, সেই সবই অর্জন। যা ব্যাবসা/ শ্রমের মাধ্যমে অর্জন করেছেন, তা'ই উপার্জন। একটা উদাহরণ দেব কি, যেন সহজে বুঝতে পারেন?? নিন-
আপনাকে কেউ সম্মান প্রদর্শন করছেন, এটা আপনার অর্জন। ধরুন, আপনাকে কেউ কিছু উপহার দিল, এটাও আপনার অর্জন। ধরুন, আপনি ওয়ারিশ সুত্রে 5 বিঘা জমি পেয়েছেন, এটাও অর্জন। এগুলো উপার্জন নয়!! যা ব্যাবসা/ শ্রমের মাধ্যমে অর্জন করেন বা পান, তা'ই হল- উপার্জন। সম্পদ-সম্পত্তি অর্জনের অনেক পন্থা আছে, উপার্জনের পন্থা মাত্র 2 টি এবং তা হল- শ্রম ও ক্রয়-বিক্রয়!! মানে- উপার্জনই অর্জন কিন্তু সব অর্জন উপার্জন নয়!!
প্রশ্ন হবে- অর্জনের কিছু হালাল পন্থার কথা বললেন এবং জানিও কিন্তু একটা হারাম পন্থার কথা বলুন, যা পবিত্র কোরানে আল্লাহ বলেছেন!! পাঠক দেখবেন??তাহলে দেখুন, আল্লাহ কি বলেছেন-
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং তোমরা পরস্পরের সম্পদকে অন্যায়-অবৈধ ভাবে খেও না এবং শাসক/ বিচারকদের এমন ভাবে পেশ করও না, যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও অথচ তোমরা তা জানও"(2:188)। এখানে ঘুষের কথাও বলা হচ্ছে, মিথ্যা প্রমাণের কথাও বলা হচ্ছে!!
আচ্ছা, এখানে কেউ Lease এর কথা বলতে পারেন যে, এখান থেকেও তো উপার্জন হয়!! হ্যাঁ কিন্তু তা তো আর কোনও কিছু নয়, শুধু "বদল" মাত্র। আর তা তো ব্যাবসাই ও তার দলিল কোরানেই রয়েছে, যা 28:26 আয়াতের পরের আয়াত। আয়াতটি দেখুন-
قَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَىٰ أَنْ تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ ۖ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِنْدِكَ ۖ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ ۚ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"বলল [মূসা (আ)- এর হবু শ্বশুর শুয়াইব (আ) মূসা (আ)-কে], আমার এই 2 কন্যার মধ্যে 1 টি কন্যার সঙ্গে আপনার বিয়ে দিতে চাই। শর্ত হল- আপনাকে 8 বছর আমার কাছে শ্রমিকের চাকরি করতে হবে। যদি 10 বছর পূর্ণ করেন, তাহলে আপনার ইচ্ছা। আমি আপনার উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাই না, আপনি আমাকে সদা-সর্বদা সৎকর্মশীল অন্তর্ভুক্তই পাবেন- ইনশাআল্লাহ"(28:27)।
তারমানে হল- শ্রমিকের চাকরির বদলে থাকা-খাওয়া এবং Lease system হল- Lease দেওয়ার বদলে ভাড়া। তবে উক্ত আয়াতে Lease agreement এর মূল নীতিও বলা হয়েছে, তা হল- Lease holder এর উপর চাপ সৃষ্টি না করা। তবুও এখন যদি Lease এর হাদীস দেখতে চান, তা হলে এটা আপনার জন্য-
"আবদুল্লাহ ইবনু উমার [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আল্লাহর রাসুল [সা] খায়বারের জমি [ইহুদীদেরকে] এ শর্তে দিয়েছিলেন যে, তারা তাতে কৃষি কাজ করে ফসল উৎপাদন করবে, তার অর্ধেক তাদের প্রাপ্য হবে। ইবনু উমার (রা] নাফি [র]- কে বলেছেন যে- আল্লাহর রাসুল [সা]- এর যুগে কিছু মূল্যের বিনিময়ে জমিকে Lease এ দেওয়া হত, যার পরিমাণটা নাফি [র] নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন কিন্তু আমার তা স্মরণ নেই"(বুখারী, কিতাবুল ইজারা, হাদীস 2285, 2328, 2329, 2331, 2338, 2499, 2770, 3125, 4248)।
সুধী পাঠক, এবার আমরা জমি সম্পর্কিত বেশ কিছু আর্থিক লেন-দেন বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইছি। যে গুলোকে সাধারণ ভাবে হারাম বলে মনে করা হয়ে থাকে কিন্তু তা হালাল!! যেমন-
১) জমি/ পুকুর/ ঘর এবং অন্যান্য কিছু বন্ধক নেওয়া যাবে?? পাঠক, আমি উত্তর দেব, না কি আল্লাহর উত্তর চান?? কোরানে বলা হয়েছে- فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ অনুবাদ হবে এমন-"তবে বন্ধক রাখও"(2:283)।
২) লাভ/ মুনাফা ছাড়া কেউ কি কোনও কিছু বন্ধক নিতে চাইবে?? এক্ষেত্রে আমাদের সম্মানিত হারামখোর গুলো বলে- হারাম, হোসেন কুরানী কি বলবেন?? সুধী পাঠক, আপনার কি মনে হয়?? উত্তর কি হতে পারে?? চলুন দেখি-
"আবু হুরাইরাহ [রা] হতে বর্ণিত। নাবী মুহাম্মাদ [সা] বলেছেন- বন্ধকী প্রাণীর উপর আরোহণ করা যাবে ও দুধ দেওয়া প্রাণী বন্ধক থাকলে, তার দুধ পান করা যাবে। তবে বন্ধকী প্রাণীর খরচ বহন করবেন, যিনি বন্ধক নিয়েছেন"(বুখারী, কিতাবুর রিহান, হাদীস 2511 ও 2512)।
ছোট্ট প্রশ্ন- মনে করুন যে, জমি বন্ধক নিয়েছি, এখন জমি লাভ/ মুনাফা কিভাবে বের করব?? উত্তর সহজ তো- জমিতে চাষ করবেন। আর যদি নিজে চাষ না করেন, তাহলে উপরিউক্ত বুখারীর 2285 নং খায়বারের হাদীসটা মনে আছে?? ঐ ভাবে যার জমি, সে নিজেই চাষ করবে এবং আপনাকে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক দেবে। আপনি ফসলের হিসাব করে তার বদলে টাকাও নিয়ে নিতে পারেন!!
আরও কিছু প্রশ্ন- Flat/ ঘর বন্ধক নিলে?? উত্তর খুব সহজ- যদি খালি থাকে, নিজে ব্যবহার করুন। লাভ বা মুনাফা নিতে চাইলে Lease বা ভাড়ায় দিয়ে দিন। যদি খালি না থাকে এবং বন্ধকদাতা নিজেই তাতে বসবাস করেন, তাহলে তাকেই Lease holder বা ভাড়াটিয়া হিসাবে ধরে তার থেকে ভাড়া নিন। যদি অন্য ভাড়াটিয়া তাতে থাকে, তাহলে ঐ ভাড়া এখন থেকে আপনার!!
দোকান হলে একই নিয়ম। পুকুর হলে মাছকে ফসল ধরে নেবেন। যদি কোনও Factory হয়, তাকে জমি ধরে নেবেন। বুঝতে পারছেন, যদি 25.12.1991 এ হোসেন কুরানীর জন্ম না হতো, তাহলে কি হতো?? কোথায় পেতেন এ রকম উত্তর??
৩) চাষীকে মূলধন দিয়ে চাষ করানও যাবে এবং পরে মূলধনের অতিরিক্ত নেওয়া যাবে?? পাঠক, আপনার কি মনে হচ্ছে, উত্তর কি হতে পারে?? উত্তর খুব এবং খুবই সহজ- আপনি বলুন, চাষের জন্য মৌলিক চাহিদা কি কি?? জমি এবং মূলধন, তাই না??
উপরিউক্ত বুখারীর 2285 হাদীস অনুযায়ী যদি কিছু মূল্যের বিনিময়ে যদি জমি দেওয়া যায়, তাহলে অর্থ বা মূলধন দিয়ে বিনিময় নেওয়া যাবে না কেন?? এছাড়াও এই পদ্ধতির সুবিধা হল- চাষীকে চাষের জন্য বিনিয়োগ বা Invest করতে হচ্ছে না। একেই বলে- রথ দেখাও হল এবং সঙ্গে কলা বেঁচাও!!
এছাড়াও ধরা হয়ে থাকে যে, চাষী মানেই গরীব এবং দীন-দুখী কিন্তু যদি চাষে Invest শুরু হয়, তাহলে সমাজে চাষীর কদর ও Demand দু-ই বাড়বে। ফলত চাষী দিনে 2 গুণ, রাতে 4 গুণ উন্নতি করতে পারবে। তাই নয় কি?? বুঝতে পারছেন- যা বর্তমানে বড়-বড় University এর Degree ধারী অর্থনীতিবিদ'রা বলে থাকেন, তা আমার নাবী (সা) 1500 বছর বা 4 হাজার 730 কোটি 40 লক্ষ মূহুর্ত আগেই জানিয়েছেন!! তাই বলুন- সুবহানআল্লাহ।
সুতরাং পাঠক, আজই একটা ইমানদার চাষীর সঙ্গে ব্যাবসা শুরু করে দিন। যা আমার মহান দেশ ভারত সহ তৃতীয় বিশ্বের Economy'র জন্য বিরাট সুখবর!! আর এ থেকে শুরু হবে লক্ষ-লক্ষ কর্মসংস্থান।
ছোট্ট মতো প্রশ্ন- চাষে Invest কি ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে পড়বে?? উত্তর সহজ- চাষীকে অর্থ দিচ্ছেন কেন?? কারণ, চাষী চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনবেন এবং হয়ত শ্রমিক নিয়োগ করবেন, তাই না?? তাহলে ক্রয় হল তো?? আর রইল বিক্রয়, ফসল বিক্রয় হবে তো, তাহলে হল তো ক্রয়-বিক্রয়??
৪) জমি কেনা-বেচা এবং দালালী করা কি হারাম?? পাঠক, আপনার কি মনে হচ্ছে- হারাম?? তবে হ্যাঁ, যদি আমাদের সম্মানিত হারামখোরগণ উত্তর দিতেন, তা হলে তা হারামই হোত!! আসলে উনাদের নজরে ধর্মের ব্যাবসা ছাড়া সমস্ত কিছুই হারাম!! তবে, চিন্তা করার দরকার নেই, হোসেন কুরানী আছেন এবং এখন 121 বছরের বেশি আছেন। সুতরাং সঠিক দ্বীন তো আমরা (Team 'Quranic universe') ঘরে-ঘরে পৌঁছেই Rest নেব- ইনশাআল্লাহ!!
সুধী পাঠক, আমরা প্রথমেই কেনা-বেঁচার প্রসঙ্গটা মিটিয়ে নিই, হ্যাঁ?? এ বিষয়ে পবিত্র কোরানে আল্লাহ বলেছেন- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ হালাল করেছেন ক্রয়-বিক্রয়"(2:275)। সুতরাং বস্তু যদি হালাল হয়, তাহলে তার ক্রয়-বিক্রয়ও হালাল। এখানে আর কোনও কথা নেই, এখানেই সব শেষ!!
তবে অনেকে যা করেন, তা হল- একটা 1 বিঘা বা 20 কাটা জমি কিনল এবং তার দাম 2 লক্ষ টাকা কিন্তু ক্রেতা বিক্রেতাকে 1 লক্ষ টাকা দিয়ে বাকি 1 লক্ষ টাকা 6 মাসের মধ্যে দেওয়ার Agreement করে নিল। ঐ 6 মাসের মধ্যে একটা ক্রেতা খুঁজে প্রথম ক্রেতা দ্বিতীয় ক্রেতাকে 2 লক্ষ টাকার জমিটা 4 লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিল। তারপর মূল জমির মালিককে বাকি 1 লক্ষ টাকা দিয়ে প্রথম ক্রেতা দ্বিতীয় ক্রেতার থেকে 2 লক্ষ টাকা লাভ/ মুনাফা অর্জন করল- এভাবে ক্রয়/ বিক্রয় সম্পূর্ণ রুপে হারাম!! হাদীসটা দেখুন-
"ইবনু আব্বাস [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিষেধ করেছেন, তা হল- অধিকারে আনার পূর্বে খাদ্য বিক্রয় করা [অর্থাৎ সম্পূর্ণ রুপে ক্রয় না করে বিক্রয় করতে]। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন- আমি মনে করি, প্রত্যেক পণ্যের ব্যাপারে অনুরূপ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে"(বুখারী, কিতাবুল বাইয়া, হাদীস 2132, 2135)। এ হাদীস ছাড়াও আরও কয়েক টি একই ধরণের ভিন্ন-ভিন্ন সানাদের সহীহ হাদীস রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে কিভাবে ক্রয়/ বিক্রয় করব?? জমি বিক্রেতাকে পুরো 2 লক্ষ টাকা দিয়ে দিন। এখন জমির সম্পূর্ণ মালিক আপনি। হ্যাঁ, Registration করবেন কেন, তা বাকি রাখুন। বিক্রেতার সঙ্গে সেই ভাবেই Agreement করুন যে, আমি যখন বলব, তখন আমার নামে/ অন্য কারও নামে Registration করে দিতে হবে। এখন Registration না হলেও জমির সম্পূর্ণ মালিক আপনি। এবার 2 লক্ষ টাকায় কেনা জমি 4 লক্ষ টাকায় বিক্রি করুন বা 40 লক্ষ টাকায়, এই সবই হালাল।
পরের প্রশ্ন ছিল- দালালি। তাই না?? জমির সম্পূর্ণ টাকা না মিটিয়ে বিক্রি করাই হল- প্রতারণা মূলক দালালি। এটা সম্পূর্ণ হারাম, যা পূর্বেই দেখেছি, তাই না?? জমি বা কোনও কিছুর মূল মালিককে আসল দাম বা অন্যান্য তথ্য না জানিয়েই ক্রেতা খুঁজে মূল মালিকের পক্ষ থেকে জমি বা কোনও কিছু বিক্রি করা সম্পূর্ণ রূপে হারাম। হাদীসটা দেখে নিন-
"আনাস ইবনু মালিক [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- 'গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রি করা' হতে নিষেধ করা হয়েছে আমাদেরকে"(সাহুলীল বুখারী, কিতাবুল বাইয়া, হাদীস 2161)। এ বিষয়ে আরও একটা হাদীস দেখে নিতে পারেন, দেখবেন??
"ইবনু উমার [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- নাবী [সা] প্রতারণামূলক দালালি [দালালি করতে নয়] করা হতে নিষেধ করেছেন"(বুখারী, কিতাবুল বাইয়া, হাদীস 2142 ও 6963)।
ছোট্ট প্রশ্ন- তাহলে দালালি করার ইসলাম সম্মত পদ্ধতি কেমন?? উত্তর সহজ- কোনও কিছুর মূল মালিকের সঙ্গে কথা বলে নিন যে, আমি যদি এই বস্তুটা বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজে দিই, তাহলে আমাকে মূল দামের এত (.5%, 1%, 2%, 5-10%) টাকা দিতে হবে এবং ক্রেতার সঙ্গেও এভাবে কথা বলে নিন। তাহলেই হালাল হয়ে যাবে!!
এ বিষয়ে পবিত্র কোরানে আল্লাহ কি বলেছেন, তা কি দেখতে চাইবেন?? না চাইলেও আপনাকে দেখতে আমি বাধ্য করব। সুতরাং দেখুন- وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ অনুবাদ হবে এমন-"ধ্বংস বা দুর্ভোগ ঠকবাজদের জন্য"(83:1)।
৫) যত ইচ্ছা তত লাভ করা যায়, না কি লাভ করার কোনও সীমা আছে?? উত্তর সহজ- কোনও সীমা নেই। যত ইচ্ছা, তত লাভ করতে পারেন। এখন প্রমাণ চাইতে পারেন। তাহলে নিন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا। لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"হে ইমানদারগণ, তোমরা নিজেদের মধ্যে সন্তোষজনক লেন-দেনের মাধ্যম ছাড়া অবৈধ ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ খেও না"(4:29)। কোনও সীমা নেই। যত ইচ্ছা, তত দাম বলুন। ক্রেতাকে রাজি করাতে পারলে বিক্রি হবে, নয়ত জমি পড়েই থাকবে। সুতরাং ভাবনা-চিন্তা করে দাম বলবেন। তবে লাভের কোনও সীমা নেই!!
পরবর্তী প্রশ্ন- Agreement কিভাবে করব?? উত্তর সহজ- ক্রয়/ বিক্রয়ের Agreement হলে, ক্রেতা ও বিক্রেতার Postal address এবং 2 জন পুরুষ সাক্ষী। মহিলা হলে, 1 জন পুরুষ সমান = 2 জন মহিলা। প্রমাণ রয়েছে 2:282 আয়াতে।
আর যদি ঋণের Agreement হয়, তাহলে ঋণদাতা ও গ্ৰহীতার Postal address এবং 2 জন পুরুষ সাক্ষী। মহিলা হলে, 1 জন পুরুষ সমান = 2 জন মহিলা। প্রমাণ রয়েছে 2:282 আয়াতে। তবে ঋণের ক্ষেত্রে guarantor প্রয়োজন হয় এবং তা খুবই কার্যকর পদ্ধতি। সুতরাং guarantor এরও Postal address এবং তার দায়িত্বও লিখিত হবে, নিচে guarantor's signature'ও হবে। হ্যাঁ প্রমাণটা দেখে নিন-
"সালামা ইবনু আকওয়া [রা] হতে বর্ণিত যে, একদিন নাবী [সা]- এর কাছে জানাযার সালাত আদায়ের জন্য একটি জানাযা উপস্থিত করা হল। তখন নাবী [সা] জিজ্ঞেস করলেন- তার কি কোনও ঋণ আছে?? তখন সাহাবা [রা]- রা বললেন- না, নেই। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। তারপর আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন- তার কি কোনও ঋণ আছে?? সাহাবা [রা]- রা বললেন- হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন- তোমাদের সাথীর জানাযার সালাত তোমরাই আদায় করে নাও। আবু কাতাদাহ [রা] বললেন- হে আল্লাহর রাসুল [সা], তার ঋণের দায়িত্ব আমার উপর। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন"(বুখারী, কিতাবুল কাফালাহ, হাদীস 2295 ও 2289)।
পরবর্তী প্রশ্ন- কিছু Marketing company ভিন্ন পদ্ধতিতে তাদের বা অন্যদের Product বিক্রি করে থাকেন। যেমন- Chain/ Network marketing, direct selling পদ্ধতি। এগুলো কি হারাম??
এছাড়াও বেশ কিছু Online company আছে, যারা Chain/ Network marketing এর মাধ্যমে Mobile recharge ও Internet pack recharge গুলো direct sell করে, যা নিজ বাড়িতে থেকেই বন্ধুদের মধ্যে বিক্রি করা যায়। আমাদের সম্মানিত হারামখোররা এই গুলো কে হারাম বলেন, হোসেন কুরানী কি বলবেন??
সুধী পাঠক, আপনার কি মনে হয়, এ প্রশ্নের উত্তর কি হতে পারে?? মনে রাখবেন উত্তর কিন্তু খুব সহজ। চলুন বলে দিই, হ্যাঁ?? দেখুন- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ অনুবাদ হবে এমন-"আল্লাহ বৈধ করেছেন ক্রয়-বিক্রয়"(2:275)। তা হলে বিক্রয় হারাম হয় কিভাবে?? এখানে তো বিক্রয়ই হচ্ছে, তাই না??
প্রশ্ন হবে- নিচের কাউকে Product ক্রয় করিয়ে Join করালে তার থেকে কিছু লাভ আসে, সেটা কি হারাম হবে না?? উত্তর সহজ- এটা আসলে এক ধরণের দালালি, যা মালিকের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে এবং পূর্বে জেনেছি যে, তা জায়িয। আর এখানে ক্রেতাও জানে যে, কি হচ্ছে। তাই না??
প্রশ্ন হবে- Chain/ Network marketing company গুলো Man to man লাভ কোথায় থেকে দেয়?? উত্তর সহজ- আসলে সাধারণ Company গুলো তাদের Product বিক্রি করার জন্য শত-শত/ হাজার-হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয়। তাই না??
সেখানে Chain/ Network marketing company গুলো Man to man বিজ্ঞাপন দেয় কিন্তু খরচ নেই আথচ Product বিক্রি করছে। সেই বিজ্ঞাপনের বেঁচে টাকা তারা Man to man দালালি হিসাবে দেয়। আর যেহেতু তারা বিজ্ঞাপন দেয় না, সেহেতু তাদের প্রচুর টাকা Save হয় এবং এ জন্য তাদের Product এর Quality'ও বেশ ভাল হয়। সুতরাং ক্ষতি কারও হয় না কিন্তু সাধারণ মানুষের লাভ হয়। তাহলে তা হারাম হয় কোন যুক্তিতে??
এর পরও যদি কোনও সম্মানিত হারামখোর Chain/ Network marketing কে হারাম বলে, তাহলে তাকে রাচিঁতে ভর্তি করার ব্যবস্থা করুন, নয়ত তারা এবার কামড়াতে শুরু করবে, তখন আবার 14 টা Injection নিতে হবে। হ্যাঁ, যদিও এখন আর 14 টা Injection দেওয়া হয় না, দেওয়া হয়- মাত্র 5 টি!!
প্রশ্ন হবে- অনেকেই Commission নেওয়াকে হারাম বলে মনে করেন, হোসেন কুরানী কি বলবেন?? উত্তর খুবই সহজ- Commission ও দালালি একই পর্যায়ের। সুতরাং এ ক্ষেত্রে দালালির বিধানই প্রযোজ্য হবে। তা হলে Commission নেওয়াও হালাল হবে!!
পরবর্তী প্রশ্ন- কোরান ব্যাবসা পছন্দ করে, না কি চাকরি?? অনেক মুসলিমই চাকরিকে গুলামী করা মনে করেন, হোসেন কুরানী কি বলবেন?? উত্তর খুবই সহজ- কোরান 2 টিই পছন্দ করে। আমরা 2:275 এবং 28:26-27 আয়াত 2 টিই তুলে ধরেছি। একবার উপরে গিয়ে দেখে নিন Please.
পরবর্তী কঠিন প্রশ্ন- সবই যদি হালাল, তাহলে সুদের একটা উদাহরণ দিন। উত্তর সহজ- আগেই তো আমরা জেনেছি যে, ক্রয়-বিক্রয় ছাড়া যে লাভ/ মুনাফা আসে, তা'ই সুদ!! এবার উদাহরণ। ধরুন, এক মানুষ আপনার কাছে এসে বলল- ঘরে খাবার মতো চাল-ডাল নেই, আমাকে 1000/- ঋণ দিন, আমি আপনাকে 1 মাসের মধ্যে পরিশোধ করব। তখন আপনি বললেন- দিতে পারি, তবে শর্ত হল- 1000/- এর সঙ্গে 100/- বা 10% অতিরিক্ত দিতে হবে!!
পাঠক, এই 10% বা 100 টাকা অর্জন করা'ই হল পবিত্র কোরানের দৃষ্টিতে সুদ!! আর 10% বা 100 টাকা নয় বরং এই 1000/- এর সঙ্গে 1 পয়সা অতিরিক্ত নেওয়াও সুদ বলে গণ্য হবে এবং এই সম্পর্কে নাবী (সা)- এর কঠিন বক্তব্যটা শুনে সুদ নেওয়া হতে ফিরে আসুন। দেখুন-
"আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল [স] বলেছেন- সুদের গুনাহর সত্তরটি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে ক্ষুদ্র স্তর হল- আপন মাকে বিবাহ করা"(ইবনে মাজাহ, কিতাবুল তিজারাত, হাদীস 2274)। এ জন্যই পবিত্র কোরানে আল্লাহ বলেছেন-
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ●
অনুবাদ হবে এমন-"যারা সুদ খায়, সেদিন কখনও তারা দাঁড়াতে পারবে না। তবে তারা এমন ভাবে দাঁড়াবে, যেন শায়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে"(2:275)।
পরবর্তী প্রশ্ন- অনেকে বলেন যে, ব্যাবসা ও সুদ তো অনেকটা একই রকম!! এ বিষয়ে হোসেন কুরানী কি বলবেন?? উত্তর সহজ- আমাদের সম্মানিত হারামখোর দের জন্য ব্যাবসা ও সুদ একই রকম মনে হয়। কারণ তারা ব্যাবসা ও সুদের মধ্যে সুক্ষ্ম পার্থক্য আমাদের শেখাতে পারেন নি। আর নিজেরা জানলে তবেই তো শেখাবেন!! তাই না?? আমিও পাগল, তাদের উপর আশা করছি!!
যাইহোক, আপনি কি ব্যাবসা ও সুদের সুক্ষ্ম পার্থক্যটা দেখতে চান?? দেখুন, আল্লাহ কোরানে কি বলেছেন!! আচ্ছা পাঠক, আপনি কি বলতে পারবেন- এখন আমি কোন আয়াতটা তুলে নিয়ে আসব?? এত চিন্তা করতে হবে না, এই নিন দেখুন-
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا●
অনুবাদ হবে এমন-"যারা সুদ খায়, সেদিন কখনও তারা দাঁড়াতে পারবে না। তবে তার এমন ভাবে দাঁড়াবে, যেন শায়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে!! এটা এ জন্য যে, তারা বলে- ব্যাবসা তো সুদেরই মতো অথচ আল্লাহ ব্যাবসা [ক্রয়-বিক্রয়] কে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন"(2:275)।
পাঠক, ব্যাবসা ও সুদের পার্থক্যটা মনে আছে, না কি আরও একবার বলব?? ক্রয়-বিক্রয়ের লাভ/ মুনাফা হালাল, এখানে Invest'ও হালাল এবং তা হল- ব্যাবসা। ঋণের বদলে অতিরিক্ত টাকা অর্জনই হল- সুদ এবং তা নিঃসন্দেহে হারাম!!
পরবর্তী প্রশ্ন- সুদখোর কি কাফির?? সুধী পাঠক, এই প্রশ্নটি বেশ ছোট্ট কিন্তু উত্তর খুব বড় হবে। তাই ব্যাখ্যায় না গিয়ে সরা-সরি উত্তর দেব এবং উত্তর হল- সুদখোর কাফির, যদিও সুদখোরকে সরা-সরি কাফির বলা হয় নি!! এখন প্রমাণ চাইবেন, তাই না?? তাই প্রমাণ ১'ম প্রমাণ- وَمَنْ عَادَ فَأُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অনুবাদ হবে এমন-"পুনরায় সুদ নেবে, তাদের স্থান হবে আগুন এবং তারা সেখানে স্থায়ী হবে"(2:275)।
এখানে মনে রাখার বিষয় হল- মুমিন জাহান্নামে যেতে পারে কিন্তু স্থায়ী হবে না কিন্তু এখানে স্থায়ী হচ্ছে। তাই না?? জাহান্নামে স্থায়ী কারা হবে, মুমিন না কাফির?? উত্তর সহজ- কাফির। আয়াতটি দেখুন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ أُولَٰئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় যারা হয়েছে কাফির আহলে কিতাবদের মধ্যে থেকে এবং মুশরিক, তারা থাকবে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে চিরস্থায়ী ভাবে। তারাই সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট"(98:6)। আর ২'য় প্রমাণ রয়েছে 2:279 আয়াতে। বিস্তারিত বলছি না, আমার পাঠক হলে অবশ্যই বুঝে নেবেন। যদি বুঝতে না পারেন, তা হলে আমাদের লেখা আর পড়বেন না!!
পরবর্তী প্রশ্ন- ধরুন, বড়গাছিয়ায় আপনার একটা কাপড়ের দোকান আছে কিন্তু দোকানে পর্যাপ্ত কাপড় নেই। তাই আপনি হোসেন কুরানীর কাছে এলেন, এসে বললেন- Sir, আপনি আমার ব্যাবসায় 3 লক্ষ টাকা Invest করুন। ফলত আমি আপনার 3 লক্ষ টাকা ব্যবহার করে প্রতি মাসে গড়ে 10 হাজার টাকা লাভ/ মুনাফা করতে পারব, তা থেকে আপনি 3 হাজার টাকা লাভ/ মুনাফা পাবেন!!
এখন প্রশ্ন হল- এভাবে Invest করা ও Profit নেওয়া হালাল?? উত্তর সহজ- যদি চাষের ক্ষেত্রে হালাল হয়, ব্যাবসার ক্ষেত্রে নয় কেন?? এছাড়াও পূর্বে আমরা 2:275 আয়াতের আলোকে দেখেছি যে, শুধুমাত্র ঋণের অতিরিক্ত নেওয়া সুদ কিন্তু ব্যাবসার ক্ষেত্রে তা Profit বা লাভ/ মুনাফা!!
বলে রাখা উচিৎ যে, এভাবে Invest করা ও Profit নেওয়া যে কোনও ব্যাবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সেটা হতে পারে 'মুদি দোকান' বা Gold অথবা Diamond business বা অথবা অন্য কোনও কিছু!!
সুধী পাঠক, এবার আমরা আপনাদেরকে পৃথিবী বদলে দেওয়ার মতো Idea দিই, হ্যাঁ?? আমরা জানি- এ পৃথিবীতে লক্ষ-লক্ষ, হয়ত কোটি-কোটি এমন মানুষ আছেন, যাদের লক্ষ-লক্ষ (কমপক্ষে 1-5 লক্ষ) টাকা আছে। তাই না??
সুতরাং বেকার শুধু-শুধু টাকা বাড়িতে বা সামান্য লাভের জন্য Bank এ জমা করে রেখেছেন কেন?? ঐ 5 লক্ষ টাকাটা আপনার পরিচিত ও বিশ্বস্ত 2 জন গরিব ও শিক্ষিত বেকার ছেলেকে দিয়ে ব্যাবসা করার সুযোগ দিন। তারা ব্যাবসা করবে, তারা বেকারত্বের কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে এবং আপনি মোটা অঙ্কের টাকা লাভ/ মুনাফা পাবেন!!
প্রশ্ন হবে- লোকসান হলে কি হবে?? এ প্রশ্নের উত্তরে সম্মানিত হারামখোররা বলে থাকেন- লাভ/ মুনাফা নিলে, লোকসানও নিতে হবে। নয়ত ঐ লাভ/ মুনাফা সুদ বলে গণ্য হবে!!
আচ্ছা পাঠক, এটা একটু গায়ের জোরের কথা বলে মনে হল না?? বিনিয়োগকারি লোকসান নেবেন কেন??তিনি কি ব্যাবসার দায়িত্বে ছিলেন?? তাহলে তিনি কেন লোকসান নেবেন??
হ্যাঁ Partnership হলে 2 জনের দায়িত্ব হতো, সেই ক্ষেত্রে লাভ-লোকসান 2 জনই নেবে কিন্তু এই ক্ষেত্রে তো বিনিয়োগকারি কোনও দায়িত্বেই নেই, বিনিয়োগ গ্ৰহণকারির দায় বিনিয়োগকারি নেবেন কেন?? তাই না পাঠক?? এবার কোরানের আয়াতটি দেখুন-
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۚ وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَىٰ حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং কেউ বহন করবে না অন্যের বোঝা এবং যদি কাউকে বোঝা বহনের জন্য আহ্বান করে, তবুও নয়। তার নিকটস্থ আত্মীয় হলেও"(6:164, 17:15, 35:18)।
তাই সহজ প্রশ্ন- বিনিয়োগ গ্ৰহণকারির দায়িত্বে এবং পরিচালনায় থাকা ব্যাবসায় যদি লোকসান হয়, তার বোঝা বিনিয়োগকারি বহন করবে কেন?? সুতরাং যার দায়িত্বে লোকসান হবে, সে'ই তার বোঝা নিজে বহন করবে!! এছাড়াও প্রমাণ 6:31 আয়াতেও আছে, দেখে নিতে পারেন।
প্রশ্ন হবে- বিনিয়োগ গ্ৰহণ কারির ব্যাবসায় লোকসান হয়ে গেলে বা টাকা আত্মসাৎ করলে বিনিয়োগকারি কি করবেন?? উত্তর অনেক বড় হবে কিন্তু আমরা শুধু মৌলিক আলোচনাই করব। দেখুন-
1) আপনি বিনিয়োগ গ্ৰহণ কারিকে সমগ্র ব্যাবসার মূলধন দেবেন না, 2) যদি ব্যাবসার জন্য মোট মূলধন 5 লক্ষ টাকা লাগে, আপনি তাকে 2.5 লক্ষ বা 3-4 লক্ষ টাকা দেবেন, 3) যেন লোকসান হলেও, আপনার টাকা Save থাকে, লোকসান যেন বিনিয়োগ গ্ৰহণ কারির হয়, কারণ লোকসান হয়ে তো আর গোটা ব্যাবসা নিঃশেষ হয়ে যায় না, নিদিষ্ট একটা অংশই লোকসান হবে, তাই না?? 4) লোকসান হওয়ার পর, বিচার বিবেচনা করে দু টি কাজ করতে পারেন- ১) এখন আপনি শুধুমাত্র আপনার মূলধন দিয়ে তাকে ব্যাবসা করার সুযোগ করে দিতে পারেন। নয়ত ২) আপনি আপনার মূলধন তুলে নিতে পারেন, 5) যদি আপনার মূলধন থেকেও কিছুটা লোকসান হয়, তাহলে তিনটি কাজ করতে পারেন- ১) এখন আপনি শুধুমাত্র আপনার বেঁচে থাকা মূলধন দিয়ে তাকে ব্যাবসা করার সুযোগ করে দিতে পারেন। নয়ত ২) বেঁচে থাকা মূলধন তুলে নিতে পারেন। আর ৩) তাকে কিছুটা অবকাশ দিন, লোকসান হওয়া মূলধন ফিরে পাওয়ার জন্য, 6) যদি পুরো লোকসান হয়, তখন অবকাশ দেওয়া ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনও Option থাকবে না। তবে, আরও একটা Option আছে, যদি পুরো লোকসান হয়, সেটা Agreement এর নিয়মে উল্লেখ করব- ইনশাআল্লাহ!! হ্যাঁ, এখানে উক্ত 5 ও 6 নং নিয়মের দলিল হল-
فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ + وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"অবশ্যই মূলধন ফিরে পাবে, তবে অত্যাচার করবে না, অত্যাচার সহ্যও করবে না। যদি একেবারেই অভাবী হয়, তাহলে তাকে [বিনিয়োগ গ্ৰহণ কারিকে] সচ্ছলতা পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া প্রয়োজন আছে"(2:279-280)।
প্রশ্ন হবে- এই ধরণের Agreement কিভাবে করব?? উত্তর সহজ- Agreement এর মূলনীতি আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, তা'ই অনুসরণ করবেন। তবে আরও কিছু শর্ত আরোপ করা যেতে পারে, যেমন-
1) বিনিয়োগকারি শর্ত দেবেন- লোকসান আমি নেব না, তা বিনিয়োগ গ্ৰহণ কারি নেবেন, 2) যদিও কোনও ভাবে লোকসান হয়, তা নিদিষ্ট সময় ভিত্তিক ফিরিয়ে দিতে হবে, 3) যদি লোকসান পূরণ করতে অস্বীকার করা হয়, তখন প্রশাসনিক/ আইনত ব্যবস্থা নেব, 4) যদি বিনিয়োগ গ্ৰহণ কারির কোনও সম্পত্তি থাকে, তা জামিন হিসাবে রাখতে পারেন, 5) লোকসান পূরণ করতে অস্বীকার করলে আইনের মাধ্যমে সেই সম্পত্তির দখল নিতে পারেন!!
সুধী পাঠক, বিনিয়োগকারি (আপনি) যদি এ রকম করেন, তাহলে লোকসানের সম্ভাবনা 1% এর থেকেও কম। তাই না?? এখন প্রশ্ন হবে- যদিও কেউ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ নেয়, তখন?? পাঠক, কি উত্তর হতে পারে??
উত্তর সহজ- আপনি তার যে সম্পত্তিটা জামিন রেখে ছিলেন, তার দখল নিয়ে নিন। এখন প্রশ্ন- যদি ঐ সম্পত্তিটা মিথ্যা বা প্রতারণা হয়, তখন?? উত্তর খুবই সহজ- Agreement paper টা তো আছে, প্রশাসন/ আইনের সাহায্য নিন। বিনিয়োগ গ্ৰহণ কারিকে আল্লাহ বলেন- إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, অবশ্যই যার আমানত [বিনিয়োগ], তাকে ফিরত দেবে"(4:58)।
প্রশ্ন হবে- পরিশ্রম না করে 'অর্থ অর্জন' গ্ৰহণ করলে তো সুদ বলে গণ্য হবে, তাই না?? উত্তর সহজ- না, এটা চুড়ান্ত মিথ্যা কথা। যদি তাই-ই হয়, তাহলে প্রায় প্রতিটি ভারতীয় সুদখোর। কেননা, তারা L P G তে Subsidy বা ভর্তুকি নেয় এবং এটা বিনাশ্রমে অর্থ অর্জন, তাই নয় কি??
আর শুধু L P G নয়, কম-বেশি শত বস্তুতে ভর্তুকি দেওয়া হয়, তাহলে সবই সুদ?? তাহলে ওয়ারিশ সুত্রে 'সম্পদ অর্জন'ও সুদ, শ্রম তো এখানেও হয় না, তাই না?? তাহলে বিভিন্ন ভাতা'ও তো সুদ হবে, যা আমার পছন্দের খালিফা উমার (রা) শুরু করেছিলেন!!
প্রশ্ন হবে- এভাবে বিনিয়োগ করলে পৃথিবী বদলাবে কিভাবে?? উত্তর সহজ- বিনিয়োগ হওয়ার অর্থ হল যে, টাকার বাজারজাত হওয়া। টাকা বাজারজাত হলেই মানুষ টাকা রোজগার করতে পারবে, রোজগার হলেই প্রয়োজনীয় বস্তুর ক্রয় হবে, ফলত Product এর চাহিদা বাড়বে।
আর Product এর চাহিদা বাড়লেই মানুষ কাজ পাবে। আর Selling থেকে সরকারের Tax collection বাড়বে, Tax এর % কমবে। ফলত বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে, বেকারত্বের সমস্যা আরও অনেক কমে যাবে!! সরকার Public service বাড়াবে ও জনগণের জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে। তাই না??
প্রশ্ন হবে- বিনিয়োগ না হলে?? উত্তর সহজ- ঠিক এর বিপরীত হবে। যদি 2.5 লক্ষ টাকা Holder রা বিনিয়োগ শুরু করেন, তা হলে ভারত আগামী 10 বছরে Super power তো হবেই, তার সঙ্গে America কে Replace করে দিতে পারবে- ইনশাআল্লাহ। যদি বাংলাদেশের কথা বলি, তাহলে অর্থায়নে সৌদি আরবকে Replace করে দেবে- ইনশাআল্লাহ!!
প্রশ্ন হবে- Share market এ Invest কি হালাল?? উত্তর সহজ- Share market কি?? এখানে বিভিন্ন Company তাদের মোট Product এর Share বিক্রি করে এবং আপনি তাদের Share কেনেন অর্থাৎ তাদের Company'র Product এ Invest করেন!! তাই তো, না কি??
ফলত Product বিক্রি করে Company'র লাভ হলে আপনার লাভ হয়, আর Company'র লোকসান হলে আপনারও লোকসান হয়। তাই না?? এটা সম্পূর্ণ হালাল তো, এখানে হারাম পেলেন কিভাবে/ কোথায় থেকে?? এছাড়াও আমরা আগেই জেনেছি যে, ক্রয় ও বিক্রয় হালাল এবং তাতে Invest'ও হালাল। আর এখানে ক্রয়-বিক্রয়ই তো হচ্ছে এবং Invest'ই তো হচ্ছে!!
প্রশ্ন হবে- Cash back কি হারাম?? উত্তর খুব এবং খুবই সহজ- না, হারাম নয়, মোটেও হারাম নয়!! যদি কোনও Company তাদের প্রচারের জন্য আপনাকে কিছু উপহার দেয় (যার নাম- Cash back), তা হারাম হয় কিভাবে??
ছোট্ট প্রশ্ন- এটা কি বিনা শ্রমে অর্থ অর্জন হচ্ছে না?? এ প্রশ্নের উত্তর একটু উপরে আছে, দেখে নিন!! এছাড়া আমাদের বড়রাও ছোটদের অর্থ উপহার দেন, তাহলে কি তাও হারাম?? এ সব গাঁজাখুরি ফাতুয়া আপনার কাছে রাখুন, আপনাদের (আলিম বা সম্মানিত হারাম খোরদের) যুগ/ সময় শেষ, এটা কুরানীর সময়!!
প্রশ্ন হবে- বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ গ্ৰহণ কারি কোথায় পাবও?? উত্তর সহজ- যদি কোথাও না পান, তাহলে হোসেন কুরানী বলে একজন আছেন, আপনি তার ব্যাবসায় বিনিয়োগ করতে পারেন। এখানে বিনিয়োগে কোনও ঝুঁকি নেই। কারণ (সেই মহিলাকে বলা একটা মিথ্যা ছাড়া) হোসেন কুরানী জীবনে জ্ঞানত মিথ্যা বলে নি এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নি!! এখানে 1 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে 1 হাজার নিদিষ্ট সময়ে লাভ/ মুনাফা পাবেন- ইনশাআল্লাহ!!
পরবর্তী প্রশ্ন- Banking সম্পর্কে কোরানের নীতিমালা কি/ কেমন?? উত্তর সহজ- Banking এর মূলনীতি উপরিউক্ত 4:58 আয়াতে বলা হয়েছে। আয়াতটি আর এখানে দেব?? একটু উপরেই আছে, দেখে নিন না!!
প্রশ্ন হবে- Bank থেকে Lone নিয়ে ব্যাবসা করা বৈধ হবে?? উত্তর সহজ- যদিও Bank আপনার থেকে সুদ উল্লেখ করে নেয় বটে কিন্তু তা সুদ বলে গণ্য হবে না। কারণ, ব্যাবসার বিপরীতে সুদ হয় না, হয় লাভ। ঋণের বিপরীতে সুদ হয়। তাই Bank থেকে Lone নিয়ে ব্যাবসা করা বৈধ হবে, অবশ্যই বৈধ হবে!!
প্রশ্ন হবে- Bank থেকে Lone নিয়ে বাড়ি, গাড়ি কেনা বৈধ হবে?? পাঠক, বলুন তো উত্তর কি হবে?? উত্তর সহজ- বৈধ হবে না, হারাম!! কারণ, ব্যাবসার বিপরীতে সুদ হয় না কিন্তু ঋণের বিপরীতে সুদ হবে, আর তা হারাম!! তবে হ্যাঁ, যদি Commercial vehicle হয়, তা হলে হালাল/ যদি Commercial house হয়, তাহলেও হালাল হবে!!
প্রশ্ন হবে- Bank থেকে Student lone বা অন্যান্য Lone নেওয়া বৈধ হবে?? উত্তর সহজ- তা হারাম, এতে কোনও সন্দেহ নেই, এটাই মূলনীতি যে, Commercial না হলেই হারাম- খুব সহজ বিষয়, তাই না?? আচ্ছা পাঠক, আমরা কিন্তু আপনাকে মুজতাহিদ/ গবেষক/ Researcher হওয়ার করে সুযোগ দিচ্ছি, আপনি কি এটা বুঝতে পারছেন??
প্রশ্ন হবে- নিজস্ব তাহলে গাড়ি/ বাড়ি/ সামগ্রী কেনার সময় টাকার প্রয়োজন হয়, তখন কি করব?? উত্তর সহজ কিন্তু এক কথায় উত্তর হবে না, বিস্তারিত বলতে হবে। নয়ত এক কথায় উত্তর হবে- হারাম!!
তবে এই পদ্ধতিকে হালাল করার 3 টি উপায় আছে। তার ১) যদি একান্তই প্রয়োজন হয় এবং অন্য কোনও উপায় না থাকে, তাহলে মজবুরির ক্ষেত্রে হারাম হালাল বলে গণ্য হবে। প্রমাণ দেখুন-
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর উপর/জন্য হারাম করেছেন মৃত [পশু], রক্ত ও শূকরের মাংস এবং এমন বস্তুও, যার ওপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নাম নেয়া হয়েছে। তবে যদি কেউ বিদ্রোহী না হয়ে, শুধুমাত্র নিরুপায় হয়ে সীমালঙ্ঘন করে, তার গুনাহ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়াপূর্ণ সত্ত্বা"(2:173, 5:3, 6:145, 16:115)।
পাঠক, উক্ত আয়াত থেকে কি বুঝলেন?? মজবুরিতে হারাম হালাল হয়ে যায়, তাই না?? ২) Islamic bank থেকে টাকা নিয়ে কিনুন, মূল টাকা পরিশোধ করতে থাকুন এবং সঙ্গে সুদের বদলে ভাড়া দিন, ৩) যদি Islamic bank না থাকে, তাহলে সাধারণ Bank এর উপর Islamic bank এর নীতি ধরে চলুন।
অর্থাৎ যেমন- ঋণ করে থেকে যে টাকাটা নিচ্ছেন এবং তা নিয়ে বাড়ি কিনছেন, তার জন্য মূল টাকা সহ প্রতি মাসে নিদিষ্ট কিছু সুদ সহ E M I (ই এম আই) দিচ্ছেন, তাই না?? এখানে মূল টাকাটা অবশ্যই মূল টাকা, আর সুদকে ভাড়া ধরে নিন!!
প্রশ্ন হবে- Credit card সম্পর্কে বিভিন্ন জন ভিন্ন-ভিন্ন কথা বলেন, হোসেন কুরানী কি বলবেন?? উত্তর কঠিন নয়, খুবই সহজ- Credit card system টা মনে হয় এই রকম যে, আপনার উপার্জন হিসাবে Bank আপনাকে Credit এ ক্রয় করার Limit দেয়, তাই না?? তার যখন আপনি Bank কে টাকা পরিশোধ করতে যাবেন, তখন নিদিষ্ট পরিমাণ সুদ নেবে, তাই তো??
সুধী পাঠক, আপনি উপরে 2295 ও 2289 হাদীসটি পড়েছেন?? যদি পড়ে থাকেন, তাহলে জানবেন- ঋণ ইসলামে জায়িয হলেও, তা অনুৎসাহিত। কোরান নগদ অর্থে ক্রয়ের প্রতি অনুৎসাহিত করে। আয়াতটি দেখে ঋণ করার চিন্তা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন-
فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هَٰذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنْظُرْ أَيُّهَا أَزْكَىٰ طَعَامًا فَلْيَأْتِكُمْ بِرِزْقٍ مِنْهُ●
অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা তোমাদের একজনকে মুদ্রা দিয়ে এই শহরের দিকে পাঠাও। তবে সে যেন দেখে পবিত্র খাদ্য কোনটি, অতপর তা হতে তোমাদের কাছে নিয়ে আসবে রিজিক/ খাদ্য"(18:19)। তবে, ঋণ করা হারাম নয়, নাবী (সা) নিজেই ঋণ করেছিলেন-
"আয়িশাহ [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সা] জনৈক ইহুদীর কাছ হতে নির্দিষ্ট সময়ের মেয়াদে খাদ্য শস্য খরিদ করেন, বদলে নিজের বর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন"(বুখারী, কিতাবুর রিহান, হাদীস 2509 এবং 2068)। তবে, এই হাদীসটাও দেখুন-
"আয়িশাহ [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসুল [সা] সালাতে এই বলে দুয়া করতেন- হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে গুনাহ, ঋণ হতে আশ্রয় চাইছি। একজন প্রশ্নকারী বলল- আপনি ঋণ হতে এত বেশি বেশি আশ্রয় চান কেন?? তিনি বলেলেন- মানুষ ঋণগ্রস্ত হলে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে"(বুখারী, কিতাবুল আসতাকরাদ, হাদীস 2397 ও 832)।
পাঠক, মনে হয় আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তবে আজ ঋণ করে কিনে 1 মাস পর টাকা পরিশোধ করে সুদ দেওয়ার চেয়ে ভাল হল- 1 মাস পর নগদে কেনা। সুদের টাকাটা বেঁচে গেল, কেনাও হয়ে গেল, গুনাহ থেকেও বেঁচে গেলেন!! হাদীসটি দেখুন-
"আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- আল্লাহর রাসুল [সা] সুদখোর, সুদদাতা, সুদের দলীল লেখক এবং সাক্ষী- সকলের উপর লা'নত করে ছেন"(আবু দাউদ, কিতাবুল বাই'য়া, হাদীস 3300)।
তাই Credit card system হারাম। আর এখানে কেউ হয়ত মজবুরির কথা বলবেন, সেক্ষেত্রে বলতে পারি- মজবুরির বিষয়টি ভিন্ন কিন্তু খাদ্য দ্রব্য ছাড়া মজবুরি কি আসলেই বুজবুরির মধ্যে পড়ে??
এ বিষয়ে হোসেন কুরানী একটা নীতি আছে, তা গ্ৰহণ করতে পারেন, জীবনে উন্নতি করতে পারবেন, আপনি শুনবেন?? টাকা নেই খাবেন না, শুকিয়ে থাকবেন। সকালে কাজে গিয়ে দুপুরে রোজগার করে ফিরে আসার সময় খাবার নিয়ে ঘরে আসবেন। তবুও ঋণ করবেন না। সেই খাবার খেয়ে দেখবেন, তার স্বাদ পৃথিবীর যে কোনও স্বাদের চেয়ে উত্তম!!
আমার আব্বা আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আমরা যখন খেতে পেতাম না, তখন 130/- রোজে Kolkata corporation এ ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতাম, তখন এই নীতিতেই জীবন চালাতাম। আজ আলহামদুলিল্লাহ, আমার ব্যাবসাই কমপক্ষে 4.3 কোটি টাকার!!
প্রশ্ন হবে- সাংসারিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে 2/ 5/ 10/ 15 হাজার টাকা দরকার হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে কি করণীয়?? খুব দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি- এই রকম কোনও System আমাদের সম্মানিত হারামখোর গণ বিকশিত করতে পারেন নি, কমপক্ষে ভারত উপ মহাদেশে এই রকম কোনও System নেই!! এখন 2 টি উপায় আছে- ১) কোনও মুসলিম ভাইয়ের থেকে ঋণ নিন, ২) সুদের উপর ঋণ নিতে হবে। আর অন্য কোনও উপায় নেই!!
প্রশ্ন হবে- সুদের উপর ঋণ নিলে গুণাহ হবে না?? উত্তর সহজ- ইচ্ছা করে নিলে গুনাহ হবে কিন্তু কার শখ আছে সুদ দেওয়ার!! মানুষ সুদ ছাড়াই ঋণ নিতে চাইবে কিন্তু সুদের উপর ঋণ মজবুরিতেই নেয়। আর বাধ্য হলে গুনাহ নেই। একটু উপরে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই না??
পাঠক, এবার আমরা ছোট্ট একটা কাহিনী শোনাতে চাই, আপনি কি শুনতে চাইবেন?? ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলী জেলার লক্ষণ'পুর গ্ৰামের হোসেন কুরানী নামক "পাগল" টাকে চেনেন?? এই পাগলটার একটা খারাপ গুণ আছে। জানেন, তা কি?? এই পাগল টা 'কোরান তৎসংলগ্ন সহীহ ও হাসান হাদীস'কে অর্থাৎ আল্লাহ ও তার রাসুল (সা)- কে সমস্ত কিছুর চেয়েও অনেক বেশি ভালবাসেন, সেই মহিলার চেয়েও অনেক বেশি!!
হোসেন কুরানী Islamic international institute of India নামক সংস্থা থেকে শুরু করেছিলেন- Islamic gold lone, without interest অর্থাৎ সোনার উপর সুদ ছাড়া ইসলামিক ঋণ।
কিন্তু আপনি কি জানেন- মুসলিম সমাজের দুর্ভাগ্য কি?? মুসলিম সমাজ তার ভাল/ খারাপ বোঝে না। এই ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম হল না, তাই-ই হল!! হোসেন কুরানী এই 'সোনার উপর সুদ ছাড়া ইসলামিক ঋণ' শুরু করে ছিলেন 2013 তে। এক-এক করে মোট লেন-দেনকারি Customer এর সংখ্যা পৌঁছে যায় 2600 তে এবং 70 টি গ্ৰামে, 2019 এর মাঝা-মাঝি পর্যন্ত। তারপর এই মহান উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়!!
প্রশ্ন হবে- এত টাকা আসত কোথায় থেকে?? উত্তর সহজ- মনে রাখবেন যে, হোসেন কুরানী ও তার সঙ্গীরা গরিব নয়!! হোসেন কুরানী ও তার সঙ্গীরা তাদের টাকা সংস্থায় জমা রেখেছিলেন, সেই টাকাতেই Islamic gold lone, without interest চলত। এই জমাকৃত টাকার 50% এর বেশি ছিল হোসেন কুরানীর। এই নেক কাজটি করার জন্য হোসেন কুরানী তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নকেও স্থগিত করে দিয়েছিলেন!!
প্রশ্ন হবে- কেমন ছিল এই Islamic gold lone এর নিয়ম-নীতি?? উত্তর খুব সহজ- নিয়মও ছিল খুব এবং খুবই সহজ!! নিয়ম ছিল- ₹ 1000/- থেকে ₹ 15, 000/-
পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হতো 5 মাসের জন্য এবং তা সোনার বিনিময়ে। টাকা পরিশোধের জন্য 5 মাসে 5 টি সহজ Installment এর সুবিধা দেওয়া হতো অর্থাৎ 1000/- নিলে মাসে 200/- করে Installment হতো, 15, 000/- হলে মাসে 3000/- করে Installment হতো। যদি কেউ Installment দিতে দেরি করত, তার জন্য প্রতি 1000/- এ 1/- করে Fine নেওয়া হতো। তারমানে হল- ধরুন যে, আপনি 15, 000/- ঋণ নিয়েছেন এবং 1'ম মাসের Installment জমা করতে 2 দিন দেরি হয়েছে, সেই জন্য 15, 000/- হিসাবে 15/- × 2= 30/- fine হতো। এ বার ধরুন যে, 1'ম মাসে Fine সহ 3030/- জমা করে দিয়েছেন এবং 2'য় মাসে আবার 2 দিন দেরি হয়েছে, সেই জন্য 12, 000/- হিসাবে 12/- × 2= 24/- fine হতো।
মজার ব্যাপার হল- কেউই Fine করতে চাইত না। কারণ সঠিক সময়ে জমা করলেই সোনায় সোহাগা!! তাই না?? মোট 1.5% মানুষেরই Fine হতো মাত্র, তাও 2-4 দিনের বেশি নয়!!
প্রশ্ন হবে- Fine কেন নেওয়া হতো?? উত্তর সহজ- সুদ তো লাগত না, যদি Fine'ও না বসানও হতো, তাহলে কেউই সঠিক সময়ে টাকা পরিশোধ করত না, শুধুমাত্র এই জন্যই!! আপনি বলুন- সুদ ছিল না, তার উপর যদি Fine না থাকত, তা হলে কি কেউ সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করত??
প্রশ্ন হবে- Maintenance?? উত্তর সহজ- 15, 000/- ঋণের জন্য 5 মাসে 150/- টাকা Maintenance fee নেওয়া হতো। এখন ছোট প্রশ্ন- 15, 000/- যদি কেউ সুদের উপর ঋণ নিত, তাহলে তার সুদ কত হতো?? উত্তর সহজ- ১) Bank থেকে নিলে 1 মাসে সুদ হতো কমপক্ষে 150/- থেকে 200/- পর্যন্ত এবং ২) মহাজন দের থেকে নিলে 1 মাসে সুদ হতো কমপক্ষে 450/- থেকে 600/- পর্যন্ত!!
প্রশ্ন হবে- এত সুন্দর একটা System বন্ধ করতে হল কেন?? উত্তর সহজ- উপরে একটা প্রশ্ন করেছিলাম, তা মনে আছে?? দাঁড়ান, প্রশ্নটা দিই- আচ্ছা আপনি কি জানেন, মুসলিম সমাজের দুর্ভাগ্য কি?? এ প্রশ্নের উত্তর টা মনে আছে?? দাঁড়ান, দিই- মুসলিম সমাজ তার জন্য ভাল/ খারাপ বোঝে না!! তাই না??
এবার বলব, কেন বন্ধ করতে হল!! সত্যিই কি শুনতে চান?? আপনি শুনতে না চাইলেও, আমি বলব। নাবী (সা)- এর উপর মাক্কায় কেমন 'মানসিক অত্যাচার' হয়ে ছিল জানেন তো?? হোসেন কুরানীর উপর তার সমান অত্যাচার না হলেও, তারচেয়ে কোনও অংশে কম ছিল না!!
প্রথম যে বদনামটা ছড়ানও হল, তা যুগে-যুগে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা)- এর প্রেমিকদের উপর রটানও হয়েছিল, তা- ১) হোসেন কুরানী ইহুদি, খৃষ্টান, হিন্দুদের দালাল। হোসেন কুরানীকে ওরাই টাকা দেয়!! আর- ২) হোসেন কুরানী মাথায় টুপি ও মুখে দাড়ি রেখে সুদের ব্যাবসা করে, ৩) মানুষকে ধোকা দেওয়ার জন্য লোক দেখানও Auto চালায়। আর হ্যাঁ, ৪) এই সবের সঙ্গে কাফির ফাতুয়া তো আছেই!! কাফির ফাতুয়া দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু কি বের হয় সম্মানিত হারামখোরদের মুখ থেকে??
এই পরিস্থিতিতে একান্তভাবে হোসেন কুরানী কাউকে পাশে পায় নি। আর হোসেন কুরানীর আব্বা তো তার সংস্থা শুরুর আগেই হোসেন কুরানীর পরিবারকে ছেড়ে Mumbai এ পালিয়ে গিয়েছিল। তারপর পরবর্তী তে হোসেন কুরানীর জীবন সংঘর্ষের কাহিনী তো আপনার এবং আপনাদের জানা আছেই!! তাই না??
পরবর্তীতে হোসেন কুরানীর বিপক্ষে গ্ৰামের কয়েক জন সুদখোরের উস্কানিতে অলিখিতভাবে ফাতুয়া জারি করা হয়- হোসেন কুরানীকে মসজিদে সালাত আদায় করতে বাধা দেওয়া সহ সম্পূর্ণভাবে সমাজিক Boycott করতে হবে!!
Boycott সম্পূর্ণ কার্যকর না হলেও, সামান্য প্রভাব তো পড়েছিল, দুর্নাম-বদনাম আমাদের গ্ৰাম লক্ষণ পুর সহ আশে-পাশের 8-10 টি গ্ৰামেও ছড়িয়ে যায়। এমন কি আমাদের পাশের গ্ৰাম শেওড়াবেড়িয়াতেও। জানেন, শেওড়াবেড়িয়া গ্ৰামে Special কি আছে?? এটা আমার জন্য "প্রেম নগর"। এটা সেই মহিলার গ্ৰাম, যার স্থান বর্তমান পৃথিবীতে আমার জীবনে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা)- এর পর!!
ঐ মহিলা যত কারণে আমাকে ছেড়ে গিয়েছেন, তার অন্যতম কারণ হয়ত আমার দুর্নাম-বদনাম। যদিও তাকে আগেই সব জানিয়ে ছিলাম, তখন আমি তার কাছে ছিলাম Legend কিন্তু এখন পায়ের কুকুর...!!
আমার দুর্নাম-বদনামের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ছিল আমার মা সাবেরা বেগমের উপর। বেচারার স্বামী আগেই ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তার উপর ছেলের জন্য সামাজিক Boycott হতে হল, এর সঙ্গে আত্মীয় স্বজন দের বঞ্চনা তো ছিলই। বেচারা কয়েক ধরণের মানসিক রোগ সহ ভিন্ন-ভিন্ন শারীরিক রোগে আক্রান্ত হয়ে 11.11.2014 তে মারা গেল। আমার এই অভিশপ্ত 2 টি হাত দিয়ে তাকে কবরে নামিয়েছি অথচ আমাকে মৃত্যুর 2 দিন আগে পর্যন্ত অর্থাৎ আমাকে 23 বছর ধরে ভাত খাইয়ে দিয়েছে। এই 23 বছর আমি কখনও নিজ হাতে ভাত খাই নি!!
তখন আমার ছোট ভাই, অনেক ছোট। এ জন্য তার উপর সেরকম প্রভাব পড়ে নি কিন্তু আমি এবং সর্বদা আমার ছায়ার মতো থাকা আমার ছোট বোন সাহেনারা কে মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে হয়। আমার চেয়ে ছোট হলেও বোনেদের মধ্যে বড় বোন আলোমারা'র উপরও সেরকম প্রভাব পড়ে নি, কারণ সে সংসারের কাজে নিয়জিত থাকত।
ছোট বোন ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে গেছে কিন্তু আমি আর সুস্থ হতে পারলাম না। ওষুধ খেয়ে বেশ খানিকটা সুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম এবং ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে ছিলাম কিন্তু যেদিন বড় মামা ও মামি এবং তাদের 1 ছেলে ও 2 মেয়ে, ছোট মামা ও মামি, বড় খালা ও ছোট খালু আমাকে পরিকল্পনা করে বাড়িতে ডেকে Murder করতে চেষ্টা করেছিল, সেদিন আত্মীয়-স্বজনদের বর্বর রুপ দেখে আবার মানসিক রোগে আক্রান্ত হই। তার কিছুদিন পর সেই মহিলা আমার জীবনে আসে!!
তখন 2018 এর শুরু। তখন দ্বিতীয় বারের মতো মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে ওষুধ খাচ্ছি, তখন সেই মহিলার সঙ্গে পরিচয়, তারপর October 2018 থেকে 13 October 2019 পর্যন্ত প্রেম!! এই সময়টাই আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির সময় ছিল। তার পরবর্তী সময় টা স্মৃতির ভর বয়ে বেড়াতে হচ্ছে!!
জানেন পাঠক, কোরান ও বিজ্ঞান দ্বারা জানতে পারি যে, এই মহাবিশ্বে জানা সবচেয়ে বেশি 'ভর যুক্ত' বস্তু হল- Black hole, তাই না?? কিন্তু এর চেয়েও ভর যুক্ত হল- স্মৃতি, এটা আপনি বুঝবেন না!! কখনও কাউকে যখন জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসবেন, তখন হয়ত আমার কথা মনে পড়বে যে, হোসেন কুরানী নামের এক পাগল ছিল, যে বলত- এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভর যুক্ত হল স্মৃতি এবং তা বয়ে বেড়ানও কষ্টের/ অতি অতি কষ্টের, বেদনার ও যন্ত্রণার!!
হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম, তা হল- সেই মহিলা, মানে ★ ★ আমাকে আমাকে উৎসাহ দেয় যে, এই Islamic gold lone বন্ধ করে দিতে। কারণ, এই Islamic gold lone এর কারণে অনেক দুর্নাম-বদনাম হয়েছে!!
ফলত Islamic gold lone বন্ধ করে দিই 2019 এর প্রথম দিকে, সমস্ত টাকা উঠে আসতে সময় লাগে প্রায় 5 মাস। তারপর আমার টাকা আমি বুঝে নিই, অন্যদের টাকাও তাদেরকে বুঝিয়ে দিই।
এরপর আমি আমার ও তার Future এর দিকে মনোনিবেশ করি, কারণ এই 2020 এর February তে আমাদের বিয়ে হতো কিন্তু আমি প্রেমে অন্ধ হয়ে ভুলে গিয়েছিলাম যে, আমার রঙ কালো!!
প্রশ্ন হবে- Future এ কি আবার Islamic gold lone শুরু করবেন?? উত্তর সহজ- Islamic international institute of India নামক সংস্থাটি Unofficially বন্ধ করে দিয়েছি, বদলে Quranic Universe নামক নতুন সংস্থা শুরু করতে চলেছি। ইনশাআল্লাহ, শুধু Islamic gold lone নয়, একাধিক প্রকল্প শুরু করব, যা আগামী 10 বছরে পৃথিবী বদলে দেবে!! এছাড়াও ★ ★ আর নেই, এখন বাধা দেবে কে?? তবে তখন আমার ভাল'র জন্যেই বাধা দিয়েছিল। এখন ★ ★ পাশে নেই, আমি শুধু 'Team Quranic universe' কে পাশে চাই!!
পরবর্তী প্রশ্ন- Mutual fund investment কি বৈধ?? উত্তর সহজ- অবশ্যই হালাল, এতে কোনও সন্দেহ নেই। যদিও সম্মানিত হারামখোরগণ তা হারাম বলেই প্রচার করেন!!
প্রশ্ন হবে- কেন হালাল?? ১) সুদ হয় ঋণের বিনিময়ে এবং লাভ/ মুনাফা হয় Investment বা বিনিয়োগের বিনিময়ে, ২) আপনি Mutual fund এ বিনিয়োগ করেন এবং Mutual fund বিনিয়োগ করে Product এ এবং অন্যান্য ব্যাবসায়!! আর কিছু বলতে হবে??
প্রশ্ন হবে- Provident fund থেকে যা অর্জন হয়, তা হালাল হবে?? উত্তর সহজ- Provident fund মনে হয় 2 ধরণের হয়, ১) G P F এবং ২) E P F, তাই না?? এই 2 System'ই প্রায় একই ভাবে কাজ করে। কর্মীদের বেতন থেকে নিদিষ্ট একটা টাকা কেটে সেই টাকাকে নিয়ে ব্যাবসা করে আপনাকে লাভ/ মুনাফা দেওয়া হয়। তাই না?? যদিও তারা এই অর্জনকে সুদই বলে থাকেন কিন্তু তা সুদ গণ্য হবে কিভাবে?? তা শুধুমাত্র বিনিয়োগ ছাড়া কিছুই নয়। আর বিনিয়োগ থেকে লাভ/ মুনাফা আসে, সুদ নয়!!
পরবর্তী প্রশ্ন- সমাজে একাধিক Insurance policy রয়েছে, তা থেকে অর্জন কি হালাল?? উত্তর সহজ- হ্যাঁ, অবশ্যই হালাল, তার মূলনীতি কোরান ভিত্তিক। তবে সম্মানিত হারামখোরদের চোখে বজ্রাঘাত হয়েছে, এ জন্য তাদের চোখে পড়ে না!! চলুন তাহলে, সর্ব প্রথম আয়াতটি দেখে নিই-
وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَأً فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَىٰ أَهْلِهِ●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং যে ভুলবশত কোনও মুমিনকে হত্যা করবে, সে মুক্ত করবে একটি মুমিন দাস ও নিহত ব্যাক্তির পরিবারকে দিয়াত [রক্তমূল্য] দেবে"(4:92)।
পাঠক ধরুন, আপনি Bike নিয়ে যাচ্ছেন, যেতে-যেতে অনিচ্ছাকৃত ভাবে একজন পথচারীর সঙ্গে আপনার Accident হয়ে গেল এবং পথচারী নিহত হলেন। এখন আপনার উপর দিয়াত ধার্য হবে, তা জানেন?? নিচের হাদীসটা দেখুন-
"আবদুল্লাহ ইবনু উমার [রা] থেকে বর্ণিত। নাবী [সা] বলেছেন- ভুলবশত হত্যা [কাতিলুল খাতা] হল 'শিবহে আমদ' এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- চাবুক বা লাঠির আঘাতে মৃত্যু। এতে 100 উট [দিয়াত] দিতে হবে। তার মধ্যে 40 টি হতে হবে গর্ভবতী"(ইবনু মাজাহ, কিতাবুত দিয়াত, হাদীস 2627)। একই 'মাতান যুক্ত' হাদীস আবদুল্লাহ ইবনু আমর [রা] হতে বর্ণিত আছে।
সুধী পাঠক, আপনি কি জানেন- উক্ত শর্ত যুক্ত 100 টি উটের বর্তমান বাজার মূল্য কত হবে?? গত বছর রাজস্থানে একটি প্রাপ্ত বয়স্ক উটের দাম ছিল- 1 লক্ষ টাকা। এই হিসাবে উক্ত শর্ত যুক্ত 100 টি উটের বর্তমান বাজার মূল্য হবে- 1.5 (দেড়) কোটি টাকা!!
সুধী পাঠক, দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি- এই পর্বে প্রসঙ্গটি শেষ করতে পারলাম না, থেমে যাচ্ছি। আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি রয়ে গেল!! তাই না?? চিন্তা করার দরকার নেই, বাকি আলোচনা 'পর্ব- 2 এ' করা হবে, এর পর ربا (রিবা) ও ربح (রিবহুন) শব্দের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও কুরানী বিশ্লেষণও হবে- ইনশাআল্লাহ!!
এছাড়াও এই লেখার শুরুতে আমরা 1500 year বা 4730, 40, 000, 00 s নিয়ে কথা বলছিলাম এবং গত 1500 year বা '4730, 40, 000, 00 s এ' আপনার কত ক্ষতি হয়েছে, তা দেখাতে চাইছিলাম কিন্তু তাও হল না। তবে 'পর্ব- 2 এ' তা দেখতে পাবেন- ইনশাআল্লাহ!!
সুধী পাঠক, যদি সঠিক ইসলাম বা আল্লাহ প্রেরিত ইসলাম/ নাবী (সা)- এর রেখে যাওয়া ইসলাম সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক হন/ যদি কোরান ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা গুলো পড়তে চান, তাহলে নিচের Link এ Click করে বিস্তারিত পড়তে পারেন---
পাঠক, প্রতিবারের মতো আজও 2 জন পাঠকের মন্তব্য তুলে ধরতে চাই- ১) আল্লাহ এই হোসেন কুরানী নামের ফিতনা থেকে মুসলিম সমাজকে হিফাজাত করুন। হোসেন কুরানী 'খারিজি ও ভন্ড' এবং একজন সহীহ মানসিক রোগী!!
আর- ২) আমার বয়স 63 বছর, আল্লাহর প্রেরিত ও নাবী (সা)- এর রেখে যাওয়া ইসলাম আজীবন পালন করেছি কিন্তু মনে হতো- এই পৃথিবীতে আমি একা, বড় একা এবং সঠিক ইসলাম যেন উধাও হয়ে গেছে!! তাই দুয়া করতাম- হে আল্লাহ, এই পৃথিবীতে একটা উমার (রা)- এর খুব প্রয়োজন!!
সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমার দুয়া কবুল করেছেন এবং আমার দুয়া'র ফসল হল- হোসেন কুরানী। দুঃখ শুধু একটাই- আল্লাহ আমাকে নিঃসন্তান রাখলেন, যদি হোসেন কুরানীর পিতা হতাম!!
প্রথম প্রকাশ : 28.11.2020
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: