@মানুষ কি মাটি দ্বারা সৃষ্ট?? বিজ্ঞান কি বলে??@
বহুদিন আগে হিন্দু ধর্মীয় সংস্থা ইসকনের কয়েক জনের সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা চলছিল। তখন তাদের মধ্যে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করল-"বিজ্ঞান বলে যে, মানুষ সৃষ্টি হয়েছে বিবর্তনের মাধ্যমে অথচ মুসলিমরা বলে যে, মানুষ মাটি দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। এটা বিজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করতে পারবেন??
তখন মানুষ যে মাটি দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে- এটার বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা করেছিলাম। কোরান ও Bible থেকে উদ্ধৃতি এবং ব্যাখ্যা শোনার পর উনি বললেন- ও সব বাদ দিন এবং এটা বলুন যে, আপনার Brain টা কি দিয়ে তৈরী, এত মনে রাখেন কি করে??
যাইহোক, সেদিনকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার চেয়ে কিন্তু আজকের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনেক বেশি ভালো হবে- ইনশাআল্লাহ!! তবে আজ লেখার উদেশ্য হল এই যে, কেউ একজন প্রশ্ন করে বলেছেন- ফেরেস্তার সৃষ্টি ও ফেরেস্তা প্রসঙ্গকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করতে পারবেন?? তো, সেটা করার জন্য মানুষ সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও জ্বীন সৃষ্টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটা জানা থাকলে, তবেই ফেরেস্তার সৃষ্টি ও প্রসঙ্গ'র বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটি বুঝতে সুবিধা হবে। তাই আজকের লেখাটি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হল। তাই না??
প্রথমেই বলে রাখতে চাই যে- মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে, এটা শুধুমাত্র কোরানে নয়, Bible এও বলা আছে এভাবে-"And the Lord God formed man of the dust of the ground"(Bible, old testament, book of Genesis- 2:7)। অনুবাদ হবে এমন-"তারপর ঈশ্বর মাটির ধূলা হতে আদমকে সৃষ্টি করলেন"(Bible, old testament, book of Genesis- 2:7)। কোরানে এ তথ্য আছে এভাবে- خَلْقَ الْإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ অনুবাদ হবে এমন-"তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে"(32:7, 3:59, 23:12, 22:5, 37:71, 15:26)।
এবার কোরান যা বলেছে, তা একটু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিচার করে দেখা যাক। এ বিষয়ে বিজ্ঞান বলে- মানব দেহ কোষে যত রকম পদার্থ আছে, সেই সমস্ত কিছু মাটিতেও আছে। সাধারণ ভাবে মাটির তাপমাত্রা ও মানব দেহের তাপমাত্রা একই। তাই ধরে নেওয়া যেতেই পারে যে- মানুষ মাটি দ্বারাই সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিজ্ঞানে তা সরাসরি ভাবে প্রমাণিত নয়, কিন্তু অস্বীকার করার উপায়ও নেই!!
তবে জানিয়ে রাখতে চাই- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানব শরীরে কমবেশি 37.2 Trillion কোষ রয়েছে কিন্তু জানেন কি, Trillion মানে কত?? One trillion হল- 10,000,00 × 100,000,00,00 = 1000,000,000,000, 000. এবার যদি 37 Trillion এর হিসাব বের করতে হয়, তাহল এভাবে করতে হবে- 1000,000,000,000, 000 × 37 = 37, 000, 000, 000, 000, 000. অর্থাৎ 37,000 এর পাশে 12 টি শূন্য দিতে হবে। তাহলেই হবে- 37 Trillion.
সুধী পাঠক, আপনাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আরও কিছু Information দিয়ে রাখতে চাই। আপনি কি গ্ৰহণ করবেন?? আপনি কি জানেন, আমাদের শরীরে বস-বাসকারি Bacteria র সংখ্যা কত?? শুনে অবাক হবেন হয়ত, তাদের সংখ্যা হল- মাত্র 40 Trillion মতো!! এখন শুধু কথায় প্রকাশ করলাম, একবার সংখ্যায় প্রকাশ করি, তাহলে আরও বেশি অবাক হবেন, দেখুন- 40, 000, 000, 000, 000, 000. তার মানে আমাদের শরীরে কোষের চেয়ে বেশি হল- Bacteria. অর্থাৎ আমাদের শরীরের 60% হল- Bacteria. অবাক হন নি??
কিন্তু সুধী পাঠক, এত Bacteria আল্লাহ মানব শরীরে দিলেন কেন?? জানা আছে কি?? কারণ শুনলে অবাক হবেন হয়ত। শুনবেন?? আমাদের শরীর পরিচালনা করার জন্য আমাদের কোষ যত Protein তৈরী করে, তার চেয়ে 350 গুণ বেশি Protein তৈরী করে ঐ Bacteria গুলোই!! আলহামদুলিল্লাহ বলবেন না??
সুধী পাঠক, আপনি জানেন কি, আমি মাধ্যমিক পরিক্ষায় গণিতে কত পেয়েছিলাম?? শুনে হাঁসবেন হয়ত, মাত্র 22 নম্বর পেয়েছিলাম!! অর্থাৎ কোনও রকমে Pass করেছিলাম মাত্র!!
প্রথম সংস্করণ : 20.02.2020
জানেন পাঠক, আমি গণিতে খুব কাঁচা ছিলাম এবং মাধ্যমিকে গণিতে পেয়েছিলাম মাত্র 22 নম্বর। এ জন্য হানী আমাকে নিয়ে খুব মজা করত এবং বলত- এই না কি হোসেন কুরানী সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানে, তাহলে মাধ্যমিক পরিক্ষায় গণিতে এত কম নম্বর কেন?? তখন বুঝি আপনি কচি-খোঁকা ছিলেন?? আমি বলেছিলাম- তখন হোসেন ছিলাম, কুরানী নয়!!
যাইহোক, এই লেখাটা লেখার কিছুদিন পর থেকেই হানীর সঙ্গে Love Relation শুরু হয় এবং মাত্র এক বছর যেতে না যেতেই 13.10.19 এ হানীর প্রতারণায় সব শেষ!! এখন শুধু স্মৃতি, যা আপনাদের সঙ্গে Share করলাম!!
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।
---------------------------------------------------
@আগুন দ্বারা জ্বীন সৃষ্টি, বিজ্ঞান কি বলে??@
কিছুদিন আগেই একটি প্রশ্ন এসেছে, প্রশ্নটি হল- ফেরেস্তাদের যাতায়াত সম্পর্কিত। কিন্তু ফেরেস্তা প্রসঙ্গ টি বোঝা খুবই জটিল। তাই আগে মানুষ সৃষ্টি ও জ্বীন সৃষ্টি বিষয়টি ভালো ভাবে জানা জরুরী।
আর প্রায় 3 মাস আগে জ্বীন ও জ্বীনের অস্তিত্ব প্রসঙ্গ টি নিয়ে বিজ্ঞান সম্মত আলোচনা করেছিলাম। নিচে সেই লেখা দিলাম, চাইলে দেখতে পারেন,👇
জ্বীন-এর অস্তিত্ব, বিজ্ঞান ও ইসলাম।
------------------------------------------------
অনেকেই জ্বীন-এর অস্তিত্ব ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লিখতে অনুরোধ করেছিলেন। তাই এ নিয়েই আজকের লেখা। ভালো অবশ্যই লাগবে। সুতরাং শেয়ার করবেন।
আজ থেকে 60-70 বছর আগে পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা জ্বীনের অস্তিত্ব অস্বীকার করত। কিন্তু আজ বিজ্ঞানীরা জ্বীনের অস্তিত্ব স্বীকার না করলেও অস্বীকার করে না। তাদের "অস্বীকার না করার" পিছনে রয়েছে পবিত্র কোরানের একটি আয়াত ও একটি সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। কি সেই আয়াত?? চলুন দেখি-
কোরানের সূরা যারিয়াত'এর 49 নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন-"আমি সৃষ্টি করেছি প্রত্যেক বস্তুর প্রতিবস্তু"। "আয়াত"টি একজন সাধারণ মানুষের কাছে/মুসলিমের কাছে সাধারণ একটি আয়াত কিন্তু একজন বিজ্ঞানীর কাছে মহাবিজ্ঞান।
"প্রতিবস্তু" কি?? এটা আমরা অনেকেই জানি না। প্রতিবস্তু'কে ইংরেজিতে বলা হয়-"অ্যন্টি ম্যাটার"। পরমাণু বিজ্ঞানে প্রোটন শব্দের সঙ্গে সবাই পরিচিত। একটি প্রোটনের আয়ু বা হায়াত কোটি কোটি কোটি বছর। কিন্তু অ্যন্টি প্রোটনের সংস্পর্শে আসা মাত্রই প্রোটন'টি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
আজ বিজ্ঞানে অ্যন্টি প্রোটন প্রমাণিত। কিন্তু "অ্যন্টি ম্যাটার" কি বা কেমন তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কাছে নিশ্চিত কোনও উত্তর নেই। তবে, বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত এবং এটা প্রমাণিত যে, "প্রতিটা বস্তুর বা ম্যাটারের প্রতিবস্তু বা অ্যন্টিম্যাটার আছে"।
এ বিষয়ে কোরান মানুষের প্রতিবস্তু হিসাবে জ্বীন-এর প্রস্তাব দিয়েছে। "জ্বীন" আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টির মতোই এক সৃষ্টি। কোরানে বহু স্থানে জ্বীন নিয়ে আল্লাহ কথা বলেছেন। তাই জ্বীনের অস্তিত্ব অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। জ্বীনে অস্বীকার করলে "ইমান'' ক্ষতিগ্রস্ত ও নষ্ট হয়ে যাবে। অন্যদিকে, বিজ্ঞানীরাও জ্বীনের অস্তিত্ব স্বীকার না করলেও অ্যন্টি ম্যাটারের মধ্যে গণ্য করে জ্বীনের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন না।
আমি(লেখক হোসেন কুরানী) "কোরান-হাদীস ও বিজ্ঞান''এর ক্ষুদে গবেষক। কোরান-হাদীস অনুযায়ী- জ্বীনের অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে। আর বিজ্ঞান অনুযায়ী- জ্বীনের অস্তিত্ব অস্বীকার করার পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই।
কিন্তু জ্বীন সম্পর্কে যত কিচ্ছা-কাহিনী শুনি, তার বেশিরভাগই কোরান হাদীস সমর্থিত নয়। বরং "জ্বীন ও জ্বীনধরা" নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াটি গল্পের প্রচার অনেক বেশি।
তবে, পরে কখনও "জ্বীন" সম্পর্কে বিস্তারিত লিখব- ইনশাআল্লাহ। তাই সঙ্গে থাকুন এবং কোরান-হাদীস ছাড়া প্রচলিত গল্পে বিশ্বাস করবেন না।
হ্যাঁ,যাইহোক
এবার এ সম্পর্কে কিছু কথা বলে নিই। নাস্তিকের কাছে কোরান ও ইসলামকে হেয়-প্রতিপন্ন করার অন্য তম হাতিয়ার হল- জ্বীন। যখন তারা এভাবে প্রশ্ন করেন যে-"কিভাবে আগুন দ্বারা জ্বীন সৃষ্টি করা সম্ভব"??
তখনই আমাদের/মুসলিমদের মুখে "ডিজিটাল তালা" লেগে যায়। এবং শুরু করে দিই "গুঁইগাঁই"!! আর আমরা/যারা গোঁড়া মুসলিম, তারা তখন গালাগালি শুরু করে দিই। তখন সেই নাস্তিকটা ফায়দা নিতে শুরু করে এবং বলে-"দেখুন, মুসলিমরাই এরকম গোঁড়া হয়ে থাকে"। অর্থাৎ আমরা জ্ঞানের অভাবে গালাগালি করে নিজের পায়ে, নিজেই কুড়ুলটা মেরে নিই। এবং সেই নাস্তিক সুযোগ করে দিই কোরান ও ইসলামের দুর্নাম করার।
যাইহোক, আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে "জ্বীন" কোনও অবৈজ্ঞানিক ও গাঁজাখুরি ধারণা নয়, বরং বিজ্ঞানেরই একটি ধারণার ফলাফল মাত্র। ধারণা টি হল-"প্রত্যেক বস্তুরই প্রতিবস্তু থাকে"। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যেতে পারে-"হয়ত বিজ্ঞানে এখনও জ্বীনের অস্তিত্ব সরাসরি প্রমাণিত নয়, কিন্তু জ্বীনের ধারণাটি অবৈজ্ঞানিকও নয়"।
যাইহোক, কিন্তু আজকের বিষয়, জ্বীনের অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা নয়, বরং *আগুন দ্বারা জ্বীনের সৃষ্টি বিষয়ে বিজ্ঞান সম্মত আলোচনা করা*। তাই নয় কি?? সুতরাং চলুন.......
উত্তর:::- কোরানে জ্বীন সৃষ্টি প্রসঙ্গটি এভাবে এসেছে- "আর পূর্বে (মানুষ সৃষ্টির আগে) অতি উতপ্ত ধূঁয়াবিহীন আগুন দ্বারা জ্বীন সৃষ্টি করেছি"(15:27)।
অর্থাৎ এই আগুন কোনও সাধারণ আগুন নয় বা ছিল না। কারণ, ধূঁয়াবিহীন আগুন বলতে কি বোঝায়?? আমরা যে আগুন দেখি, তাতে ধূঁয়া থাকে। তাই না?? ধূঁয়া থাকার কারণ হল- কার্বন জ্বালানি। তাই না?? আর যখন কার্বনকে জ্বালানি হিসেবে ব্যাবহার করা হবে, তখন স্বাভাবিক যে- সেই আগুন থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ও ছাই-ভষ্ম বের হয়ে ধূঁয়ার সৃষ্টি। তাই না??
প্রশ্ন হবে-"তাহলে আল্লাহ ধূঁয়া বিহীন আগুন বলতে, কোন আগুনকে বোঝাতে চেয়েছে"?? সহজ উত্তর- যে আগুন থেকে ধূঁয়া বের হয় না। আবার প্রশ্ন হবে-"এমন আগুন কি পৃথিবীতে বা মহাবিশ্বে আছে"??
এ প্রশ্নের উত্তর হবে- হ্যাঁ। আছে। প্রশ্ন হতে পারে- "কোথায়"?? এ প্রশ্নের উত্তর আমরা Big bang থেকে জেনেছি। বিজ্ঞানীরা বলেন-"শক্তি থেকে মহাবিশ্বের সুত্র পাত হয়েছিল(51:47)।
তারপর শক্তি থেকে ফোটন কণা বা নূর সৃষ্টি হয়(24:35)।
তারপর সৃষ্টি হয় হাইড্রো জেন ও হেলিয়াম গ্যাস(41:11)। এবং সেই হাইড্রোজেন ও হেলিয়াম গ্যাসের সমম্বয়ে প্রাথমিক আকারের নক্ষত্র সৃষ্টি হয়। যা ছিল প্রচুর উতপ্ত। আর হয়ত সেই আগুন থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে জ্বীন। এই তথ্যই হয়ত কোরান দিয়েছে এভাবে-"আর পূর্বে (মানুষ সৃষ্টির আগে) অতি উতপ্ত ধূয়া বিহীন আগুন থেকে জ্বীন সৃষ্টি করেছি"(15: 27)। মনে রাখা দরকার যে- 75% হাইড্রোজেন ও 25% হেলিয়ামের সমম্বয়ে সৃষ্টি হওয়া নক্ষত্রের আগুন হল ধূঁয়াবিহীন।
অনেক বিজ্ঞানীই মনে করেন যে-"নক্ষত্রে পৃষ্ঠে প্লাজমা দ্বারা কোনও প্রাণী সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব নয়"। আর সেই প্রাণী আমাদের চেনা কোনও প্রাণীদের মত হবে না।
সুতরাং আগুন দ্বারা জ্বীন সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব কোনও কিছু নয়। শুধুমাত্র বিজ্ঞানের জ্ঞান এখন ততদূর অগ্ৰগতি হয়নি যে, জ্বীন'কে গাণিতিক ভাবে অথবা পরীক্ষা মূলক ভাবে প্রমাণিত করতে পারে!!
কিন্তু মনে রাখা দরকার যে-*প্রমাণিত নয় মানে, এই নয় যে, অপ্রমাণিত বা অবৈজ্ঞানিক*।
আশা করছি, আজ হয়ত বোঝাতে পারলাম যে- "আগুন থেকে জ্বীন সৃষ্টি হতে পারে"। তবে, আমি শুধু মাত্র বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করলাম। #বাকিটা আল্লাহ ভালো জানেন#। তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার চিন্তাও কুফরী। "তিনি অসিম"(51:58) "নিশ্চয় সকল শক্তি আল্লাহর"(2:165)। তাই তিনি চাইলে অন্য কোনও পদ্ধতিও অবলম্বন করতে পারেন। এটা তার ইচ্ছা। "আর তিনি যা ইচ্ছা করেন"(85:16)।
এবং আরও কঠিন কঠিন, অনেক কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাবেন, অবশ্যই পাবেন।
------------------------------------------------------------
@ফেরেস্তা সৃষ্টি ও বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা প্রসঙ্গ@
কিছুদিন আগে একটা প্রশ্ন এসেছিল। প্রশ্নটি এসে ছিল ম্যাসেনজারে। প্রশ্নটি করেছিলেন একজন নাস্তিক। সেই প্রশ্ন আমার কাছে পাঠিয়েছেন, বাংলাদেশের ফাহিম ভাই। প্রশ্নটি ছিল-"ফেরেস্তাদের ডানা আছে, তাই না?? জিব্রাইল ফেরেস্তা সেই ডানার সাহায্যে উড়ে উড়ে নবী (
দারুণ প্রশ্ন। কিন্তু খুব সহজ। তাই, আমি নিজে প্রশ্নটি একটু কঠিন করে নিই। প্রশ্নটি এ রকম হলে, উত্তর দিতে আনন্দ লাগতো-"আলো দিয়ে কি কোনও সৃষ্টি করা যায়??? তাও আবার ডানা ওয়ালা কোনও কিছু কি সৃষ্টি করা সম্ভব"???
হ্যাঁ, এবার আমাকে আনন্দ লাগবে উত্তর দিতে। সত্যি বলতে, প্রশ্ন কঠিন না হলে- লেখার মেহনত নষ্ট হয়ে যায়, তাই না???
উত্তর:::- ডাইলোগ অনেক হল, এবার ফেরেস্তা প্রসঙ্গে আসা যাক। কারণ, দেখা যায় আমার লেখা ও উত্তরে আমার ব্যাক্তিগত কথাই বেশি থাকে!! তাই চলুন--
পূর্বে আমরা দেখেছি যে, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে *মাটি* থেকে(দ্রঃ কোরান-15:26)। মানুষের আগেই সৃষ্টি করা হয়েছে জ্বীন'কে *ধূঁয়া বিহীন আগুন থেকে (কোরান-15:27)। আর উপরের দেওয়া লিঙ্কে মানুষ ও জ্বীন সৃষ্টির বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা করা রয়েছে। তাই, অনুরোধ করছি- লিঙ্কে ক্লিক করে বিস্তারিত জেনে আসুন। তা, না হলে আজকের ফেরেস্তা প্রসঙ্গে বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যাটি বুঝে নিতে সমস্যা হবে।
যাইহোক, কোরানে মানুষ ও জ্বীন সৃষ্টির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকলেও, কিন্তু ফেরেস্তা সৃষ্টি প্রসঙ্গে সে রকম কিছুই বলা হয় নি। এ সম্পর্কে মুসলিম শরীফে বলা হয়েছে-"মহাম্মদ ইবনে রাফে এবং আবদ ইবনে হুমাইদ (র) বর্ণনা করেছেন... আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেন-ফেরেস্তাদের'কে সৃষ্টি করা হয়েছে *নূর* থেকে, জ্বীনকে ধূঁয়া বিহীন আগুন হতে, আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তোমাদের নিকট বর্ণিত বস্তু* (মাটি) দ্বারা"(কিতাবুয যুহুদ, 7227 নং হাদীস)।
এবার প্রশ্ন হতে পারে-"আলো দ্বারা এত শক্তিশালী কোনও কিছু সৃষ্টি করা কি সম্ভব"???
লেজার আলোক বিজ্ঞান জানলে এর উত্তর খুব সহজ। হ্যাঁ, আলো দ্বারা এত শক্তিশালী কোনও কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব। এর সহজ ব্যাখ্যা হল- আপনারা বিভিন্ন ধরনের রিমোট কন্ট্রোল তো অবশ্যই দেখে ছেন?? যদি দেখে থাকেন তো, দেখতে পাবেন যে, রিমোটের সামনে একটি ছোট মত কাঁচের টুকরা বা ল্যাম্প জাতীয় কোনও কিছু থাকে, তাই না?? কিন্তু কেন থাকে, তা হয়ত আমরা সবাই জানি না!!
এবার একটা পরীক্ষা করুন। আপনার মোবাইল ক্যামেরার সামনে রিমোটের সামনের দিকটা ধরুন এবং রিমোটের যে কোনও একটি বোতামে চাপ দিন। দেখতে পাবেন আপনার মোবাইল ক্যামেরায় বড় আলোর ঝলক।
কারণ, আপনার রিমোট থেকে *ইলেট্রো ম্যাগনেটিক রে* বের হচ্ছে। আর সেই আলো দ্বারাই কন্ট্রোল হয় আপনার টিভি বা অন্যান্য অনেক কিছু।
তাহলে, এখান থেকে কি বোঝা গেল?? বোঝা গেল যে- আলো'কে আমরাও উদেশ্য পূরনের জন্য ব্যবহার করি, তাই নয় কি???
আরও একটা উদাহরণ দেখুন। লেজার টেকনোলজি সম্পর্কে জানেন তো মনে হয়!! না কি?? ডিফেন্স বিজ্ঞানীরা বলেছেন- আজ থেকে 70 বছর পর থেকে পৃথিবীতে সাধারণ অস্ত্রের জায়গা নিয়ে নেবে *লেজার অস্ত্র*। এছাড়াও আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, বৃটেন জাতীয় প্রথম বিশ্বের দেশ গুলো ইতিমধ্যেই লেজার টেকনোলজির ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে। লেজার টেকনোলজিতে আলোকে নিদিষ্ট হিসাবে নিদিষ্ট অংশে বারংবার প্রতিফলিত করে ব্যবহার করা হয়। আর সেই আলো যদি কোনও উড়ন্ত প্লেনে মারা হয়, তাহলে সেই উড়ন্ত প্লেনও নিমেষেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
এবার ভাবুন, মানুষ যদি নিজেদের সুবিধার্থে আলো' কে বিভিন্ন ভাবে ব্যাবহার করে, তাহলে আল্লাহ পারবে না কেন?? এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন-"এটা আমার জন্য খুব/অতি সহজ"(19:9 ও 21)।
এবার ফেরেস্তাদের যাতায়াত প্রসঙ্গে বলি- ফেরেস্তা শব্দটি ফারসি শব্দ। আরবিতে বলা হয়-"মালাইকা"। শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ "মালকুন" থেকে। যার অর্থ "শক্তি বা এনার্জি বা ফোর্স" ইত্যাদি।
কোরানে ফেরেস্তাদের বর্ণনা এসেছে এভাবে-"আল্লাহ, যিনি ফেরেস্তাদের বানী বাহক নিযুক্ত করেন, যারা 4 ও 6 এবং 8 টি ডানা বিশিষ্ট। তারপর তিনি তার সৃষ্টির মধ্যে ইচ্ছেমত বৃদ্ধি করেন"(35:1)। হাদীস হতে জানতে পারি যে-"জিব্রাইল (আ)- এর 600 টি ডানা আছে। আর এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন-"এটা আমার কাছে অতি সহজ সৃষ্টি"(30:27)।
তাই, এখান থেকেই প্রশ্নের সুত্রপাত। প্রশ্নটি হল-"পৃথিবীতে ডানার সাহায্যে উড়ে যাতায়াত করা সহজ! কিন্তু মহাবিশ্বের সমস্ত জায়গায় তো আর বাতাস নেই!! তাই, সেখানে ফেরেস্তারা উড়বে কি ভাবে"??
আচ্ছা ভাই, এটা কি জরুরী যে-*ডানা থাকলেই কি, ডানার সাহায্যে উড়তে হবে*??? ফেরেস্তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ডানা, আর ডানা থাকলেই যে উড়তে হবে- এটা জরুরী নয়। কারণ, ফেরেস্তারা পাখি নয়, আপনি তাদের পাখির মত ভাবছেন কেন??
ফেরেস্তাদের যাতায়াত সম্পর্কে কোরান বলে-"আস সামায়ি যা-তিল হুবুক"। অর্থ-"ওয়ার্মহোল বা সুড়ঙ্গ যুক্ত মহাবিশ্বের শপথ"(51:7)। আর এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমেই হয়ত যাতায়াত করেন ফেরেস্তারা!! আর যেহেতু তারা আলো সৃষ্টি তাই তাদের কোনও সমস্যাই হয় না এই সুড়ঙ্গ দিয়ে যাতায়াত করতে।
আশা করছি, হয়ত বোঝাতে পারলাম ফেরেস্তাদের আলো দ্বারা সৃষ্টি ও যাতায়াত প্রসঙ্গ!! তাইতো, নাকি?? এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশা আল্লাহ, সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাবেন।
------------------------------------
(উপরিউক্ত 51:7 আয়াতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলাম, চাইলে দেখতে পারেন)👇👇
@কোরান'কে আরবীতে কেন নাযিল করা হল??@
Whatsapp-এ আমার এক টিচার বন্ধু এ প্রশ্নটি আমার কাছে পাঠিয়ে বলেছেন-"হোসেন ভাই, আমার এক নাস্তিক কালীগ আমাকে বলেছেন-*পৃথিবীতে আরবী ভাষা-ভাষী মানুষের সংখ্যা 22-25 কোটি। কেন এত কম ভাষা-ভাষী মানুষের ভাষায় আল্লাহ কোরান নাযিল করল?? অথচ ইংরেজিতে কমবেশি 80-90 কোটি মানুষ কথা বলেন এবং 150-250 কোটি মানুষ কমবেশি ইংরেজি বোঝেন। আর ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষাও বটে। তাহলে আল্লাহ কেন, এমন এক ভাষায় কোরান নাযিল করলেন, যে ভাষায় কথা বলে মাত্র 22- 25 কোটি মানুষ*???
তারপর আমার টিচার বন্ধু বলেছেন-"এই নাস্তিককে যোগ্য উত্তর দিতে হবে হোসেন ভাই"।
কেউ ভাই, এভাবে বলছেন?? আমার কোন উত্তরটা অযোগ্য ছিল?? সব সময় চেষ্টা করি, এমন ভাবে উত্তর দিতে, যেন- বোকাও বুঝতে পারে।
হ্যাঁ, আমি জানি যে- অনেক নাস্তিক এ ধরনের প্রশ্ন করেন। তখন কিছু মুসলিম তাদের উত্তর দিতে চেষ্টা করে এভাবে-"আরবী ভাষা হল আখিরাতের ভাষা। এই জন্য আল্লাহ কোরানকে আরবীতে নাযিল করেছেন"।
তখন সেই নাস্তিক বলে-"আরে ভাই, আমি আখিরাতে বিশ্বাস করি না। এবার বলুন- কেন আরবীতে কোরান নাযিল করা হল"?? তখন সেই মুসলিম চুপ করে যায়, এবং তার কাছে আর কোনও উত্তর থাকে না।
উত্তর:::- 1) আপনি কি জানেন যে- আরবী UN এর 6 টি ভাষার একটা?? তাহলে আপনার সমস্যা কোথায়??
2) এই ব্যাখ্যাটি লক্ষ্য ভালো ভাবে করবেন। এটাই আজকের লেখার মূল উত্তর--
"ওয়াস সামায়ি যাতিল হুবুকি"(51:7)। এটার সাধারণ বাংলা অর্থ হবে-"কক্ষযুক্ত আকাশের শপথ"। এটার সাধারন ইংরেজি অনুবাদ হবে-"By the heaven full paths".
এখন যদি কোরান বাংলায় বা ইংরেজিতে নাযিল করা হত, তাহলে উক্ত বাক্যটির একটাই অর্থ হত। আর তখন আপনি হয়ত এভাবে ব্যাখ্যা করতেন-"ও আচ্ছা, আকাশে পৃথিবীর মত অনেক কক্ষপথ আছে"। সত্যি করে বলুন- এর বেশি আপনি কি বুঝতেন??
এবার দেখুন, কোরান আরবীতে নাযিল করার সুবিধা কত, আর আল্লাহ কেন কোরানকে আরবীতে নাযিল করলেন-----
উক্ত আরবী উদ্ধৃতিতে ব্যবহৃত আরবী শব্দ হল- "ওয়াস সামায়ি যাতিল হুবুক"। এখন "সামায়া" শব্দের অর্থ দেখুন- আকাশ, সূর্যের এরিয়া, মহাশূন্য, মহাবিশ্ব, যেখানে মেঘ থাকে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
এবার দেখুন, হুবুক শব্দের অর্থ- পথ, কক্ষপথ, তার, বুনন, গিঁট, জাল, এলোমেলো, সুড়ঙ্গ, ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার দেখুন, এই একটি মাত্র আরবী আয়াতের কত গুলো অর্থ ও ব্যাখ্যা হতে পারে!!!!
1) সূর্যের গন্ডি যুক্ত আকাশে অনেক কক্ষপথ আছে।
2) মহাশূন্যে অনেক কক্ষপথ আছে।
3) আকাশে যত বস্তু আছে, সবাই কক্ষপথে আছে (36: 40 ও 21:33)।
4) মহাবিশ্বে যত কিছু আছে, সবাই কক্ষপথে আছে (3 6:38)।
5) মহাবিশ্বে অনেক সুড়ঙ্গ বা Warm hole আছে। যা দিয়ে মহাবিশ্ব পারাপার করা যাবে (15:14)।
6) মহাজাগতিক পথ রয়েছে। যা দিয়ে আমাদের মহা বিশ্ব থেকে বের হওয়া যাবে (15:14-15)।
7) মহাবিশ্ব জাল দ্বারা পূর্ণ। যা স্ট্রিং থিওরিকে নির্দেশ করে।
8) পদার্থের সবচেয়ে ছোট্ট কণা হিসাবে আমরা কোয়া র্কের ও কিছু বলবাহী কণার কথাই জানতাম। কিন্তু এই আয়াত বলছে- স্ট্রিং হল আরও ক্ষুদ্র (99:7-8)।
9) এই স্ট্রিং বা তারের বুনন দ্বারাই একাধিক মহাবিশ্ব বা মাল্টিভার্স আমাদের মহাবিশ্বের সঙ্গে যুক্ত (41:12)।
10) মহাবিশ্বে রয়েছে তারের গিঁট। এই গিঁট দ্বারাই মহা বিশ্বের সমপ্রসারণ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে (2:129)।
এ ছাড়াও আমার জানার বাইরে আরও অন্যান্য অর্থও থাকতে পারে। এবার বলুন, এই রকম ফেসেলিটি অন্য কোনও ভাষায় পাওয়া যাবে কি?? যদি গোঁড়া না হন, তাহলে বলতেই হবে-"আরবী ভাষা ছাড়া এই ফেসে লিটি অন্য কোনও ভাষায় নেই"।
পরিশেষে এই আয়াতটি দেখুন-"আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট হল সেই.... যারা অনুধাবন করে না"(8:22)।
দ্রঃ "হুবুক" শব্দের অর্থ সংগ্রহ করেছি কাজী জাহান মিঞার লেখা "আল কোরান দ্যা চ্যালেঞ্জ" সিরিস ও অক্সফোর্ড আরবী ইংরেজি ডিক্সেনারি হতে। আর "সামায়া" শব্দের অর্থ সংগ্রহ করেছি হোসেন কুরানীর লেখা "কোরান ও ভূগোল" ও অক্সফোর্ড আরবী ইংরেজি ডিক্সেনারি হতে।
আশা করছি, বোঝাতে পারলাম যে, কেন আল্লাহ কোরানকে আরবীতে নাযিল করেছেন?? না কি?? এবং আরও কঠিন কঠিন প্রশ্ন থাকলে, পাঠান- ইনশা আল্লাহ, অবশ্যই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাবেন।
© : লেখক, হোসেন কুরানী।





কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন: