ইসলামী তালাক, প্রচলিত তালাক ও অপব্যবহার

 


    বহুদিন   ধরেই   বহুজন   আমাকে    তালাক   বিষয়ে লিখতে করতে অনুরোধ করছিলেন। বিশেষ  করে তখন থেকে, যখন  থেকে  ভারতীয়  সুপ্রিমকোর্ট তৎখানীক 3 তালাককে  অবৈধ  ঘোষণা  করেছে!! কিন্তু আমি সর্বদা বিতর্কিত  বিষয়  থেকে  দূরে  থাকতে   চাই- এ   জন‍্যেই তালাক সম্পর্কে লিখতে আগ্ৰহ দেখাই নি!!

   কিন্তু  এখন  ঠিক  করেছি যে, তালাক সম্পর্কে সঠিক তথ্যটি তুলে ধরব- ইনশাআল্লাহ। আর, তালাক সম্পর্কে আমাদের   সমাজে   যত   ধরণের   কুসংস্কার   প্রচলিত রয়েছে- সেগুলোতেও  যথা  সম্ভব আলোক পাত করব- ইনশাআল্লাহ।

   যাইহোক, কিছুদিন আগে *ইসলাম ও নারী অধিকার* বিষয়ে  প্রায়  25-30  টি লেখা  লিখেছিলাম!! তারমধ্যে একটি লেখার  বিষয় ছিল-"নারীর  তালাক অধিকার বা নারী   কি   তার  স্বামীর  সঙ্গে   বিবাহ   বিচ্ছেদ  ঘটাতে পারে"?? নিচে  সেই  লেখার  লিঙ্ক  দিলাম, চাইলে লিঙ্কে ক্লিক করে অজানা বিষয়টি জেনে নিতে পারেন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=813918315659834&id=544853392566329

   এছাড়াও  যদি  আপনি *ইসলাম  ও  নারী  অধিকার* সম্পর্কে  জানতে  চান  এবং  হিন্দু  ধর্মে নারীর অবস্থান সম্পর্কে  জানতে  চান, তাহলে  নিচের  লিঙ্কে ক্লিক করে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=824423284609337&id=544853392566329

   সুধীপাঠক, আগে   কয়েকটি  বিষয়  পরিষ্কার  করতে চাই। প্রথমতঃ ইসলামকে হেয়-প্রতিপন্ন কারিদের কাছে "তৎখানীক  3  তালাক  প্রসঙ্গ" হল- সবচেয়ে   মজাদার বিষয়!! তাই   না?? 2-4   আগে   পর্যন্ত ভারতীয় News channel গুলোতে   দেখেছেন  নিশ্চয়??

   দ্বিতীয়তঃ এই  প্রবন্ধের লেখক  অর্থাৎ "আমি কোনও আলেম নই, আমি  শুধুমাত্র  হোসেন কুরানী এবং......"। সুতরাং   আমার   কোনও  কথা  মেনে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন   নেই, আপনি   শুধুমাত্র   "কোরান   ও   সহীহ হাদীস" থেকে   যা  পাবেন, সেটা   মেনে   নেবেন!! চলুন সুধী, এবার আমরা উত্তরের দিকে এগিয়ে যেতে চাই-

   #উত্তর:::- সর্বপ্রথম   চমকে   ওঠার    মত    চমৎকার একটি  আয়াত   আপনার/ আপনাদের   উদেশ‍্যে   তুলে ধরতে   চাই- যা, আল্লাহ    তায়ালা   "তালাক"   প্রসঙ্গেই কোরানে বলেছেন এবং সেই আয়াতটি হল-                                 

وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا     

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  আল্লাহর  আয়াতকে  নিয়ে ছেলে-খেলা কর না"(2:231)।

   এখন  সমস্ত  মুসলিমদের   কাছে   প্রশ্ন-"কেন  আল্লাহ পবিত্র কোরানে "তালাক প্রসঙ্গে" এমন কথা বললেন"?? তাহলে   কি  তালাকের  অপব্যবহার  হবে- এটা  আল্লাহ জানতেন?? বলা ভুল হল!! আল্লাহ তো সবই  জানেন!! হ‍্যাঁ, মুসলিমরা  তালাকের  অপব্যবহার করবে- এটা সর্ব জ্ঞানী  আল্লাহ   জানতেন   এবং  এই   জন‍্যেই    আল্লাহ    মুসলিমদের সতর্ক করেছেন, এই বলে যে-

وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا  

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  আল্লাহর  আয়াতকে  নিয়ে ছেলে-খেলা কর না"(2:231)।

   আমার  মনে  হয়, আমরা/  মুসলিম  সমাজ  আল্লাহর আয়াতকে  নিয়ে  ছেলে-খেলাই  করেছি। ফলতঃ  গোটা পৃথিবীতে "তালাক প্রসঙ্গে" ইসলাম এবং মুসলিম জাতি হাসি-ঠাট্টার পাত্রে পরিণত হয়েছে!!

   যাইহোক, এ  বিষয়ে  আমি  যদি  আরও  কিছু বলতে যাই, তাহলে  তা   শুনতে   খারাপ   হবে   এবং   আলেম সমাজের  গায়ে  লাগবে!! তাই  এ  বিষয়ে আর কিছু না বলাই ভাল হবে!! তাই নয় কি??

   চলুন ভাই, এমনিতেই এই  লেখাটি  খুব বড় হবে। তাই অন্য কিছু আলোচনা না করে এই আয়াতটি দেখুন-

اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ ۗ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ

অনুবাদ-"তোমাদের  প্রভুর  পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা   কিছু   নাযিল   করা   হয়েছে, তার   অনুসরণ  কর। নিজেদের   প্রভুকে   বাদ   দিয়ে   অন্য   অভিভাবকদের অনুসরণ  কর  না। কিন্তু তোমরা তো খুব কমই উপদেশ গ্ৰহণ কর"(7:3)।

   তাই আমরা  কোরানের  অনুসরণ করব এবং কোরান বলে-           يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ  অনুবাদ হবে এমন-"হে  ইমানদারগণ!! তোমরা   আল্লাহ এবং তার রাসুলের অনুসরণ কর"(3:31,  3:32,  3:132, 4:13,  4:59,  5:92,  8:1,  8:20,  8:46,  19:54, 19:56, 33:33,  33:71,  58:13,   64:12)। সুতরাং   সুধীপাঠক, আমরা আমাদের আলোচনাকে কোরান ও সহীহ হাদীস কেন্দ্রিক রাখব- ইনশাআল্লাহ। যদি কেউ এই 2 টি উৎস ছাড়া অন্য উৎস  থেকে  আলোচনা চায়, তাহলে আমার এই  লেখা  তার/ তাদের  জন্য   নয়!! তাই  চলুন, এবার আমরা আমাদের লেখায় মনোযোগ দিই-

   তৎখানীক  3  তালাকের  সবচেয়ে  নোংরা  দিক  হল- "হালালা   বা   হিল্লা   বিবাহ"। যদিও "হালালা   বা  হিল্লা বিবাহ" ইসলাম  সম্মত  নয়। এ বিষয়ে  বিশ্বনবী মহাম্মদ (স) বলেছেন-"হালাল কারি এবং যার জন্য হালাল করা হয়, উভয়কে   অভিসম্পাত   করেছেন"(ইবনে   মাজাহ, কিতাবুল   নিকাহ, হাদীস  1934,  1935)। এখানেই  কি শেষ?? না, না, এ বিষয়ে আরও হাদীস রয়েছে, যেখানে বিশ্বনবী (স) বলেছেন-"আমি  কি  তোমাদের ভাড়াটিয়া পাঠার    ব‍্যাপারে    খবর   দেব?? তারা    বলল- হ‍্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল (স)। তিনি বলেন- সে হল হালাল কারি। আল্লাহ  হালাল  কারি  এবং  যার জন্য হালাল করা হয়, উভয়কে      অভিসম্পাত     করেছেন"(ইবনে     মাজাহ, কিতাবুল নিকাহ, হাদীস 1936)।

   এবার   মুসলিম   সমাজকে   কঠিন   মত  একটা প্রশ্ন করতে   চাই, উত্তর   দেবেন   তো?? উপরিউক্ত   হাদীস গুলো পড়েছেন?? তবে, এটা কোনও প্রশ্ন  নয়, প্রশ্ন তো এখন  বাকি  আছে!! প্রশ্নটি  হল-"আমাদের আলেমগণ কি উপরিউক্ত হাদীস গুলো পড়েন নি?? না কি  জানেন না"??

   সুধীপাঠক, কি উত্তর দেবেন এই প্রশ্নের?? যদি পড়েই থাকেন, তাহলে   আজও   এই  নোংরা "হালালা বা হিল্লা বিবাহ" আমাদের সমাজে  প্রচলিত  আছে কেন?? কেন আজও  নারীকে  এই  নোংরা প্রথার শিকার হতে হয়?? কেন  আজও  নারী'কে  স্বামীর   গুনাহ'র   শাস্তি   পেতে হয়?? স্বামী  ভুল  করে, মদ  খেয়ে, রাগে  তালাক দেবে-আর, তার  শাস্তি  স্ত্রীকে  ভোগ  করতে  হবে?? নারীদের উপর   এই   অত‍্যাচারের   দায়ী  কে/ কারা?? তারা  কি আমাদের সমাজের গাঁজাখোর আলেমগণ নন??

   স্বামীর  ভুলের জন্য স্ত্রীকে "হালালা বা হিল্লা বিবাহের" মাধ্যমে  শাস্তি  দেওয়া  প্রসঙ্গে  মহান  আল্লাহ   কোরানে বলেছেন-       كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ     অনুবাদ    হবে এমন-"প্রত্যেক  ব্যক্তি  তার নিজ কর্মের জন্য দায়ী"(74: 38)। এখানেই কিন্তু শেষ নয়, এই বিষয়ে আল্লাহ আরও কোরানে বলেছেন-

كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ 

অনুবাদ হবে এমন-"যে   যা   করবে,  তাই    পাবে। কেউ কারোর বোঝা বহন করবে না"(6:164)। যদি  তাই  হয়ে থাকে, তাহলে  স্বামীর  দোষে   স্ত্রীকে "হালালা  বা  হিল্লা বিবাহের" মাধ্যমে শাস্তি পেতে হয় কেন??

   আরও   কিছু   প্রশ্ন-"আমাদের   আলেমগণ   কি   এই আয়াত  গুলো  পড়েন  নি?? না  কি আলেমগণ কোরান পড়ার সময় এই আয়াত গুলো বাদ দিয়ে পড়েন"??

   এই সমস্ত আলেমদের উদেশ‍্যেই হয়ত পবিত্র কোরানে আল্লাহ এই আয়াত দুটি বলেছেন-

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا

অনুবাদ হবে এমন-"তারা   কি  কুরআন    নিয়ে    চিন্তা-ভাবনা  ও  গবেষণা করে নি, না কি  তাদের  ব্রেনে তালা লাগানো আছে"(47:24, 4:82)??

   যাইহোক, আলেমগণকে   অনেক   কথা    শোনালাম, ★যদিও  আমি  নিজে  কোনও  আলেম  নই  বরং  সেই সমস্ত   আলেমগণের   পায়ের   জুতোর    যোগ্য★ যারা কোরান এবং সহীহ হাদীসের আলোকে কথা বলেন!!

   যারা ইসলাম  সম্পর্কে  এবং  মুসলিম সমাজ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ, তারা প্রশ্ন করতে পারেন যে- হালালা বা হিল্লা বিবাহ কি??

   আমাদের দেশে তথা প্রচলিত তৎখানীক 3 তালাক বা একই  বৈঠকে  স্বামী  স্ত্রীকে 3 তালাক দিলে মৌলানা ও গাঁজাখোর  আলেমদের  মতে- বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এবং পরে  যদি  স্বামী  স্ত্রীকে  আবার  স্ত্রী  হিসাবে পেতে চায়, তখন 1 দিনের জন্য অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে ঐ স্ত্রীর বিবাহ দিতে হবে  এবং  সেই  1 দিনের স্বামীর সঙ্গে যৌনমিলন  করতে  হবে   এবং  এই 1 দিনের  স্বামী  এই স্ত্রীকে  তৎখানীক  3  তালাক  দিলে, তবেই   না  কি   ঐ স্ত্রীকে তার আগের স্বামী ফিরিয়ে নিতে  পারবে। এখানে এই "1 দিনের  বিবাহ"কে "হালালা  বা হিল্লা বিবাহ" বলা হয়। অথচ    ইসলামে    "হালালা   বা   হিল্লা   বিবাহ''কে অভিসম্পাত করা হয়েছে তথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে!!

   এখন মনে মনে এই প্রশ্নটি ঘুরপাক  খাচ্ছে যে-"তাহলে সঠিক তালাক  পদ্ধতি  কি  বা  কেমন"?? সুধীপাঠক, এ বিষয় নিয়েই আজকের লেখা, তাই চলুন-

   আমরা   তালাক   প্রসঙ্গে   কথা  বলার  আগে  প্রথমে একটা আয়াত দেখাতে চাই এবং আয়াতটি হল-

الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

অনুবাদ হবে এমন-"যারা    সচ্ছল    ও    অসচ্ছল   সব অবস্থাতেই (আল্লাহর পথে) অর্থ-সম্পদ  ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ দমন করে  ও  অন্যের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়। এই    ধরনের    সৎ   লোকদের    আল্লাহ‌   অত্যন্ত ভালোবাসেন"(3:134)।

   উপরিউক্ত  আয়াতটি  মনে  রাখবেন, আয়াতটি  নিয়ে পরে  গুরুত্বপূর্ণ  আলোচনা  করব- ইনশাআল্লাহ!! তবে, নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন যে- ইসলাম তালাকের  অনুমোদন  দিল  কেন?? তাই  নিচে   দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=813918315659834&id=544853392566329

   আচ্ছা, এখন   একটা   প্রশ্ন    হতে    পারে-"তালাকের বিষয়ে  ইসলাম  কি মনে করে"??  ইসলাম চায়- সমাজে তালাকের  মত  নিকৃষ্ট  ঘটনা  না  ঘটে  এবং  তার  জন্য ইসলাম  প্রয়োজনীয়  ব‍্যাবস্থাও  গ্ৰহণ  করেছে। ইসলাম কি  কি  ব‍্যাবস্থা গ্ৰহণ করেছে?? এ বিষয়ে পরে আসছি কিন্তু  তার  আগে  দেখে  নিতে  চাই-"সমাজে তালাকের মত নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটে কেন"??

1) নারী-পুরুষ   একে-অপরকে  না  দেখে  বিবাহ  করা। আর, এর  জন্য  দায়ী আমাদের গাঁজাখোর আলেমগণ। কারণ, এই  গাঁজাখোর  গুলোই  এই  প্রচার করেছে যে- পিতা-মাতার  পছন্দের পাত্র/ পাত্রীকে বিবাহ করাই হল ধর্মীয় কর্তব্য!!

   অথচ   ইসলাম   নারী/ পুরুষ   একে-অপরকে   দেখে তবেই   বিবাহের   সিদ্ধান্ত   নিতে   বলেছে। এখানেই কি শেষ?? না,  না, শেষ   নয়, ইসলাম   নারী/ পুরুষ  একে-অপরকে    Propose    করতেও    অনুমোদন  দিয়েছে। চাইলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে চাইলে জানতে পারেন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=808625906189075&id=544853392566329

2) বিবাহ জীবনে  স্বামী ও স্ত্রী  একে-অপরের  প্রতি রাগ করা  এবং   একে-অপরকে   ক্ষমা  না  করা- এটাই  হল তালাকের মত নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটার অন‍্যতম কারণ। আর, এই  ব‍্যাপারেই  আল্লাহ  3:134   একটি   বিশেষ  নির্দেশ দিয়েছেন, এভাবে-

الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

অনুবাদ হবে এমন-"যারা    সচ্ছল    ও    অসচ্ছল   সব অবস্থাতেই (আল্লাহর পথে) অর্থ-সম্পদ  ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ দমন করে  ও  অন্যের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়। এই    ধরনের    সৎ   লোকদের    আল্লাহ‌   অত্যন্ত ভালোবাসেন"(3:134)।

3) স্বামী ও স্ত্রীর একে-অপরের প্রতি  অনীহা এবং  অন্য নারী  ও  পুরুষের  প্রতি আকর্ষণ- তালাকের  মত নিকৃষ্ট ঘটনা  ঘটার  অন‍্যতম  কারণ। এক কথায়  বললে  বলা ভাল  যে- "পরকীয়া" তালাকের  অন‍্যতম  প্রধান  কারণ গুলোর   একটা। আর, এ    বিষয়ে    আল্লাহ    কোরানে বলেছেন-

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  ব‍্যাভিচারের  কাছেও  যেও না, ওটা  অত্যন্ত  খারাপ  কাজ ও খুবই জঘন্য পথ"(17: 32)। উপরিউক্ত  আয়াত শুধুমাত্র ব‍্যাভিচারকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা   করে  নি, বরং   পাশা-পাশি   যে   কাজ করলে অবৈধ  সম্পর্ক  তৈরী  সেই   সমস্ত   কাজকেও   নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে!!

4) স্বামী-স্ত্রী   একে-অপরকে   একে-অপরের  সমান  না ভেবে    একে-অপরকে    ছোট     ভাবা। অবশ্য    গেঁয়ো অশিক্ষিত   মুসলিম   সমাজে   গাঁজাখোর   আলেমদের "স্বামী ভক্তি" প্রচারের কারণে স্বামীরা নিজেকে 'আল্লাহ' বলে ভাবতে শুরু করে এবং স্ত্রীকে ভাবে-'দাসী'।

   যদিও  ইসলাম  এমনটা   মোটেও   ভাবে  না!! "স্ত্রীকে দাসী  ভাবা   প্রসঙ্গে" কোরান   ও   ইসলামের   দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=811579515893714&id=544853392566329

   পুরুষের চেয়ে নারী কম মর্যাদার- যারা  এমন ভাবেন, তারা এ বিষয়ে কোরান  ও  ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=793194084398924&id=544853392566329

   এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এবং আলেমদের অপব‍্যাখ‍্যা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে নিচে আরও একটি লিঙ্ক দিলাম। চাইলে লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=802718713446461&id=544853392566329

   যাইহোক, যদি আমরা  পুরো-পুরি ইসলাম  মেনে চলি, তাহলে হয়ত তালাকের প্রয়োজনইইইই  পড়বে না!! এই জন‍্যেই আল্লাহ কোরানে বলেছেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً 

অনুবাদ হবে এমন-"হে   ঈমানদারগণ!! তোমরা   পুরো-পুরি ভাবে ইসলামে প্রবেশ কর"(2:208)।

   সুধীপাঠক, এবার আমরা সঠিক তালাক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা  করব- ইনশাআল্লাহ। দোয়া  করবেন আমরা আমাদের  আলোচনা  যেন  কোরান  ও হাদীস কেন্দ্রিক রাখতে পারি!! চলুন-

   ধরুন- আপনার স্ত্রীর দোষ-ত্রুটি রয়েছে এবং এ জন্যে মাঝে-মাঝেই   আপনাদের   সংসারে  অশান্তি  হয় এবং আপনি  রোজ-রোজ এই অশান্তিতে বিরক্ত হয়ে গেছেন এবং  আপনি   এই  অশান্তির   হাত  থেকে  মুক্তি  পেতে চাইছেন!! এখন  আপনি  আপনার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইছেন। কিন্তু   তালাক   দেওয়া   বললেই    তো   আর তালাক  দেওয়া  নয়!! তার  আগে  কিছু প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো পালন করতে হবে। যেমন-

1) স্ত্রীকে সদুপদেশ দিতে হবে তথা বোঝাতে হবে।

2) যদি   তাতেও   না   হয়, তখন   স্ত্রীকে  থেকে বিছানা আলাদা করে দিতে হবে।

3) যদি  তাতেও  না  হয়, তখন পুরো-পুরি স্ত্রী-সঙ্গ ত‍্যাগ করতে হবে।

4) যদি  তাতেও  না  হয়, তখন  স্বামীর  পরিবার   থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন করে সালিশ নিযুক্ত করে  স্বামী-স্ত্রীকে সংশোধনের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

5) যদি তাতেও না হয়, সেক্ষেত্রে আর কোনও পথইইইই খোলা   থাকল   না!! তখন    অশান্তি    এড়াতে   বিবাহ বিচ্ছেদের  পথইইইই  খোলা   থাকে   অর্থাৎ   তালাক!! কারণ, এ বিষয়ে কোরান বলে-       وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ 

অনুবাদ হবে এমন-"ফিতনা  বা  অশান্তি  হত‍্যার চেয়েও বেশি মারাত্মক"(2:191)।

   বলে রাখা ভাল হবে যে- এই প্রক্রিয়ায় কোনও ভাবেই স্ত্রীকে  কোনও  রুপ  মারধোর   করা   যাবে  না। এখানে কেউ  কেউ  4:34  আয়াত  তুলে ধরে বলতে পারেন যে- এই  আয়াতে স্ত্রীকে প্রহার বা মারের কথা বলা হয়েছে!! কিন্তু  এই  এই  আয়াতের  সঠিক  অনুবাদ নিচের লিঙ্কে করা হয়েছে। তাই, লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=800940350290964&id=544853392566329

   যাইহোক, উপরিউক্ত সমস্ত প্রক্রিয়া যদি অসফল হয়, তখন  আর  অন্য  কোনও  উপায়  থাকল   না- একমাত্র উপায়  তালাক  ছাড়া!! কিন্তু  তালাক  হবে  কিভাবে বা কোন পদ্ধতিতে?? চলুন বর্ণনা করি-

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا

অনুবাদ হবে এমন-"হে নবী, তোমরা  যখন স্ত্রীলোকদের তালাক দেবে, তাদেরকে  তাদের  ইদ্দতের  জন্য তালাক দাও  এবং  ইদ্দতের  সময়টা  ঠিকমত  গণনা  কর ,আর তোমাদের   রব   আল্লাহকে   ভয়   কর (ইদ্দত  পালনের সময়ে) তোমরা  তাদেরকে  তোমাদের  বাড়ী  থেকে বের করে  দিও  না। তারা  নিজেরাও যেন  বের না হয়। তবে, তারা  যদি  স্পষ্ট  অশ্লীল  কাজ  করে, তবে  ভিন্ন  কথা। এগুলো     আল্লাহর    নির্ধারিত    সীমা। যে     আল্লাহর সীমাসমূহ লংঘন করবে সে নিজেই নিজের ওপর জুলুম করবে। তোমরা  জান  না   আল্লাহ‌    হয়তো   এর   পরে সমঝোতার কোন উপায় সৃষ্টি করে দেবেন"(65:1)।

   উপরিউক্ত  আয়াত  থেকে  বোঝা  গেল তালাক দিতে চাইলে  ইদ্দতের  জন্য  তালাক  দিতে  হবে। অর্থাৎ প্রতি মাসে  একটি  করে 3 মাসে 3 তালাক দিতে হবে। অর্থাৎ এ ভাবে ঘটবে-

   ধরুন- আপনি  আপনার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইছেন এবং আপনি  জানুয়ারি   মাসের  15  তারিখে   স্ত্রীকে 1 তালাক  দিয়েছেন। এই  1  তালাক  দেওয়ার   পর  যদি আপনার  স্ত্রী  তার  দোষ-ত্রুটি  সংশোধন করে নেয় তো ভাল, নয়ত তারপর আপনার স্ত্রীর এক বার ঋতুস্রাব বা মাসিক হতে হবে। আপনার  স্ত্রীর  ঋতু  বা  মাসিক শেষ হওয়ার  পর  ফেব্রুয়ারির  15  তারিখে  স্ত্রীকে আরও 1 তালাক  দিতে  পারবেন। যদি  এখনও আপনার স্ত্রী তার দোষ-ত্রুটি সংশোধন করে নেয় তো ভাল, নয়ত তারপর আপনার স্ত্রীর আরও  একবার  ঋতুস্রাব বা মাসিক হবে এবং ঋতুস্রাব বা মাসিক শেষ হওয়ার পর মার্চ মাসের 15 তারিখে স্ত্রীকে আরও 1 তালাক দিতে পারবেন।

   এই  তালাক  আপনি  বন্ধ  ঘরে  দিতে  পারবেন না, 2 জন  সাক্ষীর সামনে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে। কোরানে আল্লাহ বিষয়টি বলেছেন এভাবে-

فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا

অনুবাদ হবে এমন-"এর    পর     তারা    যখন    তাদের (ইদ্দতের) সময়ের  সমাপ্তির  পর্যায়ে  পৌঁছবে তখন হয় তাদেরকে  ভালভাবে  (বিবাহ বন্ধনে)  আবদ্ধ রাখো নয় ভালভাবেই  তাদের  থেকে আলাদা হয়ে যাও। এমন দুই ব্যক্তিকে  সাক্ষী বানাও, তোমাদের মধ্যে যারা ন্যায়বান। হে সাক্ষীরা, আল্লাহর   জন্য   সঠিকভাবে   সাক্ষ্য  দাও। যারা আল্লাহ‌ ও আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান  পোষণ করে, তাদের  জন্য  উপদেশ  হিসেবে  এসব  কথা  বলা হচ্ছে। যে  ব্যক্তিই  আল্লাহকে  ভয়  করে  চলবে  আল্লাহ‌ তার  জন্য  কঠিন  অবস্থা  থেকে  রক্ষা  পাওয়ার উপায় সৃষ্টি করে দেবেন"(65:2)।

   উপরিউক্ত   65:2   আয়াত  হতে  বোঝা  গেল- 2 জন সাক্ষীর  সামনে প্রতি মাসে 1 টি করে 3 মাসে 3 তালাক দিতে  হবে। মনে  রাখা  দরকার  যে, 65:1 আয়াতে বলা হচ্ছ-

لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা      তাদেরকে    (স্ত্রীদেরকে) বাড়ি  থেকে  বের  করে  দেবে না, আর  নিজেরাও বাড়ি ছেড়ে  চলে  যাবে  না- অবশ্য  স্ত্রী  যদি  প্রকাশ‍্য  অশ্লীল কাজ করে, তবে ভিন্ন কথা"।

   উপরিউক্ত আয়াত হতে এটা পরিষ্কার বোঝা গেল যে, স্ত্রীকে   তালাক   দিতে   চাইলে, স্ত্রীর   সামনে   উপস্থিত থাকতে   হবে। দূর   থেকে   চিঠির   মাধ্যমে, ম‍্যাসেজের মাধ্যমে, মোবাইলে  কথা  বলতে  বলতে তালাক দেওয়া যাবে না!!

   যাইহোক, এবার ধরুন- 3 মাসে 3 তালাক হওয়ার পর স্ত্রী  তার  বাপের  বাড়িতে  চলে  গেল!! কিন্তু  তারপরও যদি স্ত্রী নিজেকে সংশোধন  করতে চায়, সেক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীকে আবার  ফিরিয়ে  নিতে পারবে, আবার তারা একত্রে  স্বামী-স্ত্রী  হয়ে জীবন-যাপন করতে পারবে। এই বিষয়টি আল্লাহ কোরানে বলেছেন এভাবে-

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

অনুবাদ হবে এমন-"তালাক   প্রাপ্তা  নারীগণ  3  মাসিক ঋতুস্রাব পর্যন্ত  অপেক্ষা করবে (অর্থাৎ   অন্য   কোনও পুরুষকে    বিবাহ    করবে    না)। আর, আল্লাহ‌   তাদের  গর্ভাশয়ে  যা  কিছু  সৃষ্টি  করেছেন, তাকে  গোপন  করা  তাদের  জন্য  বৈধ  নয়। তাদের   কখনও  এমনটি  করা উচিত নয়, যদি তারা  আল্লাহ‌  ও  পরকালে বিশ্বাসী হয়, তাদের স্বামীরা  পুনরায়   সম্পর্ক   স্থাপনে   প্রস্তুত   হয়, তাহলে   তারা  এই অবকাশ    কালের  মধ্যে  তাদেরকে  নিজের   স্ত্রী   হিসেবে  ফিরিয়ে  নেবার  অধিকারী  হবে। নারীদের  জন্যও   ঠিক   তেমনি   ন্যায়সঙ্গত   অধিকার  আছে, যেমন পুরুষদের অধিকার  আছে  তাদের উপর। তবে, পুরুষরা    নারীদের    তুলনায়    শারীরিক    শক্তি   সম্পন্ন। আর, সবার   ওপরে  আছেন  আল্লাহ‌  সর্বাধিক ক্ষমতা    এবং     কর্তৃত্বের     অধিকারী, বিচক্ষণ    এবং জ্ঞানী"(2:228)।

   ধরুন- এই  বাড়তি  3  মাসের  মধ্যে  আপনি আপনার স্ত্রীকে  ফিরিয়ে  নিলেন এবং সংসার করতে থাকলেন!! পরে  যদি  আবার  আপনার  স্ত্রীর  দোষ-ত্রুটির  কারণে আপনার  সংসারে  অশান্তি  সৃষ্টি  হয় এবং আপনার স্ত্রী তার  দোষ-ত্রুটি  সংশোধন  করতে চাইছে না, সেক্ষেত্রে আবার  পূর্বে  বর্ণিত  পদ্ধতি অনুযায়ী তালাক হবে এবং আপনারা অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী আলাদা হয়ে যাবেন!!

   ধরুন- তারপর  আবার  আপনি  3  মাস বাড়তি সময় পাবেন  স্ত্রীকে  ফিরিয়ে  আনার  জন্য  এবং আপনি এই বাড়তি  3  মাসের মধ্যে স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে আনলেন এবং   পুনরায়    স্বামী-স্ত্রী   হিসাবে   জীবন-যাপন  শুরু করলেন!!

   ধরুন- আবার আপনাদের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে আপনার  স্ত্রীর  কারণে, সেক্ষেত্রে  পূর্বে   বর্ণিত   পদ্ধতি অনুযায়ী  আবার তালাক দিলেন এবং আপনারা অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী  আবার  আলাদা  হয়ে  গেলেন!! ★★এর পর আপনারা পুনরায় মিলিত হতে চাইলে আর মিলিত হতে পারবেন  না!! কারণ, বিবাহ   কোনও   ছেলে   খেলা বা পুতুল খেলা নয়!! এ বিষয়ে কোরানে  আল্লাহ  বলেছেন এভাবে-

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

অনুবাদ হবে এমন-"অতপর যদি স্বামী তৃতীয়বার স্ত্রীকে তালাক দেয়, অন্য  স্বামীর  সঙ্গে  বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত গত  স্বামী  তার  জন্য  হালাল   নয়। পরে   যদি  বর্তমান তাকে   তালাক   দেয়  এবং  উভয়ে  (গত  স্বামী  ও  স্ত্রী) আল্লাহর  নির্ধারিত  সীমা রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করে, তবে    প্রত‍্যবর্তনে     কোনও    পাপ    নেই। এটাই আল্লাহর  সীমা, যা  জ্ঞানীদের  জন্য   আল্লাহ  বিস্তারিত বর্ণনা করেন"(2:230)।

   ইসলামে  বিবাহ  খুব  এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন‍্যেই স্বামী-স্ত্রীকে  সংসার  জীবন-যাপন  করার  জন্য অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে!! তাই নয় কি?? যাইহোক, এবার আমরা সংক্ষিপ্ত ভাবে সেই সমস্ত দিক গুলো আলোচনা করব, যে সমস্ত দিক লেখার সৌন্দর্যের  স্বার্থে বাদ দিতে হয়েছিল-

1) স্বামী  যদি  তালাক   দেওয়ার   সিদ্ধান্ত   নেয়, স্ত্রীকে "মোহর" হিসাবে  যা  দেওয়া  হয়েছিল- তা  স্বামী ফেরত চাইতে  পারবে  না!! যদিও আমাদের দেশে "মোহর" খুব এবং  খুবই  অল্প   পরিমাণ   ধার্য্য   করা   হয়!! "মোহর" সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=680065249045142&id=544853392566329

   যাইহোক, স্বামী   তালাকের   পদক্ষেপ  নিলে "মোহর" হিসাবে ধার্যকৃত  অর্থ ফেরত  নেওয়া যায় না, এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا ۚ أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا

অনুবাদ হবে এমন-"আর, তোমরা  যদি  এক  স্ত্রীর স্থলে অন্য  স্ত্রী  গ্ৰহণ  করার   সংকল্প  করেই   থাকো, তাহলে তোমরা    তাকে (আগের    বা   তালাক   প্রাপ্তা   স্ত্রীকে) সম্পদের  পাহাড়   দিয়ে   থাকলেও, তা   থেকে   কিছুই ফিরিয়ে নিও না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে  এবং সুস্পষ্ট জুলুম করে তা ফিরিয়ে নেবে"(4:20)??

2) 3  মাসে  3  তালাক  হওয়ার  স্বামী-স্ত্রী  আলাদা হয়ে যাবে  এবং  স্বামী  স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাড়তি 3 মাস সময় পায়  এবং  এই অবকাশ  কালের  মধ্যে  যদি স্বামী  স্ত্রীকে  ফিরিয়ে   আনতে   চায়, ফিরিয়ে   আনতে পারবে  কিন্তু যদি  স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে আর থাকতে না চায়, সেক্ষেত্রে  স্বামী  স্ত্রীকে  জোর   করে   ফিরিয়ে   আনতে পারবে  না। এ   বিষয়ে   কোরানে  আল্লাহ  বলেছেন এই ভাবে-     لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ    অনুবাদ  হবে  এমন-"দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই"(2:256)।

3) আবু  হুরাইরা  (রা)  থেকে  বর্ণিত। তিনি  বলেন, নবী (স)  বলেছেন- তালাক  মাত্রই  তা কার্যকর হয়, বুদ্ধিভ্রষ্ট ও মতিভ্রম লোকের  তালাক কার্যকর হয় না"(তিরমিযী, কিতাবুত তালাক, হাদীস 1131)। অর্থাৎ যদি  কেউ মদ খেয়ে অথবা নেসাগ্ৰস্থ অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়, সেই তালাক গ্ৰহণ যোগ্য হবে না।

   শুধুমাত্র এখানেই শেষ নয়, স্ত্রীর যদি  Period বা  ঋতু স্রাব বা মাসিক হয়- এই অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক  দেওয়া যাবে না। নিচের বর্ণিত হাদীসটি দেখুন-

"আব্দুল্লাহ  ইবনে  উমার  (রা)  বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী  (স)  জীবদ্দশায়  তার  স্ত্রীকে  ঋতুবতী  অবস্থায় 1 তালাক  দিলে তার পিতা উমার ইবনে খাত্তাব  (রা)  নবী (স)- কে  জিজ্ঞাসা  করলেন। তখন  নবী ( স)  বললেন- তাকে  (তোমার ছেলেকে)  গিয়ে  বল  যে, সে  যেন তার স্ত্রীকে    স্ত্রী    হিসাবে   ফিরিয়ে   নেয়"(বুখারী, কিতাবুত তালাক, হাদীস 4871)। এখানেই কিন্তু শেষ নয়, আরও একটু বাকি আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন-

"আয়েশা  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন, বিশ্বনবী  (স) বলেছেন- গিলাক বা রাগ অবস্থায় তালাক বা দাস মুক্তি হয় না"(আবুদাউদ, কিতাবুত তালাক, হাদীস 2191)।

4) 3 বার  বিচ্ছেদ  হওয়ার   পর   আপনি   স্ত্রীকে   আর ফিরিয়ে আনতে পারবেন না এবং আপনার স্ত্রী চাইলেও আপনার  কাছে  আর  ফিরে  আসতে  পারবে  না  এবং আপনার  গত  স্ত্রী যদি অন্য জায়গায় বিয়ে করতে চায়, তখন আপনি সেই বিয়েতে বাধা দিতেও পারবেন না। এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ

অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  নিজেদের  স্ত্রীদের  তালাক দেয়ার  পর  যখন   তারা   ইদ্দত  পূর্ণ   করে  নেয়, তখন তাদের   নিজেদের   প্রস্তাবিত   স্বামীদের   সাথে  বিয়ের ব্যাপারে  তোমরা   বাধা   দিও না, যখন   তারা  প্রচলিত পদ্ধতিতে  পরস্পর  বিবাহ  বন্ধনে  আবদ্ধ   হতে  সম্মত হয়"(2:232)।

5) প্রথমবার  3  মাসে  3 তালাক হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ হওয়ার পর, যদি  স্বামী-স্ত্রী  পরস্পর  সম্মত  না হয়ে সংসার  জীবন-যাপন করতে চাইবে, ততক্ষণ স্বামী স্ত্রীকে  ফিরিয়ে  আনতে   পারবে   না!! আর, যদি  স্বামী স্ত্রীকে 3 মাসের  মধ্যে  ফিরিয়ে  না  আনে, সেক্ষেত্রে  স্ত্রী অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ করতে পারে।

6) তবে, যদি  স্ত্রী  3  মাস  পরও  অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ  না  করে, সেক্ষেত্রে স্বামী  চাইলে  স্ত্রীকে  ফিরিয়ে এনে পুনরায় সংসার জীবন-যাপন করতে পারবে।

7) 3  বার  বিচ্ছেদের  পর  স্বামীর  কাছে  আর  কোনও সুযোগ  থাকল  না স্ত্রীকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য!! তখন  স্ত্রী  হয়ত  অন্য  কোনও  পুরুষকে  বিবাহ করে নিল এবং স্ত্রীর  বর্তমান  স্বামীও  যদি  পূর্বে  বর্ণিত পদ্ধতি  অনুযায়ী  স্ত্রীকে তালাক দেয়, সেক্ষেত্রে স্ত্রী তার পূর্ব  স্বামীর  কাছে  ফিরতে  পারবে। এটা  অবশ্য   এবং অবশ্যই কাকতলীয় ঘটনা হতে হবে, কোনও পরিকল্পনা হলে হবে না!! এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

অনুবাদ হবে এমন-"অতপর যদি স্বামী তৃতীয়বার স্ত্রীকে তালাক দেয়, অন্য  স্বামীর  সঙ্গে  বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত গত  স্বামী  তার  জন্য  হালাল   নয়। পরে   যদি  বর্তমান তাকে   তালাক   দেয়  এবং  উভয়ে  (গত  স্বামী  ও  স্ত্রী) আল্লাহর  নির্ধারিত  সীমা রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করে, তবে    প্রত‍্যবর্তনে     কোনও    পাপ    নেই। এটাই আল্লাহর  সীমা, যা  জ্ঞানীদের  জন্য   আল্লাহ  বিস্তারিত বর্ণনা করেন"(2:230)।

   বলে  রাখতে  চাই  যে, উপরিউক্ত  2:230  আয়াতকে মানুষ পরিকল্পিত ভাবে  অসৎ  উদেশ‍্যে  ব‍্যবহার  করে। বিশেষ   করে "হালালা  বা  হিল্লা   বিবাহের" ক্ষেত্রে। এই 2:230 আয়াতের অপব্যবহার হবে বলেই  হয়ত  আল্লাহ 2:231 আয়াতে  আল্লাহ   মানুষকে   সাবধান   করেছেন এভাবে-        وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا         অনুবাদ হবে এমন-"তোমরা  আল্লাহর  আয়াতকে  নিয়ে ছেলে-খেলা কর না"(2:231)।

   ★★★ সুধীপাঠক, এতক্ষণ  আমরা  স্ত্রীর  দোষ-ত্রুটি মেনে নিয়ে সঠিক তালাক  পদ্ধতি  বর্ণনা  করেছি  কিন্তু স্ত্রী  যদি  কোনও  পুরুষকে  তালাক  দিতে  চায়   অথবা স্বামীর    থেকে   "খুলা তালাক"   নিতে    চায়, সেক্ষেত্রে পুরুষের  মধ্যে  দোষ-ত্রুটি  থাকা জরুরী নয়। অর্থাৎ স্ত্রী তার স্বামীকে "কারণ" ছাড়াই তালাক দিতে পারে অথবা "খুলা   তালাক" নিতে   পারে। নিচে  "নারীদের   তালাক অধিকার  ও  ইসলাম" সম্পর্কে  বিস্তারিত  জানতে লিঙ্ক দিলাম। লিঙ্কে ক্লিক করুন---

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=813918315659834&id=544853392566329

   সুধীপাঠক, এবার  আমরা "খুলা" সম্পর্কে  আলোচনা করব- ইনশাআল্লাহ। সুতরাং  দোয়া  করুন আল্লাহ যেন আমার *মাকে  জান্নাতুল  ফেরদৌস* দান  করেন  এবং আমার ও হানীজি'র জন্য দোয়া করবেন। এছাড়াও বড় বোনের  বিবাহের  জন্য  পাত্র  খুঁজছি- এ জন‍্যেও দোয়া করবেন, আল্লাহ  যেন  একটা  ভাল পাত্রের সন্ধান করে দেন!! অথবা  যদি  আপনার  দৃষ্টিতেও  কোনও সু-পাত্র তথা 5 ওয়াক্ত নামাজী, তাহাজ্জুদ নামাজী এবং  সুন্নাত মোতাবেক   দাড়ি   ওয়ালা   পাত্র   থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন!!

   যাইহোক,  "খুলা তালাক" বলতে  কি  বোঝায়?? এক কথায়, স্বামী  বিবাহের  সময়  স্ত্রীকে  যে মোহর দেয়, স্ত্রী তা   স্বামীকে  ফিরিয়ে   দেওয়ার   বদলে   স্বামীর থেকে তালাক নেওয়া!! এ বিষয়ে কোরানে আল্লাহ বলেছেন এভাবে-                                                                         

فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

অনুবাদ হবে এমন-"তাহলে  স্ত্রীর   কিছু   বিনিময়  দিয়ে তার  স্বামীর থেকে  বিচ্ছেদ  লাভ  করায়  কোনও ক্ষতি নেই। এগুলো   আল্লাহ‌    নির্ধারিত    সীমারেখা, এগুলো অতিক্রম   কর   না। মূলত   যারাই    আল্লাহ‌   নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করবে, তারাই জালেম"(2:229)।

   অর্থাৎ  বিষয়টি  আমরা  পূর্বেই  উল্লেখ   করেছিলাম। আপনি হয়ত খেয়াল করেন নি, আর তা হল- স্বামী  যদি তালাকের    উদ্যোগ   নেয়, তাহলে   মোহরের   পরিমাণ সোনার পাহাড় হলেও স্বামী তা হতে কিছুই ফেরত নিতে পারবে   না। কিন্তু   তালাকের   উদ্যোগ   যদি   স্ত্রী  নেয়, তাহলে  মোহর  হিসাবে  ধার্যকৃত সম্পদ স্বামীকে ফেরত দিয়ে তালাক নিতে হবে!!

   সুধীপাঠক, এবার  আপনাদের  সামনে  একটি হাদীস উদ্ধৃতি  করি, তাহলে  বিষয়টি  আরও  স্পষ্ট হয়ে উঠবে আপনার কাছে। হাদীসটি দেখুন-

"ইবনে আব্বাস  হতে  বর্ণিত। তিনি বলেন, সাবিত ইবনে কায়িস ইবনে  সাম্মাসের  স্ত্রী  (জামিলা)  নবী  (স)-  এর নিকট    এসে   বলল- হে   আল্লাহর   রাসুল   (স), আমি  (আমার স্বামী) সাবিতের   ধর্মপরায়ণতা   বা   চরিত্রগত কারণে  তার  সঙ্গে   সংসার  করতে  অস্বীকার করি না,  কিন্তু  আমি  কুফরীর  ভয়  করি। তখন  নবী  (স) তাকে বললেন- তুমি  (মোহর  হিসাবে  পাওয়া)  তার  বাগানটি তাকে ফিরিয়ে দিতে রাজি  আছ?? তখন সে (জামিলা) বলল- হ‍্যাঁ। ফলতঃ নবী  (স)  সাবিতকে  নির্দেশ  দিলেন যে, তাকে  (অর্থাৎ   জামিলাকে   বা   তোমার  স্ত্রীকে) 1 (এক)  তালাক  দাও"(বুখারী, কিতাবুত  তালাক, হাদীস  4889, 4890, 4891, 4892)।

   সুধীপাঠক, তাহলে    কি   বুঝলেন?? এতক্ষণ   পর্যন্ত পড়ার যা মাথায় ঢুকল, তা হল-

1) স্বামী  যদি  স্ত্রীকে  তালাক  দিতে   চায়, তাহলে  স্ত্রীর মধ্যে  কোনও  দোষ-ত্রুটি  থাকতে হবে এবং সেই দোষ- ত্রুটি  স্ত্রী  সংশোধন   করতে   না   চাইলে, তবেই   স্বামী তালাকের পদক্ষেপ নিতে পারবে, নয়ত নয়!!

2) কিন্তু  স্ত্রী  যদি  স্বামীর  সঙ্গে  সংসার  না করতে চায়, সেক্ষেত্রে  স্ত্রীকে  কোনও  কারণ  দেখাতে হবে না!! শুধু মাত্র স্বামীর  সঙ্গে  না থাকতে চাইলেই হল!! এককথায়, সব  কিছুর  মতই  তালাকের   ক্ষেত্রেও   পুরুষের  চেয়ে নারীর অধিকারইইইই বেশি!!

   যাইহোক, প্রশ্ন  হবে-"যদি  কেউ  বর্তমানে  স্ত্রীকে  এক বৈঠকে  3  তালাক  দেয়, সেক্ষেত্রে  কি হবে"?? এক্ষেত্রে অনেকেই বলেন যে, তালাক   হয়ে   যাবে, কিন্তু তালাক দাতার   গুনাহ   হবে!! এ  বিষয়ে  আমি  নিজে  কোনও মন্তব্য  করছি  না  কিন্তু  2 টি হাদীস তুলে ধরতে চাইছি, হাদীস 2 টি হল-

"সুলাইমান   ইবনে   দাউদ  (র) .... ইবনে  মাখরামা  (র) আমাদেরকে  সংবাদ  দিয়েছেন  তার  পিতা  হতে, তিনি বলেন- আমি   মাহমুদ   ইবনে   লবীদ  (রা)-  কে  বলতে শুনেছি  যে, নবী  (স)-  কে  এক  ব‍্যাক্তি   সম্পর্কে  খবর দেওয়া  হল, সে  তার  স্ত্রীকে একত্রে 3 তালাক দিয়েছে। এ কথা  শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে দাড়িয়ে গেলেন  এবং বললেন- সে  কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করছে?? অথচ আমি তোমাদের মাঝেই রয়েছি!! তখন [নবী (স)- এর প্রতিক্রিয়া দেখে] এক  সাহাবা  দাঁড়িয়ে বললেন- হে আল্লাহর   রাসুল   (স), আমি   কি   তাকে   হত‍্যা   করব না"(নাষাই, কিতাবুত  তালাক, হাদীস 3404)। এছাড়াও আরও একটা হাদীস দেখুন-

"ইসহাক  ইবনে  ইব্রাহিম  এবং  মহাম্মদ ইবনে রাফে (র) বর্ণনা করেছেন.... ইবনে আব্বাস  (রা) বলেন- নবী (স)- এর যুগে, আবুবকর  (রা)-  এর  যুগে  এবং  উমার (রা)- এর  যুগের  প্রথম  2  বছরে  এক  বৈঠকে  3  তালাক 1 তালাক  রুপে  গণ‍্য  হত। তারপর  খলিফা   উমার  (রা) বললেন- লোকগণ    একটি    ব‍্যাপরে   খুব   তাড়াহুড়ো করছে। যাতে  তাদের  ধৈর্য্য  অবলম্বনের  সুযোগ  ছিল। এখন  বিষয়টি  তাদের  জন্য  কার্যকর  করে দিলে, তাই কল্যাণকর    হবে। সুতরাং    তিনি    তা    তাদের   জন্য বাস্তাবায়িত   করে   দিলেন   অর্থাৎ    এক    বৈঠকে   3 তালাককে  3  তালাক  বলেই   গণ‍্য   করলেন"(মুসলিম, কিতাবুত তালাক, হাদীস 3539)।

   সুধীপাঠক, এবার আপনি নিজে  ঠিক  করুন যে, এক বৈঠকে   3   তালাক    বা    "তালাক,  তালাক,  তালাক"   বললেই  তালাক হবে  কি  না?? আচ্ছা  চলুন, এ বিষয়ে আরও 1 টি হাদীস পরিবেশন করি-

"ইবনে  আব্বাস  হতে  বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবা আবু রুকানাহ  তার  স্ত্রী উম্মু রুকানাকে তালাক দিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে  বিচ্ছেদের  জন্য  আবু   রুকানাহ   পেরেসান  হয়ে পড়লেন। নবী (স) তাকে বললেন- স্ত্রীকে  ফিরিয়ে নাও। তখন  উক্ত সাহাবা বললেন- আমি তো তাকে 3 তালাক দিয়ে ফেলেছি। তখন  নবী  (স)  তাকে বললেন- তা তো আমি জানি!! এটা তো   মাত্র   1   তালাক   বলেই   গণ‍্য হয়েছে"(বুলুগুল    মারাম,  কিতাবুত    তালাক,   হাদীস 1107, 1108)।

   সুধীপাঠক, এবার  আমরা  লেখার শেষে এসে হাজির হয়েছি। একটা   শেষ   প্রশ্ন-"ভারতীয়   সুপ্রিমকোর্ট এক বৈঠকে  3  তালাক নিষিদ্ধ তথা অবৈধ ঘোষণা করেছে- এ  বিষয়ে  আপনার (লেখক  হোসেন কুরানীর) মতামত কি"?? এ প্রশ্নের উত্তর হল-★★★এই লেখাটি★★★।

   সুধীপাঠক, এই   লেখাটি   লিখতে   প্রায়  11-12 দিন সময়  লেগে  গেল!! গত  5.8.19  তারিখের  রাত থেকে লেখা  শুরু করেছিলাম  এবং  লেখা শেষ  হল 17.8.19 তারিখে  সকাল  11:30 এ। এই  11-12  দিনে  কত-শত প্রিয়-অপ্রিয় ঘটনা ঘটে গেছে, কত-শত দুঃখ ও বেদনার ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এ জীবনে  আপনজনের  দ্বারা!! জানি না এসব   ক্ষত  কিভাবে  পূরণ  হবে!! এরই  মধ্য   দিয়ে জীবন  থেকে  কেটে  গেল  11-12 দিন!! যাইহোক, যদি কেউ এই লেখা থেকে সামান্যটুকু  উপকৃত   হন, তাহলে  "আমার  মায়ের  জন্য   জান্নাতুল   ফেরদৌস  প্রার্থনার" আবেদন রইল।

   বলে রাখা প্রয়োজন, এজন্যই বলছি। সুতরাং প্রথমে হাদীসটি দেখুন-

"ইবনে  উমার  (রা)  হতে  বর্ণিত। তিনি  বলেন, নবী (স) বলেছেন- তালাক  হল  হালাল  বা  বৈধ  বস্তুর মধ্যে সব চেয়ে   নিকৃষ্টতম    বস্তু"(আবুদাউদ, কিতাবুত   তালাক, হাদীস 2174, 2175)। এবং ইসলাম চায়- কোনও  স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক  না  দেয়, কোনও  স্ত্রী  তার  স্বামীকে তালাক না দেয় বা খুলা না নেয়!! কিন্তু  বড়  সাংসারিক বিপর্যয়  এড়াতে  তালাককে   অনুমোদন  করা  হয়েছে। এবং ইসলাম এমন তালাক পদ্ধতি  উপহার দিয়েছে যে, এই পদ্ধতি অনুসরণ  করলে  তালাক কার্যকর হবে বলে মনে হয় না!! কেননা, "ইসলামী  তালাক  খুবই বড় এবং দীর্ঘদিনের প্রসেস"। তাই নয় কি??

   এবার আমি তাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই, যারা তালাক  প্রসঙ্গে  ইসলামের  দুর্নাম-বদনাম  করে!! এবং তাদের  একটা  প্রশ্ন  করতে  চাই  যে-"ইসলামী  তালাক পদ্ধতির  চেয়ে  ভাল  কোনও  তালাক পদ্ধতি পৃথিবীতে আছে"??

   আশা করছি, বোঝাতে  পারলাম। এবং আরও কঠিন কঠিন  প্রশ্ন  থাকলে,  পাঠান- ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা  করব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

                   © : লেখক, হোসেন কুরানী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কিছু বলার থাকলে হোসেন কুরানী কে বলুন:

Featured Post

আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ আসন্ন আল-মালহামা ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: শায়েখ ইমরান হোসেনের বিশ্লেষণ বর্তমান ব...