কোরানের গাণিতিক ভুল, সময় বিভ্রান্তি ও বিজ্ঞান



   Facebook  এর   একজন   মহিলা  আয়েশা  জাহান Massenger এ প্রশ্ন  করে বলেছেন-"গত  প্রশ্নের উত্তরে কিভাবে  আপনার  প্রশংসা  করব, সেই শব্দ এবং ভাষা পাচ্ছি না!! আপনার প্রশংসায় এতটুকু বলতে পারি যে- আপনি সত‍্যিই অসাধারণ!! আর কোরান ও বাইবেলের বর্ণনায়  যে, সুক্ষ্ম  পার্থক্য  আপনি   তুলে   ধরেছেন, তা সত‍্যিই  অবাক  হওয়ার  মতো!! আমরা  এতদিন এটাই জানতাম যে, কোরান  ও  বাইবেলের  বর্ণনায় 90% মিল আছে কিন্তু  আপনার লেখা থেকে জানতে পারলাম যে, ঘটনা প্রবাহে মিল থাকলেও বর্ণনার ক্ষেত্রে সুক্ষ্ম অমিল টাই বেশি- অসাধারণ  স‍্যার, আপনি  আমার অহংকার, আপনি আমার গর্ব, আপনি সত‍্যিই অসাধারণ!!

   স‍্যার, আমার  আরও  একটা  প্রশ্ন  আছে। প্রশ্নটি হল- আল্লাহর একদিন, আমাদের  কত দিন?? এক জায়গায় বলা হয়েছে- 1000 বছর, অন‍্যত্রে বলা হয়েছে- 50,000 বছর!! অনেকে  বলেন- এটা না কি কোরানের পরস্পর বিরোধী  কথা!! আবার  কেউ  কেউ বলেন- যেহেতু নবী (স) মূর্খ  ছিলেন, সেহেতু  তিনি  যখন  যেমন পেরেছেন, তেমন বলেছেন!! এ বিষয়ে আমি আপনার থেকে যোগ্য এবং যথাযথ লিখিত উত্তর চাই!!

   স‍্যার, আমি  জানি- আপনি  সারাজীবন  সুখ  পান নি এবং  দুঃখ-কষ্ট  পেয়েছেন!! যাকে  নিয়ে  সুখী  হওয়ার স্বপ্ন  দেখেছিলেন  ও  আপনাকে  স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই আবার  সব চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করল!! এই সবে যে কেউ  ভেঙে  পড়বে, এ জন‍্যেই হয়ত লেখার মধ্যে ঐ Fraud  মহিলার  বিষয়ে লিখে  ফেলেন কিন্তু  যে মহিলা আপনার সঙ্গে এরকম ব‍্যবহার করল, কেন আপনি তার প্রসঙ্গ আপনার মূল্যবান লেখার মধ্যে নিয়ে আসবেন?? স‍্যার খারাপ ভাববেন না, এটা অ-মানান সই লাগে কিন্তু আমার   হিংসাও   হয়  ঐ   মহিলার   প্রতি!! আপনাকে Fraud করার  পরও  আপনি  এখনও  তাকে  কত ভাল বাসেন  যে, তার  প্রসঙ্গ  লেখার  মধ্যে আনছেন!! শেষে বলব- আবার আপনি আগের মতো হোসেন কুরানী হয়ে উঠুন"।

   সুধীপাঠক, যদি আমার গত লেখাটি পড়তে চান, তবে নিচের  লিঙ্কে  ক্লিক করুন। কোরানের  সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে  পড়বেন- ইনশাআল্লাহ। তাই অবশ্যই  নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=984173028634361&id=544853392566329

   আয়েশা জাহান, এত  প্রশংশার  যোগ্য এবং দাবীদার আমি  নই। জানেন, হানীও  আমাকে বলত- I proud of you  কিন্তু   আজ.......?? জানেন, হানী   তো   School teacher ছিল, এ  জন্য আমিও বলতাম- I also proud of   you. কেননা, আমি   গর্বের  সঙ্গে  মানুষকে  বলতে পারব- আমার   হানী   Islamic   model  school  এর Teacher এবং হাজার-হাজার শিশুকে শিক্ষাদান করে।  কিন্তু  কথায়  বলে- আল্লাহ অহংকার সহ‍্য করেন না, ঐ জন‍্যেই  হয়ত  এই  সম্পর্ককে  গলা   টিপে   শেষ   করে দেওয়া  হল!! আল্লাহ, এখন  মনে  হয়  আপনি খুব খুশি হয়েছেন?? আমাকে  দুঃখ-কষ্ট দিয়ে  তো  আপনি খুবই খুশি হন, তাই না??

   আসলে  কি   জানেন  তো, Brain  জানে- হানী  প্রসঙ্গ আমার  জন্য শুধুমাত্র  দুঃখের কারণ  ছাড়া অন্য কিছুই নয়, আমি চাই না তার কথা ভাবতে  এবং  লিখতে কিন্তু মন, মন  এসব  বোঝে  না  গো আয়েশা!! একটা বাউল গান শুনুন, এই গান যেন আমার পরিস্থিতি নিয়েই লেখা হয়ে ছিল, সুতরাং শুনুন-


আমি বা কে, আমার মনটা বা কে

আজও পারলাম না আমার মনকে চিনিতে।

মনকে আমার যত চাই যে বুঝাইতে

মন আমার চায় রঙের ঘোড়া দৌড়াইতে।

পাগল মন রে, মন কেন এত কথা বলে

ও পাগল মন, মন রে, মন কেন এত কথা বলে!!


যাইহোক, এবার   আমি  প্রশ্নের  উত্তরের  দিকে  এগিয়ে যেতে চাই। অনেকেই অভিযোগ করেন- কোরানে না কি পরস্পর বিরোধী কথা  আছে!! অভিযোগকারি গণ যত গুলো আয়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে আল্লাহর  একদিন  আমাদের  হিসাবে 1,000 বছর এবং 50,000 বছর  আয়াত 2 টি অন‍্যতম!! তাদের সব ক'টি অভিযোগের  উত্তর  দিয়েছি  নিচের  লিঙ্কে। তাই নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=916190815432583&id=544853392566329

   আয়েশা  জাহান, আপনার  প্রশ্নের  মূল  উত্তর  এখান পর্যন্ত শেষ কিন্তু  বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা  বাকি রইল!! মাসুদ আলম ভাই  আপনার  মতোই সময় সম্পর্কিত প্রশ্ন করে ছেন। এখানে   আমার  সুবিধা  হল- তিনি  বাংলায়  প্রশ্ন করেছেন, তাও  লিখিত  ভাবে!! তাই  তার প্রশ্নটি একটু সাজিয়ে  Copy paste  করলেই  হবে। কিন্তু  আপনি বা বেশিরভাগ  মানুষই English  typing  করেন, সেক্ষেত্রে তাদের  প্রশ্নের  উত্তর  দেওয়ার  চেয়ে, তাদের  প্রশ্নটাকে উপস্থিত   করতে   বেশি   কষ্ট   হয়!! যাইহোক, হাফিজ মাসুদ আলম  ভাই প্রশ্ন  করে  বলেছেন-"হোসেন কুরানি ভাই, অনেক  দিন  যাবত  মনে  এই  প্রশ্ন  উঠছিল  কিন্তু উত্তর   খুঁজে   পাচ্ছিলাম   না   কিন্তু   যে  প্রশ্নের   উত্তর কোথাও  পাওয়া  যায় না, সেই  উত্তর  পাওয়া  যায় শুধু মাত্র এক জনের  কাছেই, তিনি  হলেন- আমার  হোসেন কুরানি ভাইজান!! আপনার নামেই আপনার ব‍্যাক্তিত্বের প্রকাশ পায়!! আপনার  নাম যেমন  কুরানী, ঠিক তেমন ভাবেই আপনি কোরান ব‍্যাখ‍্যা করেন!!

   যাইহোক, আমার  প্রশ্নটি  হল- সুরা  বাকারা'তে  এবং সুরা কাহাফে সেই ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সুরা বাকারা'তে বলা হয়েছে এক ব্যাক্তি 100 বছর ঘুমিয়ে ছিল এবং সে যখন  জাগে, তখন  দেখে- আমার সাথে থাকা সব কিছু শেষ হয়ে গেছে এবং আমি এখনও যেমন ভাবে ছিলাম, সেই  ভাবেই  আছি!! আর   সুরা  কাহাফে  গুহা'বাসিরা ঘুমিয়েছিল এবং অনেক বছর পর জেগে দেখে- আমরা যেমন  ছিলাম, তেমন  আছি  এবং  তারা  নাকি এখনও ঘুমিয়ে   আছে?? তাই   আমার   প্রশ্ন   হচ্ছে- মানুষ  কি ঘুমিয়ে  থাকলে কি  তার বয়স বাড়ে না?? এর উত্তর কি হবে?? এর    উত্তর   আমি   লিখিত   ভাবে   চাই, যদিও আপনি  গ্রুপে  বুঝিয়ে  দিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও অনেক নাস্তিক   এই   প্রশ্ন  করে। তাই  ভাই, এ  প্রশ্নের  যথাযথ উত্তর দেবেন।

   আজ  জুম্মাতে  দোয়া  করলাম  আপনার  জন্য  এবং আপনার মায়ের জন্যেও। আপনার  হানী'জি আপনাকে যেভাবে  ছেড়ে গেছে, তাতে  কিন্তু আমার খুব দুঃখ হয়। আপনার  মতো  মানুষকে ছেড়ে দিয়েছে, সেটা ভাবতেই অবাক  লাগে!! আপনি অসাধারণ ও বে-মিসাল!! তাও সে কেন  ছেড়ে  গেল?? হয়ত  আপনি  তার  থেকে ভাল পাবেন, ঐ  জন্য। আমার  মনে  হয়- কিছু  মানুষ আছে, যারা  হীরা  চেনে  না!! আপনি  হীরা  এবং  হীরার  জন্য কোনও হীরা অপেক্ষা করছে!! আপনি  অপেক্ষা করুন, সময়  আপনাকে   অনেক   কিছু   দেবে। এখন   আল্লাহ আপনাকে পরীক্ষা করছে  এবং  পরীক্ষায় আপনি পাশ করবেন- ইনশাআল্লাহ। যাইহোক, অনেক লম্বা প্রশ্ন হয়ে গেল, আপনি বিরক্ত হবেন না"।

   হ‍্যাঁ  ভাই, যে  2  টি  ঘটনার  কথা বলেছেন, তা উল্লেখ রয়েছে- 2:259  ও  18:25 আয়াতে। সুধী  পাঠক, চলুন এবার আমরা আয়াতগুলো দেখে নেব-

أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْيِي هَٰذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ۖ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۖ قَالَ بَلْ لَبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانْظُرْ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ ۖ وَانْظُرْ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِلنَّاسِ ۖ وَانْظُرْ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا ۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অনুবাদ হবে এমন-"অথবা  দৃষ্টান্তস্বরূপ   সেই  ব্যক্তিকে দেখুন, যে  এমন  একটি  লোকালয় অতিক্রম করেছিল, যে  লোকালয়ের  ঘর  ছাদগুলোর  উপর  পড়েছিল। সে বলল- এই ধ্বংসপ্রাপ্ত জনবসতি, একে  আল্লাহ‌  আবার কিভাবে  জীবিত করবেন?? এ কথায় আল্লাহ‌ তার প্রাণ হরণ করলেন এবং সে 100 বছর পর্যন্ত মৃত পড়ে রইল। তারপর আল্লাহ‌ পুনর্বার তাকে জীবন দান করলেন এবং তাকে  জিজ্ঞেস  করলেন- বলুন, আপনি  কত বছর মৃত ছিলেন?? জবাব  দিল- এই, এক  দিন  বা  দিনের  কিছু অংশ। আল্লাহ‌  বললেন- বরং 100 বছর ছিলেন। এবার নিজের  খাবার  ও  পানীয়ের উপর এক বার নজর দিন, দেখুন  তার  মধ্যে  কোন  সামান্য  পরিবর্তনও আসেনি। অন্যদিকে আপনার গাধাটিকে দেখুন (তার  অস্থি  এবং পাঁজরগুলোও পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে)। আর এটা আমি এ জন্য করেছি যে, মানুষের জন্য আপনাকে  আমি একটি নিদর্শন  হিসেবে  দাঁড়  করাতে চাই। তারপর দেখুন, এই অস্থিপাঁজরটি, কিভাবে  একে  উঠিয়ে এর গায়ে গোশত ও চামড়া লাগিয়ে দিই। এভাবে  সত্য  যখন তার সামনে সুস্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন সে  বলল- আমি জানি, আল্লাহ‌ সবকিছুর   উপর    শক্তিশালী"(2:259)। মাসুদ   আলম ভাই, আপনি  বলেছেন- 100  বছর  ঘুমিয়ে  ছিল   কিন্তু ঘুমিয়ে  ছিল  না  বরং  100  বছর  মৃত  অবস্থায় ছিল!! আর  অনেকেই  দাবী  করেন যে, উক্ত  আয়াতে  যে মৃত ব‍্যাক্তি  জীবন ফিরে পেয়েছিলেন, তিনি হলেন- উজাইর (আ)‌। এই  জন‍্যেই  ইহুদীরা  তাকে  আল্লাহর  পুত্র  বলে দাবী   করত। এ  বিষয়ে    কোরানে    আল্লাহ   বলেছেন এভাবে-

وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ 

অনুবাদ হবে এমন-"ইহুদীরা বলে যে, উজাইর  আল্লাহর পুত্র  এবং  খৃস্টানরা  বলে, মসীহ আল্লাহর পুত্র"(9:30)।

   যাইহোক, এবার  আমরা গুহাবাসি  প্রসঙ্গে  আয়াতটি দেখে নেব। গুহাবাসি প্রসঙ্গে আল্লাহ  কোরানে বলেছেন এভাবে-     وَلَبِثُوا فِي كَهْفِهِمْ ثَلَاثَ مِائَةٍ سِنِينَ وَازْدَادُوا تِسْعًا

অনুবাদ হবে এমন-''আর   তারা   তাদের   গুহার   মধ্যে [ঘুমিয়ে  ছিল] 309 বছর"(18:25)। এই হল মোটামুটি 2 টি  আয়াত। গুহাবাসিরা  309  বছর ঘুমিয়ে থাকার পর যখন  তাদের  ঘুম   ভাঙল, তখন   যা   হল, তা   আল্লাহ কোরানে বলেছেন এভাবে-

وَكَذَٰلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ ۚ قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ ۖ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۚ قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هَٰذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنْظُرْ أَيُّهَا أَزْكَىٰ طَعَامًا فَلْيَأْتِكُمْ بِرِزْقٍ مِنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا

অনুবাদ হবে এমন-''আর  এমনি  বিস্ময়করভাবে  আমি তাদেরকে   উঠিয়ে   বসালাম, যাতে  তারা   পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ  করতে  পারে!! তাদের  একজন জিজ্ঞেস করল- বল তো, কতক্ষণ এ অবস্থায় থেকেছ?? অন্যেরা বলল- হয়ত একদিন অথবা এর  থেকে  কিছু কম সময় হবে!! তারপর    তারা   বলল- আল্লাহই   ভাল   জানেন আমাদের কতটা  সময় এ  অবস্থায় অতিবাহিত হয়েছে। চল, এবার  আমাদের মধ্য থেকে কাউকে রূপার এ মুদ্রা দিয়ে শহরে পাঠাই এবং সে দেখুক সবচেয়ে ভাল খাবার কোথায়  পাওয়া  যায়। সেখান  থেকে  সে  কিছু  খাবার নিয়ে  আসুক, আর   তাকে   একটু   সতর্কতা  অবলম্বন করতে হবে, আমাদের এখানে থাকার ব্যাপারটা সে যেন কাউকে জানিয়ে না দেয়"(18:19)। আরও একটা বিষয় বলে রাখা ভাল  হবে যে, অনেকেই  বলেন- গুহাবাসিগণ এখনও  জীবিত  আছে!! এ  তথ্য  ভুল, কোরানে  এমন কোনও তথ্য নেই, এটা মনগড়া কথা মাত্র!!

   শুধুমাত্র   এখানেই    শেষ   নয়, বিচারের   দিন   যখন আল্লাহ  মানুষকে  কবরে   অতিবাহিত  জীবন   সম্পর্কে জিজ্ঞাসা  করবেন, তখন   মানুষ   যা   উত্তর   দেবে, তা কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ ۚ كَذَٰلِكَ كَانُوا يُؤْفَكُونَ

অনুবাদ হবে এমন-''আর  যখন সেই সময় (বিচার) শুরু হবে, যখন  অপরাধীরা  কসম  করে  বলবে, আমরা তো  মুহূর্ত  কালের   বেশি   অবস্থান  করি নি। এভাবে   তারা পৃথিবীর জীবনে প্রতারিত হত"(30:55)। শুধু কি তাই?? পৃথিবীতে  অতিবাহিত  60-70 বছরও পরকালে 60-70 বছর মনে হবে না বরং মনে হবে- একদিন বা একদিনের কিছু  অংশ  অথবা  কয়েক Second মাত্র!! চাইলে এই Reference  গুলো   দেখুন- 23:112,  113,  114  এবং 10:45 আয়াত!!

   কিন্তু  এখন  প্রশ্ন হল- 2:259 আয়াতে 100 বছর এক দিন  বা  একদিনের  কিছু অংশ মনে হল!! 18:25 এবং 18:19 আয়াতেও  309  বছর  এক দিন  বা  একদিনের কিছু  অংশ  মনে  হল!! 23:112-114  আয়তে   60-70 বছরের  পৃথিবীর  জীবন  এক দিন  বা  একদিনের কিছু অংশ  মনে  হবে!! 30:55 আয়াতে  কবরের অতিবাহিত কোটি-কোটি  বছর  মুহুর্ত  কাল বলে মনে হবে!! 10:45 আয়াতেও  পৃথিবীর  জীবনকে  মুহুর্ত  কাল   বলে   মনে হবে!! কিন্তু কেন?? এবং কিভাবে??

   অনেকে   অপবাদ   দেয়- নবী  মহাম্মদ  (স)  এই  সব আজগুবি  ও  কাল্পনিক  কাহিনী   শুনিয়ে   সহজ-সরল মানুষদের বোকা বানিয়ে রাখতেন, যাতে তারা  নবী (স) এবং কাল্পনিক আল্লাহর  আনুগত্য করাতে পারে!! কিন্তু উপরিউক্ত  আয়াতে  সময়  সম্পর্কিত  যে   তথ্য   গুলো দেওয়া  হয়েছে, তা কি  অতিরঞ্জন  বা কাল্পনিক, না কি এই সব তথ্যের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি  আছে?? চলুন এ বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করি-

   সময়!! সময় কি?? এ প্রশ্নের  সঠিক  উত্তর বিজ্ঞানের কাছে নেই  কিন্তু  এ নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বহু Theory বা তত্ত্ব  আছে!! তাদেরই  একজন  হল- বিজ্ঞানীদের  নয়ন মনি   Einstein   (আইনস্টাইন)। তিনি   বলেছেন- সময় আপেক্ষিক কিন্তু আপেক্ষিক  বলতে কি বোঝায়?? এর অর্থ হল- সময়ের গতি  প্রবাহ সর্বত্র  সমান নয়!! অর্থাৎ সময় নির্ভর  করে  স্থানের উপর, শুধুমাত্র  স্থানের উপর নয়  বরং  কালের  উপরেও নির্ভরশীল!! কারণ, কালের সঙ্গে-সঙ্গে বস্তুর ভরেতেও পার্থক্য দেখা যায়, আর ভরে পার্থক্য  মানে অভিকর্ষ বলেও পার্থক্য দেখা যাবে, আর আমরা  জানি  যে, অভিকর্ষ  বলের  কারণে সময় বে‌ঁকে যায় তথা  অভিকর্ষ বল  সময়ের প্রবাহে  বাধা সৃষ্টি করে থাকে!!

   আসলে  এই বিষয়গুলো  বুঝে নেওয়া এত সহজ নয়, এর  জন্য প্রচুর পরিমাণ বিজ্ঞান জানতে ও বুঝতে হয়!! ঐ  জন‍্যেই  বলা  হয়- "বিজ্ঞানের  অল্প   জ্ঞান, মানুষকে নাস্তিকতায়  ঠেলে  দিতে  পারে  কিন্তু  বিজ্ঞানের  গভীর জ্ঞান  নাস্তিকতা  ত‍্যাগ  করে  আস্তিকতায় আসতে বাধ্য করে"। এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ وَيَهْدِي إِلَىٰ صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ

অনুবাদ হবে এমন-''জ্ঞানবানরা  ভাল  করেই  জানে, যা কিছু  আপনার  প্রভুর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি নাযিল করা হয়েছে, তা  পুরো-পুরি সত্য এবং তা পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর  পথ দেখায়"(34:6)। যাইহোক, এ বার  একটা উদাহরণ  দেওয়া যেতে পারে। আমার এবং আপনার বাড়িতে যে ঘড়ি আছে, তাতে সময়ের যে গতি প্রবাহ দেখা যায়, এই ঘড়িই  যদি চাঁদে  রাখা যায়, তাতে সময়ের গতি  প্রবাহের পার্থক্য লক্ষ্য করা যাবে!! অর্থাৎ পৃথিবীতে 1 ঘন্টায় 1 ঘন্টা  হবে  কিন্তু  চাঁদে  এই  ঘড়িই রেখে দিলে 1 ঘন্টা না হয়ে  কিছু বেশি হবে। কারণ, চাঁদ ও পৃথিবীর  ভরে  পার্থক্য  আছে, তাই  চাঁদ  ও পৃথিবীর গতি  প্রবাহতেও  পার্থক্য  দেখা  যাবে!! কারণ, পৃথিবীর তুলনায়  চাঁদের  অভিকর্ষ  বল  অনেক কম। বিজ্ঞানীরা বলেন- 6/1 ভাগ। তাই  পৃথিবীর 1 ঘন্টা চাঁদের 1 ঘন্টার তুলনায়  কম  এবং  চাঁদের  1  ঘন্টা  পৃথিবীর  1  ঘন্টার চেয়ে বেশি!! শুধুমাত্র  চাঁদ  কেন, পৃথিবী  এবং  Space station এর  সময়  প্রবাহতেও পার্থক্য দেখা যায়!! তাই নয় কি??

   সুতরাং সময় আপেক্ষিক!! আর  সময়ের এই চরিত্রই ফুটে  উঠেছে 70:4, 32:5  ও  22:47  আয়াতে। আয়াত গুলো একবার দেখে নেওয়া ভাল হবে মনে হয়-

تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ

অনুবাদ হবে এমন-''ফেরেস্তারা  এবং  রূহ   তার   দিকে উঠে  যায়, এমন  এক  দিনে  যা  পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান"(70:4)। আরও একটি আয়াত হল-

يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ

অনুবাদ হবে এমন-"তিনি   মহাবিশ্বের   যাবতীয়   বিষয় পরিচালনা করেন  ও  পরিচালনায় তার কাছে  উপস্থিত হয় একদিন, যার  পরিমাপ তোমাদের  গণনায় হবে এক হাজার বছর"(32:5)। আরও একটি আয়াত-

وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُ ۚ وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ

অনুবাদ হবে এমন-"তারা    শাস্তির    জন্য   তাড়া-হুড়ো করছে?? আল্লাহ  কখনও  তার প্রতিশ্রুতি  ভঙ্গ করবেন না। কিন্তু  তোমার  প্রভুর  কাছে  একটি  দিন  তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান হয়"(22:47)।

   সুধী পাঠক, 22:47  এবং  32:5 বর্তমান  সময়ের পরি পেক্ষিত নিয়ে কথা বলছে, ঐ জন্য 1 দিন= 1000 বছর বলা হচ্ছে  কিন্তু 70:4 আয়াত  Big crunch  এর উপরে অনুষ্ঠিত বিচার দিবসের কথা বলছে, যার অভিকর্ষ বল হবে    অকল্পনীয়!! কারণ,   মহাবিশ্বের     সমস্ত   পদার্থ একত্রিত হলে, যা হবে তাই আরকি!! এ জন্য  সেখানের  একদিন= 50, 000  বছর  হওয়াই  স্বাভাবিক!! তাই   এ কথা  বলা বাহুল্য যে, কোরান মোটেও পরস্পর বিরোধী কথা  বলে না  বরং  বৈজ্ঞানিক তথ‍্যই  উপস্থিত  করেছে আধুনিক  বিজ্ঞানের  1400  বছর   পূর্বে, যখন   বিজ্ঞান ছিল   শিশু   অবস্থায়!! এই   পরিস্থিতির   উপর  একটা আয়াত  দেখুন, আয়াতটি  পড়ার  পর   এখুনি   সিজদা করতে ইচ্ছা করবে, আয়াতটি পড়ে সিজদা করবেন-

قُلْ آمِنُوا بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُوا ۚ إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا

অনুবাদ হবে এমন-"বলুন, তোমরা  এই   কোরান   মেনে চল  বা  না মেনে চল, যাদেরকে এর  আগে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে  যখন  এটা  শোনান  হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে"(17:107)। এখন  আপনার  মনে হচ্ছে না যে, সত‍্যিই  কোরান  বিস্ময়কর গ্ৰন্থ?? আয়েশা জাহান আপনার প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পেলেন??

   মাসুদ আলম ভাই, এবার  আপনার প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা  করব- ইনশাআল্লাহ। কিন্তু জানেন, আজ অর্থাৎ 14.12.19 তারিখে  ভোর  বেলায়  একটা স্বপ্ন দেখলাম- যেন  হানী  খুব  অসুস্থ  এবং  তাকে কলকাতা Medical college and hospital এ  ভর্তি করা হয়েছে এবং হানী মারা  গেছে, আর  আমি  কাঁদছি!! তারপর  হঠাৎ  করে বুক ধড়-ফড় করে ঘুম ভেঙে যায়, তারপর দেখি সত‍্যিই আমার  চোখ  দিয়ে  ঝর-ঝর পানি  বের  হচ্ছে!! সকাল থেকেই  হানীর  জন্য  চিন্তা  হচ্ছে  এবং  এটা   আমাকে পেরেসান করছে যে- সত‍্যিই হানীর শরীর খারাপ হয় নি তো, হানী  ভাল  আছে  তো, সুস্থ  আছে  তো!! কিন্তু কি করব?? কিছুই  খুঁজে  পাচ্ছিলাম  না, হানীর  সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছিল, হানীর বাড়ির Mobile no আমার কাছে  আছে  কিন্তু  আমি  Call  করব   কি   করে, হানী আমাকে  বলেছে- আপনি  কখনও   আমাকে  Disturb করবেন না!! তাই  ভেবে পাচ্ছিলাম না  যে, কিভাবে ওর খোঁজ  নেব!! পরে  হানীর  এক   বান্ধবীকে  Massage করে  অনেক  অনুরোধ  করলাম- হানীকে একবার Call করে শুধুমাত্র এটুকু  খোঁজ নিন তো যে, হানী সুস্থ আছে কি?? তারপর  হানীর  বান্ধবী হানীর বাড়িতে Call করে সন্ধ্যা  বেলায়  আমাকে  জানাল- হানী  সুস্থ আছে, ভাল আছে। তখন  আমার  মনটা  শান্ত  হল  এবং   মনে হল- আমি  কে, হানীর  জন্য  চিন্তা  করার!! তার  জন্য চিন্তা করার  অনেক  জন আছে, তার ফর্সা Boyfriend আছে অথচ  আমি  শুধু  শুধুই  চিন্তা  করে  সারাদিন  খাওয়া- দাওয়া করি নি!! আমি গোটা পাগল এবং তখন আমার মনে  হল- আমি  যেন  बेगाना शादी मे  आवदुललाह दीवाना হয়ে গেছি!!

   আসলে কি  জানেন তো, ভালবাসা যে এমন হয়- এটা আমি জানতাম  না মোটেও, ঐ জন‍্যেই  হয়ত কেউ বলে ছিল এভাবে, এই গানে-


শোন মন বলি তোমায়

সব করো প্রেম করো না।

প্রেম যে কাঁঠালের আঠা

আর লাগলে পরে ছাড়ে না!!


দিনে কাজ, রাতে ঘুম

কেড়ে নেবে, যে পিরীতিই।

হো.. ছার-খার, করে দেবে

যেমন করে দিনে ডাকাতি!!


জানেন, গত বছর এই সময়েই অর্থাৎ December মাসে হানী আমার জীবনে আসে, তখন  আমি ভাবতাম  এবং  হানীকে  সব  সময়  বলতাম- आए  हो मेरी  ज़िन्दगी में तुम  बहार  बन के, मेरे दिल  में यूँ  ही रहना तुम प्यार प्यार बन के!! কিন্তু  আজ...........?? হে  আল্লাহ, আমার  কি অপরাধ ছিল?? কেন আমি এত কষ্ট পাচ্ছি?? হানী কেন আমার  সঙ্গে এমন করল?? আমি কোন দোষের দোষী??

   মাসুদ আলম ভাই, এবার আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই। সময় কি দাঁড় করান সম্ভব?? এ প্রশ্নের উত্তর হল- হ‍্যাঁ, সময়   দাঁড়  করান  সম্ভব!! যদি  সম্ভব  হয়, তাহলে 2:259,  18:25,  23:112-114,  30:55,  10:45 আয়াত গুলো অবৈজ্ঞানিক নয়  কিন্তু কিভাবে সময় দাঁড় করান সম্ভব?? সুধী পাঠক, আপনাকে  জানাতে চাই- বিষয়টি Theory  দ্বারা   ব‍্যাখ‍্যা   করা   যায়, যদিও   এখনও  তা প্রতিষ্ঠিত  তথ্য  নয়   কিন্তু   তবুও   বিজ্ঞানে  Theory'র গুরুত্ব  অপরিসীম, যারা  বিজ্ঞান  বোঝে, তারা  এগুলো জানে!! যাইহোক, সময়  কিভাবে  দাঁড়  করান সম্ভব, এ বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=980936098958054&id=544853392566329

   কিন্তু  সময় কি?? বিজ্ঞানের  কাছে  এ প্রশ্নের নিশ্চিত কোনও  উত্তর  নেই, বিজ্ঞানের কাছে এ  প্রশ্নের নিশ্চিত কোনও উত্তর না  থাকলেও হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ এ প্রশ্নের  নিশ্চিত  উত্তর দিয়েছেন  এবং বলেছেন-"আদম সন্তানেরা    সময়কে    গালমন্দ    করে   অথচ   আমিই  সময়"(সহীহ বুখারী, কিতাবুল আদব, হাদীস 5742)।

   হে আল্লাহ, আপনি অর্থাৎ  সময়  কি  কখনও  আমার পক্ষে অবস্থান নেবেন?? সারাজীবনই পরিস্থিতি সর্বদাই আমার  বিপক্ষে  অবস্থান নেয়, জানি না কেন, কোন সে কারণে!! আল্লাহ  আমি আমার  ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব এবং খুবই চিন্তিত!! মানুষ অসুস্থ হলে ধীরে-ধীরে কিন্তু আমি যেন  ধীরে-ধীরে  আরও  ভেঙে  পড়ছি!! আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাব!! আল্লাহ, আমাকে মৃত্যু দিয়ে দিন কিন্তু পাগল করে দেবেন না!!

   আমি কোরান ও  সহীহ হাদীসের বাইরে জীবন-যাপন করি  না!! যদি   আমি  পাগল  হয়ে  যাই, তাহলে  আমি আর  আপনার ইবাদত  করতে  পারব না  এবং  এভাবে আমি  মৃত্যু  বরণ  করতে   চাই   না!! আপনি   আমাকে সরাসরি দ্বীনের উপর রেখে মৃত্যু দেবেন!!

   আশা করছি, বোঝাতে  পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন   থাকলে, পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                   © : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...