প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি?? প্রশ্ন হবে- কেন আল্লাহ আগে মৃত্যু এবং পরে জীবন সৃষ্টির কথা বললেন?? সত্যিই কি আগে মৃত্যু এবং পরে জীবন সৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন?? কিন্তু আমরা তো আগে জীবন পরে মৃত্যু হতে দেখি!! তাহলে কি কোরান ভুল বলেছে?? যদি ভুল না হয়, তাহলে 67:2 আয়াতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি?? হোসেন কুরানী র কাছে কি আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা??
আমরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে এগিয়ে যাব কিন্তু আয়াতটি আগে দেখে নিন- الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ অনুবাদ হবে এমন-"[তিনিই আল্লাহ,] যিনি সৃষ্টি করেছেন প্রথমে মৃত্যু, তারপর জীবন"(67:2)।
আয়াতটি দেখে নিয়েছেন?? যদিও গত পর্বে আয়াত টি দেখছেন, তাই না?? এবার আমরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে এগিয়ে যাব কিন্তু তার আগে আমাদের সম্মানিত পাঠক দের কিছু Comment দেখাব!!
যেন আপনি হোসেন কুরানী ও তার লেখাকে মূল্যায়ন করতে পারেন। আমরা Comment গুলো তুলে নিয়ে আসি, আপনি ততক্ষণ গত পর্বটি পড়ে নিন, কমপক্ষে একবার!! নিচে Link-
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=742632372788429&id=544853392566329
১) একজন Pure আহলে হাদীস ধর্মের অনুসারী বলেছেন- হোসেন কুরানী ভাই, আপনি কোরান নিয়ে ছেলে-খেলা করছেন। আপনি যা করছেন, তা সালাফ দের নীতি নয়। এ সব মনগড়া ব্যাখ্যা বন্ধ করুন!!
২) মহিনুদ্দিন কাজী বলেছেন- ভাই, আমি তো পুরো অবাক এবং ভাবছি যে, এ গুলো কি আসলে কোরান ব্যাখ্যাই তো, না কি Nasa'র কোনও Research paper পড়ছি!! ভাই, কোরান এত অলৌকিক- আপনার লেখা না পড়লে কখনও জানতেই পারতাম না!!
৩) হাওড়ার নাহার সুলতানা বলেছেন- Sir, আমাদের পাড়ায়-পাড়ায় বিজ্ঞানী দরকার নেই, আলিমও দরকার নেই, দরকার হোসেন কুরানী কিন্তু হোসেন কুরানী তো এত সস্তা নয় যে, পাড়ায়-পাড়ায় তৈরি হবে!!
৪) আতিকুল ইসলাম জাকারিয়া বলেছেন- আপনার লেখা পড়তে-পড়তে মাথা ঘুরে যায়। আল্লাহ আপনাকে দীৰ্ঘজীবি করুক। মুসলীমদের মধ্যে awareness আনার জন্যই হয়ত আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছে মনে হয়!!
৫) মালয়েশিয়া অবস্থিত বাংলাদেশের প্রবাসী নাহিদা চৌধুরী বলেছেন- লেখার শেষ অংশটি খুব মনোমুগ্ধকর ছিল। যেখানে বলেছেন- আজব এই পৃথিবী এবং তার নিয়ম ও নীতি। কারণ, এই দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির বাজারে আবেগ, প্রেম-ভালবাসা খুবই সস্তা। আর মূল্যহীনও!!
কিন্তু এটা সব ক্ষেত্রে সত্য নয় Sir. আমার মতো হয়ত আপনিও অপাত্রে ঘি ঢেলেছেন!! আবেগ, প্রেম এবং ভালবাসার কদর তারা বোঝে, যারা চায় কিন্তু পায় না। আপনি না চাইতেও অনেক দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়া আপনার সামনে!!
আপনার প্রায় 20-22 টা মতো লেখা পড়লাম। এমন একটা লেখাও পেলাম না, যেখানে হানীর সম্পর্কে কিছু লেখেন নি!! লেখার মধ্যে তার নাম বা তার সম্পর্কে কিছু থাকা উচিৎ নয়। কেননা, এই লেখা গুলো ইতিহাস হবে, তখন শুধু-শুধু হানী Promote হয়ে যাবে!!
৬) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিখ্যাত মাদ্রাসার Professor বলেছেন- যে কাজটা আজ তুমি করছ, তা আমি করতে চেয়েছিলাম কখনও (20 বছর আগে) কিন্তু পারি নি সময় ও সুযোগের অভাবে!!
তবে, আমার পূর্ণ বিশ্বাস- তুমি কোরান গবেষণার যে দ্বার উন্মুক্ত করেছ, তা একদিন পৃথিবীতে বিপ্লব সৃষ্টি করবে এবং মুসলিম সমাজ ও তাদের চিন্তা-ভাবনাকে বদলে দেবে- ইনশাআল্লাহ!!
সুধী পাঠক, এবারের লেখায় চমকে উঠার একটা বিষয় আছে, তা কি বলুন তো?? এবারে কেউ হোসেন কুরানীকে গালা-গালি করেন নি!! তাই না?? নয়ত কেউ না কেউ গালা-গালি করেই করে!! তাই না??
পাঠক, আপনি কি জানেন- মৃত্যুর শর্ত গুলো শরীরেই অবস্থিত?? প্রশ্নটি বুঝতে পারেন নি, তাই তো?? নিচের সমীকরণটি দেখুন এবং মনযোগ সহ পড়ুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন-
১) শরীর + প্রাণ = জীবিত সত্ত্বা
২) প্রাণ = জীবিত সত্ত্বা – শরীর
৩) শরীর = জীবিত সত্ত্বা – প্রাণ
৪) মৃত্যু = জীবিত সত্ত্বা – প্রাণ
৫) শরীর = মৃত্যু
৬) শরীর – মৃত্যু = 0 (শূন্য)।
যদিও সমীকরণটি গত পর্বে দেখেছেন, তবুও এখন শুধু 5 নং Point টা লক্ষ্য করুন। তাহলে অবশ্যই বুঝতে পারবেন- মৃত্যুর ফাঁদ শরীরেই পাতা আছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের Link এ যান-
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=742632372788429&id=544853392566329
যাইহোক, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করব, তার আগে একটা ছোট্ট মতো বিশ্রী Type এর কাহিনী শোনাই। উপরিউক্ত Link এর লেখাটা ★ ★'র প্রশ্নের উত্তরে লিখেছিলাম এবং সমীকরণটাও।
তা পড়ে ★★'র Comment ছিল এমন- আপনার মাথায় এগুলো কিভাবে আসে?? কাহিনীটা শোনালাম কেন জানেন?? এ জন্য যে, সবার দ্বারা প্রশংসা পাওয়া এবং তার দ্বারা প্রশংসার মাঝে পার্থক্য বিস্তর!!
যাইহোক, এবার মনে হয় বিষয়ে ফিরে আসা উচিৎ হবে, বলুন?? আচ্ছা, এবার আমাদের কথার সমর্থনে পবিত্র কোরান থেকে একটা আয়াত নিয়ে আসি, দেখুন তাহলে- نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"আমরা তোমাদের মাঝে [শরীরে] মৃত্যুকে নির্ধারণ [সংযোজন] করেছি এবং আমরা এ ব্যাপারে অক্ষম নই"(56:60)।
পাঠক, আপনাকে কিছুক্ষণ পর অবাক ও হতবাক হতে হবে। তাই এখন প্রসঙ্গ একই রেখে আলোচনার পট পরিবর্তন করছি, হ্যাঁ?? আচ্ছা পাঠক, আপনি কি জানেন- মায়ের গর্ভে ভ্রুণে আত্মা সংযোজন কখন হয় বা Nervous system চালু হয় কখন??
পাঠক, উত্তর জানেন না?? উত্তর খুব সহজ তো- 120 দিন বা 4 মাস বয়সে। এ বিষয়ে বিজ্ঞান যা বলেছে, তার 1500 বছর পূর্বে মুহাম্মাদ (সা)-ও একই কথা বলেছেন বুখারীর 3208 নং হাদীসে।
120 বয়সে ভ্রুণ সম্পূর্ণ মানব আকার ধারণ করে ফেলে, শুধুমাত্র তাতে আত্মা থাকে না অর্থাৎ Nervous system চালু থাকে না। ভ্রুণে আত্মা দেওয়ার পূর্বেই ভ্রুণে মৃত্যুর শর্ত গুলো প্রতিস্থাপিত করে দেওয়া হয়!!
তাই তো বলা হয়েছে- الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ অনুবাদ হবে এমন-"[তিনিই আল্লাহ,] যিনি সৃষ্টি করেছেন প্রথমে মৃত্যু, তারপর জীবন"(67:2)। পাঠক, উক্ত আয়াতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি পেয়েছেন??
পাঠক, এবার একটু গণিতের খেলা দেখাতে চাই, তা হলে শুরু করি?? نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ বা আমরা তোমাদের মাঝেই [শরীরে] মৃত্যুকে নির্ধারণ [সংযোজন] করেছি- আয়াতাংশে 18 টি হারাফ আছে।
প্রশ্ন হবে- الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ এর 56:60 আয়াতের সম্পর্ক কি?? উত্তর সহজ- যদি আমরা 1:1 আয়াতের অনুবাদ করি, তাহলে হয়ত সম্পর্কটা বুঝতে পারবেন খানিকটা। দেখুন-"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, [কেননা তিনি] মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক"(1:1)।
প্রশ্ন হবে- হোসেন কুরানী, মহাবিশ্ব সমূহ আল্লাহ কি ভাবে প্রতিপালনের প্রতিপালন করছেন?? উত্তর খুব সহজ- মৃত্যু দ্বারা!! বুঝতে পারেন নি। তাই না?? গত পর্বে আমরা দেখিয়েছি- মৃত্যুহীনতা খাদ্য ভান্ডার শেষ করে ফেলবে। তাই মৃত্যুই একমাত্র উপায় কমপক্ষে 86 লক্ষ প্রাণী জগতের লালন-পালনের!!
পাঠক, তাহলে কি বুঝতে পেরেছেন- 1:1 আয়াতের 56:60 আয়াতের সম্পর্ক?? আপনিও হোসেন কুরানীর মতো বুঝতে পারতেন, যদি নিচের এই আয়াতটি যদি আপনাকে জানানও হতো!! দেখুন-
كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ●
অনুবাদ হবে এমন-"আমরা আপনার উপর কল্যাণময় গ্ৰন্থ [কোরান] নাযিল করেছি, যেন তার আয়াত সমূহ নিয়ে গবেষণা করে এবং তা হতে শিক্ষা নেয় জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্নরা"(16:44, 38:29)।
প্রশ্ন হবে- কিন্তু 56:60 আয়াতের "পরবর্তী সংযুক্ত আয়াত" কোনটি?? উত্তর সহজ- 67:2 আয়াতটি। প্রশ্ন হবে- কোন যুক্তিতে?? আচ্ছা পাঠক, আপনার কি মনে আছে- গত পর্বের শেষে 67:2 আয়াতের ব্যাখ্যা করতে চাইছিলাম??
এবার দেখুন- نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ আয়াতাংশে 18 টি হারাফ আছে এবং الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ তে 19 টি। এবার বুঝতে পেরেছেন?? চলুন, এবার একবার আয়াত গুলো দেখে নিই-
এই নিন, দেখুন- نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ অনুবাদ হবে এমন-"আমরা তোমাদের মাঝেই [শরীরে] মৃত্যুকে নির্ধারণ [সংযোজন] করেছি"(56:60)। এবার 76:2 আয়াতটি দেখুন- الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ অনুবাদ হবে এমন-"[তিনিই আল্লাহ,] যিনি সৃষ্টি করেছেন প্রথমে মৃত্যু, তারপর জীবন"(67:2)। পাঠক, অবাক হন নি??
পাঠক, গত পর্বে আমরা দেখিয়েছিলাম- মৃত্যুকে অল্প বা বেশি সময়ের জন্য দূরে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে কিন্তু মৃত্যুহীন জীবন অসম্ভব। এবার এক নজরে দেখে নিন- أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা যেখানেই থাকও মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, যদিও কোনও সদৃঢ় কেল্লায় অবস্থান করও"(4:78, 62:8)।
আর যদি আমরা কোষের মৃত্যু বন্ধ করে মৃত্যুহীন হতে চাই, তবুও মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই জুটবে না। উপরিউক্ত সমীকরণের 6 নং Point তাই'ই বলছে। যা আমরা গত পর্বেও দেখিয়েছি। তাই কোরানে রয়েছে আল্লাহর এই ঘোষণা- وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ۖ ذَٰلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ অনুবাদ হবে এমন-"এটা সত্য, মৃত্যুর যন্ত্রণা আসবেই। যা থেকে তুমি পালাতে চাইতে"(50:19)।
আর এই আয়াতও আছে- كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ সঠিক অনুবাদ হবে এমন-"প্রত্যেক জীবনকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে"(3:185, 21:35, 29:57)। আচ্ছা, এই আয়াত এবং উপরিউক্ত মৃত্যু সম্পর্কিত আয়াত গুলোর মধ্যে পার্থক্য হল- 3:185, 21:35, 29:57 আয়াত গুলো সমস্ত ধরণের প্রাণীদের কথা বলছে, আর অন্যান্য সব আয়াত গুলো শুধু মানুষের জন্য!!
যাইহোক, একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছেড়ে এসেছি। বলুন তো- প্রশ্নটা কি?? প্রশ্ন হবে- মাতৃগর্ভে 120 দিন বয়স পর্যন্ত ভ্রুণে আত্মা থাকে না?? তাহলে কি ভ্রুণ আত্মাহীন বা মৃত থাকে??
এ বিষয়ে বিজ্ঞান বা কোরান কি বলে?? আর হোসেন কুরানীর কাছে এই প্রশ্ন সমূহের কোনও উত্তর আছে কি?? না কি হোসেন কুরানী আলিম বা সম্মানিত হারাম দের মতো উত্তর না দিয়ে ম্যাও-ম্যাও করবেন??
হ্যাঁ, হয়ত এটা 1900 সালের সব চেয়ে বড় আবিষ্কার গুলোর মধ্যে একটা যে, 120 দিন পর্যন্ত ভ্রুণে আত্মা থাকে না "কিন্তু কিন্তু কিন্তু" তারমানে এই নয় যে, ভ্রুণ মৃত!!
মৃত নয় কিন্তু জীবিতও নয়!! পবিত্র কোরান বিষয়টি কে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছে কিন্তু গত 1500 বছর ধরে আয়াতটি অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে!! দেখবেন আয়াতটি?? নিন, দেখুন-
هَلْ أَتَىٰ عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন মানুষ উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না"(76:1)।
পাঠক, এবার আমরা আল্লাহকে প্রশ্ন করতে চাই- হে আল্লাহ এই সময়টি কখন?? পাঠক, দেখুন- আল্লাহ এ প্রশ্নের কি উত্তর দিয়েছেন!! উত্তরটা নিশ্চয় আপনাকে হতবাক করবে- ইনশাআল্লাহ। দেখুন-
إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি Zygote [একটি আদি কোষ, যা দুইটি Gamete এর মিলনের ফলে সৃষ্টি হয়, তা] থেকে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য। অতপর তাকে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দিয়েছি"(76:2)।
পাঠক, কোন সময়টা- তা বুঝতে পেরেছন?? শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টিশক্তি পাওয়ার আগের সময়টা। মানে- 120 দিন বয়সে ভ্রুণে আত্মা আসে এবং তার Nervous system চালু হয়ে যায়, এর পরই ভ্রুণ শুনতে পাওয়া শুরু করে এবং 150 দিন বা 5 মাস পর থেকে দেখতে পাওয়াও শুরু করে!!
পাঠক, কোরান কি সুন্দর ভাবে তথ্য গুলো 1500 বছর ধরে কোরানের পাতায় মুদ্রিত করে রেখেছেন কিন্তু তা সম্মানিত হারামখোরদের চোখে পড়ল না। সম্ভবত তাদের "চোখে বাজ পড়েছে" হয়ত!!
আর হ্যাঁ, তারা অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণের কাছে শুধুমাত্র 76:1 ও 2 আয়াত নয়, সমগ্র কোরানই অবহেলিত। আর তারাই তো পবিত্র কোরানকে গবেষণা করার সর্বোচ্চ "বিষয়বস্তু"তে পরিণত না করে পবিত্র কোরানকে "ভূত তাড়াবার বইয়ে" পরিণত করেছেন অথচ আল্লাহ বলেছেন-
كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ●
অনুবাদ হবে এমন-"আমরা আপনার উপর কল্যাণময় গ্ৰন্থ [কোরান] নাযিল করেছি, যেন তার আয়াত সমূহ নিয়ে গবেষণা করে এবং তা হতে শিক্ষা নেয় জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্নরা"(38:29, 16:44)।
আর কোরানকে নিয়ে যারা গবেষণা করে না, তাদের উদেশ্যে পবিত্র কোরানে আল্লাহ কি বলেছেন, তা দেখে নিন- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا অনুবাদ হবে এমন-"তারা কি পবিত্র কোরানকে নিয়ে গবেষণা করে না, না কি তাদের Brain lock করা আছে"(47:24)??
পাঠক, দেখুন- إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ• এই আয়াতাংশে 25 টি হারাফ ব্যাবহৃত হয়েছে, যা 7 এর গুরুত্বপূর্ণ Sign বহন করছে। মানে 25= 2+ 5= 7, তাই না??
পাঠক, পবিত্র কোরানে আল্লাহর কোরান গবেষণার তাগিদ দেওয়ার Style টা। যা হয়ত আপনাকে আবাক করবে। আর তা হল- 47:24 আয়াতে ব্যাবহৃত শব্দ সংখ্যা 7 টি!!
প্রশ্ন হবে- الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ তে 19 টি হারাফ ব্যাবহৃত হয়েছে, এর কি আর অন্য কোনও ধরণের ব্যাখ্যা হোসেন কুরানীর কাছে আছে?? এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ- হোসেন কুরানীর কাছে থাকবে না, তো কার কাছে থাকবে??
এই 19 এর দর্শনপূর্ণ উত্তর হল- মৃত্যু শুধুমাত্র একটা সংখ্যা, যা 1 থেকে 9 এর মধ্যে লক্ষিত হয়। মানে- 1 হল সর্বনিম্ন সংখ্যা, 9 হল সর্বোচ্চ সংখ্যা। তাই এই আয়াত বলতে চাইছে- মৃত্যুকে সংখ্যা দিয়ে নয়, মান সম্পন্ন করও!! যেমন আল্লাহ বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে"(9:111)।
প্রশ্ন হবে- কবে, কিভাবে আল্লাহ মুমিনদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে?? উত্তর খুব সহজ- "কিনে নিয়েছেন" মানে "আমাদের মতো" কিনে নেওয়া নয়!! যেমন- আমরা "টাকা দিয়ে বস্তু" সামগ্রী কেনা-কাটা করি!!
এখন যদি বলেন- না, না, তা আমাদের মতোই!! কবে ও কিভাবে কিনেছেন বলুন!! তাহলে উত্তর হবে- আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দিয়েছেন?? না, দেয় নি, তাই না?? তাহলে তা আমাদের মতো "কেনা" কি ভাবে হল??
প্রশ্ন হবে- তাহলে إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ এর অর্থ কি?? কেন আল্লাহ اللَّهَ اشْتَرَىٰ শব্দদ্বয় ব্যাবহার করলেন?? উত্তর সহজ- কিনে নেওয়া মানে কি?? মানে- আমার টাকা আপনার এবং আপনার বস্তু আমার, তাই না??
মানে হল- এখন থেকে "কিনে নেওয়া" বস্তুর মালিক আমি, টাকার মালিক আপনি, তাই না?? তাই আল্লাহ উক্ত আয়াতে إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ শব্দ ত্রয়ের ব্যাবহার করে ছেন অর্থাৎ আল্লাহর জান্নাত আপনার, আপনার জীবন ও সম্পদ আল্লাহর!!
এখন আল্লাহ তার ধন-সম্পদ ও জীবন নিয়ে যা ইচ্ছা করবেন, আপনি জান্নাত নিয়ে যা ইচ্ছা করবেন- উক্ত আয়াতে আল্লাহ সেটাই বলতে চেয়েছেন, তাই আল্লাহ اللَّهَ اشْتَرَىٰ শব্দ দ্বয়ের ব্যাবহার করেছেন। বোঝাতে পারলাম কি??
প্রশ্ন হবে- 9:111 আয়াতে জান্নাতের বিনিময়ে জীবন ও ধন-সম্পদ কিনে নেওয়ার ব্যাপারে না কি তাওরাত, ইঞ্জিল ও কোরানে সত্য প্রতিশ্রুতি আছে?? কিন্তু তা কোথায় আছে??
উত্তর সহজ- কোরানে আছে, তা দেখিয়ে দেব ক্ষণ শেষে। তবে, যদি তাওরাত বা First 5ᵗʰ book of Bible ও ইঞ্জিল বা 4ᵗʰ Gospel এর কথা বলেন, তাহলে বলব যে- বর্তমান তাওরাত এবং ইঞ্জিল বিকৃত!!
এ তথ্যও পবিত্র কোরানের 5:13 আয়াতে রয়েছে। সুতরাং কোরান যখন বলেছিল- আছে। তখন ছিল কিন্তু ইহুদী এবং খৃষ্টানরা পৃথিবীর স্বার্থের জন্য নিজের পরকাল সম্পর্কে তথ্য গুলো বিকৃত করেছে বা ধর্মগ্ৰন্থ থেকে বাদ দিয়েছে। এ তথ্যও পবিত্র কোরানের 2:79 আয়াতে রয়েছে!!
যাইহোক, তবুও বর্তমান Gospel এ এই সম্পর্কে যত টুকু মৌজুদ আছে, তা হল-"Now behold, one came and said to Him- Good Teacher, what good thing shall I do that I may have eternal life(19: 16)??
So He said to him- Why do you call Me good?? No one is good but One, that is, God. But if you want to enter into life, keep the commandments(19:17).
He said to Him- Which ones?? Jesus said- You shall not murder, You shall not commit adultery, You shall not steal, You shall not bear false witness(19:18).
Honor your father and your mother, and You shall love your neighbor as yourself(19:19). The young man said to Him, “All these things I have kept from my youth. What do I still lack(19:20).
Jesus said to him- If you want to be perfect, go, sell what you have and give to the poor, and you will have treasure in heaven, and come, follow Me"(Matthew, NKJV, 19:21).
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ Verse হল 19:21, যা প্রায় 9:111 এর মতোই। আরও একটু বলে রাখা উচিত হবে যে, এই একই ধরণের Verses রয়েছে Luke এর 18:18 থেকে 22 এ।
পাঠক, 9:111 আয়াতের উল্লেখ পেয়েছেন?? এখন যদি First 5ᵗʰ book of Bible এর কথা বলেন, তাহলে বলব- ইহুদী এতটাই পৃথিবীর স্বার্থে জড়িয়ে পড়েছিল যে, তারা তাদের ধর্মগ্ৰন্থ থেকে পরকালের Concept'ই বাদ দিয়ে দিয়েছে!! তাই না??
পাঠক, এবার আমরা কোরানে খুঁজব। সাধারণ ভাবে কোরানেও জীবন ও সম্পদের বিনিময়ে জান্নাতের উল্লেখ পাওয়া যায় না!! তাই না?? পাঠক, আপনি কখনও খুঁজছেন?? একবার খুঁজুন না, তখন বুঝবেন- হোসেন কুরানী প্রতিদিন 10-12 ঘন্টা শুধু কোরান নিয়ে পড়ে থাকেন কেন এবং কি করেন!!
পাঠক, খুঁজছেন, না কি?? খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল এবং খুব কঠিন একটা কাজ। তবুও চেষ্টা করার জন্য আপনি প্রতিদান পাবেন- ইনশাআল্লাহ। তবে, হোসেন কুরানী নয় যে, খুঁজে বের করে ফেলবেন!! আচ্ছা ঠিক আছে, এবার দেখুন-
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"নিশ্চয় প্রকৃত ঈমানদার তো তারাই, যারা আল্লাহ ও রাসুলের উপর ঈমান এনেছে, তারপর আর কোনও ধরণের সন্দেহ করে নি এবং জীবন ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই সত্যবাদী"(49:15)। পরের আয়াতটি দেখুন, তাহলে বোঝার আর কিছু বাকি থাকবে না!! নিন-
أُولَٰئِكَ هُمُ الصِّدِّيقُونَ ۖ وَالشُّهَدَاءُ عِنْدَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ●
অনুবাদ হবে এমন-"ঐ সব তারাই, যারা সত্যবাদী ও শহীদ। তাদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে পুরষ্কার এবং নূর"(57:19)।
পাঠক, কোরানে জান্নাতের বিনিময়ে জীবন ও সম্পদ আল্লাহ কিনে নিয়েছেন- বিষয়টির উল্লেখ পেয়েছেন?? আরও একটা কথা বলে রাখি- 9:111 আয়াতটি কি কোরানের বাইরে?? না। তাহলে?? আররেহহ ভাই, তা হলে কোরানে জান্নাতের বিনিময়ে জীবন ও সম্পদ আল্লাহ কিনে নিয়েছেন- বিষয়টির উল্লেখ তো রয়েছে!! তাই নয় কি??
সুতরাং আমরা জীবনকে সংখ্যা দিয়ে বিচার না করি এবং যেভাবে আল্লাহ চান, সেভাবেই জীবন গড়ে জীবন কে "মান সম্পন্ন" করব। যদিও হোসেন কুরানী অবশ্য 120 বছর বাঁচবেন!! তবে, বলে রাখি- হোসেন কুরানী তার জীবন এবং সম্পদ সম্পূর্ণ ভাবে আল্লাহকে বিক্রি করে দিয়েছেন, আর তার Team'ও!!
আর এই জন্যই তো হোসেন কুরানী কয়েক কোটি টাকার মালিক হওয়া সত্ত্বেও ভিখারির মতো জীবন যাপন করেন। ★★ হোসেন কুরানীকে ছেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণও হয়ত এটা!!
যাইহোক, আল্লাহ ★ ★'কে সুখী করুক। আল্লাহ যেন হোসেন কুরানীর ভাগের সুখটাও তাকে দেন!! এখন একটা প্রশ্ন হবে- 57:19 আয়াতে আল্লাহ পুরষ্কার দেবেন, এটা ঠিক আছে কিন্তু "নূর দেবেন" বলতে কি বোঝান হয়েছে??
উত্তর সহজ- সম্ভবত জান্নাতে আল্লাহর দর্শনকে বোঝান হয়েছে। এ বিষয়ে আরও একটি আয়াত আছে পবিত্র কোরানে। তা হল- لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَىٰ وَزِيَادَةٌ অনুবাদ হবে এমন-"যারা ভাল কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে পুরষ্কার [জান্নাত] এবং রয়েছে আরও অধিক অর্থাৎ আল্লাহর দর্শন"(10:26)।
পাঠক, এই পর্বে আমরা শুধু লিখেই চলেছি কিন্তু সংখ্যা তত্ত্বের খুব বেশি উল্লেখ করি নি, তাই না?? করি নি এ জন্য যে, যেন আপনি নিজে একটু-আধটু গবেষণা করেন। এই আর কি!!
ঠিক আছে, এবার করছি। দেখুন- 9:111 আয়াতের উদ্ধৃতি করা অংশে 46 টি হারাফ আছে। পাঠক, বলতে পারবেন- এই আয়াতাংশে 46 টি হারাফ ব্যাবহৃত হল কেন??
উত্তর সহজ- 9:111 আয়াতে মূলত "জীবন" কিনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর আমরা বিজ্ঞান দ্বারা জেনেছি- জীবন তৈরি হতে 23 জোড়া বা 46 টি Chromosome (ক্রোমোজোম) এর ভূমিকা বিরাট থাকে!! তাই না??
পাঠক, আর কিছু বলতে হবে, না কি বুঝে নিয়েছেন সুন্দর ভাবে?? প্রশ্ন হবে- 9:111 আয়াতের উদ্ধৃতি করা অংশে 46 টি হারাফ আছে। এর কি আর অন্য কোনও ব্যাখ্যা আছে??
উত্তর খুব সহজ- থাকত না, যদি হোসেন কুরানী না থাকত। যেহেতু তিনি আছেন, সেহেতু ব্যাখ্যাও আছে। এখন শুধু দেখতে থাকুন এবং দেখে অবাক হন- 4+ 6= 10= 1+ 0= 1, তাই না??
কিন্তু প্রশ্ন হবে- 1 এর অর্থ কি?? জীবন মাত্র 1 বার পাওয়া যায়, দ্বিতীয় কোনও সুযোগ নেই। আর তা আল্লাহ কিনে নিয়েছেন!! এই মাত্র 1 বার পাওয়া জীবন আল্লাহর রাস্তায় বা আল্লাহর দেখানও পথে কাটাতে হবে!! এ বিষয়ে বলা হয়েছে-
حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ + لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"শেষ পর্যন্ত যখন তাদের কারও মৃত্যু মৃত্যু আসবে, তখন বলবে- প্রভু আমাকে পুনরায় [পৃথিবীতে] প্রেরণ করুন। যেন আমি ভাল কাজ করতে পারি, তার মধ্যে, যা আমি ছেড়ে এসেছি।
কিন্তু কখনও নয়!! এটা শুধু তার কথা মাত্র, যার উক্তি কারি সে। এখন তার পিছনে আছে বারযাখ বা পর্দা। যা পুনুরুত্থান দিবস পর্যন্ত"(23:99-100)। এ ছাড়া এই ধরণের আয়াত 32:12 ও 63:10-11 তে আছে।
পাঠক, আমরা আল্লাহর দর্শন যুক্ত 10:26 আয়াতে এসে প্রসঙ্গ শেষ করেছি। তাই না?? এর কারণটা কি জানেন?? কারণ, আল্লাহকে দেখতে পাব না কেন- এই প্রশ্নের তৃতীয় উত্তরটা এবার দেব- ইনশাআল্লাহ। তবে তার আগে আনুসাঙ্গিক প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিই!!
এক ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- কুরানী ভাই, এই Dark matter ও Dark energy দেখা যায় না এবং কোনও দিনও দেখা যাবে না, এ সম্পর্কে কোরানে কি কিছু বলা হয়েছে?? এই সম্পর্কে কি কোরানে কোনও আয়াত আছে??
পাঠক, আপনি কি মনে করেন- হোসেন কুরানী পবিত্র কোরান থেকে আয়াত বের করতে পারবেন?? না কি আলিম বা সম্মানিত হারামখোরদের মতো ম্যাও-ম্যাও করবেন??
উত্তর দেখুন- فَلَا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ + وَمَا لَا تُبْصِرُونَ অনু বাদ হবে এমন-"এতএব কখনও নয়, আমি শপথ করছি সেই বস্তু সমূহের [অর্থাৎ Matter & anti matter এর] যা, দেখতে পাও + এবং [Dark matter & Dark energy এর] যা কখনও দেখও না অথবা দেখতে পাবে না"(69:38-39)।
এবার দেখুন- 69:38-39= 6+ 9+ 3+ 8+ 3+ 9= 38= 3+ 8= 11= 1+ 1= 2, তাই তো?? এবার বলুন- এখানে 2 এল কেন?? উত্তর খুব সহজ- এই 2 টি [Dark matter & Dark energy] কখনও দেখা যাবে না, মানবজাতি যতই উন্নতি করুক!!
পাঠক, সুবহানআল্লাহ বলবেন না?? এখন হয়ত কেউ প্রশ্ন করতে পারেন- 4'ᵗʰ Boson particles দ্বারা সৃষ্ট 4 টি মৌলিক Forces'ও দেখা যায় না!! এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ- আজ দেখা না গেলেও মানবজাতির উন্নতির সঙ্গে Atom [এর ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে] এর পর সাধারণ কণা এবং Quark ও তার পরবর্তী 4'ᵗʰ Boson particles'ও দেখতে পাব- ইনশাআল্লাহ!!
প্রশ্ন হবে- 4'ᵗʰ Boson particles কতদিন পর দেখা সম্ভব হবে?? উত্তর সহজ- এগুলো যন্ত্র দ্বারা দেখতে পেতে কমপক্ষে 2000-5000 বছর মতো সময় লাগবে অর্থাৎ সৌরজগৎ দখল করার পর!! যাইহোক, এখন কণা বিজ্ঞান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান?? তাহলে নিচের Link এ যান-
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1298119467239714&id=544853392566329
আর শুধুমাত্র Boson particles'ই নয় Higs boson particle'ও কোনও একদিন দেখা সম্ভব হবে- ইনশা আল্লাহ। শুধু Dark matter & Dark energy কখনও দেখা সম্ভব হবে না!!
প্রশ্ন হবে- Dark energy'র কাজ কি?? এই সম্পর্কে পবিত্র কোরানে কোনও আয়াত আছে?? আচ্ছা সুধী পাঠক, হোসেন কুরানী কি পারবেন পবিত্র কোরান থেকে কোনও আয়াত নিয়ে আসতে?? আপনার কি মনে হয়??
নিন, দেখুন- وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং আমরা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছি Energy দ্বারা এবং নিশ্চয় আমরা তার সম্প্রসারণ করছি/ করে চলেছি"(51:47)।
ব্যাখ্যায় পরে আসছি- ইনশাআল্লাহ, এখন গাণিতিক খেলা দেখুন- উক্ত وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ বা "এবং আমরা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছি Energy দ্বারা" আয়াতাংশে 18 টি হারাফ আছে এবং পুরো আয়াতটি 7 টি শব্দে গঠন লাভ করেছে- চমৎকার, তাই না??
তাহলে এবার ব্যাখ্যা করি?? আমরা জানি- আমাদের মহাবিশ্বে Gravitational force বা অভিকর্ষ বল কাজ করে, তাই না?? কিন্তু সত্ত্বেও মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে কিভাবে??
অথচ Gravitational force আরও তীব্র করে দেয় শুধু Matter নয় Dark matter'ও। এ বিজ্ঞানীরা বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন। পরে আবিষ্কার হল- এই Dark energy. ফলত পাওয়া গেল সমাধান!!
কি সমাধান?? সমাধান এটা- Gravitational force এর প্রভাবে এত দিনে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বন্ধ হয়ে সংকোচন শুরু হয়ে Big crunch'ও ঘটে যাওয়ার কথা কিন্তু তা না হয়ে মহাবিশ্ব আজও সম্প্রসারিত হচ্ছে!!
কিছু তো একটা কাজ করছে সম্প্রসারণের পক্ষে এবং সংকোচনের বিরুদ্ধে যে, এখনও সম্প্রসারণ হয়ে চলেছে!! তা আসলে কি?? সেই "তা" টাই হল- Dark energy, যা Gravitational force এর বিপক্ষে কাজ করে। ফলত চলছে আজও মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ!!
আর এই তথ্যটা পবিত্র কোরান খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরেছে- وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ অনুবাদ হবে এমন-"এবং নিশ্চয় আমরা তার সম্প্রসারণ করে চলেছি"(51:47)। এই সম্প্রসারণের কারণই হল- Dark energy. পবিত্র কোরান এখানে وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ ছোট্ট আয়াত দ্বারা Dark energy'র কাজ এবং অস্তিত্ব তুলে ধরেছে!!
পাঠক, এই তথ্যটা আপনাকে অবাক করে নি?? কেন অবাক করে নি?? অবাক করার কথা তো!! না কি বুঝতে কোনও সমস্যা হয়েছে?? আর যাতে আপনি খুব সহজে বুঝতে পারেন, সে জন্য পবিত্র কোরানে আল্লাহ আরও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে তথ্যটা তুলে ধরেছেন!!
চলুন তাহলে দেখে নিই- فَلَا أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ অনুবাদ হবে এমন-"সুতরাং কখনও নয়, আমি শপথ করছি, যা পশ্চাদপসরণ করে"(81:15)। পাঠক, দেখুন- আল্লাহ কি সুন্দর ভাবে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন!!
এই তথ্যটা গত 1500 বছর ধরে পবিত্র কোরানে কি সুন্দর ভাবে অবহেলিত হচ্ছিল, তাই না?? একবার একটু ভাবুন তো- কেন হোসেন কুরানীকে এই ব্যাখ্যা গুলো করতে হয়?? তাহলে গত 1500 বছরে আলিম গণ বা সম্মানিত হারামখোরগণ কি করলেন??
এখন প্রশ্ন হবে- Dark matter এর কাজ কি?? আর এই সম্পর্কে পবিত্র কোরানে কোনও তথ্য আছে?? কি পাঠক, আপনার কি মনে হয়- এই সম্পর্কে হোসেন কুরানী পবিত্র কোরান থেকে কোনও আয়াত বের করে আনতে পারবেন কি??
উত্তরে পরে আসছি- ইনশাআল্লাহ, এখন খুব সুন্দর একটা তথ্য দিই আপনাকে?? দেখুন- وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ• এই আয়াতাংশে 11 টি হারাফ আছে এবং فَلَا أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ• এই আয়াতে 12 টা হারাফ ব্যাবহৃত হয়েছে। যা পরোক্ষ ভাবে বলে দিচ্ছে- 51:47 এর পরের আয়াত 81:15 আয়াতটি!!
আর 51:47= 5+ 1+ 4+ 7= 17, তাই না?? আর 81:15= 8+ 1+ 1+ 5= 15, তাই না?? এবার 17- 15= 2, তাই তো?? বলুন তো- 2 কেন?? উত্তর সহজ- পবিত্র কোরানে সম্প্রসারণ সম্পর্কে 2'টিই আয়াত আছে। কি দারুণ, তাই না??
Dark matter এর প্রসঙ্গে আলোচনা করার পূর্বে আমরা সংকোচন প্রসঙ্গে আলোচনা করতে চাইছি। প্রশ্ন হবে- মহাবিশ্বের সংকোচন কি হবে?? উত্তর সহজ- হবে এবং হবেই!! এ বিষয়ে কোরান বলে-
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَا ۚ إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ●
অনুবাদ হবে এমন-"সেদিন আমরা সংকোচিত/ গুটিয়ে ফেলব মহাবিশ্বকে [ফলত Big crunch ঘটবে], লিখিত কোনও কাগজকে গুটিয়ে ফেলার মতো। তারপর যেমন প্রথম সৃষ্টি [Big bang- 1] করেছিলাম, সেভাবেই পুনঃ সৃষ্টি [Big bang- 2] করব। নিশ্চয় আমরাই হলাম তা সম্পাদনকারি"(21:104)।
পরবর্তী প্রশ্ন- বর্তমান সময়ের হিসাবে Big crunch কখন/ কবে ঘটবে?? উত্তর দেব- ইনশাআল্লাহ। তার আগে দেখে নেব- يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ বা সেদিন আমরা সংকোচিত/ গুটিয়ে ফেলব মহাবিশ্বকে [ফলত Big crunch ঘটবে], লিখিত কোনও কাগজকে গুটিয়ে ফেলার মতো। এই আয়াতাংশে 25 টি হারাফ ব্যাবহৃত হয়েছে, যা- 25= 2+ 5= 7 বহন করে। তাই নয় কি পাঠক??
আর পুরো 21:104 আয়াতে 65 টি হারাফ ব্যাবহৃত হয়েছে। যা- 65= 6+ 5= 11= 1+ 1= 2, তাই নয় কি?? আচ্ছা, এখন বলুন তো- 2 কেন বের হল?? উত্তর খুব সহজ- Big crunch সম্পর্কে কোরানে 2'টিই আয়াত আছে মাত্র। দ্বিতীয় আয়াতটি 39:67, চলুন তাহলে আয়াতটি দেখে নিই?? হ্যাঁ, নিন-
وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয় না অথচ গোটা পৃথিবী তার মুষ্ঠির মধ্যে থাকবে। আর কিয়ামাতের দিন মহাবিশ্ব সংকোচিত অবস্থায় তার ডান হাতে থাকবে!! তিনি মহাপবিত্র এবং বহু ঊর্ধ্বে, তারা যে শিরক করে, তা হতে"(39:67)।
উক্ত وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ বা "তারা আল্লাহকে যথা যথ মর্যাদা দেয় না" আয়াতাংশে 18 টি হারাফ আছে। তাই না?? আর 39:67= 3+ 9+ 6+ 7= 25= 2+ 5= 7, তাই না??
প্রশ্ন হবে- যদি Dark energy থাকে, তাহলে সংকোচন কিভাবে হবে?? উত্তর সহজ- মহাবিশ্বের কেন্দ্রে স্থিত Critical mass এর প্রভাবে। যা Gravitational force কে Dark energy চেয়েও প্রবল করে দেবে। তখনই থেমে যাবে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, শুরু হবে সংকোচন এবং Big crunch ঘটবে!!
প্রশ্ন হবে- তাহলে Critical mass এখন কি অবস্থায় আছে?? এখন তার প্রভাব পড়ছে না কেন?? উত্তর সহজ- এখন তার প্রভাব নেই, এমন নয়। যদি প্রভাব না থাকত, তাহলে Galaxy দের গতি লাগামহীন হয়ে যেতে পারত!! তাই না??
Critical mass সম্পর্কে বিজ্ঞানের কাছে পূর্ণ তথ্য নেই। সম্ভবত Critical mass এখন তার Mass বৃদ্ধি করছে এবং কোনও একদিন তা Dark energy'র উপর প্রভাবী হবে- ইনশাআল্লাহ। তবেই সত্য প্রমাণিত হবে 21:104 ও 39:67 আয়াতটি!!
এবার বাকি থাকা প্রশ্নের উত্তরটা দিই, তা- বর্তমান সময়ের হিসাবে Big crunch কবে ঘটবে?? আমাদের জানা মতে- পৃথিবীর কোনও আলিম অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোর কখনও এ প্রশ্নের দেয় নি!!
হাঁসির কথা হল- 1 লক্ষ আলিমের মধ্যে একজন নেই হয়ত, যিনি Big crunch নামটা শুনেছেন!! তারচেয়েও হাঁসির কথা কি জানেন?? তারাও নিজেদের আলিম বলে দাবি করেন!!
মাঝে-মধ্যে মনে হয় যে, তারাও যদি আলিম হয়, তা হলে "মূর্খ" কে?? সবচেয়ে বেশি হাঁসির কথা হল- তারা যদি মূর্খ না হবেন, তাহলে সম্মানিত হারামখোর কারা হবেন?? আচ্ছা পাঠক, আমরা তাহলে আর সম্মানিত হারামখোর কাকে বলতাম?? হায়, এটা তো ভাবিই নি কখনও!!
যাইহোক, বর্তমান সময়ের হিসাবে Big crunch কবে ঘটবে?? উত্তর খুব সহজ- পবিত্র কোরানে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বিষয়ক 2 টি আয়াত আছে। তা হল- 51:47 ও 81:15, তাই না??
এই 2 টি আয়াতে হারাফ সংখ্যা হল- 41 টি। মনে হল- 51:47 এ 29 টি এবং 81:15 তে 12 টি। এর অর্থ এটা যে, কমপক্ষে মহাবিশ্বের শুরু থেকে 4100 কোটি বছর মতো সময় লাগবে শুধু মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বন্ধ হতে!!
অর্থাৎ বর্তমান মহাবিশ্বের বয়স প্রায় 1370-1500 কোটি বছর। অর্থাৎ 4100- 1500= 2600 কোটি বছর মতো সময় লাগবে শুধুমাত্র মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বন্ধ হতে!!
প্রশ্ন হবে- তাহলে Big crunch হতে এখনও কত বছর সময় লাগবে?? উত্তর সহজ- মহাবিশ্বের শুরু থেকে 8100 কোটি বছর। মানে হল- সম্প্রসারণ বন্ধ হওয়ার পর থেকে 4000 কোটি বছর সময় লাগবে Big crunch ঘটতে!!
প্রশ্ন হবে- Big crunch ঘটতে মহাবিশ্বের শুরু থেকে 8100 কোটি বছর সময় লাগবে বলছেন, ঠিক আছে কিন্তু এই তথ্যের ভিত্তিটা কি?? আররেহ ভাই, হোসেন কুরানী যেহেতু বলেছেন, সেহেতু ভিত্তি আছেই!!
এর ভিত্তি এটাই যে, 39:67 আয়াতটি Big crunch সম্পর্কিত যুক্ত আয়াত এবং তাতে 81 টি হারাফ আছে। প্রশ্ন হবে- 21:104 আয়াতও তো Big crunch সম্পর্কে কথা বলছে!!
উত্তর খুব সহজ- 21:104 আয়াতটি শুধুমাত্র Big crunch সম্পর্কিত নয়, Big bang- 2 সম্পর্কিতও। তাই 21:104 আয়াতের হারাফ সংখ্যা এখানে উল্লেখ করা হল না!! মাথায় ঢুকল বাবু??
বাবু বলতে মনে পড়ল?? ★★ আমাকে Babu, আমি তাকে Baby বলে ডাকতাম কিন্তু প্রায় 2 বছর হল আমি আর তাকে Baby বলতে পারি নি, আর তার থেকে Babu ডাক শোনার সৌভাগ্য তো আমার নেই!!
কখনও ছিলও না হয়ত কিন্তু আল্লাহ হয়ত কিছু দিন Bonus হিসাবে আমার "কান'কে" Babu ডাক শোনার সৌভাগ্য করে দিয়েছিলেন। নয়ত এত খুশি এবং সুখ তো By chance'ই আমি পেতে পারি!!
যাইহোক, মুহাম্মদ উজ্বল ধালী ভাই প্রশ্ন করা বলে ছেন- আচ্ছা, ইসলামে 70 এর একটা গুরুত্ব আছে। কুরানী সাহেব কি 70 এর ব্যাখ্যা দেবেন?? উত্তর খুব সহজ- 70= 7+ 0= 7 তো। তাই না??
এখন কি 7 এর Function সম্পর্কে নতুন করে বলতে হবে?? না কি "কোরানের গভীরে দৃষ্টির" গত 6 টি পর্ব পড়েছেন?? যদি পড়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় 7 এর Function সম্পর্কে জানেন!! তাই না??
প্রশ্ন হবে- হঠাৎ করে মুহাম্মদ উজ্বল ধালী ভাইয়ের প্রশ্ন নিয়ে এলেন কেন?? উত্তর সহজ- Brother, this is Hossen qurani style. পছন্দ হয় নি?? পছন্দ হওয়ার কথা তো!! না হলেও কার কি আসে যায়!!
কেনন, আপনি যাতে বিরক্ত না হন, এ জন্য হঠাৎ করেই প্রসঙ্গ বদল করলাম। দেখবেন- এতে আপনার মনযোগ বৃদ্ধি পাবে। আর যা পড়বেন, তা স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারবেনও বহুদিন!!
সুধী পাঠক, এবার আমরা Dark matter এ প্রবেশ করতে চাইছি। সর্বপ্রথম বলতে চাই যে, পবিত্র কোরানে 69:39-39 আয়াতে পরোক্ষ ভাবে Dark matter এর কথা বলেছে- فَلَا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ + وَمَا لَا تُبْصِرُونَ অনু বাদ হবে এমন-"এতএব কখনও নয়, আমি শপথ করছি সেই বস্তু সমূহের [অর্থাৎ Matter & anti matter এর] যা, দেখতে পাও + এবং [Dark matter & Dark energy এর] যা কখনও দেখও না অথবা দেখতে পাবে না"(69:38-39)।
এবার সরা-সরি উল্লেখ চান, তাই তো?? সরা-সরি উল্লেখ করার আগে আপনাকে Dark matter সম্পর্কে জানতে হবে। প্রথম প্রশ্ন- Dark matter কি?? উত্তর খুব সহজ- বাংলায় বলা হয় কালো বস্তু/ কালো পদার্থ!!
যা আমাদের জানা যে কোনও পদার্থের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি করে না, আলোর সঙ্গেও নয়। এ জন্যই এই Dark matter দেখা যায় না!! প্রশ্ন হবে- তাহলে Dark matter এর অস্তিত্ব কিভাবে প্রমাণিত হল??
উত্তর সহজ- একবার বিজ্ঞানীরা এক Galaxy'র ভর মাপার চেষ্টা করছিলেন। এই সময় বিশেষ ভাবে তারা লক্ষ্য করলেন- Galaxy'র ঘূর্ণনের যে গতি রয়েছে, তার জন্য যে পরিমাণ পদার্থ প্রয়োজন, তা নেই Galaxy তে!!
বিজ্ঞানীরা চিন্তায় পড়ে গেলেন। কারণ, প্রয়োজনের চেয়ে বহু গুণ কম পদার্থ হওয়া সত্ত্বেও গতি ও অভিকর্ষ বল সৃষ্টি হচ্ছে কিভাবে!! ফলত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে- Galaxy তে এমন পদার্থ আছে, যা আমরা দেখতে পাচ্ছি না!! কোরান এই তথ্যটিকে সহজ ভাষায় তুলে ধরেছে- فَلَا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ + وَمَا لَا تُبْصِرُونَ অনু বাদ হবে এমন-"এতএব কখনও নয়, আমি শপথ করছি সেই বস্তু সমূহের [অর্থাৎ Matter & anti matter এর] যা, দেখতে পাও + এবং [Dark matter & Dark energy এর] যা কখনও দেখও না অথবা দেখতে পাবে না"(69:38-39)।
পাঠক, এই তথ্যটা আপনাকে অবাক করে নি?? যদি না করে, তাহলে অবাক হবেন কিসে?? আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে নিচের এই তথ্যটা আপনার জন্য, এটা দেখুন-
বিজ্ঞানীরা বলেন- আসলে মহাবিশ্বে "মহাশূন্য" বলতে কিছুই নেই। হয়ত পদার্থ বা Matter দ্বারা পূর্ণ, নয়ত Dark matter দ্বারা পূর্ণ। আমরা Dark matter কোনও ভাবেই দেখতে পাই না, তাদের অঞ্চলটাকে মহাশূন্য নামে অখ্যায়িত করি!! তাই না??
এবার দেখুন যে, পবিত্র কোরান এই তথ্যটাকে কি সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছে। আর এটা নিশ্চয় আপনাকে অবাক করবে!! শুধু অবাক নয়, কোরানের লেখক কোনও মানুষ নয়, তাও প্রমাণিত হবে। দেখুন-
أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِنْ فُرُوجٍ●
অনুবাদ হবে এমন-"আচ্ছা, তারা কি লক্ষ্য করে না যে, [আপাত দৃষ্টিতে] তাদের উপরে আমরা মহাবিশ্ব কিভাবে নির্মাণ করেছি?? আর কিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে সৃষ্টি করেছি?? আর তাতে কোনও "শূন্যতা" নেই"(50:6)।
পাঠক, এবার অবাক হয়েছেন?? অবশ্যই ও নিশ্চয় হয়েছেন, নয়ত হোসেন কুরানীর লিখে লাভ কি হচ্ছে, যদি আপনাকে অবাক এবং হতবাক না করতে পারে?? সুতরাং আপনি কি দুয়া করবেন হোসেন কুরানীর জন্য??
পাঠক, এবার প্রসঙ্গ একই রেখে আলোচনার পট পরিবর্তন করতে চাইছি। আচ্ছা, Dark matter এর বাংলা কি হবে?? কালো বস্তু/ কালো পদার্থ, তাই না?? এখন ভিন্ন ভাবে বলতে গেলে- আমিও Dark matter বা কালো বস্তু/ কালো পদার্থ, তাই না বলুন??
কারণ, আমার রঙ কালো। হাঁসির কথা হল- যদি আমি Dark matter বা কালো বস্তু/ কালো পদার্থ না হয়ে সাধারণ Matter বা White matter হতাম, তাহলে হয়ত ★★ আমাকে ছেড়ে যেত না, তাই না বলুন??
কিন্তু তাকে বিয়ে করার মতো বা তার স্বামী হওয়ার মতো সৌভাগ্য আমার কই!! পাঠক, একটু মজা করব?? আমার ভাগ্যটা হয়ত আল্লাহ Dark matter এর কালি দিয়ে লিখেছেন!!
Sorry আল্লাহ, কিন্তু মাঝে-মধ্যে খুব কষ্ট হয়। সত্যি বলতে- মাঝে মধ্যে কোথায়, আমি সুখ পেয়েছি কবে, সেটাই তো মনে পড়ছে না!! কিন্তু এখানে খুশির কথা হল- আমি কষ্ট গুলোকেই সুখ ভেবে মনকে ভুল বুঝিয়ে দিয়েছি!!
এই সব কিছুর পরও বলি- সুবহানআল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার, আপনি আমাকে শুধু হোসেন নয় বরং হোসেন কুরানী বানিয়েছেন এবং পাইয়ে দেন "লক্ষ-কোটি" মানুষের ভালবাসা!!
যাইহোক, এখন প্রশ্ন হবে- Dark matter এর কাজ কি?? আর এই সম্পর্কে পবিত্র কোরানে কি কিছু বলা হয়েছে?? হোসেন কুরানী কি পবিত্র কোরান থেকে উত্তর দিতে পারবেন??
উত্তর সহজ- হোসেন কুরানী কি পারেন, আর কি পারেন না, তা তো আপনি ভাল করেই জানেন!! তবে এখন আপনাকে একটা দারুণ বিষয় দেখাব, আর তা হল- 69:38-39 আয়াতে 25 টি হারাফ রয়েছে, যা 25= 2+ 5= 7, তাই না?? সুবহানআল্লাহ বলবেন না??
এবার উত্তর দিই?? Dark matter আসলে Dark energy'র বিপক্ষে অভিকর্ষের পক্ষে কাজ করে। যদি Dark matter সৃষ্টিতে না থাকত, তাহলে Dark energy এর প্রভাবে Galaxy গুলো একত্র থাকতে পারত না, সে গুলো ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যেত। এই Dark matter এখানে Balanced রাখে!!
পাঠক, এবার আমরা আপনাকে প্রশ্ন করি- এই তথ্য টা পবিত্র কোরানে থাকতে পারে?? মনে হয়- থাকতে পারে না, তাই না?? তাহলে কি Islamic google এ Search করব?? Search করলাম, সঙ্গে-সঙ্গে Result এল এটা- إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولَا অনু বাদ হবে এমন-"নিশ্চয় আল্লাহ ধরে রেখেছেন মহাবিশ্ব বা Galaxy সমূহকে, যেন ছিন্ন-ভিন্ন না হয়"(35:41)।
পাঠক, অবাক হন নি?? আররেহ, কি রে ভাই, সত্যিই অবাক হন নি?? এখনও অবাক হন নি?? আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা, অবাক হয়েছেন, তাই তো?? তাহলে বলবেন তো, আমি ভাবলাম হন নি!!
প্রশ্ন হবে- মানুষ যে মায়ের গর্ভে 4 মাস মতো প্রাণহীন অবস্থায় ছিল, এই তথ্য কি পবিত্র কোরানে সরা-সরি ভাবে উল্লেখ আছে?? উত্তর সহজ- আছে কি, তা তো পরের কথা।
কিন্তু আগের কথা হল- এই প্রশ্নের উত্তর হোসেন কুরানী ছাড়া আর কোথাও কি পাওয়া যেতে পারে??আচ্ছা পাঠক, আপনার কি মনে হয়- হোসেন কুরানী কি সত্যিই এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন??
ঠিক আছে, দেখুন- كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا অনু বাদ হবে এমন-"তোমরা কিভাবে আল্লাহকে অবিশ্বাস করও, অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন"(2:28)। উল্লেখ পেয়েছেন পাঠক??
পেয়েছেন, তাই না?? আচ্ছা, এখানে কিন্তু মোটেও শেষ নয়, 2:28 আয়াতাংশে হারাফ সংখ্যা 25 টি, যা 25= 2+ 5= 7, এগুলো কি কোনও মানুষ রচিত হতে পারে পাঠক?? এত গুরুত্বপূর্ণ Advance Scientific information গাণিতিক মান বাজায় রেখে লেখা 1500 বছর পূর্বে কি তা কোনও মানুষের দ্বারা সম্ভব হতে পারে?? তাও আবার যিনি পড়াশোনা জানতেন না, তার দ্বারা??
সোহেল আলম ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- তাহলে এই (يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ) আয়াতের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কি কুরানী সাহেবের থেকে পাব?? কেননা, জীবনে কেউ কখনও এই আয়াতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করে নি, এখন কুরানী সাহেব কি করবেন??
ভাই, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং কুরানী বিশ্লেষণ অবশ্যই হবে- ইনশাআল্লাহ। তবে, তার আগে অনুবাদ করে নিই?? অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই বের করেন মৃত হতে জীবন"(3:27, 6:96, 10:31, 30:19)। তাই তো??
আমি জানি- আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোর এবং বিশুদ্ধ গাঁজাখোরগণ আউকাত না থাকা সত্ত্বেও এই আয়াতের ব্যাখ্যা করার অপচেষ্টা করেছেন!! তা ঠিক এভাবে-
"মানুষ মরার পর আল্লাহ তাকে জীবন দেন বিচারের দিনে, এখানে সেই কথাই আল্লাহ বলেছেন"। এই হল তাদের ব্যাখ্যা!! এখন এটাও যদি ব্যাখ্যা হয়, গাঁজাখুরি কোনটা??
কেন, গাঁজাখুরি কেন?? উত্তর সহজ- যদি আল্লাহ সেই কথাই বলতেন, তাহলে কখনও এভাবে বলতেন না, যেভাবে বলেছেন!! চলুন তাহলে সম্পূর্ণ আয়াতটা দেখি?? নিন-
يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই বের করেন মৃত হতে জীবন এবং জীবন হতে মৃত। আর পৃথিবীকেও তার মৃত্যুর পর জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরও বের করা হবে [মৃত্যুর পর]"(30:19)।
আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোর এবং বিশুদ্ধ গাঁজাখোরগণের ব্যাখ্যার ভুল কোথায়- সেই আলোচনা পরে হবে ক্ষণ। হোসেন কুরানীর এক অন্যতম প্রিয় পাঠক কি বলেছেন- তা একবার দেখে নিই!! কি বলেন পাঠক??
আয়েশা জাহান বলেছেন- Sir, আপনি কি ছোট করে আমাকে বলবেন যে, প্রেম কি?? কোরান এই সম্পর্কে কি বলে?? আমি (আয়েশা জাহান) দার্শনিক Style এ কুরানী বিশ্লেষণ চাইছি!!
কোরান কি বলে- তা পরে দেখাব, প্রেম সম্পর্কে কিছু ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে, তা বলতে চাইব। আপনি শুনবেন জাহান?? যাকে দেখে ঘুমাতাম, তার কল্পনায় ঘুম না আসা এবং ওষুধ (Tryptromer- 25) খেয়ে ঘুম কিনে নিয়ে আসার নাম- প্রেম!!
হা হা হা হা হা, মজার ছলে বললাম কিন্তু মিথ্যা নয়!! বিরহের পর সারা দিন তার প্রতি অনেক রাগ, ঘৃণা এবং প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তা করার পরও রাতে তার জন্য বালিশ ভিজে যাওয়ার নাম হয়ত- প্রেম!!
বাস্তবতা জেনেও এক কাল্পনিক জগতে তাকে নিজের ভাবার নাম হয়ত- প্রেম!! হৃদয়ের গভীরে প্রতিনিয়ত তার প্রতি ঘৃণা জমতে-জমতে ঘৃণার হিমালয় গড়ে ওঠার পরও স্মৃতি, দরদ, মায়া, মমতা, ভালবাসা গুলো Mariana trench হওয়ার নাম হয়ত- প্রেম!! পরিশেষে আয়াতটি দেখুন-
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً●
অনুবাদ হবে এমন-"এবং তার নিদর্শন সমূহের মধ্যে এও অন্যতম যে, তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে সঙ্গীনিদেরকে। যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন প্রেম ও দয়া"(30:21)।
বুঝতে পারেন নি, তাই না?? আল্লাহ সঙ্গীনি সৃষ্টি করেছেন, যেন তার কাছে শান্তি, প্রেম ও দয়া পেতে পারি কিন্তু সঙ্গীনি তো নেই- এই জন্য শান্তি, প্রেম ও দয়া না পেয়ে উপরিউক্ত Reaction গুলো হওয়ার কথা!!
এবার একটু গাণিতিক বিষয় গুলো লক্ষ্য করুন, যা হয়ত আপনাকে অবাক করবে- 30:21= 3+ 0+ 2+ 1= 6, তাই না?? আর উদ্ধৃতি করা আয়াতাংশে 60 টি হারাফ আছে। মানে- 60= 6+ 0= 6, তাই তো??
এখন প্রশ্ন হবে- 6 আসছে কেন?? উত্তর পরে দিচ্ছি, এখন লক্ষ্য করুন যে, উক্ত আয়াতাংশে 18 টি শব্দ আছে, যা- 18÷ 6= 3, বুঝতে পারছেন না?? বিষয়টি খুব সহজ!!
কিন্তু বিজ্ঞান না জানার জন্য হয়ত বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। তবে, চিন্তার কিছু নেই, হোসেন কুরানী আছেন এবং এখনও 120 বছর 6 মাস মতো আছেন- ইনশা আল্লাহ!!
আচ্ছা, এখানে 3 টি সংখ্যা আছে, তাই না?? 3, 6 ও 18, তাই তো?? 3 হল 3 টি বৈশিষ্ট্য- ১) প্রশান্তি, ২) প্রেম ও ৩) দয়া। এটা পারস্পারিক অর্থাৎ 3 জোড়া। মানে হল- 6 টি। ঠিক আছে??
প্রশ্ন হবে- 18 এল কেন?? উত্তর সহজ- 18 না এলে কি 3 পেতেন?? এখন 18 সম্পর্কে বিজ্ঞান কি বলে, তা নিচে দিয়ে দিচ্ছি। একটু কষ্ট করে পড়ে নিন, যদিও তা English এ থাকবে-
Chromosome 18 is one of the 23 pairs of chromosomes in humans. People normally have two copies of this chromosome. Chromosome 18 spans about 80 million base pairs (the building material of DNA) and represents about 2.5 percent of the total DNA in cells.
যাইহোক পাঠক, আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারাম খোর এবং বিশুদ্ধ গাঁজাখোরগণের ব্যাখ্যার ভুল কোথায়, এবার সেই আলোচনা করব- ইনশাআল্লাহ। আপনি আনন্দ উপভোগ করুন-
১) যদি উক্ত আয়াতে মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের কথা বলতেন, তাহলে আয়াতে (وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ) বা "জীবন থেকে মৃত বের করেন" প্রথমে থাকত। তারপর থাকত (يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ) বা "তিনি মৃত থেকে জীবন বের করেন"। কিন্তু তা নেই, আছে-
يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই বের করেন মৃত হতে জীবন এবং জীবন হতে মৃত। আর পৃথিবীকেও তার মৃত্যুর পর জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরও বের করা হবে [মৃত্যুর পর]"(30:19)।
২) উদ্ধৃতি করা আয়াতের শেষে তো পরিষ্কার করে বলাই হচ্ছে- وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ বা "এভাবেই তোমাদেরও বের করা হবে [মৃত্যুর পর]"। সুতরাং তাহলে প্রথমে উক্ত আয়াতাংশের (يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ) ব্যাখ্যা কিভাবে পরকালের জীবনের কথা হতে পারে??
৩) উদ্ধৃতি করা আয়াতাংশটি পড়লেই বোঝা যাবে যে, আয়াতের প্রথমাংশটা (وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ) শেষাংশের উদাহরণ। চাইলে উদ্ধৃতি করা আয়াতটি আরও একবার ভাল ভাবে পড়ুন, নিন-
يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ●
অনুবাদ হবে এমন-"তিনিই বের করেন মৃত হতে জীবন এবং জীবন হতে মৃত। আর পৃথিবীকেও তার মৃত্যুর পর জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরও বের করা হবে [মৃত্যুর পর]"(30:19)।
এখন প্রশ্ন হবে- তাহলে এই (يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ) আয়াতাংশের ব্যাখ্যা কি হবে?? উত্তর সহজ- আলিম গণ অর্থাৎ সম্মানিত হারামখোরগণ এবং বিশুদ্ধ গাঁজা খোরগণ যদি ব্যাখ্যা করে দেবেন, তাহলে হোসেন কুরানী তো বেকার হয়ে যাবেন!! যাইহোক, দেখুন-
আচ্ছা পাঠক, আপনি কি Amino acid এর নাম শুনেছেন?? প্রশ্ন হবে- Amino acid এর সঙ্গে এই আয়াতাংশের কি সম্পর্ক?? উত্তর সহজ- Biology বা জীব বিদ্যা সম্পর্কে জানলে এ প্রশ্ন কখনও করতেন না। কারণ, সম্পর্কটা তখন আপনার জানা থাকত!!
অনেক কিছু বলব পরে, এখন একটা বিষয় শুধুমাত্র বলে রাখি- উক্ত আয়াতটা মানুষ সম্পর্কিত নয়, বরং মানুষ ও জ্বীন ছাড়া অন্যান্য সৃষ্টি সম্পর্কিত। কেন?? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে Link এ Click করুন-
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1046074349110895&id=544853392566329
আমরা মনে হয় শুধু এতটুকুই জানি- Amino acid হল Protine তৈরির একক এবং সুস্থ থাকতে 20 টি Amino acid প্রয়োজন। তারমধ্যে 11 টি আমাদের শরীর নিজেই তৈরি করে নিতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ 9 টি Amino acid খাদ্যের মাধ্যমে গ্ৰহণ করতে হয়!! তাই না??
কিন্তু Amino acid এর গুরুত্ব এখানেই শেষ নয়, এই Amino acid পৃথিবীতে/ Green belt life zone গুলো তে না থাকলে জীবনই সৃষ্টি হতো না। কারণ, Amino acid ছাড়া Protine এবং Protine ছাড়া কোষ সৃষ্টি হতো কিভাবে?? তাই না??
এখন একটা প্রশ্ন হবে- পৃথিবীতে/ Green belt life zone গুলো তে এই Amino acid এল/ পৌঁছাল কোথায় থেকে?? এ প্রশ্নের উত্তর সহজ- Supernova Explanation এর মাধ্যমে!!
এখানে অবাক করা তথ্য হল- এই Amino acid কিন্তু নিজে প্রাণহীন বা মৃত। পবিত্র কোরান উক্ত 4 টি আয়াত সেই তথ্যই আমাদের জানিয়েছে, যার ব্যাখ্যা আলিমগণ অর্থাৎ সম্মানিত হারাম খোর এবং বিশুদ্ধ গাঁজাখোরগণের দ্বারা গত 1500 বছরে সম্ভব হল না। এ জন্য হাঁসব, না কি কাঁদব- বুঝতে পারছি না!!
আজ যদি হোসেন কুরানীর থেকে এ তথ্য না পেতেন, তাহলে কবে এবং কার থেকে পেতেন?? যদিও প্রার্থনা রয়েছে- وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ অনুবাদ হবে এমন-"[হে আল্লাহ] আপনিই মৃত [Amino acid] হতে জীবন এবং জীবন থেকে মৃত [রেচিত পদার্থ বা Excretory products] বের করেন"(3:27)। সুতরাং সুবহানআল্লাহ বলা ছাড়া আর অন্য কোনও Options আছে আপনার কাছে??
এবার দেখুন- উক্ত আয়াতে (وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ) 16 টি হারাফ রয়েছে, যা 1+ 6= 7 এবং 3:27= 3+ 2+ 7= 12= 1+ 2= 3, এখানে 3 কেন এল বলুন তো?? এ প্রশ্নের উত্তর সহজ- এটা প্রার্থনার আয়াত, এই ছাড়াও এই আয়াত আরও 3 বার আছে!!
সুধী পাঠক, এবার আমরা গত পর্বে ছেড়ে আসা প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেব- ইনশাআল্লাহ। প্রশ্ন ছিল- জান্নাতী ও জাহান্নামীদের উচ্চতা কতটা হবে এবং বিজ্ঞানটা কি?? এটাই প্রশ্ন ছিল, তাই না??
এ প্রশ্নের উত্তরে নাবী (সা) বলেছেন-"জান্নাতীদের উচ্চতা আদাম (আ)- এর মতো 60 হাত/ 90 fit হবে, যেমনটা জান্নাতে আদাম (আ)- এর ছিল"(বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, হাদীস 3327)।
আর জাহান্নামীদের প্রসঙ্গে বলেছেন-"তার/ তাদের গায়ের চামড়া হবে 42 গজ মোটা, তার মাড়ির দাত হবে উহুদের সমান বড় এবং মাক্কা-মদীনার দূরত্বের সমান বিস্তৃত হবে তার/ তাদের বসার স্থান"(তিরমিযী, কিতাবু সিফাত জাহান্নাম, হাদীস 2577)।
এবার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা!! উত্তর সহজ- আকার বৃদ্ধি করার বিজ্ঞানটা খুব সহজ (আল্লাহ কিভাবে করবেন জানি না)। তবে, শুধুমাত্র কোষের স্বাভাবিক মৃত্যু বন্ধ করে দিলেই হবে। এই বিষয়ে গত পর্বে অনেক বিস্তারিত দেখিয়েছি। তাই না??
এখন একটা ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই, আর তা হল- আদাম (আ) কি সত্যিই 90 fit ছিলেন?? তা এত বড় করব কোথায় আছে, এখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি কেন?? এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আউকাত কি হোসেন কুরানীর আছে??
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা ঠিক এভাবেই প্রশ্ন টি পাঠিয়েছেন। তাকে বলতে চাইব- হোসেন কুরানী এ প্রশ্নের উত্তর না দিলে, দেবেন কে?? হোসেন কুরানী কে এভাবে Challenge করবেন না, করলে শুধু নিজেকেই অপমান করা হবে!! কারণ, এমন কোনও প্রশ্ন নেই, যে প্রশ্নের উত্তর হোসেন কুরানীর কাছে নেই!!
এবার উত্তর দিই?? এ প্রশ্নের উত্তর ঐ হাদীসেরই শেষ অংশে রয়েছে। বুঝতে পারেন নি, তাই না?? আচ্ছা দাঁড়ান, আপনার সুবিধার্থে হাদীসের শেষ অংশটি নিয়ে আসছি। দেখুন-
عَلَى خَلْقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ آدَمَ سِتُّونَ ذِرَاعًا فِي السَّمَاءِ●
অনুবাদ হবে এমন-"তাদের প্রত্যেকের শরীর হবে আদি পিতা আদাম (আ)- এর মতো 60 হাত অথবা 90 fit মতো। যেমনটা আকাশে অর্থাৎ জান্নাতে ছিল"(বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, হাদীস 3327)।
বুঝে নিয়েছেন, না কি আরও কিছু বলতে হবে?? আচ্ছা বলি, হ্যাঁ?? এখনও পর্যন্ত মানবজাতি পৃথিবীর কত শতাংশ অঞ্চলে পা রাখতে সক্ষম হয়েছি?? উত্তর টা চমকে উঠার মতো- মাত্র 1 শতাংশ!! এখন যদি আদাম (আ)- এর উচ্চতা পৃথিবীতেও 60 হাত বা 90 fit হতো, তাহলেও কি তার কবর খুঁজে পাওয়া খুব সহজ হতো??
ইমতিয়াজ আহমাদ ভাই বলেছেন - জাহান্নামে এত শাস্তি পাওয়া সত্ত্বেও মানুষ মরবেন না কেন?? আর জ্বীনরা তো আগুনেরই সৃষ্টি, তারা আগুনে পুড়বেন কেমন করে- এ বিষয়ে কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কি হোসেন কুরানীর কাছে??
এ প্রশ্নের উত্তর কঠিন নয়, খুব সহজ কিন্তু লেখাটি আকারে অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই এখানে থামতে বাধ্য হচ্ছি। পরবর্তী পর্বে এ প্রশ্নের উত্তর দেব- ইনশা আল্লাহ।
তবে, আপনাদের জানিয়ে রাখতে চাইছি যে, পবিত্র কোরান অনুবাদের কাজে Officially হাত দিচ্ছি, যা খুবই শীঘ্র "বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কোরান" নাম নিয়ে বাজারে আসবে। আর 2022 এর আগেই তা আপনারা হাতে পাবেন- ইনশাআল্লাহ। যা প্রকাশিত হবে Shahin publication (কলকাতা) থেকে।
ইনশাআল্লাহ, এই অনুবাদ "বিজ্ঞান জগতে" ইতিহাস সৃষ্টি করবে এবং কোরান গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে, আর পবিত্র কোরান যে ভূত তাড়াবার কোনও বই নয় বরং গবেষণার "সর্বোত্তম" বিষয়- সেই ধারণাও প্রতিষ্ঠিত হবে!! যেমনটা আল্লাহ বলেছেন-
كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ●
অনুবাদ হবে এমন-"আমরা আপনার উপর কল্যাণময় গ্ৰন্থ [কোরান] নাযিল করেছি, যেন তার আয়াত সমূহ নিয়ে গবেষণা করে এবং তা হতে শিক্ষা নেয় জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্নরা"(38:29, 16:44)।
সুতরাং এই 7 নং পর্বের পর হয়ত 8 নং পর্ব বের হবে 2022 এর পর- এ জন্য মনটা খুব খারাপ হচ্ছে। তবুও চেষ্টা করব "কোরানের গভীরে দৃষ্টির" পর্ব গুলোর কাজ চালিয়ে যেতে!!
সবার কাছে দুয়া প্রার্থী। সবাই দুয়া করবেন- যেন "বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কোরান" নামক অনুবাদে কম ভুল করি। তবে, আমার একটা ইচ্ছা ছিল, যা আগেও বলেছিলাম।
কিন্তু আর কখনও পূরণ হবে না। আমি তাকে অর্থাৎ ★★'কে বলেছিলাম- হানী, আপনি "বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল কোরান" এ কোনও একটা ভূমিকা রাখবেন। যেন তা "সাদকায়ে জারিয়া" হয়ে যায় এবং "হানী" নামটা যেন পৃথিবী থেকে কখনও মুছে না যায়। আর হোসেন কুরানীর নামের পাশে যেন "হানী নামটা" কিয়ামাতের দিনেও উচ্চারিত হয় আল্লাহর মুখ দিয়ে!!
কিন্তু...!! কিন্তু...!! কিন্তু সব ইচ্ছা কি আর পূরণ হয়!! পৃথিবী তো আর জান্নাত নয়। তার উপর আবার আমি Dark matter, সুতরাং ইচ্ছা পূরণের তো আর কোনও প্রশ্নই ওঠে না!! তাই না বলুন??
প্রকাশকাল : 06.05.2021
শেষে একটা মজা দেখুন- 06.05.2021= 0+ 6+ 0+ 5+ 2+ 0+ 2+ 1= 16= 1+ 6= 7, তাই না?? লেখা শেষ করে ফেললাম কিন্তু ইমতিয়াজ আহমাদ ভাইয়ের প্রশ্ন 2 টির উত্তর দেওয়া হল না!! তবে, আমরা আশা করছি যে, পরবর্তী পর্বে উত্তর দেব- ইনশাআল্লাহ।
নিয়াজ আলি ভাই প্রশ্ন করে বলেছেন- বাজারে কি বঙ্গানুবাদ কোরান নেই?? নতুন করে অনুবাদের কেন প্রয়োজন পড়ল?? একটা নতুন অনুবাদ বাজারে এসে গেলেও তাতে কি লাভ হবে??
ভাই, এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ- বাজারে বঙ্গানুবাদ কোরান আছে কিন্তু প্রায় সমস্ত অনুবাদেই 6236 টা আয়াতের মধ্যে কম-বেশি 3500-4500 টা আয়াতের অনুবাদে ভুল আছে!!
আর হ্যাঁ, আমার নিজস্ব লাভ বা ক্ষতি নেই, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া। আর আমার নিজের কোনও প্রয়োজনও নেই, মানবজাতির প্রয়োজন ছাড়া!! প্রশ্ন হবে- মানবজাতির কি লাভ হবে??
এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ- মানবজাতির কি লাভ হবে জানি না। তবে, এটা কঠিন সত্য যে, আপনি "বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কোরান" পড়লে আপনি যে কোনও বিজ্ঞানীর সঙ্গে আলোচনা এবং তর্ক করার যোগ্যতা অর্জন করে নিতে পারবেন!!
আর শুধুমাত্র "আলোচনা এবং তর্ক" নয় বরং আপনি নিজে যে কোনও বিজ্ঞানীর চেয়ে বেশি জ্ঞানী হয়ে উঠবেন- ইনশাআল্লাহ। যেমনটা- Islam এর Golden age এ হতো।
কিন্তু আলিম বা সম্মানিত হারামখোর এবং বিশুদ্ধ গাঁজাখোরগণের দয়ায় এখন আর কোরান পড়ে কেউ বিজ্ঞানী তৈরি হয় না, এখন হয়ত সম্মানিত হারামখোর তৈরি হয়, নয়ত বিশুদ্ধ গাঁজাখোর!!
আর কি হবে?? "বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কোরান" পড়ে আর কোনও ইসলাম বিদ্বেষী, অমুসলিম এবং নাস্তিকগণ কোরান ও ইসলামকে আর কটাক্ষ করবেন না বরং কোরানের বিস্ময়ে বিস্মিত হয়ে কোরানের ছায়ায় আশ্রয় নেবেন- ইনশাআল্লাহ!!
আর কি হবে?? যদি আল্লাহর দয়া থাকে, তাহলে আপনিও Mini হোসেন কুরানী হয়ে উঠবেন!! আর কি হবে?? "বিজ্ঞানের বিজ্ঞান আল-কোরান" বাজারে এলে কিনে নেবেন, নিজেই বুঝতে পারবেন যে, আর কি হবে!! ঠিক আছে, লেখা শেষ। যান, এবার বেশি করে দুয়া করুন!!
দুয়া তো করবেন বটেই কিন্তু মোটেও ভুলে যাবেন না যে, দেড় বছর পর থেকে আবার কোরানের গভীরে দৃষ্টির পর্ব লেখা শুরু হবে। সুতরাং অপেক্ষা করতে থাকবেন, ঠিক আছে??
আর শুধু যে শুরু হবে, তা নয়। থাকবে নিত্য নতুন অবাক করা গবেষণা ও চমক, যা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে যে, আলিমগণ বা সম্মানিত হারামখোরগণ এবং বিশুদ্ধ গাঁজাখোরগণ পবিত্র কোরানের প্রতি গত 1500 বছরে শুধুই অন্যায় করে গেছেন!!
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: